Blog

  • শিনজো আবের হত্যায় অভিযুক্তকে আজীবন কারাদণ্ড

    শিনজো আবের হত্যায় অভিযুক্তকে আজীবন কারাদণ্ড

    জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবেকে গুলি করে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত তেতসুইয়া ইয়ামাগামিকে নারা ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট আজীবন কারাদণ্ড দিয়েছে, বুধবার রায় ঘোষণা করে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

    ঘটনাটি হয়েছিল ২০২২ সালের জুলাইয়ে। জাপানের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর নারা-য়ে এক নির্বাচনী জনসভায় বক্তৃতার সময় হাতে তৈরি বন্দুক দিয়ে আবে-কে লক্ষ্য করে গুলি করেন ইয়ামাগামি; ঘটনাস্থলেই তাকে গ্রেফতার করা হয়। আবে মারা যান; মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৬৭।

    বিচালনার শুরুতেই—অক্টোবরে—ইয়ামাগামি হত্যার দায় স্বীকার করেন, ফলে দোষী সাব্যস্ত হওয়া অনস্বীকার্য ছিল। কিন্তু শুনানিতে সবাই যে ব্যাপারে নজর রেখেছিল তা ছিল ঘটনাটির তীব্রতার ওপর দিতে হবে কি না। রায় ঘোষণার সময় বিচারক শিনিচি তানাকা গুলির ঘটনায় ‘জঘন্য’ শব্দটি ব্যবহার করে বলেন, বড় জনসমাবেশে বন্দুক ব্যবহার করা অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং এটি একটি দুষ্কৃতিমূলক অপরাধ।

    পক্ষে থাকা কৌঁসুলিরা মৃত্যুদণ্ড চেয়ে নয়—তারা ইয়ামাগামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়ার দাবি করেছিলেন। তারা আবে—জাপানের দীর্ঘসময় ক্ষমতায় থাকা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী—কে নৃশংসভাবে হত্যাকে ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর যুগের এক বহুল পরিমাণে মারাত্মক ও নজিরবিহীন ঘটনা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

    অপরদিকে ইয়ামাগামির আইনজীবীরা আদালতে তার কাজের পেছনে পারিবারিক সমস্যাসহ ইউনিফিকেশন চার্চ সম্পর্কিত সমস্যা থাকার কথা তুলে ধরে ২০ বছরের কম রাজনৈতিক কারাদণ্ড দাবি করেন।

    রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে কি না—তা নিয়ে আইনজীবীরা জানিয়েছে, তারা ইয়ামাগামির সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে পরে সিদ্ধান্ত নেবেন। হত্যাকান্ডটি তখন দেশটিকে দীর্ঘ সময় স্তব্ধ করে দিয়েছিল এবং রাজনৈতিক নিরাপত্তা ও জনসাধারণের নিরাপত্তা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক ছড়িয়ে দিয়েছিল।

  • রকিবুল বকুল: আধুনিক প্রযুক্তিতে প্রশিক্ষণ দিয়ে তরুণদের বেকারত্ব দূর করা হবে

    রকিবুল বকুল: আধুনিক প্রযুক্তিতে প্রশিক্ষণ দিয়ে তরুণদের বেকারত্ব দূর করা হবে

    দেশের উন্নয়ন এবং সমৃদ্ধির অন্যতম চালিকা শক্তি তরুণ সমাজ — এই বিশ্বাস ব্যক্ত করেছেন বিএনপি কেন্দ্রীয় ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৩ (ধানের শীষ) প্রার্থী আলহাজ্ব রকিবুল ইসলাম বকুল। তিনি বলেন, তরুণদের খেলাধুলায় উদ্বুদ্ধ করে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ রাখা এবং আধুনিক প্রযুক্তি ও দক্ষতায় প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের সফল কর্মজীবনে পরিণত করা হবে। এর মাধ্যমে বেকারত্ব কমানো সম্ভব হবে।

    গতকাল (বুধবার) আড়ংঘাটা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সেন্টারবাসীর আয়োজনে অনুষ্ঠিত দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রকিবুল ইসলাম বকুল এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য ছিল বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করা।

    আয়োজক সদস্য শেখ মনিরুল ইসলাম সভাপতিত্ব করেন। দৌলতপুর থানা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক মতলেবুর রহমান মিতুল মাহফিলটির সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ শেখ সাদী, সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক মোঃ চৌধুরী শফিকুল ইসলাম হোসেন এবং সাবেক ইমাম মাওলানা মোঃ মোদাছের হোসেন।

    অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক শিক্ষক দুলাল চন্দ্র সরদার, বিশিষ্ট সমাজসেবক এস এম সফিক, শেখ আবু তালেব, শেখ জাফর ইমামসহ থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের বিএনপি নেতারা এবং এলাকার বিপুল সংখ্যক সাধারন মানুষ।

    সমাবেশ শেষে বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। রকিবুল বকুল অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া সকলের সঙ্গে কথা বলে তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নে তার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

  • গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে: নজরুল ইসলাম মঞ্জু

    গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে: নজরুল ইসলাম মঞ্জু

    বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক, ভোটাধিকারভিত্তিক, নিরাপদ ও সশ্রদ্ধ সা¤প্রদায়িক সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়া দলের মূল লক্ষ্য। দেশের গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও বাকস্বাধীনতা পুনরুদ্ধার করতে স্বকীয় শহীদ সহযোদ্ধাদের রক্তের ঋণ শোধ করতে হবে—তারা যে ত্যাগ করেছেন তা বৃথা যেতে দেয়া হবে না, তিনি বলেন।

    নজরুল ইসলাম মঞ্জু গত বুধবার দিনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন। সকাল ১০টায় তিনি খুলনা মডেল স্কুলের প্রধান শিক্ষক সহ সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং মতবিনিময় করেন। এরপর বেলা সাড়ে ১১টায় খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা প্রশাসক আ. স. ম. জমশেদ খোন্দকার তাকে খুলনা-২ আসনের জন্য ধানের শীষ প্রতীক প্রদান করেন।

    দুপুর ১২টায় হোটেল ক্যাসেল সালামে তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের এক প্রতিনিধির সঙ্গে মতবিনিময় করেন। বিকেলের পর রূপসা স্ট্যান্ড রোডে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের আয়োজনে অনুষ্ঠিত শ্রমিক সমাবেশ ও মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন তিনি। দোয়া পরিচালনা করেন মাওলানা মুজিবর রহমান।

