Category: আন্তর্জাতিক

  • শেখ হাসিনা এবার মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি: দ্য টেলিগ্রাফ

    শেখ হাসিনা এবার মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি: দ্য টেলিগ্রাফ

    বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে তিনি মৃত্যুদণ্ডের দোনর Facing হতে পারেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ শুক্রবার (১৭ অক্টোবরে) এই খবর প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনাকে যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির এমপি টিউलিপ সিদ্দিকের খালা হিসেবে উল্লেখ করে, তিনি বর্তমানে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন।

    অভিযোগের ভিত্তিতে জানা গেছে, শেখ হাসিনা রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে “প্রাণঘাতী অস্ত্র” ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছিলেন। ফলে প্রায় ১,৪০০ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।প্রসিকিউশনের মতে, এই নির্দেশে দমন অভিযানে নিহতদের লাশ পুড়িয়ে ফেলা হয় এবং আহতদের চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করা হয়। তবে শেখ হাসিনা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

    জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তার ১৫ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা সময়ে এ ধরনের গণঅভ্যুত্থান ঘটেছিল, যেখানে আনুমানিক ১,৪০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয় ২০২৪ সালের জুলাইয়ে—মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও প্রেরণাদায়ক ভাষণে সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা বন্ধের জন্য ভিন্নভিন্ন দল ও সংগঠনের বিক্ষোভের মাধ্যমে। অল্প সময়ের মধ্যেই তা দেশব্যাপী শেখ হাসিনার পদত্যাগের জন্য আন্দোলনে রূপ নেয়।

    ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের কারণে শেখ হাসিনা হেলিকপ্টারে করে দেশের বাইরে চলে যান। ঠিক তখনই ঢাকায় তার সরকারি বাসভবনে প্রবেশ করে বিক্ষোভকারীরা। একইদিন ঢাকার এক ব্যস্ত এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে কমপক্ষে ৫২ জন নিহত হন—এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম রক্তক্ষয়ী ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

    তার শাসনামলে নানা অভিযোগ উঠেছিল যেমন সঙ্গে ব্যাপক ভোট কারচুপি, বিচারবহির্ভূত হত্যা, নিরীহ মানুষকে গ্রেফতার, নির্যাতন ও গুমের ঘটনাও প্রচুর ছিল। বিশেষ করে শিশু গুমের ঘটনা খুবই উদ্বেগজনক।প্রসিকিউটর ময়নুল করিম জানান, তাদের সংরক্ষিত ফোন রেকর্ড, অডিও-ভিডিও প্রমাণ ও সাক্ষ্য-প্রমাণের মাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন যে, শেখ হাসিনা সরাসরি এই হত্যাযজ্ঞের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি বলছেন, “আমরা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে পারব যে, তিনি মৃত্যুদণ্ডের জন্য বিচারযোগ্য। তারই নির্দেশে এইসব হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে”।

    আদালত ইতোমধ্যে শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে বলে জানা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, তারা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। অন্যদিকে, সাবেক পুলিশ প্রধান চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনকে জুলাইয়ে গ্রেফতার করা হয় ও তিনি দোষ স্বীকার করেছেন। মামুন স্বীকার করেন, শেখ হাসিনার নির্দেশে তিনি বিক্ষোভকারীদের ওপর হেলিকপ্টার ও ড্রোন হামলা চালিয়েছিলেন এবং প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করেছিলেন।

    প্রধান প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম আদালতে বলেন, “শেখ হাসিনা ১,৪০০ বার মৃত্যুদণ্ডের যোগ্য”। তবে মানবিক কারণে, কমপক্ষে একটিই মৃত্যুদণ্ডের তরপে দাবি জানান। তার উদ্দেশ্য হিসেবে তিনি বলেন, “তিনি ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতে চেয়েছিলেন, নিজের ও পরিবারের স্বার্থে। তাকে এখন এক কঠোর অপরাধীতে পরিণত হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। তার বর্বরতা প্রকাশ পেয়েছে এবং তিনি কোনো অনুশোচনা দেখাচ্ছেন না”।

    আগামী রোববার (১৯ অক্টোবর) থেকে শেখ হাসিনার পক্ষে আইনজীবীরা তাদের যুক্তি উপস্থাপন শুরু করবেন, যা আশা করা যাচ্ছে, পরবর্তী সপ্তাহের মধ্যে শেষ হবে। নভেম্বরের মধ্যভাগে চূড়ান্ত রায় দেওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে।

    অভিযোগ প্রমাণিত হলে শেখ হাসিনার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও বিক্রির জন্য নিলাম অনুষ্ঠিত হতে পারে, যার ফলে অর্থের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার বা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে বিতরণ করা হবে।

