Blog

  • যশোরে পুত্রবধূ মরিয়ম শাশুড়িকে গলাকেটে হত্যা করে বস্তায় ফেলে রাখলেন

    যশোরে পুত্রবধূ মরিয়ম শাশুড়িকে গলাকেটে হত্যা করে বস্তায় ফেলে রাখলেন

    যশোরের বেজপাড়া এলাকায় শাশুড়িকে গলাকেটে হত্যা করে বস্তাবন্দি মরদেহ বাড়ির সামনে ফেলে রাখার অভিযোগে পুত্রবধূ মরিয়ম বেগম (২০) গ্রেপ্তার হয়েছেন। ঘটনায় ব্যবহৃত দেশীয় চাপাতিও উদ্ধার করা হয়েছে।

    বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাসার এই তথ্য জানান। নিহত হলেন সকিনা বেগম (৬০), তিনি লাল চাঁদ খলিফার স্ত্রী এবং বেজপাড়া মেইন রোড এলাকার বাসিন্দা।

    পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে সকিনা বেগমের ছেলে শহিদুল দোকানে যান। বেরোনোয়ার আগে তার স্ত্রী মরিয়ম তাকে বলেছিলেন বাড়িতে রান্না হয়নি, বাইরে খেয়ে নিতে। শহিদুল মাকে খোঁজ করলে বাড়ির লোক জানান, তিনি বাইরে তালিমে গেছেন।

    রাত সাড়ে ১০টার দিকে বাড়ি ফিরলে মাকে না পেয়ে শহিদুল পুনরায় খোঁজখবর নেন। পরে সন্দেহজনক পরিস্থিতি হওয়ায় তিনি থানায় ফোন করে পুলিশকে জানান। গভীর রাতে—রাত সাড়ে ১২টার দিকে—বাসার সামনে একটি বস্তার মধ্যে লাশ দেখতে পান শহিদুল। তিনি ও তার বোন শাহিদা বেগম মিলিয়ে মরদেহটি সকিনা বেগমের বলে শনাক্ত করেন।

    ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছে ডিবি ও কোতোয়ালি থানা পুলিশের যৌথ দল লাশ উদ্ধার করে আলামত সংগ্রহ করে। তদন্তে মরিয়মের আচরণ সন্দেহজনক হওয়ায় তাকে ডিবি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হয়।

    জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে মরিয়ম হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। তিনি পুলিশকে জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে শাশুড়ির সঙ্গে পারিবারিক নানা বিষয়কে কেন্দ্র করে বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন শাশুড়ির সঙ্গে বকবক হওয়ার পর ক্ষিপ্ত হয়ে ঘরে থাকা একটি চাপাতি দিয়ে গলায় আঘাত করে তিনি তাকে হত্যা করেন। পরে মরদেহ বস্তায় ভরে বাড়ির সামনের স্থানে ফেলে দেন এবং হত্যায় ব্যবহৃত চাপাতিটি ওয়্যারড্রবের মধ্যে লুকিয়ে রাখেন।

    মরিয়মের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী তাদের ঘর থেকে চাপাতিটি উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ বলেছে, ঘটনার পর বিস্তারিত তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আহসান হাবীবসহ অন্যান্য কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

  • স্লো ওভার রেট: আইসিসি বাংলাদেশকে ১০% ম্যাচফি জরিমানা

    স্লো ওভার রেট: আইসিসি বাংলাদেশকে ১০% ম্যাচফি জরিমানা

    মিরপুরে গত পরশু দ্বিতীয় ওয়ানডেতে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে সিরিজে সমতা ফেরায় বাংলাদেশ। আগামীকাল চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ওয়ানডেতে দুদল আবার মুখোমুখি হবে।

    এসব ক্রীড়া মহরুমের মাঝে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা (আইসিসি) আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে যে, স্লো ওভার রেটের কারণে মেহেদী হাসান মিরাজের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটারদের প্রত্যেককে ম্যাচ ফি’র ১০ শতাংশ জরিমানা করা হয়েছে।

