Blog

  • আইসিসি ভোটে বাংলাদেশ পেল মাত্র ২টি সমর্থন

    আইসিসি ভোটে বাংলাদেশ পেল মাত্র ২টি সমর্থন

    বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) President আমিনুল ইসলাম বুলবুল শেষ মুহূর্তে ব্যাপক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা করেছিলেন। গত কয়েক দিনে তিনি বিভিন্ন দেশের ক্রিকেট বোর্ডের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করে সমর্থন আদায় করার চেষ্টা করেন। তবুও অধিকাংশ বোর্ডের সমর্থন মিলেনি এবং বাংলাদেশ সেই লড়াই জিততে পারেনি।

    আজ সন্ধ্যায় আইসিসির বোর্ড বৈঠকে বাংলাদেশ ইস্যুতে ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হয়। বিসিবির একটি দায়িত্বশীল সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে, ভোটে বাংলাদেশ মাত্র ২টি ভোট পেয়েছে এবং সিদ্ধান্ত হয়েছে ১২-২ ব্যবধানেই। ভোটে ১২টি পূর্ণ সদস্য বোর্ড ও ২টি সহযোগী দেশের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। বাংলাদেশের পক্ষে কেবল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) ভোট দিয়েছে।

    ভোটের পর আইসিসি একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়েছে যে ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ীই অনুষ্ঠিত হবে এবং বাংলাদেশের নির্ধারিত সব ম্যাচই ভারতেই হবে। বিসিবি আগেই দাবি করা ছিল যে তাদের সব матч শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নিতে হবে—এই প্রস্তাব নিয়ে আইসিসি বোর্ড ভিডিও কনফারেন্সে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয় যে টুর্নামেন্টের এত কাছাকাছি সময়ে ভেন্যু পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।

    বিসিবি সূত্র জানিয়েছে, আইসিসি বিসিবিকে পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানোর নির্দেশ দিয়েছে। বিসিবিকে এক দিনের সময় দেয়া হয়েছে। যদি বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত ভারতে অংশগ্রহণ না করে, তাহলে বিশ্বকাপে ‘সি’ গ্রুপে তাদের স্থলে স্কটল্যান্ডকে দেখা যেতে পারে।

    বর্তমানে সবাই অপেক্ষায় আছে যে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিসিবি কী সিদ্ধান্ত জানাবে। সূত্র: আজকের পত্রিকা।

  • আইসিসির কাছ থেকে ‘অলৌকিক’ সমাধান আশা করছেন বিসিবি সভাপতি

    আইসিসির কাছ থেকে ‘অলৌকিক’ সমাধান আশা করছেন বিসিবি সভাপতি

    আতঙ্ক বা প্রত্যাশার এক পঙক্তির মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে বাংলাদেশ ক্রিকেট: যদি ভারত গিয়ে না খেলতে হয় তাহলে আইসিসির সবশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়বে বাংলাদেশ। তবুও অংশগ্রহণের বিষয়ে নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত এখনো নেয়নি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

    বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল জানিয়েছেন, বিষয়টি চূড়ান্ত করার আগে তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে (আইসিসি) আরও সময় চান—সরকারের সঙ্গে ‘শেষবারের মতো’ কথা বলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য। বুধবার (২১ জানুয়ারি) আইসিসির সঙ্গে এক ভিডিও বৈঠকের পর তিনি বলেছেন, নিরাপত্তার বিষয়টিকে পুনর্বিবেচনার জন্য ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা সময় দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন এবং আইসিসি সেই সময় দিয়েছেন।

    বুলবুল বলেন, “আমি আইসিসিকে বলেছি, সরকারের সঙ্গে শেষবার কথা বলার সময় চাই। আমি সরকারকে চাপ দিতে চাই না। আমাদের অবস্থান পরিষ্কার—ভারত আমাদের জন্য নিরাপদ নয়। আমরা শ্রীলঙ্কায় খেলতে চাই।” তিনি জানান, সরকারের চূড়ান্ত প্রতিক্রিয়া পাওয়ার পর তা আইসিসিকে জানিয়ে দেয়া হবে।

