Blog

  • ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’-এ যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত নেতানিয়াহুর যোগ

    ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’-এ যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত নেতানিয়াহুর যোগ

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’-এ যোগ দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু — যে বিরুদ্ধে গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ রয়েছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর বুধবার (২১ জানুয়ারি) এ তথ্য জানিয়েছে; খবরটি প্রকাশ করেছে টাইমস অব ইসরায়েল ও আল-জাজিরা।

    ট্রাম্প এই বোর্ডের আজীবন বা অনির্দিষ্টকালের চেয়ারম্যান থাকবেন বলে জানা গেছে। তিনি বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের এই স্থানে যোগদানের আহ্বান জানিয়েছেন এবং জানিয়েছেন, যেসব দেশ এক বিলিয়ন ডলার করে দেবে তারা বোর্ডের আজীবন সদস্য হয়ে উঠতে পারবে।

    একাধিক কূটনীতিক সতর্ক করেছেন যে ট্রাম্পের এই প্রতিষ্ঠান সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জাতিসংঘের বিকল্প হিসেবে গড়ে উঠতে পারে; ট্রাম্প নিজেও বলেছেন, বোর্ডটি হয়ত ভবিষ্যতে জাতিসংঘের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে কাজ করবে। এখন পর্যন্ত আর্জেন্টিনা, আজারবাইজান, বেলারুস, হাঙ্গারি, কাজাখস্তান, মরক্কো, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ভিয়েতনাম বোর্ডে যোগ দিয়েছে; সর্বশেষ সদস্য হিসেবে এতে যুক্ত হলো ইসরায়েল।

    এ সময় অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—যাদের বিরুদ্ধে গাজায় গণহত্যার এবং যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ রয়েছে, তারা যদি ট্রাম্পের ‘শান্তি বোর্ড’-এ জায়গা পায়, তাহলে ওই সংস্থার নৈতিকতা ও বিশ্বসাম্য কীভাবে ব্যাখ্যা করা হবে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) গাজায় গণহত্যার অভিযোগে কয়েকদিন আগে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। পাশাপাশি, গত বছরের নভেম্বরে তুরস্কও গাজায় গণহত্যার অভিযোগে নেতানিয়াহু এবং তার সরকারের কয়েকজন শীর্ষকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল।

    এসব অভিযোগ ও প্রতিক্রিয়ার মধ্যেই ট্রাম্পের বোর্ডে নেতানিয়াহুর অন্তর্ভুক্তি বিতর্ক ও সমালোচনার নতুন তরঙ্গ সৃষ্টি করেছে।

  • ট্রাম্পের ইরানকে ‘পৃথিবী থেকে মুছে ফেলার’ হুঁশিয়ারি

    ট্রাম্পের ইরানকে ‘পৃথিবী থেকে মুছে ফেলার’ হুঁশিয়ারি

    যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে কড়া সতর্কাবাস দিয়ে বলেছেন, যদি তার বিরুদ্ধে হত্যার হুমকি অব্যাহত থাকে তবে ওই দেশকে বিশ্বের মানচিত্র থেকে মুছে ফেলা হবে। এই মন্তব্যের বিবরণ প্রথম দেওয়া হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম দ্য হিলে।

    ট্রাম্প মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) নিউজ নেশনের ‘কেটি প্যাভলিচ টুনাইট’ অনুষ্ঠানে সাংবাদিক কেটি প্যাভলিচের সঙ্গে আলাপকালে বলেছেন, “তারা এমন কিছু করার চেষ্টা করলে তাদের উচিত নয়। আমি আগেই নির্দেশনা দিয়ে রেখেছি—আমার সঙ্গে যদি কিছু ঘটে, তাহলে পুরো দেশটাই উড়িয়ে দেওয়া হবে।”

    তিনি জানান, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারণার সময় জো বাইডেন প্রশাসনের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা তাকে ইরানের সম্ভাব্য হত্যার হুমকি সম্পর্কে ব্রিফ করেছিলেন।

    এর আগে সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মেরিক গারল্যান্ড জানিয়েছেন, এই ধরনের ষড়যন্ত্রের পেছনে ২০২০ সালে ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা জড়িত থাকতে পারে। সোলাইমানিকে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের সময় যুক্তরাষ্ট্রের এক অভিযানে নিহত করা হয়েছিল।

    ট্রাম্প এই বিষয়ে আরও বলেছেন, প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলা উচিত ছিল এবং প্রয়োজনে সাবেক ও বর্তমান নেতারা একে অপরকে রক্ষা করার দায়িত্ব নিতে পারেন। তিনি বারবার বলছেন: “আমার স্পষ্ট নির্দেশনা আছে—যদি কিছু ঘটে, তারা পৃথিবীর মানচিত্র থেকেই মুছে যাবে।”

    ট্রাম্প পূর্বেও জানিয়েছিলেন যে, যদি ইরান তার হত্যার চেষ্টা করে, তাহলে দেশটিকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হবে। তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ এবং কূটনৈতিক সংযোগ রাখার বিষয়ে একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছিলেন।

    একই সময় ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে তিন হাজারের বেশি নিহত হওয়ার ঘটনা নিয়েও ট্রাম্প ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং বলেছেন, এধরণের হত্যা বা প্রদর্শনকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিকভাবে জবাব দিতে পারে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তাকে জানানো হয়েছে যে এসব হত্যাকাণ্ড আপাতত বন্ধ রয়েছে।

