Blog

  • হ্যাথাওয়ের ‘ইনশা আল্লাহ’ বলায় নেটজগৎ সরগরম

    হ্যাথাওয়ের ‘ইনশা আল্লাহ’ বলায় নেটজগৎ সরগরম

    সিসেমি স্ট্রিটে লাল পুতুল এলমোর ‘আসসালামু আলাইকুম’ নিয়ে যে বিতর্ক উঠেছিল, তার ধারাবাহিকতায় এবার হলিউড তারকা অ্যান হ্যাথাওয়ের একটি সাক্ষাৎকারে ‘ইনশা আল্লাহ’ বলা নেটদুনিয়ায় তুমুল আলোচনা উসকে দিয়েছে।

    সম্প্রতি পিপল ম্যাগাজিনকে দেয়া এই সাক্ষাৎকারে চল্লিশোর্ধ্ব জীবনের কথা বলার সময় হ্যাথাওয়ে বলেন, “আমি একটি দীর্ঘ ও সুস্থ জীবন কাটাতে চাই, ইনশা আল্লাহ। আমি সেটাই আশা করি।” ব্যবহারিকভাবে সহজ ও স্বাভাবিক এই উচ্চারণ শোনার পর নেটিজেনরা অবাক হয়েছেন এবং ভিডিওটি এক্সে দ্রুত ভাইরাল হয়েছে।

    অনেকেই মন্তব্য করেছেন যে হ্যাথাওয়ে শব্দটি সঠিক প্রাসঙ্গিকে—and—সঠিক উচ্চারণে ব্যবহার করেছেন, যা ইঙ্গিত করে তিনি এর সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় সূক্ষ্মতা সম্পর্কে সচেতন। বিশেষ করে মুসলিমরাও তার এই অন্তর্ভুক্তি ও আন্তরিকতা প্রশংসা করেছেন।

    তবে সাক্ষাৎকারটি কেবল এই এক বাক্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। চার দশকের জীবনানুভবে হ্যাথাওয়ে বলেছেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অতীতের সিদ্ধান্তগুলোকে নভেল দৃষ্টিতে দেখা যায় এবং তা ভবিষ্যতের সিদ্ধান্ত নেয়ায় সহায়ক হয়। তিনি বলেন, “৪০ বছর বয়সে ফিরে তাকালে বোঝা যায় যে অতীতের সিদ্ধান্তগুলো কীভাবে বর্তমানকে গঠন করেছে।”

    বয়সকে তিনি ভয়ের বদলে কৌতূহল এবং গ্রহণযোগ্যতায় গ্রহণ করার কথাই বলেন। “আমি এখন জীবনকে আরও সহজভাবে নিতে শিখেছি। আপনি চাইলে বার্ধক্যকে ভয় পাবেন, বা অনিশ্চয়তাকে ভয় পাবেন—কিন্তু আমি বার্ধক্যকে কৌতূহলসহ গ্রহণ করতে পছন্দ করি,”—এমন ভাবনাই তার মনোভাবকে প্রকাশ করে।

    হ্যাথাওয়ের এই নম্রতা এবং ‘ইনশা আল্লাহ’ শব্দের ব্যবহার এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনা ও প্রশংসার কেন্দ্রবিন্দু। অনেক ভক্ত মনে করছেন, এই ছোট্ট উচ্চারণেই তার সংবেদনশীলতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক মনোভাব ফুটে উঠেছে।

  • নিয়ামতপুরে জমি-বিবাদে একই পরিবারের চারজন গলাকেটে হত্যা, ৩ গ্রেপ্তার

    নিয়ামতপুরে জমি-বিবাদে একই পরিবারের চারজন গলাকেটে হত্যা, ৩ গ্রেপ্তার

    নওগাঁর নিয়ামতপুরে জমি ভাগবাটোয়ারা নিয়ে বিরোধের জের ধরে একই পরিবারের চারজনকে গলাকেটে হত্যার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হত্যা কাজে ব্যবহৃত ধারালো হাসুয়া ও ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে—সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।

    পুলিশ সুপারের ভাষ্য অনুযায়ী, গত রাত্রিতে (২১ এপ্রিল) উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামে একটি নির্মম হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আলামত সংগ্রহ ও তদন্ত শুরু করে। পরের দিন (২২ এপ্রিল) বিকেলে জেলা পুলিশের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার এই তথ্য জানান।

    পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন সবুজ রানা (২৫), শহিদুল ইসলাম ও শহিদুলের ছেলে শাহিন মন্ডল। তাদের মধ্যে দুইজন পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত আরও কয়েকজনকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে; তদন্তের স্বার্থে তাদের নাম এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

    পুলিশের উপাত্তে জানা গেছে, নিহত নমির উদ্দিনের সন্তান ও নাতি–নাতনীদের মধ্যে জমি-বিতর্ক ছিল। নমির উদ্দিনের এক ছেলে ১৩ বিঘা জমি পেয়েছিলেন এবং প্রতিটি মেয়েকে ১০ কাঠা করে জমি দেওয়া হয়েছিল। এ নিয়ে বোনদের ও তাদের জামাইদের মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। পুলিশ জানিয়েছে, দুই দিন আগে সবুজ এবং নিহত হাবিব একযোগে কিছু টাকা নিয়ে গরু কিনতে গিয়েছিলেন—সেই সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে তাদের মধ্যেকে আক্রমণের পরিকল্পনা গড়ে ওঠে।

    পুলিশ সুপার জানান, হত্যাকাণ্ডটি পরিকল্পিত ছিল। রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টা থেকে ১২টার দিকে শহিদুল, স্বপন (নিহতের চাচাতো ভাই), সবুজ ও শাহিন মিলে হাবিবুর রহমানের ঘরে ঢুকে তাকে বড় ধারালো হাসুয়া দিয়ে জবাই করে। পরে তারা ধারাবাহিকভাবে হাবিবের স্ত্রী পপি সুলতানা ও তাদের দুই সন্তান—পরভেজ (৯) ও সাদিয়া আক্তার (৩)—কেও হত্যা করে।

    প্রকৃত ঘটনাপ্রবাহ অনুযায়ী, হামলাকারীরা বাড়ির বাইরে থেকে নমির উদ্দিনের ঘরের দরজায় ছিটকানি লাগিয়ে তাকে ঘর থেকে বের হতে বাধা দেয়। নিহতের পরিবারের খেতে বা ঘরের আশেপাশে ধরা–ছড়ি লুকানো ছিল—পুলিশ আলামত থেকে এসব উদ্ধার করেছে। পপি খাবার খেয়ে ঘর থেকে বের হলে সবুজ তাকে হামলা করে এবং পরে শিশুদের ঘরে ঢুকে তাদেরও হত্যা করা হয়।

    হাসুয়া ও ছুরি উদ্ধার হয়েছে; একটি বড় ধারালো হাসুয়া শহিনের বাড়ির কাছে থেকে উদ্ধার করা হয় এবং পরে পুকুর থেকে আরেকটি ধারালো ছুরি উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

    নিহত পপি সুলতানার বাবা মোয়াজ্জেম হোসেন নিয়ামতপুর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ জনতা সবুজের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে এবং পুলিশকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যাতে কেউ নিরপরাধ মানুষকে কষ্ট না পায়।

    পুলিশ মামলার তদন্তে দ্রুতগতিতে কাজ করছে এবং গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে নিয়ে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। নিঃসন্দেহে এই নির্মম হত্যাকাণ্ড এলাকার মানুষকে শিহরিত করেছে এবং পুলিশ দাবি করেছে, হত্যার মূল কারণ গ্রাম্য জমি-বিতর্ক এবং উত্তরাধিকার নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা।

  • লোকবল সংকট মেটাতে শিগগিরই ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    লোকবল সংকট মেটাতে শিগগিরই ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, স্বাস্থ্যখাতে অব্যাহত লোকবল সংকট দুর করতে শিগগিরই এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেয়া হবে। তিনি এ কথা বলেন বুধবার (২২ এপ্রিল) ঢাকার শাহবাগে বাংলাদেশ-চীন যৌথ সার্জিক্যাল ক্লিনিক চালুর সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের মন্তব্য করার সময়ে।

    মন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, দেশে হামের টিকার মজুত রয়েছে ছয় মাসের জন্য। ভবিষ্যৎ ছয় মাস এই টিকা প্রদান করতে কোনো জটillo হবে না—পর্যাপ্ত মজুদ আছে—এমন আশ্বাস দিয়েছেন তিনি এবং জনস্বাস্হ্যের বিষয়ে অপ্রয়োজনে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

