Category: আন্তর্জাতিক

  • নাইজেরিয়ায় জ্বালানি ট্যাংকারে বিস্ফোরণে কমপক্ষে ৩৮ মৃত্যু

    নাইজেরিয়ায় জ্বালানি ট্যাংকারে বিস্ফোরণে কমপক্ষে ৩৮ মৃত্যু

    নাইজেরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় এজ্জা গ্রামে এক ভয়াবহ জ্বালানি ট্যাংকারের বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, যেখানে কমপক্ষে ৩৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মতে, এই দুর্ঘটনাটি কাচা-আগাই সড়কে ঘটেছে। খবর টিআরটি ওয়ার্ল্ডের।

    প্রতিবেদনে জানানো হয়, জ্বালানিবাহী এই ট্যাংকারটি উল্টে যাওয়ার পর অনেক স্থানীয় মানুষ রাস্তায় পড়ে থাকা জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা করেন। ঠিক সেই সময়ে ট্যাংকারে অগ্নিকাণ্ড ঘটে, আর এরই ফলে বিস্ফোরণ হয়। এতে অনেকের জীবন ঝুঁকিতে পড়ে।

    নাইজার রাজ্যের পেট্রোলিয়াম ট্যাংকার ড্রাইভার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান ফারুক মোহাম্মদ জানিয়েছেন, অধিকাংশ নিহত ব্যক্তিই বিস্ফোরণের আগে ট্যাংকার থেকে তেল সংগ্রহ করছিলেন।

    ফেডারেল রোড সেফটি কর্পোরেশনের (এফআরএসসি) নাইজার শাখার কমান্ডার হাজিয়া আইশাতু সাদু বলেন, এখন এই দুর্ঘটনাস্থলে উদ্ধার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এই মারাত্মক দুর্ঘটনায় ওই গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হয়েছে, পাশাপাশি সড়কের অবস্থাও খুব খারাপ।

    উল্লেখ্য, পশ্চিম আফ্রিকার এই দেশটিতে জ্বালানি ট্যাংকার বিস্ফোরণ ও সড়ক দুর্ঘটনা সাধারণ ঘটনা বলে পরিচিত। প্রায়শই সড়কের খারাপ অবস্থা ও দুর্বল রক্ষণাবেক্ষণের কারণে এমন দুর্ঘটনাগুলো ঘটে থাকে।

  • ইসরায়েলের পার্লামেন্টে পশ্চিম তীর দখলের বিল পাস

    ইসরায়েলের পার্লামেন্টে পশ্চিম তীর দখলের বিল পাস

    ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত করার জন্য একটি বিল ইসরায়েলের পার্লামেন্টে প্রথম পর্যায়ে অনুমোদিত হয়েছে। এই বিলটি পাস হলে, এটি চূড়ান্ত স্বীকৃতি পাবে এবং পশ্চিম তীরের ভূখণ্ডটি ইসরায়েলের সার্বভৌমত্বের অন্তর্ভুক্ত হবে, যেখানে ইসরায়েলের অনুমোদিত নিয়ন্ত্রণ কার্যকর হবে।

    তবে, এই সিদ্ধান্তে সরকারের প্রধান নেতা বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুও ভিন্নভাবে মত প্রকাশ করেছেন। বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এবিষয়ে জানা গেছে, ইসরায়েলি পার্লামেন্টের নেসেটে এই বিলের প্রাথমিক অনুমোদন পেয়েছে, যা পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের সার্বভৌমত্ব প্রয়োগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এই বিলটি অঙ্গরাজ্য হিসেবে সম্পূর্ণভাবে কার্যকর হতে হলে আরও তিন ধাপের ভোটের প্রয়োজন রয়েছে।

    অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ও তাঁর লিকুদ পার্টি এই বিলের বিরোধিতা করলেও, কিছু জোটসঙ্গী এবং বিরোধী সদস্যরা এতে সমর্থন দিয়েছেন। নেসেটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই বিলের মূল লক্ষ্য হলো ‘ইসরায়েল সরকারের সার্বভৌমত্ব জুড়িয়া ও সামারিয়া অঞ্চলে প্রয়োগ’ নিশ্চিত করা। পরে এটি সংসদের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা কমিটিতে আলোচনা করার জন্য পাঠানো হবে।

    বিশেষ করে যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক মাস আগে ঘোষণা করেছিলেন যে, পশ্চিম তীর সংযুক্তির অনুমতি তিনি দেবেন না, তখন এই ভোটের সময় এটি ঘটছে। একই সময় গাজা অঞ্চলে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও ইসরায়েল সফর করছেন।