    আইসিসি জানিয়েছে, বাংলাদেশের ইনিংসে নির্ধারিত সময়ের তুলনায় দুই ওভার কম বোলিং হয়েছে। মাঠের আম্পায়ার রিচার্ড ইলিংওয়ার্থ ও গাজী সোহেল এটি নির্দেশ করেন; তৃতীয় আম্পায়ার ছিলেন নিতিন মেনন এবং চতুর্থ আম্পায়ার মাসুদুর রহমান মুকুল। শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ এনে এই শাস্তি ঝুলিয়ে দেন আইসিসির এলিট প্যানেলের ম্যাচ রেফারি অ্যান্ডি পাইক্রফট।

    আইসিসির খেলোয়াড় ও স্টাফদের আচরণবিধির ধারা ২.২২ অনুসারে প্রত্যেকটি ওভার নির্ধারিত সময়ের তুলনায় কম হলে প্রতিটি খেলোয়াড়কে ৫ শতাংশ করে ম্যাচফি জরিমানা করা হয়। বাংলাদেশ দুই ওভার কম বোলিং করেছে, তাই মোট ১০ শতাংশ জরিমানা করা হয়েছে। মিরাজ নিজে ভুল স্বীকার করে শাস্তি গ্রহণ করেছেন এবং অনুষদীয় কোনো আনুষ্ঠানিক শুনানির প্রয়োজন পড়েনি।

    ম্যাচের আদালতীয় প্রক্রিয়ার পাশাপাশি অন-ফিল্ডও একটি শাস্তিমূলক নির্দেশনা ছিল—আম্পায়াররা ৪৭ ওভার শেষে স্লো ওভার রেটের ইঙ্গিত দেয়ায় শেষ তিন ওভারে বাংলাদেশকে বৃত্তের ভেতরে একজন ফিল্ডার বেশি রাখতে বলা হয়েছিল।

    ওই ম্যাচে নিউজিল্যান্ড আগে ব্যাট করে ৪৮.৪ ওভারে ১৯৮ রানে অলআউট হয়। বাংলাদেশ নির্ধারিত লক্ষ্য টার্গেট তা পূরণ করে ৮৭ বল হাতে রেখে ৫ উইকেটে জয় পায়। নাহিদ রানা নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে পাঁচ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরার সম্মান পান।

  • শ্রীলঙ্কার কাছে হার, সিরিজে সমতায় ফিরল বাংলাদেশ নারী দল

    শ্রীলঙ্কার কাছে হার, সিরিজে সমতায় ফিরল বাংলাদেশ নারী দল

    তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ নারী দল। কিন্তু সিরিজের দ্বিতীয় লড়াইয়ে জয়ের ধারাকে ধরে রাখতে পারেনি নিগার সুলতানা জ্যোতির নেতৃত্বাধীন টিম — সফরকারীরা চার উইকেটে জিতিয়ে সিরিজকে ১-১ সমতায় নিয়ে এসেছে। সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে আগামী শনিবার।

    রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ম্যাচে ১৬৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় শ্রীলঙ্কা। ওপেনার হাসিনি পেরেরা মাত্র ৫ রানে ফিরে যান, আর ইমেশা দুলানি করেন ৮ রান। তবে অধিনায়ক চামারি আতাপাতু আগ্রাসী ব্যাটিং করে ৩৯ বলে ৪০ রান করেন, যার মধ্যে ছিল আটটি চার।

    চতুর্থ উইকেটে হারশিথা সামারাবিক্রমা ও হানসিমা করুনারত্নের ৭৭ রানের উজ্জ্বল জুটিই দলকে জয়সূত্রে নিয়ে যায়। দমে থাকা সংগ্রহ বাড়াতেই সক্ষম হন তারা, তবে জুটির কেউই ইনিংসটি শেষ করতে পারেননি — করুণারত্নে ৪০ এবং সামারাবিক্রমা ৫০ রানে আউট হন। কৌশানি মাত্র ৪ রানে ফিরে গেলেও শেষ দিকে কাভিশা ও নীলাক্ষী শান্তভাবেই ব্যবধান পুঁজি করে মাঠ ছাড়েন এবং চার উইকেটে ম্যাচ জিতে নেন সফরকারীরা।

    বাংলাদেশ দলের হয়ে বোলিংয়ে প্রয়াণী ছিলেন নাহিদা আক্তার; তিনি সর্বোচ্চ চারটি উইকেট নিয়েছেন। এছাড়া সুলতানা খাতুন ও রিতুমনি একজন করে উইকেট নেন।

