Blog

  • গভর্নর বললেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনে অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে, বিনিয়োগ বাড়বে

    গভর্নর বললেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনে অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে, বিনিয়োগ বাড়বে

    বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আবার নতুন দিশা পাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। তিনি জানান, দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন আসছে, যা বিনিয়োগের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে। এর ফলে চলতি অর্থবছরে দেশের রিজার্ভ ৩৫ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন।

    বুধবার (১৯ জানুয়ারি) রাতে রাজধানীর গুলশানে বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই)-এর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

    গভর্নর উল্লেখ করেন, দেশে তারল্য সংকট ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। আগে যেমন অক্সিজেনের অভাবে শ্বাসকষ্ট হত, তেমনি তারল্যের অভাবও অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করেছিল। তবে এখন সেই চাপ হ্রাস পেতে শুরু করেছে। ব্যাংকগুলো অনেক আগে ঝুঁকি মেনে বেশি মুনাফা করছে, যা এখন পরিবর্তন হওয়া দরকার। এখন ব্যাংকগুলোর জন্য কঠোর পরিশ্রম ও সঠিক ঋণগ্রহীতা খুঁজে বের করার দিকে গুরুত্ব দিতে হবে।

    আহসান এইচ মনসুর আরো জানান, দেশের বৈদেশিক খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। চলতি অর্থবছরে রিজার্ভ ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে মনে করেন তিনি। বিশ্ববাজারে জ্বালানি এবং অন্যান্য পণ্যের দাম কমায় আমদানিতে চাপ কমে এসেছে।

    সুদের হার নিয়ে তিনি বলেন, এই মুহূর্তে এটি সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়। তবে বিনিময় হার স্থিতিশীল রয়েছে। টাকাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার বিক্রির পাশাপাশি টাকা প্রবর্তনে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার কিনেছে, যা আইএমএফের সহায়তার থেকেও বেশি। এছাড়াও বাজারে ৪৫ বিলিয়ন টাকা ছাড় করা হয়েছে, যা তারল্য বাড়িয়েছে।

    গভর্নর মনে করেন, রাজনৈতিক পরিবর্তন ও অর্থনৈতিক ধাক্কা কিছুটা প্রভাব ফেলেছে ব্যবসায়-আয়োজনে। তবে যাদের টিকে থাকার ক্ষমতা রয়েছে, তারা সহায়তা পেয়েছে। কোনও গোষ্ঠী বা দল ভিত্তিক বৈষম্য হয় নি।

    তিনি সতর্ক করে বলেন, শিগগিরিই সুদের হার কমানো উচিত নয়, কারণ এতে বৈদেশিক লেনদেন ও বিনিময় হার বিশৃঙ্খল হতে পারে। মূল্যস্ফীতি এখনও ৮ শতাংশের ওপরে রয়েছে এবং সেটি ৫ শতাংশের নিচে নামানোর লক্ষ্য রয়েছে। এর জন্য কিছু সময় লাগবে। মূল্যস্ফীতি ১ শতাংশ কমলেই নীতিগত সুদের হার কমানো হবে। ইতিমধ্যে বৃহৎ ঋণগ্রহীতাদের জন্য সুদের হার প্রায় ২ শতাংশ কমানো হয়েছে।

    আন্তর্জাতিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিদিন উচ্চ ফ্রিকোয়েন্সি ডেটা বিশ্লেষণ করছে। এর মধ্যে রয়েছে বিনিময় হার, সুদের হার, রিজার্ভ, রেমিট্যান্স, এবং আমদানি-রপ্তানির তথ্য। এখন পর্যন্ত গত মাসের তুলনায় রেমিট্যান্স প্রবাহ প্রায় ৬৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সোমবার তা ১৭০ মিলিয়নেরও বেশি ডলার। এই বিশ্লেষণ অর্থনীতির তুলনা ও অগ্রগতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

    উল্লেখ্য, অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন এমসিসিআই সভাপতি কামরান টি রহমান। এছাড়া আরও বক্তব্য দেন ব্রিটিশ হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার জেমস গোল্ডম্যান, পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও সিইও ড. এম মাসরুর রিয়াজ, এবং পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) চেয়ারম্যান ড. জাইদি সাত্তার প্রমুখ।