    অন্যদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে দেশটির সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া একাধিক পোস্টে তিনি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ‘গ্রাস’ করতে চায়।

    খামেনি বলেছেন, তারা দেশকে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে চায় না, কিন্তু অভ্যন্তরীণ অপরাধীদের ছাড় দেওয়া হবে না এবং আন্তর্জাতিকভাবে যারা এই ষড়যন্ত্রে জড়িত—তাদেরও ছাড় দেওয়া হবে না।

    এইভাবে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চস্বর হুঁশিয়ারি ও পাল্টাপাল্টি অভিযুক্তি চলায় মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতার ওপর নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

  • যশোরে ছয় আসনে প্রতীক বরাদ্দ, আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো প্রচারণা

    যশোরে ছয় আসনে প্রতীক বরাদ্দ, আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো প্রচারণা

    যশোরের ছয়টি সংসদীয় আসনে চূড়ান্তভাবে ৩৫ জন প্রার্থীর মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ করা হয়েছে। বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকালে উৎসবমুখর পরিবেশে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান প্রার্থীদের হাতে তাদের প্রতীক তুলে দেন। প্রতীক বরাদ্দের পর আনুষ্ঠানিকভাবে যশোরে নির্বাচনী প্রচারণাও শুরু হয়।

    যশোর-১ (শার্শা) আসনে চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন—জামায়াতে ইসলামীর মুহাম্মদ আজিজুর রহমান পেয়েছেন দাঁড়িপাল্লা, জাতীয় পার্টির জাহাঙ্গীর আলম চঞ্চল পেয়েছেন লাঙ্গল, বিএনপি’র নুরুজ্জামান লিটন পেয়েছেন ধানের শীষ এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বকতিয়ার রহমান পেয়েছেন হাতপাখা প্রতীক।

    যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনে আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপির মোছা. সাবিরা সুলতানা পেয়েছেন ধানের শীষ, জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ মোসলেহউদ্দীন ফরিদ পেয়েছেন দাঁড়িপাল্লা, ইসলামী আন্দোলনের ইদ্রিস আলী পেয়েছেন হাতপাখা, বাসদের ইমরান খান পেয়েছেন মই, বিএনএফের শামসুল হক পেয়েছেন টেলিভিশন এবং এবি পার্টির রিপন মাহমুদ পেয়েছেন ঈগল প্রতীক। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. জহুরুল ইসলাম পেয়েছেন ঘোড়া এবং মেহেদী হাসান পেয়েছেন ফুটবল প্রতীক। যদিও জহুরুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে মনোনয়ন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছিলেন, জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান তিনি প্রত্যাহারের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল করেননি।

    যশোর-৩ (সদর) আসনে ছয়জন প্রতিদ্বন্দ্বী। বিএনপি প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত পেয়েছেন ধানের শীষ, ইসলামী আন্দোলনের মুহাম্মদ শোয়াইব হোসেন পেয়েছেন হাতপাখা, জামায়াতের আব্দুল কাদের পেয়েছেন দাঁড়িপাল্লা, জাতীয় পার্টির খবির গাজী পেয়েছেন লাঙ্গল, জাগপা’র নিজামুদ্দিন অমিত পেয়েছেন চশমা এবং সিপিবির রাশেদ খান পেয়েছেন কাস্তে প্রতীক।

    যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর) আসনে সাতজন প্রার্থীকে প্রতীক দেওয়া হয়েছে। স্বতন্ত্র এম. নাজিম উদ্দীন-আল-আজাদ পেয়েছেন মোটরসাইকেল, ইসলামী আন্দোলনের বায়েজীদ হোসাইন পেয়েছেন হাতপাখা, বিএনপির মতিয়ার রহমান ফারাজি পেয়েছেন ধানের শীষ, খেলাফত মজলিসের মাওলানা আশেক এলাহী দেওয়াল পেয়েছেন ঘড়ি, জামায়াতের গোলাম রসুল পেয়েছেন দাঁড়িপাল্লা, জাতীয় পার্টির জহুরুল হক পেয়েছেন লাঙ্গল এবং বিএমজেপির সুকৃতি কুমার মণ্ডল পেয়েছেন রকেট প্রতীক।

    যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনে পাঁচজন প্রতিদ্বন্দ্বী—জাতীয় পার্টির এম এ হালিম পেয়েছেন লাঙ্গল, জামায়াতের গাজী এনামুল হক পেয়েছেন দাঁড়িপাল্লা, ইসলামী আন্দোলনের জয়নাল আবেদীন পেয়েছেন হাতপাখা, বিএনপির রশীদ আহমাদ পেয়েছেন ধানের শীষ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী শহীদ মো. ইকবাল হোসেন পেয়েছেন কলস প্রতীক।

    যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে পাঁচজন প্রার্থী প্রতীক পেয়েছেন—জাতীয় পার্টির জিএম হাসান লাঙ্গল, বিএনপির আবুল হোসেন আজাদ ধানের শীষ, এবি পার্টির মাহমুদ হাসান ঈগল, জামায়াতের মোক্তার আলী দাঁড়িপাল্লা এবং ইসলামী আন্দোলনের শহিদুল ইসলাম পেয়েছেন হাতপাখা প্রতীক।