    লোকবল সংকট মোকাবেলায় এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি, সকল উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি হাসপাতালে ১০ জন সশস্ত্র আনসার দায়িত্বে নিয়োগ দেয়া হবে বলেও ঘোষণা করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, জটিল অস্ত্রোপচার ও চিকিৎসাসেবায় দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। চীনের সহায়তায় দেশে যৌথ সার্জিক্যাল ক্লিনিক ও ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসাসেবা চালুর লক্ষ্যে এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে—এ তথ্যও তিনি নিশ্চিত করেন।

    মন্ত্রী ও অতিথিরা আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই উদ্যোগগুলো দেশের স্বাস্থ্যসেবার গ্রহণযোগ্যতা ও প্রাপ্যতা বাড়াবে, এবং চিকিৎসক-নার্স ও রোগীদের জন্য সুরক্ষা ও সহায়ক পরিবেশ জোরদার করবে।

  • বিএনপি’র মনোনয়ন পেলেন সংখ্যালঘু চার নারী

    বিএনপি’র মনোনয়ন পেলেন সংখ্যালঘু চার নারী

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় থেকে চার নারী প্রার্থীকে দলীয় মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি। সোমবার নয়াপল্টনের বিএনপি কার্যালয়ে এই প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। মনোনীত হয়েছিলেন নিপুণ রায় চৌধুরী, আন্না মিঞ্জ, সুবর্ণা শিকদার ও মাধবী মারমা।

    বিএনপি’র মনোনয়নে সমাজে ভিন্নতা ও প্রতিনিধিত্বকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে বিশেষ নজর কেড়েছেন উন্নয়নকর্মী ও আদিবাসী ওঁরাও সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি আন্না মিঞ্জ। আন্না বর্তমানে ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনালের সিনিয়র ডিরেক্টর (প্রোগ্রাম) হিসেবে কাজ করছেন। নাটোরের বাসিন্দা আন্না বলেন, তিনি সুবিধাবঞ্চিত সংখ্যালঘু, খ্রিস্টান সম্প্রদায় ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করবেন। তার স্বামী জন গোমেজ বিএনপি’র কেন্দ্রীয় বিষয়ক কমিটির ধর্মবিষয়ক সহ-সম্পাদক।

    সাংস্কৃতিক ও ভৌগোলিক দিক থেকে বিভিন্ন অঞ্চলকে প্রতিনিধিত্ব করানোর লক্ষ্যে সুবর্ণা শিকদার ও মাধবী মারমাকেও মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। সুবর্ণা গোপালগঞ্জ থেকে আসছেন; তিনি মথুয়া বহুজন সমাজ ঐক্যজোটের প্রধান উপদেষ্টা ও একজন শিক্ষক। মনোনয়ন প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা শুরু হওয়ার পর সুবর্ণা গণমাধ্যমকে বলেন, “আমি বিএনপি’র একজন সমর্থক; কোনো স্থানীয় কমিটিতে নেই।” তাঁর স্বামী পদ্মনাভ ঠাকুর এক সময় যুবদলের নেতা ছিলেন।

    মাধবী মারমা বান্দরবান থেকে মনোনীত। তিনি বান্দরবান জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য এবং দলের মহিলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচিত।

    দলীয় নেতারা বলছেন, সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেই একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ার উদ্দেশ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তারা আশা করেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি হিসেবে এসব নারী প্রার্থী গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশ নেবেন এবং সমাজে বৈচিত্র্যপূর্ণ কণ্ঠস্বর গড়ে তুলবেন।

  • সরকার ভুল করলে নারী এমপিরাও সরব হবেন: হামিদুর রহমান আযাদ

    সরকার ভুল করলে নারী এমপিরাও সরব হবেন: হামিদুর রহমান আযাদ

    জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেছিলেন, সরকার যদি কোনো ভুল পথে চলে বা জনবিরোধী সিদ্ধান্ত নেয়, তখন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যরাও বিরোধীদলীয় অন্য সদস্যদের মতোই সক্রিয়ভাবে সোচ্চার হবেন। এসব কথা তিনি মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) নির্বাচন ভবনে জামায়াত জোটের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর সংবাদ সম্মেলনে জানান।

