Blog

  • তিন মাসে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা ৭৩৪ জন বেড়েছে

    তিন মাসে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা ৭৩৪ জন বেড়েছে

    দেশের ব্যাংক খাতে কোটিপতি গ্রাহকের সংখ্যা দ্রুতই বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানা গেছে, চলতি বছরের মার্চ মাসের তুলনায় জুনে এই সংখ্যা বেড়েছিল ৫ হাজার ৯৭৪টি। এরপর সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই সংখ্যা আরও ৭৩৪টি বাড়তে সক্ষম হয়েছে। তবে একই সময়ে ব্যাংকগুলোর জমা টাকার পরিমাণ কিছুটা কমে গেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়, জুন শেষে ব্যাংক খাতে মোট অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ছিল ১৬ কোটি ৯০ লাখ ২ হাজার ৬৭১টি। আর সেপ্টেম্বর শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ কোটি ৪৫ লাখ ৯৬ হাজার ৭০০টিতে। অর্থাৎ, এই তিন মাসে নতুন অ্যাকাউন্টের সংখ্যা যুক্ত হয়েছে প্রায় ৫৫ লাখ ৯৪ হাজার ২৯টি। এ সময় ব্যাংকের জমা মোট টাকার পরিমাণও সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে। জুন শেষে আমানতের মোট পরিমাণ ছিল ১৯ লাখ ৯৬ হাজার ৫৮৩ কোটি টাকা, যা সেপ্টেম্বর শেষের দিকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ ৩১ হাজার ১১৯ কোটি টাকায়। ফলে, এই তিন মাসে মোট আমানত বেড়েছে প্রায় ৩৪ হাজার ৫৩৬ কোটি টাকা। তদন্তে দেখা যায়, মোট কোটিপতি হিসাবের সংখ্যা জুন শেষে ছিল ১ লাখ ২৭ হাজার ৩৩৬টি। আর সেপ্টেম্বরের শেষে তা বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার ৭০টি। অর্থাৎ, তিন মাসে কোটিপতি হিসাবের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে ৭৩৪টি। এর আগে মার্চের শেষে এই সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২১ হাজার ৩৬২টি। কোটিপতি হিসাবগুলোতে জমা ছিল ৮৮ হাজার ৭৭২ কোটি টাকা, কিন্তু সেপ্টেম্বরের শেষে এই জমার পরিমাণ কমে দাঁড়িয়েছে ৮১৪ হাজার ৫৬২ কোটি টাকায়। এতে দেখা যায়, তিন মাসে মোট ৫৯ হাজার ২২০ কোটি টাকার মতন জমা কমেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, কোটিপতি হিসাব বলতে বোর্ডে থাকা ব্যক্তিরা নয়, বরং অনেক বেসরকারি, সরকারি ও কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানও কোটি টাকার বেশি আমানত রাখে। এছাড়া এক ব্যক্তির বা প্রতিষ্ঠানের একাধিক অ্যাকাউন্ট থাকতে পারে। অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠানও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭২ সালে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা ছিল মাত্র ৫জন। এরপর ধীরে ধীরে এই সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ১৯৯০ সালে ৯৪৩টি, ১৯৯৬ সালে ২ হাজার ৫৯৪টি, ২০০১ সালে ৫ হাজার ১৬২টি, ২০০৬ সালে ৮ হাজার ৮৮৭টি, এবং ২০০৮ সালে তা পৌঁচেছ ১৯ হাজার ১৬৩টিতে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই সংখ্যা আরও বেশি বাড়ছে। ২০২০ সালে কোটিপতি অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ছিল ৯৩ হাজার ৮৯০টি, ২০২১ সালে ১ লাখ ৯ হাজার ৭৬টি, ২০২২ সালে ১ লাখ ৯ হাজার ৯৪৬টি, ২০২৩ সালে ১ লাখ ১৬ হাজার ৯০৮টি এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালে এই সংখ্যা বেড়ে হয় ১ লাখ ২১ হাজার ৩৬২টি।