    অন্যদিকে, এই সিদ্ধান্তের কঠোর বিরোধিতা করেছে ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, হামাস, কাতার, সৌদি আরব ও জর্ডান। তারা এক বিবৃতিতে বলেছে, এই উদ্যোগ ফিলিস্তিনের স্বচ্ছন্দ্য যে ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হতে চায় না, তা জোরপূর্বক সংযুক্ত করার চেষ্টা। তারা আরো বলেছে, পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজালেম ও গাজা একসাথে ভূগোলগতভাবে একটি সম্পূর্ণ অঞ্চল, যেখানে ইসরায়েলের কোনো সার্বভৌম অধিকার নেই।

    হামাস এই বিলগুলোকে দখলদার ইসরায়েলের উপনিবেশবাদী প্রকৃতির অব্যাহত প্রকাশ বলে মন্তব্য করেছে এবং জানায়, পশ্চিম তীর দখলের এই প্রচেষ্টা অবৈধ এবং অগ্রহণযোগ্য। কাতার এটিকে “ফিলিস্তিনিদের ঐতিহাসিক অধিকারের অপব্যবহার ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন” বলে চিহ্নিত করেছে।

    সৌদি আরব রীতিনীতি হিসেবে জানিয়েছে, “ইসরায়েলের দখলদারি ও বসতি স্থাপনের কাজগুলো কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করছে রিয়াদ।” জর্ডান বলেছে, এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের বিরুদ্ধে অঙ্গীকার লঙ্ঘন, দ্বিরাষ্ট্র প্রকল্পে বিষ্ফোরক বাধা সৃষ্টি এবং ফিলিস্তিনি জনগণের স্বাধিকার ও স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার মৌলিক অধিকার ঝুঁকির মধ্যে ফেলবে।

    বর্তমানে, পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ৭ লাখের বেশি ইসরায়েলি অবৈধ বসতি স্থাপন করেছে। এসব বসতি আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ হিসেবে বিবেচিত হয়।

  • শ্রীলঙ্কায় বিরোধী দলের রাজনৈতিক নেতাকে গুলিতে হত্যা

    শ্রীলঙ্কায় বিরোধী দলের রাজনৈতিক নেতাকে গুলিতে হত্যা

    শ্রীলঙ্কায় এক বিরোধীদলীয় রাজনৈতিক নেতাকে তার কার্যালয়ে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়েছে। বুধবার দেশটির পুলিশ জানিয়েছে, দুর্বৃত্তের ছোড়া গুলিতে ওই নেতা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনা দক্ষিণ এশিয়ার এই দ্বীপরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া একাধিক হত্যাকাণ্ডের মধ্যে এটিই প্রথম কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে হামলা।

    নিহত ব্যক্তির নাম লাসান্থা বিক্রমাসেকারা, তিনি ৩৮ বছর বয়সী এবং দেশটির উপকূলীয় শহর ওয়েলিগামার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান। বুধবার স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে নিজ কার্যালয়ে বৈঠক চলাকালে এক বন্দুকধারী ঢুকে রিভলবার থেকে একাধিক গুলি চালায়। গুলিতে ঘটনাস্থলেই বিক্রমাসেকারা মারা যান। তবে অন্য কেউ হতাহত হননি। হামলার পরপরই হামলাকারী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। কলম্বো পুলিশের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, খুনিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে অভিযান চলছে, তবে হামলার কারণ এখনো স্পষ্ট নয়।

    বিরোধী দল সামাগি জনা বলাওয়েগায়ার (এসজেবি) এর সদস্য ছিলেন বিক্রমাসেকারা। ওয়েলিগামা কাউন্সিলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এই দলের সঙ্গে দেশের ক্ষমতাসীন দলের মধ্যে তীব্র দ্বন্দ্ব চলে আসছে।

    চলতি বছরে শ্রীলঙ্কায় সহিংস অপরাধের সংখ্যা ব্যাপকভাবে বাড়ছে, যার বেশিরভাগের সঙ্গে সাম্রাজ্যবাদি মাদকচক্র ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। সরকারের তথ্য অনুযায়ী, এই বছরের মধ্যে শতাধিক গুলির ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে অন্তত ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    গত বছর ক্ষমতায় আসা প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকের সরকার আইনশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এটিই তাঁর সরকারের প্রথম কোনও রাজনৈতিক নেতার হত্যাকাণ্ড। এর আগে, গত ফেব্রুয়ারি মাসে আইনজীবীর ছদ্মবেশে একজন বন্দুকধারী কলম্বোর এক আদালত কক্ষে প্রবেশ করে একটি আসামিকে গুলি করে হত্যা করেন, যা দেশটির আইনশৃঙ্খলার উপর গভীর চাপ সৃষ্টি করেছে।

    সূত্র: এএফপি

  • যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে যাচ্ছে ভারত, শুল্ক ১৫-১৬ শতাংশে নামছে

    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে যাচ্ছে ভারত, শুল্ক ১৫-১৬ শতাংশে নামছে

    ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলমান বাণিজ্য বিরোধের অবসান হতে চলছে। শিগগিরই দুই দেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে যাচ্ছে, যার ফলে ভারতের ওপর আমদানি শুল্ক বর্তমানে ৫০ শতাংশ থেকে কমে ১৫-১৬ শতাংশে নেমে আসতে পারে। এই তথ্য জানিয়েছে ভারতের জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম মিন্ট।

    সংবাদমাধ্যমটির তিনটি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এই চুক্তির অন্যতম কেন্দ্রীয় বিষয় হলো জ্বালানি ও কৃষি পণ্য। এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে, ভারতের রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানির পরিমাণ ধীরে ধীরে কমানো যেতে পারে। পাশাপাশি, এই চুক্তি ভারতের জন্য মার্কিন সামগ্রী আমদানির রাস্তা সহজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    উল্লেখ্য, ওয়াশিংটনের সঙ্গে ভারতের এই আলোচনা চলাকালে ভারতের বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রণালয় ও হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি উভয় পক্ষ। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন, তিনি এই মাসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। মোদি এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, তবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

    মোদির এক্স (টুইটার) বার্তায় তিনি লিখেছেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে আলাপের জন্য ধন্যবাদ, আপনার উষ্ণ দীপাবলির শুভেচ্ছার জন্যও কৃতজ্ঞ। এই উৎসবের সময় আমাদের দেশ দু’টি গণতন্ত্রের আলোয় জেগে থাকুক এবং সব ধরনের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে একসাথে দাঁড়াক।”

    সংবাদমাধ্যম মিন্তের সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে এই আলোচনা ফলপ্রসু হলে ভারতের কৃষি পণ্য আমদানি বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে, ভারত হয়তো ‘নন-জিএমও’ বা জিনগত পরিবর্তনহীন ভুট্টা ও সয়াবিন আরও বেশি করে কিনতে চায়।

    আশা করা হচ্ছে, ভবিষ্যতে এই চুক্তির মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শুল্কের হার পুনর্মূল্যায়ন এবং উভয় দেশের বাজারে পণ্য প্রবেশের বিষয়ে নিয়মিত পর্যালোচনার সুযোগ থাকবে, যার ফলে কোনো বিরোধ হলে দ্রুত সমাধান পাওয়া সহজ হবে।

    অন্তর্বর্তী সময়ে, চলতি মাসে আয়োজিত আসিয়ান সম্মেলনের ফাঁকে এই ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তির অন্যতম লক্ষ্য হলো, ইউক্রেন সংকটের পর ভারতের রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল বিপুল মাত্রায় কিনে যেন ওয়াশিংটনের চাপ এড়াতে পারে। মনে করা হচ্ছে, রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেলের আমদানি বর্তমানে দেশের মোট চাহিদার ৩৪ শতাংশ, যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল ও গ্যাসের আমদানি প্রায় ১০ শতাংশ। এই চুক্তি কার্যকর হলে রাশিয়ার জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা দেবে।

    উল্লেখ্য, ট্রাম্প প্রশাসনের সময় ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের পরিমাণ ছিল ৫০ শতাংশ, এর মধ্যে ওই ২৫ শতাংশ শুল্ক রাশিয়া থেকে খুদে অবমুক্তি না থাকায় চলতি সময় ভারতের আমদানি খাতে এই দ্বিতীয় শুল্কের যোগফল ৫০ শতাংশে পৌঁছায়।

  • এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে সাইবার হামলা: বাংলাদেশসহ অর্ধশত দেশ লক্ষ্যবস্তু

    এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে সাইবার হামলা: বাংলাদেশসহ অর্ধশত দেশ লক্ষ্যবস্তু

    ক্যাস্পারস্কির গ্লোবাল রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস টিম (জিআরইএটি) এ বছরের শুরুর দিকে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে এক নতুন হ্যাকার গ্রুপের কার্যক্রম শনাক্ত করেছে। এ nhómকে ‘মিস্তিরিয়াস এলিফ্যান্ট’ নামে আখ্যায়িত করা হয়েছে। গবেষকরা জানিয়েছেন, এই সাইবার হামলার মূল উদ্দেশ্য হলো গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল তথ্য চুরি—যেমন অফিসের নথিপত্র, ছবি, আর্কাইভ ফাইল ইত্যাদি। এমনকি হোয়াটসঅ্যাপের ডেটাও তারা চুরির চেষ্টা করছে।

    এই হ্যাকাররা মূলত এ অঞ্চলের বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও পররাষ্ট্র সম্পর্কিত প্রতিষ্ঠানে আক্রমণ চালাচ্ছে। তাদের নিশানা বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও আশপাশের কিছু দেশ। ২০২৫ সালের এই নতুন সাইবার আক্রমণে ‘মিস্তিরিয়াস এলিফ্যান্ট’ কার্যক্রমের ধরণে বড় পরিবর্তন এনেছে। এবারে তারা সরাসরি নিজস্ব তৈরি টুলের পাশাপাশি ওপেন সোর্স টুলও ব্যবহার করছে।

