Category: আন্তর্জাতিক

  • বিশ্ববিখ্যাত চীনা নোবেলজয়ী পদার্থবিজ্ঞানী চেন নিং আর নেই

    বিশ্ববিখ্যাত চীনা নোবেলজয়ী পদার্থবিজ্ঞানী চেন নিং আর নেই

    বিশ্ববিখ্যাত চীনা পদার্থবিজ্ঞানী ও নোবেলজয়ী চেন নিং ইয়াং মৃত্যুতে শোকের ছায়ের পড়ে গেছে। তার বয়স হয়েছিল ১০৩ বছর। এই খবর নিশ্চিত করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান। শনিবার (১৮ অক্টোবর) চীনা রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিসিটিভি এক প্রতিবেদনে এই দুঃখজনক খবর শেয়ার করেছে।

    প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বেইজিংয়ের ছিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রখ্যাত অধ্যাপক চেন নিং বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার কারণে পরলোকগমন করেছেন। ঐতিহাসিক এই পদার্থবিজ্ঞানীর মৃত্যুতে বিশ্বজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

    চেন নিং ইয়াং ও তার সহকর্মী লি সাং-দাও ১৯৫৭ সালে পদার্থবিজ্ঞানে সম্মানজনক নোবেল পুরস্কার পান। তারা যৌথভাবে প্রাইটি ল বা সমতার নিয়ম নিয়ে গবেষণা করেন, যা আধুনিক মৌলিক কণার গঠন ও তাদের আচরণ বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিপ্লব ঘটিয়েছিল।

    অভিজ্ঞ এই বিজ্ঞানী ১৯২২ সালে চীনের আনহুই প্রদেশে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে বড়, এবং তার বাবা ছিলেন ছিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিতের অধ্যাপক। ছোটবেলা থেকেই তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে বেড়ে উঠেন। ১৯৪২ সালে ন্যাশনাল সাউথওয়েস্ট অ্যাসোসিয়েটেড ইউনিভার্সিটি কুনমিং থেকে বিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন, পরে ছিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।

    কৈশোরে নোবেল পাওয়ার স্বপ্ন দেখে ৩৫ বছর বয়সে তিনি সেই স্বপ্নে সফল হন। নোবেল কমিটি তার অসাধারণ গবেষণা ও মৌলিক কণাসমূহের জন্য তাকে স্বীকৃতি দেয়।

    দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর তিনি ছিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃত্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যান এবং শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করেন। সেখানে তিনি ইতালীয় পদার্থবিজ্ঞানী এনরিকো ফেরমির তত্ত্বাবধানে গবেষণা চালান। কর্মজীবনে ইয়াং বিভিন্ন শাখায় কাজ করেছেন, তবে তার বিশেষ আগ্রহ ছিল স্ট্যাটিস্টিক্যাল মেকানিক্স এবং সিমেট্রি প্রিন্সিপলস নিয়ে।

    নোবেলজয়ীর মর্যাদায় তিনি ১৯৫৭ সালে আলবার্ট আইনস্টাইন স্মারক পুরস্কার এবং ১৯৫৮ সালে প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন। তার অসামান্য গবেষণা ও জীবনকর্ম বিশ্ব বিজ্ঞানের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

  • হংকংয়ে রানওয়ে থেকে ছিটকে বিমান সাগরে, 2 নিহত

    হংকংয়ে রানওয়ে থেকে ছিটকে বিমান সাগরে, 2 নিহত

    হংকং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি কার্গো বিমান রানওয়ে থেকে ছিটকে সাগরে পড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় একটি টহল গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষ হয়, যার ফলে সেটি সাগরে ডুবে যায়। ঘটনায় গাড়িতে থাকা দুই গ্রাউন্ড স্টাফ নিহত হন, তবে বিমানে থাকা চার ক্রু সদস্যকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে।

    বিশ্লেষণে জানা গেছে, দুবাই থেকে আসা এমিরেটসের ইকে-৯৭৮৮ নম্বরের কার্গো বিমান স্থানীয় সময় ভোর ৩:৫০ মিনিটে অবতরণের সময় রানওয়ে থেকে সরে গিয়ে টহল গাড়ির সঙ্গে ধাক্কা খায়। দেখা যায়, উড়োজাহাজটি মাঝখান থেকে ভেঙে যায়, এর একাংশ পানিতে ডুবে আছে এবং বড় বড় ফাটল দেখা গেছে।

    ঘটনার মুহূর্তের কিছুক্ষণ পরে, বিমানে থাকা চারজন ক্রু জরুরি দরজা ভেঙে বেরিয়ে আসেন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে তাদের উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বলেছে যে, কার্গো উড়োজাহাজের জন্য সঠিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল এবং রানওয়েতে দিকনির্দেশক চিহ্নও ছিল।