    তার আইনজীবীরা দাবি করেছেন, যখন বিক্ষোভকারীরা সহিংসতা চালিয়েছিলেন, তখন বাধ্য হয়ে পুলিশ গুলি চালিয়েছিল। পাশাপাশি, শেখ হাসিনা ইতোমধ্যে আদালত অবমাননায় ছয় মাসের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছেন, এবং তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা চলমান।

    অন্যদিকে, ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিক—যে এই বছরের জানুয়ারিতে যুক্তরাজ্য সরকার থেকে পদত্যাগ করেছেন—তিনি এখনো বাংলাদেশে অনুপস্থিতই রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি তার খালার প্রভাবের অধীনে রেখে নিজের পরিবারের জন্য জমির প্লট বরাদ্দে প্রভাব খাটিয়েছেন। তিনি অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

    আগামী ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হচ্ছে বিএনপিকে। তবে শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগকে সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রমে বা নির্বাচনে অংশগ্রহণে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

  • পাকিস্তানি বিমান বাহিনীর অভিযানে আফগানিস্তানের কান্দাহারে নিহত ৪০

    পাকিস্তানি বিমান বাহিনীর অভিযানে আফগানিস্তানের কান্দাহারে নিহত ৪০

    অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে আবারো সংঘর্ষ শুরু হয়েছে আফগানিস্তানের কান্দাহার প্রদেশে। পাকিস্তানের বিমান বাহিনী স্পিন বোলদাক শহরে ভয়ঙ্কর এ হামলা চালিয়েছে, যেখানে এখন পর্যন্ত ৪০ জন নিহত এবং আরও অন্তত ১৭৯ জন আহত হয়েছেন। স্পিন বোলদাক আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্তের খুব কাছাকাছি এলাকা, যেখানে এ হামলায় নারী ও শিশু সহ বহু বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। আফগান সংবাদমাধ্যম তোলো নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, শহরটির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা করিমুল্লাহ জুবাইর আগা জানিয়েছেন, নিহত ও আহতদের মধ্যে বেশিরভাগই নারী ও শিশুসহ সাধারণ নাগরিক।

    গত ১১ থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত সীমান্তে চলা সংঘাতে দু’দেশের সেনাবাহিনী একে অপরের উপর হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এরপর ১৫ অক্টোবর তারা ৪৮ ঘণ্টার জন্য যুদ্ধবিরতিতে বসে, যা গতকাল ১৭ অক্টোবর দুপুর ১টার সময় শেষ হয়। বিরতি শেষ হতেই পাকিস্তানি সেনারা স্পিন বোলদাক শহরে অবস্থান নেয় ও ভয়ঙ্কর আক্রমণ চালায়। হামলায় অনেক বাড়িঘর, দোকানপাঠ ধ্বংসের মাধ্যমে ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। যারা বেঁচে রয়েছেন, তারা এ হামনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছেন।

    নিহতদের বেশিরভাগই বলে তাদের পরিবারের সদস্যরা এই হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছেন। হাজি বাহরাম নামের এক ব্যক্তি তোলো নিউজকে বলেছেন, “আমি কখনও এত অবিচার দেখেছি না। এক দেশ, যারা নিজেদের মুসলিম বলে দাবি করে, তারা এখানে নারী, শিশু ও সাধারণ মানুষের ওপরে হামলা চালিয়েছে। এটা বড়ই উদ্বেগজনক ও দুঃখজনক।”

    পুলিশ ও সেনাবাহিনীর অভিযানের পাশাপাশি স্পিন বোলদাক শহরের বিভিন্ন স্থান—নোকলি, হাজি হাসান কেলাই, ওয়ার্দাক, কুচিয়ান, শহীদ ও শোরবাকে বিভিন্ন সময় পাকিস্তানি স্থলবাহিনী আর্টিলারি গোলা নিক্ষেপ করেছে। এই হামলায় অনেক বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়ে গেছে এবং বেশ কিছু মানুষ হতাহত হয়েছেন।

    প্রসঙ্গত, আফগানিস্তানের সাথে পাকিস্তানের চলমান সংঘাতের মূল কারণ হল পাকিস্তানের তালেবানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠী তেহরিক-ই তালেবান (টিটিপি)। কয়েক বছর ধরেই এ গোষ্ঠী পাকিস্তান সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ থাকলেও, তারা আঞ্চলিক অখণ্ডতার জন্য দিন দিন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।

    খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের মূল ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত টিটিপি, যেখানে তালেবান সরকার ২০২১ সালে আফগানিস্তানে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে গোষ্ঠীর সশস্ত্র কার্যক্রম আরো তীব্র হয়ে উঠেছে। পাকিস্তানের অভিযোগ, আফগানিস্তানের তালেবান তাদের মদত ও আশ্রয় দেয়, তবে কাবুল এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

