Category: আন্তর্জাতিক

  • আফগান সীমান্তে ভয়াবহ সংঘর্ষ, পাকিস্তানি পাঁচ সৈন্য ও ২৫ জঙ্গি নিহত

    আফগান সীমান্তে ভয়াবহ সংঘর্ষ, পাকিস্তানি পাঁচ সৈন্য ও ২৫ জঙ্গি নিহত

    তুরস্কের ইস্তাম্বুলে চলমান শান্তি আলোচনা চলাকালে আফগানিস্তান-পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী এলাকায় একটি ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে পাকিস্তানের পাঁচ সেনা সদস্য এবং ২৫ জঙ্গি নিহত হন। রোববার পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

    পশ্চিমা প্রতিবেশী দুই দেশ—পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এই সংঘর্ষটি নতুন মাত্রায় পৌঁছায়। বিশেষ করে, ইস্তাম্বুলের শান্তি আলোচনার মধ্যে পাকিস্তান-আফগান সীমান্তে এই সংঘর্ষের খবর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে গুরুত্ব পায়।

    আইএসপিআরের বিবৃতিতে জানানো হয়, গত শুক্রবার ও শনিবার আফগানিস্তানের ভেতর দিয়ে কিছু জঙ্গি সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানের কুররাম এবং উত্তর ওয়াজিরিস্তানে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করে। পাকিস্তানের সীমান্তরক্ষী বাহিনী ওইসব অপচেষ্টাকে বাধা দেয় এবং নিরুৎসাহিত করে।

    বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এই অনুপ্রবেশের চেষ্টার পেছনে আফগানিস্তানের সরকারের উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। যদিও আফগানিস্তানের তালেবান সরকার এই ধরনের মামলার বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি। ব্রিটিশ সংবাদসংস্থা রয়টার্সের মতে, তালেবান এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, পাকিস্তানের সীমান্তে সামরিক অপারেশনগুলো মূলত আফগান সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন।

    চলতি মাসের শুরুর দিকে এই দুই দেশের সেনা সংঘর্ষে আরও বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটে। সেইসঙ্গে, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায়, ইস্তাম্বুলে দুই দেশের শীর্ষ কূটনীতিকরা আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। ২০২১ সালে তালেবান কাবুল দখলের পর এটাই ছিল সবচেয়ে প্রাণঘাতী সীমান্ত কলহ।

    আফগানিস্তানে অবস্থানরত জঙ্গিদের নিয়ন্ত্রণ ও সীমান্তের ওপারে হামলার প্রতিরোধে দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তান কাবুলের প্রতি আবেদন জানিয়ে আসছে। সম্প্রতি, জঙ্গি হামলায় ২৩ জনের বেশি সৈন্যের প্রাণহানি ঘটেছে। এই ঘটনার পর পাকিস্তান আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল ও অন্য এক প্রদেশে বিমান হামলা চালায়। এরপর দুই দেশের সেনারা পাল্টা হামলায় লিপ্ত হয়। এই পরিস্থিতিতে গত রোববার দোহায় দুই দেশ শান্তির জন্য যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে স্বাক্ষর করে।

    সোমবার পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেছেন, এই যুদ্ধবিরতি এখনও কার্যকর রয়েছে এবং পাকিস্তান বিশ্বাস করে, আফগানিস্তান আসলে শান্তিপ্রিয়। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, যদি ইস্তাম্বুলে কোনও চূড়ান্ত সমঝোতা না হয়, তাহলে বড় ধরনের যুদ্ধের আশঙ্কা রয়েছে।

    জঙ্গিদের ব্যাপারে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী দাবি করছে, তারা ‘‘ফিতনা আল খারিজ’’ নামে পরিচিত উগ্রপন্থী সংগঠনের সদস্য, যারা বিভিন্ন সময়ে দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করেছে। পাকিস্তানের মতে, এই গোষ্ঠী আনুষ্ঠানিকভাবে বিদেশি পৃষ্ঠপোষকদের মাধ্যমেও সহায়তা পায়।

    সংবাদসূত্র: এএফপি, রয়টার্স।

  • দক্ষিণ চীন সাগরে হঠাৎ মার্কিন যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত

    দক্ষিণ চীন সাগরে হঠাৎ মার্কিন যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত

    দক্ষিণ চীন সাগরে আধাঘণ্টার ব্যবধানে মার্কিন সামরিক বাহিনীর দুটি এয়ারক্রাফট—একটি যুদ্ধবিমান এবং একটি হেলিকপ্টার—অপ্রত্যাশিতভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে। এই দুর্ঘটনাগুলোর ঘটনা ঘটে মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস নিমিৎজের কাছাকাছি অঞ্চলে, যেখানে দুটি যন্ত্রাংশ এসময় এয়ারক্রাফটগুলো উড্ডয়ন করছিল।