    বিসিবি সভাপতির কথায় স্পষ্ট হতাশা মিশে আছে—বিশ্বকাপে খেলতে প্রত্যেকের ইচ্ছা আছে, কিন্তু নিরাপত্তা প্রশ্নে সরকারকে পুরো পরিস্থিতি বিবেচনা করতে হবে। এমন পরিস্থিতিতে তিনি আইসিসির কাছ থেকে কোনো ‘অলৌকিক’ সমাধানের আশাও করছেন বলে জানিয়েছেন।

    ইএসপিএনক্রিকইনফো জানিয়েছে, আইসিসির সঙ্গে বৈঠকে বিসিবির একমাত্র প্রতিনিধি ছিলেন আমিনুল ইসলাম। সেখানে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে দিলেও গ্রুপ পরিবর্তনের প্রস্তাব খারিজ করা হয়েছে। বিসিবি আয়ারল্যান্ড কিংবা জিম্বাবুয়ে’র সঙ্গে গ্রুপ বদলের প্রস্তাব দিয়েছিল, কিন্তু শ্রীলঙ্কা নতুন কোনো দলকে গ্রুপে নিতে রাজি হয়নি বলে জানা গেছে।

    বর্তমানে বাংলাদেশ গ্রুপ ‘সি’ তে রয়েছে—একই গ্রুপে আছে ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নেপাল ও ইতালি। সূচি অনুযায়ী টাইগারদের প্রথম তিনটি ম্যাচ কলকাতায় এবং শেষটি মুম্বাইয়ে। উদ্বোধনী দিনে, ৭ ফেব্রুয়ারি, দলটি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মাঠে নামার কথা রয়েছে।

    নিরাপত্তা ইস্যুর সূত্রপাত মূলত ৩ জানুয়ারি। ওই দিন ভারতীয় বোর্ড (বিসিসিআই) আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি কলকাতা নাইট রাইডার্সকে বাংলাদেশি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে ছাড়তে বললে বিষয়টি বিবেচনায় আসে। আনুষ্ঠানিক কারণ না জানালেও কূটনৈতিক উত্তাপের প্রেক্ষিতে ঘটনাটি তুলনামূলকভাবে গুরুতরভাবে দেখা হয়। এর পরদিন, ৪ জানুয়ারি, বিসিবি সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করে আইসিসিকে জানায়—নিরাপত্তাজনিত কারণে বাংলাদেশ দল ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলবে না। তারপরেও একাধিক বৈঠকের পর বিসিবির অবস্থান সহজে বদলায়নি।

    অন্যদিকে আইসিসি মোস্তাফিজ ইস্যুকে বিশ্বকাপ নিরাপত্তার সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত নয় বলে বিবেচনা করেছে। তাদের যুক্তি ছিল—একটি ঘরোয়া লিগে একজন খেলোয়াড়ের ব্যাপারে ঘটনার সঙ্গে বিশ্বকাপের নিরাপত্তা কাঠামোর কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই।

    এখন দৃষ্টিপথে সরকারি সিদ্ধান্তই—বিসিবি সরকারের চূড়ান্ত অবস্থানের উত্তর অপেক্ষায় আছে। সময় খুবই কম; সিদ্ধান্ত না বদলালে বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের বাদ পড়া প্রায় নিশ্চিত বলে দৃশ্যমান।

  • চিত্রনায়িকা জয়শ্রী কবির আর নেই

    চিত্রনায়িকা জয়শ্রী কবির আর নেই

    প্রখ্যাত চিত্রনায়িকা জয়শ্রী কবির আর নেই। গত ১২ জানুয়ারি যুক্তরাজ্যের লন্ডনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর।

    মৃত্যুর সংবাদ প্রথম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান তাঁর ভাগ্নে জাভেদ মাহমুদ। তিনি জানান, জয়শ্রী কবির এককালের জনপ্রিয় নায়িকা ও ১৯৬৮ সালের ‘মিস ক্যালকাটা’। তিনি সত্যজিৎ রায়ের সিনেমা প্রতিদ্বন্দ্বী এবং পরিচালক আলমগীর কবিরের সীমানা পেরিয়ে, রুপালি সৈকতে, সূর্য কন্যা ও মোহনা–র মতো সিনেমায় অভিনেত্রী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