    বাদ মাগরিব খুলনা বড় বাজার ব্যবসায়ী ঐক্য সমন্বয় পরিষদের আয়োজিত মতবিনিময় সভায় (সভাপতি: গোপী কিষণ মুন্ধড়া, পরিচালনায়: মনিরুল ইসলাম মাসুম) প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মনজু জানান, জনগণ দীর্ঘ ১৭ বছর ভোটকেন্দ্রে নিরাপদে গিয়ে ভোট দেয়নি; এখন মানুষ নির্ভয়ে ভোট দিতে চায় এবং পছন্দমতো প্রার্থী বেছে নিতে চায়। অতীতের মতো ভোটাধিকার হরণকে তিনি ভাষায় তীব্র সমালোচনা করেন এবং বলেন, তা ফিরিয়ে আনতে হবে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে।

    নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছিল; যারা হত্যা করেছেন, তারা বিএনপিকে ধ্বংস করতে চাইছিল—তারা বাংলাদেশকেও ধ্বংসের চেষ্টা করেছিল। কিন্তু বেগম জিয়া তাদের চেষ্টা ব্যর্থ করে বিএনপিকে দেশে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তাই আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করে জনগণের নির্বাচিত সরকার গঠন করাই তাদের এই মুহূর্তের প্রধান লক্ষ্য, তিনি জানান।

    অনুষ্ঠানগুলিতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন রফিক মোড়ল এবং গীতা পাঠ করেন আকাশ ব্যনার্জী। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা মহানগর বিএনপি সভাপতি এড. শফিকুল আলম মনা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুজ্জামান মনি, মহানগর সাধারন সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন, নার্গিস আলী ও জাফরউল্লাহ খান সাচ্চু সহ অনেকে। এছাড়া শহরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা কর্মীবৃন্দও সভাগুলোতে অংশ নেন।

    অপর দিকে দুপুর সাড়ে ১২টায় মহানগর বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে খুলনা-২ আসনের নির্বাচনী কার্যক্রম সুচারুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে গঠিত উপ-কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার সভাপতিত্ব করেন মহানগর বিএনপি সভাপতি এড. শফিকুল আলম মনা এবং পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন। সভায় উপ-কমিটির আহ্বায়ক, যুগ্ম আহ্বায়ক, সদস্য সচিব ও অন্যান্য সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

    সভায় সিদ্ধান্ত হয় আগামী ২২ জানুয়ারি সকাল ১১টায় নগরীর ফেরিঘাট মোড় থেকে প্রচার কার্যক্রম শুরু করে ধানের শীষ প্রতীকের লিফলেট বিতরণ করা হবে এবং সকল স্তরের নেতাকর্মীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সবাইকে আহ্বান জানানো হয়।

  • উপ-প্রেস সচিব: একটা বিশ্বকাপ না খেললেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বন্ধ হবে না

    উপ-প্রেস সচিব: একটা বিশ্বকাপ না খেললেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বন্ধ হবে না

    বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তকে ঘিরে তীব্র বিতর্ক চলছে। নিরাপত্তার উদ্বেগ উত্থাপন করে বিসিবি আগেই ঘোষণা দিয়েছে যে দল ভারত যাওয়া থেকে বিরত থাকবে। আইসিসি সেই সিদ্ধান্ত মানতে নারাজ — তারা স্পষ্ট জানিয়েছে, খেলতে হলে ম্যাচগুলোই ভারতেই হবে এবং সূচিতে পরিবর্তন গ্রহনযোগ্য নয়। আশানুরূপ প্রতিক্রিয়া না পালে আইসিসির পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে এক দিনের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে বলা হয়েছে; তা না হলে দলকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দিয়ে অন্য কেউ (যেমন স্কটল্যান্ড) নেওয়ার কথাও চলছে।

    এই প্রেক্ষাপটে টেলিভিশন আলোচনায় প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার কড়া অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‘অস্ট্রেলিয়া ২০০৩ বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কা খেলতে যায়নি, ইংল্যান্ড জিম্বাবুয়েতে খেলতে যায়নি, নিউজিল্যান্ড কানাডায় খেলতে যায়নি — তাতে তাদের ক্রিকেট থেমে গিয়েছে কি? যদি বাংলাদেশ একটা বিশ্বকাপ না খেলেই, তাহলে আমাদের ক্রিকেট বন্ধ হয়ে যাবে?’’ তাঁর এই বক্তব্যে তিনি নিরাপত্তার স্বার্থে সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার নিয়ে জোর দেন এবং দেশীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পক্ষে মত প্রকাশ করেন।

    সরকারও বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে দেখছে। যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল আজ বিকেল ৩টায় রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বিশ্বকাপ দলে থাকা ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। সেখানে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে এবং অবশেষে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে তা নির্ধারণের চেষ্টা করা হবে।

    বিসিবি আগেই আইসিসিকে একটি চিঠি পাঠিয়ে জানিয়েছে যে নিরাপত্তার কারণে ভারতে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ এবং বাংলাদেশের ম্যাচগুলো অন্যত্র (যেমন শ্রীলঙ্কা) আয়োজনের অনুরোধ করেছে। তবে আইসিসি আত্মবিশ্বাসী; তাদের নিরাপত্তা মূল্যায়নে কোনো বড় ঝুঁকি পাওয়া যায়নি, ফলে পুরো সূচি বদলানো সম্ভব নয় বলে তারা জানিয়েছে। তাদের যুক্তি ছিল, সূচি বদলালে টুর্নামেন্টের নিরপেক্ষতা ও মর্যাদা হুমকিতে পড়বে।

    বিসিবি ও সরকারের মধ্যে যে বিতর্ক ও বৈঠক চলছে, তার ফলটাই আগামী কয়েক ঘণ্টায় খুলে যাবে — চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কাকে অনুসরণ করবে, বিসিবি ও খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগ নাকি আইসিসির অনমনীয় সময়সীমাই চূড়ান্ত করবে। সেক্ষেত্রে দেশের ক্রিকেটপ্রেমীরাও অনিশ্চয়তার মধ্যে থেকে সিদ্ধান্তের প্রতীক্ষায় রয়েছেন।

  • বাংলাদেশ খেলতে না পারলে পাকিস্তানও বিশ্বকাপ বর্জনের ইঙ্গিত

    বাংলাদেশ খেলতে না পারলে পাকিস্তানও বিশ্বকাপ বর্জনের ইঙ্গিত

    পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের খবরে বলা হয়েছে—বাংলাদেশ যদি ২০২৬ সালের আইসিসি পুরুষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য ভারতে যাওয়ার অনুরোধ প্রত্যাহার করে টুর্নামেন্ট বর্জন করে, তাহলে পাকিস্তানও একই পথে হাঁটতে পারে।

