সংযুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা বন্ড তালিকায় এবার বাংলাদেশের নাম যুক্ত হয়েছে, যা বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা গ্রহণের ক্ষেত্রে নতুন ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। এর ফলে, বাংলাদেশি প্রার্থীরা যারা যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা পেতে চান, তাদের অতিরিক্তভাবে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড বা জামানত জমা দিতে হতে পারে।
১৩ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এই তালিকা হালনাগাদ করেছে, যেখানে মোট ৩৮ টি দেশের নাম উল্লিখিত রয়েছে। বাংলাদেশ তাদের মধ্যে অন্যতম। এই নীতি যত দ্রুত কার্যকর হবে, তা আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।
নিয়ম অনুযায়ী, এই ৩৮ দেশের নাগরিক যারা ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের কাছ থেকে ভিসা পেতে হলে ৫ হাজার থেকে শুরু করে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত জামানত জমা দিতে হবে। এই পরিমাণ নির্ধারণ করবেন ভিসা অফিসের কনস্যুলার কর্মকর্তারা, আবেদনকারীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতি এবং ইন্টারভিউ ভিত্তি করে।
ভিসা বন্ডের অর্থের ব্যবহার মার্কিন সরকারের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘Pay.gov’ এর মাধ্যমে হয়। তবে, কেউ অগোচরে বা অনির্ধারিতভাবে অর্থ জমা দিতে পারবেন না, কারণ কনস্যুলার অফিসার পূর্বেই এই নির্দেশনা দিয়ে থাকেন।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এই ‘ভিসা বন্ড পাইলট’ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো, যারা ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অবৈধভাবে থাকেন বা ওভারস্টে করেন, তাদের নিরুৎসাহিত করা। এই তালিকায় থাকা দেশগুলোর নাগরিকেরা সাধারণত বেশি হারে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসেন না, সেই পরিস্থিতিকে সামাল দিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জামানতের টাকা একদমই কেটেই রাখা হয় না, বরং এটি একটি ফেরতযোগ্য জামানত। যদি ভ্রমণকারী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বা তার আগে যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে যান, বা ভিসা বাতিল হয়ে যায়, বা তাদের অনুত্তীর্ণ সময়ের জন্য অপরাধপ্রবণ বা স্ট্যাটাস পরিবর্তনের জন্য অনুমতি নিয়ে থাকেন, তবেই এই অর্থ ফেরত পাবেন।
তবে, যদি কেউ নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থান করেন বা এই দেশীয় নীতির ব্যতিক্রম করেন, তবে জামানতের অর্থ বাজেয়াপ্ত হয়ে যাবে।
অন্তত তিনটি বিমানবন্দর নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে— বোস্টন লোগান, জ্যুই এফ কেনেডি ও ওয়াশিংটন ডুলস— যেখান থেকে বাংলাদেশি মারফত বা এই জামানত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবেন। অন্য কোথাও প্রবেশ বা বহির্ঘটন যদি ঘটে, তাহলে বন্ডের শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ ওঠে।
এছাড়াও, তালিকায় থাকা অন্য দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, ভুটান, কিউবা, জিবুতি, ফিজি, নাইজেরিয়া, এবং নেপাল। এই নতুন নিয়মগুলো কার্যকর হবে নির্দিষ্ট তারিখ থেকে, দেশের ভিত্তিতে আলাদা।
প্রাতিষ্ঠানিক দৃষ্টিতে, ভিসা বন্ড হলো এক ধরনের আর্থিক নিশ্চয়তা, যা কিছু দেশ মুক্তিযুদ্ধের জন্য নির্দিষ্ট বিদেশি নাগরিকদের জন্য আবশ্যক করে দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে, এই ব্যবস্থা ভিসার মেয়াদ শেষ না হওয়া অবৈধ অবস্থান প্রতিরোধে এবং ভিসা নিয়ম মোতাবেক চলার জন্য উদ্দশ্যপ্রসূত।
অতীতে বিভিন্ন দেশ এই ধরনের ব্যবস্থা চালু করলেও, অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা কার্যকর হয়নি বা বাতিল হয়ে গেছে। যেমন, নিউজিল্যান্ড একসময় এই পদ্ধতি চালু করেছিল, তবে তা পরে বিকল্প হয়নি। ২০১৩ সালে যুক্তরাজ্য কিছু দেশের জন্য এই ব্যবস্থা চালু করলেও পরে তা স্থগিত করে। এখন যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন উদ্যোগ বাংলাদেশের জন্যও বেশ কঠিন পরিস্থিতি তৈরি করেছে, যা ভিসা প্রক্রিয়াকে আরও জটিল ও ব্যয়বহুল করে তুলবে।
Leave a Reply