    বিশেষ করে সৌভাগ্যক্রমে এই দুর্ঘটনায় রোমান্সের পাঁচ ক্রু সদস্যই জীবিত ও নিরাপদে আছেন। তবে এই ঘটনাগুলো আবারও মার্কিন নৌবাহিনীর নিরাপত্তা ও পরিচালনার মানদণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

    সোমবার (২৭ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, দক্ষিণ চীন সাগরে ইউএসএস নিমিৎজ থেকে উড্ডয়ন করা এই দুটি এয়ারক্রাফট—এমএইচ-৬০আর সি হক হেলিকপ্টার এবং এফ/এ-১৮এফ সুপার হর্নেট যুদ্ধবিমান—আধঘণ্টার ব্যবধানে বিধ্বস্ত হয়।

    ফ্লিটের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দুর্ঘটনার পর তিনজন ক্রু সদস্যকে উদ্ধার করা হয়েছে। হেলিকপ্টারটি ছিল এমএইচ-৬০আর সি, যার তিনজন ক্রু উদ্ধার করা হয়েছে। আর যুদ্ধবিমানটি ছিল এফ/এ-১৮এফ সুপার হর্নেট, যার দুই পাইলটও নিরাপদে ইজেক্ট করে বের হতে পেরেছেন। এভাবে মোট পাঁচজনই এখন “সুরক্ষিত এবং স্থিতিশীল” অবস্থায় আছেন।

    বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ অন্বেষণে তদন্ত চলছে।

    এপি বলছে, অবসর নেওয়ার আগে এই ইউএসএস নিমিৎজ তার শেষ মিশনে অংশ নিচ্ছিল। পুরো গ্রীষ্ম জুড়ে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থান করে এরপর এটি ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের নেভাল বেস কিটস্যাপেতে ফিরে আসছিল।

    অপরদিকে, রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার প্রতিক্রিয়া হিসেবে মার্কিন সামরিক বাহিনী সেই অঞ্চলে উপস্থিতি জোরদার করতে এই রণতরী পাঠানো হয়েছিল।

    মার্কিন সামরিক বাহিনীর বিমানবাহী রণতরীতে দুর্ঘটনা প্রথম একবার নয়। এর আগে ইউএসএস হ্যারি এস. ট্রুম্যানের বিভিন্ন দুর্ঘটনা ঘটে, যার মধ্যে আছে – চলতি বছরের এপ্রিলে ট্রুম্যানের হ্যাঙ্গার থেকে একটি এফ/এ-১৮ জেট সাগরে পড়ে যায়, যা ভুলবশত ট্রুম্যানের মাধ্যমে উৎক্ষেপিত হয়েছিল। এর আগে ডিসেম্বর ২০২২ সালে গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্রবাহী ক্রুজার ইউএসএস গেটিসবার্গ ভুলক্রমে ট্রুম্যানের ক্যারিয়ারের এফ/এ-১৮ জেটটিকে ভূপাতিত করে।

    আরও কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে—মে মাসে ট্রুম্যানের অবতরণের সময় একটি এফ/এ সিরিজের যুদ্ধবিমান সাগরে পড়ে যায় এবং পাইলটরা বাধ্য হয়ে ইজেক্ট করতে সক্ষম হয়।

    অথচ, এই সব দুর্ঘটনায় কেউ নিহত বা গুরুতর আহত হননি। তখন থেকেই এই দুর্ঘটনাগুলোর তদন্ত চলছে, তবে আর কোনো চূড়ান্ত প্রতিবেদনের প্রকাশ এখনো হয়নি।

  • হাতকড়া ও বেড়ি পরিয়ে ভারতে ফিরিয়ে আনা হলো ৫০ তরুণকে

    হাতকড়া ও বেড়ি পরিয়ে ভারতে ফিরিয়ে আনা হলো ৫০ তরুণকে

    উন্নত জীবনের আশায় ভারতের তরুণেরা যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন। অনেকের জন্য এটি ছিল স্বপ্নের মতো এক অভিযাত্রা, যার জন্য তারা জমি বিক্রি, ঘর বন্ধক রেখেছিলেন এবং এজেন্টদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। তবে সেই স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। অবৈধভাবে বসবাসের দায়ে মার্কিন প্রশাসন তাদের হাতকড়া ও পায়ে বেড়ি পরিয়ে দেশে ফেরত পাঠিয়েছে।