  • নাহিদ ইসলাম বললেন, আওয়ামী লীগকে রাজনীতির মাঠে আনছেন পরিকল্পিতভাবে

    নাহিদ ইসলাম বললেন, আওয়ামী লীগকে রাজনীতির মাঠে আনছেন পরিকল্পিতভাবে

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বিবৃতি দিয়ে বলেছেন, আমরা দেখতে পাচ্ছি যে আওয়ামী লীগকে রাজনীতির মাঠে পুনর্বাসনের জন্য একটি স্বাভাবিকীকরণ প্রক্রিয়া চালু হয়েছে। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকেরা গোপন মিটিংয়ের সুযোগ পাচ্ছেন, কোর্ট পাড়ায় জয় বাংলা স্লোগান শোনা যাচ্ছে, টক শো বাস্তবায়ন হচ্ছে যেখানে আওয়ামীপন্থী বুদ্ধিজীবীরা অংশ নিচ্ছেন। ভোটের মাঠেও দেখছি, জাতীয় পার্টিকে প্রস্তুত করা হচ্ছে। এই সমস্ত চিত্র একত্রে সময়ের পরিকল্পিত উদ্যোগের অংশ, যারা আওয়ামী লীগকে আবার রাজনৈতিকভাবে অভ্যস্ত করে তুলতে চান।

  • নির্বাচন কঠিন, ষড়যন্ত্র অব্যাহত: তারেক রহমান

    নির্বাচন কঠিন, ষড়যন্ত্র অব্যাহত: তারেক রহমান

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, ‘আসন্ন নির্বাচনটা সহজ হবে না, কারণ ষড়যন্ত্র এখনো থেমে নেই। গত কয়েক দিন ধরে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো— হাদিকে গুলির ঘটনা, চট্টগ্রামে বিএনপি প্রার্থীর ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনা— এগুলো প্রমাণ করে যে আমি যা আগের বার বলেছিলাম তা ধীরে ধীরে সত্যি হচ্ছে।

    শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) বিএনপির আয়োজিত ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক একটি কর্মশালায় লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর ফার্মগেটে অবস্থিত কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালার সপ্তম দিনের সিরিজের অংশ হিসেবে দলের মাঠ পর্যায়ের নেতারা এই আলোচনা শোনেন।

    তারেক রহমান উল্লেখ করেন, ‘যদি আমরা নিজেদের মধ্যে মতপার্থক্য কমিয়ে না আনি, যদি আমরা একে অপরের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ না হই, তাহলে এই দেশ ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাবে। মুক্তিযুদ্ধের সময়বার্তা থেকে শুরু করে শহীদ জিয়া, দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আমরা ধীরে ধীরে দেশকে খাদের কিনারা থেকে ফিরিয়ে এনেছি।’

    তিনি আরও বলেন, ‘বিভিন্ন সূত্র থেকে খবর পাওয়া যাচ্ছে, ষড়যন্ত্রগুলো এখানে থেমে যাবে না, বরং আরও ভয়াবহ হতে পারে। তবে আমাদের ভয় পেতে হবে না, আতঙ্কিত হওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই। বরং মানুষকে সাহস জোগাতে হবে, নিজেদের ঐক্যবদ্ধ করতে হবে, দেশের সাধারণ নাগরিকদের সচেতন করে তুলতে হবে। যত বেশি আমরা একাত্ম হবো, যত বেশি সামনে এগোবো, যত বেশি মরিয়া হয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করবো— এটিই ষড়যন্ত্রকারীদের পিছু হটতে বাধ্য করবে।’

    তারেক রহমান দাবি করেন, ‘‘বিএনপিরই একমাত্র শক্তি বা ক্ষমতা এই ষড়যন্ত্রগুলো ঠেকাতে পারে।’’ চট্টগ্রাম ও ঢাকায় দলের প্রার্থীর ওপর গুলির ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এসব ঘটনাগুলো কোনো ফায়দা নেওয়ার চেষ্টার অংশ।’

    তিনি বিএনপির বিভিন্ন পরিকল্পনা যেমন খাল খনন, স্বাস্থ্য ও কৃষি কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, শিক্ষাব্যবস্থা উন্নয়ন, বেকার সমস্যার সমাধান, তথ্য প্রযুক্তি, বায়ু ও পানিদূষণ রোধ প্রভৃতি প্রসঙ্গে বিস্তারিত তুলে ধরেন ও প্রকল্পের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করেন।

    তারেক রহমান বলেন, ‘এখন আমাদের সময় এসেছে— আমি কি পেয়েছি, তা ছাড়িয়ে আসতে হবে। আমাদের লক্ষ্য হলো, দেশ ও জাতির জন্য কি করতে পারলাম সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। আজকের দিন থেকে নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা নয়, বরং একযোগে কাজ করতে হবে। যদি আপনি কিছু করে থাকেন বা করতে পারেন, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ভালো কিছু রেখে যেতে পারবেন। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত, দেশে শান্তি, শৃঙ্খলা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা।’