    প্রতীক বরাদ্দ শেষে বক্তব্য رکھنے গিয়ে যশোর জেলা বিএনপি সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুক হক সাবু বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মানুষ একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রত্যাশায় রয়েছে। গত ১৬ বছরে দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়া ধ্বংসের শিকার হয়—তবে 이번 নির্বাচনে সাধারণ মানুষের মতামতের যথার্থ প্রতিফলন ঘটবে এবং বিএনপি প্রার্থীরা ধানের শীষ নিয়ে সাফল্য অর্জন করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    সংগঠনের বাইরে থেকেও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠেছে। সিপিবি’র যশোর-৩ (সদর) প্রার্থী রাশেদ খান অভিযোগ করেন, নির্বাচনী প্রচারণায় স্পষ্ট নিষেধ থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পোস্টার ও বড় ব্যানার এখনো যানবাহনে এবং প্রত্যন্ত এলাকায় দেখা যাচ্ছে; কিছু ক্ষেত্রে সমর্থকরা জুমার নামাজকেও ভোট প্ররোচনায় ব্যবহার করছে—এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের নজর প্রয়োজন। যশোর-২-এর বাসদ প্রার্থী ইমরান খান বলেন, রাতের ভোট, ডামি ভোট ও ভোট কেড়ে নেওয়ার মেলামেশা থেকে বের হতে হলে প্রশাসনকে বিশেষ দৃষ্টি রাখতে হবে; ৫ আগস্টের ঘটনাপ্রবাহের পরও অবৈধ অস্ত্র ও অর্থের প্রভাব নির্বাচনে পড়তে পারে, তাই সন্ত্রাসী গ্রেফতার ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা জরুরি।

    জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান প্রতিকীপ বরাদ্দকালে নির্বাচনি আচরণবিধি মেনেই প্রচারণা চালাতে সকলের প্রতি নির্দেশনা দেন। তিনি জানান, যশোরের ছয় আসনে মোট ৩৫ জনকে প্রতীক দেওয়া হয়েছে এবং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। কার্যক্রমে সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম রাকিব উপস্থিত ছিলেন।

  • সাতক্ষীরার চার আসনে ২০ প্রার্থীর মাঝে প্রতীক বরাদ্দ

    সাতক্ষীরার চার আসনে ২০ প্রার্থীর মাঝে প্রতীক বরাদ্দ

    সাতক্ষীরার চারটি সংসদীয় আসনে চুড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বী ২০ প্রার্থীর মাঝে উৎসবমুখর পরিবেশে প্রতীক বরাদ্দ করা হয়েছে। বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুর ১২টায় জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং অফিসার মিজ আফরোজা আখতার তার সম্মেলন কক্ষে সব রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ও সমর্থকদের উপস্থিতিতে প্রতীক বণ্টন করেন।

    প্রতীক বরাদ্দের আগে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় রিটার্নিং কর্মকর্তা নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার উপর গুরুত্বারোপ করেন এবং আচরণবিধি লঙ্ঘিত হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থান গ্রহণ করবে বলে সতর্ক করেন। এ সময় পুলিশ সুপার আরেফিন জুয়েল, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান, জেলার বিজিবি প্রধান ও আনসার কমান্ডান্টসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-গণও নির্বাচন সংক্রান্ত সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দেন।

    বণ্টিত প্রতীকের মধ্যে বিএনপির প্রতিদ্বন্দ্বীরা ‘ধানের শীষ’, জামায়াতের প্রার্থীরা ‘দাড়িপাল্লা’, জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা ‘লাঙ্গল’ ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীরা ‘হাতপাখা’ প্রতীক পেয়েছেন। এছাড়া বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী ‘ডাব’, বাংলাদেশ জাসদের প্রার্থী ‘মটরগাড়ি’, স্বতন্ত্র প্রার্থী ‘ফুটবল’ এবং বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টির প্রার্থী ‘রকেট’ প্রতীকে লড়বেন।

    প্রতীক প্রাপ্ত প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়নি বললে ভুল হবে—আসনভিত্তিক তালিকা হচ্ছে:

    সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া): বিএনপির হাবিবুল ইসলাম হাবিব (ধানের শীষ), জামায়াতের মো. ইজ্জত উল্লাহ (দাড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলনের শেখ মো. রেজাউল করিম (হাতপাখা), জাতীয় পার্টির জিয়াউর রহমান (লাঙ্গল) ও বাংলাদেশ কংগ্রেসের ইয়ারুল ইসলাম (ডাব)।

    সাতক্ষীরা-২ (সদর-দেবহাটা): বিএনপির আব্দুর রউফ (ধানের শীষ), জামায়াতের মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক (দাড়িপাল্লা), জাতীয় পার্টির আশরাফুজ্জামান (লাঙ্গল), বাংলাদেশ জাসদের ইদ্রিস আলী (মটরগাড়ি) এবং ইসলামী আন্দোলনের মুফতী রবিউল ইসলাম (হাতপাখা)।