    আযাদ বলেন, নারী আসনের জন্য ১৩টি আসনে জামায়াত-সহযুক্তদের সম্মিলিত (কম্বাইন) তালিকা জমা দেওয়া হয়েছে। আমরা আশাবাদী যে এসব আসনে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী থাকবে না ও এই ১৩ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবেন। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গেও এই প্রত্যাশা নিয়ে আলাপ হয়েছে এবং আমরা চাই কমিশন যেন সময় মতো ও সুষ্ঠুভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করে, কোনো ভিন্ন পরিস্থিতি তৈরি না হয়।

    তিনি আরও জানান, সংসদ চলছে—যদি মনোনীতরা সময় মতো নিয়ে পার্লামেন্টে যোগ দিতে পারেন, তাহলে নারী প্রতিনিধিত্ব সংক্রান্ত জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হবে। নারী এমপি হিসেবে এই ১৩ জন সারা জাতির জন্য আইন প্রণয়ন ও অন্যান্য কাজেই পূর্ণ অধিকার ও ক্ষমতা ব্যবহার করবেন; সংবিধানও তাদের সেই সুযোগ দিয়েছে।

    আযাদ আশা করেন মনোনীত ১৩ জন নির্বাচিত হয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষে পার্লামেন্টে নারী প্রতিনিধিত্ব করবেন এবং বিরোধীদলীয় কাতারে থেকে দেশ গঠনে অংশ নেবেন। তিনি বললেন, বর্তমানে বিরোধীদলে ৭৭ জন সদস্য আছে এবং ১৩ জনের যোগে মোট ৯০ জন বিরোধীদলীয় সদস্য একসঙ্গে ভূমিকা পালন করবেন—এই প্রত্যাশা রাখছি।

    গণভোট ও সাংবিধানিক সংস্কার নিয়ে প্রশ্নে আযাদ বলেন, গণভোটের রায় অনুযায়ী সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ গঠন হওয়ার কথা ছিল; তা না হওয়ায় ১১ দল সরকারী সিদ্ধান্ত ও জনভাগের উপেক্ষার প্রতিবাদে পার্লামেন্টে এবং পার্লামেন্টের বাইরে রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও তারা এ প্রতিবাদ অব্যাহত রাখবে।

    একইসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন যে জামায়াতে এক পরিবারের দুই সংসদ সদস্যের নীতি না থাকা থাকায় দলের আমিরের সহধর্মিণীকে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন দেয়া হয়নি; বরং শহীদ পরিবারের মাতাকে এবং সমাজে অবদান রাখায় ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ারসহ বিভিন্ন পেশার মানুষদের মনোনয়ন দেয়া হয়েছে।

    এনসিপির প্রার্থী মুনিরা শারমিনের সরকারি চাকরি থেকে অবসর না হয়ে তিন বছর না পেরোলে প্রার্থী হওয়া যায় না—এমন অভিযোগ সম্পর্কে আযাদ বলেন, তা নিয়েও মনোনয়নপত্র বাতিল হবে বলে তিনি আশা করছেন না।

    তিনি শেষ দিকে নির্বাচনী সময়সূচিও তুলে ধরেন: মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ২২ ও ২৩ এপ্রিল; আপিল করা যাবে ২৬ এপ্রিল; আপিল নিষ্পত্তি হবে ২৭ ও ২৮ এপ্রিল; প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২৯ এপ্রিল; প্রতীক বরাদ্দ ৩০ এপ্রিল এবং ভোটগ্রহণ নির্ধারিত আছে ১২ মে।

  • এপ্রিলের প্রথম ১৯ দিনে রেমিট্যান্স ২.১৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল

    এপ্রিলের প্রথম ১৯ দিনে রেমিট্যান্স ২.১৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল

    চলতি এপ্রিল মাসের প্রথম ১৯ দিনে দেশে রেমিট্যান্স入り এসেছে ২.১৩ বিলিয়ন বা ২১২ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার, যা দৈনিক গড় প্রাপ্তিকে দাঁড় করিয়েছে প্রায় ১১২ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ১১ কোটি ১৯ লাখ)। এই তথ্য সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান নিশ্চিত করেছেন।

    মুখপাত্র জানান, গত বছরের একই সময়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৭১ কোটি ৯০ লাখ ডলার। তুলনায় এবারের প্রবাহ অনেকটা দ্রুতগতিতে বেড়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক উপাত্ত অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ৮৩৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ২০ দশমিক ৬০ শতাংশ বেশি।