    বিমানবন্দর অপারেশনস এর নির্বাহী পরিচালক স্টিভেন ইয়াও জানান, টহল গাড়িটি রানওয়ের নিরাপত্তা সীমানার বাইরে একটি সড়কে চলাচল করছিল, তবে সেটি রানওয়ে থেকে নিরাপদ দূরত্বে ছিল। তিনি আরও বলেন, উড়োজাহাজটি রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে এবং গাড়িসহ সাগরে ডুবে গেছে। তিনি দাবি করেন, গাড়িটিকে রানওয়েতে রাখা হয়নি।

    হংকংয়ের পরিবহন দপ্তর নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের জন্য সমবেদনা জানিয়েছে।

    এমিরেটসের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, উড়োজাহাজটি হংকংয়ে পৌঁছানোর সময় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্রু সদস্যরা সুস্থ আছেন এবং বিমানে কোনো পণ্য ছিল না। তারা জানিয়েছে, বোয়িং ৭৪৭-৪৮১ মডেলের এই কার্গো বিমানটি তুরস্কের অ্যাক্ট এয়ারলাইনস থেকে ভাড়া নেওয়া, এবং তারাই এটি পরিচালনা করছিল।

    হংকং এয়ার অ্যাকসিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন অথরিটির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তারা সমুদ্র থেকে ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার ও ব্ল্যাক বক্স উদ্ধারের জন্য কাজ করছে।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এই দুর্ঘটনার কারণে আজ দিনভর রানওয়ে বন্ধ থাকবে। তবে অন্য দুটি রানওয়ে সচল রয়েছে।

    সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, এ ঘটনাটি হংকংয়ের কয়েক বছরের মধ্যে অন্যতম ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা। ১৯৯৮ সালে কাই টাক থেকে চেক ল্যাপকক-এ স্থানান্তরিত হওয়ার পর এটি అక్కడ ঘটে যাওয়া দ্বিতীয় প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা। সংখ্যাগরিষ্ঠ ঘটনাগুলোর মধ্যে এই দুর্ঘটনাও অন্যতম।

  • ইসরায়েলের গাজায় বিমান হামলার পর যুদ্ধবিরতি পুনঃপ্রকাশ

    ইসরায়েলের গাজায় বিমান হামলার পর যুদ্ধবিরতি পুনঃপ্রকাশ

    গাজার দক্ষিণে ভয়াবহ বিমান হামলার পর অবশেষে যুদ্ধবিরতি পুনরায় কার্যকর করে ইসরায়েল। যদিও যুদ্ধবিরতি ঘোষণার সাথে সাথে গাজায় ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা এখনও বহাল রয়েছে, যার ফলে মানবিক পরিস্থিতি আরও সংকটময় হয়ে উঠছে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে গাজার খান ইউনিস, নুসাইরাত, রাফাহ ও আল-জাওয়াইদা এলাকার ওপর ইসরায়েলি বিমান হামলা চালানো হয়। আকাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলী ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। এসব হামলায় অনেক মানুষ নিহত হন, যার মধ্যে বেশির ভাগই শিশু। আহতদের দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। আল-আওদা হাসপাতালের সূত্র জানায়, আল-জাওয়াইদা শহরে হামলার সময় এক ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাসের আল-কাসেম ব্রিগেডের একজন কমান্ডারসহ বেশ কয়েকজন নিহত হন। একই দিনে গাজার মধ্যাঞ্চলে একाबिकোয়াসা এলাকায় অন্য এক হামলায় একটি মিডিয়া প্রোডাকশন কোম্পানির ভ্যান ও সম্প্রচার সরঞ্জাম ধ্বংস হয়। এই ঘটনায় কোম্পানির একজন সম্প্রচার প্রকৌশলী এবং তার শিশুপুত্র নিহত হন। স্থানীয় সাংবাদিক সংগঠনগুলো এ হামনাকে গভীরভাবে নিন্দা জানিয়েছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই অভিযান হামাসের ওপর হামলার জবাব হিসেবে চালানো হয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাৎজ বলেন, হামাসকে এর চরম মূল্য দিতে হবে। তবে হামাসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জন্য তাদের দোষ দেয়া ঠিক নয়, বরং ইসরায়েলই প্রথম হামলা চালিয়েছে। সূত্রের খবর, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, রাজনৈতিক নির্দেশনা অনুযায়ী ও সংঘর্ষের পর পুনরায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা হয়েছে। তবে গাজায় ত্রাণবাহী সব ট্রাকের চলাচল আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স তার পূর্বনির্ধারিত ইসরায়েল সফর একদিনের জন্য স্থগিত করেছেন। এ প্রসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, গাজায় বর্তমানে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমরা পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণভাবে চলতে চাই। হামাস কিছু উত্তেজনা সৃষ্টি করেছিল, তবে আমরা তা নিয়ন্ত্রণে রাখব বলে বিশ্বাস করছি।

