Category: আন্তর্জাতিক

  • ইসরায়েল পূর্ব জেরুজালেমে ৩,০০০ এর বেশি সেটলার বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা

    ইসরায়েল পূর্ব জেরুজালেমে ৩,০০০ এর বেশি সেটলার বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা

    ইসরায়েল এবার পূর্ব জেরুজালেমে আরও ৩ হাজার ৪০১টি নতুন বাড়ি নির্মাণের কাজ শুরু করতে যাচ্ছে, যেখানে মূলত প্রস্তাবিত ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে নির্ধারিত এই শহরে ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের জন্য এই বাড়িগুলো নির্মিত হবে। ইতোমধ্যেই ইসরায়েলের সরকার এই নির্মাণকাজের জন্য টেন্ডার আহ্বান করেছে।

    ফিলিস্তিনের সরকারি সংস্থা ওয়াল অ্যান্ড সেটলমেন্ট কমিশনের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, এই নির্মাণ কাজটি পূর্ব জেরুজালেমের ই-ওয়ান এলাকায় হবে। এই এলাকার গুরুত্ব অনেকটাই কৌশলগত কারণেই, কারণ এটি ইসরায়েলের মূল ভূখণ্ড থেকে পশ্চিম তীরের শহর মারে আদুমিমে যাতায়াতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এক করিডোর হিসেবে কাজ করে। বসতি স্থাপনকরণে এই এলাকা আরো দৃঢ় হবে, ফলে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি দখলদারিত্ব শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।

    ইসরায়েলের ভূমি অধিগ্রহণের সংস্থাটি এই টেন্ডার প্রকাশ করেছে। ওয়াল অ্যান্ড সেটলমেন্ট কমিশনের প্রধান মুআয়াদ শাবান দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, আন্তর্জাতিক চাপের কারণে কমপক্ষে তিন দশক ধরে পূর্ব জেরুজালেমে দখলের কাজ কিছুটা বন্ধ ছিল। তবে গ্রাউন্ডে পরিবর্তনের মাঝে গাজা যুদ্ধ এই দখলদারির ক্ষেৎ্রকে আবার উজ্জীবিত করেছে। এই বাড়ি নির্মাণ প্রকল্পটি ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে ইসরায়েলি মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়।

    ইতিহাসে জানা যায়, ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠার সময় জাতিসংঘ এক ঘোষণা দেয় যে, মধ্যপ্রাচ্যের আল আকসা অঞ্চলে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হবে—একটি ইসরায়েল, আরেকটি ফিলিস্তিন। এর মধ্যে গাজা, পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেম মিলিয়ে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র হওয়ার কথা ছিল, যার রাজধানী হবে পূর্ব জেরুজালেম।

    সেই শহরটি দুই ভাগে বিভক্ত—পূর্ব অংশটি পায় ফিলিস্তিনের অংশ হিসেবে পরিচিতি, আর পশ্চিম অংশটি পায় ইসরায়েল। ১৯৬৭ সালে আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় পূর্ব জেরুজালেম দখল করে ইসরায়েল। তারপর থেকে শহরটি ইসরায়েলের দখলেই রয়েছে।

    মুআয়াদ শাবান বলেন, ‘পূর্ব জেরুজালেমে ফিলিস্তিনিরা যেন অচিরে সংখ্যায় বৃদ্ধি না পায়, সেজন্য শহরটিকে ফিলিস্তিনের ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন করে পশ্চিম জেরুজালেমের সাথে সংযুক্ত করার পরিকল্পনা তারা করছে। এই নতুন বসতি নির্মাণ প্রকল্প এই পরিকল্পনারই অংশ।’

    অতীতে, গত তিন দশকের বেশি সময় ধরে ইসরায়েল আস্তে আস্তে ফিলিস্তিনের ভূখণ্ড দখল করছে, যেখানে গাজার হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধ দখলের এই কার্যক্রমে নতুন উত্থান ঘটিয়েছে। ওয়াল অ্যান্ড সেটলমেন্ট কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথমার্ধে অক্টোবরের মধ্যে পশ্চিম তীরে ১০ হাজারের বেশি বাড়ি নির্মাণের জন্য টেন্ডার পাস করেছে ইসরায়েল।