    সাতক্ষীরা-৩ (আশাশুনি-কালিগঞ্জ): স্বতন্ত্র প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য ডা. শহিদুল আলম (ফুটবল), বিএনপির কাজী আলাউদ্দীন (ধানের শীষ), জামায়াতের হাফেজ রবিউল বাশার (দাড়িপাল্লা), জাতীয় পার্টির আলিপ হোসেন (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলনের ওয়েজ কুরনী (হাতপাখা) এবং বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টির রুবেল হোসেন (রকেট)।

    সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর): বিএনপির ড. মুহাম্মদ মনিরুজ্জামান (ধানের শীষ), জামায়াতের জিএম নজরুল ইসলাম (দাড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলনের এইচ এম মিজানুর রহমান (হাতপাখা) ও জাতীয় পার্টির আব্দুর রশিদ (লাঙ্গল)।

    প্রসঙ্গত, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে। জাতীয় পর্যায়ে মনোনয়নপত্র দাখিলের প্রক্রিয়ায় সাতক্ষীরায় ২৯ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। যাচাই-বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা ১৯টি বৈধ ও ১০টি বাতিল ঘোষণা করেন। এরপর নির্বাচন কমিশনে আপীল করলে চারজনের মনোনয়ন বৈধ হিসেবে গৃহীত হয়ে মোট বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়ায় ২৩। পরে তিনজন মনোনয়ন প্রত্যাহার করায় চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ২০ জন প্রার্থী নির্ধারিত হন এবং বুধবার তাদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ করা হয়।

    জেলা প্রশাসন ও নির্বাচন সংক্রান্ত কর্মকর্তারা সব পক্ষকে শান্তিপূর্ণ, সুনামের সঙ্গে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনায় আহ্বান জানিয়েছেন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ নিরপেক্ষ নির্বাচনের নিশ্চয়তা reiterated করেছেন।

  • থাইল্যান্ডে শ্রীলঙ্কাকে ৬-৩ হারিয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে বাংলাদেশ

    থাইল্যান্ডে শ্রীলঙ্কাকে ৬-৩ হারিয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে বাংলাদেশ

    থাইল্যান্ডে চলমান সাফ নারী ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপে শ্রীলঙ্কাকে ৬-৩ গোলে হারিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে ফিরে এসেছে বাংলাদেশ। বুধবারের ম্যাচে অধিনায়ক সাবিনা খাতুন এবং কৃষ্ণা রানী সরকারই দলের জয় নিশ্চিত করেন—দুজনই দুটি করে গোল করেন এবং ম্যাচের খেলাটাই মোড় ঘোরান।

    স্কোরলাইন বড় দেখালেও ম্যাচের শুরুটা বাংলাদেশের জন্য মসৃণ ছিল না। কোচ সাইয়েদ খোদারাহমির দল প্রথম ১৫ মিনিটেই ০-২ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। শপনা আক্তার জিলির গোলরক্ষণের কিছু ভুলের সুযোগে শ্রীলঙ্কা এগিয়ে যায়, যদিও বল দখলে দীর্ঘ সময়ই এগিয়ে ছিল বাংলাদেশের দল।

    চাপে পড়ে গিয়ে আবারও দলের ভরসা হিসেবে নামলেন সাবিনা ও কৃষ্ণা। বিরতির আগে কৃষ্ণা রানী দুইটি অ্যাসিস্ট করে সাবিনাকে দুই বলেই সফল করেন, ফলে হাফটাইমের আগে সমতায় ফেরে বাংলাদেশ।

    দ্বিতীয়ার্ধে পুরোপুরি আধিপত্য বিস্তার করে বাংলাদেশ। কৃষ্ণা রানী সরকার এই পর্যায়ে আরও দুটি গোল করে নিজের স্কোর দ্বিগুণ করেন। এ ছাড়া মাতসুশিমা সুমাইয়া ও মাসুরা পারভীন প্রত্যেকে একটি করে গোল যোগ করলে জয়ের ব্যবধান আরও বড় হয় এবং জয় নিশ্চিত হয়ে যায়।

    শ্রীলঙ্কার হয়ে শানু পাস্কারানের গোলে একটি ও ইমেশা কনকানামালাগে শেষ মুহূর্তে একটি সান্ত্বনার গোল করে; মোট স্কোর দাঁড়ায় ৬-৩।

    এই জয়ের ফলে চার ম্যাচে বাংলাদেশের সংগ্রহ এখন ১০ পয়েন্ট; এক পয়েন্ট কম নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে নেমে গেছে ভারত। দলটির অভিজ্ঞ অধিনায়ক ও মিডফিল্ডম্‌ে শক্তির পারফরম্যান্স ভবিষ্যৎ ম্যাচগুলোতেও আশা জাগাচ্ছে।

  • ভারতে না গেলে বিকল্প দল নেবে আইসিসি, বিসিবিকে একদিনের সময়

    ভারতে না গেলে বিকল্প দল নেবে আইসিসি, বিসিবিকে একদিনের সময়

    নিরাপত্তা উদ্বেগের বলেই যদি বাংলাদেশ ভারত যেতে অস্বীকার করে, তাহলে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তাদের জায়গায় অন্য একটি দলকে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আইসিসি। সোমবার হওয়া আইসিসি বোর্ড সভায় এই সিদ্ধান্তটি ভোটাভুটির মাধ্যমে গৃহীত হয়েছে।