  • ৭ মিনিটের মধ্যে ল্যুভর থেকে চুরি হলো ৮ মূল্যবান রত্ন

    ৭ মিনিটের মধ্যে ল্যুভর থেকে চুরি হলো ৮ মূল্যবান রত্ন

    রোববার সকালে অন্যান্য সাধারণ দিনের মতোই ল্যুভর জাদুঘরের দরজা খুলে দেখানো হয়। তবে এই দিনে ঘটে যায় এক বিস্ময়কর চুরির ঘটনা, যা মাত্র সাত মিনিটে পুরোপুরি ঘটিয়ে ফেলেছেন চোরেরা। ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই তারা কার্যক্রম সম্পন্ন করে চলে যায়, যা ছিল এক বিশিষ্ট সাহসী ডাকাতি।

    সকালে ঢোকার আধা ঘণ্টা পরে, দুই চোর নির্মিত ভবনের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত বারান্দায় ওঠে। তারা ব্যবহার করে ট্রাকের ওপর বসানো বৈদ্যুতিক মই। সাধারণত এ ধরণের মই আসবাবপত্র তোলার কাজে ব্যবহৃত হয়, তাই পথচারীদের কাছে অস্বাভাবিক মনে হয়নি। তারা এরপর দ্বিতীয় তলায় গিয়ে একটি জানালা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে। সাথে সাথে জারির নিরাপত্তা অ্যালার্ম বাজে।

    অপরপ্রান্তে থাকা ঝলমলে গ্যালারিতে ঢোকার পরে চোরেরা বেশ কিছু মূল্যবান জিনিসের ওপর নজর দেয়। সেখানে রাখা ছিল রাজকীয় গয়না, মুকুট ও মূল্যবান হীরার সংগ্রহ, যা কাচের তাকের অন্তরালে সাজানো ছিল।

    চোরেরা দ্রুত আড়ালে থাকা দুটি কাচের তাক ভেঙে ফেলে, যার ফলে আবার অ্যালার্ম বাজে। এ সময় তারা আটটি ঐশ্বরিক দ্রব্য নেয়, যার মধ্যে ছিল রাজকীয় নীলা নেকলেস, পান্না নেকলেস ও কানের দুল। তাদের মধ্যে আরো ছিল নেপোলিয়নের শাসনামলের ফ্রান্সের তৃতীয় নেপোলিয়নের স্ত্রীর ব্যবহৃত এক মুকুট।

    নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এই চুরির ঘটনা বেশ পরিকল্পিত ছিল এবং একটি সংঘবদ্ধ চক্র এর সঙ্গে জড়িত। সরকারি সূত্র জানায়, ৬০ জনের একটি দল এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। রাস্তায় ছিল চোর দলের অন্য কিছু সদস্য স্কুটার নিয়ে অপেক্ষায়, তারা চুরির সময়টিতে হঠাৎ নেমে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে সরে যায়। এই পুরো ঘটনাটি মাত্র সাত মিনিটের মধ্যে সম্পন্ন হয়।

    ফ্রান্সের এই সাহসী চুরি কার্যকলাপকে দেশবাসী এবং জাদুঘর কর্তৃপক্ষ দারুণ চাপে ফেলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অধ্যায় ফ্রান্সের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জন্য বড় ক্ষতি। প্যারিসের মেয়র এরিয়েল ওয়েইল বলেছেন, আজকের ঘটনাটি যেন সিনেমার দৃশ্য না, বরং দিনের আলোয় বাস্তবে ঘটল এমন ঘটনা যা কল্পনাকেও হার মানায়। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এই চুরি শুধু আর্থিক স্বার্থ নয়, এটি ফ্রান্সের ঐতিহ্য ও ইতিহাসের লোপ।

    চুরি হওয়া রত্নগুলোর মধ্যে রয়েছে তৃতীয় নেপোলিয়নের রাণী ইউজেনি’র টিয়ারা, যেখানে ছিল ২১২টি মুক্তা, প্রায় ২০০০ হীরক ও ৯৯২টি রোজ-কাট হীরা। এছাড়াও ছিল রাণী ইউজেনির বেল্ট বা কোমরবন্ধনী, যাতে ছিল ২৪৩৮টি হীরা ও ১৯৬টি রোজ-কাট হীরা। জাদুঘরে সংরক্ষিত অন্য এক বিশেষ অলংকার ছিল, ১৮৫৫ সালের রেলিকুইয়ারি ব্রোচ, যা ইউজেনির স্মৃতিচিহ্ন।

