Category: আন্তর্জাতিক

  • ইরানের রাজধানীতে গুলিতে ২০০ থেকে বেশি বিক্ষোভকারী নিহত

    ইরানের রাজধানীতে গুলিতে ২০০ থেকে বেশি বিক্ষোভকারী নিহত

    ইরানে চলমান বিক্ষোভের ঘটনায় মাত্র এক রাতে তেহরানে ২০০ জনের বেশি বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে, এই তথ্য জোরেশোরে প্রকাশ করে মার্কিন সাময়িকী টাইম ম্যাগাজিন। গত বৃহস্পতিবার রাতে আন্দোলন আরও তীব্র হয়, এ সময় বিক্ষোভকারীরা সহিংস হয়ে উঠলে নিরাপত্তা বাহিনী ব্যাপক গুলি চালাতে শুরু করে।

    টাইম ম্যাগাজিন শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) জানিয়েছে, নাম গোপন রাখার শর্তে তেহরানের এক চিকিৎসক তাদের বলেছেন, শুধুমাত্র তেহরানের ছয়টি হাসপাতালে এই রাতে ২০৬ জনের মৃত্যুর তথ্য রেকর্ড করা হয়েছে। বেশিরভাগেরই গুলিতে প্রাণ গেছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

    সাম্প্রতিক এই তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদমাধ্যমটি বলছে, যদি মৃত্যুর সংখ্যাগুলো নিশ্চিত হয়, তাহলে বোঝা যায় ইরান সরকার বিক্ষোভ দমন করতে কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সতর্কতা উপেক্ষা করা হয়নি, যিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, যদি ইরান বিক্ষোভকারীদের হত্যা করে তাহলে খামেনি সরকারের জন্য কঠোর মূল্য দিতে হবে।

    ২০১৮ সালের ২৮ ডিসেম্বর শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখনো ৩১টি শহরে ছড়িয়ে পড়েছে। বুধবারের রাতে ওই তীব্র আন্দোলনের পর বৃহস্পতিবার রাতে হাজার হাজার মানুষ তেহরানসহ অন্যান্য শহরে জড়ো হয়েছেন।

    একটি সাক্ষাৎকারে ওই চিকিৎসক জানিয়েছেন, শুক্রবার সকালে হাসপাতাল থেকে মরদেহগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলছেন, উত্তর তেহরানের একটি পুলিশ স্টেশনের বাইরে বিক্ষোভকারীদের ওপর ব্রাশফায়ার চালানো হয়, যেখানে অন্তত ৩০ জন গুলিবিদ্ধ হন। উল্লেখ্য, নিহতদের বেশিরভাগই তরুণ বলে জানা গেছে।

    তবে, এই হতাহতের সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে না পারলেও, টাইম ম্যাগাজিন সতর্ক করে বলেছে, এ সংখ্যা নিশ্চিত হলে বোঝা যাবে ইরান সরকার কঠোর এবং দমনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

  • ইরানে ব্যাপক বিক্ষোভ, দেশের সব এলাকায় ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন

    ইরানে ব্যাপক বিক্ষোভ, দেশের সব এলাকায় ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন

    জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ার প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভটি এখন সহিংস রূপ নিয়ে তুলেছে পুরো ইরানজুড়ে। এরই মধ্যে পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার বিভিন্ন ডিজিটাল সেন্সরশিপ ব্যবস্থা চালু করেছে এবং সব ধরনের ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দিয়েছে। এই তথ্য দিয়েছে অনলাইন পর্যবেক্ষক গ্রুপ নেটব্লকস, যাদের মতে বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) থেকে দেশজুড়ে ইন্টারনেট সম্পূর্ণ ব্ল্যাকআউট চলছে। বিচ্ছিন্নকরণের আগে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের দমন করতে নানা ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে সেন্সরশিপ আর নজরদারি। তাদের ভাষায়, এই সময়ে সাধারণ মানুষের যোগাযোগের অধিকার ক্ষুণ্ণ করা হচ্ছে, যা একটি সংকটের মতো।

  • জার্মান প্রেসিডেন্টের কড়া সমালোচনা: যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী বৈদেশিক নীতি বর্বরতা