    গত ৯ অক্টোবর আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে হামলা চালিয়ে শীর্ষ নেতা নূর ওয়ালি মেহসুদ নিহত করেন পাকিস্তানের বিমান বাহিনী। এর দু’দিন পর ১১ অক্টোবর আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী এলাকায় পাকিস্তান ও আফগান সেনাবাহিনীর মধ্যে তীব্র আন্দোলন শুরু হয়। চার দিন দীর্ঘ সংঘাতের পরে ১৫ অক্টোবর আবারো ৪৮ ঘণ্টার জন্য যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হয়। আজ দুপুর ১টার সময় সেই বিরতি শেষ হয়, আর তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুনরায় হামলা চালায় পাকিস্তানি সেনারা। এ ঘটনায় বহু পরিবার আবারও ক্ষতিগ্রস্ত ও হতাহত হয়েছে।

  • মাদাগাস্কারের নতুন প্রেসিডেন্ট কর্নেল রান্দ্রিয়ানিরিনা

    মাদাগাস্কারের নতুন প্রেসিডেন্ট কর্নেল রান্দ্রিয়ানিরিনা

    মাদাগাস্কারের নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন সেনাবাহিনীর কর্নেল মাইকেল রান্দ্রিয়ানিরিনা। এর আগে দেশ থেকে পালিত হয়েছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রি রাজোয়েলিনা। এরপর সামরিক বাহিনী পাল্টা আঘাত হেনে ক্ষমতা কব্জা করে। দেশটির উচ্চ সাংবিধানিক আদালত শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে রান্দ্রিয়ানিরিনার নিয়োগ অনুমোদন দেয়, যা দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

    সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দেশজুড়ে পানি ও জ্বালানি সংকটের কারণে ভয়াবহ বিক্ষোভ শুরু হয়, যার কারফিউ ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এই বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন আরও ১০০ জন। এই খবর দিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক আল-জাজিরা অনলাইন।

    আল-জাজিরার রিপোর্টে বলা হয়েছে, শুক্রবার প্রতিদ্বন্দ্বী রান্দ্রিয়ানিরিনা বলেছেন, ‘আজ আমাদের দেশ ঐতিহাসিক মোড় নিয়েছে। দেশের মানুষের পরিবর্তনের জন্য আমাদের তীব্র আকাঙ্খা ও ব্যাপক ভালোবাসা আমাদের নতুন যাত্রার পথ দেখিয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, দেশবাসীর স্বপ্নের বাস্তবায়নের জন্য আমরা একসঙ্গে কাজ করব। অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন সামরিক কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদসহ বিশিষ্টজনেরা, সঙ্গে ছিলেন আন্তর্জাতিক দূতিপূর্ণ দল, যেমন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, রাশিয়া ও ফ্রান্সের প্রতিনিধিরা।

    নতুন দায়িত্ব গ্রহণের সময় রান্দ্রিয়ানিরিনা বলেন, ‘দেশের সকল বাহিনী ও সংস্থার সঙ্গে হাত মিলিয়ে আমরা একটি সামগ্রিক পরিবর্তন আনতে কাজ করব। আমরা অতীতের সঙ্গে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি এবং দেশের প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি উন্নত করার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছি। এর আগে সামরিক বাহিনী পুরো রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনাকে নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে এবং পার্লামেন্ট ও অন্যান্য গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ভেঙে দিয়েছে।’

    আল-জাজিরার সাংবাদিক ফাহমিদা মিলার মন্তব্যে দেখা যায়, রান্দ্রিয়ানিরিনা দায়িত্ব গ্রহণের আগেই তার পরিকল্পনাগুলো সাবধানে নির্বাচন করেছেন। তিনি মনে করেন, তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলো সাংবিধানিক নির্দেশিকা ও শপথ গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা নিশ্চিত করা। ৫১ বছর বয়সী এই ক্যাপটেন ইউনিটের কমান্ডার অরক্ষিত ১৮-২৪ মাসের মধ্যে নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, সর্বসম্মত প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের জন্য আলোচনা চলছে। আন্তর্জাতিক সমালোচনার মধ্যে তিনি সেনাবাহিনী বা সরকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে কোনো অপ্রত্যাশিত কর্মকাণ্ডের অস্বীকৃতি জানিয়েছেন এবং তার নতুন ভূমিকা গ্রহণের সময় সাংবিধানিক আদালতের সমর্থন ও স্বীকৃতি পেয়েছেন।