    আরও ছিল ১৯শ শতাব্দীর গোড়ার দিকে লুই বোনাপার্টের স্ত্রী রানি হরটেন্স ও রানি মেরি অ্যামেলির ব্যবহৃত কানের দুল। নির্মিত হয়েছিল ১৮১০ সালে, যেখানে ছিল ৩২টি পান্না ও ১১৩৮টি হীরা। এই গয়নার সেটটি নেপোলিয়ন তার জীবনভর তৈরি করেছিলেন, এর মধ্যে ছিল ওপাল দিয়ে তৈরি এক সেটও। চোরেরা সেই সেটের অংশ হিসেবে পান্না ও হীরার জোড়া কানের দুল নিয়েছে।

    এটি ছিল ফ্রান্সের ইতিহাসে সবচেয়ে daring ও সাহসী চুরির ঘটনা, যা বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। দেশের বিভিন্ন মনোভাব ব্যক্ত করেছেন হলফ করে, এই ধরনের ঘটনা পুরো দেশকে লজ্জান।

  • ফিলিস্তিনিদের মৃতদেহে ভয়াবহ নির্যাতনের চিহ্ন, অঙ্গচুরি অভিযোগ

    ফিলিস্তিনিদের মৃতদেহে ভয়াবহ নির্যাতনের চিহ্ন, অঙ্গচুরি অভিযোগ

    ইসরাইল কর্তৃক ফিলিস্তিনিদের মৃতদেহ ফেরত দেয়ার ক্ষেত্রে মানবাধিকার সংগঠন ও চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা মনে করেন, এই মৃতদেহগুলোতে স্পষ্টভাবে নির্যাতনের দাগ রয়েছে, এমনকি অঙ্গচুরি হওয়ার আশঙ্কাও দেখা যাচ্ছে। গাজার সরকারি হাসপাতাল ও গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক পরীক্ষায় দেখা গেছে, অধিকাংশ মৃতদেহে পদ্ধতিগত নির্যাতনের চিহ্ন, মাঠে গুলি করে হত্যা এবং গাড়িচাপা দিয়ে হত্যার দাগ পাওয়া গেছে। এই মৃতদেহগুলো তিন দফায় ফেরত দেয়া হয়েছে—সোমবার ৪৫টি, বুধবার আবার ৪৫টি এবং বৃহস্পতিবার ৩০টি।

    গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মুনির আল-বুরশ এক্সে পোস্টে লিখেছেন, মৃতদেহগুলো যেন পশুর মতো বাঁধা ছিল। চোখ বাঁধা অবস্থায় এবং দগ্ধ হওয়া দাগসহ শরীরের নানা চিহ্ন দেখা গেছে, যা ঘটনার ভয়াবহতা ও অপরাধের প্রকৃতি প্রকাশ করে। তিনি জানিয়েছেন, এই মৃতদেহগুলো স্বাভাবিকভাবে মারা যায়নি; হাত-পা বাঁধার পর গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এগুলোকে কবরস্থান বা পুকুরে দাফন না করে, ইসরাইলি বাহিনী মাসের পর মাস তাদের রেফ্রিজারেটরেই রেখে দিয়েছে। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া গ্রাফিক ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, পচে যাওয়া মৃতদেহে দড়ি দিয়ে বাঁধা, চোখে কাপড় পড়ানো বৈধ চিত্র। অনেক দেহে শারীরিক নির্যাতনের চিহ্ন স্পষ্ট। কিছু ভিডিওতে দেখা যায়, ফিলিস্তিনিরা মৃতদেহগুলো শনাক্ত করার চেষ্টা করছেন।

    ইউরো-মেড হিউম্যান রাইটস মনিটর জানিয়েছে, ফেরত দেয়া মৃতদেহের অনেকের গলায় দড়ির দাগ, হাত-পায়ে প্লাস্টিকের বাঁধন, চোখ বাঁধা, গুলির ক্ষত ও পিষে ফেলার চিহ্ন দেখা গেছে। সংস্থাটি উল্লেখ করে, ইসরাইলি সামরিক ও সরকারি ভাষায় ফিলিস্তিনিদের অমানবিকভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। তাদের নির্মূলযোগ্য জনগোষ্ঠী হিসেবে দেখানো হচ্ছে। এর ফলে মাঠে সহিংসতা বৃদ্ধি পেয়েছে, যেখানে বন্দিদের সুরক্ষা হারিয়ে নির্যাতন, গুম এবং মৃত্যুদণ্ডের মতো আচরণ চালানো হচ্ছে।