    পরিবার বা নিকটজন এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত্যুর কারণ জানাতে পারেনি। জাভেদ মাহমুদ জানান, লন্ডনে অনেক দিন ধরেই তিনি অসুস্থ ছিলেন।

    জয়শ্রী দীর্ঘদিন লন্ডনে বসবাস করছিলেন এবং সেখানে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্যের শিক্ষকতা করতেন। প্রায় এক দশক আগে তিনি একবার ঢাকায় এসেছিলেন; তারপর আর স্থায়ীভাবে বাংলাদেশে দেখা যায়নি।

    জয়শ্রী ১৯৫২ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন; পারিবারিক নাম জয়শ্রী রায়। সাউথ পয়েন্ট স্কুলে পড়াশোনা করে ১৯৬৮ সালে ‘মিস ক্যালকাটা’ হওয়া তাঁর früতের সফল মুহূর্তগুলোর মধ্যে একটি। ১৯৭০ সালে সত্যজিৎ রায়ের পরিচালিত প্রতিদ্বন্দ্বী সিনেমার মাধ্যমে তিনি চলচ্চিত্রে প্রবেশ করেন; এরপর ১৯৭৬ সালে মুক্তি পায় অসাধারণ যেখানে তিনি উত্তম কুমারের বিপরীতে অভিনয় করেন। পরবর্তীকালে তিনি বাংলাদেশি চলচ্চিত্রেও কাজ করে বহুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

    ১৯৭৫ সালে আলমগীর কবিরের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়, যা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি; প্রায় তিন বছরের মাথায় দাম্পত্য জীবনের ইতি ঘটে। তাদের সংসারে এক পুত্র সন্তান—লেনিন সৌরভ কবির—রয়েছেন। বিবাহ বিচ্ছেদের পর জয়শ্রী প্রথমে কলকাতায় যান এবং পরে লন্ডনে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন; সেখান থেকে ছেলের সঙ্গে তিনি জীবনযাপন করেছেন।

    জয়শ্রী কবিরের মৃত্যুতে চলচ্চিত্র ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের এক শান্ত ও মাধুর্যপূর্ণ কণ্ঠ নীরব হয়ে গেল। পরিবারের তরফ থেকে পরবর্তীতে যদি আরও তথ্য জানানো হয়, তা সংবাদ মাধ্যমের মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে।

  • ঢালিউডের ‘ড্যান্সিং হিরো’ ইলিয়াস জাভেদ আর নেই

    ঢালিউডের ‘ড্যান্সিং হিরো’ ইলিয়াস জাভেদ আর নেই

    ঢালিউডের সোনালী দিনের খ্যাতিমান নায়ক ও উজ্জ্বল নৃত্যশিল্পী ইলিয়াস জাভেদ আর নেই। দীর্ঘদিন ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করার পর ৮২ বছর বয়সে তিনি না ফেরার দেশে চলে গেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

    বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য সনি রহমান মৃত্যুর খবর গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। ইলিয়াস জাভেদ ১৯৪৪ সালে ব্রিটিশ ভারতের পেশাওয়ারে জন্মগ্রহণ করেন। পরে পরিবারের সঙ্গে পাঞ্জাবে চলে গেলেও নির্মাণশিল্পের আকর্ষণে তিনি ঢাকার চলচ্চিত্র অঙ্গনেই স্থায়ী হন।

    জানি গেছে, দীর্ঘদিন ক্যান্সারে আক্রান্ত থাকা এই শিল্পী আরও নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। গত বছরের এপ্রিলে তিনি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

