Blog

  • সরকার ভুল করলে_reserved নারী এমপিরাও মোকাবিলার অংশ হবেন: হামিদুর রহমান আযাদ

    সরকার ভুল করলে_reserved নারী এমপিরাও মোকাবিলার অংশ হবেন: হামিদুর রহমান আযাদ

    জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, সরকার যদি ভুল পথে পরিচালিত হয় বা জনবিরোধী সিদ্ধান্ত নেয়, তখন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যরাও অন্যান্য বিরোধীদলীয় সদস্যদের মতো সমানভাবে সোচ্চার হবেন। তিনি মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) নির্বাচন ভবনে জামায়াত জোটের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন।

    আযাদ বলেন, দল একটি সমন্বিত (কম্বাইন) তালিকা হিসেবে ১৩টি সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নপত্র সাবমিট করেছে এবং তাদের আশা ওই ১৩ আসনে আর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী থাকবে না। ‘‘এই ১৩টি আসন ১৩টি তালিকার ভিত্তিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার কথা; আমরা আশা করি সেভাবেই নির্বাচনের ফলাফল আসবে,’’ তিনি জানান।

    তিনি আরও বলেন, এ সংক্রান্ত বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলাপও হয়েছে। যেহেতু সংসদ বিধানকৃতভাবে চলছে, মনোনীতরা যদি সময়নিষ্ঠভাবে সংসদে যোগ দেন, তাহলে নারীদের প্রতিনিধিত্ব ও জাতির প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ হবে। সেই জন্য কমিশন যেন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন বা ভিন্ন পরিস্থিতি সৃষ্টি না করে—এই বিশ্বাস তাদের রয়েছে এবং কমিশনও আশ্বস্ত করেছে বলে আযাদ জানান।

    জামায়াত আশা করছে মনোনীত ওই ১৩ নারী সদস্য ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষে সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব করবেন। আযাদ বলেন, ‘‘দেশ, জাতি ও জনগণের সার্থে আইন প্রণয়নসহ সব ক্ষেত্রে নারীরা একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে তাদের সব সুবিধা ও ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন; সংবিধান তাদের এ সুযোগ দিয়েছে।’’

    তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংরক্ষিত নারী আসনের ১৩ জন মনোনীত প্রতীক বিরোধীদলের কাতারে থেকে দেশ গঠনে ও জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।

    পার্থক্যহীন নীতিগত অবস্থানের কথাও তুলে ধরে আযাদ বলেন, ‘‘পার্লামেন্টে আমাদের যে ভূমিকা ও নীতি আমরা প্রকাশ করেছি, তা ন্যায়সম্মত, জনকল্যাণমুখী এবং দেশের স্বার্থে জনগণের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক রাখতে উদ্দীপ্ত। এটা আমাদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, জামায়াতে ইসলামের আমির, প্রথম থেকেই ঘোষণা করেছেন।’’

    সরকার যদি অন্যায় বা জনবিরোধী সিদ্ধান্ত নেয়, সে পরিস্থিতিতেও বিরোধীদলীয় অন্যান্য সদস্যদের মতো নারীরা সক্রিয়ভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সাড়া দেবেন—এমনটাই জানান তিনি। আযাদ বলেন, ‘‘৭৭ জনের সঙ্গে ১৩ জন যুক্ত হলে মোট ৯০ জন বিরোধীদলীয় সদস্য একসাথে ভূমিকা পালন করবে—এই প্রত্যাশা আমরা রাখছি।’’

    গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘গণভোটের রায় অনুযায়ী সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ গঠনের কথা রয়েছে। এটি না হওয়ার কারণে আমরা ১১ দল একসঙ্গে সরকারের জনরায় উপেক্ষা করার কাজের প্রতিবাদ ও অন্যায় কার্যাবলীর বিরোধিতা করে পার্লামেন্টে রোল প্লে করেছি এবং পার্লামেন্টের বাইরেও রাজপথে কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছি; ভবিষ্যতেও সচেতন ভূমিকা রাখব।’’

    মনোনয়ন সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে আযাদ বলেন, জামায়াতে ‘‘এক পরিবারের দুই সংসদ সদস্য’’ নীতি না থাকার কারণে দলের আমিরের সহধর্মিণীকে সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন দেয়া হয়নি। বরং শহীদ পরিবারের এক মাকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। এছাড়া মনোনীতরা সমাজে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ারসহ অন্যান্য পেশাজীবীদের মধ্য থেকে নির্বাচিত হয়েছে।