    গাজার সরকারি গণমাধ্যমের প্রধান ইসমাইল আল-থাওবতা বলেন, পরীক্ষায় দেখা গেছে অনেক মৃতদেহের বড় অংশ অনুপস্থিত। তিফিন নামে এক ব্যক্তি বলছেন, আমরা অর্ধেক দেহ, মাথাবিহীন, হাত-পাবিহীন, চোখবিহীন এবং অভ্যন্তরীণ অঙ্গবিহীন দেহ পেয়েছি। এটি স্পষ্ট করে দেয় যে, ইসরাইল অঙ্গচুরি করছে। এই মৃতদেহগুলো গত শুক্রবার যুদ্ধবিরতি ও বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় ফেরত দেয়া হয়েছে।

    চুক্তি অনুযায়ী, সোমবার হামাস ২০ জন জীবনযোদ্ধা ইসরাইলি বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে। এর বিনিময়ে তেহরান দুই হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি বন্দি ছাড়িয়েছে। এই পর্যায়ে, হামাস ২৮ জন মৃত ইসরাইলি বন্দির দেহ ফেরত দিয়েছে, আরও দেহ শনাক্ত ও উদ্ধার শেষে হস্তান্তর করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, ইসরাইল ইতিমধ্যে প্রায় ৯০ জন ফিলিস্তিনির মৃতদেহ ফেরত দিয়েছে, যার সংখ্যা আসছে ঘোষণা অনুযায়ী মোট ৪০০ জনের বেশি হবে।

    সূত্র: অনলাইন মিডল ইস্ট আই।

  • পাক সেনাপ্রধানের হুঁশিয়ারি: সামান্য উসকানিতেও ত্বরিত কঠোর জবাব দেবে পাকিস্তান

    পাক সেনাপ্রধানের হুঁশিয়ারি: সামান্য উসকানিতেও ত্বরিত কঠোর জবাব দেবে পাকিস্তান

    পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির আবারও সরাসরি পারমাণবিক হুমকি দিয়ে সতর্ক করেছেন প্রতিবেশী দেশ ভারতকে। আফগানিস্তানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই তিনি এমন দৃঢ় মন্তব্য করেছেন, যা দক্ষিণ এশিয়ায় কূটনৈতিক উত্তাপ বাড়িয়ে দিতে পারে।

    শনিবার (১৮ অক্টোবর), পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমি (পিএমএ) কাকুলে একটি পাসিং আউট প্যারেডে অংশ নেয়ার সময় তিনি এই বক্তব্য দেন। সেখানে পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীর সামরিক শক্তি, প্রস্তুতি এবং প্রতিক্রিয়া সক্ষমতা নিয়ে তিনি নানা জোরালো কথাবার্তা উচ্চারণ করেন, বিশেষ করে ভারতের বিরুদ্ধে সরাসরি হুঁশিয়ারি দেন।

    আসিম মুনির বলেন, “পারমাণবিক পরিবেশে যুদ্ধের কোনও স্থান নেই, তবে যদি কেউ সামান্য উসকানিও দেয়, পাকিস্তান দ্বিধাহীন ও চূড়ান্ত জবাব দেবে।” তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান এমন এক প্রতিক্রিয়া দেখাবে যা শত্রুর কল্পনাকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে।

    তিনি এও উল্লেখ করেন, যদি আবার কোনও সংঘাত শুরু হয়, তবে পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া শুধু কঠোরই থাকবে না, বরং তা শত্রুর বিশ্বাসকে ভেঙে দিতে পারে।

    ভারতের প্রতি কঠোর ভাষায় পাকিস্তানের সেনাপ্রধান বলেন, “পাকিস্তানের পক্ষ থেকে কোনো আগ্রাসী মনোভাব না থাকলেও, প্রতিরক্ষা ও প্রতিশোধের জন্য আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। প্রায়শই ভারতের সাথে যোগাযোগের দুরত্ব কমে আসায়, আমাদের অস্ত্রের প্রভাব তাদের ভৌগোলিক সীমানা ছাড়িয়ে যেতে পারে।”

    এখানে তিনি ভারতের সামরিক কৌশল ও নীতিকে ‘কৌশলগত অন্ধত্ব’ বলে আখ্যায়িত করেন। এ ছাড়া, বলেন, শত্রু যদি উচ্চাকাঙ্ক্ষায় পরিচালিত হয় তাহলে পাকিস্তান আবারও বিজয়ী হবে।

    হুঁশিয়ারির পাশাপাশি তিনি মে মাসে চালানো সামরিক অভিযান ‘অপারেশন বুনিয়ান-উন-মারসুস’-এর উল্লেখ করেন, যা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্ব ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতার প্রমাণ।