    জিও নিউজের সূত্রে জানা গেছে, নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তাদের ম্যাচগুলো ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায় সরানোর আবেদন করেছিল। যদি সেই অনুরোধ মেনে নেওয়া না হয়, তাহলে বাংলাদেশ বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়াতে পারে এবং সেই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানও টুর্নামেন্ট বর্জনের সিদ্ধান্ত নিতে পারে—এমন ইঙ্গিত পাঠানো হয়েছে।

    বিসিবি বৃহস্পতিবার জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে আলোচনা করে ভারতের বিরুদ্ধে দল পাঠানো নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। সূত্রের খবর, খেলোয়াড়দের বড় অংশ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের পক্ষে, কিন্তু শেষ মুহূর্তে বোর্ড যদি সরে যায় তবে পাকিস্তানও একই সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলে বলা হচ্ছে।

    বিগত সময়ে রাজনীতিকভাবে ঢাকা ও দিল্লির সম্পর্কের উত্তেজনা ক্রিকেটেও প্রভাব ফেলেছে। উদাহরণ হিসেবে বলা হয়—আগামী আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সের সঙ্গে চুক্তি থাকলেও বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে পরে স্কোয়াড থেকে বাদ দেয়া হয়েছিল; এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশে আইপিএলের সম্প্রচার স্থগিত করা হয়। এসব ঘটনার প্রেক্ষিতেই বিসিবি নিজেদের ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের দাবি জানিয়েছে।

    আইসিসি জনপ্রতিনিধিদের এক বোর্ড সভায় বিসিবির আবেদন খারিজ করে বলে জানানো হয়েছে। আইসিসি বলেছে—নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী টুর্নামেন্টই অনুষ্ঠিত হবে; কোনো বিশ্বাসযোগ্য নিরাপত্তা হুমকি না থাকলে সূচি পরিবর্তন ভবিষ্যৎ টুর্নামেন্টগুলোর জন্য বিপজ্জনক নজির গড়বে। আইসিসি জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়—৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ—ই ভারত ও শ্রীলঙ্কায় বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে এবং বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারতেই আয়োজন করা হবে।

    আইসিসি বোর্ডের ভিডিও কনফারেন্স হওয়ার একদিন পরই এই সিদ্ধান্ত উত্থাপিত হয়। সংস্থাটি বলেছে, বাংলাদেশ তাদের ম্যাচগুলো ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায় সরানোর অনুরোধ করেছিল, কিন্তু বোর্ড নিয়মিত সূচি বজায় রাখার পক্ষে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

    আইসিসির সিদ্ধান্তের পর বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, তিনি সরকারের সঙ্গে ‘‘আর একবার শেষ আলোচনার’’ জন্য আইসিসির কাছে সময় চেয়েছেন। আমিনুলের কথায়, আইসিসি বিষয়টিকে যৌক্তিক মনে করেছে এবং তাকে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা সময় দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘আমি সরকারকে চাপ দিতে চাই না। আমাদের অবস্থান পরিষ্কার—আমরা শ্রীলঙ্কায় খেলতে চাই, কারণ আমরা মনে করি ভারত আমাদের জন্য নিরাপদ নয়।’’

    তিনি আরও বলেন, আইসিসির সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে সরকারকে পরামর্শ দেয়া হবে। ‘‘আমি এখনও আইসিসির কাছ থেকে কোনো অলৌকিক সমাধানের আশা করছি। খেলোয়াড়রা এবং সরকার চায় বাংলাদেশ বিশ্বকাপ খেলুক। কিন্তু সরকার সিদ্ধান্ত নেবার সময় কেবল খেলোয়াড়দের ইচ্ছাই নয়, সামগ্রিক নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক বিষয়গুলো বিবেচনায় নেবে,’’ যোগ করেন আমিনুল ইসলাম।

    বর্তমান পরিস্থিতিতে বিসিবির সামনে দুটি পথ খোলা—নিজেদের দাবি প্রত্যাহার করে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করা অথবা টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ানো। আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হচ্ছে ৭ ফেব্রুয়ারি। সূচি অনুযায়ী, গ্রুপ ‘সি’-তে থাকা বাংলাদেশ ৭ ফেব্রুয়ারি কলকাতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে, ৯ ফেব্রুয়ারি ইতালির বিপক্ষে এবং ১৪ ফেব্রুয়ারি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবে। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচটি ১৭ ফেব্রুয়ারি মুম্বাইয়ে নেপালের বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত হবে।

    পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে পারে—বিসিবি ও সরকারের সিদ্ধান্ত এবং আইসিসির চূড়ান্ত বার্তার ওপরই ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে।

  • ঢালিউডের ‘ড্যান্সিং হিরো’ ইলিয়াস জাভেদ আর নেই

    ঢালিউডের ‘ড্যান্সিং হিরো’ ইলিয়াস জাভেদ আর নেই

    ঢালিউডের জনপ্রিয় নায়ক ও কালজয়ী নৃত্যশিল্পী ইলিয়াস জাভেদ আর নেই। দীর্ঘদিন ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করার পর সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। খবরটি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য সনি রহমান।

    ১৯৪৪ সালে ব্রিটিশ ভারতের পেশাওয়ারে জন্মগ্রহণ করেন ইলিয়াস জাভেদ। পরবর্তীতে পরিবারসহ পাঞ্জাবে চলে গেলেও পরমপ্রেমে চলচ্চিত্রের দিকে পা বাড়ান—and শেষ পর্যন্ত জীবন কাটে ঢাকার চলচ্চিত্র অঙ্গনে। দীর্ঘ সময় ধরে ক্যান্সারসহ নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি; গত বছরের এপ্রিলে একবার হাসপাতালে ভর্তি ও চিকিৎসাধীন ছিলেন।

    জাভেদের স্ত্রী দলি চৌধুরী সংবাদমাধ্যমকে জানান, আজ সকালেই তাঁর স্বামীর শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি হয়। তারা কয়েক দিন ধরে বাসাতেই চিকিৎসা চালাচ্ছিলেন; হাসপাতালে থেকে চিকিৎসক ও দুজন নার্স এসে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছিলেন। আজ সকালে দুজন নার্স এসে জানান, তাঁর সারা শরীর ঠান্ডা হয়ে গেছে। এরপর অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    শিল্পী হিসেবে ইলিয়াস জাভেদের যাত্রা শুরু হয়েছিল নৃত্যপরিচালক হিসেবে; পরে অভিনয় করেই তিনি দর্শকদের মনে জায়গা করে নেন। ১৯৬৪ সালে উর্দু সিনেমা ‘নয়ী জিন্দেগি’র মাধ্যমে নায়ক হিসেবে প্রথমবার রুপালি পর্দায় আবির্ভূত হন তিনি। কিন্তু প্রকৃত প্রতিষ্ঠা পান ১৯৬৬ সালের ছবী ‘পায়েল’ দিয়ে, যেখানে শাবানার বিপরীতে অভিনয় করে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেন। পরিচালক মুস্তাফিজই পরবর্তীতে তাকে ‘জাভেদ’ নামেই পরিচিত করেন।