    রোববার (২৬ অক্টোবর) ভোরে হরিয়ানার ৫০ জন তরুণ দেশে ফিরেছেন। তাদের বয়স ২৫ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। রাজ্য প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এই তরুণদের মধ্যে ১৬ জন কারনাল, ১৪ জন কাইথাল, ৫ জন কুরুক্ষেত্র ও ১ জন পানিপথ জেলার বাসিন্দা। তারা সবাই ‘ডানকি রুট’ ব্যবহার করে দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকার দেশগুলো পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন। কেউ কেউ সেখানে কয়েক বছর বসবাস করেছেন, আবার কেউ মাত্র কিছু মাস। কেউ আবার ফেরত পাঠানোর আগে কারাভোগও করেছেন।

    কারনালের ২৬ বছর বয়সী অঙ্কুর সিং জানিয়ে বলেন, ২০২২ সালের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাতে তার খরচ হয় প্রায় ২৯ লাখ রুপি। চার মাসের দীর্ঘ যাত্রায় তিনি দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন দেশ পেরিয়ে গিয়েছিলেন। অঙ্কুর বলেন, “সব কিছু ভালোই চলছিল, কিন্তু চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে জর্জিয়ায় একটি মদের দোকানে কাজ করার সময় ধরা পড়ি।”

    তারপর তাকে আটক করে রাখা হয় এবং ২৪ অক্টোবর ভারতে ফেরত পাঠানো হয়। এই ফ্লাইটে হরিয়ানা ছাড়াও পাঞ্জাব, হায়দরাবাদ, গুজরাট এবং গোয়া থেকেও কয়েকজন আহত হয়েছিলেন। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় দুইহাজার পাঁচশ’ ভারতীয়কে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আটটি সামরিক, চার্টার্ড ও বাণিজ্যিক ফ্লাইটে ফেরত আনা হয়েছে। অধিকাংশই পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও গুজরাটের বাসিন্দা।

    ফেরত আসাদের মধ্যে ছিলেন হরিয়ানার ঘোরাউন্দা ব্লকের হুসন (২১)। তার তিন বোনের একমাত্র ভাই হুসন, তার জন্য পরিবারকে ৪৫ লাখ রুপি এজেন্টদের দিতে হয়েছিল। তার কাকা সুরেন্দর সিং বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পরই হুসন ধরা পড়ে। পরিবার জমি বিক্রি করেছিল, কিন্তু সব অকর্মণ্য হয়ে গেল।”

    একইভাবে কারনালের কালসী গ্রামের শ্রমজীবী পরিবারের সন্তান হরিশ এসসি, ২০২৩ সালে কর্মী ভিসায় কানাডা যান। পরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন এবং দোকানে কাজ করার সময় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আটক হন।

    কাইথাল জেলার তারাগড়ের নরেশ কুমার এক বছর বেশি সময় জেলে ছিলেন। তিনি বলেন, “ফ্লাইটে ওঠানোর সময় আমাদের হাতকড়া পরানো হয়, তবে কারো সঙ্গে খারাপ ব্যবহার হয়নি। আমি সেখানে ১৪ মাস জেলে ছিলাম।”

    নরেশ আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাতে তাকে ৫৭ লাখ ৫০ হাজার রুপি দিতে হয়েছিল এজেন্টদের, যারা কম খরচের প্রলোভন দিয়েছিলেন। এই টাকা জোগাতে তার পরিবার জমি বিক্রি ও ধার করেছে।

    কাইথাল জেলার পুলিশ সুপার উপাসনা জানান, রোববার বিকেলে ১৪ জন তরুণকে দিল্লি থেকে আনা হয়। তাদের মধ্যে একজন আবগারি মামলার পলাতক আসামি ছিলেন। জিন্দ জেলায় এসপি কুলদীপ সিং বলেন, তার জেলার তিনজন তরুণও ফেরত এসেছে এবং তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

  • গাজায় মৃত্যু ও ধ্বংসের মধ্যে লুকানো হাজার হাজার টন অবিস্ফোরিত বোমা

    গাজায় মৃত্যু ও ধ্বংসের মধ্যে লুকানো হাজার হাজার টন অবিস্ফোরিত বোমা

    ইসরায়েলি অবরোধের ফলে ফিলিস্তিনের গাজা পুনর্গঠনের কাজ স্থবির হয়ে পড়েছে। ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে আছে বহু মানুষ, এবং চারপাশে ছড়িয়ে রয়েছে বিস্ফোরিত না হওয়া বিপুল পরিমাণ বোমা। এই অবিস্ফোরিত বোমাগুলোর পরিমাণ এখন হাজার হাজার টন ছাড়িয়ে গেছে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় জীবনের জন্য ঝুঁকি বাড়ছে।