    এনসিপির প্রার্থী মুনিরা শারমিনের সরকারি চাকরি থেকে অবসর নিয়েছেন তিন বছর পূর্ণ হয়নি এমন শর্তে প্রার্থিতা বাতিল হবে কি না—এই আলোচনায় আযাদ বলেন, তার আশা মনোনয়নপত্র বাতিল হবে না।

    তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ২২ ও ২৩ এপ্রিল; আপিল ২৬ এপ্রিল; আপিল নিষ্পত্তি ২৭ ও ২৮ এপ্রিল; প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২৯ এপ্রিল; প্রতীক বরাদ্দ ৩০ এপ্রিল; এবং ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ মে।

  • রেমিট্যান্সের পালে হাওয়া: ১৯ দিনে দেশে এসেছে ২.১৩ বিলিয়ন ডলার

    রেমিট্যান্সের পালে হাওয়া: ১৯ দিনে দেশে এসেছে ২.১৩ বিলিয়ন ডলার

    চলতি এপ্রিলের প্রথম ১৯ দিনে দেশে এসেছে ২.১৩ বিলিয়ন বা ২১২ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। এতে দৈনিক গড় প্রবাহ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১১ কোটি ১৯ লাখ ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান সোমবার এ তথ্য জানান।

    তিনি বলেন, গত বছরের একই সময়ে দেশে আসে ১৭১ কোটি ৯০ লাখ ডলার। সে অনুযায়ী এক বছরের ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহে স্পষ্ট বৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ৮৩৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ২০.৬০ শতাংশ বেশি।

    এর আগে গত মার্চে একক মাস হিসেবে রেকর্ডভাবে দেশে আসে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি গেল অর্থবর্ষে যথাক্রমে এসেছে ৩১৭ কোটি ৯ লাখ এবং ৩০২ কোটি ৭ লাখ ডলার। ডিসেম্বরে রেমিট্যান্স ছিল ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ, নভেম্বর ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ, অক্টোবর ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ এবং সেপ্টেম্বর ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ডলার।

    মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা বৈদেশিক মুদ্রা বাজারকেও প্রভাবিত করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের চাহিদা বাড়ায় টাকার বিনিময়ে ডলারের দর বেড়ে গেছে, ফলে প্রবাসীরা বাংলাদেশে টাকা পাঠালে তুলনামূলকভাবে বেশি না পাওয়া যাচ্ছে।

    অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংকট দীর্ঘকাল স্থায়ী হলে সেটি সরাসরি ও পরোক্ষভাবে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে শক্ত অবস্থায় রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

  • অর্থমন্ত্রী জানান: দেশের বৈদেশিক ঋণ ৭৮,০৬৭.২০ মিলিয়ন ডলার

    অর্থমন্ত্রী জানান: দেশের বৈদেশিক ঋণ ৭৮,০৬৭.২০ মিলিয়ন ডলার

    অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, দেশের বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ বর্তমানে ৭৮,০৬৭.২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। তিনি এই তথ্য নানুন মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৮তম দিনের প্রশ্নোত্তর পর্বে জানান। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা প্রশ্ন করে জানতে চেয়েছিলেন বর্তমান বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ, ঋণ পরিশোধে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে সরকার কি কোনো ঋণ পরিশোধ করেছে কি না।

    জবাবে অর্থমন্ত্রী বললেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকারের বৈদেশিক ঋণের স্থিতি ৭৮,০৬৭.২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। তিনি জানান, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের কাজ সরকারি পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) পরিচালনা করে।

    অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, প্রতিটি অর্থবছরে ঋণের মুল ও সুদ মিলিয়ে সম্ভাব্য মোট পরিশোধের একটি প্রক্ষেপণ তৈরি করা হয় এবং সেই অনুযায়ী বাজেটে তহবিল বরাদ্দ রাখা হয়। বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যবহার করে সারাবছর নির্ধারিত পরিশোধ সূচি অনুসারে ঋণ পরিশোধ করা হয়।

    তিনি জানান, বর্তমান সরকার ক্ষমতা নেওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত মোট ৯০.৬৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে।

  • ট্রাম্প: ইরানের সঙ্গে আলোচনার ‘সুখবর’ শুক্রবারের মধ্যে আসতে পারে

    ট্রাম্প: ইরানের সঙ্গে আলোচনার ‘সুখবর’ শুক্রবারের মধ্যে আসতে পারে

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা আলোচনা নিয়ে ‘সুখবর’ আসতে পারে আগামী শুক্রবারের মধ্যে। এই তথ্য বুধবার নিউইয়র্ক পোস্টকে ইসলামাবাদে সম্ভাব্য আলোচনার বিষয়ে দেওয়া এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান।