    তিনি আরও বলেন, ‘এখন আর ঘরে বসে থাকার সময় নয়। আমাদের এই সংগ্রামে জয় লাভ করতে হবে। জয় নিশ্চিত করতে একমাত্র নিশ্চিত শক্তি হলো— বাংলাদেশের জনগণ। তাদের সাথে নিয়ে এই সংগ্রাম জিততেই হবে।’

    এ বিষয়ে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, এবং সঞ্চালনায় ছিলেন যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল।

  • আশঙ্কা প্রকাশ করলেন মির্জা ফখরুল, আরও হত্যাকাণ্ডের আশঙ্কা প্রবল

    আশঙ্কা প্রকাশ করলেন মির্জা ফখরুল, আরও হত্যাকাণ্ডের আশঙ্কা প্রবল

    বাংলাদেশে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের সাধারণ মানুষ যখন একুশের স্বপ্নে বিভোর হয়ে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা করছে, সেই সময় আবারও দেশের অন্ধকার পাশ ফিরে আসার চেষ্টায় শত্রুরা হত্যাকাণ্ডের নীলনকশা বাস্তবায়ন করছে। তিনি এ কথা বলেছেন রোববার (১৪ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে।

    মির্জা ফখরুল উল্লেখ করেন, একজন হিসেবে তিনি গভীরভাবে আশঙ্কা করছেন যে, ভবিষ্যতে আরও অনেক হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে, যা দেশের জন্য এক ভয়ঙ্কর আভাস। এ দিন তিনি শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদাররা তাদের দোসরদের যোগসাজশে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, গবেষক, কবি, সাহিত্যিক ও সাংবাদিকসহ বহু দেশপ্রেমিককে টুলে নিয়ে হত্যা করে। এই হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে তারা বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামকে বাধাগ্রস্ত করার পরিকল্পনা করেছিল, যাতে দেশের মেধাহীন ও অন্ধকারে নিমজ্জিত করে ফেলা যায়।

    মির্জা ফখরুল এই হত্যাকাণ্ডকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, এ ধরনের নির্মম কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশকে সম্পূর্ণভাবে মেধা এবং স্বাধীনচেতা অন্যায়ের মুখে স্তব্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আজকের দিনটি বাংলাদেশের জন্য,非常 গুরুত্বপূর্ণ কারণ এই দিনটি জাতিকে স্মরণ করিয়ে দেয় মুক্তিযুদ্ধের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্বপ্ন ও সাহসের কথা, যেখানে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার চেতনা লুকিয়ে আছে।

    বিএনপির মহাসচিব জানান, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বর্তমানে খুবই অসুস্থ। তার পক্ষ থেকে দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ নেতারা শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। তারা এর মাধ্যমে শপথ নিয়েছেন যে, যে কোন মূল্যে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবেন এবং গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখবেন। এ দিন তারা জাতীয় ইতিহাসের এই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে দেশের মুক্তি সংগ্রামের চেতনাকে নতুন করে উদ্দীপ্ত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

  • নির্বাচন ও অভ্যুত্থান ঠেকাতে টার্গেট কিলিং এবং সজাগ থাকুন: নাহিদ

    নির্বাচন ও অভ্যুত্থান ঠেকাতে টার্গেট কিলিং এবং সজাগ থাকুন: নাহিদ

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানকে বাধাগ্রস্ত করতে আরও ব্যাপক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে টার্গেট কিলিং চালানো হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি এই মন্তব্য করেন রোববার (১৪ ডিসেম্বর) সকালে মিরপুর বধ্যভূমিতে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের শ্রদ্ধা জানানো শেষে।

    নাহিদ বলেন, অপপ্রচার, ষড়যন্ত্র ও হিংসাত্মক কর্মকাণ্ডের অন্যতম অংশ হিসেবে কিছুজন টার্গেট কিলিংয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দমন করার চেষ্টা করছে। তিনি আরও জানান, এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রশাসন, সরকার ও অন্যান্য অপ্রত्यक्ष সঙ্গে যুক্ত বিষয়গুলো চিহ্নিত করে অবিলম্বে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। ওই ব্যক্তি হত্যাচেষ্টা ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির জন্য যারা দায়ী তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনতে হবে।