    জার্মান প্রেসিডেন্টের কড়া সমালোচনা: যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী বৈদেশিক নীতি বর্বরতা

    জার্মানির প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্ক ভাল্টার স্টাইনমায়ার যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক নীতির প্রতি কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন আর বিশ্ব ব্যবস্থার রক্ষক নয়, বরং তা ধ্বংসকারী শক্তিতে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করতে অভিযানের ঘটনা এবং গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, এ ধরণের actions বা অপরাধগুলো বিশ্বকে একটি অস্থির পরিস্থিতিতে ঠেলে দিচ্ছে। স্টাইনমায়ার বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেছেন, এ ধরনের চরম দখলবাদী শক্তির হাতে পৃথিবী রাখা যাবে না। তিনি বলেন, নীতিহীন বৃহৎ শক্তিগুলো যা ইচ্ছে তাই করতে পারে, আর পুরো বিশ্বকে তারা নিজের ব্যক্তিগত সম্পত্তি মনে করে—এ ধরনের অবস্থা মানা হবে না। সাবেক এই জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কিন আচরণকে ইতিহাসের দ্বিতীয় ‘মর্মান্তিক ভাঙনের’ মতো উল্লেখ করে বলেন, রাশিয়ার ক্রিমিয়া দখল ও ইউক্রেনে সামরিক আগ্রাসন এই দুটি ঘটনা প্রথম ঐতিহাসিক ধাক্কা হিসেবে দেখা যায়। তিনি বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গড়া বিশ্ব ব্যবস্থা যেখানে অনেকটাই স্থিতিশীল ছিল, সেখানে এখন মূল্যবোধের অবক্ষয় ও আগ্রাসনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় বড় বিপর্যয় ডেকে আনছে। এর ফলে বিশ্বে গণতন্ত্র প্রকৃতপক্ষে বেশ বিপদে পড়েছে। প্রেসিডেন্টের এই কড়া অবস্থান মূলত গত কয়েক দিনের অস্থির বিশ্ব পরিস্থিতিরই প্রতিফলন। ইউরোপীয় নেতারা মনে করেন, মার্কিন অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে অপহরণের ঘটনা আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন। এরই ধারাবাহিকতায়, ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ডের দখলের হুমকি ন্যাটো জোটে গভীর বিভাজন সৃষ্টি করেছে। জার্মান প্রেসিডেন্ট মনে করেন, বর্তমান সঙ্কট কাটাতে কেবল ইউরোপ যথেষ্ট নয়; বিশ্বের অন্যান্য বড় শক্তিগুলোকেও, যেমন ব্রাজিল ও ভারতের মতো দেশগুলোকে, সক্রিয়ভাবে বৈশ্বিক আইনের জন্য কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, “স্থিতিশীলতার স্বার্থে এসব দেশকে বৈশ্বিক আইনের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।” উল্লেখ্য, যদিও জার্মানে প্রেসিডেন্টের পদটি মূলত সৌন্দর্য্যগত, তবু স্টাইনমায়ারের এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক গুরুত্ব পাচ্ছে। বার্লিন এখন ওয়াশিংটনের নীতিমালা থেকে নিজেদের দূরত্ব বজায় রাখার পাল্টা বার্তা দিচ্ছে। সূত্র: রয়টার্স।

