Category: আন্তর্জাতিক

  • চীন থেকে সমুদ্রপথে রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ হলো

    চীন থেকে সমুদ্রপথে রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ হলো

    রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ করে দিল চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিগুলো। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞার পর এই সিদ্ধান্ত নেয় তারা। শীর্ষ দুই রুশ তেল কোম্পানি রসনেফট ও লুকওয়েল, যারা রাশিয়ার সমুদ্রপথের তেল বিক্রির জন্য প্রধানভাবে দায়ী, তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছিল বলে জানিয়েছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। এর ফলে চীনের বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা এখন থেকে রুশ তেল আমদানির ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে চাইছে, কারণ তারা অনিরাপত্তার ঝুঁকি মনে করছেন। বৃহস্পতিবার, একাধিক বাণিজ্যিক সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

    ইউক্রেনের শান্তি চুক্তির চাপ বাড়ার প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রাশিয়ার তেল বিক্রির ওপর ঝুঁকি কমাতে চাইছিল। এর আগেও ভারত যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা মেনে রুশ তেল আমদানি কমিয়ে আনতে বাধ্য হয়েছিল। এর ফলে, এখন চীন ও ভারতের মতো বড় ক্রেতারা রাশিয়ার তেল থেকে সরে আসার পথে। মনে করা হচ্ছে, এর ফলে রাশিয়ার রাজস্বের ওপর বড় ধাক্কা লাগতে পারে এবং বিশ্ববাজারে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে, যে কারণে তেলের দাম আবারও বাড়তে পারে।

    সূত্রগুলো জানিয়েছেন, চীনা জাতীয় তেল কোম্পানি পেট্রোচায়না, সিনোপেক, সিএনওওসি ও ঝেনহুয়া অয়েল আপাতত সমুদ্রপথে রুশ তেল কেনাবেচা বন্ধ রেখেছে। তারা আশঙ্কা করছে, নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের ঝুঁকি রয়েছে। তবে এই বিষয়টি নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি তারা। চীনা সংস্থাগুলো দৈনিক প্রায় ১৪ লাখ ব্যারেল রুশ তেল আমদানি করলেও, বেশিরভাগ কাজ করে বেসরকারি ক্ষুদ্র রিফাইনারি বা ‘টিপট’ কোম্পানিগুলো। বিশ্লেষকেরা জানাচ্ছেন, ২০২৫ সালের প্রথম নয় মাসে চীনের রাষ্ট্রীয় কোম্পানিগুলোর রুশ তেল কেনা দৈনিক ২ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল ছিল, যা আগের তুলনায় কম।

    সিনোপেকের বাণিজ্যিক শাখা ইউনিপেক, গত সপ্তাহে রুশ তেল কেনা বন্ধ করে দেয়, কারণ যুক্তরাজ্য রসনেফট, লুকওয়েলসহ রুশ ‘শ্যাডো ফ্লিট’ জাহাজ ও কিছু চীনা প্রতিষ্ঠানকে নিষিদ্ধ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। এছাড়া, রসনেফট ও লুকওয়েল সরাসরি নয়, মূলত মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে তেল বিক্রি করে থাকে। অন্যদিকে, কিছু স্বাধীন রিফাইনারি পূর্বাভাস অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞার প্রভাব পর্যবেক্ষণ করছে, তবে তারা রুশ তেল আমদানি পুরোপুরি বন্ধ করবে না বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

    চীন আরও প্রায় ৯ লাখ ব্যারেল রুশ তেল পাইপলাইনের মাধ্যমে আমদানি করে, যা সবটাই পেট্রোচায়নার কাছে যায়। এই সরবরাহে কোনও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসবে বলে মনে হয় না।

    বিশ্লেষকদের মতে, ভারত ও চীন অন্য উৎস থেকে তেল কিনতে উৎসাহী হবে। এর ফলে, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার নিষেধাজ্ঞামুক্ত তেলের দাম আরও বাড়তে পারে।

  • নরেন্দ্র মোদির গোপন ৩৯০০ কোটি রুপির বিনিয়োগে আদানিকে রক্ষা

    নরেন্দ্র মোদির গোপন ৩৯০০ কোটি রুপির বিনিয়োগে আদানিকে রক্ষা

    নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর যখন বিদেশি বিনিয়োগকারী সংস্থাগুলি গৌতম আদানিকে ঋণ দেওয়ার বিষয়ে দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল, তখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশের স্বার্থে একটি গোপন পরিকল্পনা করেছিলেন। ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত এক বৃহৎ বিমা সংস্থা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কর্পোরেশন (এলআইসি) ব্যবহার করে তিনি এই বিতর্কিত শিল্পপতিকে অর্থায়নের জন্য প্রায় ৩৯০০ কোটি রুপির বিনিয়োগের পরিকল্পনা নেন। সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’ প্রকাশিত একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