  • ভেনেজুয়েলার পর ট্রাম্পের নজরে ইরান ও কিউবা: পাঁচ দেশের রাজনীতি ও চ্যালেঞ্জ

    ভেনেজুয়েলার পর ট্রাম্পের নজরে ইরান ও কিউবা: পাঁচ দেশের রাজনীতি ও চ্যালেঞ্জ

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য তার পররাষ্ট্রনীতির নতুন উচ্চাকাঙ্ক্ষার গল্প আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। এক নাটকীয় রাতের অভিযানে কারাকাসের শক্তিশালী ও সুরক্ষিত প্রেসিডেন্ট ভবন থেকে প্রেসিডেন্ট Nicolás Maduro ও তাঁর স্ত্রীর गिरफ्तारी ঘটিয়ে তিনি ভেনেজুয়েলাকে নিয়ন্ত্রণের হুমকি দিয়েছেন। এই কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ট্রাম্প ১৮২৩ সালে মার্কিন প্রশাসনের মনরো ডকট্রিনের আভাস তুলে ধরেছেন, যা লাজুকভাবে পূর্বে বিদেশি শক্তিগুলোর ব্যাপারে মার্কিন হস্তক্ষেপের নীতিকে নির্দেশ করে। ট্রাম্প এই নীতিটিকে তিনি নতুন করে নাম দিয়েছেন ‘ডনরো ডকট্রিন’, যা দক্ষিণ আমেরিকার নতুন করে রাষ্ট্রদ্রোহী কর্মকাণ্ডে নজরদারির নির্দেশ দেয়।

    গত কয়েক দিনের মধ্যে ওয়াশিংটনের প্রভাবশালী দিকনির্দেশনা অন্যান্য দেশেও ব্যাপক গুরুত্ব পেয়েছে। যেমন, ডেনমার্কের গ্রিনল্যান্ডে রয়েছে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি পিটুফিক স্পেস বেস, যা ট্রাম্পের জন্য বিশেষ উল্লেখযোগ্য। এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলছেন, পুরো দ্বীপটি তাঁরা দখল করতে চান, কারণ তা আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জানান, এই অঞ্চলটি ‘রুশ ও চীনা জাহাজে ভরে গেছে’ বলে তিনি মনে করেন।

    ডেনমার্কের এই আর্কটিক দ্বীপটি বিরল খনিজে সমৃদ্ধ, যা আধুনিক প্রযুক্তির জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে চীন এই খনিজ উৎপাদনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে গেছে। গ্রিনল্যান্ডের বহুস্তরীয় ভূখণ্ড উত্তর আটলান্টিকের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অবস্থান দখল করে আছে এবং আর্কটিক সার্কেলে প্রবেশের দ্বার খুলছে। তবে ডেনমার्कের প্রধানমন্ত্রী জেন্স ফ্রেডরিক নিলসেন এই প্রস্তাবকে ‘কল্পনা’ বলে অভিহিত করে বলেছেন, আলোচনায় তারা উন্মুক্ত, তবে আন্তর্জাতিক আইনের সম্মান রাখতে হবে। ফ্রেডরিকসেন আরও সতর্ক করে দিয়েছেন, যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অন্য কেউ ন্যাটো দেশকে আক্রমণ করে, তবে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠবে।

    অপরদিকে, ভেনেজুয়েলার প্রতিবেশী কলম্বিয়া বিশাল তেল ও খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ। সেখানে ট্রাম্পের নির্দেশে চলমান আরও কঠোর মনোভাব ও আলোচনায় থাকা দুর্নীতির বিরুদ্ধে সতর্ক বার্তা দিয়েছেন। বেশ কয়েক বছর ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলে মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে সোচ্চার এবং কোকেনের কার্টেলগুলোর সঙ্গে লড়াই চালাচ্ছে। মার্কিন প্রশাসন ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেই কলম্বিয়াকে সবসময় গুরুত্বপূর্ণ দেহাবরণ করেছে।

    ইরান বর্তমানে ব্যাপক সরকার বিরোধী বিক্ষোভের সম্মুখীন, যেখানে ট্রাম্প সতর্ক করে দিয়েছেন, আরও যেন বিক্ষোভে হতাহতের ঘটনা না ঘটে। তিনি বলেছেন, আমরা খুবই নজরদারি করে রয়েছি, আর যদি তারা অতীতের মতো মানুষ হত্যা চালায়, তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের কঠোরভাবে আঘাত করবে। এই পরিস্থিতি ‘ডনরো ডকট্রিনের’ বাইরে নয়, তবে গত বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানের পরমাণু স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলার পরে আরও কঠোর পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন। এই হামলা হয় ইসরায়েলে চালানো এক বৃহৎ অভিযানের অংশ, যার লক্ষ্য ছিল ইরানের পরমাণু অস্ত্র তৈরির ক্ষমতা ধ্বংস।

    উল্লেখ্য, সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে মার-এ-লাগোতে বসে ইরানের জন্য বিভিন্ন কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়েছে, যেখানে ইরানকে ভবিষ্যতের হামলার জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।