  • মাদুরো অপহরণে ট্রাম্পের শক্তির প্রদর্শনী, তাইওয়ান ইস্যুতে বেইজিংয়ের সতর্কতা

    মাদুরো অপহরণে ট্রাম্পের শক্তির প্রদর্শনী, তাইওয়ান ইস্যুতে বেইজিংয়ের সতর্কতা

    ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন বিশেষ বাহিনীর অভিযানে কয়েক ঘণ্টা আগে অপহরণের ঘটনাটি ঘটে, এর আগে তিনি দেশটিতে নিযুক্ত চীনের বিশেষ দূতের সঙ্গে বৈঠক করেন। এই বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত সম্পর্ক পুনঃবিন্যস্ত করা হয়। তবে এই ঘটনার পর থেকে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে চীনের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক এবং দেশটিতে চীনের বিপুল বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা ধরনের অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মাদুরোকে আটক করার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র কেবল লাতিন আমেরিকায় নয়, গোটা বিশ্বজুড়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়ে থাকেন। বিশেষ করে তাইওয়ান ইস্যুতে চীনকে নিজের প্রভাব বিস্তার করানোর সুযোগ করে দিয়েছে বলে মনে করছেন অনেক বিশেষজ্ঞ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরুজ্জীবিত করেছেন উনবিংশ শতাব্দীর মনরো দর্শন, যা পশ্চিম গোলার্ধে একচ্ছত্র মার্কিন প্রভাব প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে। তার সাম্প্রতিক জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলে ইউরোপের পরিবর্তে চীনের প্রভাব মোকাবেলাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই নীতির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র এমন এক পশ্চিম গোলার্ধ চায়, যেখানে ‘বহিরাগত শক্তির নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব থেকে মুক্ত’ হওয়া সম্ভব— যা স্পষ্টতই চীনের বিরুদ্ধে ইঙ্গিত দেয়। মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, ভেনেজুয়েলাকে তেল উৎপাদনের অনুমতি দেওয়ার পূর্বে যুক্তরাষ্ট্র চীন, রাশিয়া, ইরান ও কিউবার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার শর্ত আরোপ করছে। হোয়াইট হাউস এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কিছু নিশ্চিত করেনি। চীন মাদুরো অপহরণের ঘটনাকে ‘আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলে নিন্দা জানিয়েছে এবং ওয়াশিংটনকে ভেনেজুয়েলায় সরকার উৎখাতের অপপ্রয়াস বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ঘটনাটি লাতিন আমেরিকায় চীনের বিনিয়োগ ও অংশীদারিত্বের সীমারেখা স্পষ্ট করে দিয়েছে। জুরিখ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক সিমোনা গ্রানো মন্তব্য করেন, এই ঘটনা চীনের জন্য দ্বৈত বার্তা পাঠাচ্ছে। একদিকে লাতিন আমেরিকায় চীনের উপস্থিতির দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে উঠছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘প্রভাব বলয়’ যুক্তি পূর্ব এশিয়ার, বিশেষ করে তাইওয়ানের প্রেক্ষাপটে চীনের অবস্থানকে আরও জোরদার করতে পারে। চীন তাইওয়ানকে নিজস্ব ভূখণ্ডের অংশ দাবি করে থাকে এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের কথাও বলে। যদিও আগামী দিনে সামরিক হামলার সম্ভাবনা কম বলে মনে করা হচ্ছে, তবে ভেনেজুয়েলায় মার্কিন অভিযান ভবিষ্যতে এমন পদক্ষেপের জন্য এক ধরনের যুক্তি হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। এই ঘটনাটি চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচিত হয়েছে। অনেকে তাইওয়ানের সঙ্গে ভেনেজুয়েলার তুলনা টেনে বলেছেন, শক্তিশালী রাষ্ট্র ছাড়া আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে টিকে থাকা কঠিন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভেনেজুয়েলায় মাদুরোর অপসারণ চীনের পররাষ্ট্রনীতিতে বড় পরিবর্তন এনে দিতে পারে না, তবে স্পষ্ট হতে পারে যে লাতিন আমেরিকায় চীনা বিনিয়োগ এখন আগের চেয়ে বেশি রাজনৈতিক ঝুঁকির মুখে। তবুও নিষ্ক্রিয় না থেকে ঝুঁকি কমানোর জন্য বেইজিং এক ধরনের সতর্কতা ও কৌশলের দিকে নজর দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। সূত্র: আল-জাজিরা।

  • পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের নির্বাচনী सलाहকারী প্রতিষ্ঠানে ইডির অভিযান, মমতার উপস্থিতি

    পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের নির্বাচনী सलाहকারী প্রতিষ্ঠানে ইডির অভিযান, মমতার উপস্থিতি

    ফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) জানিয়েছে যে, তারা চলমান অর্থপাচার ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের (আইপ্যাক) তদন্তে বাধার মুখোমুখি হয়েছে। বৃহস্পতিবার ইডি আরও জানায়, তারা আইপ্যাকের ১০টি অফিসে র‍্যাড চালাচ্ছিল—কলকাতার ৬টি এবং দিল্লির ৪টি। এই সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী প্রাতীক জৈনের বাসভবনে যান এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণপত্র ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস সংগ্রহ করেন।