    এমন পরিস্থিতিতে মানবিক সহায়তা ও ভারী যন্ত্রপাতি গাজায় প্রবেশের সুযোগ খুবই সংকটের মধ্যে রয়েছে। সোমবার (২৭ অক্টোবর) সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলি অবরোধের কারণে জরুরি প্রয়োজনীয় সামগ্রী ও শ্রমিকরা গাজায় যেতে পারছেন না। শহরটির মেয়র ইয়াহিয়া আল-সররাজ বলেন, গাজার ধ্বংসস্তূপ সরানো ও অবকাঠামো পুনর্গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতি এখন খুবই কম প্রবেশ করতে পারছে। তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন, আসলে হাজার হাজার টন অবিস্ফোরিত ইসরায়েলি বোমা ইতোমধ্যেই শহরবাসীর জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছে।

    রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে আল-সররাজ জানান, পানি সরবরাহ ও নতুন করে কূপ খননের জন্য কমপক্ষে ২৫০টি ভারী যন্ত্রপাতি ও এক হাজার টন সিমেন্টের দ্রুত প্রয়োজন রয়েছে। তবে, আল জাজিরার গাজার রিপোর্টার হিন্দ খুদারি জানিয়েছেন, এত বড় চাহিদার বিপরীতে এখন পর্যন্ত মাত্র ছয়টি ট্রাক সীমান্ত পেরিয়ে গাজায় প্রবেশ করতে পেরেছে। তিনি আরও বলেন, এখনও প্রায় ৯ হাজার ফিলিস্তিনি ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন। তবে, বর্তমানে ব্যবহৃত নতুন যন্ত্রপাতিগুলো মূলত ইসরায়েলি বন্দিদের মরদেহ উদ্ধারে ব্যবহৃত হচ্ছে, যা ফিলিস্তিনিরা অপছন্দ করেন।

    খুদারি বলছেন, ফিলিস্তিনিরা জানেন, যতক্ষণ না সব ইসরায়েলি বন্দির মরদেহ ফিরিয়ে দেওয়া হয়, ততক্ষণ যুদ্ধবিরতি বা কোনো অগ্রগতি হবে না। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, রাফাহ শহরে এক ইসরায়েলি বন্দির মরদেহ উদ্ধার অভিযানে হামাসের কাসাম ব্রিগেডকে সহায়তার জন্য রেড ক্রসের গাড়ি পৌঁছেছে।

    অন্যদিকে, রোববার ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এক ভাষণে জানান, গাজায় কোনও স্বতন্ত্র বিদেশি বাহিনী কাজ করতে পারবে কি না, তা সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা শুধুমাত্র ইসরায়েলের। তিনি বলেন, ‘আমরা নিজেদের নিরাপত্তা নিজেরাই নিশ্চিত করছি। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কোনও ভূমিকা থাকছে না। গাজায় কোন বাহিনী গ্রহণযোগ্য, তা আমাদেরই নির্ধারণ করতে হবে।’ তিনি আরও দাবি করেন, এই অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রও স্বীকৃতি দিয়েছে।

    পাশাপাশি, গাজার পুনর্গঠনে সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে দেখা দিয়েছে বিস্ফোরিত না হওয়া বোমা। ব্রিটিশ-বিত্তক সংস্থা হালো ট্রাস্টের মধ্যপ্রাচ্য বিভাগের পরিচালক নিকোলাস টরবেট জানান, গাজার প্রায় প্রতিটি অংশে বোমা পড়েছে। তিনি বলেন, অনেক গোলাবারুদ রয়েছে যা আঘাতের পরই বিস্ফোরিত হওয়ার কথা ছিল কিন্তু হয়নি। এসব বোমা অপসারণে সময় লাগছে এবং এই কারণে পুনর্গঠন কার্যক্রম ব্যাপক বিলম্বিত হচ্ছে।

    তিনি পরামর্শ দেন, নিরাপদে বোমা অপসারণের জন্য ছোট পরিমাণ বিস্ফোরক ব্যবহার করে বোমাগুলোর নিঃশন বা উড়িয়ে দেওয়ার কাজ করা উচিত। এ জন্য খুব জটিল যন্ত্রপাতির প্রয়োজন হয় না; ছোট যান বা হাতে বহন করে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ব্যবহার সম্ভব।

    ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল জানান, ইসরায়েল গাজায় অন্তত ২ লাখ টন বোমা ফেলেছে, যার মধ্যে এখনও প্রায় ৭০ হাজার টন বিস্ফোরিত হয়ে যায়নি। এই বিপুল পরিমাণ বোমার কারণে গাজা নগরীর নানা অংশ এখনও ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে রয়েছে।