    ওয়াশিংটন পোস্টের হাতে আসা অভ্যন্তরীণ নথিগুলির ভিত্তিতে জানা গেছে, ২০২৫ সালের মে মাসে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রালয়, অর্থনৈতিক পরিষেবা বিভাগ (ডিএফএস), এলআইসি এবং নীতি নিয়ামক সংস্থা নীতি আয়ের যৌথভাবে এই বিনিয়োগ পরিকল্পনা তৈরি করে। মূল উদ্দেশ্য ছিল আদানি গ্রুপের বন্ড ও ইক্যুইটির উপর ব্যাপক বিনিয়োগের মাধ্যমে তাদের প্রতি বিশ্বাস বাড়ানো।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আদানির পোর্টফোলিওর একটি ৫৮৫ মিলিয়ন ডলারের বন্ড ইস্যুর জন্য এলআইসি একাই অর্থায়ন করে। মে মাসের শেষে আদানি গ্রুপ ঘোষণা করে, এই বন্ডের পুরো অর্থায়নের জন্য একমাত্র বিনিয়োগকারী হিসেবে তারা তহবিল সরবরাহ করেছে এলআইসি। এই অর্থায়নে সমালোচকেরা বলছেন, সাধারণ করদাতাদের অর্থের অপব্যবহার করা হয়েছে।

    এই বিনিয়োগের লক্ষ্য ছিল আদানির প্রতি ‘আস্থার বার্তা’ পাঠানো এবং অন্যান্য বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করা। তবে, ঠিক এক বছর আগে, আদানি গ্রুপের ঋণ স্তর ২০ শতাংশ বেড়েছিল এবং তাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে গুরুতর দুর্নীতি ও জালিয়াতির অভিযোগ ওঠে।

    বর্তমানে আদানি গ্রুপ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও দেশীয় তদন্তের মুখোমুখি। মার্কিন বিচার বিভাগ এবং সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) তাদের বিরুদ্ধে কোটি কোটি ডলারের ঘুষ, জালিয়াতি ও অপরাধমূলক লেনদেনের অভিযোগ এনেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, জ্বালানি চুক্তি জেতার জন্য মিথ্যা তথ্য দিয়ে ২৫০ মিলিয়ন ডলারের অবৈধ লেনদেন হয়। যদিও আদানি এই সব অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

    ২০২৩ সালে, মার্কিন শর্ট-সেলার হিন্ডেনবার্গ আদানি গ্রুপের বিরুদ্ধে স্টক ম্যানিপুলেশন ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তুললে বেশ কিছু বড় ব্যাংক তাদের ঋণ সহায়তায় সংকোচপ্রবণ হয়।

    এমন পরিস্থিতিতে, ডিএফএসের অভ্যন্তরীণ নথিগুলিতে ভারতীয় কর্মকর্তারা আদানিকে ‘দূরদর্শী উদ্যোক্তা’ হিসেবে বর্ণনা করেন, কারণ তারা মনে করেন, বন্দরে, জ্বালানি ও অবকাঠামো ক্ষেত্রে আদানির ব্যবসাগুলি দেশের অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

    বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এলআইসি, যা লাখ লাখ ভারতীয়র জীবন বিমা করে এবং তাদের বেশিরভাগই নিম্ন আয়ের, একটি রাজনৈতিকভাবে সংযুক্ত বেসরকারি সংস্থায় এত বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। স্বাধীন বিশ্লেষক হেমেন্দ্র হাজারি মন্তব্য করেন, ‘এলআইসির মতো একটি প্রতিষ্ঠান এ ধরনের বড় বিনিয়োগ সাধারণত প্রত্যাশিত নয়। যদি কিছু হয়, তবে শুধুমাত্র সরকারই এই পরিস্থিতি সামলাতে পারে।’

    প্রতিবেদনের প্রকাশের পরে বিরোধী দলগুলো প্রধানমন্ত্রী মোদি ও আদানি গ্রুপের ওপর তীব্র আক্রমণ শুরু করে। তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য মহুয়া মৈত্র টুইটে বলেন, ‘ভারতীয় করদাতাদের ৩০ হাজার কোটি রুপি কীভাবে আদানির পিগিব্যাঙ্ক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, সেটি দেখার জন্য মনোযোগ দিন।’ তিনি অভিযোগ করেন, মোদি সরকার আদানিকে অর্থায়ন করছে এবং উল্টো দেশের জনগণকেই এখন তাকে রক্ষা করতে হচ্ছে।

    কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ এক্স-এ পোস্ট করে বলেন, ২০২২ সালের ২১ সেপ্টেম্বর গৌতম আদানি ও তার সাত সহযোগীর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে অভিযোগ ওঠার পর মাত্র চার ঘণ্টার ট্রেডিংয়ে এলআইসির ৭ হাজার ৮৫০ কোটি রুপি ক্ষতি হয়। তিনি এটিকে ‘মোদানি মেগাস্ক্যাম’ বলে অভিহিত করেন, যেখানে অভিযোগ ছিল—জোরপূর্বক সম্পদ বিক্রি, সরকারি প্রতিষ্ঠান বেসরকারিকরণ এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ক্ষমতার অপব্যবহার।