  • নিপ্পন পেইন্টকে অ্যাডভান্সড ট্রানজ্যাকশন ব্যাংকিং সেবা দেবে ব্র্যাক ব্যাংক

    নিপ্পন পেইন্টকে অ্যাডভান্সড ট্রানজ্যাকশন ব্যাংকিং সেবা দেবে ব্র্যাক ব্যাংক

    নিপ্পন পেইন্ট বাংলাদেশকে উন্নত মানের অ্যাডভান্সড ট্রানজ্যাকশন ব্যাংকিং সেবা প্রদান করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ব্র্যাক ব্যাংক। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো নিপ্পন পেইন্টের ডিলার এবং ডিস্ট্রিবিউটরদের আয়-ব্যয়ের তথ্যের রিসিভেবল ম্যানেজমেন্ট শক্তিশালী করা, কার্যক্রমের দক্ষতা বাড়ানো এবং পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।

    চুক্তির আওতায় নিপ্পন পেইন্ট ব্র্যাক ব্যাংকের ডেভেলপকৃত ডিজিটাল ট্রানজ্যাকশন ব্যাংকিং প্ল্যাটফর্ম ‘কর্পনেট’-এর সাথে এপিআই (API) ইন্টিগ্রেশন সম্পন্ন করবে, যা তাদের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত হবে। এর ফলে, ইতিমধ্যেই সংগৃহীত অর্থের তথ্য দ্রুততার সাথে ২০০টির বেশি ডিস্ট্রিবিউটরের কাছ থেকে সংগ্রহ ও উন্নতমানের পরিচালনা সম্ভব হবে। এই ডেটা নিপ্পন পেইন্টের এন্টারপ্রাইজ রিসোর্স প্ল্যানিং (ERP) সিস্টেমে রিয়েলটাইম প্রদর্শিত হবে।

    এই প্রযুক্তির সাহায্যে নিপ্পন পেইন্টের নগদ প্রবাহের ট্র্যাকিং আরও সহজ হবে, অর্থের বিনিময় ও রিকনসিলিয়েশন প্রক্রিয়া দ্রুত ও নির্ভুল হবে, এবং তাদের ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্কের আর্থিক নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী হবে।

    চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানটি ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ব্র্যাক ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। এতে ব্র্যাক ব্যাংকের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং হেড অব হোলসেল ব্যাংকিং মো. শাহীন ইকবাল সিএফএ, ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও হেড অব কর্পোরেট, কমার্শিয়াল ও ইনস্টিটিউশনাল ব্যাংকিং আসিফ বিন ইদ্রিস, হেড অব ট্রানজ্যাকশন ব্যাংকিং এ. কে. এম. ফয়সাল হালিম এবং এরিয়া হেড অব রিলেশনশিপ ইউনিট এস এম মুসা উপস্থিত ছিলেন। অপরদিকে, নিপ্পন পেইন্টের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন কোম্পানির জেনারেল ম্যানেজার রাজেশ সিরকার, সিনিয়র ম্যানেজার সালাহ উদ্দিনসহ অন্যান্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

    এই অংশীদারিত্বটি ব্র্যাক ব্যাংকের প্রযুক্তিনির্ভর ট্রানজ্যাকশন ব্যাংকিং সেবা উদ্যোগের বিষয়ে তাদের প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন, যা কর্পোরেট গ্রাহকদের ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি করবে। এর মাধ্যমে তারা প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা, স্বচ্ছতা এবং আত্মবিশ্বাস জোরদার করবে, পাশাপাশি টেকসই ও সফল ব্যবসার জন্য তাদের আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করবে। এটি ব্র্যাক ব্যাংকের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, যা তাদের প্রমাণ করে দেশের ব্যবসায়িক দুনিয়াকে আধুনিক, নিরাপদ ও স্বচ্ছ করতে তারা সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

  • ইতিহাসের সর্বোচ্চ সোনার দাম, ভরি ২ লাখ ৪৪ হাজার টাকা

    ইতিহাসের সর্বোচ্চ সোনার দাম, ভরি ২ লাখ ৪৪ হাজার টাকা

    বাংলাদেশের বাজারে সোনার দাম বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। নতুন দাম অনুযায়ী, প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ২৪৯ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে দেশের উচ্চ মানের সোনার মূল্য দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ৪৪ হাজার টাকাকে ছাড়িয়ে গেছে, যা এখন পর্যন্ত দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সোনার দাম।

    মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি, বাজুসের একটি অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। উল্লেখ করা হয়, নতুন এই মূল্যবৃদ্ধি ২১ জানুয়ারি বুধবার থেকে কার্যকর হবে।

    সংগঠনটি বলেছে, বৈশ্বিক বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের মূল্য বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশে স্বর্ণের দাম বেড়েছে।

    বিশ্ববাজারে স্বর্ণ ও রুপার দামের তথ্য প্রমাণ করে, গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি ওয়েবসাইটের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম এখন প্রতি আউন্স ৪৭৪৫ ডলার ছাড়িয়েছে।

    নতুন দাম অনুসারে, দেশীয় বাজারে উচ্চ মানের ২২ ক্যারেটের সোনার এক ভরির মূল্য ২ লাখ ৪৪ হাজার ১২৮ টাকা, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৮৮ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৯৯ হাজার ৭৪৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম ১ লাখ ৬৩ হাজার ৮২১ টাকা।

    সোনার দামে বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে রুপার দামও বেড়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরির রুপার মূল্য এখন ৬ হাজার ৫৯০ টাকা, ২১ ক্যারেটের জন্য ৫ হাজার ২৯৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ৫ হাজার ৪২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ৪ হাজার ৮০০ টাকা।

  • চীনের বিশাল বাণিজ্য উদ্বৃত্ত: বিপদ না কি সম্ভাবনা?

    চীনের বিশাল বাণিজ্য উদ্বৃত্ত: বিপদ না কি সম্ভাবনা?

    ২০২৬ সালের মাত্র দুই সপ্তাহ পার হতেই চীনের অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান বিশ্বকে নতুন করে ভাবাতে বাধ্য করেছে। ২০২৫ সালজুড়ে চলা শুল্ক যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অনেকের মনে সন্দেহের উদ্রেক হলেও, চীনের রপ্তানি বাড়ছে এবং উদ্বৃত্তের পরিমাণ রেকর্ড স্তরে পৌঁছেছে। গত বছর চীনের বার্ষিক বাণিজ্য উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছে বিশাল ১.২ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বিশ্ব ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ রেকর্ড। এই তথ্যের প্রকাশের পরই নিউ ইয়র্ক টাইমসে এক নিবন্ধে বিশেষ সতর্কবার্তা দিয়েছেন কর্নেল ইউনিভার্সিটি এবং ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের বিশ্লেষক ঈশ্বর প্রসাদ। তিনি বলেছেন, এই বিশাল বাণিজ্য উদ্বৃত্ত এড়ানো এখন এক গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ, যা ট্রাম্পের ধারার শুল্কের চেয়ে বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে।

  • সোনার ভরি দাম নতুন রেকর্ডে পৌঁছাল দুই লাখ ৫০ হাজারের বেশি

    সোনার ভরি দাম নতুন রেকর্ডে পৌঁছাল দুই লাখ ৫০ হাজারের বেশি

    এক দিনের ব্যবধানে আবারও দেশের বাজারে সোনার দাম বৃদ্ধি ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ স্বর্ণ ও জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। নতুন দাম অনুযায়ী, মোটো মানের সোনার প্রতি ভরির দাম বেড়ে গেছে অসাধারণ ৮ হাজার ৩৪০ টাকা পর্যন্ত। এর ফলে সাধারণ ভরি মূল্য এখন চলে এসেছে দুই লাখ ৫২ হাজার টাকার ওপর, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

    বুধবার (২১ জানুয়ারি) বাজুস এই ঘোষণা দেয় এবং দাম বাড়ানোর বিষয়টি কার্যকর হবে আগামীকাল ২২ জানুয়ারি থেকে। সংগঠনটি জানায়, বিশ্ববাজারে স্বর্ণের মূল্য প্রসারিত হওয়ার ফলে এই দাম বৃদ্ধি ঘটেছে।

    বিশ্ববাজারের তথ্য অনুযায়ী, স্বর্ণের আন্তর্জাতিক দামে দেয়া হয়েছে, যেখানে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ছাড়িয়েছে ৪ হাজার ৮০০ ডলার। এই মূল্য বাড়ার প্রভাব দেশে পড়েছে।