    বিসিবি আগে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ তুলে ভারত যাওয়ার বিষয়ে অনিশ্চয়তা জানিয়েছিল এবং একই বিষয় নিয়ে আইসিসিকে একটি চিঠিও পাঠিয়েছে। সূত্রে জানা যায়, আইসিসি ওই চিঠি এবং পরিস্থিতি বিবেচনা করে সভায় প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) সরকারীর স্তরে আলোচনা করে এক দিনের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে বলেছে।

    আইসিসি বোর্ড সভায় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসীন নাকভি, বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া সহ বিভিন্ন পূর্ণ সদস্য দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় আইসিসির প্রধান নির্বাহী, ইভেন্টস হেড ও লিগ্যাল অফিসারও উপস্থিত ছিলেন। ক্রিকইনফো সংবাদ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

    বোর্ড সভায় সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যই সমর্থন জানিয়েছে যে, বাংলাদেশ যদি নির্ধারিত সময়সীমায় ভারত গিয়ে ম্যাচ খেলতে অস্বীকৃতি জানায়, তাতে তাদের জায়গায় অন্য একটি দলকে টুর্নামেন্টে নেওয়া হবে। আইসিসি জানিয়েছে বিষয়টি কেবল বোর্ডের সিদ্ধান্তে সীমাবদ্ধ নয় — বাংলাদেশ সরকারেরও অবগত করা প্রয়োজন।

    অজানা পরিস্থিতিতে বিকল্প হিসেবে স্কটল্যান্ডকে সবচেয়ে সম্ভাব্য দল হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছে, যদিও তারা মূল কোটা থেকে উঠে আসতে পারেনি। ইউরোপীয় কোয়ালিফাইারে নেদারল্যান্ডস, ইতালি ও জার্সির পেছনে থেকে স্কটল্যান্ড সরাসরি অংশ পায়নি; তবু আইসিসির কাঠামো অনুযায়ী এমন পরিস্থিতিতে স্কটিশ দলকে বিবেচনা করা হচ্ছে।

    এর আগে ভেন্যু পরিবর্তন নিয়ে বিসিবি ও আইসিসির মধ্যে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে, তবু বিসিবি তাদের অবস্থানে অনড় থেকেছে। আইসিসি জানিয়েছে সূচি অনুযায়ীই ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে — এমন কোনো পরিবর্তন করা হবে না যদি না বাংলাদেশ সরকার বা বিসিবি বাধ্যতামূলক কারণে ভেন্যু পরিবর্তনের দাবি করে।

    এখন পুরো দিক নির্ভর করছে বিসিবির সিদ্ধান্তের ওপর। আইসিসির দেওয়া একদিনের মেয়াদ শেষ হলে বাংলাদেশ যদি ভারত যাত্রা থেকে বিরত থাকে, তাহলে বিশ্বকাপে তাদের জায়গায় বিকল্প দলকে অন্তর্ভুক্ত করার পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

  • ঢালিউডের ‘ড্যান্সিং হিরো’ ইলিয়াস জাভেদ মারা গেছেন

    ঢালিউডের ‘ড্যান্সিং হিরো’ ইলিয়াস জাভেদ মারা গেছেন

    ঢালিউডের স্বরেরা দিনগুলোর জনপ্রিয় নায়ক ও কালজয়ী নৃত্যশিল্পী ইলিয়াস জাভেদ আর নেই। দীর্ঘদিন ক্যানসারের সঙ্গে লড়ে ৮২ বছর বয়সে আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

    মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য সনি রহমান। পরিবার ও নিকটজনের বরাত দিয়ে জানা যায়, গতমাসগুলো জুড়ে নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। গত বছরের এপ্রিলেও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। কিছুদিন ধরে বাসায় রেখে চিকিৎসা করা হচ্ছিল; নিয়মিত চিকিৎসক ও দুজন নার্স বাড়ি এসে তার সেবা করছিলেন। আজ সকালে নার্সরা শ্বাস-শব্দ না পেয়ে জানান যে তাঁর শরীর ঠাণ্ডা। এরপর অ্যাম্বুলেন্সে নিয়ে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    ইলিয়াস জাভেদ ১৯৪৪ সালে ব্রিটিশ ভারতের পেশাওয়রে জন্মগ্রহণ করেন। পরে সপরিবারে পাঞ্জাবে চলে গেলেও পরবর্তীতে ঘরছাড়া হয়ে চলচ্চিত্রের ডাক পেয়ে ঢাকায় এসে স্থায়ী হয়েছিলেন। অভিনয়জীবনের শুরুটা তিনি নৃত্যপরিচালক হিসেবে করেছিলেন; পরবর্তীতে নায়ক হিসেবে রুপালি পর্দায় ওঠেন। তার আসল নাম রাজা মোহাম্মদ ইলিয়াস।

    নায়ক হিসেবে রুপালি পর্দায় অভিষেক ঘটে ১৯৬৪ সালে উর্দু সিনেমা ‘নয়ি জিন্দেগি’ থেকে। কিন্তু সবার নজর কাড়েন ১৯৬৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘পায়েল’ সিনেমায়, যেখানে কিংবদন্তি অভিনেত্রী শাবানার বিপরীতে তিনি অভিনয় করেন। পরিচালক মুস্তাফিজই তাকে ‘জাভেদ’ নামে পরিচিতি দেন। এরপর একের পর এক ব্যবসাসফল ছবিতে নাচ ও অভিনয়ের অনবদ্য মিশ্রণে দর্শকদের মনে তিনি ‘ড্যান্সিং হিরো’ হিসেবে জায়গা করে নেন।