    অভিযোগের জবাবে, আদানি গ্রুপ এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে তাদের কোনও ভূমিকার কথা ‘সুস্পষ্টভাবে অস্বীকার’ করে। তারা এই অভিযোগগুলোকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করে, এবং জানিয়েছে, তাদের উত্থান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বের অনেক আগে থেকেই শুরু হয়েছিল।

  • ৭ দিনে ইউক্রেনের ১০ এলাকা রাশিয়ার দখলে

    ৭ দিনে ইউক্রেনের ১০ এলাকা রাশিয়ার দখলে

    মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে রুশ বাহিনী নতুন ১০টি স্থান বা বসতিস্থান দখল করে নিয়েছে ইউক্রেনের ওপর। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় গতকাল শুক্রবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, দখলকৃত এই নতুন এলাকা গুলোর মধ্যে রয়েছে ইউক্রেনের দোনেৎস্ক, দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক, খারকিভ এবং জাপোরিজ্জিয়া প্রদেশ। এই ১৭ অক্টোবর থেকে ২৪ অক্টোবর অর্থাৎ এক সপ্তাহের মধ্যে রুশরা এসব এলাকায় নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। একই সময়ে, ইউক্রেনীয় বাহিনীর ২২টি সামরিক স্টোরেজ ও অস্ত্রনির্ভর কেন্দ্র ধ্বংস করেছে রুশ সেনারা। ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রুশদের এই সামরিক অগ্রগতি দেখা গেছে, তবে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে রক্ষার জন্য বিভিন্ন প্রতিরোধমূলক অভিযান চালানো হয়। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, এই সময়ের মধ্যে ইউক্রেনের বেশ কিছু সামরিক সম্পদ যেমন একটি এসইউ-২৭ ফাইটার জেট, চারটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, ১৮টি গাইডেড এভিয়েশন বোমা, ১৫টি হিমার্স রকেট এবং মোট ১৪৪১টি ড্রোন রুশ বাহিনীর কাছে হারিয়েছে ইউক্রেন। ইউক্রেন কতটা প্রতিরোধ করছে, তা নিয়ে এখনও স্পষ্ট কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি উল্লেখিত পক্ষগুলো। এই যুদ্ধের জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রিতা হঠাৎ কমতে দেখা যায়নি; কারণ ক্রিমিয়া উপদ্বীপকে রুশ ভূখণ্ড হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়ায় এবং পশ্চিমাদের ন্যাটো সদস্যপদে ইউক্রেনের আবেদনকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। গত তিন বছরে রুশ বাহিনী দখল করে নিয়েছে ইউক্রেনের দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, জাপোরিজ্জিয়া এবং খেরসন প্রদেশ, যা মোট ইউক্রেনের শতকের দশ ভাগেরও বেশি ভূখণ্ড। এই অঞ্চলগুলোকে পুনরুদ্ধার করতে ইউক্রেনের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব কঠোর পরিশ্রম চালিয়ে যাচ্ছেন, কিন্তু পরিস্থিতি এখনো শান্ত হওয়ার লক্ষণ দেখা যায় না। সংঘাতে এখনো দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বজায় রয়েছে।

  • থাই রাজমাতা সিরিকিত আর নেই

    থাই রাজমাতা সিরিকিত আর নেই

    থাইল্যান্ডের কিংবদন্তি রাজমাতা সিরিকিত মারা গেছেন। শুক্রবার রাত ৯টা ২১ মিনিটে ব্যাংককের একটি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৯৩ বছর। তিনি দেশের বর্তমান রাজা মহা ভাজিরালংকর্নের মা এবং রাজপরিবারের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব।

    থাই রয়্যাল হাউজহোল্ড ব্যুরো শনিবার (২৫ অক্টোবর) এ খবর নিশ্চিত করে জানায়, রাজমাতা সিরিকিত দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। ২০১৯ সালে তার শরীরে নানা রোগের কারণে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। চলতি বছরের ১৭ অক্টোবর তার রক্তে সংক্রমণ ধরা পড়ে। এরপর থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি হাসপাতালে ছিলেন।

    রাজা মহা ভাজিরালংকর্ন ও তার তিন মেয়ে ছাড়া এই প্রয়াত রাজমাতার রেখে যাওয়া উত্তরসূরিরা হচ্ছেন তার পুত্র ও তিন কন্যা। এখন তার শেষ বিদায়ের জন্য রাজকীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া প্রস্তুতি চলছে। সাধারণ মানুষের জন্য মরদেহ ব্যাংককের গ্র্যান্ড প্যালেসের ডুসিট থ্রোন হলে রাখা হবে এবং এক বছর ধরে তিনিへの শ্রদ্ধাজ্ঞাপন চলবে।

    সিরিকিত ছিলেন থাইল্যান্ডের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে রাজপরিবারের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর তার নেতৃত্বে গৌরবময় গ্ল্যামার ও মর্যাদার পুনরুত্থান ঘটেছিল। পরবর্তী বছরগুলোতে তিনি রাজনৈতিক প্রভাবে সক্রিয় ছিলেন। ২০১২ সালে স্ট্রোকের কারণে তিনি জনসমক্ষে দেখা কম করেন।