    পাকিস্তানি সূত্রগুলো জানায়, তেহরানের সঙ্গে ইতিবাচক মধ্যস্থতা চলছে এবং আগামী ৩৬ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে শান্তি আলোচনা এগোবার সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে। এ বিষয়ে নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প একটি টেক্সট মেসেজে সংক্ষিপ্তভাবে বলেছেন, ‘এটা সম্ভব!’— এবং নিজেকে ‘প্রেসিডেন্ট ডি.জে.টি.’ হিসেবে স্বাক্ষর করেছেন।

    এর আগে ট্রাম্প নিজ ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে লিখেছেন, পাকিস্তানের ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির ও প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের অনুরোধে তারা ইরানের ওপর হামলা স্থগিত রাখার আবেদন করেছে, যাতে ইরানি নেতৃত্ব ও প্রতিনিধিরা একটি ঐক্যবদ্ধ প্রস্তাব নিয়ে আসতে পারেন।

    ট্রাম্প আরও বলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে ‘অবরোধ অব্যাহত রাখার’ নির্দেশ দিয়েছেন এবং অন্য সব অবস্থায়ও প্রস্তুত ও সক্ষম থাকতে বলেছেন। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, প্রস্তাব জমা দেওয়া ও আলোচনা কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো পর্যন্ত তিনি যুদ্ধবিরতির সময়সীমা বাড়িয়ে রেখেছেন।

    পাকিস্তান ইসলামাবাদের সঙ্গে তেহরানের কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে এবং ওই মূল্যায়নের ভিত্তিতেই ৩৬ থেকে ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা নির্ধারিত হয়েছে বলে এক পাকিস্তানি সূত্র জানায়। নাম প্রকাশ না করে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘উত্তেজনা থাকা সত্ত্বেও যুদ্ধবিরতি বজায় আছে, যা উভয় পক্ষের ইতিবাচক মনের ইঙ্গিত দেয়—কারণ কোন পক্ষ থেকেও সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি না করার কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।’

    তবে ইরান এখনো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপ বা শান্তিচুক্তি বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। বুধবার এক ব্রিফিংয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, পাকিস্তানের আহ্বানের পর তারা তাদের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং এ ব্যাপারে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেনি।

    বাঘাই বলেন, ইসলামাবাদে প্রথম দফার সংলাপকে তারা গুরুত্ব দিয়েছিল এবং তাদের প্রতিনিধিরা সদিচ্ছা নিয়ে সেখানে গিয়েছিলেন; কিন্তু সেখানে তাদের যে দলের সঙ্গে বৈঠক করতে হয়েছে, তাদের সদিচ্ছা ছিল না এবং তারা সংলাপের গুরুত্বও বুঝতে পারেনি। তিনি আরও যোগ করেন, জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তা রক্ষার উপায় হিসেবে কূটনীতি প্রয়োগ করা হবে; যখনই উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হবে, তখনই পদক্ষেপ নেবে ইরান।

    পাকিস্তান মধ্যস্থতার চাপ অব্যাহত রাখছে এবং ইসলামাবাদ আরও উচ্চ পর্যায়ের আলোচনার জন্য প্রস্তুত বলে জানিয়েছে। তারা এই বিলম্বকে কূটনৈতিক ব্যার্থতা নয়, বরং একটি সাময়িক বাধা হিসেবে দেখছে।

    সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট, এনডিটিভি

  • রাত পোহালেই বিধানসভা ভোট, সব চোখ পশ্চিমবঙ্গে

    রাত পোহালেই বিধানসভা ভোট, সব চোখ পশ্চিমবঙ্গে

    রাত পোহালেই ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভোটের প্রথম দফা শুরু হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাজ্যের ১৬টি জেলায় ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে। বাকি ১৪২টি আসনে দ্বিতীয় দফার ভোট হবে ২৯ এপ্রিল — মোট ২৯৪টি আসনের লড়াইতে রাজনৈতিক ছকে তুমুল টক্কর প্রদর্শিত হবে।