    অতিরিক্ত, দাবি করেন পাকিস্তানের বাহিনী বিভিন্ন যুদ্ধক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, পাকিস্তান রাফাল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে, এস-৪০০ সিস্টেমের মতো আধুনিক প্রযুক্তি লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে এবং বহুমাত্রিক যুদ্ধের সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে।

    নিজের বক্তব্যে তিনি শুধু ভারতকেই নয়, আফগানিস্তান বিষয়ে ও কঠোর ভাষায় কথা বলেন। পাকিস্তান সেনাপ্রধান বলেন, দেশটির ভেতর থেকে পরিচালিত ‘প্রক্সি বাহিনী’র বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তালেবান সরকারকে সাবধান করে দেন। তিনি বললেন, পাকিস্তানে চলা সন্ত্রাসী কার্যক্রম একেবারেই বরদাশত করা হবে না।

    তিনি সতর্ক করে বলেন, যারা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে চায়, পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া তাদের ভাবনায়ও বাধা দেয়ার মতো হবে। এর ফলস্বরূপ, তাদের জন্য বড় ধরনের সামরিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতি হবে।

    সূত্র: জিও নিউজ

  • পাকিস্তানে সম্মাননা পেলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জান্নাতুল মাওয়া

    পাকিস্তানে সম্মাননা পেলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জান্নাতুল মাওয়া

    বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ক্যাডেট জান্নাতুল মাওয়া পাকিস্তান সামরিক একাডেমি (পিএমএ) থেকে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে মর্যাদাপূর্ণ কমান্ড্যান্টের বিদেশি ক্যাডেট পদক লাভ করেছেন। এই গুরুত্বপূর্ণ অর্জনের জন্য তাকে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনির সেই পদক প্রদান করেন, যিনি এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন। শনিবার ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশন এ তথ্য জানায়।

    পিএমএর পাসিং আউট প্যারেডে অংশ নেন ১৫২তম লং কোর্স, ৭১তম সমন্বিত কোর্স, ২৬তম লেডি ক্যাডেট কোর্স ও ৩৭তম প্রযুক্তিগত স্নাতক কোর্সের বিভিন্ন ক্যাডেট। এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন ইরাক, ফিলিস্তিন, কাতার, মালি, নেপাল, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা, ইয়েমেন, বাংলাদেশ ও নাইজেরিয়া সহ বেশ কিছু দেশের প্রশিক্ষণার্থী।

    কর্মকর্তাদের মতে, লেডি ক্যাডেট জান্নাতুল মাওয়া এই অর্জন শুধু তার ব্যক্তিগত সাফল্যই নয়, এটি আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্ব ও সক্ষমতার এক প্রতীক। এই স্বীকৃতি বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীকে বিশ্বের সামরিক মানবসম্পদ হিসেবে আরও প্রশংসা অর্জন করতে সহায়তা করবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।

  • কাতার-তুরস্কের মধ্যস্থতায় পাকিস্তান-আফগানিস্তান যুদ্ধবিরতিতে সম্মত

    কাতার-তুরস্কের মধ্যস্থতায় পাকিস্তান-আফগানিস্তান যুদ্ধবিরতিতে সম্মত

    দীর্ঘদিন ধরে চলছিল উত্তেজনা, পাল্টাপাল্টি হামলা এবং সংঘর্ষের পর অবশেষে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলো পাকিস্তান ও আফগানিস্তান। কাতার ও তুরস্কের যৌথ মধ্যস্থতায় দুই দেশের প্রতিনিধিরা দোহায় একান্ত বৈঠক করে এবং_tlsay_{vt} একজন আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতিতে রাজি হন। এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত রোববার (১০ অক্টোবর) ভোরে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তরফ থেকে নতুন এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করা হয়।

    গতকাল শনিবার পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা কাতার কর্তৃপক্ষের আমন্ত্রণে দোহার শুল্কমোড়ের কেন্দ্রস্থলে পৌঁছান এবং সেখানে এই দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় অংশ নেন। স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামরিক নেতা-কর্তারা দ্রুতই এই সংঘর্ষের অবসান ঘটানোর জন্য আলাপচারিতা চালান। আলোচনা শেষে দুই পক্ষই একে অন্যের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে ভবিষ্যতে আরও কার্যকরভাবে শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেবার সিদ্ধান্ত নেন। কাতার জানিয়েছে, এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকবে এবং প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতে আবারও বিভিন্ন সময় এই বিষয় নিয়ে ফলোআপ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