    থাই প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল তার মৃত্যুর শোক প্রকাশ করে বলেছেন, তার সফর মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত আসিয়ান সম্মেলনে বাতিল করা হয়েছে ও রাজকীয় শেষকৃত্য সম্পর্কিত আলোচনা আজকের মন্ত্রিসভার সভায় হবে।

    সিরিকিত ছিলেন থাইল্যান্ডের দীর্ঘতম সময়ের রাজা ভূমিবল আদুলিয়াদেজের স্ত্রী। ১৯৪৬ সাল থেকে ৭০ বছর ধরে রাজপরিবারের এই মূল সদস্য রাজাধিরাজের সঙ্গে দেশের দাতব্য কার্যক্রমে যুক্ত থেকে জনগণের ভালোবাসা অর্জন করেন।

    তিনি ফ্রান্সে জন্মগ্রহণ করেছিলেন, প্যারিসে সংগীত ও ভাষা অধ্যয়নকালে ভূমিবলের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ১৯৪৯ সালে তারা বাগদান সম্পন্ন করেন এবং ১৭ বছর বয়সে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

    সিরিকিত পিয়ের বালমাঁর মতো প্রখ্যাত ফরাসি ডিজাইনারের সঙ্গে মিলে থাই সিল্কের ঐতিহ্যবাহী পোশাকের মধ্যে নতুন রুচি ও সৌন্দর্য যোগ করেছিলেন, যার ফলে থাইল্যান্ডের সিল্কশিল্পের প্রতি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়।

    চার দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি ওয়াহু রাজা মহা ভাজিরালংকর্নের সঙ্গে দেশ-বিদেশে বিভিন্ন সফর করেন এবং দরিদ্র মানুষদের জন্য অন্ন, বাসস্থান ও শিক্ষা নিয়ে কাজ করেন। ১৯৫৬ সালে রাজা সাময়িকভাবে সন্ন্যাস গ্রহণ করলে সিরিকিত তার দায়িত্ব সাময়িকভাবে গ্রহণ করেন। ১৯৭৬ সালে তার জন্মদিন ১২ আগস্টকে সরকারীরা মা ও জাতীয় ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করে।

    রাজা মহা ভাজিরালংকর্নের মৃত্যুর পর ২০১৬ সালে তিনি তার একমাত্র পুত্রের নতুন সিংহাসনে বসার পর থেকে রাজপরিবারের একজন কেন্দ্রীয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন। ২০১৯ সালে রাজা মহা ভাজিরালংকর্নের অভিষেকের সময় তাঁর উপাধি রাজমাতা হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পায়।

  • গাজায় লাশে নির্যাতনের দাগ, গার্ডিয়ানের চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন

    গাজায় লাশে নির্যাতনের দাগ, গার্ডিয়ানের চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন

    গাজা উপত্যকা বর্তমানে আলোচিত বিষয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে রূপ নিয়েছে, কারণ সাময়িক যুদ্ধবিরতির পর সেখানে ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর নির্যাতন, বেআইনি হত্যা ও সন্দেহজনক মৃত্যুর ভয়াবহ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইসরাইলি সেনারা সেডিতিমান সামরিক ক্যাম্প থেকে ১৯৫ জন ফিলিস্তিনি বন্দির লাশ হস্তান্তর করেছে, যাদের দেহে স্পষ্টভাবে নির্যাতনের চিহ্ন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার আলামত দেখা যাচ্ছে। ফিলিস্তিনি চিকিৎসকেরা এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

    গার্ডিয়ান এবং বিভিন্ন ফিলিস্তিনি গণমাধ্যমের রিপোর্টে উঠে এসেছে, এই লাশগুলোর মধ্যে অনেকের হাত ও চোখ বাঁধা ছিল, যা বোঝায় তারা বন্দি অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। কিছু লাশের শরীরে গুলির চিহ্ন ও তীরের আঘাতের দাগ রয়েছে। এমনকি কিছু লাশ ইসরাইলি ট্যাংকের চাকার নিচে পিষ্ট হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় চিকিৎসকরা।

    সাম্প্রতিক এই ঘটনার পর জাতিসংঘের বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক এক অধিবেশনে বলেছেন, এই ভয়াবহতা তদন্তের জন্য একটি স্বতন্ত্র ও স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন জরুরি। মরিস টিডবল-বিন্সের নেতৃত্বাধীন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা এই প্রতিবেদনকে ভিত্তি ধরে বলেছেন, ভুক্তভোগীদের নাম পরিচয় শনাক্ত করে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয় করতে হবে।

    এদিকে, ২০ মাস ধরে ইসরাইলি কারাগারে বন্দি ছিলেন এক সাংবাদিক, যিনি বন্দিদের ওপর চলা নৃশংস নির্যাতনের ভয়াবহ বিবরণ প্রকাশ করেছেন। তাঁর ভাষ্য, শীতের মৌসুমে বন্দিদের নগ্ন অবস্থায় রাখা হয়, হাত ও চোখ বাঁধা অবস্থায় তাদের ১০০ দিন ধরে রাখা হয়, এমনকি কুকুর দিয়ে নির্যাতন করা হয়।