    তিনি উল্লেখ করেন, নানা রাজনৈতিক দল এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে একে অপরের প্রতি দোষারোপ করছে। তিনি সবাইকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, এখন সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে যাতে বিভাজন না তৈরি হয়। জাতীয় ঐক্য বজায় রাখতে হবে, কারণ না হলে ফ্যাসিস্ট শক্তিগুলো সুবিধা গ্রহণ করবে। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য পরিবেশ ধরে রাখা অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

    নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, দেশের কিছু সুশীল বুদ্ধিজীবী যে ফ্যাসিবাদকে সমর্থন করে চলেছেন, তাদের বিরুদ্ধে জনগণের পক্ষের অন্তর্নিহিত সম্মতি সৃষ্টি করতে হবে। তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে দুর্বল এবং বাহিনী জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারেনি। এই পরিস্থিতি পরিবর্তন না হলে অস্থিতিশীলতা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    অন্তে, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এই দিন স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টা, শহীদ পরিবারের সদস্য, যুদ্ধাহত ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা মিরপুর ও রায়েরবাজারের স্মৃতিসৌধে বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এছাড়া, এ দিন দুটি স্থান মানুষজনের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়, যেন সকলেই শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে পারে।

  • মির্জা আব্বাসের হুঁশিয়ারি: হাদির ওপর হামলার সঙ্গে জড়িতদের কঠোর শাস্তি দাবি

    মির্জা আব্বাসের হুঁশিয়ারি: হাদির ওপর হামলার সঙ্গে জড়িতদের কঠোর শাস্তি দাবি

    ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, তার মতো তিনি যেন কেউ না আঘাত হানে। হাদির উপর গুলি চালানোর খবর পেয়ে তিনি মানসিকভাবে গভীর ভাবে আহত হয়েছেন। এই হামলা গণতন্ত্রের ওপর সরাসরি আঘাত বলে মন্তব্য করেন আব্বাস। তিনি বলেন, যারা এই আঘাত করেছে, তাদের কালো হাত ভেঙে দিতে হবে।

    শনিবার নয়াপল্টনে বিএনপি’র কার্যালয়ের সামনে, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি আয়োজিত ইনকিলাব মঞ্চের এক প্রতিবাদ ও হামলার তদন্তের দাবিতে অনুষ্ঠিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। আব্বাস আরও বলেন, হাদিকে গুলিবিদ্ধ করে হাসপাতালে নেওয়ার আধাঘণ্টার মধ্যে একদল উত্তেজনা ছড়ানোর জন্য ফেসবুকে পোস্ট দিতে শুরু করে। তিনি বলেন, আমি হাসপাতালে গিয়ে দেখলাম সবই পরিকল্পিত।আমি দীর্ঘ ৫০ বছর ঢাকায় রাজনীতি করি। শান্ত থাকায় হাদির চিকিৎসা ব্যাহত হয়নি, অন্যথায় হয়ত আরও ক্ষতি হতে পারত।

    মির্জা আব্বাস বলেন, এই হামলার পেছনে এক বা একাধিক ষড়যন্ত্রকারীর হাত রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, আমরা ৭১, ৮৬সহ বিভিন্ন সময় এ ধরনের ষড়যন্ত্রের মুখোমুখি হয়েছি। এই ষড়যন্ত্রের মূল শক্তি হ’ল তারা, যারা শান্তিপূর্ণ রাষ্ট্র সহ্য করতে পারে না। তারা দেশের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে যেতে চায়।

    তিনি আরও বলেন, হাদির ওপর হামলার পর অনেক মানুষ ফেসবুকে দেশের মধ্যে অরাজগতা সৃষ্টি করতেও উসকানি দিয়েছে। তারা সবাই একটি কুচক্রী রাজনৈতিক দলের দোসর। আব্বাস জানিয়েছেন, তিনি ৭৭ সাল থেকে নির্বাচন করে আসছেন, কখনো মারামারি বা বিরোধে জড়িয়ে পড়েননি। তিনি বলেন, নির্বাচনে সবাই মিলেমিশে কাজ করেছেন। এই বিতর্কিত রাজনৈতিক দল, যারা সন্ত্রাসের আশ্রয় নিচ্ছে, তারা সরকারকে অস্থিতিশীল করতে চায়। তিনি কড়া ভাষায় দাবি করেন, হাদির ওপর হামলাকারীদের খুঁজে বের করে গ্রেফতার করা দরকার এবং তাদের মুখোশ উন্মোচন করতে হবে।