    অন্যদিকে, রাজোয়েলিনার সমর্থকেরা এই পরিস্থিতিতে তার প্রতি সমর্থন বজায় রেখেছেন। তারা জোর দিয়ে বলেছেন, সাবেক এই প্রেসিডেন্টের ক্ষেত্রে দেশের রাজনৈতিক সংকটের সমাধানে তার ভূমিকা অপরিহার্য। এরই ফলস্বরূপ, ২৫ সেপ্টেম্বর দেশে ব্যাপক বিক্ষোভ ও অভ্যুত্থানের খবর ছড়িয়ে পড়ে। সরকারি বাহিনী এবং বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষে অনেকের আহত ও হতাহত হন। আদালত এই ঘটনার পর নেওয়া আইনি ব্যবস্থা ও পরবর্তী পদক্ষেপের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ করছে। এরপর ১১ অক্টোবর ক্যাপসাটের সামরিক কর্তারা ঘোষণা করেন, তারা কোনোভাবেই বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলির আদেশ দেবে না বলে জানান। এই সব ঘটনাক্রম দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বাড়িয়েছে।

  • চীনের ছয় শীর্ষ জেনারেলসহ মোট নয়জন সামরিক কর্মকর্তা বরখাস্ত

    চীনের ছয় শীর্ষ জেনারেলসহ মোট নয়জন সামরিক কর্মকর্তা বরখাস্ত

    চীনের কমিউনিস্ট পার্টি সামরিক বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের nine জন শীর্ষ জেনারেলকে বরখাস্ত করেছে, যা দেশের সামরিক শুদ্ধিকরণের বৃহত্তম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অভিযানের একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই পদক্ষেপকে তারা কার্যত দুর্নীতির বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান的一 অংশ হিসেবে তুলে ধরেছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই পদক্ষেপটি কেবল দুর্নীতি মুক্ত করার নয়, বরং রাজনীতি ও সংগঠনের শুদ্ধিকরণেরও সূচনা নির্দেশ করতে পারে।

    চীনা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই নয়জন আপাতত মারাত্মক আর্থিক অপরাধের সন্দেহে রয়েছে। তাদের বেশিরভাগই তিন তারকা জেনারেল এবং পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ফোরামের সদস্য। সংস্থাটির মতে, এই বরখাস্তের সিদ্ধান্তটি দুর্নীতির বিরুদ্ধে একটি কঠোর অভিযানের অংশ, তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এটা হয়তো রাজনীতি শুদ্ধিকরণের ধারাও হতে পারে।

    বিবৃতিতে বলা হয়, এই সব জেনারেলরা দলের শৃঙ্খলা লঙ্ঘন এবং দায়িত্বে অবহেলার জন্য দায়ী। তারা এখন সামরিক আদালতের বিচারে আছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই অভিযানের সূত্রপাত চলতি বছরের জুলাই মাসে, যখন সামরিক বাহিনীতে দূষিত প্রভাব ও অপবিত্রতা দূর করতে নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়। এর আগে, অস্ত্রের শুদ্ধিকরণের লক্ষ্য্যে চলা এই অভিযানে সাবেক দুই প্রতিরক্ষামন্ত্রীও তাদের শৃঙ্খলাভঙ্গের জন্য ইতিমধ্যেই শাস্তি পেয়েছেন।

    অর্থনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, শি জিনপিং এর এই শুদ্ধিকরণ উদ্যোগ আসলে নিজ ক্ষমতা প্রমাণের একটি চেষ্টাই। তারা মনে করেন, এই প্রচেষ্টা পার্টিকে অন্তর থেকে পরিচ্ছন্ন করে গড়ে তুলতে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার মনোভাবকে দৃঢ় করতে পারে।

    বিশ্লেষকরা আরো উল্লেখ করেছেন, এই ধরনের শুদ্ধিকরণ কার্যক্রম অপ্রতিরোধ্যভাবে চলবে, যাতে করে শক্তিশালী, সুসংগঠিত ও আরেকটু অধিক শৃঙ্খলিত সামরিক বাহিনী গড়ে উঠতে পারে। এখন দর্শকদের নজর থাকবে ২০ শে অক্টোবরের দলীয় পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে কোন মহল বা নেতারা যোগ দেন এবং তার মাধ্যমে এই আন্দোলনের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি বোঝা যাবে।

  • মোদীর রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ধ্বংস করতে চাই না, বললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

    মোদীর রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ধ্বংস করতে চাই না, বললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প revealingly জানিয়েছেন, তিনি মোদীর রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ধ্বংস করতে চান না। এছাড়াও তিনি উল্লেখ করেছেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী তাকে অনেক ভালোবাসেন। ওয়াশিংটনে ১৫ অক্টোবর এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছিলেন, নরেন্দ্র মোদী তাকে আশ্বস্ত করেছেন যে, ভারত এখন থেকে রাশিয়া থেকে আর তেল কিনবে না। ট্রাম্পের মতে, এই সিদ্ধান্ত ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধের শান্তিপূর্ণ সমাধানে সহায়ক হবে।