    ইসরাইল দখলকৃত এলাকায় তৎপর সংগঠন ‘ফিজিশিয়ানস ফর হিউম্যান রাইটস’ বলছে, এই বন্দিরা মৃত্যুর হার অসাধারণভাবে বেড়েছে এবং নতুন প্রমাণের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক স্বতন্ত্র তদন্তের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। সংগঠনটির আরও দাবি, গত দুই বছরে তারা ইসরাইলি কারাগারে পরিকল্পিত নির্যাতনের বহু ঘটনা নথিভুক্ত করেছে। এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক সমাজের হস্তক্ষেপ ও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানাতে শুরু করেছে।

  • পাকিস্তানে মিলিশিয়া নেতাসহ ছয়জনকে হত্যা, মরদেহে আগুন

    পাকিস্তানে মিলিশিয়া নেতাসহ ছয়জনকে হত্যা, মরদেহে আগুন

    পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের সীমান্তে এক ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বন্দুকধারীরা একটি গাড়িতে গুলি চালিয়ে সরকারপন্থী এক মিলিশিয়া নেতাকে হত্যা করেছে। পাশাপাশি তার সঙ্গে থাকা আরও পাঁচজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। পরে ওই হত্যাকারীরা মরদেহগুলো আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয় বলে বৃহস্পতিবার দেশটির একজন সরকারি কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, যিনি নাম প্রকাশ না করার শর্তে এএফপি সংস্থা’কে এই তথ্য দেন।

    ঘটনাটি প্রথম ঘটে বুধবার। নিহত ব্যক্তিরা দেশের ওই প্রদেশে এক ভয়াবহ সহিংসতার মুখোমুখি হয়েছেন, যা তালেবান ক্ষমতায় ফিরার পর থেকে এই অঞ্চলে ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে একটি ষড়যন্ত্রের গন্ধ থাকলেও এখনো কেউ দায় স্বীকার করেনি। তবে, এক জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তা বলেছেন, বন্দুকধারীরা প্রথমে ওই মিলিশিয়া নেতাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এরপর তারা তার গাড়িতে জ্বালানি ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয়, যাতে ঘটনাস্থলেই ছয়জনের দেহ সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।

    তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি), দেশটির আনুষ্ঠানিক তালেবান গোষ্ঠী, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা অস্বীকার করলেও, স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই মিলিশিয়া নেতা তাদের চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, পাকিস্তানি তালেবান এই ব্যক্তির কাছ থেকে চাঁদা দাবি করেছিল, যা নাকচ করে দেওয়ায় প্রতিশোধ হিসেবে তাকে হত্যা করা হয়েছে।

    পাকিস্তান অভিযোগ করে থাকে, আফগানিস্তানের তালেবান সরকার টিটিপির আর্মি আশ্রয় ও তাদের সীমান্ত পারাপারের অনুমতি দিচ্ছে, যা বরাবরই কাবুল অস্বীকার করে আসছে। দুই দেশের মধ্যে তিক্ততা বেড়ে চললেও, সম্প্রতি ৯ অক্টোবর কাবুলে এক বিস্ফোরণে দু’দেশের সেনাদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এর প্রেক্ষিতে, উভয় পক্ষের মধ্যে সীমান্ত বন্ধ হয়ে যায় এবং বড় ধরনের সংঘর্ষ ঘটে, ফলে বহু মানুষের প্রাণহানি হয়। পরে, এই সংকট সমাধানে উভয় দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যা কার্যকর হয়েছে। আগামী শনিবার এই দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে তুরস্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

    সূত্র: এএফপি।

  • ইউরোপজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে বার্ড ফ্লু, বিভিন্ন দেশে খামারগুলোতে লকডাউন ঘোষণা

    ইউরোপজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে বার্ড ফ্লু, বিভিন্ন দেশে খামারগুলোতে লকডাউন ঘোষণা

    ইউরোপজুড়ে নতুন করে আবারও ভয়াবহ বার্ড ফ্লু-এর প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে, যা আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণত সতর্কতা অবলম্বন এবং রোগ আরও ছড়িয়ে না পড়তে দেশের বিভিন্ন দেশ কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। বেলজিয়ামসহ বেশ কিছু দেশ পোলট্রি খামারগুলোকে ঘরেই রাখার নির্দেশ দিয়েছে।

    ২২ অক্টোবর বুধবার, সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড এই খবর প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপজুড়ে চলতি পরিস্থিতি মোকাবিলায়, নতুন করে ছড়িয়ে পড়া এই বার্ড ফ্লুর মোকাবিলায় বেলজিয়াম বৃহস্পতিবার থেকে সব ধরনের পোলট্রি খামারকে ঘরে রাখতে নির্দেশ দিয়েছে। দেশের ফেডারেল ফুড সেফটি এজেন্সি জানায়, সম্প্রতি একটি খামারে করোনা সংক্রমণের সন্ধান পাওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    গত কয়েক বছর ধরে, ইউরোপে বার্ড ফ্লু-এর কারণে শত শত কোটি পোলট্রি মারা গেছে বা সংক্রমিত হওয়ায় বাধ্যতামূলকভাবে নিধন করা হয়েছে। এর ফলে সরবরাহ শৃঙ্খলা ব্যাহত হয়েছে, পাশাপাশি খাদ্যদ্রব্যের মূল্যও বেড়ে গেছে। এ পরিস্থিতি নতুন এক মহামারির আশঙ্কাও তৈরি করেছে।