    অবশেষে, মেক্সিকো সম্পর্কেও ট্রাম্পের মনোভাব সুস্পষ্ট। ২০১৬ সালে তার মূল স্লোগান ছিল-মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণ। তার দখলে থাকাকালীন সময়ে তিনি এই বিষয়টিকে অগ্রাধিকার হিসেবে দেখিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, মেক্সিকো থেকে মাদক ও অবৈধ আমদানি ঠেকানোর জন্য খুবই কঠোর ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। এই বিষয়ে তারা খুব শক্তিশালী কার্টেল দ্বারা পরিচালিত, যা মোকাবেলা অত্যন্ত কঠিন। কিন্তু অন্যদিকে, মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউডিয়া শেইনবাম ব্যাপক বিরোধিতা জানিয়েছেন।

    সবশেষে, কিউবা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ দিচ্ছে মার্কিন প্রশাসন। ১৯৬০-এর দশকের শুরু থেকে এই দ্বীপ রাষ্ট্রটি মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে, এবং এখন ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, পরিস্থিতি যদি পতনের মুখে আসে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপের প্রয়োজন পড়বে না। তিনি বলছেন, কিউবা এখন পতনের দোরগোড়ায়। তার বক্তব্য অনুযায়ী, তারা ভেনেজুয়েলার সঙ্গে প্রত্যক্ষ অর্থনৈতিক সম্পর্কের মাধ্যমে চলেছে, যা এখন বিপদজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও ঢের দিন ধরে আশা প্রকাশ করেছেন যে, শাসন পরিবর্তন হয়ে কিউবায় নতুন সরকার প্রতিষ্ঠা এই অঞ্চলের জন্য শুভ হবে।

  • যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ড তালিকায় বাংলাদেশ যুক্ত হয়েছে

    যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ড তালিকায় বাংলাদেশ যুক্ত হয়েছে

    সংযুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা বন্ড তালিকায় এবার বাংলাদেশের নাম যুক্ত হয়েছে, যা বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা গ্রহণের ক্ষেত্রে নতুন ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। এর ফলে, বাংলাদেশি প্রার্থীরা যারা যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা পেতে চান, তাদের অতিরিক্তভাবে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড বা জামানত জমা দিতে হতে পারে।

    ১৩ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এই তালিকা হালনাগাদ করেছে, যেখানে মোট ৩৮ টি দেশের নাম উল্লিখিত রয়েছে। বাংলাদেশ তাদের মধ্যে অন্যতম। এই নীতি যত দ্রুত কার্যকর হবে, তা আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।

    নিয়ম অনুযায়ী, এই ৩৮ দেশের নাগরিক যারা ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের কাছ থেকে ভিসা পেতে হলে ৫ হাজার থেকে শুরু করে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত জামানত জমা দিতে হবে। এই পরিমাণ নির্ধারণ করবেন ভিসা অফিসের কনস্যুলার কর্মকর্তারা, আবেদনকারীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতি এবং ইন্টারভিউ ভিত্তি করে।

    ভিসা বন্ডের অর্থের ব্যবহার মার্কিন সরকারের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘Pay.gov’ এর মাধ্যমে হয়। তবে, কেউ অগোচরে বা অনির্ধারিতভাবে অর্থ জমা দিতে পারবেন না, কারণ কনস্যুলার অফিসার পূর্বেই এই নির্দেশনা দিয়ে থাকেন।

    যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এই ‘ভিসা বন্ড পাইলট’ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো, যারা ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অবৈধভাবে থাকেন বা ওভারস্টে করেন, তাদের নিরুৎসাহিত করা। এই তালিকায় থাকা দেশগুলোর নাগরিকেরা সাধারণত বেশি হারে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসেন না, সেই পরিস্থিতিকে সামাল দিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জামানতের টাকা একদমই কেটেই রাখা হয় না, বরং এটি একটি ফেরতযোগ্য জামানত। যদি ভ্রমণকারী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বা তার আগে যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে যান, বা ভিসা বাতিল হয়ে যায়, বা তাদের অনুত্তীর্ণ সময়ের জন্য অপরাধপ্রবণ বা স্ট্যাটাস পরিবর্তনের জন্য অনুমতি নিয়ে থাকেন, তবেই এই অর্থ ফেরত পাবেন।

    তবে, যদি কেউ নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থান করেন বা এই দেশীয় নীতির ব্যতিক্রম করেন, তবে জামানতের অর্থ বাজেয়াপ্ত হয়ে যাবে।

    অন্তত তিনটি বিমানবন্দর নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে— বোস্টন লোগান, জ্যুই এফ কেনেডি ও ওয়াশিংটন ডুলস— যেখান থেকে বাংলাদেশি মারফত বা এই জামানত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবেন। অন্য কোথাও প্রবেশ বা বহির্ঘটন যদি ঘটে, তাহলে বন্ডের শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ ওঠে।