    এর আগে টস জিতে রাজশাহীতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশের অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। কিন্তু প্রথম উইকেট পতনের পর বাংলাদেশের টপঅর্ডার ভালোভাবে আত্মকে ধরে রাখতে পারেনি — মাত্র ৪ রান পর্যন্ত এসে জুয়াইরিয়া ফেরদৌস ২ রানে এবং শারমিন আক্তার শূন্য রানে আউট হন।

    টিমকে সামলানোর চেষ্টা করে গেলেও একের পর এক উইকেট হারায় বাংলাদেশ। দলনেতা জ্যোতি একটি বড় পার্টনারশিপ গড়ে দলের ইনিংস এগোয়ালেও তিনি আউট হওয়ার আগে ১০১ বলে ৫৮ রান করে ফিরেন; তাঁর ইনিংসটি চারটি চারে সাজানো।

    অন্যদের মধ্যে শারমিন সুলতানা ২৫, সোবহানা মোস্তারি ৫, স্বর্ণা আক্তার ১৬, রিতুমনি ১৭, নাহিদা আক্তার ২০, রাবেয়া খান ১৫, মারুফা আক্তার ১ ও সুলতানা খাতুন ১ রান করেন। বাংলাদেশের ইনিংস থামে ১৬৫ রানে।

    শ্রীলঙ্কার হয়ে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন দলনেতা চামারি আতাপাতু, আর তিনজন বোলার দুটি করে উইকেট শিকার করেছেন। সিরিজ এখন সমভাবে পৌঁছেছে এবং দুদলই শনিবার রাজশাহীতে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে মুকাবিলা করবে—একটি খণ্ডকালীন উত্তেজনাপূর্ণ সমাপ্তির আশা থাকছে।

  • গম পাচারের তদন্তে নুসরাত জাহানকে ইডির তলব

    গম পাচারের তদন্তে নুসরাত জাহানকে ইডির তলব

    ভারতের কেন্দ্রীয় অনুসন্ধান সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) অভিনেত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্য নুসরাত জাহানকে তলব করেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রেশন দুর্নীতি ও সীমান্ত দিয়ে খাদ্যশস্য পাচারের অভিযোগের তদন্তে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাজির হতে বলা হয়েছে।

    সূত্রের বরাতে জানা গেছে, তদন্তকারীরা কোভিড সময়কালে সীমান্তবর্তী এলাকায় একাধিক ট্রাক আটক করা হয়েছিল বলে দেখেছেন; ওই ট্রাকগুলোতে সরকারি রেশন ব্যবস্থার গম ও চাল থাকার অভিযোগ ওঠে এবং সেগুলো বাংলাদেশে পাচারের চেষ্টা করা হয়েছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। সংযোগ খতিয়ে দেখতে এবং 당시 বসিরহাটের সাংসদ ছিলেন নুসরাত জাহানের সম্ভাব্য ভূমিকা সম্পর্কে তথ্যাগ্রহ করতে তাকে ডাকা হয়েছে।

    নুসরাতকে নির্ধারিত সময়ে কলকাতা পরিকাঠামো ভবন (সিজিও) কমপ্লেক্সে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইডির এই তলবকে অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে পরিচালিত জিজ্ঞাসাবাদ হিসাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে — এটি সরাসরি কোনও গ্রেপ্তারি পরোয়া না বলে জানানো হয়েছে।

    এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত নুসরাত জাহানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। মামলার বিস্তারিত ও তদন্তের পরবর্তী ধারা সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না পাওয়া পর্যন্ত সূত্রভিত্তিক এই আলোকপাতই প্রকাশ্য।

    এই ঘটনার ফলে গম পাচার এবং রেশন দুর্নীতির তদন্ত পুনরায় প্রবাস ও মিডিয়ার নজরে এসেছে এবং নুসরাতকে পুনরায় আলোচনায় এনেছে।

  • অ্যান হ্যাথাওয়ের ‘ইনশা আল্লাহ’ বলায় নেটজগতে আলোচনার ঝড়

    অ্যান হ্যাথাওয়ের ‘ইনশা আল্লাহ’ বলায় নেটজগতে আলোচনার ঝড়

    সেসামি স্ট্রিটের লাল পুতুল এলমোর ‘আসসালামু আলাইকুম’ বলাকে নিয়ে যখন ইন্টারনেটে তর্ক-বিতর্ক চলছিল, ঠিক তখনই হলিউড অভিনেত্রী অ্যান হ্যাথাওয়ে এক সাক্ষাৎকারে ‘ইনশা আল্লাহ’ শব্দটি উচ্চারণ করে সবাইকে চমকে দিলেন।