    তিনি বলেন, মোদী একজন মহান নেতা। তিনি ট্রাম্পকে ভালোবাসেন। তবে সঙ্গে সঙ্গেই তিনি স্পষ্ট করে দেন, আমি চাই না, আপনারা ‘ভালোবাসেন’ শব্দের অন্য অর্থ ভাবুন। আমি তার (মোদীর) রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ধ্বংস করতে চাই না। ট্রাম্প আরও বলেন, আমি বহু বছর ধরে ভারতের পর্যবেক্ষণ করে আসছি। এটি একটি অসাধারণ দেশ। বছরে বছর নতুন নেতৃত্ব আসছে—কেউ কেবল কয়েক মাস থাকছেন, কেউ বা আরও কম সময়। কিন্তু আমার বন্ধু মোদী অনেক বছর ধরে আছেন এবং তিনি সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ একজন নেতা।

    প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও অভিযোগ করেছিলেন যে, ভারত ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে রাশিয়াকে অর্থায়ন করছে, যা যুদ্ধের শান্তিপূর্ণ সমাধানকে বাধাগ্রস্ত করছে। তবে, ট্রাম্প জানান, মোদী তাকে বলেছেন, তারা রাশিয়া থেকে তেল কিনা বন্ধ করবেন। এটা তৎক্ষণাৎ সম্ভব না হলেও, শিগগিরই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।

    তিনি বলেন, রাশিয়ার এই যুদ্ধ এক সপ্তাহের মধ্যেই শেষ হওয়া উচিত ছিল, কারণ এটি তাদের জন্য ভালো নয়। একই সাথে, তিনি দাবি করেন, একসময় তার সঙ্গে রাশিয়া-ইউক্রেন শান্তিচুক্তির প্রাথমিক আলোচনা প্রায় সম্পন্ন হয়েই গিয়েছিল।

    বিশ্লেষণে, ট্রাম্প আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মধ্যে তীব্র বৈরিতা শান্তির পথে সবচেয়ে বড় বাধা। তবে তিনি মনে করেন, যদি ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করে দেয়, তাহলে এই যুদ্ধ অনেক সহজে শেষ হবে। ট্রাম্প বলেন, ‘ভারত যদি তেল না কেনে, তাহলে সকল বিষয়ে সহজ হয়ে যাবে। তারা আমাকে আশ্বস্ত করেছে, শিগগিরই রাশিয়া থেকে তেল কিনা বন্ধ করে দেবে। যুদ্ধ শেষ হলে তারা আবার রাশিয়ার সঙ্গে ব্যবসা করতে পারবে।’

  • পেরুতে জেন-জি বিক্ষোভে উত্তাল, পুলিশি সহিংসতায় একজন নিহত

    পেরুতে জেন-জি বিক্ষোভে উত্তাল, পুলিশি সহিংসতায় একজন নিহত

    পেরুর রাজধানী লিমায় আবারও জেন-জি বা তরুণ প্রজন্মের বিক্ষোভ শুরু হয়েছে, যা এখন গভীর উত্তেজনায় পরিণত হয়েছে। বিক্ষোভের মাঝে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে ৩২ বছর বয়সী এক তরুণ নিহত হয়েছেন, এবং অনেকে আহত হয়েছেন। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের এই উত্থান ঘটেছে অনলাইন প্রতিবেদনের মাধ্যমে প্রকাশিত খবরের অনুযায়ী।

    বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই বিক্ষোভের ঘটনা ঘটছে যখন দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট দিনা বোলোয়ার্তের অভিশংসনের এক সপ্তাহের কম সময়ে বর্তমান প্রেসিডেন্ট হিসেবে হোসে জেরি শপথ গ্রহণ করেছেন। তরুণ প্রজন্মের মূল চালিকা শক্তি এই আন্দোলনে তারা বিভিন্ন দাবি তুলে ধেঁ innovations, যা দেশের রাজনৈতিক এবং সামাজিক সমস্যার প্রতিফলন।

    তরুণরা প্রধানত দেশটির নেতাদের বিরুদ্ধে উচ্চমাত্রার দুর্নীতি ও অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি সম্প্রতি চাঁদাবাজি বৃদ্ধি পাওয়ার কথা উল্লেখ করে তারা বলছেন সরকারি ব্যর্থতার জন্য এই অনিয়ন্ত্রিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। তারা সরকারকে আরও কঠোর হতে এবং এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার আহ্বান জানিয়েছে। এ ধরনের ব্যর্থতার জন্য তারা নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জেরিকে দায়ী করছেন এবং তার পদত্যাগের দাবি তুলেছেন। তাদের বিশ্বাস, ক্ষমতা যেন নতুন কারো হাতে যায়।