    এছাড়াও, তালিকায় থাকা অন্য দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, ভুটান, কিউবা, জিবুতি, ফিজি, নাইজেরিয়া, এবং নেপাল। এই নতুন নিয়মগুলো কার্যকর হবে নির্দিষ্ট তারিখ থেকে, দেশের ভিত্তিতে আলাদা।

    প্রাতিষ্ঠানিক দৃষ্টিতে, ভিসা বন্ড হলো এক ধরনের আর্থিক নিশ্চয়তা, যা কিছু দেশ মুক্তিযুদ্ধের জন্য নির্দিষ্ট বিদেশি নাগরিকদের জন্য আবশ্যক করে দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে, এই ব্যবস্থা ভিসার মেয়াদ শেষ না হওয়া অবৈধ অবস্থান প্রতিরোধে এবং ভিসা নিয়ম মোতাবেক চলার জন্য উদ্দশ্যপ্রসূত।

    অতীতে বিভিন্ন দেশ এই ধরনের ব্যবস্থা চালু করলেও, অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা কার্যকর হয়নি বা বাতিল হয়ে গেছে। যেমন, নিউজিল্যান্ড একসময় এই পদ্ধতি চালু করেছিল, তবে তা পরে বিকল্প হয়নি। ২০১৩ সালে যুক্তরাজ্য কিছু দেশের জন্য এই ব্যবস্থা চালু করলেও পরে তা স্থগিত করে। এখন যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন উদ্যোগ বাংলাদেশের জন্যও বেশ কঠিন পরিস্থিতি তৈরি করেছে, যা ভিসা প্রক্রিয়াকে আরও জটিল ও ব্যয়বহুল করে তুলবে।

  • ইউরোপে প্রবল তুষারঝড়ে ৬ জনের মৃত্যু, শত শত ফ্লাইট বাতিল

    ইউরোপে প্রবল তুষারঝড়ে ৬ জনের মৃত্যু, শত শত ফ্লাইট বাতিল

    বিস্তৃত ও ভারী তুষারপাতের কারণে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে শনিবারের মধ্যে কমপক্ষে ছয়জনের প্রাণহানি ঘটেছে। ফলে হিমঘরময়Currencies গোঁড়ানো বাতাসের কারণে শত শত ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে। বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

    নিহতদের মধ্যে পাঁচজনই ফ্রান্সের, আর একজন দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের বলকান অঞ্চলের দেশের বসনিয়া অ্যান্ড হার্জিগোভিনার রাজধানী সারায়েভো থেকে। ফ্রান্সে নিহতরা মূলত দূর্ঘটনার শিকার হয়েছেন সড়কের ওপর জমে থাকা বরফের কারণে, যার ফলে গাড়ির চাকা পিছলে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটে। অন্যদিকে সারায়েভোতে একজনের মৃত্যুর কারণ গাছের উপড়ে পড়া।

    বলকান অঞ্চলের দেশগুলোতে তুষারপাতের পাশাপাশি ভারী বর্ষণও হচ্ছে। ফ্রান্সের কেন্দ্রীয় সরকারের পরিবহনমন্ত্রী ফিলিপ তাবারোত গতকাল বলেন, আরো কয়েক দিন অব্যাহত থাকবে তুষারপাত। তিনি নাগরিকদের জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের না হওয়ার এবং ঘরে থেকে কাজ করার অনুরোধ জানান। আবহাওয়া দপ্তর ফ্রান্সের মোট ৯৬ জেলায় থেকে ৩৮টিতে তুষার সৃষ্ট সতর্কতা জারি করেছে।

    ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের প্রধান বিমানবন্দর রোইসি-চার্লস ডি গাউল্লে তুষারঝড়ের কারণে গতকাল মঙ্গলবার প্রায় ৪০ শতাংশ ফ্লাইট বাতিল করেছে। একই কারণে নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডাম শিফোল বিমানবন্দরে বাতিল হয়েছে পাঁচশর বেশি ফ্লাইট।

    এই বাতিলের ফলে বহু যাত্রী ইউরোপের বিভিন্ন দেশের বিমানবন্দরে আটকা পড়েছেন। স্পেনের নাগরিক জাভিয়ের সেপুলভেদা, যিনি আমস্টারডাম থেকে নরওয়ে যাওয়ার জন্য শিফোল বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন, তিনি বলেন, এ পরিস্থিতির কারণে বিমানবন্দরটি কোলাহলপূর্ণ, হতাশাজনক এবং বিরক্তিকর পরিবেশে রূপ নিয়েছে।