    হ্যাকাররা মূলত ‘পাওয়ারশেল স্ক্রিপ্ট’ ব্যবহার করে কমান্ড চালানো, ম্যালওয়্যার পাঠানো এবং বৈধ সফটওয়্যার ব্যবহার করে সিস্টেমে নিজেদের স্থায়ী প্রবেশাধিকার স্থাপন করছে। তাদের অন্যতম প্রধান টুল ‘বাবশেল’, যা একটি রিভার্স শেল হিসেবে কাজ করে এবং এর মাধ্যমে সরাসরি সিস্টেমে প্রবেশ করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করতে পারে।

    আরও ব্যবহৃত হচ্ছে ‘মেমলোডার’ ও ‘হিডেনডেস্ক’ মডিউল, যা তাদের আক্রমণ গোপন রেখে স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে সহায়তা করে। এতে ভাইরাস বা ম্যালওয়্যার মেমরিতে গোপনে কাজ করে এবং সিকিউরিটি সফটওয়্যার দ্বারা শনাক্ত হওয়া কঠিন করে তোলে। এ ছাড়াও, হ্যাকাররা হোয়াটসঅ্যাপের ডেটাও চুরি করছে, যেখানে তারা শেয়ার করা ফাইল, ছবি ও ডকুমেন্ট সংগ্রহের জন্য বিশেষ মডিউল ব্যবহার করছে।

    ক্যাস্পারস্কির জিআরইএটি টিমের প্রধান সিকিউরিটি গবেষক নৌশিন শাবাব বলেছেন, এই হ্যাকার গোষ্ঠী তাদের বিভিন্ন অবকাঠামোতে গোপনে কাজ করতে সক্ষম হচ্ছে। তারা বহু ডোমেইন, আইপি ঠিকানা, ওয়াইল্ডকার্ড ডিএনএস রেকর্ড, ভিপিএস ও ক্লাউড হোস্টিং ব্যবহার করছে। বিশেষ করে ওয়াইল্ডকার্ড ডিএনএস রেকর্ডের মাধ্যমে প্রতিটি রিকোয়েস্টের জন্য নতুন সাবডোমেইন তৈরি করতে পারে, যা তাদের কার্যক্রমের সাফল্য বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপত্তা দলের জন্য ট্র্যাক করাও কঠিন করে তোলে।

    ক্যাস্পারস্কি নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে বিভিন্ন সেবা ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে। তারা উল্লেখ করেছে নিজেদের তৈরি ক্যাস্পারস্কি নেক্সট, গ্রেপ্রামাইজ অ্যাসেসমেন্ট, ম্যানেজড ডিটেকশন অ্যান্ড রেসপন্স, ইনসিডেন্ট রেসপন্স এবং ক্যাস্পারস্কি থ্রেট ইন্টেলিজেন্সের মতো প্রোডাক্টগুলো। এই নকশা সত্যিকার অর্থে সাইবার নিরাপত্তা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

  • হুথি বিদ্রোহীরা আটকের মাধ্যমে জাতিসংঘ কর্মীদের ওপর হামলা বাড়ালো

    হুথি বিদ্রোহীরা আটকের মাধ্যমে জাতিসংঘ কর্মীদের ওপর হামলা বাড়ালো

    ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীরা রাজধানী সানায় পরিচালিত একটি জাতিসংঘ কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে অন্তত দুই ডজনের বেশি জাতিসংঘ কর্মীকে আটক করেছে। এই ঘটনাটি সম্প্রতি ঘটে চলা পরিস্থিতির মধ্যে নতুন এক সংকটের সৃষ্টি করেছে। জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারীর মুখপাত্র জিন আলম জানিয়েছেন, রবিবার সকালে সানার হাদা জেলাভেক জোনের এক কম্পাউন্ডে কর্মীদের আটক করা হয়। অভিযুক্তদের মধ্যে অন্তত পাঁচজন ইয়েমেনি কর্মচারী এবং ১৫ জন আন্তর্জাতিক কর্মী রয়েছেন। পাশাপাশি, আরও ১১ জন কর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে পরে ছেড়ে দেয়া হয়।

    আলম বলেন, এই গুরুতর পরিস্থিতির দ্রুত সমাধানে জাতিসংঘ যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে। তারা সকল আটকদের মুক্তি ও সানার উপর থেকে তাদের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারে হুথি ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষের সাথে সরাসরি আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

    একজন নিরপেক্ষ সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় হুথি বাহিনী কম্পিউটার, ফোন, সার্ভারসহ সব যোগাযোগ সরঞ্জাম জব্দ করেছে। এই সব কর্মীরা বিভিন্ন সংস্থা যেমন বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি), ইউনিসেফ, ও মানবিক বিষয়ক সমন্বয় অফিসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