    সম্প্রতি পিপল ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে চল্লিশোর্ধ্ব জীবন ও সুস্থতার বিষয় নিয়ে কথা বলার সময় হ্যাথাওয়ে বলেছিলেন, “আমি একটি দীর্ঘ ও সুস্থ জীবন কাটাতে চাই ইনশা আল্লাহ। আমি সেটাই আশা করি।” তার এই উক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ভিডিওটি এক্সে ভাইরাল হয়ে যায়।

    হঠাৎ এই শব্দের উচ্চারণ শুনে নেটিজেনরা বিস্ময় প্রকাশ করেন। অনেকেই প্রশংসা করতে শুরু করেছেন যে হ্যাথাওয়ে সঠিক প্রসঙ্গে এবং সঠিক উচ্চারণে শব্দটি ব্যবহার করেছেন, যার ফলে বোঝা যায় তিনি এটির অর্থ ও ব্যবহার সম্পর্কে সচেতন। বিশেষ করে মুসলিম ভক্তরা তার এই অন্তর্ভুক্তিমূলক আচরণ ও উদার মনোভাবকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

    তবে সাক্ষাৎকারে তিনি শুধুই শব্দটিই বলেননি—জীবন স্মরণীয় করার মতো শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা সম্পর্কেও বিস্তারিত শেয়ার করেছেন। চার দশকের জীবনব্যাপী তার অর্জিত উপলব্ধি সম্পর্কে তিনি বলেন, ৪০ বছরে পৌঁছে পেছনে ফিরে দেখলে বোঝা যায় আগে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো কীভাবে বর্তমান গঠন করেছে এবং তা ভবিষ্যতের সিদ্ধান্ত নিতে সহায়ক।

    বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দৃষ্টিভঙ্গি বদলানোর কথাও তিনি তুলে ধরেছেন। “আমি এখন জীবনকে আরও সহজভাবে নিতে শিখেছি। আপনি চাইলে বার্ধক্যকে ভয় পেতে পারেন, আবার চাইলে অকালে মৃত্যুকেও ভয় পেতে পারেন। আমি বার্ধক্যকে কৌতূহলের সঙ্গে গ্রহণ করতেই পছন্দ করি।”—এমনটাই বলেন হ্যাথাওয়ে।

    তিনি আরও যোগ করেন, জীবন সব সময়ই অনিশ্চিত—বয়স যে কোনও সংখ্যা হোক না কেন। “পরের মোড়ে আপনার জন্য কী অপেক্ষা করছে তা আপনি কখনোই জানেন না,”—এই জ্ঞানই তাকে এখন অনুপ্রাণিত করছে।

    ইন্টারনেটে হ্যাথাওয়ের বিনয় ও ‘ইনশা আল্লাহ’ শব্দটি ব্যবহারের ঘোর প্রতিক্রিয়া চলছে। অনেকেই তাঁর এই খোলা মনোভাবকে প্রশংসা করছেন, আবার কিছু মন্তব্য মন্তব্য-মিশ্র প্রতিক্রিয়াও এসেছে। যে কোনো কিছুর ক্ষেত্রে এই ধরনের সংলাপ ও অন্তর্ভুক্তি সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার গুরুত্বকে আবারও সামনে এনেছে।

  • কৃষিকে টেকসই ও লাভজনক খাতে রূপান্তরে সরকারের বহুমুখী পরিকল্পনা

    কৃষিকে টেকসই ও লাভজনক খাতে রূপান্তরে সরকারের বহুমুখী পরিকল্পনা

    কৃষি উৎপাদন বাড়ানো, পণ্যের বৈচিত্র্য আনানো ও জলবায়ুর ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার একটি সমন্বিত ‘স্মার্ট কৃষি’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এই মহাপরিকল্পনার প্রথম ধাপ হিসেবে গত ১৪ এপ্রিল সরকার ‘কৃষক কার্ড’ উদ্বোধন করেছে, যার মাধ্যমে কৃষকরা সরাসরি দশ ধরনের সেবা পাবে।