    একগুচ্ছ ব্যবসাসফল ছবি এবং ঝলমলে নাচের হাতখড়ি দিয়ে ৭০-৮০ দশকের দর্শকদের কাছে তিনি ‘ড্যান্সিং হিরো’ হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ১৯৮৪ সালে নায়িকা দলি চৌধুরীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। আসল নাম রাজা মোহাম্মদ ইলিয়াস—পেশায় তিনি নৃত্যপরিচালনা থেকেই ক্যারিয়ার শুরু করেন এবং পরে নায়ক হিসেবে শতাধিক চলচ্চিত্রে কাজ করেন।

    জাভেদের উল্লেখযোগ্য কিছু চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে: মালেকা বানু, নিশান, পাপী শত্রু, রক্তশপথ, সাহেব বিবি গোলাম, কাজল রেখা, অনেক দিন আগে, আজও ভুলিনি, কঠোর, মা বাবা সন্তান, রাখাল রাজা, রসের বাইদানী, জীবন সঙ্গী ও আবদুল্লাহ।

    ইলিয়াস জাভেদের প্রস্থান বাংলা চলচ্চিত্রের জন্য এক দুঃখজনক অধ্যায়বন্দি—একসময় পর্দা কাঁপানো নাচ ও অ্যাকশনের এক অবিস্মরণীয় মিশ্রণ আজ স্মৃতিতেই সীমাবদ্ধ হয়ে গেল। দীর্ঘ সময় নীরবে চিকিৎসা নেয়ার পরও শেষপর্যন্ত তিনি না ফেরার দেশে চলে গেলেন।

  • চিরবিদায়: দুই বাংলার জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা জয়শ্রী কবিরের মৃত্যু

    চিরবিদায়: দুই বাংলার জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা জয়শ্রী কবিরের মৃত্যু

    দুই বাংলার জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা জয়শ্রী কবির আর নেই। গত ১২ জানুয়ারি যুক্তরাজ্যের লন্ডনে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর।

    জয়ের মৃত্যু সংবাদ প্রথম জানানো হয় তার ভাগ্নে জাভেদ মাহমুদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে। সেখানে তিনি লিখেছেন, “আমার মামি, বিখ্যাত নায়িকা জয়শ্রী কবির—এককালের ‘মিস ক্যালকাটা’—লন্ডনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। উনি সত্যজিৎ রায়ের সিনেমা ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’, আলমগীর কবিরের ‘সীমানা পেরিয়ে’, ‘রূপালি সৈকতে’, ‘সূর্য কন্যা’ প্রভৃতিতে নায়িকা ছিলেন।” জয়শ্রী কবিরের মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি; তবে পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, লন্ডনে দীর্ঘদিন ধরে তিনি অসুস্থ ছিলেন।

    জয়শ্রী কবিরের জীবন ও কর্মযাত্রা ছিল বৈচিত্র্যময়। ১৯৫২ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন—পারিবারিক নাম জয়শ্রী রায়। শিক্ষাজীবন কেটেছে সাউথ পয়েন্ট স্কুলে। ১৯৬৮ সালে তিনি ‘মিস ক্যালকাটা’ খেতাব জিতে শিশুকাল থেকেই আলোচনায় আসেন। চলচ্চিত্রে প্রবেশ ঘটে ১৯৭০ সালে সত্যজিৎ রায়ের ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’ ছবির মাধ্যমে, যা সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের গল্প অবলম্বনে নির্মিত হয়েছিল। ১৯৭৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘অসাধারণ’ সিনেমায় উত্তম কুমারের বিপরীতে অভিনয় করে তিনি ব্যাপক প্রশংসা পান।

    পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশী চলচ্চিত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং পরিচালক আলমগীর কবিরেরSeveral Several Several Several Several SeveralSeveralSeveralSeveral

  • শিনজো আবে হত্যায় অভিযুক্ত তেতসুইয়া ইয়ামাগামিকে আজীবন কারাদণ্ড

    শিনজো আবে হত্যায় অভিযুক্ত তেতসুইয়া ইয়ামাগামিকে আজীবন কারাদণ্ড

    সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবেকে গুলি করে হত্যা করার দায়ে অভিযুক্ত তেতসুইয়া ইয়ামাগামিকে জাপানের বিচারপ্রক্রিয়ায় আজীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। সাড়ে তিন বছর আগে এ ধাঁচের নিপীড়ক ঘটনা জাপানকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল; বুধবার সেই হত্যাকাণ্ডের মামলায় রায় ঘোষণা করা হলো।

    ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২২ সালের জুলাইয়ে পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর নারা-র এক নির্বাচনী প্রচারের মঞ্চে। তখন ৬৭ বছরের শিনজো আবে বক্তৃতা দিচ্ছিলেন; হাতে তৈরি বন্দুক নিয়ে হঠাৎই ওই মঞ্চে তেতসুইয়া ইয়ামাগামি গুলি চালান। ঘটনায় তিনি ঘটনাস্থলেই গ্রেপ্তার হন; নিহত আবের বয়স ছিল ৬৭ বছর, এবং তখনই ইয়ামাগামির বয়স ছিল ৪৫।

    নারা জেলা আদালতে বিচারের সময় অক্টোবরে প্রথম শুনানিতে ইয়ামাগামি তার দায় স্বীকার করেছিলেন, তাই দোষ প্রমাণে আলাদা লড়াই ছিল না। রায় ঘোষণার মূল প্রশ্ন ছিল সাজার তীব্রতা কত হবে। রায় পড়ার সময় বিচারক শিনিচি তানাকা এই ঘটনার বর্ণনা ‘‘জঘন্য’’ বলে করেন এবং বলেন, বড় জনসমাবেশে বন্দুক ব্যবহার করা অত্যন্ত বিপজ্জনক ও দণ্ডনীয় অপরাধ।

    প্রসিকিউটররা হত্যার জন্য অভিযুক্তকে মৃত্যুদণ্ড চান, তারা এটিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরের যুগে জাপানে বিরল ও অত্যন্ত মারাত্মক একটি ঘটনা বলে আখ্যায়িত করেছেন। অপরদিকে রক্ষাকারী আইনজীবীরা মামলার পটভূমি হিসেবে ইউনিফিকেশন চার্চ-সম্পর্কিত পারিবারিক সমস্যা তুলে ধরে ২০ বছরের কম কালের সাজা চেয়েছিলেন।