    নতুন দামে, সবচেয়ে মানসম্পন্ন ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের মূল্য প্রতি ভরি এখন ২ লাখ ৫২ হাজার ৪৬৭ টাকা। এছাড়া, ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম হলো ২ লাখ ৪০ হাজার ৯৭৮ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্যে ভরি লাগছে ২ লাখ ৬ হাজার ৫৬৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬৯ হাজার ৬৫৩ টাকায়।

    সোনার দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি রুপার দামও বেড়েছে। ২২ ক্যারেটের রুপার ভরি এখন বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার ৮৮২ টাকায়। অন্য ক্যারেটের রুপার দাম হল, ২১ ক্যারেটে ৬ হাজার ৫৩২ টাকা, ১৮ ক্যারেটে ৫ হাজার ৫৯৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতিতে ভরি রুপার দাম এখন ৪ হাজার ২০০ টাকা।

  • একটি দল চক্রান্তের জাল ফেলেই আমাদের একা করতে চেয়েছিল

    একটি দল চক্রান্তের জাল ফেলেই আমাদের একা করতে চেয়েছিল

    ইসলামী আন্দোলনের আমির চরমোনাই পীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম সম্প্রতি জামায়াতের সঙ্গে ঐক্য ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট করে বলেন, একটি দলের ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করে তারা আমাদের একা করে তুলতে চাইছিল। তবে এখন দেখা যাচ্ছে, সেই দলই এখন নিজেদের একা হয়ে গেছে। শনিবার বিকেলে মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ি ও ছনবাড়ি বাজারে আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এসব কথা বলেন তিনি। এই জনসভার আয়োজন হয় মুন্সিগঞ্জ-১ ও ২ আসনের ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থীদের সমর্থনে।

    চরমোনাই পীর জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা না হওয়ার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, দেশ চালানোর জন্য স্পষ্ট নীতি ও আদর্শের দরকার। তিনি বলেন, আমরা ইসলামের পক্ষে ওয়ান বক্স পলিসির কথা বলেছি, যা এখনো আমাদের মূলনীতি। তিনি যোগ করেন, একমাত্র মুসলিম স্বার্থে কথা বলছি, অন্য কেউ ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য বলছে না। জামায়াতের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এক দল ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করে আমাদের একা করে ফেলতে চেয়েছিল, কিন্তু তাদেরই এখন একা হতে হয়েছে। দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষ ও আলেম-ওলামারা আমাদের সঙ্গে রয়েছে, আল্লাহও আমাদের পাশে আছেন।

    চরমোনাই পীর আরো বলেন, বিগত ৫৫ বছরে ব্যক্তি ও দলের উন্নয়ন হয়েছে, তবে দেশের সার্বিক কল্যাণ হয়নি। তিনি মন্তব্য করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দেশকে নতুন করে গড়ার জন্য এক সুযোগ এনেছে। যারা পূর্বে দেশ পরিচালনায় ব্যর্থ, তাদের আর ক্ষমতায় থাকার সুযোগ নেই। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নতুন বাংলাদেশ গড়তে হলে নতুন বন্দোবস্তে ভোট দিতে হবে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ক্ষমতায় এলে জনগণের টাকাপয়সা কারো পকেটে যাবে না, দুর্নীতি হবে না, টাকা পাচার রোধ হবে, সন্ত্রাসও থাকবে না ইনশাআল্লাহ।

    সর্বোপরি, তিনি বলেন, আমরা ১৯৮৭ সাল থেকে মানুষের কল্যাণে রাজনীতি করে আসছি, কোনো লোভ বা লালসায় নীতির পরিবর্তন করিনি। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে কেউ কেউ ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গোপন বৈঠক করছে, যার কোনো লাভ হবে না। এই দেশের ভবিষ্যৎ সন্তানরা এই রাষ্ট্র ও এই জাতিকে গড়বে, এটাই আমার বার্তা। তিনি মুন্সিগঞ্জ-১ ও ২ আসনে নিজেদের দলীয় প্রার্থীদের মধ্যে হাতপাখা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন— মুন্সিগঞ্জ-১-এ সহকারী মহাসচিব কে এম আতিকুর রহমান এবং মুন্সিগঞ্জ-২-এ দলের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি কে এম বিলাহ হোসেন।