    ইডির দাবি, র‍্যাডের সময় মুখ্যমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ কলকাতা ডেপুটি কমিশনার ও সারানি থানার এক কর্মকর্তার সাথে। পরে কলকাতা পুলিশের কমিশনারও বেশ কিছু কর্মকর্তার সাথে আসেন। তদন্তের পরিচালনা শান্তিপূর্ণ ও পেশাদারিত্বপূর্ণভাবে চলছিল।

    তবে, মমতার উপস্থিতির পর পরিস্থিতি শারীরিকভাবে বদলে যায়। ইডির ভাষ্য, তিনি ও তার সহযোগীরা আইপ্যাকের অফিস ও প্রাতীক জৈনের বাসভবন থেকে গুরুত্বপূর্ণ নথি ও ইলেকট্রনিক প্রমাণ জোরপূর্বক সংগ্রহ করেন, যা তদন্তে বাধা সৃষ্টি করেছে। এই অভিযান সম্পূর্ণভাবে প্রমাণভিত্তিক, কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই। কোনো রাজনৈতিক দলের অফিস তল্লাশি করা হয়নি এবং এটি নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে সংযুক্ত নয়।

    অন্যদিকে, মমতা ব্যানার্জী এই অভিযানে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি বলেন, ‘তারা আমাদের সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করতে চাইছে। আমি প্রাতীককে ফোন করে জানিয়েছি, যিনি আমার দলের দায়িত্বে আছেন। আমি দলীয় ফাইল ও তথ্য সংগ্রহ করেছি। ইডি আমাদের অভ্যন্তরীণ তথ্য এবং প্রার্থী তালিকা চাইছে। এটি কি ইডি ও অমিত শাহের পরিকল্পনা?’

  • যুক্তরাষ্ট্র সরে যাচ্ছে ৬৬টি আন্তর্জাতিক সংস্থা ও জাতিসংঘের অঙ্গ থেকে

    যুক্তরাষ্ট্র সরে যাচ্ছে ৬৬টি আন্তর্জাতিক সংস্থা ও জাতিসংঘের অঙ্গ থেকে

    যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা দিয়েছে দেশটি এখন থেকে মোট ৬৬টি আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে সরে যাচ্ছে। এর মধ্যে আরও উল্লেখযোগ্য হলো কিছু জাতিসংঘের অঙ্গসংস্থাও। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের মতে, এই সংস্থাগুলো অকার্যকর এবং এদের উপস্থিতি দায়িত্বশীলতা ও অর্থনৈতিক সাশ্রয় অপচয় করে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে বুধবার এসব তথ্য জানানো হয়। সেখানে বলা হয়, নির্বাহী আদেশের আওতায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যার মাধ্যমে অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সাথেও পর্যালোচনা চালানো হবে। হোয়াইট হাউসের ওয়েবসাইটে এ সংক্রান্ত ৬৬টির তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে রয়েছে জলবায়ু পরিবর্তন, শিক্ষা, বৈশ্বিক সন্ত্রাস দমন, অভিবাসন উন্নয়ন এবং গণতন্ত্র ও নির্বাচনী সহযোগিতার মতো সংস্থাগুলোর নাম। এ তালিকার মধ্যে জাতিসংঘের নামের সঙ্গে যুক্ত ১৭টি অঙ্গসংস্থা অন্তর্ভুক্ত। এর মধ্যে রয়েছে ইউএন ইকোনমিক ও সোশ্যাল কাউন্সিল, ইউএন অ্যালায়েন্স অব সিভিলাইজেশনস, ইউএন কলাবোরেটিভ প্রোগ্রাম অন রিডিউসিং এমিশনস, ইউএন কনফারেন্স অন ট্রেড এ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, ইউএন ডেমোক্রেসি ফান্ড, ইউএন এনার্জি, ইউএন হিউম্যান সেটেলমেন্টস প্রোগ্রাম, ইউএন অশেনস, ইউএন পপুলেশন ফান্ড ও ইউএন ওয়াটার। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, এই সংস্থাগুলো পরিচালনায় নানা সমস্যা দেখা দিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই এগুলো প্রভাবিত হয় দেশের স্বার্থের বিরোধী পক্ষের এজেন্ডায়, যা দেশের সার্বভৌমত্ব ও সার্বিক অগ্রগতি জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যও উল্লিখিত হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে, এই সংস্থাগুলোর পেছনে ব্যয় ও সময় অপচয় করছে যুক্তরাষ্ট্র, আর এই বিনিয়োগে কিছুই লাভ হচ্ছে না।

  • যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার রণতরিকে উপেক্ষা করে জব্দ করল তেলের জাহাজ

    যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার রণতরিকে উপেক্ষা করে জব্দ করল তেলের জাহাজ

    আন্তর্জাতিক জলসীমায় আটলান্টিক মহাসাগরে রাশিয়ার পতাকাবাহী একটি তেলবাহী জাহাজকে জব্দ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এই জাহাজের নাম ছিল ‘বেলা-১’, যাকে অনেকে ‘মেরিনেরা’ নামে পরিচিত। উল্লেখ্য, এই জাহাজটি রক্ষায় রাশিয়া গভীর নৌবহর পাঠিয়েছিল, যার মধ্যে সাবমেরিনসহ বিভিন্ন বৈচিত্র্যপূর্ণ যুদ্ধজাহাজ ছিল। মার্কিন কমান্ডোরা সাহসিকতার সঙ্গে এই অভিযান পরিচালনা করে। বুধবার মার্কিন ইউরোপীয় কমান্ডের এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট থেকে এই তথ্য জানানো হয়, যা এজেন্সিগুলোর খবরে তুলে ধরা হয়েছে।

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এই জাহাজটি অসংখ্য নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করায় স্কটল্যান্ডের উত্তরে আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে জব্দ করা হয়েছে। সতর্কতাসর্বস্ব অভিযান শুরুর আগে এই জাহাজটিকে ক্যারিবীয় সাগর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে অনুসরণ করা হয়। এই সফল অভিযান পরিচালনার জন্য মার্কিন কোস্ট গার্ড ও সামরিক বাহিনী সরাসরি অংশ নিয়েছে বলে জানায় তদন্তকারীরা। গত কয়েক দিন ধরে আশপাশের এলাকা ঘিরে মার্কিন সামরিক প্রস্তুতি বৃদ্ধি করেছিল।

    আটলান্টিকের এই ক্ষেত্রে রুশ জাহাজ জব্দের ঠিক পরপরই, মার্কিন সাউদার্ন কমান্ড ক্যারিবীয় সাগর থেকে আরও একটি তেলবাহী জাহাজ ‘এম/টি সোফিয়া’ আটক করার ঘোষণা দেয়। এই জাহাজকে যুক্তরাষ্ট্র ‘রাষ্ট্রহীন’ এবং ‘ডার্ক ফ্লিট’-এর অংশ হিসেবে উল্লেখ করে ক্ষমতার অপব্যবহার ও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তেল পাচার চালানোর জন্য অভিযুক্ত করেছে। মাত্র এক ঘণ্টা পার হতেই দু’টি গুরুত্বপূর্ণ জলপথে মার্কিন সেনাদের এই বিজয় ও শক্তির প্রকাশ হয়েছে।

    রুশ পতাকাবাহী জাহাজের জব্দের ঘটনাকে ভেনেজুয়েলা সরকার ‘আন্তর্জাতিক লুটতরাজ’ হিসেবে অভিহিত করেছে। অন্যদিকে, রাশিয়া, তাদের নৌবহর সক্রিয় থাকা সত্ত্বেও এই জাহাজ রক্ষা করতে অক্ষম হওয়ায় এই অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা আরও বেড়ে গেছে। মার্কিন ফেডারেল আদালতের পরোয়ানার ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালিত হয়, যেখানে বিচার বিভাগ, স্বরাষ্ট্র বিভাগ ও ডিপার্টমেন্ট অব ওয়ারের সমন্বয় ছিল। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই ‘শিপিং ব্লকড’ নীতি মস্কো ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে।