    নিহত ব্যক্তি হলেন, ৩২ বছর বয়সী হিপ-হপ শিল্পী এদুয়ার্দো রুইজ সায়েঞ্জ। প্রেসিডেন্ট জেরি তার মৃত্যুর জন্য শোক প্রকাশ করেছেন, যদিও এই ব্যাপারে এখনো বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি। প্রেসিডেন্টের অভিযোগ, বিক্ষোভে অনুপ্রবেশকারী কিছু মানুষ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। তিনি এ বিষয়ে তদন্তের ঘোষণা দিয়েছেন।

    অপরদিকে, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, কংগ্রেসের বামপন্থী সদস্য রুথ লু বলেছেন, ধারণা করা হচ্ছে সায়েঞ্জকে গুলিতে হত্যা করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, তারা দেখেছেন একজন পোশাক সাধারণ পুলিশ অফিসার সায়েঞ্জের উপর গুলি চালায়।

    প্রেসিডেন্ট জেরি রক্ষণশীল সোমোস পেরু দলের নেতা হিসেবে গত শুক্রবার শপথ নিয়েছেন, যা তিনি বোলোয়ার্তের অভিশংসনের পর গ্রহণ করেন। জেরি বর্তমানে পার্লামেন্টের প্রধান হিসেবেও দায়িত্বে আছেন। তবে, তার শপথের কয়েক দিন পর থেকেই দেশের নানা প্রান্তে ক্ষোভের আগুন জ্বলছে, প্রতিবাদ ও বিক্ষোভের মিছিল চলছে। প্রতিবাদকারীরা বলছেন, ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বোলোয়ার্তের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত চলাকালে তিনি দেশেই অবস্থান করছেন এবং তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

  • হুতির সামরিক প্রধান আল-ঘামারি নিহত, ইসরায়েল দায়িত্ব স্বীকার

    হুতির সামরিক প্রধান আল-ঘামারি নিহত, ইসরায়েল দায়িত্ব স্বীকার

    ইয়েমেনের শীর্ষ সামরিক নেতা ও হুথি বিদ্রোহীদের চিফ অব স্টাফ মোহাম্মদ আবদুল করিম আল-ঘামারি ইসরায়েলের হামলায় নিহত হয়েছেন। এই ঘটনাটি ঘটে যখন তিনি তার দায়িত্ব পালন করছিলেন। উল্লেখ্য, এই হামলায় তার কিশোর ছেলে ও বিভিন্ন সহকারীরাও নিহত হয়েছেন। হুথিরা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আল-ঘামারি হামলার শিকার হয়ে শান্তিপূর্ণ কর্মকা‌ন্ডের মাঝেই প্রাণ হারান। টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, হুথিদের ঘোষণার কিছুক্ষণ পরই ইসরায়েল এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেছেন, ‘আল-ঘামারি ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন। ভবিষ্যতেও কোনো হুমকি দেখা দিলে আমরা একই ধরনের কঠোর পদক্ষেপ নেব।’ হুথিরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, ইসরায়েলের সঙ্গে তাদের যুদ্ধ এখনও শেষ হয়নি। তারা বলেছেন, ‘ইসরায়েল তার অপরাধের উপযুক্ত শাস্তি পাবে।’ গত আগস্ট মাসে ইসরায়েল জানিয়েছিল, তারা ইয়েমেনের রাজধানী সানায় বিমান হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় আল-ঘামারি ও হুথি সরকারের আরও কিছু জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা লক্ষ্যবস্তু হয়েছিলেন। এই আঘাতে হুথি-শাসিত সরকারের প্রধানমন্ত্রীসহ বেশ কয়েকজন নিহত হন। আল-ঘামারি নিহত হওয়ার খবর এসেছে গাজায় ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে চলমান ষষ্ঠ দিনে ‘যুদ্ধবিরতি’ চলাকালীন সময়। এই যুদ্ধবিরতি দীর্ঘ দুই বছরের সর্বশেষ বিরতিতে অবদান রাখতে সক্ষম হয়েছে, যেখানে প্রায় ৬৮ হাজার ফিলিস্তিনি মারা গেছেন। জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো ইতোমধ্যে গাজায় ইসরায়েলের অভিযানে গণহত্যার অভিযোগ তুলেছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইয়েমেনের হুথিরা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, দাবি করে যে এই হামলাগুলো ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে সংহতি প্রদর্শনের অংশ। লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোও লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে তাদের আক্রমণের শিকার। এই হামলার প্রতিশোধে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য এই অঞ্চলে হুথিদের অবস্থানে বেশ কয়েকটি বিমান হামলা চালিয়েছে। আল-ঘামারির মৃত্যুর পর হুথিরা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইসরায়েলের ‘নৃশংস’ হামলা সত্ত্বেও ইয়েমেনের জনগণ ধৈর্য্য ও শক্তির সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে। তারা দাবি করেছে, আল-ঘামারির নেতৃত্বে ইয়েমেনের সেনা ও নৌবাহিনী মোট ৭৫৮টি সামরিক অভিযান পরিচালনা করে, যেখানে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রসহ ১৮৩৫টি অস্ত্র ব্যবহৃত হয়েছে। হুথি নেতা আবদেল-মালিক আল-হুতি বলেন, গাজার সমর্থনে রাজনীতিক ও সামরিক অভিযানে আল-ঘামারির ভূমিকা ছিল অপরিহার্য। তিনি বলেন, ‘আমাদের নেতারা আল্লাহর উদ্দেশ্যে নিজেদের উৎসর্গ করেছেন। এটি আমাদের প্রতিরোধের প্রতিফলন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফিলিস্তিনের জনগণকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টার মধ্যেও ইয়েমেন প্রতিবন্ধকতা চালিয়ে যাচ্ছে। আল-ঘামারির মৃত্যুর পরেও আমাদের নেতৃত্ব ও সেনারা এই পथ অব্যাহত রাখবে।’গত সপ্তাহে গাজায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর হুথিরা বলেছিল, তারা এই বিরতির শর্ত মানছে। তবে যদি ইসরায়েল চুক্তি অমান্য করে, তাহলে তারা আবার গাজায় সমর্থন পুনরায় চালু করবে।