    একই সঙ্গে গত মার্চ মাসে একক মাস হিসেবে রেমিট্যান্স এসেছে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার, যা দেশের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ এক মাসের প্রবাহ হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। ফেব্রুয়ারি ও জানুয়ারিতে যথাক্রমে ৩০২ কোটি ৭ লাখ এবং ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। ডিসেম্বরে ছিল ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ, নভেম্বরে ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ, অক্টোবরে ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ এবং সেপ্টেম্বরে ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ডলার।

    বিশ্ববাজারে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা বৈদেশিক মুদ্রার বাজারেও তরঙ্গ সৃষ্টি করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় মুদ্রার তুলনায় ডলারের বিনিময় হার বাড়ছে। এর ফলে প্রবাসীরা যখন বিদেশি মুদ্রা পাঠাচ্ছেন, তারা তুলনামূলকভাবে বেশি টাকাই পেয়েছেন—যা রেমিট্যান্স বৃদ্ধির এক কারণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে।

    অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলছেন, যদি মধ্যপ্রাচ্যের সংকট দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে তা বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় তারা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে শক্ত অবস্থানে রাখার পরামর্শ দেন।

    সংক্ষেপে, সাম্প্রতিক সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহে দ্রুতগতিসহ বৃদ্ধি দেখা গেলেও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা এবং ভূ-রাজনীতিক উত্তেজনা ভবিষ্যতে চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করতে পারে। তাই রিজার্ভ ও নীতিগত প্রস্তুতিকে আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তাই অধিকতর জরুরি বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

  • বৈদেশিক ঋণ ৭৮,০৬৭.২০ মিলিয়ন ডলার: সংসদে জানালেন অর্থমন্ত্রী

    বৈদেশিক ঋণ ৭৮,০৬৭.২০ মিলিয়ন ডলার: সংসদে জানালেন অর্থমন্ত্রী

    অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সংসদে জানান, দেশের বৈদেশিক ঋণের বর্তমান পরিমাণ ৭৮,০৬৭.২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। তিনি এই তথ্য মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৮তম দিনে প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রদান করেন।

    ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য স্বতন্ত্র এমপি রুমিন ফারহানা প্রশ্ন করে জানতে চান—বর্তমানে বিদেশি ঋণের মোট অবস্থান কত, ঋণ পরিশোধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে এখন পর্যন্ত কোনো ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে কি না।

    জবাবে আমির খসরু বলেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণের স্থিতি ৭৮,০৬৭.২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। তিনি বলেন, ঋণ পরিশোধ সংক্রান্ত কাজ সরকারের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) পরিচালনা করে থাকেন।

    অর্থমন্ত্রী আরও জানান, প্রতিটি অর্থবছরে ঋণের মূল ও সুদ মিলিয়ে মোট সম্ভাব্য ব্যয়ের একটি প্রক্ষেপণ তৈরি করা হয় এবং সেই পরিমাণ অনুযায়ী বাজেটে অর্থ সংরক্ষণ করা হয়। বাজেট বরাদ্দ ব্যবহার করে বছরের throughout ঋণের পরিশোধ সূচি অনুসারে भुगतान করা হচ্ছে।

    তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে অন্তত ৯০.৬৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, নির্ধারিত বাজেট ও সময়সূচি মেনে ধারাবাহিকভাবে ঋণ শোধের কাজ চলছে।

  • হরমুজ প্রণালীতে আইআরজিসি দুই কন্টেইনার জাহাজ জব্দ

    হরমুজ প্রণালীতে আইআরজিসি দুই কন্টেইনার জাহাজ জব্দ

    শান্তি আলোচনার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দিলেও কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হরমুজ প্রণালীতে দুটি কন্টেইনার জাহাজ জব্দ করেছে ইরানের বিপ্লবী garde বাহিনী (আইআরজিসি)। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে জানা গেছে, আজ বুধবার স্থানীয় সময় সকালে এই ঘটনা ঘটেছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে।

    আইআরজিসি নৌ-শাখা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের সময় ‘আইন লঙ্ঘনকারী’ হিসেবে দুইটি জাহাজ শনাক্ত করে আটক করা হয়েছে। আটককৃত জাহাজ দুটোকে বর্তমানে ইরানের উপকূলের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। জাহাজ দুটির নাম জানানো হয়েছে — পানামার পতাকাবাহী ‘এমএসসি ফ্রান্সেসকা’ এবং লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী ‘এপামিনোডাস’।