    নিয়ন্ত্রণাধীন অঞ্চলগুলোতে হুথির এই আচরণ বেড়েই চলেছে, যেমন সানা, হোদেইদাহ বন্দরনগরী এবং উত্তরের সাদা প্রদেশে। সাম্প্রতিক সময়ব্যাপী এই অঞ্চলগুলোতে আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাগুলোর ওপর হুথিদের দমন-পীড়ন বেড়ে গেছে।

    জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে ৫০ জনেরও বেশি কর্মী আটক রয়েছেন। হুথিরা বারবার জাতিসংঘের কর্মী ও বিদেশি এনজিও এবং দূতাবাসের কর্মীদের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ তোলে, যদিও সংস্থাটি তা অস্বীকার করেছে।

    প্রতিক্রিয়ায়, জাতিসংঘ এই বছর শুরুর দিকে সানায় একাধিক কার্যক্রম স্থগিত করে। তারা তাদের শীর্ষ মানবিক সমন্বয়কারীকে নিরাপত্তার কারণে সানা থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তর করে।

    শনিবার জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক সতর্ক করে বলেন, ‘আমরা আমাদের ৫৩ জন সহকর্মীর মুক্তি পাওয়ার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাব।’ এই প্রতিক্রিয়া সত্ত্বেও, হুথি নেতা আবদেলমালেক আল-হুথি টেলিভিশনে ভাষণে বলেছিলেন, ‘আমরা এই গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগের তদন্ত করছি, ও আমাদের লক্ষ্য দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করা।’

    অবশেষে, জাতিসংঘ জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ৩১ আগস্টের মধ্যে কমপক্ষে ২১ জন কর্মীকে মুক্তি দেওয়া সম্ভব হয়েছে। এই দীর্ঘ ১০ বছরের সংঘাতের কারণে ইয়েমেন এখন আরব বিশ্বে অন্যতম দরিদ্র দেশ হিসেবে পরিচিত, যেখানে লাখ লাখ মানুষ মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। এই সংকট বন্ধ করতে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় একযোগে কাজ করে যাচ্ছে।

    সূত্র: আলজাজিরা

  • চোখে চিপ বসিয়ে দৃষ্টিহীনরা দেখার সুযোগ পেলেন

    চোখে চিপ বসিয়ে দৃষ্টিহীনরা দেখার সুযোগ পেলেন

    লন্ডনের মুরফিল্ডস আই হসপিটালে একদল দৃষ্টিহীন রোগীর চোখে অত্যাধুনিক একটি ইমপ্লান্ট সফলভাবে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে তারা এখন আবার বিভিন্ন ধরণের দৃশ্য দেখে এবং সাধারণ কার্যক্রমে অংশ নিতে পারছেন। চিকিৎসকদের দাবি, এই আন্তর্জাতিক ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ফলাফল অত্যন্ত উৎসাহজনক এবং প্রত্যাশার বেশি।

    সত্তর বছরের দৃষ্টিহীন রোগী শিলা আরভিন এই প্রযুক্তির সাহায্যে আবার বই পড়া, ক্রসওয়ার্ডের মতো খেলার সেতুবন্ধন করতে পারছেন। তিনি বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, এই অভিজ্ঞতাকে তিনি ছিল একেবারেই অন্যরকম এবং অবিশ্বাস্য।

    বিশেষ করে ‘ড্রাই এজ-রিলেটেড ম্যাকুলার ডিজেনারেশন’ নামে পরিচিত চোখের জটিল এই রোগের জন্য এই প্রযুক্তি নতুন আশার সঞ্চার করেছে। এটি মূলত বয়স্কদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। এই রোগে রেটিনার ক্ষুদ্র কোষগুলো ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে মরতে শুরু করে, ফলে দৃষ্টি ঝাপসা বা বিকৃত হয়ে যায়।

    বিশ্বজুড়ে প্রায় ৫০ লাখ মানুষ এই সমস্যায় ভুগছেন, এর মধ্যে শুধু যুক্তরাজ্যেই আড়াই লাখেরও বেশি।

    ক্যালিফোর্নিয়ার ভিত্তিতে একটি বায়োটেকনোলজি কোম্পানি, সায়েন্স করপোরেশনের তৈরি ‘প্রিমা ইমপ্লান্ট’ নামের এই মাইক্রোচিপটি এই সাফল্যের মূল ভিত্তি। এটি এরকমভাবে কাজ করে:

    ইমপ্লান্ট স্থাপন: সফল একটি অস্ত্রোপচারের মধ্যে দিয়ে মানুষের মাথার চুলের মতো পাতলা, দুই মিলিমিটার আয়তনের একটি ফটোভোলটাইক মাইক্রোচিপ রেটিনার নিচে স্থাপন করা হয়।

    ছবি গ্রহণ: রোগীরা পরে বিশেষ ধরনের চশমা পরেন, যার মধ্যে ইনক্লুডেড থাকে একটি শক্তিশালী ভিডিও ক্যামেরা।