    সবশেষে, মির্জা আব্বাস বলেন, হাদি আমার নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, তিনি আমার সহযোদ্ধা। আমি আশাবাদী, আবারও নিয়মিত পথে তার সক্রিয় উপস্থিতি দেখা যাবে এবং আমরা তার সাহসকে প্রশংসা করি।

  • সুদানে ইউএন ঘাটিতে হামলায় নিহত ও আহত শান্তিরক্ষীদের পরিচয় প্রকাশ

    সুদানে ইউএন ঘাটিতে হামলায় নিহত ও আহত শান্তিরক্ষীদের পরিচয় প্রকাশ

    সুদানের আবেই এলাকায় ইউএন শান্তিরক্ষা মিশনের কাদুগলি লজিস্টিক বেসে সন্ত্রাসীদের হামলায় বাংলাদেশি ছয় শান্তিরক্ষী শহীদ ও আটজন আহত হয়েছেন। এই হামলা ঘটে গত শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) স্থানীয় সময় দুপুর দেড়টা ৪০ থেকে ৩টা ৫০ মিনিটের মধ্যে, যখন দেশের শান্তিরক্ষীদের উপর ড্রোন হামলা চালানো হয় বলে জানানো হয়েছে। আজ রোববার (১৪ ডিসেম্বর) দুপুরে সেনাবাহিনীর আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি এই তথ্য প্রকাশ করে।

    আইএসপিআর জানিয়েছে, এই জঙ্গি হামলার ফলে দেশের ছয়জন শান্তিরক্ষী শহীদ হন। এদের মধ্যে রয়েছেন কর্পোরাল মো. মাসুদ রানা, কুড়িগ্রাম থেকে সৈনিক মো. মমিনুল ইসলাম, রাজবাড়ি থেকে সৈনিক শামীম রেজা, কুড়িগ্রাম থেকে শান্ত মন্ডল, কিশোরগঞ্জের মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম ও গাইবান্ধার মো. সবুজ মিয়া। আহত হন আরও আটজন শান্তিরক্ষী, যাদের মধ্যে অনেককে জরুরি চিকিৎসার জন্য স্থানांतরের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

    আহতদের মধ্যে রয়েছেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল খোন্দকার খালেকুজ্জামান, সার্জেন্ট মো. মোস্তাকিম হোসেন, কর্পোরাল আফরোজা পারভিন ইতি, ল্যান্স কর্পোরাল মহিবুল ইসলাম, সৈনিক মো. মেজবাউল কবির, মোসা. উম্মে হানি আক্তার, চুমকি আক্তার, অর্ডন্যান্স ও সৈনিক মো. মানাজির আহসান। উল্লেখ্য, মো. মেজবাউল কবিরের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় দ্রুত অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে তিনি নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। অন্য আহতদের অবস্থা অনুকূলে থাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারযোগে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং তারা সবাই শঙ্কামুক্ত বলে জানানো হয়েছে।

    বাংলাদেশ সেনা এই জঘন্য হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। শহীদ সেনাসন্তানদের এই আত্মত্যাগ বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অঙ্গীকারের গর্বজনক দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সময় তারা নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছে এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছে।

  • মোটরসাইকেল মালিক হান্নানের বিভ্রান্তিকর তথ্য: গুলির ঘটনায় অগ্রগতি

    মোটরসাইকেল মালিক হান্নানের বিভ্রান্তিকর তথ্য: গুলির ঘটনায় অগ্রগতি

    ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর গুলির ঘটনা ইতিমধ্যে বেশ আলোচনায় এসেছে। এর মধ্যেই পুলিশ ও র‌্যাবের তদন্তে নতুন অগ্রগতি দেখা গেছে। সন্দেহভাজন হিসেবে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান এলাকা থেকে মোটরসাইকেলটির মালিক আব্দুল হান্নানকে গ্রেপ্তার করে পল্টন থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তাকে আজ রোববার (১৪ ডিসেম্বর) ৫৪ ধারায় আটক দেখিয়ে তদন্তের জন্য পাঠানো হয় বলে র‌্যাব নিশ্চিত করেছে।