    আজ বুধবার (২২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে টাঙ্গাইল-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. রবিউল আউয়ালের একটি লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, দারিদ্র্য বিমোচন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে কৃষির ভূমিকা অপরিসীম। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, জমির সংকোচন ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতাসহ নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এসব সমস্যা মোকাবিলা করে কৃষিকে টেকসই ও লাভজনক খাতে রূপান্তরই সরকারের লক্ষ্য, এজন্যই কৃষক কার্ড চালু করা হয়েছে।

    কৃষক কার্ডের মাধ্যমে প্রদানযোগ্য দশটি সেবার মধ্যে রয়েছে: ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ, সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা, স্বল্পমূল্যে কৃষি যন্ত্রপাতি, সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, ফসল বীমা, ন্যায্যমূল্যে কৃষিপণ্য বিক্রয়, কৃষি সম্পর্কিত প্রশিক্ষণ, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আবহাওয়া ও বাজার তথ্য প্রদান এবং ফসলরোগ-শত্রু দমন সংক্রান্ত পরামর্শ। সরকার পর্যায়ক্রমে দেশের সব কৃষকের হাতে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

    সরকারি অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো উন্নত ও উচ্চফলনশীল বীজ ও সুষম সার ব্যবহার সম্প্রসারণ, আধুনিক সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং কৃষি যান্ত্রিকীকরণে ভর্তুকি দিয়ে ট্রাক্টর, হারভেস্টার, রিপারসহ যন্ত্রপাতি সহজলভ্য করা। মাটির গভীরতাকে কাজে লাগিয়ে জলব্যবস্থার উন্নয়নে ইতোমধ্যে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    পতিত জমি চাষে ফিরিয়ে আনার জন্য ‘ক্রপ জোনিং’ পদ্ধতি চালু করে প্রতিটি অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়ার উপযোগী ফসল নির্ধারণ করা হচ্ছে, ফলে জমির ব্যবহার সর্বাধিক সম্ভব হবে। খাল খনন ও ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবহারের মাধ্যমে বহু পতিত জমি কৃষিযোগ্য করা হচ্ছে; সিলেট ও চরাঞ্চলে বিশেষ প্রকল্পের মাধ্যমে এ কাজ ত্বরান্বিত করা হচ্ছে।

    কৃষিপণ্যের বহুমুখীকরণেও সরকারের গুরুত্ব বাড়ছে—চালের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ধীরে ধীরে ফল, সবজি, ডাল, তেলবীজ, মসলা ও ফুলের চাষ বাড়ানোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। কৃষকদের জন্য ভর্তুকি, স্বল্প সুদের ঋণ ও ফসল বীমা কার্যক্রমকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে কৃষক কার্ড ব্যবহৃত হবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনকেও বিশেষ অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে।

    সরকারের বরাদ্দ ও সহায়তা বিষয়েও সংসদে তথ্য দেওয়া হয়: চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা খাতে ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এর মধ্য থেকে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের বিনামূল্যে বীজ, সার ও অন্যান্য উপকরণ বিতরণের জন্য ৪০১ কোটি ৬০ লাখ টাকার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যা থেকে প্রায় ২৫ লক্ষ ২২ হাজার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক উপকৃত হয়েছেন।

    ফসল সংরক্ষণ ও বিপণনের সুবিধার জন্য আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ ও গুদাম নির্মাণ, মিনি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের উদ্যোগ এবং পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য এয়ার-ফ্লো মেশিন বিতরণ করা হচ্ছে। রপ্তানির সুযোগ বাড়ানোর উদ্দেশ্যে উত্তরাঞ্চলে কৃষিপণ্য রপ্তানি অঞ্চল ও ক্রয়কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা চালু রয়েছে।

    কৃষি গবেষণা ও উদ্ভাবনে গুরুত্ব বৃদ্ধি করে সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো—যেমন: বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি), বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) ও বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা)—অধিক ফলনশীল, রোগ-প্রতিরোধী ও স্বল্পমেয়াদি জাত উদ্ভাবনে কাজ করছে। বিশেষভাবে জলবায়ু সহনশীল জাতের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে যাতে পরিবর্তিত পরিবেশেও উৎপাদন বজায় রাখা যায়।