    সংবাদমাধ্যমকে জাভেদের স্ত্রী ডলি চৌধুরী বলেন, আজ সকালে তার শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি হয়। দীর্ঘ দিনের চিকিৎসাসেবা মূলত বাসাতেই চলছিল; হাসপাতাল থেকে চিকিৎসক ও নার্সরা বাড়িতে এসে দেখাশোনা করতেন। আজ সকালে দুই নার্স এসে জানান, তার শরীর ঠান্ডা হয়ে গেছে। এরপর অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    জ্যেষ্ঠ এই অভিনেতার সিনেমাজীবন শুরু হয় নৃত্য পরিচালনার মাধ্যমে; পরে নায়ক হিসেবে পরিচিতি পান। ১৯৬৪ সালের উর্দু চিত্রনাট্য ‘নয়ী জিন্দেগি’তে নায়ক হিসেবে রুপালি পর্দায় তাঁর অভিষেক হলেও ১৯৬৬ সালে ‘পায়েল’ সিনেমার বিপরীতে শাবানার সঙ্গে অভিনয় করে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেন। চলচ্চিত্র পরিচালক মুস্তাফিজই তাকে ‘জাভেদ’ নামে পরিচিত করেন।

    তার পর থেকেই একের পর এক ব্যবসাসফল ছবিতে অভিনয় করে তিনি দর্শকদের মনে ‘ড্যান্সিং হিরো’ হিসেবে স্থায়ী স্থান করে নেন। ব্যক্তিগত জীবনে ১৯৮৪ সালে তিনি জনপ্রিয় নায়িকা ডলি চৌধুরীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। আসল নাম ছিলেন রাজা মোহাম্মদ ইলিয়াস। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।

    জাভেদের উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে: মালেকা বানু, নিশান, পাপী শত্রু, রক্ত শপথ, সাহেব বিবি গোলাম, কাজল রেখা, অনেক দিন আগে, আজও ভুলিনি, কঠোর, মা বাবা সন্তান, রাখাল রাজা, রসের বাইদানী, জীবন সঙ্গী ও আবদুল্লাহ।

    সত্তর ও আশির দশকের দর্শকদের কাছে ইলিয়াস জাভেদ ছিল পর্দার প্রাণবন্ত নাচ আর তীক্ষ্ণ অ্যাকশনের এক অনন্য মিশ্রণ। তাঁর প্রয়াণে বাংলা চলচ্চিত্রের এক স্বতন্ত্র অধ্যায়ের সমাপ্তি হলো। দীর্ঘদিন নীরবে চিকিৎসা নিয়ে থাকা এই গুণী শিল্পীর প্রতি শ্রদ্ধানাজ্ঞা ও সমবেদনা।

  • ফ্ল্যাটের পাশাপাশি নগদও: ওসমান হাদির পরিবার পাচ্ছে মোট ২ কোটি টাকা

    ফ্ল্যাটের পাশাপাশি নগদও: ওসমান হাদির পরিবার পাচ্ছে মোট ২ কোটি টাকা

    সরকার শহীদ শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির পরিবারকে জীবিকা ও বাসস্থানের সহায়তার জন্য মোট দুই কোটি টাকা দেবে। এর মধ্যে ঢাকায় ফ্ল্যাট কেনার জন্য এক কোটি টাকা এবং জীবিকা নির্বাহের জন্য আলাদাভাবে নগদ এক কোটি টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার নয়—বৈঠকে—আজ (বুধবার) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের মাধ্যমে ফ্ল্যাট কেনার জন্য এক কোটি টাকা অনুদান অনুমোদন করা হয়েছে এবং প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে জীবনযাপনের খরচ হিসেবে আলাদাভাবে এক কোটি টাকা দেওয়া হবে। ফলত পরিবারের মোট সহায়তা দুই কোটি টাকা হবে।

    ফ্ল্যাটটি ঢাকার লালমাটিয়ায় সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য নির্মিত ‘দোয়েল টাওয়ার’ সম্মিলিত আবাসিক ভবনে ১ হাজার ২১৫ বর্গফুটের একটি ইউনিট। এ ফ্ল্যাট কেনার জন্য অনুদান অনুমোদনের নথিপত্র অর্থ বিভাগের তরফ থেকে গতকাল মঙ্গলবার অনুমোদন করা হয়। সূত্র জানান, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে এ অনুদানের জন্য আবেদন করা হয়েছিল এবং অর্থ বিভাগ স্ত্রী ও সন্তানদের পরিচয় নিশ্চিত করার শর্তে আবেদন মঞ্জুর করেছে।