  • দীপাবলির খেলনায় চোখ হারাল ৬৪ শিশু, বিপত্তিতে এখনো রয়েছেন অনেকে

    দীপাবলির খেলনায় চোখ হারাল ৬৪ শিশু, বিপত্তিতে এখনো রয়েছেন অনেকে

    পুরো ভারত জুড়ে প্রতি বছরের মতো এবারের দীপাবলি উৎসবটি ছিলো মারাত্মক উল্লাসে ভরে উঠেছিল। পটকা ফুটানোর ধারাবাহিক উৎসবের অংশ হিসেবে এখবরের কেন্দ্রীয় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল একটি সাধারণ দেখাচ্ছে এমন খেলনা বন্দুক। তবে এই খেলনার এতটাই মারাত্মক প্রভাব ফেলার ঘটনা প্রথমবারের মতো সামনে এল, যা শিরোনাম তৈরি করেছে। বাজারে আসা এক নতুন ধরনের কার্বাইড বন্দুকের কারণে এ বছর দীপাবলি হয়ে উঠেছিলো এক প্রকার আতঙ্কের। অল্প অল্প দামে কিনে শিশু-কিশোররা এই বন্দুক চালানোর জন্য উচ্ছ্বাসিত হলেও, এর বহুমাত্রিক বিপদজনক দিকটি লুকানো ছিলো। এই বন্দুকটি চালানোর জন্য কেবল মাত্র ক্যালসিয়াম কার্বাইড ও পানি প্রয়োজন, এবং মাত্র কিছু ক্ষণেই তা বিস্ফোরিত হয়ে বিকট শব্দ তৈরি করে। এই অতি স্বল্প খরচে তৈরি বিনোদনের মাধ্যমে শিশুরা খুব দ্রুত আকৃষ্ট হয়ে পড়ে। তবে এই বন্দুকের তৎক্ষণাৎ বিস্ফোরণে চোখে গুরুতর আঘাত পেয়েছে শতাধিক শিশু-কিশোর-কিশোরী। এই অপ্রত্যাশিত দুর্ঘটনা সত্যিই এক ভয়াবহ দৃষ্টান্ত। সোমবার (২৫ অক্টোবর) ব্রিটিশ দৈনিক দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২০ অক্টোবর দীপাবলি উদযাপনের পরে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত মধ্যপ্রদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চোখে আঘাতপ্রাপ্ত শতাধিক শিশু-কিশোর ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে কমপক্ষে ১৪ জনের দৃষ্টিশক্তি ফিরবে না বলে চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেছেন। বিহারেও সংখ্যা আরও বেশি, যেখানে রাজধানী পাটনায় স্থায়ী চোখের সমস্যা নিয়ে কমপক্ষে ৫০ জন শিশু-কিশোর চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকদের মতে, আগামী দিনগুলোতেও এই সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভোপাল মেমোরিয়াল হসপিটাল ও রিসার্চ সেন্টার (বিএসএইচআরসি) এর চক্ষু বিভাগ প্রধান ডা. হেমলতা যাদব এই ব্যাপারে বলেন, ‘এই কার্বাইড বন্দুক কোনো সাধারণ খেলনা নয়। এটি আসলে একপ্রকার রাসায়নিক বোমা, যা বিকট শব্দ এবং বিপজ্জনক রাসায়নিক ক্ষয়রূপে শিশুর চোখের গুরুতর ক্ষতি করে। সতর্কতা না নিলে, এই ধরনের খেলনা আরও বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে।’

  • বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক সংকটে সুদান

    বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক সংকটে সুদান

    তিন বছর ধরে চলা ভয়ঙ্কর গৃহযুদ্ধের কারণে সুদান এখন মানবিক বিপর্যয়ের শিকার। লাখ লাখ মানুষ সরকারি লড়াইটার কারণে বাস্তুচ্যূত হয়েছে, এবং খাদ্য সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করায় দেশটিতে দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা ঘনিয়ে এসেছে। জাতিসংঘের বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এই পরিস্থিতিকে বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকট হিসেবে ঘোষণা করেছে। দেশে জরুরি ভিত্তিতে মানবিক সহায়তা বৃদ্ধি না করলে আরও ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটবে বলে সতর্ক করা হচ্ছে। এই সংকটের কারণে এখন বিশ্বের অন্যতম উদ্বেগজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

    আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, সুদানে বর্তমানে প্রায় তিন কোটি মানুষের মানবিক সহায়তা প্রয়োজন। তাদের মধ্যে ৯৬ লাখ মানুষ দেশটির ভেতরে বাস্তুচ্যূত হলেও অন্যরা পার্শ্ববর্তী দেশে চলে গেছে।

    জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)-এর উপ-উচ্চকমিশনার কেলি ক্লেমেন্টস বলেছেন, এই গৃহযুদ্ধের ফলে সুদানবাসীর এক-তৃতীয়াংশই গৃহহীন হয়ে পড়েছে।

    অপর দিকে, ইউনিসেফের কর্মকর্তা টেড চাইবান জানিয়েছেন, এই সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিশুরা। ধারণা করা হচ্ছে, প্রায় ১৪ লাখ শিশু দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে এবং মোট শিশুর চার-পঞ্চমাংশ—অর্থাৎ ১ কোটি ৪০ লাখ শিশু—বিদ্যালয় থেকে বাইরে রয়েছে। শুধুমাত্র উত্তর দারফুর অঞ্চলে এই বছরে ১ লাখ ৫০ হাজার শিশু মারাত্মক অপুষ্টিতে ভুগছে।

    খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)-এর কর্মকর্তা ভ্যালেরি গুয়ারনিয়েরি বলেন, সেপ্টেম্বর মাসে দুর্ভিক্ষঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলিতে ১৮ লাখ মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছানো সম্ভব হলেও বেশ কিছু অঞ্চল এখনো যুদ্ধের কারণে প্রবেশ করতে পারছে না।

    এই অবস্থা মোকাবিলার জন্য জাতিসংঘের চার সংস্থা দ্রুত তহবিল সহায়তা, মানবিক প্রবেশাধিকার নিশ্চিতকরণ ও শান্তি নিশ্চিত করার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছে।

  • থাইল্যান্ডের রাজমাতা সিরিকিত আর নেই

    থাইল্যান্ডের রাজমাতা সিরিকিত আর নেই

    থাইল্যান্ডের সম্রাট পরিবারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, রাজমাতা সিরিকিত মারা গেছেন। তিনি শুক্রবার রাত ৯:২১ মিনিটে ব্যাংককের এক হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৯৩ বছর। রাজা মহা ভাজিরালংকর্নের মা হিসেবে তিনি দেশের ইতিহাসে বিশেষ স্থান করে আseyেছেন।

    থাই রয়েল হাউজহোল্ড ব্যুরো শনিবার (২৫ অক্টোবর) এই দৃষ্টান্তমূলক সংবাদটি নিশ্চিত করেছে। বিবৃতিতে জানানো হয়, ২০১৯ সাল থেকে বয়সজনিত অসুস্থতার কারণে তিনি একাধিকবার হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। চলতি বছরের ১৭ অক্টোবর তাঁর শরীরে রক্তে সংক্রমণ ধরা পড়ে। অবশেষে, শুক্রবার রাতে তিনি মারা যান।

    রাজমাতার পুত্র, বর্তমান রাজা মহা ভাজিরালংকর্ন এবং তিন মেয়ে তার উত্তরসুরি হিসেবে থাকবেন। তাঁর শেষ বিদায় জানাতে প্রস্তুত হচ্ছে রাজকীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া। ব্যাংককের গ্র্যান্ড প্যালেসের ডুসিট থ্রোন হলে মরদেহ রাখা হবে সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য। রাজপরিবারের পক্ষ থেকে এক বছরের শোক পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

    সিরিকিতের যোগদান স্বদেশের জন্য গৌরবের বিষয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর তিনি থাই রাজতন্ত্রের গৌরব ও মর্যাদার পুনরুদ্ধার করেন। রাজনীতি ও সমাজের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে তাঁর অবদান ছিল অনস্বীকার্য। ২০১২ সালে স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে জনসমক্ষে আর দেখা যায়নি।

    থাই প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল, সিরিকিতের মৃত্যুতে মালয়েশিয়ায় আসিয়ান সম্মেলনে তার সফর বাতিল করেছেন। এই মুহূর্তে, তার শেষকৃত্য নিয়ে সরকারের আলোচনা চলছে।

    সিরিকিত ছিলেন থাইল্যান্ডের দীর্ঘতম সময়ের রাজা ভূমিবল আদুলিয়াদেজের প্রিয় স্ত্রী। ১৯৪৬ সালে রাজা ভূমিবলের সঙ্গে তার বিয়েটি হয়, যা পরবর্তীতে দেশটির ইতিহাসের অঙ্গ হয়ে যায়। স্বামীর সঙ্গে জাতির সেবা ও দরিদ্র মানুষের জন্য কাজ করে তিনি জনসাধারণের মধ্যে গভীর ভালবাসা অর্জন করেছিলেন।