    ব্যক্তিগত জীবনে ১৯৮৪ সালে তিনি বিখ্যাত চিত্রনায়িকা ডলি চৌধুরীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। চলচ্চিত্রে তিনি শতাধিক বস্তুনিষ্ঠ কাজ রেখে গেছেন; তার গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘মালেকা বানু’, ‘নিশান’, ‘পাপী শত্রু’, ‘রক্ত শপথ’, ‘সাহেব বিবি গোলাম’, ‘কাজল রেখা’, ‘অনেক দিন আগে’, ‘আজও ভুলিনি’, ‘কঠোর’, ‘মা বাবা সন্তান’, ‘রাখাল রাজা’, ‘রসের বাইদানী’, ‘জীবনসঙ্গী’ ও ‘আবদুল্লাহ’ প্রভৃতি।

    ইলিয়াস জাভেদের প্রয়াণ বাংলা চলচ্চিত্রে এক যুগের ছাপ রেখে গেল। দীর্ঘসংগ্রামের পর নিভৃতভাবে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন এই গুণী শিল্পী; তাঁর চলে যাওয়া চলচ্চিত্রপ্রেমীদের জন্য আপূরনীয় ক্ষতি। পরিবার ও অনুরাগীদের কাছে তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।

  • চিত্রনায়িকা জয়শ্রী কবির আর নেই

    চিত্রনায়িকা জয়শ্রী কবির আর নেই

    প্রখ্যাত চিত্রনায়িকা জয়শ্রী কবিরের মৃত্যু খবর শোনা গেছে। তিনি ১২ জানুয়ারি যুক্তরাজ্যের লন্ডনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বার্ধক্যজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন বলে পরিবার জানা দিয়েছেন; মৃত্যুকালে তার বয়স যেমন জানানো হয়েছে, তেমনই পরিবার সঠিক মৃত্যুর কারণ এখনও প্রকাশ করেনি।

    জয়শ্রী কবিরের মৃত্যুর সংবাদ প্রথম তাৎক্ষণিকভাবে সোশ্যাল মিডিয়ায় জানান তার ভাগ্নে জাভেদ মাহমুদ। তিনি পোস্টে লিখেছেন, “আমার মামি — এককালের বিখ্যাত নায়িকা ও ‘মিস ক্যালকাটা’ — লন্ডনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। উনি সত্যজিৎ রায়ের ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’, আলমগীর কবিরের ‘সীমানা পেরিয়ে’, ‘রূপালি সৈকতে’, ‘সূর্য কন্যা’সহ অনেক চলচ্চিত্রে নায়িকা ছিলেন।”

    জাভেদ মাহমুদ জানান, জয়শ্রী কবির দীর্ঘদিন ধরে লন্ডনে অসুস্থ ছিলেন। পরিবারের তরফে এখনও কোনো অফিসিয়াল শোকবার্তা বা জানালার সময়সূচি দেয়া হয়নি।

    জয়শ্রী কবির ১৯৫২ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন; পারিবারিক নাম জয়শ্রী রায়। শৈশব ও কিশোরকাল কলকাতায় কেটেছে; তিনি সাউথ পয়েন্ট স্কুলে পড়াশোনা করেছিলেন। ১৯৬৮ সালে তিনি ‘মিস ক্যালকাটা’ খেতাব জিতে সুবর্ণ সময় কাটান এবং ১৯৭০ সালে সত্যজিৎ রায়ের চলচ্চিত্র ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’ দিয়ে শক্তিশালীভাবে চলচ্চিত্র জগতে প্রবেশ করেন — যা সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের গল্পকে চলচ্চিত্রায়িত করে নির্মিত হয়েছিল।

    ১৯৭৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘অসাধারণ’ ছবিতে উত্তম কুমারের বিপরীতে অভিনয় করে তিনি আরও প্রশংসা অর্জন করেন। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রেও তিনি সক্রিয়ভাবে কাজ করে জনপ্রিয়তা লাভ করেন। বিশেষ করে পরিচালক আলমগীর কবিরের কয়েকটি ছবিতে তিনি মুখ্য ভূমিকায় ছিলেন; এসবের মধ্যে ‘সীমানা পেরিয়ে’, ‘রূপালি সৈকতে’, ‘সূর্য কন্যা’ ও ‘মোহনা’ উল্লেখযোগ্য।

    ব্যক্তিগত জীবনে ১৯৭৫ সালে তিনি আলমগীর কবিরের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। সেই বিবাহ কয়েক বছরের মধ্যেই বিচ্ছেদে পরিণত হয়। এ দাম্পত্য থেকে তাদের একটি পুত্র সন্তান লেনিন সৌরভ কবির জন্মগ্রহণ করেন। বিবাহবিচ্ছেদের পর জয়শ্রী প্রথম কলকাতায় ফিরে যান এবং পরে লন্ডনে পাড়ি জমান; সেখানেই বহু বছর ধরে বসবাস করে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্যের শিক্ষক হিসেবে কাজ করেছেন এবং পুত্রকে নিয়ে সেখানেই ছিলেন। কয়েক বছর আগে তিনি একবার ঢাকায় এসেছিলেন; তারপর থেকে বাংলাদেশে দেখা যায়নি।