    পুলিশি তদন্ত অনুযায়ী ঘটনার প্রেক্ষাপটও বিবেচনায় রাখা হয়েছে। গণপ্রতিরোধ চিত্রে শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি ঢাকা-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা করেছিলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার পরপরই ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পল্টনের বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। প্রথমে ঢাকা মেডিকেলে অস্ত্রোপচার করা হয়; পরে তাঁকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং ১৫ ডিসেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে সিঙ্গাপুর পাঠানো হয়। সেখানকার সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাত সাড়ে নয়টায় তিনি মারা যান।

    ওসমান হাদির হত্যার মূল অভিযুক্ত ও ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ফয়সল করিম বর্তমানে ভারতে পালিয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। তাঁর মৃত্যুর পর প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস ঘোষণা করেছিলেন যে রাষ্ট্র তাঁর স্ত্রী ও সন্তানের দায়িত্ব নেবে এবং ঘটনার পরে এক দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হয়।

    এদিকে ওই পরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরেকটি খবর—শহীদ ওসমান বিন হাদির ভাই ওমর বিন হাদি ১৫ জানুয়ারি যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে বাংলাদেশ উচ্চকমিশনের সহকারী হাইকমিশনে দ্বিতীয় সচিব হিসেবে তিন বছরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পান, যা অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্তে করা হয়।

  • মাইলস্টোন ট্রাজেডি: ৬ মাস ও ৩৫ অপারেশনের পর বাড়ি ফিরল আবিদুর রহিম

    মাইলস্টোন ট্রাজেডি: ৬ মাস ও ৩৫ অপারেশনের পর বাড়ি ফিরল আবিদুর রহিম

    রাজধানীর উত্তরায় বিমান বিধ্বস্তের ক্ষতিগ্রস্ত মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র আবিদুর রহিম (১২) শেষ পর্যন্ত ছয় মাস চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছেন। জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের কর্তৃপক্ষ বুধবার (২১ জানুয়ারি) সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

    প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক অধ্যাপক নাসির উদ্দিন জানান, ঘটনার দিন ২১ জুলাই থেকে এখন পর্যন্ত আবিদ এখানে চিকিৎসাধীন ছিল—মোট ছয় মাস বা প্রায় ১৮০ দিন। ওই সময়ে তাদের ইনস্টিটিউটে মোট ৩৫ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং আবিদ ছিল তাদের মধ্যে সর্বশেষ রোগী। তার দেহের প্রায় ২২ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। আঘাতের সঙ্গে ইনহেলেশন বার্ন, মুখ পুড়ে যাওয়া এবং দুই হাত জঘন্যভাবে পোড়ার মতো জটিলতা ছিল। ঘটনার সময় সে ক্লাসরুমের সামনের সারির পাশে ছিল।

    অধ্যাপক নাসির জানান, আবিদের অবস্থার তীব্রতা দেখে প্রথমে তাকে পাঁচ দিন আইসিইউতে রাখা হয় এবং এরপর ছয় দিন হাইডি-পেন্ডেন্সি ইউনিটে (এইচডিইউ) চিকিৎসা চালানো হয়। মোট ১৭২ দিন কেবিনে থাকার পর ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে তিনি ছাড়পত্রের যোগ্য হন। দুই হাতে গুরুতর ক্ষতির কারণে তাকে ফ্যাসেকটমি করা হয়েছিল—চামড়া কেটে বিভিন্ন শল্যচিকিৎসা করে হাত রক্ষা করা হয়। পুরো চিকিৎসার সময় তার শরীরে মোট ৩৫টি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে; ছোট ধরনের অপারেশন ছিল ২৩টি এবং চামড়া লাগানো হয়েছে ১০বার। মূলত মুখ ও হাতের ফ্ল্যাপ কাভারেজ করা হয়েছে।

    দীর্ঘ সময় হাসপাতালের শয্যায় থাকার কারণে সূর্যালোক ও বাড়ির পরিবেশ থেকে দূরে থাকায় শরীরে বিভিন্ন গ্রাফিক্যাল ও শারীরিক জটিলতা তৈরি হয়েছিল; সেগুলো কাটাতে এখন নিয়মিত থেরাপি প্রয়োজন। সঠিক পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে হাসপাতালটি চেষ্টা করছে যেন আত্মীয়-পরিজনদের কাছে ফিরলেও নিয়মিত চিকিৎসা ও থেরাপি নেওয়া চালিয়ে যেতে পারে।