    জন্ম ১৯৩২ সালে প্যারিসে, তিনি ফরাসি দূতীর কন্যা। সংগীত ও ভাষা শিক্ষার জন্য তিনি প্যারিসে থাকাকালীন রাজা ভূমিবলের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ১৯৪৯ সালে তারা বিয়ের পিঁড়িতে বসেন, তখন তার বয়স মাত্র ১৭।

    সিরিকিত ফরাসি প্রসিদ্ধ ডিজাইনার পিয়ের বালমাঁ কর্তৃক ডিজাইন করা ঐতিহ্যবাহী থাই সিল্কের পোশাকের মাধ্যমে থাইল্যান্ডের সিল্কশিল্পের রূপ দেখিয়ে থাকেন।

    চার দশকের বেশি সময় ধরে তিনি দেশের গ্রামীণ জনপদে গিয়েছিলেন, দরিদ্রদের সেবায় উৎসাহিত করেছেন। ১৯৫৬ সালে যখন রাজা সাময়িকভাবে সন্ন্যাস গ্রহণ করেন, তখন তিনি থাইল্যান্ডের দায়িত্ব সাময়িকভাবে গ্রহণ করেছিলেন। ১৯৭৬ সালে তার জন্মদিন ১২ আগস্ট জাতীয় ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করা হয়, যা হাজারো মানুষের জন্য গর্বের বিষয়।

    রাজা ভূমিবল মারা যাওয়ার পরে, ২০১৬ সালে তার একমাত্র সন্তান মহা বাজিরালংকর্ণ রাজা হন। ২০১৯ সালে তাঁর রাজ্যাভিষেকের পর থেকে সিরিকিতের উপাধি হয় রাজমাতা, যা মানে তিনি দেশের জন্য এক যুগের বর্ণিল অবদান রেখেছেন।

  • অবাক করে আবারও ট্রাম্পের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধবিরতির সফলতা

    অবাক করে আবারও ট্রাম্পের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধবিরতির সফলতা

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও তার মধ্যস্থতায় ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘর্ষের অবসান ঘটানোর কৃতিত্ব নিজের নামে নিলেন। তিনি বলছেন, তার নেতৃত্বে এই দুদেশ যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে, যা তিনি বিশ্বাস করেন এক বড় সফলতা। এশিয়া সফরকালে এক বিমান আড্ডার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এই দাবি করেন। তিনি আরও জানান, এই কাজটি করতে তিনি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের চেয়ে অনেক কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা তিনি সমাধান করে ফেলেছেন। ট্রাম্প নিশ্চিত করে বলেন, তিনি অনেক চেষ্টার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছেন।

  • শীতের আসনে গাজার পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ খারাপ হচ্ছে

    শীতের আসনে গাজার পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ খারাপ হচ্ছে

    শীতের আগমনের সাথে সাথে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। পর্যাপ্ত আশ্রয় ও শীতের বস্ত্র প্রবেশের জন্য ইসরায়েলের বাধা থাকায় লক্ষ লক্ষ বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য পরিস্থিতি মারাত্মক সংকটের দিকে এগুচ্ছে। এটা জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনআরডব্লিউএ)। শনিবার (২৫ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে ওই তথ্য প্রকাশ করা হয়।

    সংস্থার বিবৃতিতে বলা হয়, গাজায় শীতপ্রবণ সময় আরো বেড়ে যাচ্ছে, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে চলে এসেছে যেখানে আশ্রয়, উষ্ণতা ও শীতকালীন সামগ্রী প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি। কিন্তু, বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলো জন্য প্রয়োজনীয় তাঁবু, কম্বল ও অন্যান্য শীতকালীন সরঞ্জাম এখনো জর্ডান ও মিসরে ইউএনআরডব্লিউএর গুদামে আটকা রয়েছে। সংস্থাটি মানবিক সহায়তা নির্বিঘ্নে প্রবেশের দাবি জানিয়ে জরুরি অবস্থায় সহায়তা প্রবেশের অনুমতি চান।

    অতিরিক্ত হিসেবে, গত বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি সরকারি প্রভাবশালী সেই কর্মকর্তা জানিয়ে ছিলেন, আন্তর্জাতিক আদালতের নির্দেশনা সত্ত্বেও ইসরায়েল গাজায় ইউএনআরডব্লিউএর কার্যক্রম পুনরায় চালু করতে দিচ্ছে না। এর এক দিন আগে, আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) সতর্ক করে বলেছিল যে, গাজায় বসবাসকারী ফিলিস্তিনিরা পর্যাপ্ত মানবিক সহায়তা পাচ্ছেন না এবং ইসরায়েলকে অবশ্যই সহায়তাপ্রবেশে অনুমতি দিতে হবে। তারা আরও বলেছে, ‘অনাহারকে যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার’ বন্ধ করতে হবে।