    এ ঘটনাটি ঘটে এমন সময়, যখন কিছু দিন আগে শনিবার ভোরে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে এক ঝটিকা অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে মার্কিন স্পেশাল ফোর্সেস। তাকে ইতিমধ্যে মাদক পাচারের অভিযোগে ফেডারেল আদালতের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। এই সব ঘটনায় স্পষ্ট হয়ে উঠছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তি এখনো বিশ্বজুড়ে তার প্রভাব বজায় রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

  • মধ্যবর্তী নির্বাচনে হেরে গেলে অভিশংসনের আশঙ্কা, উদ্বিগ্ন ট্রাম্প

    মধ্যবর্তী নির্বাচনে হেরে গেলে অভিশংসনের আশঙ্কা, উদ্বিগ্ন ট্রাম্প

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ষোড়শ শতাব্দীর পর থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী মূহুর্তের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন, যেখানে তার ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলের উপর। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, এই নির্বাচনে রিপাবলিকানদের অবশ্যই সফলতা অর্জন করতে হবে। না হয়, ডেমোক্র্যাটরা তার বিরুদ্ধে অভিশংসনের পথে হাঁটতে পারেন। মঙ্গলবার ওয়াশিংটনের রাজধানীতে রিপাবলিকান সদস্যদের একটি সম্মেলনে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন।

    প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে আপনাদের কঠোর মনোযোগ দিয়ে জিততে হবে। যদি ব্যর্থ হন, তবে ওরা (ডেমোক্র্যাটরা) আমাকে অভিশংসিত করার জন্য কারণ খুঁজে নেবে।” এর ফলে তার জন্য বিভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। রয়টার্স ও আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, মধ্যবর্তী নির্বাচনে হেরে গেলে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক কার্যক্রমে বড় ধরনের বাধা আসতে পারে, এমনকি কংগ্রেসে তদন্তের মুখোমুখিও হতে পারেন তিনি। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প তার দলের সদস্যদের সঙ্গে আগেভাগেই যোগাযোগ রাখছেন যাতে ভবিষ্যতের পরিকল্পনা ঠিক মতো বাস্তবায়ন হয়। ভবিষ্যৎ উন্নতির জন্য, তিনি চান ভোটারের মধ্যে থাকা জীবনযাত্রার খরচের চাপ কমানোর দিকে মনোযোগ কেন্দ্রীভূত হোক।

    তবে, ট্রাম্পের আশাবাদী মনোভাব আকাশচুম্বী—তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, তিনি মধ্যবর্তী নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য জয় নিয়ে আসবেন এবং ইতিহাসের নতুন রেকর্ড গড়বেন। বলছেন, “আমরা মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয় নিশ্চিতে এগিয়ে যাচ্ছি।” তবে এই দৌড়ে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো, হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের ৪৩৫ আসন ও সিনেটের ৩৩টি আসন মোটেই কম নয়, যা জিততে হলে দরকার ঠিকঠাক পরিকল্পনা ও প্রচেষ্টা।

    এদিকে, সমাজের জীবনযাত্রার খরচ নিয়ে আলোচনা ইতিমধ্যেই বেশ মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সঙ্গে ট্রাম্পের ছবি তুলে এড়িয়ে যেতে চান ভোটারদের। দেশটির অভ্যন্তরীণ সমস্যা, যেমন মূল্যস্ফীতি, ও অন্যান্য অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জে ট্রাম্পের দৃষ্টি এখন কেন্দ্রীভূত। তবে, ট্রাম্প দাবি করেন, এসব সমস্যা ডেমোক্র্যাটগুলোর সৃষ্টি এবং এখন তাদের জন্যই তার বিরুদ্ধে চাপ বাড়ছে।

    ৮৪ মিনিটেরও বেশি সময় ধরে আলোচনায় অংশ নেন ট্রাম্প, যেখানে তিনি অনেক অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ও উত্থাপন করেন। যেমন, তিনি বলেন, “স্ত্রীর উপদেশে জনসম্মুখে নাচা বন্ধ করেছি।” এছাড়াও, নানা ধরনের মিথ্যা তথ্য ও অভিযোগ আনেন তিনি। একদিকে তিনি দাবি করেন, গত সাত মাসে ওয়াশিংটনে কোনও হত্যাকাণ্ড হয়নি, যদিও প্রতিদিনের হতাহতের খবর আসছে। আবার, দাবি করেন, তিনি গলফ খেলেন না, কিন্তু সম্প্রতি তিনি গলফ মাঠে দেখা গেছে।

