পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও জ্বালানি সংকট সৃষ্টি করা হচ্ছে: মির্জা ফখরুল

ঠাকুরগাঁওয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন, দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও চাহিদা অনুযায়ী তেল পৌঁছনো বন্ধ করে জ্বালানি সংকট তৈরি করা হচ্ছে। তিনি শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে ঠাকুরগাঁও শহরের মির্জা রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে ঢেউটিন, চেক ও বরাদ্দপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, সাম্প্রতিক বিশ্বজুড়ে ইরান, আমেরিকা ও ইসরায়েলের সম্পর্কের উত্তেজনা ও সংঘাতের প্রভাব পড়েছে, কিন্তু দেশের পেট্রোল পাম্পগুলোর সামনে দীর্ঘ লাইনের মূল কারণ সরবরাহের ঘাটতি নয়—কিছু করে এ সংকট তৈরি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘‘পাম্পগুলোর সামনে মটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন দেখি; এটা স্পষ্ট সমস্যা। কিন্তু তেল কমে যাওয়ার কারণে নয়, বরং উদ্দেশ্যমূলকভাবে সংকট তৈরি করা হচ্ছে।’’

তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, অনেকে পাম্প থেকে তেল জোগাড় করে কালোবাজারে বিক্রি করছে, যা দেশের জন্য ক্ষতিকর। এ ধরনের অনৈতিক কাজ রুখতে জেলা প্রশাসককে তিনি সতর্ক করে বলেন, বিষয়টি নজরদারি করে দমন করা প্রয়োজন। মির্জা ফখরুল বললেন, ‘‘যে কেউ এভাবে তেল নিয়ে দুর্নীতি করে ফায়দা নেয়ার চেষ্টা করবে, তা সহ্য করা হবে না—পৌঁছানো এবং বিক্রির উপর কঠোর নজর থাকবে।’’

অনুষ্ঠানে তিনি সরকারের বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ নীতিনির্ধারণ এবং দেশের উন্নয়ন সংক্রান্ত কথাও উল্লেখ করেন। মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি সরকার দেশের উন্নয়নের কাজ শুরু করেছে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী আমাদের নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখাচ্ছেন এবং দেশ গঠনের কাজ করছেন।’’

কৃষি খাতের উন্নয়নের উল্লেখ করে তিনি জানান, কৃষকরা যাতে প্রয়োজনীয় পানি পায় সেজন্য খাল খননের কাজ শুরু করা হয়েছে এবং কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়া কৃষক যাতে তাদের ফসলের ন্যায্য মূল্য পান, সে বিষয়েও সরকারের পর্যাপ্ত উদ্যোগ আছে—ব্যক্তিগতভাবে বিএনপি সরকার মানুষের ভাগ্য বদলের লক্ষ্যে কাজ করছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, জেলা বিএনপির সভাপতি ফয়সল আমীন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী এবং অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতারা।

প্রস্তাবিত ও বাস্তব সহায়তা হিসেবে অনুষ্ঠানে ঘূর্ণিঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত ৭১০টি পরিবারের каждому পরিবারের জন্য এক বান ঢেউটিন ও নগদ ৫,০০০ টাকা বিতরণ করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের জন্য ২৯৪টি প্রকল্পের মাধ্যমে মোট ১৪ কোটি ৭০ লাখ টাকার চেক হস্তান্তর করা হয়।