    জয়শ্রী কবির বাংলা অভিনেত্রী হিসেবে দুই বাংলার দর্শকের মনে যে স্থান করে নিয়েছিলেন, তা দীর্ঘস্থায়ী হবে। শিল্পী হিসেবে তার অবদান এবং স্মৃতি আরও অনেকের হৃদয়ে থাকবে। পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানাই।

  • ফ্ল্যাটের পর নগদ ১ কোটি: ওসমান হাদির পরিবারকে দেবে সরকার

    ফ্ল্যাটের পর নগদ ১ কোটি: ওসমান হাদির পরিবারকে দেবে সরকার

    সরকার শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির পরিবারকে জীবিকা নির্বাহের জন্য আরেকটি নগদ ১ কোটি টাকা দেবে, যার ফলে পরিবারটি মোট দুই কোটি টাকা পাচ্ছে। এই তথ্য বুধবার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়‑সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের জানান।

    এর আগে অর্থ বিভাগ গতকাল মঙ্গলবার ঢাকায় ফ্ল্যাট কিনতে এক কোটি টাকা অনুদান দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করেছিল। ওই অনুদান দিয়ে লালমাটিয়ার ‘দোয়েল টাওয়ার’ নামে সরকারি আবাসিক ভবনে ১,২১৫ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট কেনা হবে; সেটি ওসমান হাদির স্ত্রী ও সন্তানরা ব্যবহার করবেন।

    অর্থ উপদেষ্টা জানিয়েছেন, ফ্ল্যাটের জন্য যে এক কোটি টাকা অনুদান দিয়েছে অর্থ বিভাগ, আরেকটি পৃথক এক কোটি টাকা এসেছে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে — সেটা পরিবারের দৈনন্দিন জীবিকার খরচ মেটানোর জন্য দেওয়া হচ্ছে। সূত্র বলেছে, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ফ্ল্যাট কেনার জন্য অর্থমন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছিল এবং অর্থ বিভাগ স্ত্রীর ও সন্তানের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার শর্তে অনুদান দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে।

    পটভূমি: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন শরিফ ওসমান বিন হাদি। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর পরদিন ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পল্টন মডেল থানার বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় তাঁকে গুলি করা হয়েছিল। পরে ঢাকায় চিকিৎসার পর ১৫ ডিসেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুর পাঠানো হয়। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনি মারা যান।

    ওসমান হাদির হত্যাকারী মামলার প্রধান আসামি ও ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ফয়সাল করিম পুলিশের তথ্যানুযায়ী ভারতে পালিয়ে গেছেন। তাঁর মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয়ভাবে এক দিনের শোক পালন করা হয় এবং প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এক ভাষণে রাষ্ট্র পরিবারের দায়িত্ব নেবে আশ্বাস দিয়েছিলেন।

    এছাড়া সংবাদে বলা হয়েছে, শরিফ ওসমান বিন হাদির ভাই ওমর বিন হাদিকে ১৫ জানুয়ারি যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে দ্বিতীয় সচিব পদে তিন বছরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

    সরকারি এই অনুদান ও আর্থিক সহায়তার সিদ্ধান্ত পরিবারকে অনিশ্চিত সময় সামলাতে সহায়তা হিসেবে এসেছে বলে কর্মকর্তারা মনে করছেন।

  • মাইলস্টোন ট্রাজেডি: ৬ মাস চিকিৎসা ও ৩৫ অপারেশনের পর বাড়ি ফিরল ১২ বছরের আবিদুর রহিম

    মাইলস্টোন ট্রাজেডি: ৬ মাস চিকিৎসা ও ৩৫ অপারেশনের পর বাড়ি ফিরল ১২ বছরের আবিদুর রহিম

    রাজধানীর উত্তরা এলাকার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় দগ্ধ শিক্ষার্থী আবিদুর রহিম (১২) ছয় মাসের চিকিৎসা ও মোট ৩৫টি অপারেশনের পর শেষ পর্যন্ত বাড়ি ফিরেছেন। আবিদ স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র।

    বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের কনফারেন্স রুমে হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক নাসির উদ্দিন এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, রহিম গত বছরের ২১ জুলাই থেকে ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং মোট ছয় মাস বা প্রায় ১৮০ দিন এখানে চিকিৎসা সেবা নেয়েছেন। রহিম ছিলেন যেদের মধ্যে সর্বশেষ যারা এখান থেকে রিলিজ পেলেন।

    পরিচালক জানান, আবিদের শরীরের প্রায় ২২ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। শতাংশটি কম বলে মনে হলেও তার সঙ্গে ইনহেলেশন বার্ন ছিল, সঙ্গে ফেস ও দুই হাত দগ্ধ হওয়ায় জটিলতা আরও বেড়েছে। ঘটনার সময় সে ক্লাসরোমের সামনের অংশে অবস্থান করছিল। তার অবস্থা প্রথম দিকে ক্রিটিক্যাল ছিল; পাঁচ দিন তাকে আইসিইউতে রাখা হয়েছিল, এরপর ছয় দিন হাইডিপেন্ডেন্সি ইউনিটে (এইচডিইউ) রাখা হয় এবং পরে ১৭২ দিন কেবিনে চিকিৎসা হয়েছে।