    মেরিটাইম ট্র্যাকিং সাইট মেরিন ট্রাফিক জানিয়েছে, জাহাজ দুটির সর্বশেষ অবস্থান ওমানের উত্তর-পূর্বে, ইরানি উপকূলের কাছাকাছি ছিল।

    যুক্তরাজ্যভিত্তিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ সংস্থা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, ওমান থেকে প্রায় ১৫ নটিক্যাল মাইল উত্তর-পূর্বে এক কন্টেইনার জাহাজকে লক্ষ্য করে আইআরজিসি বোট থেকে গুলি চালানো হয়। এতে জাহাজটির ব্রিজ বা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এছাড়া ব্রিটিশ নিরাপত্তা সংস্থা ভ্যানগার্ড টেক জানায়, ওই ঘটনায় আরো একটি কন্টেইনার জাহাজ ‘ইউফোরিয়া’কে আট নটিক্যাল মাইল পশ্চিমে গুলি করে থামিয়ে রাখা হয়।

    ঘটনাটি কেন্দ্রীয় ভূ-রাষ্ট্রনীতিতে পুরোনো একটা বিতর্ককে তীব্র করেছে — পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণের লড়াই। বরাবরই এই নৌপথটি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস রপ্তানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই রুট দিয়েই পরিবাহিত হয়।

    রিপোর্টগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সামুদ্রিক উত্তেজনা বরাবরের মতোই তীব্র। যুক্তরাষ্ট্র নৌবাহিনী বলছে তারা ইরানি বন্দরে যাতায়াতকারী কিছু জাহাজকে নজরদারি ও প্রয়োজন হলে বাধা দিচ্ছে; অন্যদিকে তেহরান ঘোষণা করেছে যে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ বা ত্যাগের জন্য হরমুজ প্রণালী ব্যবহারকারীদের তাদের অনুমতি নিতে হবে।

    ঘটনার পর আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা ও বাণিজ্যশিল্পের অংশী জনেরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন যে এই ধরনের উত্তেজনা যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে তেলের বাজার এবং আন্তর্জাতিক শিপিং লাইনের উপর প্রভাব পড়তে পারে। ঘটনার অনুসন্ধান ও প্রতিক্রিয়া এবারেরই ওপর নির্ভর করবে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি প্রশমিত হবে কি না।

  • রাত পোহালেই পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোট, সারা দেশের নজর

    রাত পোহালেই পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোট, সারা দেশের নজর

    রাত পোহালেই শুরু হচ্ছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন। প্রথম দফার ভোটগ্রহণ আগামী বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাজ্যের ১৬টি জেলায় ১৫২টি আসনে অনুষ্ঠিত হবে। বাকি ৮ জেলার ১৪২টি আসনে দ্বিতীয় দফার ভোট হবে ২৯ এপ্রিল। এই প্রতিযোগিতা কেউ মনে করছে ক্ষমতায় টিকে থাকার লড়াই, কেউ বলছে এটা ক্ষমতা দখলের যুদ্ধে পরিণত হবে, আবার অনেকেই এটিকে প্রতিষ্ঠার লড়াই বলছেন। তাই পুরো দেশের দৃষ্টি এখন পশ্চিমবঙ্গে।

    নির্বাচনের ফল কখনোই একক ইস্যু বা একক জোড়ার উপর নির্ভর করে না। প্রার্থী, ইস্যু, সাংগঠনিক শক্তি ও ভোটারের অনুভব—এসবের জটিল সমাহার দিয়ে ফল নির্ধারিত হয়। পশ্চিমবঙ্গের এই সমীকরণে কয়েকজন জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক ব্যক্তি বিশেষ ভূমিকা নিচ্ছেন। তারা কেউ সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বী, কেউ সিদ্ধান্ত-গ্রহণে প্রভাবশালী ও কেউ আবার রাজ্যের বাইরে থেকে হলেও ভোটের পাখির চোখ হিসেবে বিবেচিত।

    মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

    তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে থাকা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তৃণমূল নেতারা প্রায়ই ‘রাজ্যের ২৯৪টি আসনে একমাত্র ভোটার’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। ২০১১ সালে ৩৪ বছরের বাম শাসনের পর রাজ্যের প্রথম নারী মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে ক্ষমতায় এসে তিনি এখনও ধরে রেখেছেন ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু। তাঁর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা, জনসংযোগ ও সংগ্রামী প্রতিচ্ছবি তৃণমূলের সবচেয়ে বড় শঙ্খস্বরূপ।