    এই নির্বাচন কোথাও ক্ষমতা ধরে রাখার য鬪, কোথাও ক্ষমতা দখলের লড়াই, আবার কোথাও রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রাম—সব মিলিয়ে উত্তেজনা তুঙ্গে। ফলাফল কে কী রকম করে টেনে আনবে, তা নিয়ে চলছে প্রচুর জল্পনা; কারণ পশ্চিমবঙ্গের ভোটে কখনো ইস্যু নির্ভর, কখনো প্রার্থী-নির্ভর, আবার কখনো সম্পূর্ণ আলাদা সমীকরণ কাজ করে। এ বারও রাজ্যের পলিটিক সোনালী কেন্দ্রে দাঁড় করিয়ে রেখেছে কয়েকজন প্রধান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে।

    মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

    তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রেই নিজের উপস্থিতি রূপক—দলের নেতা-কর্মীরাও তাকে ‘এক ও অদ্বিতীয়’ বলে অভিহিত করেন। ২০১১ সালে বাম শাসন কুড়িয়েছে তিনি, এরপর থেকে বারবার ক্ষমতায় রয়েছেন। একজন জনসংযোগে পারদর্শী নেত্রী হিসেবে তার আবেদন এখনো কার্যকর: নারী মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে দীর্ঘ কার্যকাল, সংগ্রামী ভাবমূর্তি এবং বিস্তৃত জনসংযোগ তাকে শক্ত করে রাখে।

    তবে তার সরকারের বিরুদ্ধে নানা দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে—শিক্ষাক্ষেত্রে নিয়োগ দুর্নীতি, পৌরভিত্তিক নিয়োগ বিরোধ, রেশন দুর্নীতি সহ বিভিন্ন ইস্যু জাতীয় শিরোনামে এসেছে। কিছু প্রভাবশালী নেতা—মন্ত্রী সম্বন্ধে মামলা-সংক্রান্ত খবরও দলের ভাবমূর্তিকে কাঁপাতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন। তবে লক্ষ্মীভান্ডার, কন্যাশ্রী, স্বাস্থ্যসাথী ও যুবসাথীর মতো সামাজিক প্রকল্প আসন্ন ভোটে তৃণমূলের পক্ষে ভাবমূর্তি গড়তে ভূমিকা রাখতে পারে। এছাড়া রাজ্যের নারী ও মুসলমান ভোট ব্যাংকও তৃণমূলের জন্য বড় সমর্থন হিসেবে বিবেচিত।

    নরেন্দ্র মোদি—অমিত শাহ জুটি

    বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে বড় ধরনের মনোনিবেশ করেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় হেফাজতে থাকা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বহুবার রাজ্য পরিদর্শন করেছেন এবং বড় জনসভায় কেন্দ্রীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে ভোটার মন জয় করার চেষ্টা করেছেন। ‘বাঙালি অস্মিতা’, অনুপ্রবেশ, দুর্নীতি ইত্যাদি ইস্যুতে রাজনৈতিক আক্রমণ চালিয়ে তারা তৃণমূলকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।

    বিজেপি উল্লেখ করে যে কেন্দ্রীয় সুযোগ-সুবিধা রাজ্যে যথাযথভাবে পৌঁছছে না—এসব বিষয়ই তারা প্রচারের মূল অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। গত কয়েক বছরে রাজ্যে বিজেপির দলগত ভিত্তি শক্ত হলেও মোদিকে সামনে রেখেই পশ্চিমবঙ্গে জেতা কতটা সহজ হবে, সেটাই বড় প্রশ্ন। পাশাপাশি এসআইআর ও ভোটার তালিকা নিয়ে চলা বিতর্কও তাদের সামনে চ্যালেঞ্জ হিসেবে আছে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে বিজেপিকে ধর্মীয় মেরুকরণ ও সাংস্কৃতিক ভেদাভেদের অভিযোগে আক্রমণ করা হয়েছে।

    অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

    তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে বিধানসভায় দাঁড়াননি, তবু দলের পরিকল্পনা ও সাংগঠনিক শক্তি গঠনে তার ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি পার্টির রণকৌশল, প্রচার ও জমিতে কাজের ওপর নজর রাখছেন। জনমুখে তার ‘বয় নেক্সট ডোর’ ইমেজ এবং তরুণ নেতৃত্বের ভাবমূর্তির কারণে অনেকেই তাকে ভবিষ্যৎ নেতারূপে দেখেন। বিরোধীরা তাকে দুর্নীতি ও পরিবারতন্ত্রের আঙুলও তুলেছে, যা দলের সামগ্রিক ভাবমূর্তিতে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মত রয়েছ।