    এসব পরিস্থিতির কারণে হাজার হাজার যাত্রীর ভ্রমণে ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়েছে, এবং পরিস্থিতি আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

  • মা ও দাদিকে কুপিয়ে হত্যা, পুলিশ গুলিতে নিহত ছেলে

    মা ও দাদিকে কুপিয়ে হত্যা, পুলিশ গুলিতে নিহত ছেলে

    যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির পিসকাটাওয়ে টাউশিপে একটি ভয়াবহ পারিবারিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এক যুবক ধারালো ছুরি দিয়ে তার মা ও দাদা–দাদিকে গুরুতরভাবে আহত করে হত্যা করেন। পরে পুলিশের সামনেই সে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়।

    ঘটনা ঘটে সোমবার বিকেলে, স্থানীয় সময় সাড়ে ৫টার দিকে, পিসকাটাওয়ের রিভার রোড এলাকায় একটি বাড়িতে। জরুরি কল পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাড়ির ভিতর প্রবেশ করে তিনজনের মৃতদেহ উদ্ধার করে। নিহতরা হলেন, ওই যুবকের মা, দাদা ও দাদী।

    পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত যুবক তখনও একটি ধারালো ছুরি হাতে রেখেছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য পুলিশ প্রথমে তাকে অস্ত্র ফেলে দেওয়ার জন্য বলা হয় এবং টেজার (স্টান গান) ব্যবহার করে। কিন্তু সে নির্দেশ মানতে অস্বীকার করলে পুলিশের গুলির মুখে পড়ে। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

    পিসকাটাওয়ে টাউনশিপের মেয়র ব্রায়ান ওয়াহলার বলেন, ‘এটি এক ভয়াবহ ট্র্যাজেডি। একজন স্বামী আজ তার স্ত্রী ও বাবা-মাকে হারালেন, আর সেই সঙ্গে নিজের ছেলেকেও।’

    একজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, তিনি পুলিশকে গুলির শব্দ শুনেছেন। পুলিশ তাকে থামাতে বলছিল, অস্ত্র ছেড়ে দিতে বলছিল। পরিস্থিতিটি দ্রুতই খুব ভয়ংকর হয়ে ওঠে। তারা টেজারও ব্যবহার করেছিল। তিনি মনে করেন, পুলিশের পক্ষ থেকে সম্ভবত পরিস্থিতি শান্ত করতে যথাসাধ্য চেষ্টা চালানো হয়েছে।

    এদিকে, নিউ জার্সি স্টেট পুলিশ বেনেভোলেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে এই ঘটনার বর্ণনা করা হয় ‘ভয়ংকর অপরাধ’ হিসেবে। সংগঠনের মুখপাত্র জানিয়েছেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত পুলিশ কর্মকর্তাদের মানসিক ও শারীরিকভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

    নিউ জার্সি অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় এই বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। শেষ রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। এই মর্মান্তিক ঘটনায় पूरे পিসকাটাওয়ে এলাকায় শোকের ছড়াছড়ি এবং আতঙ্কের অবস্থা তৈরি হয়েছে।

  • ইসরাইলের গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ইরানে একজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

    ইসরাইলের গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ইরানে একজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