    উল্লেখ্য, সম্প্রতি হামাসের সাথে নতুন চুক্তির মাধ্যমে গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও, ইসরায়েল পণ্য ও ত্রাণ প্রবেশে কঠোর নিয়ন্ত্রণ চালিয়ে যাচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০ দফা শান্তি প্রস্তাবের ভিত্তিতে এই যুদ্ধবিরতি শুরু হয়েছিল। প্রথম ধাপে, ইসরায়েলি জিম্মিদের বিনিময়ে ফিলিস্তিনি বন্দীদের মুক্তি এবং পরবর্তী পর্যায়ে গাজা পুনর্গঠন ও হামাসবিহীন নতুন প্রশাসনিক কাঠামো গঠনের পরিকল্পনা ছিল।

    ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলা ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত গাজায় নিহতের সংখ্যা ৬৮ হাজারের বেশি।

  • পাকিস্তানকে পানি দেবে না আফগানিস্তান, নদীতে বাঁধ নির্মাণের নির্দেশ

    পাকিস্তানকে পানি দেবে না আফগানিস্তান, নদীতে বাঁধ নির্মাণের নির্দেশ

    আফগানিস্তান থেকে পাকিস্তানের দিকে যাওয়া নদীতে বাঁধ নির্মাণ এবং পানির প্রবাহ সীমিত করার পরিকল্পনা করছে তালেবান সরকার। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোল্লা হায়বাতুল্লাহ আখুন্দজাদা সম্প্রতি কঠোরভাবে নির্দেশ দিয়েছেন, কুনার নদীর ওপরে ‘যত দ্রুত সম্ভব’ বাঁধ নির্মাণের। এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি এখন আলোচনা সৃষ্টি করছে, বিশেষ করে কিছু সময় আগে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর, কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে রাজি হলেও এখন এই বাঁধ নির্মাণ বিষয়টি সম্পর্কের ভেতর নতুন করে উত্তেজনা জোগাবে বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

    আফগানিস্তানের পানি ও জ্বালানি মন্ত্রী মোল্লা আব্দুল লতিফ মনসুর বলেন, ‘সর্বোচ্চ নেতা আখুন্দজাদা আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন, কুনার নদীর ওপর বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করতে। পাশাপাশি, দেশীয় কোম্পানিগুলোর দ্রুত চুক্তি স্বাক্ষর করতে বলা হয়েছে।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘আফগানের নিজস্ব পানি ব্যবস্থাপনার অধিকার আছে। এই প্রকল্পটি বিদেশি না, বরং দেশের স্থানীয় সংস্থা গুলোর মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে।’

    কুনার নদী, যা ৪৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ, আফগানিস্তানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় হিন্দুকুশ পর্বতমালা থেকে উৎপন্ন হয়ে নাঙ্গারহার প্রদেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়। এরপর এটি পাকিস্তানে প্রবেশ করে খাইবার পাখতুনখোয়ায়, যেখানে এটি জালালাবাদের কাছে কাবুল নদীর সঙ্গে মিলিত হয়। পাকিস্তানে এই নদীকে চিত্রাল নদী বলা হয়। এই নদীটি উপত্যকা ও পানি সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ—বিশেষ করে সিন্ধু নদে রয়েছে এর সংযোগ, যা পাকিস্তানের পানির বড় উৎস।

    বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, যদি কুনার নদীর পানি প্রবাহ কমে যায়, তবে এটি সিন্ধু নদীর ওপর তীব্র প্রভাব ফেলবে, যা পাকিস্তানের কৃষি, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও জীবনধারায় গুরুতর বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

    সম্প্রতি, চলতি বছর এপ্রিল মাসে কাশ্মীরের পহেলগামে সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিহত হন। ভারতের দাবি, এই হামলার জন্য সরাসরি পাকিস্তান দায়ী। এর موجে, পাকিস্তান সিন্ধু পানি চুক্তির অধীনে চলমান কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। একে অন্যের বিরুদ্ধে অভিযোগের পর, মে মাসে দুই দেশ তীব্র সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে।

    ১৯৬০ সালে, বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায়, ভারত ও পাকিস্তান সই করে ‘সিন্ধু পানি চুক্তি’। এই চুক্তির আওতায়, ভারত নেভদীর স্রমধন যেমন সতলজ, বিয়াস ও রাভি নদীর পূর্ণ অধিকার পায়। অন্যদিকে, পাকিস্তান পান করতে পায় ইন্দুস, ঝিলম ও চেনাব নদীর জল। এই চুক্তি দুই দেশের পানির ব্যবহারে সুষ্পষ্ট বিতরণ নীতির সূচনা করে, যা এখনো বহাল রয়েছে।