    শুভেন্দু অধিকারী

    একসময় মমতার ঘনিষ্ঠ, বর্তমানে বিজেপির অন্যতম শক্তিশালী মুখ হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীকে দেখা যাচ্ছে। নন্দীগ্রাম থেকে তার গতিশীলতা এবং ভবানীপুরে মমতাকে প্রত্যক্ষ চ্যালেঞ্জ—এসবই তাকে রাজ্যের প্রধান বিরোধী নেতাদের একজন করেছে। পূর্ব মেদিনীপুর ও সংলগ্ন অঞ্চলে তার প্রভাব আছে; তবে তিনি যে পাঠ নিয়ে আসছেন—ধর্মীয় মেরুকরণ সংক্রান্ত অভিযোগ—তাও বিরোধীর ধরনায় রয়েছে। এসআইআর সংশ্লিষ্ট সাপ্লিমেন্টারি তালিকা ও বাদ পড়া ভোটার সমস্যা নন্দীগ্রামের মতো কিছু এলাকায় বিজেপির নেতাদের জন্য ‘অস্বস্তির’ কারণ হতে পারে।

    হুমায়ুন কবীর

    রাষ্ট্রীয় রাজনীতিতে কেন্দ্রীয় চরিত্র নাও হোক, তবুও হুমায়ুন কবীরের দিকে বড় চোখ রয়েছে। কংগ্রেস থেকে বিজেপি, তারপর তৃণমূল—এভাবে দল বদলে শেষে তিনি ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’ গঠন করেছেন। মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদের নক্সায় মসজিদ নির্মাণ ও শিলান্যাস ঘিরে বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন তিনি। তার দল মসজিদ-নির্মাণ ইস্যুতে এবং মুসলিম ভোটকে টেনে নিয়ে নিজের সম্পৃক্ততা দেখাতে চেয়েছে—এজন্যই মুর্শিদাবাদের কয়েকটি আসনে তিনি প্রার্থী। তবে তার বিরুদ্ধে স্টিং অপারেশন, দলবদল ও বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে সমালোচনার জেনারেটরও বহুবার হয়েছেন। তৃণমূল বলছে তিনি মুসলিম ভোট কেটে বিজেপিকে সুবিধা করে দিচ্ছেন; বিজেপি বলেন তিনি মমতাকে সাহায্য করছেন—এই ঘরাণার জটিলতা রাজ্যের রাজনীতিতে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

    বিশ্লেষকদের মত

    প্রবীণ সাংবাদিক শিখা মুখার্জীর ভাষ্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গুরুত্ব রাজ্যের রাজনীতিতে পশ্চাদপূর্ব—তিনি তৃণমূলের কেন্দ্রীয় ফিগার। মোদি—শাহ জুটিকে তিনি দলের বিশ্বের মুখ হিসেবে দেখেন: মোদি প্রচার চালান, শাহ কৌশল সাজান। শুভেন্দু অধিকারীকে তিনি ‘বিপর্যয়জনক’ রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবেই দেখেন, এবং অভিষেককে মমতার ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন। হুমায়ুন কবীরকে শিখা মুখার্জী ততটা গুরুত্ব দেননি—বলেছেন তিনি বারবার দল বদল করেছেন এবং স্থায়ী রাজনৈতিক অবস্থান নেই।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষক উজ্জ্বল রায় বলেন, মোদি-শাহরা যখন কোনো নির্বাচনে জড়ান, তখন তাদের উপস্থিতি ঐ রাজ্যেই বিশেষ গুরুত্ব পায়। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে তারা প্রচারে ঝাঁপিয়ে পড়েছে, কিন্তু পুরোদমে জয় এনে দিতে পারবে কি না, তা সময়ই বলবে।

    নির্বাচন অতি ঘন এবং সিদ্ধান্ত অনিশ্চিত। মমতা—তৃণমূলের দরকার আছে নিজের শক্তি ধরে রাখতে, বিজেপি চেষ্টা করছে মোদির মেজাজে রাজ্য দখলের; অপরদিকে ছোট দল ও স্থানীয় নেতারা নিজেরভাবে খেলতে চাইছে—এসব মিলে ভোটের ফলকে বিদ্যমান সমীকরণ কিভাবে বদলায়, তা দেখতেও উৎসুক জনগণ। রাজ্য তথা দেশের রাজনৈতিক বীভৎসতা এবং ফলাফলের প্রভাব সারা দেশে নজরকাড়া হবে।