    র‌্যাব-২-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, হান্নান মোহাম্মদপুরের এই বাসিন্দা, তবে তার স্থায়ী ঠিকানা চাঁপাইনবাবগঞ্জে। তিনি যে মোটরসাইকেলে হাদিকে গুলি করা হয়, সেটির মালিক বলে স্বীকার করেছেন। ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে এই মোটরসাইকেলের নম্বর ৫৪-৬৩৭৫ সংগ্রহ করা হয়, যা পরে বিআরটিএ অফিস থেকে যাচাই করে নিশ্চিত করা হয়।

    প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হান্নান বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়েছেন বলে র‌্যাবের কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন। তিনি একবার বলছেন, বাইকটি বিক্রি করেছেন, আবার বলছেন, গ্যারেজে রাখতে ছিলেন। তবে কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেননি। आरोपी ফয়সাল করিম মাসুদের সঙ্গে তার যোগাযোগের ব্যাপারে হান্নান স্বীকার করেছেন, তবে খুব বেশি যোগাযোগের কথা বলতে পারেননি। র‌্যাবের দাবি, হান্নানের সঙ্গে ফয়সালের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ এবং এটি তদন্তের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হতে পারে।

    অপারেশন ধারণা অনুযায়ী, হাদিকে গুলি করার মূল সন্দেহভাজন ফয়সাল। এর আগে, গত শুক্রবার রাজধানীর পল্টনে রিকশায় যাচ্ছিলেন হাদির ওপর দুর্বৃত্তরা গুলি করে। তিনি বর্তমানে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, পরিস্থিতি সংকটাপন্ন। তবে এ ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তবে গুলিতে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল শনাক্ত হওয়ায় এবং মালিকের আটকের মাধ্যমে পুলিশের তদন্ত কিছুটা এগিয়েছে বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা। তদন্ত চলছে, আশা করা যাচ্ছে শিগগিরই মূল হোতাদের সন্ধান পাওয়া যাবে।

  • ডিপ কোমায় থাকায় হাদির চিকিৎসার সিদ্ধান্ত দেশের বাইরে নেওয়ার প্রস্তুতি

    ডিপ কোমায় থাকায় হাদির চিকিৎসার সিদ্ধান্ত দেশের বাইরে নেওয়ার প্রস্তুতি

    ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি আতাতাই এর গুলির আঘাতে আহত হন এবং এখনও তার শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে কিছুটা উন্নতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

    রোববার (১৪ ডিসেম্বর) ভোরে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ওসমান হাদি দ্রুত সুস্থতার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তার পরিবার এবং ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে তার বিদেশে চিকিৎসার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে, তবে তা তার শারীরিক পরিস্থিতির উপর নির্ভর করছে। পরিস্থিতি উন্নত হলে তাকে বিদেশে স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    আবদুল্লাহ আল জাবের জানিয়েছেন, ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন ওসমান হাদি। তিনি বলেন, তার শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত থাকলেও চিকিৎসকরা আশঙ্কামুক্ত নন। বর্তমানে তিনি ৭২ ঘণ্টার পর্যবেক্ষণে রয়েছেন, যা শেষ হলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    তিনি আরও জানান, ওসমান হাদি এখনও ডিপ কোমায় রয়েছেন। তার শরীরের অবস্থা নেই বলে মনে করা হলেও তার শারীরিক প্রতিক্রিয়ায় কিছুটা ইঙ্গিত মিলছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার অবস্থা যতই সংকটময় হোক না কেন, তাকে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

    সম্প্রতি, ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছিল যে, হাদির অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন এবং তাকে ভেন্টিলেটর সাপোর্টে রাখা হয়েছে। তার জন্য একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে।

    গত শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় গুলির ঘটনা ঘটে। আগে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়, যেখানে জরুরি চিকিৎসা শেষে নিউরোসার্জারি বিভাগের ডাক্তাররা অস্ত্রোপচার চালান। এ সময় গুলি কানের ডান পাশ দিয়ে প্রবেশ করে মাথার বাঁ পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। এরপর সন্ধ্যার দিকে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

    বর্তমানে এই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন খালেদা জিয়া, যা অন্য রোগীদের পাশাপাশি হাদির চিকিৎসার পরিস্থিতিকে আরও গুরুতর করে তুলেছে। তার জন্য দেশের বিভিন্ন জেলায় অবস্থানকারী লোকজন হাসপাতালের সামনে এসে দোয়া ও চিকিৎসার সুস্থতা কামনা করছেন।