    অবশেষে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কমাতে ‘ক্লাইমেট স্মার্ট কৃষি’ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে আছে লবণাক্ত, খরা ও বন্যা সহনশীল ফসল চাষ, উন্নত পানি ব্যবস্থাপনা, কম সেচে উৎপাদন সম্ভব করা, রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার কমিয়ে টেকসই পদ্ধতি গ্রহণ, সেচ ব্যবস্থায় Alternate Wetting and Drying (AWD) প্রবর্তন, প্রি-পেইড মিটার স্থাপন এবং মোবাইল অ্যাপ—যেমন ‘খামারি অ্যাপস’—মাধ্যমে স্থানভিত্তিক আবহাওয়া ও বাজার তথ্য ও চাষ পরামর্শ প্রদান। পাশাপাশি প্রিসিশন এগ্রিকালচারসহ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃষিকে আরও দক্ষ ও পরিবেশবান্ধব করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

    সরকারের দাবি, এই সমন্বিত উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে কৃষি উৎপাদন ও আয় বাড়বে, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা দ্রুত পৌঁছাবে এবং কৃষি খাত আরও টেকসই ও লাভজনক হবে।

  • সন্তানসহ জামিনে মুক্তি পেলেন যুব মহিলা লীগ নেতা্রী শিল্পী বেগম

    সন্তানসহ জামিনে মুক্তি পেলেন যুব মহিলা লীগ নেতা্রী শিল্পী বেগম

    তেজগাঁও থানায় করা বিস্ফোরক আইনের মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া যুব মহিলা লীগ নেতা্রী শিল্পী বেগম এবং তার দেড় মাস বয়সী কন্যাসন্তান কাইফা ইসলাম সিমরান বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান। কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার শিরিন আক্তার তার মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    এর আগে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাত আটটায় ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত বিচারক মোস্তাফিজুর রহমান তার জামিন মঞ্জুর করেন। ওই সিদ্ধান্তের পর বুধবার সকাল থেকেই তার সহকর্মীরা কাশিমপুর কারাগার ফটকে উপস্থিত থেকে তাকে নেবার অপেক্ষা করেন।

    তেজগাঁও এলাকার শ্রমিক লীগ নেতা আলমগীর হোসেন বলেন, ‘‘তিনি আমাদের বড় বোন, দীর্ঘদিন ধরে একসঙ্গে রাজনীতি করেছি। তার সঙ্গে যা অন্যায় ঘটেছে, সেটি মিডিয়ায় প্রচারের পর মানবিক কারণ বিবেচনা করে আদালত জামিন মঞ্জুর করেছেন বলে আমরা মনে করি। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।’’

    কারা ফটকে মুক্তির পর শিল্পী বেগম বলেন, ‘‘পুলিশ আমাকে ধরতে চায়নি, বিএনপির লোকজন আমাকে ধরিয়ে দিয়েছে। আমি আওয়ামী লীগ করি কিন্তু কোনো পদ-পদবি নেই। আমাকে মুক্তি দেওয়ায় আমি আইনের প্রতি কৃতজ্ঞ।’’

    উল্লেখ্য, গত সোমবার (২০ এপ্রিল) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তেজগাঁও থানার রেলওয়ে কলোনি স্টেশন রোডের নিজ বাসা থেকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে মঙ্গলবার রাতে তিনি এবং তার নবজাতক কন্যা কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। মামলার পরবর্তী কার্যক্রমে আদালত জামিন মঞ্জুর করলে তারা মুক্তি পান।

  • বিএপি সংরক্ষিত নারী আসনে সংখ্যালঘু চার নারীকে মনোনয়ন দিয়েছে

    বিএপি সংরক্ষিত নারী আসনে সংখ্যালঘু চার নারীকে মনোনয়ন দিয়েছে

    বিএনপি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের চার নারীকে দলীয় মনোনয়ন দিয়েছে। সোমবার নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলীয় নাম ঘোষণা করেন সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