  • রামপালে সরকারি খাল থেকে অবৈধ বাঁধ উচ্ছেদ, পানি প্রবাহ স্বাভাবিক

    রামপালে সরকারি খাল থেকে অবৈধ বাঁধ উচ্ছেদ, পানি প্রবাহ স্বাভাবিক

    বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায় বুধবার সকাল ১০টার দিকে সরকারি খালের উপর নির্মিত অবৈধ বাঁধ কেটে অপসারণ করেছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযানটি উপজেলার ঝনঝনিয়া-নালিয়া খালের ওই অংশে পরিচালিত হয়।

    অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট অভিজিৎ চক্রবর্তী। তিনি জানালেন, দীর্ঘদিন ধরে খালে অবৈধ বাঁধ তৈরীর ফলে পানি চলাচলে ব্যাঘাত ঘটছিল, যার প্রভাব পড়ছিল স্থানীয় কৃষিক্ষেত্র ও পরিবেশে। তাই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

    অভিযানে বাঁধ কেটে অপসারণ করার পর খালের পানি প্রবাহ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে। প্রশাসন বলেন, খাল ও জলপথ রক্ষা করা সীমান্ত রক্ষা-সমতার মতো জরুরি—এভাবেই সুসংহত জল সরবরাহ বজায় থাকে এবং মাঠে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি রোধ পাওয়া যায়।

    অভিযান চলাকালে স্থানীয় জনতা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন এবং প্রশাসনের এ পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ভবিষ্যতে এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড পুনরাবৃত্তি হলে আইনানুগ কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার চলমান সতর্কতাটি পুনর্ব্যক্ত করেছে।

    আঞ্চলিক পরিবেশ ও কৃষি উৎপাদন সুরক্ষায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে খাল-নালা রক্ষণাবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত থাকবে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

  • যশোরে পুত্রবধূ মরিয়ম শাশুড়িকে গলাকেটে হত্যা করে বস্তায় ফেলে

    যশোরে পুত্রবধূ মরিয়ম শাশুড়িকে গলাকেটে হত্যা করে বস্তায় ফেলে

    যশোরের বেজপাড়া এলাকায় সালদি সম্পর্কের বিবাদের জের ধরে পুত্রবধূ মরিয়ম বেগম (২০) তার শাশুড়ি সকিনা বেগম (৬০)কে গলাকেটে হত্যা করে মরদেহ বস্তায় ভরে বাড়ির সামনে ফেলে রাখেন। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দেশীয় চাপাতিও উদ্ধার করা হয়েছে।

    বুধবার (২২ এপ্রিল) পুলিশ সুপার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাসার এই তথ্য জানান। ঘটনার পর ডিবি ও কোতোয়ালি থানার যৌথ টিম ইনসপেকশন করে আলামত সংগ্রহ করেছে এবং তদন্ত চলছে। সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আহসান হাবীব ও অন্যান্য কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

    নিহত সকিনা বেগম বেজপাড়া মেইন রোড এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা এবং লাল চাঁদ খলিফার স্ত্রী। পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে সকিনা বেগমের ছেলে শহিদুল দোকানে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হন। যাওয়ার আগে তার স্ত্রী মরিয়ম জানিয়ে দেন যে বাড়িতে রান্না নেই, তাই তারা বাইরে খাবেন। শহিদুল মাকে খোঁজ করলে তাকে বলা হয় তিনি তালিমে গেছেন।

    রাত সাড়ে ১০টার দিকে বাড়ি ফিরে মাকে না পেয়ে শহিদুল পুনরায় খোঁজখবর নেন। তখন তার স্ত্রী জানায় তার মা বাড়িতে ফেরেননি। বিষয়টি সন্দেহজনক লাগায় শহিদুল থানায় জানাই করেন। পরে রাত সাড়ে বারটার দিকে বাড়ির সামনের একটি বস্তার মধ্যে লাশ দেখে শহিদুল ও তার বোন শাহিদা বেগম সেটিকে সকিনা বেগম হিসেবে শনাক্ত করেন।

    ইতোমধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে এবং প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে। সন্দেহজনক আচরণ ও প্রাপ্ত আলামতের ভিত্তিতে মরিয়মকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদে মরিয়ম হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে এবং জানান, দীর্ঘদিন ধরে শাশুড়ির সঙ্গে পারিবারিক বিবাদ চলছিল। ওইদিন শাশুড়ি তাকে উতকে বলায় ক্ষুব্ধ হয়ে ঘরে থাকা একটি চাপাতি দিয়ে গলাকেটে শাশুড়িকে হত্যা করেন। পরে মরদেহ বস্তাবন্দি করে বাড়ির সামনে রেখে দেন এবং হত্যা কাজে ব্যবহৃত চাপাতিটি ওয়ারড্রবের ভেতর লুকিয়ে রাখেন।

