বিশ্বে ও দেশে ক্রিকেটপ্রেমীদের অপেক্ষা শেষ হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন সাকিব আল হাসান। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্যা হিন্দুকে দেয়া সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ২০২৬ সালের শেষ দিকে—or সাক্ষাৎকারের ভাষায় ‘এ বছরের শেষ নাগাদ’—বাংলাদেশে ফিরতে পারবেন বলে আশাবাদী।
২০২৪ সালের আগস্টের অভ্যুত্থানের পর থেকে তাঁর দেশে ফেরা জটিল পরিণতিতে পড়েছিল। আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য হিসেবে রাজনৈতিক পরিবেশ ও তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার কারণে সাকিব কোনো ঝুঁকি নেননি; তাই এখন পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। এরপরেও বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে ক্রিকেট ও ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলেছেন, তবে আগে দেশের ফিরবার নির্দিষ্ট সময় প্রকাশ্যে বলে দেননি।
হিন্দুকে দেয়া সাক্ষাৎকারে সাকিব বলেন, ‘ভবিষ্যৎ কী হবে তা এখনো পুরোপুরি ভাবিনি। তবে আমি মনে করি এ বছরের শেষদিকে সবকিছু সহজ হয়ে যাবে। এখন শুধু দোয়া করছি। একটা বিষয় নিশ্চিত, যেকোনোভাবে আমাকে বাংলাদেশে ফিরতেই হবে। প্রশ্ন শুধু কত দ্রুত সেটা হবে। আমি আশাবাদী যে এ বছরের শেষ নাগাদ ফিরতে পারব।’
তার মন্তব্যগুলো থেকে বোঝা যায় তিনি দেশে ফেরার বিষয়ে যথেষ্ট অনুপ্রাণিত, যদিও পরিস্থিতি পরিবর্তনশীল। নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের ব্যাপারটা হলো, যেকোনো কিছু যেকোনো সময় বদলে যেতে পারে। আগামীকাল কী হবে, তা আপনি বলতে পারবেন না। এজন্যই আমি আশাবাদী। পরিবার নিয়ে আছি, যখন ক্রিকেট খেলার সুযোগ হচ্ছে খেলছি। কিন্তু বাংলাদেশে যাওয়ার ব্যাপারটা আমার হাতে নেই, আমি সমাধান খোঁজার চেষ্টা করছি।’
এদিকে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম স্পোর্টসস্টারের এক সাক্ষাৎকারে সাকিব আরও বলেন, আগের বোর্ড তাঁকে ফেরানোর ইচ্ছা জানিয়েছিল। কিন্তু মুখে বলা আর সেটাকে বাস্তবে রূপ দেয়া—দুটোর মধ্যে বড় পার্থক্য আছে। ‘আমি শুনি সবাই আমাকে ফেরাতে চায়। কিন্তু দুঃখের বিষয়, সত্যিকার অর্থে কেউ তেমন কোনো উদ্যোগ নেয়নি,’ তিনি যোগ করেন।
সাকিব পরিস্কার করেছেন যে তিনি কেবল একটি বিদায়ী ম্যাচ খেলে বিদায় নিতে চান না। এখনো তিনি ফিট আছেন এবং দলের জন্য কাজে আসতে চান। ‘যতদিন অবদান রাখতে পারব, খেলতে চাই। যখন মনে হবে আমি বোঝা হয়ে যাচ্ছি, তখন আর খেলব না,’ তিনি বলেন।
সাক্ষাৎকারে তিনি এক ব্যক্তিগত আঘাতও ব্যক্ত করেছেন—শেখ হাসিনা বিরোধী আন্দোলনের সময় কানাডায় এক সমর্থকের ‘দেশের জন্য কী করেছেন?’ প্রশ্নটি তাকে কষ্ট দিয়েছিল। দীর্ঘ দুই দশক দেশের প্রতিনিধিত্ব করার পর এমন প্রশ্ন পেয়ে তিনি হতবাক হয়েছিলেন এবং পরে মনে হয় এটি পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছিল।
ক্রিকেটের পর রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার আগ্রহ পুনরায় প্রকাশ করেছেন সাকিব; পাশাপাশি তিনি ভবিষ্যতে কোচিং বা ম্যাচ রেফারির মতো ভূমিকা নিয়েও নিজেকে দেখতে চান। দেশে ফিরলে ঠিক কীভাবে এবং কখন কীভাবে তাকে কাজে লাগানো হবে—তার সেই অপেক্ষার পালা এখনও চলছে।