    মস্তিষ্কে তথ্য পাঠানো: এই ক্যামেরা ইনফ্রারেড রশ্মির মাধ্যমে ভিডিও চিত্র ইমপ্লান্টে পাঠায়। ইমপ্লান্ট সেই তথ্যকে ছোট একটি প্রসেসরে পাঠায়, যেখানে ছবিটির আরও স্পষ্টতা আনা হয়। এরপর এই উন্নত ছবিটি ইমপ্লান্ট এবং অপটিক নার্ভের মাধ্যমে রোগীর মস্তিষ্কে ফিরে যায়, যা দৃষ্টিশক্তি পুনরুদ্ধারে সহায়তা করে।

    মুরফিল্ডস আই হসপিটালের কনসালট্যান্ট ও অপথ্যালমিক সার্জন ড. মাহি মুকিত বলেন, ‘এটি প্রথম ইমপ্লান্ট যা দৃষ্টিহীনদের দৃষ্টি ফিরিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে। তারা এখন বই পড়া, লেখা ও সাধারণ দৃশ্য দেখার মতো কাজগুলো করতে পারছেন। এটি আমাদের জন্য এক বড় অগ্রগতি।’

    নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিনে প্রকাশিত গবেষণা অনুসারে, ইউরোপের পাঁচটি দেশের মোট ৩৮ জন রোগী এই প্রিমা ইমপ্লান্ট ট্রায়ালে অংশ নেন। এর মধ্যে ৩২ জনের চোখে ইমপ্লান্ট বসানো হয়, এবং তাদের মধ্যে ২৭ জন এখন পড়তে সক্ষম। এক বছর পেরোনোর পর তাদের দৃষ্টিশক্তির আরও উন্নতি হয়েছে।

    উইল্টশায়ারের বাসিন্দা শিলা আরভিন, যিনি প্রায় ৩০ বছর আগে দৃষ্টিশক্তি হারাতে শুরু করেছিলেন, তিনি বলেন, ‘ইমপ্লান্ট বসানোর পর আমি আবার বই পড়তে ও সুডোকু খেলতে পারছি। আমি সত্যিই খুব খুশি। প্রযুক্তি দ্রুত উন্নয়ন করছে, আমি এর অংশ হয়ে অনেক আনন্দিত।’

    ড. মুকিত ভবিষ্যৎ আশা প্রকাশ করেন, এই প্রযুক্তি আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্যের পরিষেবা (এনএইচএস)-এ ব্যবহার শুরু হবে। ড. পিটার ব্লুমফিল্ড, মাকুলার সোসাইটির গবেষণা পরিচালক, এই ফলাফলকে ‘উৎসাহজনক’ বলে মনে করেন এবং এই ধরনের অপ্রতিরোধ্য রোগের জন্য এটি একটি দারুণ খবর বলে অভিহিত করেন।

    তবে, যাদের চোখের অপটিক নার্ভ ঠিকমতো কাজ করে না বা সংকেত পাঠাতে সক্ষম নয়, তাদের জন্য এই প্রযুক্তি কার্যকর নয় বলে জানান সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা।

  • জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হয়ে ইতিহাস গড়লেন তাকাইচি

    জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হয়ে ইতিহাস গড়লেন তাকাইচি

    জাপানের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। মঙ্গলবার পার্লামেন্টে ভোটাভুটির মাধ্যমে সানায়ে তাকাইচি দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। এই ঐতিহাসিক নির্বাচনের ফলে তিনি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক উল্লেখযোগ্য মাইলফলক স্পর্শ করেছেন, যা দেশের নারীদের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা। এই খবর দিয়েছে জনপ্রিয় সংবাদ মাধ্যম দ্য জাপানটাইমস।

    প্রথমে জানা যায়, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)-র সভাপতি তাকাইচি নিম্নকক্ষে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ২৩৭ ভোট পেয়ে সহজেই জয় লাভ করেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হচ্ছে কনস্টিটিউশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (সিডিপি)-র নেতা ইয়োশিহিকো নোডা, যিনি পেয়েছেন ১৪৯ ভোট।

    ভোটের সময় পার্লামেন্টের সদস্যরা তাকাইচিকে শুভেচ্ছা জানান ও উষ্ণ করতালির মাধ্যমে তাদের স্বাগত জানান। এই নির্বাচনে জোট গড়ায় মূল ভূমিকা রেখেছে এলডিপি ও জাপান ইনোভেশন পার্টি (জেআইপি)। এই জোটের মাধ্যমে বিরোধী দলের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা সহজ হয় এবং তাঁদের ক্ষমতায় আসার পথ সুগম হয়।