    পাকিস্তান খোদ দুই বছর ধরে আফগান সীমান্তে স্বাভাবিকের বাইরে উত্তেজনা চলাচ্ছে। তালেবান ২০২১ সালে আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করে নেয়ার পর থেকে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। গত দুই সপ্তাহে পরিস্থিতি রূপ নেয় সরাসরি সংঘর্ষের দিকে। সীমান্তে নিয়মিত গোলাগুলি, বিমান হামলা এবং সামরিক সংঘাতের কারণে হাজার হাজার মানুষ আহত ও নিহতের খবর পাওয়া গেছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এই সংঘর্ষে মৃতের সংখ্যা কয়েকশ ছাড়িয়ে যেতে পারে।

    আলোচনায় আফগানিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোল্লা মোহাম্মদ ইয়াকুব, আর পাকিস্তানের পক্ষে ছিলেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ। দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তান অভিযোগ করে আসছে, আফগানিস্তানের ভেতর থেকে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী—তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) অন্তর্ভুক্ত—তাদের উপর হামলা চালিয়ে যাচ্ছে এবং কাবুল সেই সন্ত্রাসীদের মদদ দিচ্ছে। সীমান্তের প্রায় ২৬০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এলাকায় এসব গোষ্ঠীর কার্যক্রম পাকিস্তানকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। এসব হামলা বন্ধের জন্য পাকিস্তান বেশ কয়েকবার কাবুলকে সতর্ক করে এসেছে।

    অভিযোগের এই পরিস্থিতিতে দুই সপ্তাহ আগে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে পাকিস্তান বিমান হামলা চালালে বেশ কিছু নাগরিক নিহত হন। এর পাল্টা করিয়ে সেদিক থেকে আফগান বাহিনী সীমান্তে পাকিস্তানি সেনাদের ওপর হামলা চালায়। এর ফলে দুই দেশের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ শুরু হয়।

    শুরুর দিকে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান মোট ৪৮ ঘণ্টার জন্য যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও, মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পাকিস্তান আবারও আফগান সীমান্তে বিমান হামলা চালায়। যদিও তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর দাবি করেন, বাস্তবে দেখা যায় পাকিস্তান নতুন করে হামলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।

    অভিযুক্ত দেশগুলো বলছে, তারা কোনোরকম সন্ত্রাসী বা জঙ্গি গোষ্ঠীর আশ্রয় বা মদদ দিচ্ছে না, বরং পাকিস্তানই বারবার আফগান সীমান্তে আমাদের ওপর আক্রমণ চালাচ্ছে। শুক্রবার আরও উত্তপ্ত হয় পরিস্থিতি। আফগানিস্তান সংলগ্ন পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে তালেবান জঙ্গিরা আত্মঘাতী বোমা হামলা চালিয়ে সাতজন পাকিস্তানি সেনাকে হত্যা করে। এই ঘটনার পর পাকিস্তান কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সীমান্তে নতুন করে সামরিক পদক্ষেপ নেয়। পরিস্থিতি এখন আরও চরমে। সূত্র: রয়টার্স।

  • ইয়েমেন উপকূলে এলপিজি ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

    ইয়েমেন উপকূলে এলপিজি ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

    ইয়েমেনের উপকূলে এডেন উপসাগরে একটি এলপিজি বহনকারী ট্যাংকারে লাগানো হয়েছে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনাটি। হামলার পর ব্রিটিশ সামরিক বাহিনী জানিয়েছে যে, জাহাজটি ভয়াবহ আগুনের শিকার হয়েছে। তবে, এই হামলার সঙ্গে ইয়েমেনের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথির কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলে জানানো হয়েছে। হুথির পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে, খবর টাইমস অব ইসরায়েল এবং আল জাজিরার।

    শনিবার, ১৮ অক্টোবর, এডেন উপসাগরে এই জাহাজে হামলার ঘটনাটি ঘটে। ব্রিটিশ সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, জাহাজটি জরুরি অবস্থায় ছিল এবং ক্রুরা সক্রিয়ভাবে এর থেকে দূরে সরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ২০২৩ সাল থেকে গাজায় মানবাধিকার ও গণহত্যার প্রতিবাদে হুথিরা লোহিত সাগরে ইসরায়েল ও তার সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোর উপর হামলা চালিয়ে আসছে। তবে, ১০ অক্টোবর ইসরাইল ও হামাসের মাঝে যুদ্ধবিরতির পর থেকে হুথিরা কোনো নতুন হামলার দাবি করেনি।

    যদিও সশস্ত্র গোষ্ঠীটি এই হামলার দায় স্বীকার করেনি, তবে সাধারণত তাদের হামলার কয়েক ঘণ্টা বা দিনেক পরে দায়িত্ব স্বীকার করে থাকে। ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশন্স কেন্দ্র এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, এই ঘটনার স্থান এডেন থেকে প্রায় ২১০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত। তারা বলেছে, একটি জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে, যার ফলে আগুন ধরে যায়। ঘটনার এখনও তদন্ত চলমান।