  • পাকিস্তানের অভিযোগ: তালেবানদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে ভারত

    পাকিস্তানের অভিযোগ: তালেবানদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে ভারত

    ইসলামাবাদ এবং কাবুলের মধ্যে সম্প্রতি ৪৮ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতির সময়ে পাকিস্তান গভীর সন্দেহ প্রকাশ করেছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ অভিযোগ করেন যে, ভারত আফগান তালেবানদের কার্যক্রমে সরাসরি সমর্থন দিচ্ছে। তিনি আরও দাবি করেন যে, আফগানিস্তানে তালেবানের বিরুদ্ধে ভারতের পক্ষে ‘প্রক্সি যুদ্ধ’ চালানো হচ্ছে।

    জিও নিউজের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে খাজা আসিফ বলেন, ‘যুদ্ধবিরতি অক্ষুণ্ণ থাকবে বলে আমি মনে করি না। কারণ, তালেবানদের সিদ্ধান্তগুলো দিল্লির পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত হচ্ছে।’ তিনি আরও অভিযুক্ত করে বলেন, ‘এই মুহূর্তে কাবুল দিল্লির হয়ে একটি ছায়া যুদ্ধ চালাচ্ছে।’

    অথচ, আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি সম্প্রতি ভারতের সঙ্গে তার সফরে ‘কিছু গোপন পরিকল্পনা’ করেছেন বলে ইঙ্গিত দেন খাজা আসিফ। যদিও আঞ্চলিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, মুত্তাকির সফর মূলত বাণিজ্য ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে ছিল।

    অন্যদিকে, চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষিতে পাকিস্তান আফগানিস্তানর সঙ্গে ট্রানজিট ট্রেড বন্ধ করে দিয়েছে বলে জানিয়েছে জিও নিউজ। করোনাভাইরাস মহামারির কারণে, পাকিস্তানের ফেডারেল বোর্ড অব রেভিনিউ (এফবিআর) এর নির্দেশনা অনুযায়ী, সব বন্দর টার্মিনালে যানবাহনে বোঝাই কন্টেইনারগুলোর খালাস প্রক্রিয়া দ্রুত চালানো হয়েছে।

  • যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের পণ্য রপ্তানিতে বিশাল ধস

    যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের পণ্য রপ্তানিতে বিশাল ধস

    ৫০ শতাংশ মার্কিন শুল্ক আরোপের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের পণ্য রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ভারতের জন্য সবচেয়ে বড় বাজার, তাই এই পতন অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সেপ্টেম্বর মাসে ভারতের রপ্তানি হয়েছে প্রায় ২০ শতাংশ কম, যা গত চার মাসে মোট ৪০ শতাংশ পতনের সংকেত দেয়। ২৭ আগস্ট থেকে কার্যকর হওয়া মার্কিন এই উচ্চ শুল্কের মধ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক শাস্তিমূলক হিসেবে আরোপ করা হয়েছে, যা রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা বন্ধের জন্য হওয়া অব্যাহত ব্যবস্থার অংশ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার কাছ থেকে তেল আমদানি বন্ধের জন্য ভারতকে শাস্তি দিয়েছেন, যা ভারতের উপর চাপ তৈরি করেছে। গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভের (জিটিআরআই) সহপ্রতিষ্ঠাতা অজয় শ্রীবাস্তব বলেছেন, ‘শুল্ক বৃদ্ধি হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ভারতের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত বাজারে পরিণত হয়েছে।’ তথ্য অনুসারে, ভারতের শ্রমনির্ভর খাত যেমন বস্ত্র, রতœ ও গয়না, প্রকৌশল পণ্য এবং রাসায়নিক খাতগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের রপ্তানি ছিল ৮.৮ বিলিয়ন ডলার, যা সেপ্টেম্বর মাসে কমে ৫.৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এই চার মাসের মধ্যে রপ্তানি ধারাবাহিকভাবে কমছে। এর ফলে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে সেপ্টেম্বরে ৩২.১৫ বিলিয়ন ডলার পৌঁছেছে, যা গত ১৩ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। তবে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও চীনের সঙ্গে বাণিজ্য বৃদ্ধি এই ঘাটতি কিছুটা কমিয়েছে। ইতিমধ্যে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র নতুন বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে, যা আগামী মাসে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারিত। ভারতীয় একটি প্রতিনিধিদল ওয়াশিংটনে এই বিষয়ে আলোচনায় যুক্ত রয়েছে। অন্যদিকে, বুধবার (১৫ অক্টোবর) ট্রাম্প জানান, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বন্ধে সম্মত হয়েছেন। তবে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ আলোচনা অস্বীকার করে জানিয়েছে, এই বিষয়টি নিয়ে কোনও ফোনালাপ হয়নি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা এখনও চলমান রয়েছে এবং তারা ভারতীয় জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বাড়াতে উৎসাহিত। তবে কৃষি ও দুগ্ধ খাতে প্রবেশাধিকার নিয়ে দুই দেশের মধ্যে মতভেদ রয়ে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ভারতের কৃষি বাজারে প্রবেশাধিকার চাইলেও, ভারত খাদ্য নিরাপত্তা ও ক্ষুদ্র কৃষকদের স্বার্থের কারণে তা স্বীকার করছে না। ২০২৪ সালে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ছিল ১৯০ বিলিয়ন ডলার; যা ট্রাম্প ও মোদি যৌথভাবে ৫০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য রাখতেন। তবে সাম্প্রতিক শুল্ক বৃদ্ধি এই লক্ষ্যের অর্জনকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

  • ভারতে এসে কেনিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যু

    ভারতে এসে কেনিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যু

    কেনিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতা রাইলা ওদিঙ্গা ভারতের কেরালা রাজ্যের দেভামাতা হাসপাতালে হার্ট অ্যাটাক করে মৃত্যুবরণ করেছেন। এ খবর বুধবার (১৫ অক্টোবর) বার্তাসংস্থা এপি নিশ্চিত করেছে, যেখানে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই তথ্য নিশ্চিত করে। ওদিঙ্গার বয়স তখন ৮০ বছর। আফ্রিকার রাজধানীতে তিনি একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

    প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তিনি চিকিৎসার জন্য ভারতে এসেছিলেন। তবে তিনি সুস্থ হয়ে ফিরে যেতে পারেননি। স্থানীয় পুলিশ ও হাসপাতাল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সকালে তিনি তার বোন, মেয়ে ও ব্যক্তিগত চিকিৎসকের সঙ্গে হাঁটার জন্য বের হয়েছিলেন। তার সঙ্গে ভারত ও কেনিয়ার নিরাপত্তাকর্মীরা ছিলেন। হঠাৎ তিনি পড়ে গেলে, তাৎক্ষণিকভাবে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তাররা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    কেরালার এরানকুলামের এসপি কৃষ্ণ এম বলেছেন, “তাকে দ্রুত একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, কিন্তু সেখানেও তাকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।”

    অফিসিয়ালি জানা গেছে, ওদিঙ্গা ১৯৯৭ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাঁচবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও, কখনো জয় লাভ করতে পারেননি।

    প্রথমে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম মাতৃভূমি প্রতিবেদনে তার মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে। তারা জানায়, ওদিঙ্গা কোচি শহরে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।

    ওদিঙ্গা কেনিয়ার রাজনীতিতে শক্তিশালী ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তার মৃত্যু দেশটির রাজনীতিতে বড় শূন্যতা সৃষ্টি করবে, কারণ সে দেশে ২০২৭ সালে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তার মৃত্যুই কেনিয়ার রাজনীতিতে বড় এক ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

    সূত্র: আলজাজিরা