    আবিদুর রহিমের দুই হাতের ক্ষত রক্ষা করতে বিশেষ অস্ত্রোপচার করা হয়—চামড়ার ক্ষতিমুক্ত অংশ কেটে শল্যচিকিৎসা করা হয়। মোট ৩৫ বার শরীরে অস্ত্রোপচার হয়েছে, তন্মধ্যে ছোট ধরনের শল্যচিকিৎসা ২৩ বার এবং চামড়া লাগানো (স্কিন গ্রাফট) ১০ বার হয়েছে। মুখ ও হস্তে ফ্ল্যাপ কভারেজও করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় হাসপাতালে থাকায় সূর্যালোক পাবার সুযোগ পায়নি, ফলে শরীর বিভিন্ন ক্রিটিক্যাল পরিস্থিতির মুখে পড়ে; তার নিয়মিত ফিজিওথেরাপি চলবে যাতে বাড়িতে যাওয়ার পরও স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে আনা যায়।

    পরিচালক অধ্যাপক নাসির উদ্দিন জানান, আজ থেকে আবিদ বাড়ি ফিরছে—এটা আমাদের আনন্দের দিন। তিনি চিকিৎসা টিম, নার্স, হাসপাতালের কর্মচারী ও সাংবাদিকদের সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী এই ধরনের চিকিৎসার ব্যয় সরকার বহন করেছে, তাই প্রতিষ্ঠান কোনো ব্যক্তিগত আর্থিক অনুদান গ্রহণ করেনি।

    তিনি আরও বলেন, ঘটনাটি আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা ও বিশেষ উপকরণ ব্যবহারের প্রয়োজন ছিল। ভবিষ্যতে এ ধরনের বড় ধরনের দুর্ঘটনায় আরো উন্নত চিকিৎসা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ম্যাটেরিয়াল নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয়ের কাছে ইতোমধ্যে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। তিনি সরকারি পর্যায়ে সহযোগিতা ও সাংবাদিকদের সমর্থন কামনা করেন।

    অধ্যাপক নাসির উদ্দিন জানান, যারা এখন পর্যন্ত ছেড়ে গেছেন তাদেরও অন্তত দুই বছর নিয়মিত ফলোআপে থাকতে হবে। রিলিজ হওয়া রোগীরা হাসপাতালে সপ্তাহে বা পনেরো দিন পর এবং মাসিকভাবে এসে থেরাপি নেবেন। হাসপাতালে একজন বিশেষ সেলও আছে, যেখানে যাদের চিকিৎসায় সমস্যা বা অতিরিক্ত সহায়তা লাগবে, তাদের জন্য সমন্বয় করা হবে।

    আবিদুর বাবা আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘‘ছেলেটি ছয় মাস চিকিৎসা নিয়ে আজ বাড়ি ফিরছে—এ কঠিন অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।’’ তিনি জানান, ছেলেটিকে জিজ্ঞেস করলে আবিদ বলেছিল, ‘‘বাবা, আজ আমার মতো ঈদের দিন মনে হচ্ছে।’’ বাবার ভাষায়, চিকিৎসক, নার্স ও সকলের সহায়তায় তিনি অভিভূত। তিনি চিকিৎসক জহিরকে ছেলের দেওয়া বিশেষ নামে স্মরণ করেন। আবিদ আগে ক্লাসে এক থেকে পাঁচের মধ্যে রোল করত এবং নিয়ম করে মসজিদে নামাজ আদায় করত; দুর্ঘটনার ফলে গত ছয় মাস ধরে নামাজও করা হয়নি।

    আবুল কালাম আজাদ সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, নিহত ও আহতদের যে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করা হয়েছিল, তা এখনো পুরোপুরি দেওয়া হয়নি। হাসপাতাল থেকে রিলিজের পরও যাদের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা দরকার, তাদের চিকিৎসার ব্যয় বহন করে ওঠা তাদের পক্ষে কঠিন। তিনি সরকারের কাছে ক্ষতিপূরণ রি-নির্ধারণ ও দ্রুত অর্থায়নের আহ্বান জানান।

    রিলিজের সময় আবিদ সাংবাদিকদের সামনে কথা বলতে যেয়েছিলেন; তিনি ‘‘আজ আমি হাসপাতাল থেকে চলে যাচ্ছি’’ বলেই আবেগে ভেঙে পড়েন এবং কান্নায় আবেগপ্রবণ হয়ে ওঠেন। এই সংবাদ সম্মেলনে হাসপাতালের যুগ্মপরিচালক অধ্যাপক ডা. মারুফুল ইসলাম, জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান ও অন্যান্য চিকিৎসক ও নার্স উপস্থিত ছিলেন।

    উল্লেখ্য, গত ২১ জুলাই বিমান বাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ওপর বিধ্বস্ত হলে বিপুল ক্ষতি ও হতাহতের ঘটনা ঘটে। ঐ ঘটনায় জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ জন মারা যান এবং বহুজন আহত ছিলেন; সর্বমোট ৩৬ জন চিকিৎসা নিয়েছিলেন।