    সমুদ্র নিরাপত্তা সংস্থা অ্যামব্রে জানিয়েছে, এই জাহাজটি ক্যামেরুনের পতাকাযুক্ত, এটি ওমানের সোহার থেকে জিবুতি যাওয়ার পথে ছিল। ইয়েমেনের আহওয়ার উপকূল থেকে প্রায় ৬০ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণে অবস্থানরত এই ট্র্যাকারটি জরুরি বার্তা পাঠানোর পর নাবিকরা দ্রুত কার্যক্রম শুরু করে, এবং এখন উদ্ধার অভিযান চলছে।

  • ইসরায়েলের নিপীড়নEvidence: দগ্ধ, বাঁধা ও ক্ষতচিহ্নযুক্ত ফিলিস্তিনি মরদেহ ফেরত

    ইসরায়েলের নিপীড়নEvidence: দগ্ধ, বাঁধা ও ক্ষতচিহ্নযুক্ত ফিলিস্তিনি মরদেহ ফেরত

    যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপে পরিণত গাজা উপত্যকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরায়েল থেকে ফেরত আসা ফিলিস্তিনি ব্যক্তির দেহে স্পষ্টভাবে চোখে পড়ার মতো নৃশংসতার চিহ্ন রয়েছে। ফুটানোর মতো দগ্ধ, হাতে-পায়ে বাঁধা and নির্যাতনের দাগ সহ মরদেহগুলো ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা এই বর্বরতার প্রমাণ বহন করে।

    গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক ড. মুনির আল-বুরশ বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমকে জানান, “ফিরে আসা মরদেহগুলো পশুর মতো বাঁধা অবস্থায় ছিল, চোখের বাঁধন পরানো ছিল এবং দগ্ধ ও নির্যাতনের দাগ ছিল, যা গোপন বর্বরতার গভীরতা প্রকাশ করছে।” তিনি আরও বলেন, “এই দেহগুলোর ক্ষতচিহ্নগুলো অস্বীকার করা অসম্ভব, এবং অনেকের মধ্যে সরাসরি হত্যা ও হত্যার পর পশুপাখির মতো বাঁধার দাগ দেখা গেছে।”

    ডাক্তার ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, “প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, কিছু মরদেহে অঙ্গচুরির চিহ্নও রয়েছে। অর্থাৎ, কিছু পরিবার তাদের প্রিয়জনের দেহে অঙ্গের অনুপস্থিতি লক্ষ্য করেছেন। এটি দখলদার বাহিনীর পরিকল্পিত অপরাধের ধারাবাহিক, যেখানে মানবাধিকারের লঙ্ঘন হয়।”

    সংস্থাটি আরও জানায়, “এতগুলো নিঃসঙ্গ ও নিরীহ ফিলিস্তিনি ব্যক্তির মৃতদেহ দেখিয়েছে যে, তাদের হত্যা ছিল নির্মম ও পরিকল্পিত। আহতদের বোঝাতে, শরীরে দগ্ধ ও ক্ষতচিহ্ন দেখা যাচ্ছে এবং কিছু দেহে দেখা যাচ্ছে সাঁজোয়া যান দিয়ে পিষে ফেলার মতো চিহ্ন।”

    বিবৃতিতে বলা হয়, “প্রমাণগুলো স্পষ্ট করে যে, অনেককে গ্রেফতারের পরে নির্বিচারে, ঠান্ডা মাথায় হত্যা করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও চতুর্থ জেনেভা কনভেনশনের সরাসরি লঙ্ঘন।” তারা জানায়, “প্রাথমিকভাবে আমরা দাবি করছি, একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক তদন্ত জরুরি, যাতে অপরাধীদের চিহ্নিত করে আন্তর্জাতিক আদালতে বিচার করতে পারা যায়।”

    প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির মাধ্যমে ইসরায়েল থেকে ৩০ জনের মরদেহ গ্রহণ করেছে, যাদের শরীরে ‘নির্যাতন ও পোড়ার’ চিহ্ন পাওয়া গেছে। এর আগে যুদ্ধ শেষে, গাজার মেডিকেল সূত্র নিশ্চিত করে যে, ইসরায়েল মোট ১২০ ফিলিস্তিনির মরদেহ ফেরত দিয়েছে।

    এভাবেই চলমান এই সংকটপূর্ণ পরিস্থিতিতে, মানবতা ও মানবাধিকার প্রশ্নে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কঠোর নজরদারির প্রয়োজন বাড়ছে।