    একজন সিলেট থেকে আসা ব্যক্তি বলেন, তারা দুইজনের সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করছেন। তিনি জানান, শরিফ ওসমান হাদি একজন প্রতিবাদী নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন, আর তার ওপর এই হামলার ঘটনাটি নৃশংস।

    জুলাই ২০২৩ সালে অনিয়মের প্রতিবাদে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন হাদিরা। তার রাজনৈতিক অবস্থান ছিল এই সরকারের বিরুদ্ধে স্পষ্ট। গত বছরের আগস্টে ইনকিলাব মঞ্চ গঠন করেন তিনি। তিনি পতিত আওয়ামী লীগ ও ভারতের বিরুদ্ধে সরাসরি বক্তব্য দিয়ে থাকতেন এবং কোনও রাজনৈতিক দলে যোগ না দিয়ে চট্টগ্রাম-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছিলেন।

    তাদের বিরুদ্ধে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা তার সমর্থকেরা মূলত আওয়ামী লীগের ষড়যন্ত বলে মনে করছেন। অবস্থা পর্যবেক্ষণে আছেন স্বাস্থ্য পেশাদারা। বিষয়টি নিয়ে দেশের রাজনীতি ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

    পুলিশ সন্দেহভাজন হিসেবে ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান নামে একজনের নাম উল্লেখ করেছে। তাকে ধরিয়ে দিতে খোঁজ চালানো হচ্ছে এবং তার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করে সরকারের পক্ষ থেকে ৫০ লাখ টাকার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে। একইসঙ্গে, হামলার সময় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল শনাক্ত করে এর মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

  • হাদিকে গুলির ঘটনায় মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রচারের অভিযোগে মামলা

    হাদিকে গুলির ঘটনায় মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রচারের অভিযোগে মামলা

    ঢাকা–৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমানকে কেন্দ্র করে গত ১২ ডিসেম্বর ঘটে যাওয়া গুলির ঘটনায় মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রচারের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ওসমান হাদি এই মামলা করেন।

    মামলা দায়েরের মাধ্যমে জানানো হয়েছে, ঢাকার আদালত অনলাইন নিউজ পোর্টাল দৈনিক আজকের কণ্ঠের বিরুদ্ধে এ বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতে আজ (১৪ ডিসেম্বর) অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপুরিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এই মামলা গ্রহণ করেন। মামলার বাদী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সাদিকুর রহমান ভূইয়া এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা পর থেকে নানা রাজনৈতিক দল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। এ সময় কিছু অসাধু চক্র ভোটের ফলাফল পরিবর্তন করার চেষ্টা করে এবং প্রার্থীদের কাছ থেকে অবৈধ সুবিধা গ্রহণের জন্য অপপ্রচার চালায়।

    অভিযোগে আরো বলা হয়, ওসমান হাদি গত ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের পর নির্বাচনী প্রচারণার সময় পরিকল্পিতভাবে গুলিতে আহত হয়েছেন। এই হামলার পেছনে বিগত সরকার সমর্থকদের সম্পৃক্ততার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে, যা ইতোমধ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখন ঘটনার মূল অপরাধীদের শনাক্তের কাছাকাছি বলে জানা গেছে।

    অভিযোগের বিষয়ে বলা হয়েছে, দৈনিক আজকের কণ্ঠ এবং তার সহযোগীরা নির্বাচনের ফলাফল ক্ষতি করতে, এবং মির্জা আব্বাসের কাছে থেকে অবৈধ সুবিধা আদায়ের জন্য এই ঘটনা ও সংশ্লিষ্ট সংবাদ প্রকাশ করে। পুরোটাই মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং বিভ্রান্তিকর বলে মামলার দাবি করা হয়েছে।

    বাদী পক্ষের অভিযোগ, এই মিথ্যা সংবাদ প্রচারের মাধ্যমে নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে চেয়েছে মির্জা আব্বাসের চরিত্র ও প্রতীকী মূল্যায়নে আঘাত করতে। ১২ ডিসেম্বর বিকেল ৪টার দিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বসে এই সংবাদটি তিনি দেখেছেন এবং বিষয়টি আদালতের নজরে আনার জন্য উপযুক্ত মামলা দায়ের করেন।