    প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার আগেই, মঙ্গলবার সকাল থেকেই তাকাইচি তার নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের কাজ শুরু করেন। জানা গেছে, জেআইপি থেকে কোনও সংসদ সদস্য তার মন্ত্রিসভায় স্থান পাবেন না। তবে দলের নেতারা মনে করছেন, নতুন সরকারে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রিত্ব পেতে পারেন ইয়োশিমাসা হায়াশি, শিনজিরো কোইজুমি ও সাবেক বিদেশমন্ত্রী তোশিমিৎসু মোতেগি। এসব ব্যক্তিরা পূর্বে সরকারের মুখপাত্র ও কৃষিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। মঙ্গলবার সকালে তারা শিগেরু ইশিবার নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন।

    দলীয় প্রচারে তাকাইচি বলেছিলেন, সরকার গঠনের সুযোগ পেলে তিনি নারীদের আরও বেশি সম্পৃক্ততা দেবেন এবং উচ্চপদে নিয়োগ করবেন। ফলে তার মন্ত্রিসভায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী মন্ত্রী থাকবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া, জেআইপি-র পার্লামেন্টারি অ্যাফেয়ার্স প্রধান তাকাশি এন্ডো তাকাইচির প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে সংসদে কাজ করছেন সানায়ে তাকাইচি। তিনি অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও অভ্যন্তরীণ বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। চলতি মাসের শুরুতেই তিনি এলডিপি-র সভাপতি নির্বাচিত হন, যা তার তৃতীয় প্রচেষ্টা। এই ঐতিহাসিক বিজয় ভারতের নারীদের জন্য এক অনুপ্রেরণার বার্তা হিসেবে বিবেচনা করছেন বিশ্লেষকরা।

  • ৭ মিনিটে ল্যুভর থেকে ৮ রত্ন চুরির সাহসী অভিযানে ধরা পড়লো না চোরেরা

    ৭ মিনিটে ল্যুভর থেকে ৮ রত্ন চুরির সাহসী অভিযানে ধরা পড়লো না চোরেরা

    অন্য স্বাভাবিক দিনের মতোই রোববার সকালে দর্শনার্থীদের জন্য প্যারিসের বিখ্যাত ল্যুভর জাদুঘর খুলে দেওয়া হয়। তবে এর আধা ঘণ্টা পর ভবনের দক্ষিণ পাশে একটি অস্বাভাবিক দৃশ্য দেখা যায়, যেখানে দুই চোর চুপচাপ অবস্থান করছে। তারা দ্বিতীয় তলে উঠতে ট্রাকের উপরে বসানো বৈদ্যুতিক মোই ব্যবহার করে, যা সাধারণত আসবাবপত্র তোলার জন্য ব্যবহৃত হয়। পথচারীরা মনে করে এটি সাধারণ কোনও কাজ, তাই খুব বেশি সন্দেহ করেনি।

    চোরেরা দ্রুত দ্বিতীয় তলায় উঠে একটি জানালা ভেঙে জাদুঘরে প্রবেশ করে। এর সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সতর্ক হয়ে যায়। তাদের লক্ষ্য ছিল অ্যাপোলো গ্যালারিতে, যেখানে রাজকীয় গয়না, মুকুট এবং মূল্যবান হীরার সংগ্রহের কাচের প্রদর্শনী ছিল। ওখানে পৌঁছে তারা প্রথমে দুটি কাচের তাক ভেঙে ফেলে, এর ফলে অ্যালার্ম বাজতে শুরু করে। এরপর তারা দ্রুত আটটি মূল্যবান বস্তু লুট করে নিয়ে যায়। এর মধ্যে ছিল রাজকীয় নীলা নেকলেস, পান্না নেকলেস, কানের দুল, এবং ১৯শ শতকের ফ্রান্সের শাসক তৃতীয় নেপোলিয়নের স্ত্রীর ব্যবহৃত একটি মুকুট।

    নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রকাশনায় জানা গেছে, এই চুরির ঘটনা ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে। গত রোববারের এই ঘটনা বিভিন্ন সংবাদসংস্থায় একে ডাকাতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তবে সোমবারের প্রতিবেদনে এটি চুরির ঘটনা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। সরকারি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বলা হয়, পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং তারা ধারণা করছেন, এই ঘটনার সঙ্গে একটি পরিকল্পিত সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত।

    পুলিশ জানায়, জাদুঘরটির দক্ষিণ দিকের সেইন নদীর পাশে কিছু চোরের দল অপেক্ষা করছিল। চোরেরা অ্যাপোলো গ্যালারিতে ঢোকার আগেই নিচে নেমে স্কুটার নিয়ে দ্রুত সটকে পড়ে। পুরো এই ঘটনা মাত্র সাত মিনিটে শেষ হয়।

    এটি ছিল ল্যুভর জাদুঘরে সংঘটিত সবচেয়ে সাহসী চুরির ঘটনা। ফ্রান্সের রাজনীতিবিদরা এই ক্ষতি নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অনেকের প্রশ্ন, কীভাবে এত বড় একটি ভবনে দিনের আলোয় এমন ঘটনা ঘটে গেল? প্যারিসের মেয়র এরিয়েল ওয়েইল বলেন, এটা কোনও কল্পনা বা সিনেমার দৃশ্য নয়। দিনের বেলা চোরেরা রাজমুকুটের রত্ন নিয়ে পালিয়েছে, যা শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি নয়, এটি মহান ফ্রান্সের ঐতিহ্য ও গর্বের ওপর আঘাত।

