ইরানের রাজধানী তেহরানে ইসরায়েলি বিমান হামলার পরে একটি তেল ডিপোতে লাগা আগুন থেকে নয়নাভির্ভাব জ্বালানি নির্গত হয়ে শহরের নর্দমা ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থায় মিশে গেছে, ফলে নগরের একত্রে বিস্তৃত এলাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ভিডিওতে দেখা যায়, শহরের এক দীর্ঘ সড়ক জুড়ে নর্দমার ভেতর দিয়ে আগুনের শিখা বইছে—স্থানীয়রা ঘটনাস্থলকে ‘আগুনের নদী’ বলে অভিহিত করছেন।
এক্স (পূর্বে টুইটার) প্ল্যাটফর্মে ‘‘লিভিং ইন তেহরান’’ নামের একটি সংস্কৃতি ও শিল্প ভিত্তিক অ্যাকাউন্টে পোস্ট করা ওই ক্লিপে নর্দমা ও পাশে থাকা রাস্তার ধার বরাবর আগুন জ্বলতে দেখা গেছে। স্থানীয় সূত্রে ধারণা করা হচ্ছে, তেলের ডিপো ধ্বংস হওয়ার ফলে ছড়ানো জ্বালানি নর্দমায় গিয়ে সেখানে জমে আগুন লাগায় এই ভয়াবহ দৃশ্য সৃষ্টি হয়েছে।
ইরানের তেল মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, তেহরানের পশ্চিমে আলবোর্জ প্রদেশের কারাজ শহরসহ তিনটি ভিন্ন এলাকায় তাদের জ্বালানি ডিপো ইসরায়েলি হামলার লক্ষ্যবস্ত্র হয়েছে। বিস্ফোরণের ফলে নির্মিত ক্ষতির কথা স্বীকার করে মন্ত্রণালয় ঘটনার কার্যকারণ ও পরিণতি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে।
বিস্ফোরণ ও আগুন নেভাতে গিয়ে পরিবেশগত বিপর্যয়ের আশঙ্কায় রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি সাধারণ জনগণের জন্য জরুরি সতর্কতা জারি করেছে। সংস্থাটির অনুযায়ী বিস্ফোরণে বাতাসে ছড়িয়ে পড়া রাসায়নিক উপাদান বৃষ্টির সঙ্গে মিশে ‘বিষাক্ত বৃষ্টি’ সৃষ্টি করতে পারে, যা ত্বকে জ্বালাও বা রসে ক্ষত, এবং শ্বাসনালীর মারাত্মক সমস্যা ঘটাতে পারে।
রেড ক্রিসেন্টের জরুরি নির্দেশনা:
1. বিস্ফোরণের পরে বৃষ্টির সময় কোনো অবস্থাতেই বাইরে বের হওয়া যাবে না; ঘরে থাকুন এবং দরজা-জানালা সিল করে রাখুন।
2. বাইরে থাকা অবস্থায় দ্রুত কংক্রিট বা ধাতব ছাদের নিচে আশ্রয় নিন; গাছের নিচে আশ্রয় নেওয়া থেকে বিরত থাকুন।
3. বৃষ্টির পানি যদি ত্বকের সংস্পর্শে আসে, সেটি কখনো ঘসা যাবে না; অবিরাম ঠান্ডা পানির ধারা দিয়ে আক্রান্ত স্থান ধুয়ে ফেলুন।
4. বৃষ্টির পানিতে ভেজা পোশাক যত দ্রুত সম্ভব বদলে ফেলুন এবং তা একটি সিল করা ব্যাগে রাখুন।
এই ঘটনার পর তেহরান প্রদেশে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় রাজ্যের গভর্নর ব্যক্তিগত কার্ডভিত্তিক দৈনিক জ্বালানি কোটাকে ৩০ লিটার থেকে কমিয়ে ২০ লিটারে নামিয়ে দিয়েছেন। ফার্স নিউজ এজেন্সি এই খবর নিশ্চিত করেছে। গভর্নর নাগরিকদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, জ্বালানি সরবরাহের এই সংক্ষিপ্ত কড়াকড়ি মাত্র ২-৩ দিনের জন্য প্রযোজ্য থাকবে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে উঠলে পুরনো কোটা পুনরায় বহাল করা হবে। তিনি জনগণকে অপ্রয়োজনে শঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
স্বরাষ্ট্র ও উদ্ধারকার্যতৎপর সংস্থাগুলো আগুন নেভানো, পরিবেশগত ক্ষতি নিরূপণ এবং নিরাপদভাবে দূষিত স্থানগুলো পরিচ্ছন্ন করার জন্য কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়রা কখনোই অনভিজ্ঞভাবে দূষিত পানি বা ক্ষতিগ্রস্থ এলাকায় যেতে গেলে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