    অতীতে, ফ্রান্সও একই ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করে গত মঙ্গলবার।

    বিশ্ব প্রাণিস্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউওএএইচ) জানায়, বেলজিয়ামের উত্তরাঞ্চলীয় শহর ডিকসমুইডের কাছে একটি টার্কি খামারে এই সপ্তাহে H5N1 ধরনের বার্ড ফ্লু শনাক্ত হয়েছে। এতে ৩১৯টি টার্কির মৃত্যু ঘটেছে এবং আরও ৬৭ হাজার ১১০টি পাখি নিধন করা হয়েছে।

    বিশ্ব সংস্থাটির আরো জানায়, স্লোভাকিয়াতেও একটি পোলট্রি খামারে নতুন করে বার্ড ফ্লুর প্রাদুর্ভাব ধরা পড়েছে, যা ইউরোপে ভাইরাসটির দ্রুত বিস্তারের সূচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    অন্যদিকে, নেদারল্যান্ডসের সরকার বুধবার জানিয়েছে, দেশটির মধ্য-পূর্বাঞ্চলে একটি পোলট্রি খামারে বার্ড ফ্লু শনাক্তের পর প্রায় ১ লাখ ৬১ হাজার মুরগি নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

  • ভারতে এআই দ্বারা তৈরি ছবি ও ভিডিও দ্বারা ইসলামের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানোর অপতৎপরতা

    ভারতে এআই দ্বারা তৈরি ছবি ও ভিডিও দ্বারা ইসলামের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানোর অপতৎপরতা

    ভারতের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহারে তৈরি হওয়া ছবি ও ভিডিওগুলো মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ, ষড়যন্ত্র এবং সামাজিক বিভাজন বাড়ানোর নতুন опасতা তৈরি করেছে। এই সংক্রান্ত একটি ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা, সেন্টার ফর স্টাডি অব অর্গানাইজড হেট (সিএসওএইচ), সম্প্রতি একটি বিশ্লেষণমূলক প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যেখানে এই উদ্বেগের কথা প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, এআই এখন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের এক শক্তিশালী হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।

    নির্ধারিত সময়ে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে জানা গেছে, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ভারতে মুসলিমCommunity-targeted hateful content লক্ষ করা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৩২৬টি এআই-সৃষ্ট পোস্ট, যা বেশ কিছু সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ছড়ানো হয়েছে। এই পোস্টগুলো এক্স (টুইটার), ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকের ২৯৭টি পাবলিক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত হয়েছে।

    প্রতিবেদনের মূল লেখক ও নির্বাহী পরিচালক রাকিব হামিদ বলেন, ‘‘এটা শুধু বরফের নিচের ছোট অংশ, সমগ্র ভারতের ডিজিটাল পরিবেশের পরিধি অনেক বেশি বড় এবং জটিল।” তিনি জানান, এর আগের বছরগুলোতে এ ধরনের কার্যক্রম তুলনামূলক কম ছিল, কিন্তু ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে এটি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যায়। এর কারণ হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে, সহজলভ্য এআই টুল যেমন স্টেবল ডিফিউশন, মিডজার্নি ও DALL•E ইত্যাদি সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য সহজে পাওয়া যাচ্ছে। এই টুলগুলো দিয়ে তৈরি ছবি এখন মুসলিমদের ব্যক্তিগত করে তোলা, ষড়যন্ত্রমূলক ষড়যন্ত্র তত্ত¡ ছড়ানো, সহিংসতা সুন্দরভাবে উপস্থাপন এবং নারীবিদ্বেষ ও ইসলামবিরোধী বিদ্বেষ ছড়ানোর কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।

    বিশেষ করে, ভারতের মুসলিম নারীদের যৌন হয়রানির উদ্দেশ্যে এআই-সৃষ্ট ছবি ও কনটেন্টের প্রবণতা ক্রমশ বেড়ে চলেছে, যা আন্তর্জাতিকভাবে নানা বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। রিপোর্ট অনুসারে, বর্তমান পরিস্থিতিতে যেকোনো সাধারণ প্রতিবাদ বা ছোটখাটো সংঘাতকেও এখন সহজেই সা¤প্রদায়িক রূপ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে, যেখানে যারা অপরাধমূলক বা ঘৃণার প্রচার করতে চায়, তারা এই এআই generated কনটেন্টগুলো ব্যবহার করছে।