    আচরণ ও রায়ের পর আইনজীবীরা জানিয়েছেন, ইয়ামাগামির সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে যে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে কি না। এঘটনাটি দেশজুড়ে রাজনৈতিক সহিংসতার বিষয়ে ব্যাপক আলোচনার ঝড় তোলে এবং বহু মানুষের মনে শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছিল।

  • সাতক্ষীরার চার আসনে ২০ প্রার্থীর মাঝে প্রতীক বরাদ্দ

    সাতক্ষীরার চার আসনে ২০ প্রার্থীর মাঝে প্রতীক বরাদ্দ

    সাতক্ষীরার চারটি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী ২০ প্রার্থীর মাঝে উৎসবমুখর পরিবেশে প্রতীক বরাদ্দ করা হয়েছে। বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুর ১২টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মিজ আফরোজা আখতার জেলা-স্তরের রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ও সমর্থকদের উপস্থিতিতে প্রতীক বরাদ্দ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন।

    রিটার্নিং কর্মকর্তা সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় সবাইকে আচরণবিধি মেনে চলার নির্দেশ দেন এবং যদি আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর ব্যবস্থা নেবে বলে সতর্ক করেন। অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপার আরেফিন জুয়েল, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান, জেলার বিজিবি প্রধান ও আনসার কমান্ডান্টসহ অন্য কয়েকজন কর্মকর্তাও নির্বাচন-পরিপ্রেক্ষিত বিষয়ে বক্তব্য রাখেন।

    প্রতীক বরাদ্দের ফলাফল অনুযায়ী সাতক্ষীরার চারটি আসনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামি, জাতীয় পার্টি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রত্যেক দল থেকে চারজন করে প্রার্থী পেলেন নির্দিষ্ট প্রধান প্রতীক। এছাড়া অন্যান্য দলের ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও বিভিন্ন প্রতীক পেয়েছেন।

    প্রতীক বরাদ্দপ্রাপ্ত প্রার্থীরা হলেন:

    সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া): বিএনপির হাবিবুল ইসলাম হাবিব (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামির মো. ইজ্জত উল্লাহ (দাড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শেখ মো. রেজাউল করিম (হাতপাখা), জাতীয় পার্টির জিয়াউর রহমান (লাঙ্গল) এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের ইয়ারুল ইসলাম (ডাব)।

    সাতক্ষীরা-২ (সদর-দেবহাটা): বিএনপির আব্দুর রউফ (ধানের শীষ), জামায়াতের মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক (দাড়িপাল্লা), জাতীয় পার্টির আশরাফুজ্জামান (লাঙ্গল), বাংলাদেশ জাসদের ইদ্রিস আলী (মটরগাড়ি) ও ইসলামী আন্দোলনের মুফতী রবিউল ইসলাম (হাতপাখা)।

    সাতক্ষীরা-৩ (আশাশুনি-কালিগঞ্জ): স্বতন্ত্র প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় বিএনপি সদস্য ডা. শহিদুল আলম (ফুটবল), বিএনপির কাজী আলাউদ্দীন (ধানের শীষ), জামায়াতের হাফেজ রবিউল বাশার (দাড়িপাল্লা), জাতীয় পার্টির আলিপ হোসেন (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলনের ওয়েজ কুরনী (হাতপাখা) ও বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি (বিএমজেপি)র রুবেল হোসেন (রকেট)।

    সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর): বিএনপির ড. মুহাম্মদ মনিরুজ্জামান (ধানের শীষ), জামায়াতের জিএম নজরুল ইসলাম (দাড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলনের এইচ এম মিজানুর রহমান (হাতপাখা) ও জাতীয় পার্টির আব্দুর রশিদ (লাঙ্গল)।

    পটভূমি: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন দলের অনেক প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। এর মধ্যে ২৯ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা ১৯টি মনোনয়নপত্র বৈধ ও ১০টি বাতিল ঘোষণা করেন। এরপর করা আপিলের ফলে চারজনকে বৈধ ঘোষণা করা হয়। মোট ২৩ জনের মধ্যে ২০ জানুয়ারি তিনজন প্রত্যাহার করলে চূড়ান্তভাবে ২০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচিত হন এবং বুধবার দুপুরে তাদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ করা হয়।

    জেলার নির্বাচনপ্রক্রিয়া স্বচ্ছ, শান্তিপূর্ণ ও আইনসঙ্গতভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করবে বলে অনুষ্ঠানে পুনরায় আশ্বাস দেওয়া হয়।

  • ত্রয়োদশ নির্বাচনে খুলনা বিভাগে ৩৬ আসনে মোট ২০১ প্রার্থীর প্রতীক বরাদ্দ

    ত্রয়োদশ নির্বাচনে খুলনা বিভাগে ৩৬ আসনে মোট ২০১ প্রার্থীর প্রতীক বরাদ্দ

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় ৩৬টি আসনে মোট ২০১ জন প্রার্থীকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতীক বরাদ্দ করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, প্রতীক বরাদ্দ শেষ হওয়ায় আজ বৃহস্পতিবার থেকে প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করতে পারবেন। বিধিমতো ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার ৪৮ ঘণ্টা আগে পর্যন্ত প্রচারণা চালানো যাবে।

    খুলনা বিভাগে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য জেলা ও আসনভিত্তিক প্রতীক বরাদ্দের সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিম্নরূপ:

    খুলনা (৬টি আসন, ৩৮ প্রার্থী)

    খুলনা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আ স ম জামশেদ খোন্দকার বুধবার প্রার্থীদের হাতে প্রতীক তুলে দেন। বরাদ্দকৃত প্রতিধর্ষীরা:

    – খুলনা-১ (দাকোপ-বটিয়াঘাটা): মোট ১২ প্রার্থী — সুনীল শুভ রায় (বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, মোমবাতি), মো: জাহাঙ্গীর হোসেন (জাতীয় পার্টি, লাঙ্গল), কৃষ্ণ নন্দী (বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি, দাঁড়িপাল্লা), কিশোর কুমার রায় (বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি, কাস্তে), মো: আবু সাঈদ (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, হাতপাখা), প্রসেনজিৎ দত্ত (জেএসডি, তারা), আমির এজাজ খান (বিএনপি, ধানের শীষ), প্রবীর গোপাল রায় (বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি, রকেট), সুব্রত মন্ডল (বাংলাদেশ সমঅধিকার পরিষদ, দোয়াত কলম), অচ্যিন্ত কুমার মন্ডল (স্বতন্ত্র, ঘোড়া), গোবিন্দ হালদার (স্বতন্ত্র, কলস) ও জি এম রোকনুজ্জামান (গণঅধিকার পরিষদ, ট্রাক)।