    ইরান ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে। চলমান বিক্ষোভের মধ্য দিয়ে বুধবার (৭ জানুয়ারি) ইরানের বিচার বিভাগ গণমাধ্যমের বরাতে এ বলা হয়। সংগঠনের সূত্রে জানানো হয়, দেশের সংবেদনশীল তথ্য সরবরাহের মাধ্যমে মোসাদের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তির অপরাধে এক ব্যক্তির প্রতি সর্বোচ্চ আদালতের অনুমোদন এবং আইনি প্রক্রিয়ায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দীর্ঘ দিন ধরে চলে আসা ইরান-ইসরাইল দ্বন্দ্বে এক নতুন অধ্যায় যোগ হলো। সম্প্রতি এ ধরনের বেশ কয়েকজন নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে, বিশেষ করে চলতি বছরের মধ্যে সংখ্যাটা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জুন মাসে যখন ইসরাইলি ও মার্কিন বাহিনী ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়, তখন দ্বিপাক্ষিক উত্তেজনাও দ্বিগুণ বেড়ে যায়। এর ফলে এই ধরনের ফাঁসির ঘটনাও চোখে পড়ে। অন্যদিকে, অর্থনৈতিক সংকট এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ে জনগণের প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়েছে ২৭টি প্রদেশে এবং ৯২টি শহরে। গত দশ দিনে চলে আসা এই বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত ৩৬ জন নিহত হয়েছে এবং দুই হাজারের বেশি মানুষ গ্রেফতার করা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ইরান নতুন এক প্রতিরক্ষা কাউন্সিল গঠন করে সতর্ক করেছে, দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের হুমকি দেখা দিলে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। ইরানের অর্থনীতি দুর্বল হয়ে পড়েছে, মুদ্রার মান ইতিহাসের最低 স্তরে পৌঁছেছে। বহুদূর পৌঁছেছে দেশের অস্থিরতা। টানা দশ দিনের বিক্ষোভ এখনো চলছে, তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারে দোকানদাররা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। নিরাপত্তা বাহিনী কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান দিয়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে চেষ্টা করছে। বিক্ষোভের কেন্দ্রস্থল তেহরান থেকে এখন দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। এই আন্দোলনে এখন পর্যন্ত ৩৬ জনের মৃত্যুর খবর জানানো হচ্ছে, যার মধ্যে দেড়জন নিরাপত্তা বাহিনী সদস্য। দুই হাজারের বেশি ব্যক্তি গ্রেফতার হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে, সেনাবাহিনী ও প্রতিরক্ষা কাউন্সিল জানিয়েছে, দেশের নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও ভূখণ্ডের অখণ্ডতা লালন করতে পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং হুমকি হলে তার মোকাবিলা কঠোরভাবে করা হবে। সরকারি কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে অবহেলা করছে বলে অভিযোগ তুলেছেন, যারা দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ ও সহিংসতা উস্কে দিচ্ছে বলে তারা দাবি করছেন। পাশাপাশি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, যদি ইরান আবারো বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়ন চালায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র সুত্রপাতের জন্য কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখানো হবে। এই পরিস্থিতিতে, ইরানের মুদ্রা রিয়াল ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিক বাজারে ডলারের বিপরীতে রিয়াল প্রায় ১৫ লাখ রিয়াল, ইউরো প্রায় ১৭ লাখ রিয়াল এবং পাউন্ড প্রায় দুই কোটি রিয়াল দরে বিক্রি হয়েছে। পাশাপাশি, সরকারি ভর্তুকি পরিস্থির পরিবর্তনে খাদ্য পণ্যের দামও দ্রুত বেড়ে গেছে, যেমন রান্নার তেল, চিজ ও মুরগির দাম দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছে। সাধারণ মানুষ এখন চিকিৎসাজনিত ও জীবনমানের খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। সার্বিকভাবে, দেশজুড়ে অস্থিরতা বাড়ছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকারের নানা পাল্টা পদক্ষেপের জন্য অপেক্ষা করছে জনগণ।

  • আমি এখনও প্রেসিডেন্ট, আমাকে অপহরণ করা হয়েছে: মাদুরো আদালতকক্ষে বলেন

    আমি এখনও প্রেসিডেন্ট, আমাকে অপহরণ করা হয়েছে: মাদুরো আদালতকক্ষে বলেন

    যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে ম্যানহাটন আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে নিজের পরিচয় জোর দিয়ে বললেন ভেনেজুয়েলার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। সোমবার আদালতে হাজির হয়ে তিনি স্পষ্ট করে বললেন, আমি নির্দোষ। আমাকে ভেনেজুয়েলার কারাকাসে আমার বাড়ি থেকে অপহরণ করে নিয়ে এসেছে। আমি একজন সম্মানজ্ঞান ব্যক্তি, আমার দেশের প্রেসিডেন্ট। আমাকে বেআইনিভাবে ধরে আনা হয়েছে, যা আমি কোনওভাবেই মানি না।

    নিজেকে ‘যুদ্ধবন্দি’ বলে উল্লেখ করেন মাদুরো, এবং আদালতে পড়ে শোনানো অভিযোগগুলোতেও দোষ স্বীকার না করে দোষ অস্বীকার করেন। একইভাবে, তার স্ত্রীরাও—ভেনেজুয়েলার ফার্স্ট লেডি সিলিয়া ফ্লোরেস—নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। দোভাষীর মাধ্যমে তিনি স্প্যানিশ ভাষায় বলেন, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোতেই তাদের দোষ নেই।

    গত শনিবার, ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাস থেকে তার সস্ত্রীক অপহরণ করে নিয়ে আসে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী। এই নাটকীয় ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই বৈশ্বিক স্তম্ভিত হয়েছিল বিশ্ব। বেশ কিছু দেশ এই ঘটনাকে নিন্দার মাধ্যমে প্রতিবাদ জানিয়েছে।