    চুরির হারানো রত্নের মধ্যে রয়েছে তৃতীয় নেপোলিয়নের স্ত্রী সম্রাজ্ঞী ইউজেনির ঐতিহাসিক গয়না, যেখানে ছিল ২১২টি মুক্তা, ১,৯৯৮টি হীরক ও ৯৯২টি রোজ-কাট হীরা। সঙ্গে ছিল সম্রাজ্ঞীর বেল্টের মতো অলংকার, যা অলঙ্কৃত ফিতার ভিতরে ছিল অসংখ্য হীরা ও রোজ-কাট হীরা।

    আরও পাওয়া গেছে ঐতিহাসিক কাচের ব্রোচ, যেটি ১৮৫৫ সালে তৈরি এবং ‘রেলিকুয়ারি ব্রোচ’ হিসেবে পরিচিত। চোরেরা অন্যান্য মূল্যবান গয়নার মধ্যে আধুনিক যুগের রাজপরিবারের ব্যবহৃত কানের দুল ও গয়না চুরি করেছে, যার বেশির ভাগই ছিল পান্না ও হীরা। নেপোলিয়নের বিয়ের সময় উপহার দেওয়া গয়নার সেটগুলো, যেমন পান্নার কানের দুল সহ, সব চোরেরা নিয়ে গেছে। এই চুরির ঘটনায় শুধু অর্থনৈতিক নয়, ফ্রান্সের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

  • বিশ্ববিখ্যাত চীনা নোবেলজয়ী পদার্থবিজ্ঞানী চেন নিং আর নেই

    বিশ্ববিখ্যাত চীনা নোবেলজয়ী পদার্থবিজ্ঞানী চেন নিং আর নেই

    বিশ্ববিখ্যাত চীনা পদার্থবিজ্ঞানী ও নোবেলজয়ী চেন নিং ইয়াং মৃত্যুতে শোকের ছায়ের পড়ে গেছে। তার বয়স হয়েছিল ১০৩ বছর। এই খবর নিশ্চিত করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান। শনিবার (১৮ অক্টোবর) চীনা রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিসিটিভি এক প্রতিবেদনে এই দুঃখজনক খবর শেয়ার করেছে।

    প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বেইজিংয়ের ছিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রখ্যাত অধ্যাপক চেন নিং বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার কারণে পরলোকগমন করেছেন। ঐতিহাসিক এই পদার্থবিজ্ঞানীর মৃত্যুতে বিশ্বজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

    চেন নিং ইয়াং ও তার সহকর্মী লি সাং-দাও ১৯৫৭ সালে পদার্থবিজ্ঞানে সম্মানজনক নোবেল পুরস্কার পান। তারা যৌথভাবে প্রাইটি ল বা সমতার নিয়ম নিয়ে গবেষণা করেন, যা আধুনিক মৌলিক কণার গঠন ও তাদের আচরণ বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিপ্লব ঘটিয়েছিল।

    অভিজ্ঞ এই বিজ্ঞানী ১৯২২ সালে চীনের আনহুই প্রদেশে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে বড়, এবং তার বাবা ছিলেন ছিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিতের অধ্যাপক। ছোটবেলা থেকেই তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে বেড়ে উঠেন। ১৯৪২ সালে ন্যাশনাল সাউথওয়েস্ট অ্যাসোসিয়েটেড ইউনিভার্সিটি কুনমিং থেকে বিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন, পরে ছিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।

    কৈশোরে নোবেল পাওয়ার স্বপ্ন দেখে ৩৫ বছর বয়সে তিনি সেই স্বপ্নে সফল হন। নোবেল কমিটি তার অসাধারণ গবেষণা ও মৌলিক কণাসমূহের জন্য তাকে স্বীকৃতি দেয়।

    দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর তিনি ছিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃত্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যান এবং শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করেন। সেখানে তিনি ইতালীয় পদার্থবিজ্ঞানী এনরিকো ফেরমির তত্ত্বাবধানে গবেষণা চালান। কর্মজীবনে ইয়াং বিভিন্ন শাখায় কাজ করেছেন, তবে তার বিশেষ আগ্রহ ছিল স্ট্যাটিস্টিক্যাল মেকানিক্স এবং সিমেট্রি প্রিন্সিপলস নিয়ে।

    নোবেলজয়ীর মর্যাদায় তিনি ১৯৫৭ সালে আলবার্ট আইনস্টাইন স্মারক পুরস্কার এবং ১৯৫৮ সালে প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন। তার অসামান্য গবেষণা ও জীবনকর্ম বিশ্ব বিজ্ঞানের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।