    মনোনয়ন পাওয়া চারজন হলেন নিপুণ রায় চৌধুরী, আন্না মিনজ, সুবর্ণা শিকদার ঠাকুর ও মাধবী মারমা। দল বলছে, এই তালিকায় সামাজিক ও সম্প্রদায়িক প্রতিনিধিত্বকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    আন্না মিনজ ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনালের সিনিয়র ডিরেক্টর (প্রোগ্রাম)। তিনি উন্নয়নকর্মী হিসেবে পরিচিত এবং নিজে খ্রিস্টান ও বিভিন্ন ক্ষুদ্রজাতি/আদিবাসী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব করার দাবিদার। তিনি জানান, তিনি সুবিধাবঞ্চিত সংখ্যালঘু ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর কণ্ঠ হয়ে কাজ করবেন। তার স্বামী জন গোমেজ বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ধর্মবিষয়ক সহ-সম্পাদক।

    সুবর্ণা শিকদার ঠাকুর গোপালগঞ্জ থেকে প্রতিনিধিত্ব করবেন। তিনি শিক্ষক ও মথুয়া বহুজন সমাজ ঐক্যজোটের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে পরিচিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু দাবি উঠেছে যে তিনি স্থানীয় আওয়ামী লীগ কমিটিতে রয়েছেন; সেই প্রশ্নের জবাবে সুবর্ণা গণমাধ্যমকে বলেন, “আমি বিএনপি’র একজন সমর্থক, কোনো কমিটিতে নেই।” তার স্বামী পদ্মনাভ ঠাকুর একসময় যুবদলের নেতা ছিলেন।

    মাধবী মারমা বান্দরবান থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন। তিনি বান্দরবান জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য এবং দলীয় মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন।

    দলীয় শীর্ষ নেতারা বলছেন, সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক পরিবেশ গড়াই এই মনোনয়নের লক্ষ্য। দল কর্তৃপক্ষ আশা করছে, এই সিদ্ধান্ত দেশের নানা পটভূমি থেকে নারীদের রাজনৈতিকভাবে সুসংগঠিত করে তুলবে।

  • সরকার ভুল করলে নারী এমপিরাও সোচ্চার হবেন: হামিদুর রহমান আযাদ

    সরকার ভুল করলে নারী এমপিরাও সোচ্চার হবেন: হামিদুর রহমান আযাদ

    জামায়াতের সহকারী সাধারণ সম্পাদক হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, সরকার যদি ভুল পথে চলে বা জনবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত নেয় তবে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যরাও বিরোধীদলের অন্য নেতাদের মতো সমানভাবে সোচ্চার হবেন। তিনি মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) নির্বাচন ভবনে জামায়াত জোটের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর আয়োজন করা সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান।

    আযাদ বলেন, ‘‘আমরা একটি কম্বাইন তালিকা সাবমিট করেছি। এই তালিকায় ১৩টি সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য আর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী থাকার সম্ভাবনা নেই। প্রত্যাশা করি এই ১৩ জনই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবেন।’’ তিনি বলেন, এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গেও আলাপ হয়েছে এবং তারা আশ্বস্ত করেছে যে—প্রক্রিয়াটি সময়মতো এবং সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে। কমিশন যেন কোনো ভিন্ন পরিস্থিতি তৈরি না করে, সেটাই তারা প্রত্যাশা করে।

    আযাদ বলেন, পার্লামেন্ট বর্তমানে কার্যকর থাকায় যদি মনোনীত নারী সদস্যরা সময়মতো সদস্যপদ গ্রহণ করতে পারেন তবে নারী প্রতিনিধিত্বের প্রত্যাশা পূরণ হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, মনোনীত ১৩ জন নারী ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষে পার্লামেন্টে নারী প্রতিনিধি হিসেবে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।

    তিনি আরো বলেন, ‘‘নারীরা দেশের স্বার্থ ও জনগণের কল্যাণে আইনপ্রণয়ন ও সংসদীয় কাজকর্মে সম্পূর্ণভাবে অংশ নেবে; সংবিধান তাদের সেই অধিকার দিয়েছে। তারা বিরোধী দলের কাতারে বসে দেশের গঠন ও জাতির উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।’’

    জামায়াতের নীতিসমূহের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, দল সর্বদা ন্যায়সংগত ও জনকল্যাণমূলক বিষয়ে জনগণের সাথে ইতিবাচক ভূমিকা নেবে। আছাড়া তিনি উল্লেখ করেন, বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এই নীতিই ঘোষণা করেছেন।