    তিনি আরও বলেন, মিডটার্ম নির্বাচনে রিপাবলিকানরা জিতবে, কিন্তু কিছু দলের সদস্য ঠিকভাবে কাজ করছেন না বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেন। ইতিহাসও বলছে, ২০০৬ সাল থেকে প্রতিটি মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টরা তাদের আসন হারিয়েছে। ফলে, ট্রাম্প এখন থেকেই স্বাস্থ্য খাতে মনোযোগ দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাহলে যেন তার দল আরও শক্তিশালী হয়।

    প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথমবার যখন ক্ষমতায় ছিলেন, তখন তিনি দুইবারই অভিশংসনের মুখোমুখি হন। এখনো অনেক ডেমোক্র্যাট তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অন্যায়ের অভিযোগ আনেন, তবে হোয়াইট হাউজের দাবি, সব অভিযোগই ভিত্তিহীন। বর্তমানে, তার দলের কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে, তবে খুবই অল্প ভোটের ব্যবধান; তাই তাঁর ক্ষমতা আরও বাড়ানোর জন্য নানা আইনি ও প্রশাসনিক উদ্যোগ নিচ্ছেন তিনি। কিছু রিপাবলিকান এখনও ট্রাম্পের প্রতি বিশ্বাস ও আনুগত্য দেখাচ্ছেন, তবে কিছুটা ক্ষোভও দেখা যাচ্ছে। চলতি মাসে কলোরাডো ও ফ্লোরিডার বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্প বাতিলের সিদ্ধান্তে ভেটো দেন ট্রাম্প, আর সম্ভবত এই সিদ্ধান্তে তার বিরুদ্ধে একটি ভেটো বাতিলের ভোট হতে পারে, যেখানে অনেক রিপাবলিকান তার পক্ষে ভোট দেবেন বলে মনে করা হচ্ছে।

  • ট্রাম্পের অনুমোদন: ভারতসহ ৩ দেশের ওপর ৫০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব অনুমোদন

    ট্রাম্পের অনুমোদন: ভারতসহ ৩ দেশের ওপর ৫০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব অনুমোদন

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারত, চীন এবং ব্রাজিলের ওপর ৫০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব সংবলিত একটি বিলের ওপর সম্মতি দিয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার মার্কিন পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেটে সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    বর্তমানে, ভারত ও ব্রাজিলের ওপর ৫০ শতাংশ এবং চীনের ওপর ৩০ শতাংশ রপ্তানি শুল্ক কার্যকর রয়েছে। কিন্তু যদি ‘গ্রাহাম-ব্লুমেন্টাল নিষেধাজ্ঞা বিল’ নামে এই আইন পাস হয়, তাহলে মার্কিন প্রেসিডেন্টের হাতে এই তিন দেশের উপর ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা থাকবে। এর লক্ষ্য হলো, যারা জেনেশুনে রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানি তেল বা ইউরেনিয়াম কিনে রাশিয়ার যুদ্ধযন্ত্রে সহায়তা করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া। এই বিলের আরেক উদ্দেশ্য হলো রাশিয়াকে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল করে দেওয়া।

    সিনেটর গ্রাহাম ও ডেমোক্রেটিক পার্টির সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল যৌথভাবে এই বিলটি প্রণয়ন করেন। বলা হয়, যারা রাশিয়া থেকে নিয়মিত এবং বড় পরিমাণে তেল, গ্যাস, ইউরেনিয়াম বা অন্যান্য পণ্য কিনছে, তাদের ওপর দ্বিতীয়স্তরের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে, সঙ্গে সাথে তাদের পণ্যের ওপর কমপক্ষে ৫০০ শতাংশ শুল্ক ধার্য করা হবে।

    বৃহস্পতিবার গ্রাহাম বলেন, তিনি তার সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, গতকাল বুধবার তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে হোয়াইট হাউসে আলোচনা করেছিলেন। ট্রাম্প এই বিলের পক্ষে সমর্থন দিয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন। গ্রাহাম মনে করেন, এই বিলটি সঠিক সময়ে পাস হতে যাচ্ছে। কারণ, ইউক্রেনের জন্য শান্তির সময় অন্যদিকে পুতিন কেবল কথা বলছেন, আর রুশ সেনা এখনও নিরীহ লোকজনকে হত্যা করছে—এই অপ্রিয় বাস্তবতা উল্লেখ করেন তিনি।