    এ কারণে বিশেষ করে উদ্বেগ বাড়ছে, কারণ ভারত এখনও এআই-নির্মিত মিথ্যা সংবাদ ও প্রোপাগান্ডার বিরুদ্ধে কার্যকরী আইনগত ও সাংস্কৃতিক প্রস্তুতি নিতে পারেনি। ডিজিটাল প্রাইভেসি গবেষক শ্রীনিবাস কোদালি বলেন, ‘‘এই ধরনের কনটেন্ট সমাজের বিভিন্ন স্তরে মানুষের মনোভাব ও বিশ্বাসের উপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।’’ তিনি আরও যুক্ত করেন, এআই-নির্মিত মিডিয়ার প্রভাব সরলরেখায় চলে না এবং এটা কিভাবে দেখি, কোন প্রেক্ষাপটে ব্যাখ্যা করি, তা দর্শকের মানসিকতা অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়।

    সরকার যদিও এআই প্রযুক্তিকে ‘উন্মুক্ত ও সহজলভ্য’ করার পরিকল্পনা করছে, তবে কোদালি সতর্ক করে বলেন, ভুয়া তথ্য, মানহানি বা ঘৃণাবাদী বক্তব্যের মতো ইতিমধ্যে প্রচলিত ক্ষতিকর ভাষার সাথে এআই নতুন জটিলতা যোগ করেছে।

    অতএব, গবেষণা সংস্থা সিএসওএইচ এর মূল সূত্রে বলা হয়েছে, মূল সমস্যা লুকিয়ে আছে এআই মডেল তৈরিকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে। তারা বিপুল পরিমাণ অনিয়ন্ত্রিত ডেটা, ঘৃণাজাত কনটেন্ট ও ষড়যন্ত্রমূলক ষড়যন্ত্রের তথ্য দিয়ে এসব মডেল প্রশিক্ষণ দেয়, যা ব্যবহার করে ক্ষতিকারক ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট তৈরি হচ্ছে।

    প্রতিবেদনটি বেশ কিছু সুপারিশও প্রদান করেছে। তাতে বলা হয়েছে, এআই নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে অবিলম্বে ও ধারাবাহিকভাবে শক্তিশালী শনাক্তকরণ, রিপোর্টিং ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করতে হবে, যাতে অপব্যবহার দ্রুত শনাক্ত ও রোধ করা যায়।

    এই উদ্বেগের প্রেক্ষিতে, ভারতের ইলেকট্রনিকস ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্লাটফর্মগুলোর জন্য নতুন নিয়মের প্রস্তাব দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ব্যবহারকারীদের অবশ্যই জানাতে হবে, তাদের কনটেন্ট এআই-নির্মিত কি না। এটি এ ধরনের বিভ্রান্তিকর এবং ক্ষতিকর কনটেন্টের বিরুদ্ধে ভারতের উদ্যোগের অংশ।

  • যুক্তরাষ্ট্রে নেশাগ্রস্ত ভারতীয় অভিবাসীর ট্রাকচাপায় নিহত ৩

    যুক্তরাষ্ট্রে নেশাগ্রস্ত ভারতীয় অভিবাসীর ট্রাকচাপায় নিহত ৩

    যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় এক ভয়ঙ্কর ঘটনার সাক্ষী হলো প্রযুক্তি সভ্য দেশটির মানুষ। ২১ বছর বয়সী এক অবৈধ ভারতীয় অভিবাসী, জাসনপ্রিত সিং, একটি ট্রাক নিয়ে নির্মমভাবে চালিয়ে কমপক্ষে তিনজনের মৃত্যু_corner এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। পুলিশ এখন তাকে mাদকাসক্ত অবস্থায় গাড়ি চালানোর এবং হত্যার অভিযোগে গ্রেফতার করেছে।

    আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এবিসি৭ এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত মঙ্গলবার বিকালে সান বার্নার্ডিনো কাউন্টির ফ্রিওয়েতে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। ওই সময় জাসনপ্রিত তার সেমি-ট্রাকটি চালাচ্ছিলেন। সন্দেহ হয়, তিনি নেশাগ্রস্ত ছিলেন কারণ তার গাড়ি চালানোর সময় তিনি বেশ কিছুকিছু গাড়িকে জোরে ধাক্কা মারেন। ঘটনাস্থলে সাজানো ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, তার ট্রাকটি খুবই দ্রুত চলে গিয়ে অসংখ্য গাড়িকে ধাক্কা মারে। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা পুরোপুরি ক্যামেরাবন্দী হয়েছে ড্যাশক্যামের মাধ্যমে। এতে স্পষ্ট দেখা যায়, তার ট্রাক দ্রুত গতিতে গাড়িগুলোর ওপর আছড়ে পড়ছে।

    সিবিএস নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ঘটনায় আটটি যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার মধ্যে চারটি ছিল বাণিজ্যিক ট্রাক। দুর্ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু ঘটে, আর আহত হন আরও চারজন, যাদের মধ্যে জাসনপ্রিতও রয়েছেন। আহতদের সবাইকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

    ক্যালিফোর্নিয়া পুলিশ জানিয়েছে, জাসনপ্রিতের মধ্যে কোনও বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল কিনা, তা এখন তদন্তের বিষয়। তবে, নিশ্চিত করা হয়, এই ঘটনার সময় সে মাদক গ্রহণ করেছিলেন। তাকে গ্রেফতারের পর পরীক্ষা-নিরীক্ষায় পাওয়া যায়, তিনি মাদক সেবন করেই ড্রাইভিং করছিলেন। বর্তমানে সে আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত চলছে। বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে।

    ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে পেট্রোলের (সিএইচপি) কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, জাসনপ্রিতের কাছে বৈধ বাণিজ্যিক ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল কি-না, তা এখন তদন্তাধীন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে, তার ভিসা বা অনুমোদনপত্র ছিল না।

    অন্য এক মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ বলেছে, জাসনপ্রিত সিং ২০২২ সালে অবৈধভাবে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। তখন তাকে ক্যালিফোর্নিয়ার এল সেন্ট্রোতে আটক করা হয়। তবে, বাইডেন প্রশাসনের ‘আটকের বিকল্প’ নীতির অধীনে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়, যেখানে অবৈধ অভিবাসীদের বিচারবিহীন সাময়িক মুক্তি দেওয়া হয়।

    এর আগেও গত আগস্টে ফ্লোরিডার সেন্ট লুসি কাউন্টির পোর্ট পিয়ার্সে অবৈধভাবে ইউ-টার্ন নেবার সময় একটি ট্রাকের সঙ্গে দুর্ঘটনায় পড়ে হারজিন্দার সিং নামে এক ভারতীয়ের মৃত্যু হয়।

    ওই সময় মার্কিন মার্শালদের মতে, হারজিন্দার সিং ২০১৮ সালে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকেন। এরপরও তিনি ক্যালিফোর্নিয়া থেকে বৈধ বাণিজ্যিক ড্রাইভিং লাইসেন্স (সিডিএল) পান করেন, যা সাধারণত অবৈধ অভিবাসীদের জন্য নিষিদ্ধ। তার এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

    সূত্র: এনডিটিভি, ইন্ডিয়া টুডে

  • দুর্ঘটনার কবলে ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হেলিকপ্টার

    দুর্ঘটনার কবলে ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হেলিকপ্টার

    ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হেলিকপ্টার কেরালার প্রামাদম স্টেডিয়ামে অবতরণ করার সময় দুর্ঘটনার শিকার হয়। বুধবার ২২ অক্টোবর, এ ঘটনা ঘটে যখন হেলিকপ্টারটি অবতরণের জন্য প্রস্তুত হচ্ছিল। দ্য হিন্দু সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়, হেলিপ্যাডের ভার সহ্য করতে না পারায় একটি অংশ ভেঙে যায় এবং হেলিকপ্টারটি অস্থির হয়ে পড়ে। তবে আশার খবর হলো, দুর্ঘটনায় কারো জীবনহানী বা গুরুত্বপূর্ণ সম্পদের ক্ষতি হয়নি। আইনশৃঙ্খলা ও দমকল বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং উদ্ধার কাজ শুরু করে। দীর্ঘ চেষ্টা 后, ক্ষতিগ্রস্ত অংশটি সরিয়ে ফেলা হয়। স্থানীয় পুলিশের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা জানান, শেষ মুহূর্তে অবতরণের স্থান হিসেবে এই স্টেডিয়াম বেছে নেওয়া হয়েছিল। মঙ্গলবার গভীর রাতে সেখানে হেলিপ্যাড নির্মাণ করা হয় এবং মূল পরিকল্পনা ছিল পাম্বার কাছের নীলক্কালে অবতরণ করা। তবে আবহাওয়ার খারাপ পরিস্থিতির কারণে অবতরণের স্থান পরিবর্তন করে প্রামাদমে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ ও দমকল কর্মীরা দ্রুত ভাঙা অংশগুলো ঠিক করে দেন। রাষ্ট্রপতি সুস্থ রয়েছেন বলে জানা গেছে। এই পুরো ঘটনা ভিডিও আকারে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন এএনআই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হেলিপ্যাডের কংক্রিট পুরোপুরি সেট হয়ে ওঠেনি, তাই ওজনের চাপ সহ্য করতে না পেরে ভেঙে যায়। কংক্রিটের এই দুর্বলতার কারণেই হেলিপডের চাকাগুলি মাটির গর্তের মধ্যে প্রবেশ করে। প্রথমে পাম্বার কাছের নীলক্কালে অবতরণের পরিকল্পনা থাকলেও, খারাপ আবহাওয়ার কারণে সেটি পরিবর্তিত হয়ে প্রামাদমে হয়। এই দুর্ঘটনার সময় দ্রৌপদী মুর্মু কেরলার শবরীমালা মন্দিরে যাচ্ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হেলিকপ্টারটি অবতরণের পরই একাংশ ভেঙে যায়। স্থানীয় দমকল ও পুলিশ সদস্যরা দ্রুত বিপজ্জনক স্থান থেকে কপ্টারটি সরিয়ে আনার জন্য কাজ শুরু করেন। ঘটনা সংক্রান্ত ভিডিওতে দেখা যায় কিভাবে উদ্ধারকর্মীরা প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হেলিকপ্টারটি নিরাপদে সরিয়ে নিচ্ছেন।