    তবে গত কয়েক বছরে তার দলের কিছু নেতা-মন্ত্রীকে কেন্দ্র করে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় তৃণমূলের জন্য পরিস্থিতি চ্যালেঞ্জিং হয়েছে। শিক্ষা ও পৌরসেবা সংক্রান্ত নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগ, রেশন দুর্নীতি এবং বিভিন্ন অনৈতিক ঘটনার খবর জনমানসে ক্ষোভ তৈরি করেছে। এসব বিষয় বিরোধীদের নির্বাচনী আক্রমণের প্রধান হাতিয়ার। তবু লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, কন্যাশ্রী, স্বাস্থ্যসাথী, যুবসাথী ইত্যাদি সামাজিক ও কল্যাণমূলক প্রকল্প ভোটে তৃণমূলের পক্ষে প্রভাব ফেলতে পারে—বিশেষত নারী ও মুসলিম ভোটারের মধ্যে।

    নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহ জুটি

    বিজেপি দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গকে ‘পাখির চোখ’ করেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বারবার রাজ্যে এসে জনসভা ও র‍্যালি করে কেন্দ্রীয় সরকারের উন্নয়নকাহিনি প্রচার করেছেন। মোদির কাছে সমর্থন টানার ওপর বিজেপি নির্ভর করছে; আর অমিত শাহকে দেখা হচ্ছে দলীয় কৌশল রচনায় প্রধান হাত হিসেবে।

    বিজেপি তৃণমূলকে দুর্নীতি, অনুপ্রবেশ ও প্রশাসনিক অসামঞ্জস্যের দায়ে আক্রমণ করেছে এবং দাবি করেছে যে কেন্দ্রীয় উন্নয়ন সুবিধার সুবিধে রাজ্যের নাগরিকদের ঠিকভাবে পৌঁছে দেওয়া হয়নি। গত কয়েক বছরে রাজ্যে বিজেপির সংগঠন দৃঢ়তর হলেও মোদিকে সামনে রেখে এখানে বড় স্বরলিপি তৈরি করে জেতা কতটুকু সম্ভব হবে—সেটা নির্বাচনবিজ্ঞদের নজরকাড়ার বড় প্রশ্ন।

    অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

    তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যদিও বিধানসভায় প্রতিদ্বন্দ্বী নন, তবু দলের অভ্যন্তরীণ রণকৌশল ও সাংগঠনিক কাজের অনেকটাই তার হাতে-কলমে চলে। ‘বয় নেক্সট ডোর’ ইমেজ ও সাংগঠনিক দক্ষতা তাকে দলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের প্রতিশ্রুতিপূর্ণ মুখ হিসেবে তুলে ধরেছে। বিপক্ষের অভিযোগ—দুর্নীতি বা পারিবারিক প্রভাব—এই ইস্যুগুলো দলের সামগ্রিক ভাবমূর্তিতে প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা বলছেন।

    শুভেন্দু অধিকারী

    একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ তৎপর, পরবর্তীকালে বিজেপিতে যোগ দেওয়া শুভেন্দু অধিকারী এখন রাজ্যের বিরোধী শক্তির প্রধান মুখের মধ্যে একজন। নন্দীগ্রাম থেকেই তার জনগণগত প্রভাব রয়েছে এবং বিজেপি তাকে দিয়েই নন্দীগ্রাম ও অন্যান্য এলাকায় শক্তি প্রদর্শন করতে চায়। তৃণমূল এবং অন্যান্য বিরোধীরা তাকে ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতি করার অভিযোগে লক্ষ্য করছেন, আর ভোটার তালিকা ও এসআইআর-সংক্রান্ত বিতর্কও তাঁর আশপাশে নির্বাচনী জটিলতা বাড়িয়েছে।