    – খুলনা-২ (সদর-সোনাডাঙ্গা): তিন প্রার্থী — শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল (জামায়াতে ইসলামি, দাঁড়িপাল্লা), নজরুল ইসলাম মঞ্জু (বিএনপি, ধানের শীষ) ও মুফতি আমানুল্লাহ (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, হাতপাখা)।

    – খুলনা-৩ (খালিশপুর-দৌলতপুর-আড়ংঘাটা): দশ প্রার্থী — মো: আ: আউয়াল (ইসলামী আন্দোলন, হাতপাখা), রকিবুল ইসলাম (বিএনপি, ধানের শীষ), মোহাম্মাদ মাহফুজুর রহমান (জামায়াত, দাঁড়িপাল্লা), মো: মুরাদ খান লিটন (স্বতন্ত্র, ঘুড়ি), মঈন মোহাম্মাদ মায়াজ (স্বতন্ত্র, ফুটবল), জনার্দন দত্ত (বাসদ, মই), শেখ আরমান হোসেন (এনডিএম, সিংহ), মো: আব্দুল্লাহ আল মামুন (জাতীয় পার্টি, লাঙ্গল), মো: আবুল হাসানত সিদ্দিক (স্বতন্ত্র, জাহাজ) ও এস এম আরিফুর রহমান মিঠু (স্বতন্ত্র, হরিণ)।

    – খুলনা-৪ (রূপসা-তেরখাদা-দিঘলিয়া): চার প্রার্থী — ইউনুস আহম্মেদ শেখ (ইসলামী আন্দোলন, হাতপাখা), এস কে আজিজুল বারী (বিএনপি, ধানের শীষ), এস এম সাখাওয়াত হোসাইন (খেলাফত মজলিস, দেয়াল ঘড়ি) ও এস এম আজমল হোসেন (স্বতন্ত্র, ফুটবল)। উল্লেখ্য, এই আসনটি খেলাফত মজলিসকে জোটসঙ্গী হিসেবে দিয়েছে।

    – খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া-ফুলতলা): চার প্রার্থী — গোলাম পরওয়ার (জামায়াতে ইসলামি, দাঁড়িপাল্লা), মোহাম্মাদ আলী আসগর (বিএনপি, ধানের শীষ), চিত্ত রঞ্জন গোলদার (বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি, কাস্তে) ও শামিম আরা পারভীন ইয়াসমীন (জাতীয় পার্টি, লাঙ্গল)।

    – খুলনা-৬ (কয়রা-পাইকগাছা): পাঁচ প্রার্থী — মো: আবুল কালাম আজাদ (জামায়াতে ইসলামি, দাঁড়িপাল্লা), এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী (বিএনপি, ধানের শীষ), মো: আছাদুল ফকির (ইসলামী আন্দোলন, হাতপাখা), প্রশান্ত কুমার মন্ডল (বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি, কাস্তে) ও মো: মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর (জাতীয় পার্টি, লাঙ্গল)।

    বাগেরহাট (৪টি আসন, ২৩ প্রার্থী)

    জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা বুধবার দুপুরে সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতীক বরাদ্দ করেন। বাগেরহাটে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এমএ এইচ সেলিম তিনটি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ‘ঘোড়া’ প্রতীক নিয়েছেন। প্রধান বরাদ্দ:

    – বাগেরহাট-১: আট প্রার্থী — স্বতন্ত্র এমএ এইচ সেলিম (ঘোড়া), মো. মাসুদ রানা (জেলা বিএনপি, ফুটবল)সহ মোট আটজনের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ।

    – বাগেরহাট-২ ও বাগেরহাট-৩: এমএ এইচ সেলিম ঘোড়া প্রতীক পেয়েছেন।

    – বিভিন্ন আসনে বিএনপি, জামায়াত, মুসলিম লীগ, এবি পার্টি, জাতীয় পার্টি-জেপি ও অন্যান্যদের দলীয় প্রতীকও অনানুষ্ঠানিকভাবে বরাদ্দ করা হয়েছে; তালিকাভুক্ত প্রার্থীরা যথাক্রমে তাদের দলীয় চিহ্ন পেয়েছেন।

    – বাগেরহাট-৪: স্বতন্ত্র কাজী খায়রুজ্জামান শিপন হরিণ প্রতীক পেয়েছেন; এ আসনে বিএনপি, জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন ও অন্যান্য দলের প্রার্থীরাও জোট হিসেবে দলীয় প্রতীকের অধিকারী হয়েছেন।

    সাতক্ষীরা (৪টি আসন, ২০ প্রার্থী)

    জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মিজ আফরোজা আখতার জেলার সম্মেলন কক্ষে উৎসবমুখর পরিবেশে প্রার্থীদের প্রতীক তুলে দেন। রিটার্নিং কর্মকর্তা আচরণবিধি মেনে চলার অনুরোধ করেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক থাকার কথা জানিয়েছেন। বরাদ্দের ধরণ:

    – সাতক্ষীরা-১: হাবিবুল ইসলাম হাবিব (বিএনপি, ধানের শীষ), মোঃ ইজ্জত উল্লাহ (জামায়াত, দাঁড়িপাল্লা), শেখ মোঃ রেজাউল করিম (ইসলামী আন্দোলন, হাতপাখা), জিয়াউর রহমান (জাতীয় পার্টি, লাঙ্গল) ও ইয়ারুল ইসলাম (বাংলাদেশ কংগ্রেস, ডাব)।

    – সাতক্ষীরা-২: আব্দুর রউফ (বিএনপি, ধানের শীষ), মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক (জামায়াত, দাঁড়িপাল্লা), আশরাফুজ্জামান (জাতীয় পার্টি, লাঙ্গল), ইদ্রিস আলী (বাংলাদেশ জাসদ, মোটরগাড়ি) ও মুফতী রবিউল ইসলাম (ইসলামী আন্দোলন, হাতপাখা) প্রমুখ।

    – সাতক্ষীরা-৩: ডা. শহিদুল আলম (স্বতন্ত্র/বিএনপি কেন্দ্রীয়, ফুটবল), কাজী আলাউদ্দীন (বিএনপি, ধানের শীষ), হাফেজ রবিউল বাশার (জামায়াত, দাঁড়িপাল্লা), আলিপ হোসেন (জাতীয় পার্টি, লাঙ্গল), ওয়েজ কুরনী (ইসলামী আন্দোলন, হাতপাখা) ও রুবেল হোসেন (বিএমজেপি, রকেট)।