    সরকারি ভুল বা জনবিরোধী সিদ্ধান্ত হলে বিরোধীদলের অন্যান্য সদস্যদের মতোই নারী সদস্যরাও প্রতিবাদে যোগ দেবেন—এবিষয়ে আযাদ বলেন, ‘‘৭৭ জন বিরোধীদলীয় সদস্যের সাথে ১৩ জন নারী সদস্য যুক্ত হয়ে মোট ৯০ জন বিরোধীদলীয় সদস্য একসঙ্গে ভূমিকা পালন করবে—এই প্রত্যাশা আমাদের আছে।’’

    গণভোটের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘গণভোটের রায় অনুযায়ী সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ গঠন হওয়ার কথা ছিল। সেটি না হওয়ায় আমরা পার্লামেন্টে এবং পার্লামেন্টের বাইরেও সরকার ও জনরায় উপেক্ষার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছি এবং করবো।’’

    মনোনয়ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি জানান, জামায়াতে এমন নীতিই আছে যে একই পরিবারের দুই সদস্য সংসদে থাকবেন না; এজন্য আমিরের সহধর্মিণীকে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। এই আসনে শহীদের পরিবারের একজন মাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে এবং সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ারদেরও মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

    এনসিপির প্রার্থী মুনিরা শারমিনকে নিয়ে ওঠা সরকারি চাকরি থেকে অবসর সংক্রান্ত বিতর্কে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সংসদীয় আইন অনুযায়ী যারা তিন বছর পূর্ণ না করেছেন তাদের বিষয়ে মনোনয়নপত্র বাতিল হবে বলে তিনি আশা করেন না।

    নির্বাচন তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ২২ ও ২৩ এপ্রিল, আপিল দাখিলের শেষ দিন ২৬ এপ্রিল, আপিল নিষ্পত্তি ২৭ ও ২৮ এপ্রিল, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২৯ এপ্রিল, প্রতীকের বরাদ্দ ৩০ এপ্রিল এবং ভোটগ্রহণ নির্ধারিত আছে ১২ মে।

  • রেমিট্যান্সের জোয়ার: প্রথম ১৯ দিনে দেশে এল ২.১৩ বিলিয়ন ডলার

    রেমিট্যান্সের জোয়ার: প্রথম ১৯ দিনে দেশে এল ২.১৩ বিলিয়ন ডলার

    চলতি এপ্রিল মাসের প্রথম ১৯ দিনেই দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২.১৩ বিলিয়ন বা ২১২ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার। এতে দৈনিক গড় প্রবাহ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১১ কোটি ১৯ লাখ ডলার বলে সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান।

    সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ে দেশের কাছে এসেছিল ১৭১ কোটি ৯০ লাখ ডলার। সে হিসাবে বছর ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহ কড়া বৃদ্ধিই দেখা গেছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যানও বলছে, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ৮৩৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার — যা আগের বছরের তুলনায় ২০ দশমিক ৬০ শতাংশ বেশি।

    একক মাস হিসেবে গত মার্চে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার, যা দেশের ইতিহাসে এক মাসে সর্বোচ্চ। এর আগে ফেব্রুয়ারি ও জানুয়ারিতে যথাক্রমে ৩০২ কোটি ৭ লাখ এবং ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। ডিসেম্বর ছিল ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ; নভেম্বরে ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ; অক্টোবর ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ এবং সেপ্টেম্বর ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ডলার।

    বিশ্বব্যাপী, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা বৈদেশিক মুদ্রার বাজারকে প্রভাবিত করছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের চাহিদা বাড়ার ফলে স্থানীয় মুদ্রার বিপরীতে ডলারের বিনিময় হার বেড়ে গেছে, ফলত প্রবাসীরা যখন টাকা পাঠাচ্ছেন তাতে দেশে পৌঁছানো টাকার পরিমাণ তুলনামূলক বেশি হচ্ছে—এটিই রেমিট্যান্স বাড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ বলে বিশ্লেষকরা জানান।

    অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলছেন, যদি মধ্যপ্রাচ্যের সংকট দীর্ঘায়িত হয় তবে এর প্রভাব বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও পড়তে পারে। সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় তারা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্ত অবস্থায় রাখার উপর জোর দিয়েছেন। রেমিট্যান্সের এই সংগ্রহশীল বৃদ্ধি ছন্দ ধরে রাখার পাশাপাশি আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হবে।