    অভিযুক্তের দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে পুলিশ তার ঘর থেকে চাপাতি উদ্ধার করেছে। আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং ঘটনার আরও কারণ-প্রসঙ্গ выясনা ও সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে।

  • শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে সিরিজে সমতায় বাংলাদেশ নারী দল

    শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে সিরিজে সমতায় বাংলাদেশ নারী দল

    তিন ম্যাচের সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে সিরিজে সমতায় ফিরলো বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। প্রথম ম্যাচে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশ এই ম্যাচে ৪ উইকেটে হারলে সিরিজ ঠিক করণের জন্য সামনে রাখল নিশ্চিত নির্ধারণী তৃতীয় ম্যাচ, যা আগামী শনিবার হবে।

    রাজশাহীতে টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। কিন্তু শুরুতেই ব্যাটিংয়ের ওপর চাপ পরে বাংলাদেশের টপঅর্ডারে—কেবলমাত্র দলীয় পাঁচ রানে জুয়াইরিয়া ফেরদৌস (২) ও শারমিন আক্তার (০) আউট হন। অধিনায়ক জ্যোতি একপ্রান্ত আগলে রাখলেও পাশে সহায়তা না পাওয়া তরুণ এই ব্যাটারের একক চেষ্টা দলের সংগ্রহ বাড়াতে পারলো না। জ্যোতি করেন ১০১ বলের এক ধৈর্যশীল ইনিংস, যেখানে ছিল ৫৮ রান ও চারটি চার।

    টপ ও মিডল অর্ডারে আর কেউ বড় সংগ্রহ করতে না পারায় বাংলাদেশের রানতাস শুরু হয় ধীরে ধীরে: শারমিন সুলতানা ২৫, স্বর্ণা আক্তার ১৬, রিতুমনি ১৭, নাহিদা আক্তার ২০, রাবেয়া খান ১৫, মারুফা আক্তার ১ ও সুলতানা খাতুন ১। দলীয় ইনিংস থামে ১৬৫ রানে।

    শ্রীলঙ্কার হয়ে অধিনায়ক চামারি আতাপাতু বল হাতে বেশ সফল ছিলেন—সবমোট তিনটি উইকেট নেন তিনি। দলের অন্য তিনজন বোলারও দুটি করে উইকেট নিয়েছেন, ফলে বাংলাদেশের ইনিংস বানানো গোল করা যায়নি।

    জবাবে ১৬৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শ্রীলঙ্কা সূচনাই ভালো রাখতে পারেনি: হাসিনি পেরেরা মাত্র ৫ ও ইমেশা দুলানি ৮ রান করে ফেরেন। কিন্তু অধিনায়ক চামিরা আতাপাতু আগ্রাসী ছিলেন—৩৯ বলে ৪০ রান করে তার ইনিংসটি আটটি চারে সাজানো ছিল এবং সে দলকে সংগ্রহে রেখে সাহায্য করলেন। চতুর্থ উইকেটে হারশিথা সামারাবিক্রমা ও হানসিমা করুনারত্নের ৭৭ রানের জুটি দলের জয়ের ভিত গড়ে দেয়। উভয় ব্যাটার আলাদা আলাদা সময় আউট হলেও (করুনারত্নে ৪০, সামারাবিক্রমা ৫০) পরে কৌশানি, কাভিশা ও নীলাক্ষীর সহযোগিতায় সফরকারীরা লক্ষ্যটি পূরণ করে মাঠ ছাড়ে।

    বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ চারটি উইকেট নেন নাহিদা আক্তার। সুলতানা খাতুন ও রিতুমনি একটি করে উইকেট নেন। ম্যাচে হার সত্বেও সিরিজের গতিপথ এখন নির্ধারণ করবে তৃতীয় ও নির্ধারণী ম্যাচ—যা দুই দলের জন্যই চূড়ান্ত থাকবে।

  • আইসিসি বাংলাদেশকে জরিমানা করলো

    আইসিসি বাংলাদেশকে জরিমানা করলো

    মিরপুরে গত পরশু দ্বিতীয় ওয়ানডেতে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে সিরিজে সমতায় ফিরেছে বাংলাদেশ। আগামীকাল চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে তৃতীয় ও নির্ধারণী ওয়ানডেতে মুখোমুখি হবে দুই দল — ম্যাচের আগেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) শাস্তি ঘোষণা করেছে মেহেদী হাসান মিরাজের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ দলের বিরুদ্ধে।