    – সাতক্ষীরা-৪: ড. মুহাম্মদ মনিরুজ্জামান (বিএনপি, ধানের শীষ), জিএম নজরুল ইসলাম (জামায়াত, দাঁড়িপাল্লা), এইচ এম মিজানুর রহমান (ইসলামী আন্দোলন, হাতপাখা) ও আব্দুর রশিদ (জাতীয় পার্টি, লাঙ্গল)।

    যশোর (৬টি আসন, ৩৫ প্রার্থী)

    যশোর জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান বুধবার প্রার্থীদের হাতে প্রতীক তুলে দিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রচারণার উদ্বোধন করেন। প্রধান বরাদ্দ:

    – যশোর-১ (শার্শা): চার প্রার্থী — মুহাম্মদ আজিজুর রহমান (জামায়াত, দাঁড়িপাল্লা), জাহাঙ্গীর আলম চঞ্চল (জাতীয় পার্টি, লাঙ্গল), নুরুজ্জামান লিটন (বিএনপি, ধানের শীষ) ও বকতিয়ার রহমান (ইসলামী আন্দোলন, হাতপাখা)।

    – যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা): আট প্রার্থী — মোছাঃ সাবিরা সুলতানা (বিএনপি, ধানের শীষ), মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ (জামায়াত, দাঁড়িপাল্লা), ইদ্রিস আলী (ইসলামী আন্দোলন, হাতপাখা), ইমরান খান (বাসদ, মই), শামসুল হক (বিএনএফ, টেলিভিশন), রিপন মাহমুদ (এবি পার্টি, ঈগল) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ জহুরুল ইসলাম (ঘোড়া) ও মেহেদী হাসান (ফুটবল)। নোট: জহুরুল ইসলাম পরে মনোনয়ন প্রত্যাহার ঘোষণার সংবাদ করেছেন, কিন্তু প্রত্যাহারের কাগজপত্র দাখিল করেননি।

    – যশোর-৩ (সদর): ছয় প্রার্থী — অনিন্দ্য ইসলাম অমিত (বিএনপি, ধানের শীষ), মুহাম্মদ শোয়াইব হোসেন (ইসলামী আন্দোলন, হাতপাখা), আব্দুল কাদের (জামায়াত, দাঁড়িপাল্লা), খবির গাজী (জাতীয় পার্টি, লাঙ্গল), নিজামুদ্দিন অমিত (জাগপার, চশমা) ও রাশেদ খান (সিপিবি, কাস্তে)।

    – যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর): সাত প্রার্থী — এম নাজিম উদ্দিন-আল-আজাদ (স্বতন্ত্র, মোটরসাইকেল), বায়েজীদ হোসাইন (ইসলামী আন্দোলন, হাতপাখা), মতিয়ার রহমান ফারাজি (বিএনপি, ধানের শীষ), মাওলানা আশেক এলাহী (খেলাফত মজলিস, দেয়াল ঘড়ি), গোলাম রসুল (জামায়াত, দাঁড়িপাল্লা), জহুরুল হক (জাতীয় পার্টি, লাঙ্গল) ও সুকৃতি কুমার মণ্ডল (বিএমজেপি, রকেট)।

    – যশোর-৫ (মণিরামপুর): পাঁচ প্রার্থী — এম এ হালিম (জাতীয় পার্টি, লাঙ্গল), গাজী এনামুল হক (জামায়াত, দাঁড়িপাল্লা), জয়নাল আবেদীন (ইসলামী আন্দোলন, হাতপাখা), রশীদ আহমদ (বিএনপি, ধানের শীষ) ও শহীদ মোঃ ইকবাল হোসেন (স্বতন্ত্র, কলস)।

    – যশোর-৬ (কেশবপুর): পাঁচ প্রার্থী — জিএম হাসান (জাতীয় পার্টি, লাঙ্গল), আবুল হোসেন আজাদ (বিএনপি, ধানের শীষ), মাহমুদ হাসান (এবি পার্টি, ঈগল), মোক্তার আলী (জামায়াত, দাঁড়িপাল্লা) ও শহিদুল ইসলাম (ইসলামী আন্দোলন, হাতপাখা)।

    চুয়াডাঙ্গা (২টি আসন, ৬ প্রার্থী)

    রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ কামাল হোসেন জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে নমুনা প্রতীক তুলে দেন।

    – চুয়াডাঙ্গা-১: শরীফুজ্জামান (ধানের শীষ), মাসুদ পারভেজ রাসেল (দাঁড়িপাল্লা) ও জহুরুল ইসলাম আজিজী (হাতপাখা)।

    – চুয়াডাঙ্গা-২: মাহমুদ হাসান খান বাবু (ধানের শীষ; তাঁর পক্ষ থেকে খালিদ মাহমুদ মিল্টন নমুনা প্রতীক গ্রহণ করেন), রুহুল আমীন (দাঁড়িপাল্লা) ও হাসানুজ্জামান সজীব (হাতপাখা)।

    নড়াইল (২টি আসন, ১৫ প্রার্থী)

    জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ড. আব্দুল ছালামের কার্যালয়ে বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত প্রতীক বরাদ্দকাজ সম্পন্ন হয়। নড়াইল-১ ও নড়াইল-২ এ মোট ১৫ জন প্রার্থী প্রতীকের অধিকারী হয়েছেন, এর মধ্যে নড়াইল-১ এ বিএনপি’র জেলা সভাপতি বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম (ধানের শীষ) প্রধান প্রার্থী। উল্লেখযোগ্যভাবে নড়াইল-১ এ তিনজন বিদ্রোহী বিএনপি প্রার্থীও স্বতন্ত্র প্রতীক পেয়েছেন। নড়াইল-২ তে দলীয় ও স্বতন্ত্র মিশ্র তালিকা করা হয়েছে; সেখানে গণঅধিকার পরিষদ, সাংস্কৃতিক মুক্তি জোট ও অন্যান্যদের প্রতীকও বরাদ্দ হয়েছে।

    ঝিনাইদহ (৪টি আসন, ২১ প্রার্থী)

    জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে বরাদ্দকৃত প্রতীকের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হয়। ঝিনাইদহে বিএনপি’র সিদ্ধান্ত অমান্য করে ঝিনাইদহ-৪ আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজ স্বতন্ত্র হিসেবে কাপ-পিরিচ প্রতীক পেয়ে আলোচনায় এসেছেন। অন্যান্য আসনের বরাদ্দ:

    – ঝিনাইদহ-১: মো. আসাদুজ্জামান (বিএনপি, ধানের শীষ), এএসএম মতিউর রহমান (দাঁড়িপাল্লা/১০ দলীয় জোট), মতিয়ার রহমান (এবি পার্টি, ঈগল), শহিদুল এনাম (বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী), কাঁচি) ও মনিকা আলম (জাতীয় পার্টি, লাঙ্গল)।

    – ঝিনাইদহ-২: মো. আব্দুল মজিদ (বিএনপি, ধানের শীষ), আলী আজম মোহাম্মদ আবু বকর (জোট, দাঁড়িপাল্লা), আসাদুল ইসলাম (বাসদ, মই), আবু তোয়াব (সিপিবি, কাস্তে), মমতাজুর রহমান (ইসলামী আন্দোলন, হাতপাখা) ও সওগাতুল ইসলাম (জাতীয় পার্টি, লাঙ্গল)।

    – ঝিনাইদহ-৩: মেহেদী হাসান (বিএনপি, ধানের শীষ), অধ্যাপক মতিয়ার রহমান (দাঁড়িপাল্লা/১০ দলীয় জোট), ইসলামী আন্দোলন প্রার্থী (হাতপাখা) ও সুমন কবির (গণঅধিকার পরিষদ, ট্রাক)।

    – ঝিনাইদহ-4: রাশেদ খাঁন (বিএনপি, ধানের শীষ), মাওলানা আবু তালেব (দাঁড়িপাল্লা/১০ দলীয় জোট), সাইফুল ইসলাম ফিরোজ (স্বতন্ত্র/বিএনপি বিদ্রোহী, কাপ-পিরিচ), আব্দুল জলিল (ইসলামী আন্দোলন, হাতপাখা), খনিয়া খানম (গণফোরাম, উদীয়মান সূর্য) ও এমদাদুল ইসলাম বাচ্চু (জাতীয় পার্টি, লাঙ্গাল)।

    মাগুরা (২টি আসন, ১১ প্রার্থী)

    জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোঃ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বুধবার জেলা সম্মেলন কক্ষে প্রতীক বরাদ্দ করেন।

    – মাগুরা-১ (৯১): মনোয়ার হোসেন খান (বিএনপি, ধানের শীষ), জাকির হোসেন মোল (জাতীয় পার্টি, লাঙ্গল), আব্দুল মতিন (জামায়াতে ইসলামি, দাঁড়িপাল্লা), শম্পা বসু (সমাজতান্ত্রিক দল-বাদ, মই), মোঃ খলিলুর রহমান (গণঅধিকার পরিষদ, ট্রাক) ও মোঃ নাজিরুল ইসলাম (ইসলামী আন্দোলন, হাতপাখা) এবং কাজী রেজাউল ইসলাম (বাংলাদেশ কংগ্রেস, ডাব)।

    – মাগুরা-২ (৯২): নিতাই রায় চৌধুরী (বিএনপি, ধানের শীষ), মুরতারশেদ বিল্লাহ (জামায়াত, দাঁড়িপাল্লা), মশিয়ার রহমান (জাতীয় পার্টি, লাঙ্গল) ও মোস্তফা কামাল (ইসলামী আন্দোলন, হাতপাখা)।

    কুষ্টিয়া (৪টি আসন, ২৫ প্রার্থী)

    জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন বুধবার কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন সম্মেলনকক্ষে বিভিন্ন দলের ২৫ প্রার্থীর মাঝে প্রতীক তুলে দেন। উল্লেখ্য, পূর্বে বৈধ ঘোষিত ২৭ প্রার্থীর মধ্যে কিছু পদক্ষেপ ও আপিলের ফলে চূড়ান্ত তালিকা ২৫ জনে নির্ধারণ হয়েছে। প্রধান বরাদ্দ:

    – কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর): রেজা আহামেদ (বিএনপি), বেলাল উদ্দিন (জামায়াতে ইসলামি), বদিরুজ্জামান (বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট), আমিনুল ইসলাম (ইসলামী আন্দোলন), সাহাবুল ইসলাম (গণঅধিকার পরিষদ), শাহরিয়ার জামিল (জাতীয় পার্টি) ও গিয়াস উদ্দিন (জেএসডি) — মোট আটজন।

    – কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা): রাগীব রউফ চৌধুরী (বিএনপি), আব্দুল গফুর (জামায়াতে ইসলামি), নুর উদ্দিন আহমেদ (বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি), মোহাম্মদ আলী (ইসলামী আন্দোলন) ও বাবুল আক্তার (ইসলামী ফ্রন্ট)।

    – কুষ্টিয়া-৩ (সদর): জাকির হোসেন সরকার (বিএনপি), মুফতি আমীর হামজা (জামায়াত), মীর নাজমুল ইসলাম (বাসদ), মোছাঃ রুমপা খাতুন (বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি), মোহাঃ শরিফুল ইসলাম (গণঅধিকার পরিষদ) ও আবদুল্লাহ আখন্দ (ইসলামী আন্দোলন)।

    – কুষ্টিয়া-৪ (খোকসা-কুমারখালী): সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী (বিএনপি), আফজাল হোসেন (জামায়াত), আনোয়ার খাঁন (ইসলামী আন্দোলন), তরুণ কুমার ঘোষ (মাইনরিটি জনতা পার্টি), আব্দুল হাকিম মিয়া (গণফোরাম) ও শহিদুল ইসলাম (বাংলাদেশ লেবার পার্টি)।

    মেহেরপুর (২টি আসন)

    জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক ড. সৈয়দ এনামুল কবির মঙ্গলবার প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বিতরণ করেন:

    – মেহেরপুর-১: মোট চার প্রার্থী — মাসুদ অরুণ (বিএনপি, ধানের শীষ), মাওলানা তাজ উদ্দিন খান (জামায়াত, দাঁড়িপাল্লা), আব্দুল হামিদ (জাতীয় পার্টি, লাঙ্গল) ও এড. মিজানুর রহমান (সিপিবি, কাস্তে)।

    – মেহেরপুর-২ (গাংনী): তিন প্রার্থী — আমজাদ হোসেন (বিএনপি, ধানের শীষ), নাজমুল হুদা (জামায়াত, দাঁড়িপাল্লা) ও আব্দুল বাকী (জাতীয় পার্টি, লাঙ্গল)।

    সার্বিকভাবে প্রতীক বরাদ্দের কার্যক্রম শেষ হওয়ায় বিভাগের সব সম্প্রদায়ের প্রার্থীরা এখন তাদের নির্বাচনী কর্মসূচি তৎপরভাবে পরিচালনা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। নির্বাচনী আচরণবিধি অনুসরণ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান করা হয়েছে।