    পরিচালক আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “আজ আমাদের আনন্দের দিন—আবিদ আজ বাড়ি যাচ্ছে। এই চিকিৎসায় যারা সহযোগিতা করেছেন—চিকিৎসক, নার্স ও হাসপাতালের প্রতিটি কর্মকর্তা কর্মচারী—তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। অনেক সময় আমাদের ডিউটির সীমা ছিল না, সবাই স্বপ্রণোদিত ভাবে কাজ করেছেন। পরিবারের পক্ষেও অনেক ত্যাগ সহ্য করা হয়েছে; তাদের সহযোগিতাও ছিল অভিনন্দনীয়।” তিনি জানান, সরকার এই চিকিৎসার ব্যয় বহন করার নির্দেশ থাকার কারণে হাসপাতাল কোনো ব্যক্তিগত আর্থিক অনুদান নেয়নি।

    অধ্যাপক নাসির আরও বলেন, মাইলস্টোন ঘটনার মতো বড় বিপর্যয়ে আন্তর্জাতিক মানের ওষুধ ও ড্রেসিং ম্যাটেরিয়াল ব্যবহারের প্রয়োজন দেখা গেছে। ভবিষ্যতে এমন মানসম্পন্ন চিকিৎসা সরবরাহে প্রস্তুত থাকতে মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেওয়া হয়েছে এবং সরকারের কাছ থেকে সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। তিনি জানান, যারা এখন পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে ছুটি পেয়েছেন তাদের অন্তত দুই বছরেরও বেশি সময় নিয়মিত ফলো-আপে থাকতে হতে পারে; এজন্য একটি বিশেষ সেলও খোলা হয়েছে যেন চিকিৎসার যেকোনো সমস্যা থাকলে সমাধান দেওয়া যায়।

    আবিদুর রহিমের বাবা আবুল কালাম আজাদ আবেগভরে বলেন, “আমার ছেলে আজ ছয় মাস চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরছে—এটা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। আমি তাকে জিজ্ঞেস করি, ‘আজ কেমন লাগছে?’ সে বলল, ‘বাবা, আজ আমার ঈদের মত লাগছে।’ চিকিৎসক ও নার্সদের সহযোগিতায় আমি অভিভূত।” তিনি আরও জানান, ছেলেটি কৃতিষ্ঠভাবে বিশেষ এক চিকিৎসককে ‘অদ্ভুত ডাক্তার’ হিসেবে ডাকত—তার নাম ফোনে সেইভাবেই সেভ আছে।

    আবু কালাম সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, আহত ও নিহতদের জন্য যে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করা হয়েছিল তা এখনও ঠিকভাবে দেওয়া হয়নি। ছেলেকে বাড়ি পাঠানোর পরে আরও অনেক চিকিৎসা-বিকল্প অপেক্ষা করছে, যেগুলোর ব্যয় পরিবার বহন করতে পারবে না—সেজন্য তিনি ক্ষতিপূরণের পরিমাণ পুনঃনির্ধারণের আবেদন জানান।

    সংবাদ সম্মেলনে আবিদ নিজেও কথা বলার চেষ্টা করেন; “আজ আমি হাসপাতাল থেকে চলে যাচ্ছি” বলে কেঁদে পড়েন। অনুষ্ঠানে হাসপাতালের যুগ্মপরিচালক অধ্যাপক ডা. মারুফুল ইসলাম, জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমানসহ অন্যান্য চিকিৎসক ও নার্সরা উপস্থিত ছিলেন।

    উল্লেখ্য, গত বছরের ২১ জুলাই বিমান বাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ওপর বিধ্বস্ত হয়। এতে অনেকে আহত হন—জাতীয় বার্নে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৩৬ জন চিকিৎসা নিয়েছিলেন।

  • মব করে জনমত প্রভাবিত করার দিন শেষ: জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান

    মব করে জনমত প্রভাবিত করার দিন শেষ: জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান

    রাজধানীর মিরপুর পীরেরबাগে জামায়াতের নারী কর্মীদের বিরুদ্ধে হওয়া হেনস্তা ও হামলার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান। বুধবার (২১ জানুয়ারি) আহতদের দেখতে হাসপাতালে গিয়ে তিনি বলেন, এখন মানুষ অনেক বেশি সচেতন; মব করে জনমত প্রভাবিত করার দিনের শেষ হয়েছে।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যদি কাউকে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করতে দেখা যায়, সেটি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে জানান। তারা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। কোনো ব্যক্তি বা কোনো দলের অধিকার নেই বনেদি বা অরাজক মব সৃষ্টি করার। জামায়াত নোংরা মব ও সহিংসতার কঠোর নিন্দা জানায় এবং এমন ঘটনার স্থায়ী সমাধান চাইছে।

    তিনি আরও বলেন, আমরা চাই এই মব-ঘটনাই এখানেই শেষ হয়ে যাক। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকতেই পারে, তবে সেটাকে শান্তিপূর্ণ ও আইনি পথে রাখতে হবে। সবাই জনগণের কাছে যাবে, নিজের বক্তব্য উপস্থাপন করবে এবং দলীয় অঙ্গীকারগুলো সামনে তুলে ধরবে। তারপর জনগণ অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ বিচার করে সিদ্ধান্ত নেবে কাদের ওপর আস্থা রাখবে।

    জামায়াত আমির বলেন, তাদের অঙ্গীকার স্পষ্ট: তারা দুর্নীতি ও দুঃশাসনমুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়তে চায় যেখানে কোনোভাবে ফ্যাসিজম ফিরে আসবে না। ঠিক এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে তারা পরপর দু’টি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে বলে জানান তিনি।

    ডা. শফিকুর রহমান ৩শ’ আসনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদেরও সংবর্ধনা জানিয়ে বলেন, জনগণের প্রতি আস্থা রাখুন। নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখুন এবং ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করুন যাতে ভোটাররা নিজের পছন্দমতো প্রতীক চিহ্নিত কাগজে ভোট দিয়ে নির্বিঘ্নে বাক্সে পৌঁছে দিতে পারে।

  • ঢাকা-১৭: তারেক রহমানের পক্ষে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের আনুষ্ঠানিক বরাদ্দ

    ঢাকা-১৭: তারেক রহমানের পক্ষে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের আনুষ্ঠানিক বরাদ্দ

    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ধানের শীষ প্রতীকের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

    বুধবার (২১ জানুয়ারি) ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয় থেকে ধানশীষ প্রতীকের সম্পর্কিত চিঠি তারেক রহমানের পক্ষে গ্রহণ করেন ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সাবেক সহ-আইন বিষয়ক সম্পাদক মো. মনিরুল ইসলাম। তিনি জানান, বিভাগীয় কমিশনার তারেক রহমানের পক্ষে ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ দিয়েছেন।

    প্রতীক পেয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মনিরুল ইসলাম বলেন, বিভাগীয় কমিশনার সব প্রার্থীদের নির্বাচনী আচরণবিধি মানতে বলেছেন। তিনি আরও বলেন, যুবকদের থেকে শুরু করে সব শ্রেণির ভোটাররা তারেক রহমানকে ভোট দেওয়ার জন্য মুখিয়ে রয়েছে।

    এদিন ঢাকা-১৭ আসনে জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী এস এম খালিদুজ্জমান ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক পেয়েছেন।

    নির্বাচন কমিশন বুধবার প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দিয়েছে। প্রতীকপ্রাপ্ত প্রার্থীরা বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবেন।

    ইসির ঘোষিত রোডম্যাপ অনুযায়ী ভোটগ্রহণ নির্ধারিত হয়েছে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে এক দিনেই পৃথক ব্যালটে গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে।

  • প্রতি ভরিতে সোনার দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ: ২ লাখ ৪৪ হাজার ১২৮ টাকা

    প্রতি ভরিতে সোনার দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ: ২ লাখ ৪৪ হাজার ১২৮ টাকা