    আইসিসি জানিয়েছে, স্লো ওভার রেটের বিধিভঙ্গের জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি থেকে ১০ শতাংশ জরিমানা ধার্য করা হয়েছে। সংস্থার একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বাংলাদেশ নির্ধারিত সময়ে থেকে দুই ওভার কম বোলিং করেছে, যা নিয়ে মাঠের আম্পায়ার রিচার্ড ইলিংওয়ার্থ ও গাজী সোহেলসহ তৃতীয় আম্পায়ার নিতিন মেনন এবং চতুর্থ আম্পায়ার মাসুদুর রহমান মুকুল অভিযোগ দায়ের করেন। শাস্তি কার্যকর করেছেন আইসিসির এলিট প্যানেলের ম্যাচ রেফারি অ্যান্ডি পাইক্রফট।

    আইসিসির খেলোয়াড় ও স্টাফদের আচরণবিধির ২.২২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের প্রতিটি ওভারের অনুপস্থিতির জন্য প্রত্যেকে ৫ শতাংশ করে জরিমানা হয়; বাংলাদেশ দুই ওভার কম করায় মোট ১০ শতাংশ জরিমানা করা হয়েছে। দলপতি মিরাজ দোষ স্বীকার করে শাস্তি মেনে নিয়েছেন, তাই আনুষ্ঠানিক শুনানির প্রয়োজন পড়েনি।

    ম্যাচে নিউজিল্যান্ড টস জিতে আগে ব্যাটিং করে; সফরকারীরা ৪৮.৪ ওভারে ১৯৮ রানে অলআউট হয়। স্লো ওভার রেটের কারণে ম্যাচের শেষ তিন ওভারে বাংলাদেশকে বৃত্তের ভেতরে একজন বেশি ফিল্ডার রেখে ফিল্ডিং করতে বাধ্য করা হয়েছিল। ফলে ওপেনিংয়ের পরে বাংলাদেশ নির্ধারিত সময়ের আগেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করে জয় পায় — দলটি ৮৭ বল হাতে রেখেই পাঁচ উইকেটে ম্যাচ জিতে নেয়। নাহিদ রানা ম্যাচসেরার খেতাব অর্জন করেন।

    চতুর্থ ম্যাচ থেকে সিরিজ নির্ধারণী হওয়ার কারণে আগামিকাল চট্টগ্রামে মাঠে নামা দুই দলই সিরিজ আলাদা করে নেয়ার লক্ষ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে; ম্যাচ শুরুর আগে এই শাস্তি বাংলাদেশ দলের জন্য মাথায় যোগ হয়েছে।

  • গম পাচারের অভিযোগে ইডির তলবে নুসরাত জাহান

    গম পাচারের অভিযোগে ইডির তলবে নুসরাত জাহান

    ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) গম পাচারের অভিযোগের ব্যাপারে অভিনেত্রী ও সাবেক সাংসদ নুসরাত জাহানকে তলব করেছে।

    ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন বলছে, রেশন দুর্নীতি এবং সীমান্ত পেরিয়ে খাদ্যশস্য পাচারের একটি মামলার অংশ হিসেবে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছে। তাকে নির্ধারিত দিনে কলকাতার সিজিও কমপ্লেক্সে হাজির থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, করোনা সময়কালে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে একাধিক ট্রাক আটক করা হয়েছিল; সেগুলোতে সরকারি রেশন ব্যবস্থার গম ও চাল থাকার অভিযোগ ওঠে এবং এসব খাদ্যশস্য বাংলাদেশে পাচার হওয়ার সম্ভাবনা মূল্যায়ন করা হচ্ছে। ওই সময় বসিরহাটের সাংসদ ছিলেন নুসরাত জাহান—তাই তদন্তকারীরা তার ভূমিকা সম্পর্কে জানতে আগ্রহী।

    তবে এ তলবকে সরাসরি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বলা যাচ্ছে না; এটি তদন্তের অংশ হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাজিরা প্রদানের অনুরোধ। নুসরাত জাহানের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

    এই তলবের ফলে গম পাচার ও রেশন দুর্নীতির জটিল মামলাটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে এবং তদন্ত কিভাবে আগাবে তা আগামী দিনে ইডি-ই ঘোষণা করবে।