    হুমায়ুন কবীর

    পূর্বে কংগ্রেস, পরে বিজেপি ও তৃণমূল—সবাইতে কিছু সময় করে যাওয়া হুমায়ুন কবীর শেষমেষ ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’ নামে নিজস্ব দল গড়েছেন। মুর্শিদাবাদে মসজিদ নির্মাণ সংক্রান্ত ঘোষণাসহ宗ীয় ইস্যু কেন্দ্র করে তিনি আবারো আলোচনায় এসেছেন। কবীরের দলের প্রভাব প্রধানত দক্ষিণবঙ্গের নির্দিষ্ট অঞ্চলে আছে; মুসলিম ভোটের ভাগাভাগি এখানে ফল নির্ধারণে গুরুত্ব বহন করতে পারে। তাঁর গতিবিধি ও পার্টি বদলের ইতিহাস বিবেচনায় বিরোধীরা ও সমালোচকরা তাঁকে নানা অভিযোগে তুলছেন।

    চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাব্য ভোটপ্রভাব

    তৃণমূলের পক্ষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত কেরিশমা ও দলের কল্যাণমূলক প্রকল্প শক্ত লাভদায়ক ফ্যাক্টর। অন্যদিকে দুর্নীতি, নিয়োগ কেলেঙ্কারি, বিভিন্ন অপরাধমূলক ঘটনাসহ প্রশাসনিক অভিযোজনগুলি দলকে অসুবিধায় ফেলতে পারে। বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব—মোদি ও শাহ—যদি রাজ্যের ভোটমঞ্চে শক্তি প্রদর্শন করতে পারেন, তাহলে সেটিও তাদের পক্ষে বড় প্লাস পয়েন্ট হবে।

    রাজ্যের রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও প্রবীণ সাংবাদিকরা বলছেন, ‘‘মমতা তৃণমূলের অচলাপ্রাচীন নেতা; অন্যদিকে মোদি-শাহ জুটি বিজেপির আখরোশ। শুভেন্দু, অভিষেক ও হুমায়ুন কবীর—এরা প্রত্যেকেই নির্বাচনকে ভিন্ন রূপ দিতে পারে।’’ শিখা মুখার্জী উল্লেখ করেছেন যে অভিষেক দলের সংগঠন মজবুত করতে ভূমিকা রেখেছেন, আর শুভেন্দু স্থানীয় স্তরে শক্তিজমা করে রেখেছেন। হুমায়ুন কবীরকে তিনি বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন না—কারণ তার দল ও অবস্থান অনিশ্চিত মনে করেন অনেকে।

    উজ্জ্বল রায় আরও বলেন, ‘‘মোদি-শাহের উপস্থিতি সবসময় নির্বাচনে গুরুত্ব বাড়ায়, কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে সেই কৌশল সব সময় ফল দেয় না। এসআইআর-সহ সমসাময়িক ইস্যু ভোটকে প্রভাবিত করতে পারে।’’

    শেষ কথায়, পশ্চিমবঙ্গের এই নির্বাচন কৌতূহল, প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও আবেগ—all মিলিয়ে তৈরি করছে একটি তীব্র রাজনীতিক ময়দান। ভোটের পলকে যা ঘটবে, সেটা শুধু রাজ্যের ভবিষ্যতই নয়—কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক ও জাতীয় রাজনীতিক খাঁজেও প্রভাব ফেলতে পারে।

  • রামপালে সরকারি খালে অবৈধ বাঁধ অপসারণ, পানি প্রবাহ স্বাভাবিক

    রামপালে সরকারি খালে অবৈধ বাঁধ অপসারণ, পানি প্রবাহ স্বাভাবিক

    বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায় সরকারি খাল দখলে রেখে নির্মিত একটি অবৈধ বাঁধ সকাল সাড়ে ১০টায় অপসারণ করেছে উপজেলা প্রশাসন। বুধবার (২২ এপ্রিল) জেলার ঝনঝনিয়া-নালিয়ার খালে এই অভিযান পরিচালিত হয়।

    অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট অভিজিৎ চক্রবর্তী। তাঁর নির্দেশনায় খালের উপর নির্মিত বাঁধ কেটে অপসারণ করা হলে দীর্ঘদিন ধরে বাধাগ্রস্ত থাকা পানি প্রবাহ দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।

    অভিযানের সময় সহকারী কমিশনার জানান, খালে বেআইনিভাবে বাঁধ দেওয়ার ফলে পানি চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়ে পড়ছিল, যা কৃষি উৎপাদন ও পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছিল। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে দ্রুত তফসিল মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, আজকের অভিযান খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ নিশ্চিত করেছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে কড়াকড়ি ও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। অভিযান চলাকালে স্থানীয় সুশীল সমাজ ও এলাকার বিভিন্ন ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।