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) জানিয়েছে, দেশের বাজারে সোনার দাম বেড়েছে — প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ২৪৯ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়ে ইতিহাসের সর্বোচ্চ বর্ষায় পৌঁছেছে। ফলস্বরূপ সবচেয়ে ভালো মানের সোনার দাম বেড়ে গিয়ে এক ভরিতে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৪ হাজার ১২৮ টাকায়।

    বাজুস মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) একটি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়। সংস্থাটি জানিয়েছেন, নতুন দাম ২১ জানুয়ারি বুধবার থেকে কার্যকর হবে।

    সংগঠনটির বক্তব্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক বাজারে পিওর গোল্ড বা তেজাবি সোনার দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় বাজারেও মূল্য বাড়ছে। বিশ্বজুড়ে স্বর্ণ ও রুপার দর সম্পর্কিত চিকিৎসিত ওয়েবসাইট গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি অনুযায়ী বৈশ্বিক বাজারে স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৪৭৪৫ ডলারের ওপরে পৌঁছেছে।

    নতুন দাম অনুযায়ী সোনার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে এইভাবে — ২২ ক্যারেটের একটি ভরির দাম ২ লাখ ৪৪ হাজার ১২৮ টাকা, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৮৮ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯৯ হাজার ৭৪৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৬৩ হাজার ৮২১ টাকা।

    রূপার দামও একই সঙ্গে বেড়েছে। নতুন হিসেবে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৬ হাজার ৫৯০ টাকা, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৫ হাজার ২৯৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ৪২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৮২ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।

    বাজার ও গ্রাহকদের জন্য এই পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ হবে বলে বাজার পূর্ণদৃষ্টি রাখার পরামর্শ দিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

  • কাস্টমস ডিউটি কমল, মোবাইল ফোনের দামও কমার সম্ভাবনা

    কাস্টমস ডিউটি কমল, মোবাইল ফোনের দামও কমার সম্ভাবনা

    গ্রাহক এবং দেশীয় উৎপাদকদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে মোবাইল ফোন আমদানিতে কাস্টমস ডিউটি কমিয়ে ২৫ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। পাশাপাশি দেশীয় মোবাইল সংযোজনকারীদের জন্য উপকরণ আমদানির শুল্কও ১০ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশে নামিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

    এনবিআর ওই সংশোধনী সম্পর্কিত পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপন আজ মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) জারি করেছে বলে প্রতিষ্ঠানটির জনসংযোগ কর্মকর্তা আল আমিন শেখ জানিয়েছেন।

    এনবিআর জানিয়েছে, মোবাইল ফোন আমদানিতে প্রযোজ্য বিদ্যমান শুল্ক ২৫% থেকে ১০% হওয়ায় ওই শুল্কে মোট ৬০ শতাংশ হ্রাস এসেছে। একইভাবে মোবাইল ফোন সংযোজনকারীদের উপকরণ আমদানিতে বিদ্যমান শুল্ক ১০% থেকে ৫% হওয়ায় সেখানে প্রযোজ্য শুল্ক ৫০ শতাংশ কমেছে।

    এই শুল্ক হ্রাস বাস্তবায়িত হলে বাজারে প্রভাব পড়ার হিসাব অনুযায়ী, ৩০ হাজার টাকার বেশি মূল্যবাহী সম্পূর্ণ আমদানি করা প্রতিটি মোবাইল ফোনের দাম আনুমানিক ৫,৫০০ টাকা কমতে পারে। আর ৩০ হাজার টাকার ওপরে দেশের মধ্যে সংযোজিত প্রতিটি মোবাইল ফোনের দাম আনুমানিক ১,৫০০ টাকা পর্যন্ত কমবে বলে এনবিআর জানিয়েছে।

    সরকার আশা করছে, আমদানি ও সংযোজনের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য শুল্ক হ্রাসের ফলে সব ধরণের মোবাইল ফোনে মূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকবে এবং নাগরিকদের জন্য ডিজিটাল সেবা গ্রহন আরও সহজ হবে। এছাড়া স্থানীয় মোবাইল সংযোজন শিল্পও বিরূপ প্রতিযোগিতা থেকে মুক্ত থাকবে।

    এনবিআর জানিয়েছে, ভবিষ্যতেও মোবাইল ফোনের মূল্য জনগণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে সরকারের পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।