ইরান ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে। চলমান বিক্ষোভের মধ্য দিয়ে বুধবার (৭ জানুয়ারি) ইরানের বিচার বিভাগ গণমাধ্যমের বরাতে এ বলা হয়। সংগঠনের সূত্রে জানানো হয়, দেশের সংবেদনশীল তথ্য সরবরাহের মাধ্যমে মোসাদের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তির অপরাধে এক ব্যক্তির প্রতি সর্বোচ্চ আদালতের অনুমোদন এবং আইনি প্রক্রিয়ায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দীর্ঘ দিন ধরে চলে আসা ইরান-ইসরাইল দ্বন্দ্বে এক নতুন অধ্যায় যোগ হলো। সম্প্রতি এ ধরনের বেশ কয়েকজন নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে, বিশেষ করে চলতি বছরের মধ্যে সংখ্যাটা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জুন মাসে যখন ইসরাইলি ও মার্কিন বাহিনী ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়, তখন দ্বিপাক্ষিক উত্তেজনাও দ্বিগুণ বেড়ে যায়। এর ফলে এই ধরনের ফাঁসির ঘটনাও চোখে পড়ে। অন্যদিকে, অর্থনৈতিক সংকট এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ে জনগণের প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়েছে ২৭টি প্রদেশে এবং ৯২টি শহরে। গত দশ দিনে চলে আসা এই বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত ৩৬ জন নিহত হয়েছে এবং দুই হাজারের বেশি মানুষ গ্রেফতার করা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ইরান নতুন এক প্রতিরক্ষা কাউন্সিল গঠন করে সতর্ক করেছে, দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের হুমকি দেখা দিলে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। ইরানের অর্থনীতি দুর্বল হয়ে পড়েছে, মুদ্রার মান ইতিহাসের最低 স্তরে পৌঁছেছে। বহুদূর পৌঁছেছে দেশের অস্থিরতা। টানা দশ দিনের বিক্ষোভ এখনো চলছে, তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারে দোকানদাররা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। নিরাপত্তা বাহিনী কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান দিয়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে চেষ্টা করছে। বিক্ষোভের কেন্দ্রস্থল তেহরান থেকে এখন দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। এই আন্দোলনে এখন পর্যন্ত ৩৬ জনের মৃত্যুর খবর জানানো হচ্ছে, যার মধ্যে দেড়জন নিরাপত্তা বাহিনী সদস্য। দুই হাজারের বেশি ব্যক্তি গ্রেফতার হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে, সেনাবাহিনী ও প্রতিরক্ষা কাউন্সিল জানিয়েছে, দেশের নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও ভূখণ্ডের অখণ্ডতা লালন করতে পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং হুমকি হলে তার মোকাবিলা কঠোরভাবে করা হবে। সরকারি কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে অবহেলা করছে বলে অভিযোগ তুলেছেন, যারা দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ ও সহিংসতা উস্কে দিচ্ছে বলে তারা দাবি করছেন। পাশাপাশি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, যদি ইরান আবারো বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়ন চালায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র সুত্রপাতের জন্য কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখানো হবে। এই পরিস্থিতিতে, ইরানের মুদ্রা রিয়াল ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিক বাজারে ডলারের বিপরীতে রিয়াল প্রায় ১৫ লাখ রিয়াল, ইউরো প্রায় ১৭ লাখ রিয়াল এবং পাউন্ড প্রায় দুই কোটি রিয়াল দরে বিক্রি হয়েছে। পাশাপাশি, সরকারি ভর্তুকি পরিস্থির পরিবর্তনে খাদ্য পণ্যের দামও দ্রুত বেড়ে গেছে, যেমন রান্নার তেল, চিজ ও মুরগির দাম দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছে। সাধারণ মানুষ এখন চিকিৎসাজনিত ও জীবনমানের খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। সার্বিকভাবে, দেশজুড়ে অস্থিরতা বাড়ছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকারের নানা পাল্টা পদক্ষেপের জন্য অপেক্ষা করছে জনগণ।
Leave a Reply