    তারা আরো জানান, আগামী সপ্তাহে মার্কিন এমপিরা এই বিলের ওপর ভোটাভুটি শুরু করবেন। মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী, প্রথমে বিলটি হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে গিয়ে পাস হলে সেটি সিনেটে যাবার পালা। সিনেট থেকে স্বাক্ষর পেলে শেষে প্রেসিডেন্টের কাছে পাঠানো হবে, যেখানে তিনি স্বাক্ষর করলে এই আইনের কার্যকরীতা শুরু হবে।

  • ভারতে মেডিকেল কলেজের লাইসেন্স বাতিলেরциялар পড়তি মুসলিম শিক্ষার্থীদের বেশি ভর্তির নেই অভিযোগ

    ভারতে মেডিকেল কলেজের লাইসেন্স বাতিলেরциялар পড়তি মুসলিম শিক্ষার্থীদের বেশি ভর্তির নেই অভিযোগ

    ভারত-শাসিত কাশ্মীরের রিয়াসি জেলায় অবস্থিত মাতা বৈষ্ণদেবী ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল এক্সেলেন্সে (এসএমভিডিআইএমই) এমবিবিএস কোর্সে বেশিরভাগ মুসলিম শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ার খবর পেয়ে উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা বিক্ষোভ শুরু করে। এই পরিস্থিতিতে, বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মধ্যে জাতীয় মেডিক্যাল কমিশন (এনএমসি) কলেজটির লাইসেন্স বা অনুমোদন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়। দুই মাস ধরে চলা তীব্র বিরোধিতা ও আন্দোলনের পর এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আসে তারা। হিন্দুস্তান টাইমস, এনডিটিভিসহ বেশ কিছু ভারতীয় গণমাধ্যম বুধবার এই খবর প্রকাশ করেছে।

    খবরে জানানো হয়, রিয়াসির কাটরা শহরে অবস্থিত এই মেডিকেল কলেজে এমবিবিএসের প্রথম ব্যাচে ভর্তি হওয়া ৫০ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪২ জনই মুসলিম, আর আটজন হিন্দু। কলেজের কর্তৃপক্ষের দাবি, ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী। তবে, আসন বণ্টনে ‘অন্যায্যতা’ এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম শিক্ষার্থী ভর্তির কারণে উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা বিক্ষোভের আয়োজন করে। তারা আরও দাবি জানায় যে, হিন্দু শিক্ষার্থীদের জন্য আরও বেশি আসন সংরক্ষণ করা হোক।

    গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে এই কলেজে ৫০টি এমবিবিএস আসনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। নভেম্বরে ‘রাষ্ট্রীয় বজরং দল’ (আরবিডি) নামের এক উগ্রপন্থী সংগঠন ভর্তির প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলে এবং হিন্দু শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সংরক্ষণ দেওয়ার দাবি জানায়।

    কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভর্তির সবটুকু ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট (নিট) অনুযায়ী সম্পন্ন হয়েছে। মুসলিম শিক্ষার্থীর সংখ্যার বাড়তির কারণ হিসেবে তারা উল্লেখ করে, দেশের অন্যান্য অংশের মতো এ অঞ্চলেও ভালো পরীক্ষার ফল এবং ৮৫ শতাংশ ডোমিসাইল কোটার প্রভাব রয়েছে— যেখানে মুসলিম জনসংখ্যা মোট জনসংখ্যার ৬৫ শতাংশের বেশি।

    তবে, এই ব্যাখ্যার পরও উগ্রপন্থী কয়েকটি সংগঠনের জোট ‘মাতা বৈষ্ণদেবী সংগ্রাম সমিতি’ প্রথমে কলেজের মেধাতালিকা বাতিলের জন্য দাবি জানায়। আইনগত কারণে সেটি সম্ভব না হওয়ায় পরে তারা কলেজটি পুরোপুরি বন্ধের দাবিও তোলে।