    মাদুরোর বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নানা অভিযোগ আনা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে মাদক-সন্ত্রাস, কোকেন আমদানির জালিয়াতি, এবং ক্ষতিসাধনকারী ডিভাইস ও মেশিনগান রাখার মতো গুরুতর অভিযোগ। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, মাদুরো ক্যানসার মোকাবেলায় ব্যবহার করে বেশি দূর এগোতে পারেনি, বরং মেক্সিকো ও কলম্বিয়ার গ্যাংগুলির সঙ্গে মিলে কোকেন পাচারচক্র চালাচ্ছে।

    মাদুরো ও তার স্ত্রী এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তাদের আইনজীবীরা বলছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই তার নেতৃত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই মামলাগুলো করছে।

    ঐদিন তারা ব্রুকলিনের আটক কেন্দ্রে থাকাকালীন, সোমবার কড়া নিরাপত্তার মধ্যে তাদেরকে হেলিকপ্টার ও সাঁজোয়া গাড়ি যোগে আদালতে উপস্থিত করা হয়। জেলে থাকাকালীন আদালতে হাজির করার সময়, তারা স্প্যানিশ ভাষায় দোভাষীর মাধ্যমে কথা বলেন। এসময় তাদেরকে দেখতে ব্যাপক jumlah মোড়ক উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে, আন্দোলনের পাশাপাশি সমর্থকদেরাও জমায়েত হয়েছিল।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই মামলাকে আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে নজিরবিহীন বলে মনে করা হয়, কারণ এটি প্রথম কোনও বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বৃহৎ ধরণের ফৌজদারি মামলা।

    তবে, মাদুরো এসবের মুখে হার মানেননি। আদালত চলাকালীন তার মুখে আতঙ্ক বা ভয়ের চিহ্ন দেখা যায়নি। বরং তিনি জেদি ও দৃঢ় কথা বলে স্পষ্ট করে বললেন, আমাকে জোরপূর্বক ভেনেজুয়েলা থেকে তুলে আনা হয়েছে এবং আমি অপহৃত একজন প্রেসিডেন্ট। তার এই দৃঢ়তা দেখে অনেকেই তার নেতৃত্বের শক্তি অনুভব করেছেন।

    ভেনেজুয়েলার ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি এদিন তার পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তারা গভীরভাবে দাবি করেছে, এই অপহরণ একটিকে ‘বর্বরোচিত ও বিশ্বাসঘাতক’ আক্রমণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    অভিযোগের শুনানি শেষ হয়ে, আগামী ১৭ মার্চ পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করেছে আদালত। ওই দিনটিতে আবারও তাকে আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সূত্র: বিডিনিউজ।

  • যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্টের বাসভবনে অস্ত্রশস্ত্র হামলা

    যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্টের বাসভবনে অস্ত্রশস্ত্র হামলা

    ওহাইও অঙ্গরাজ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের বাসভবনে হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে এই ঘটনায় কেউ আহত হওয়া বা জীবনের ঝুঁকি থাকায় তদন্ত চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তারা নিশ্চিত করতে চাইছে যে, এই হামলা কোনও মূল লক্ষ্যবস্তু উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল কি না। ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা সজাগ অবস্থানে রয়েছেন এবং সন্দেহভাজন একজন ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার সিক্রেট সার্ভিস এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার সময় ভ্যান্স এবং তাঁর পরিবারের কেউ বাসায় ছিলেন না। তবে এ ঘটনায় এক ব্যক্তিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। কর্মকর্তাদের ধারণা, বাসভবনের ভেতরে কেউ প্রবেশ করতে পারেনি। তবে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা গেছে, ওহাইওতে ভ্যান্সের বাসভবনের জানালার কাচ ভেঙে গেছে। এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি, কিভাবে বা কেন জানালাগুলোর গ্লাস ভেঙে গেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই ঘটনায় একজন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে এবং তার লক্ষ্য ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রধানত এই ঘটনা রোববার ঘটেছে। সিনসিনাটির পুলিশ বলেছে, রাত প্রায় ১২টা ১৫ মিনিটে সিক্রেট সার্ভিসের সহায়তা জন্য ডাকে। গোয়েন্দারা তখন এক ব্যক্তিকে দৌড়ে যেতে দেখেছে, পরে দ্রুত সেখানে পৌঁছে তৎপরতা শুরু করে। বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত হওয়া না গেলেও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা সতর্কতাকে বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সূত্র: সিএনএন।

  • ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলায় নিহতের সংখ্যা ৮০ ছাড়ালো

    ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলায় নিহতের সংখ্যা ৮০ ছাড়ালো

    ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মার্কিন সেনাদের হামলার ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়ে উঠছে। গত শনিবার মধ্যরাতে দেশটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ব্যাপক আক্রমণ চালায় মার্কিন সেনারা, যা দেশটির জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ। সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের মতে, ভেনেজুয়েলার একজন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তার সূত্রে জানা গেছে, এই হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮০ এ পৌঁছেছে। এদের মধ্যে বেশিরভাগই সেনা সদস্য হলেও বেসামরিক নাগরিকরাও এতে হতাহত হয়েছেন। মার্কিন বিমানবাহিনী ওই সময় বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিতে ব্যাপক অগ্রসর বোমা হামলা চালায়, যেখানে তারা ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটকের জন্য এই আক্রমণ চালায়।

    ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ বলেছেন, সব কিছু পরিকল্পিতভাবে পরিচালিত হয়েছে, যেখানে ইহুদিবাদী শক্তিগুলোর পরোক্ষ ভূমিকা রয়েছে। এদিকে, মাদুরোকে আটকের সময় মার্কিন সেনারা কিউবার সশস্ত্র বাহিনী ও গোয়েন্দাদের এলোচিত করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিউবার ৩২ জন সেনা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তা এই হামলায় নিহত হন। এই হামলার সময় মার্কিন ডেল্টা ফোর্সের বিশিষ্ট সদস্যরা মাদুরো ও তার পরিবারের সদস্যদের আটকের জন্য অভিযান চালায়। দুই দিন ধরে কিউবা এই ঘটনায় শোক প্রকাশ করে রাষ্ট্রীয় শোকের ঘোষণা দেয়।

    কিউবার সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা দেশের স্বার্থে দায়িত্বশীল ও সাহসিকতার সঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে, নিহত সব কর্মকর্তা তাদের দেশপ্রেমের প্রমাণ। যদিও, কিউবার সেনা ও গোয়েন্দাদের কতজন এই অভিযানে নিহত হয়েছেন, এই ব্যাপারে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এর মধ্যে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার ফলাফল প্রকাশ্যে আসার আগে, নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, অন্তত ৪০ জন মার্কিন সেনা-নিহত হয়েছে যার মধ্যে অনেক বেসামরিক নাগরিকও রয়েছেন। এখনো পর্যন্ত ভেনেজুয়েলা আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করেনি। তবে আন্তর্জাতিক সূত্রগুলো বলছে, এই ঘটনায় নিহতের সংখ্যা তার চেয়ে বেশি হতে পারে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মহল বিভিন্ন মন্তব্য ও তদন্ত শুরু করেছে।

  • মালয়েশিয়ার প্রবীণ নেতা মাহাথির মোহাম্মদ হাসপাতালে ভর্তি

    মালয়েশিয়ার প্রবীণ নেতা মাহাথির মোহাম্মদ হাসপাতালে ভর্তি

    মালয়েশিয়ার ১০০ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ আজ ঘরের মধ্যে পড়ে গেলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এ তথ্য জানিয়েছে তার এক ঘনিষ্ঠ সহকারী বার্তাসংস্থা এএফপিকে মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি)। প্রাপ্তবয়স্ক বয়সে তিনি বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন, যা আগের বছরগুলোতে বেশ দেখা গেছে। গত জুলাইয়ে তার শততম জন্মদিনের উদযাপনের সময় হারিয়ে যান তিনি, তখনও তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।

    সহকারী সাহা রফিকুল ইসলাম এএফপিকে বলেছে, ‘ঘরের বারান্দা থেকে শোবার ঘরে যাওয়ার সময় তিনি পড়ে যান। পরে তাকে জাতীয় হার্ট ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়েছে। তার জ্ঞান রয়েছে, তবে বর্তমানে তার পরিস্থিতি কেমন, সেটা স্পষ্ট নয়। আমি এখনও জানি না, তাকে হাসপাতালে ভর্তি রাখা হবে কি না।’

    তিনি আরো যোগ করেছেন, ‘পরে জানা গেল, তিনি ওঠার সময় পড়ে যান। তবে তার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাতে পারেননি।’

    মাহাথিরের হার্টের সমস্যা আগে থেকেই ছিল, যার জন্য তার বাইপাস সার্জারি হয়। মালয়েশিয়ার সবচেয়ে সম্মানিত নেতাদের মধ্যে তিনি একজন, যিনি তার সুযোগ্য নেতৃত্বে দেশকে উন্নতির পথে নিয়ে গেছেন। দীর্ঘ দিন তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন—১৯৮১ থেকে ২০০৩ পর্যন্ত, এরপর আবার ২০১৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত।

    বিশেষভাবে উল্লেখ্য, যখন তিনি দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন তখন তার বয়স ছিল ৯৪ বছর, যা তাকে বিশ্বের সবচেয়ে প্রবীণ নির্বাচিত নেতা হিসেবে পরিচিত করে তোলে। মালয়েশিয়ায় তার জনপ্রিয়তা ও প্রভাব অব্যাহত রয়েছে।