  • বাপ-দাদার জমি বিক্রি করে রাজনীতি করি, জনগণের আস্থা হারাবো না

    বাপ-দাদার জমি বিক্রি করে রাজনীতি করি, জনগণের আস্থা হারাবো না

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তিনি কখনো রাজনীতি করে নিজের বা তার পরিবারের সম্পদ সংগ্রহ করেননি। বরং বাপ-দাদাদের জমি বিক্রি করে সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করেন, জনগণের বিশ্বাস ও আমানতের খেয়ানত তিনি করবেন না।

    রোববার (২৫ জানুয়ারি) ভোর সাড়ে ১১টার দিকে ঠাকুরগাঁও শহরের বরুণাগাঁও মাদরাসা মাঠে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী গণসংযোগে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব।

    মির্জা ফখরুল বলেন, সবাই আমি ও আমার পরিবারের পরিচিত। আমরা রাজনীতি করে মালামাল বা অর্থসম্পদ সংগ্রহ করিনি। আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল সমাজে আদর্শ প্রতিষ্ঠা ও জনতার অধিকার রক্ষায় কাজ করা।

    তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, যদি কেউ আওয়ামী লীগের মতো দুর্বৃত্তায়নের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিএনপি কখনোই সেই পথে হাঁটবে না।

    বিএনপির ধর্মীয় ব্যবহারের মানসম্মততা নিয়ে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার এখতিয়ারবিহীন। জামায়াতে ইসলাম ১৯৯১ সালে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল, তবে তারা কখনো জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারেনি।

    বিএনপির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, তারেক রহমান সঠিক নেতৃত্ব দিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে সক্ষম। রাজনীতি করলে সরকার গঠন হলে কৃষকরা সহজে সার পাবে, কোন সার সংকট হবে না। মায়েদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হবে এবং যুবকদের কর্মসংস্থানের জন্য কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

    তিনি আরও যোগ করেন, আমরা একটি উদারপন্থী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র চাই এবং অবাধ নির্বাচন দিয়ে ক্ষমতায় যেতে চাই। শুধু জোরজুলুম বা স্লোগানের মাধ্যমে ভোট পাওয়া যায় না, জনতাকে সঙ্গে নিয়ে সত্যিকারের কাজ করে মন জয় করতে হবে।

    এ সময় ধানের শীষ প্রতীকে ভোটের আবেদন করেন ও দেশবাসীর জন্য দোয়া চান। গণসংযোগে জেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, স্থানীয় সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি ছিল ব্যাপক।

  • নির্বাচনে লেভেলে প্লেয়িং ফিল্ড নেই: নাহিদ ইসলাম

    নির্বাচনে লেভেলে প্লেয়িং ফিল্ড নেই: নাহিদ ইসলাম

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পর্যাপ্ত সমান সুযোগ বা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড না থাকার কথা মন্তব্য করেছেন ১১ দলীয় জোটের ঢাকা-১১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি অভিযোগ করেছেন, একটি পক্ষ তার কর্মী-সমর্থকদের ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করছে, কিন্তু এতে তারা সফল হচ্ছে না। এই অপপ্রয়াসগুলো শেষ হবে ১২ ফেব্রুয়ারি, যখন আসল দূর্ণীতির ফলাফলের প্রতিফলন হবে।

    রোববার (২৫ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর বাড্ডার সাতারকুলের বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনি প্রচারণার সময় তিনি একথা বলেন। এসময় তিনি এলাকার বিভিন্ন সমস্যা ও সংকট তুলে ধরে সমাধানের আশ্বাস দেন এবং বলেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে শুধু ক্ষমতা পরিবর্তন নয়, বরং একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন শুরু হচ্ছে। ভোটাররাও ইতিমধ্যেই এই লক্ষ্যকে একান্তভাবে পছন্দ করছেন।

    নাহিদ ইসলাম আরো বলেন, ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ও স্বাধীনভাবে তাদের ভোট দিতে পারেন, সে জন্য তিনি সবাইকে আহ্বান জানান। তিনি বলেন, যাকে ইচ্ছে ভোট দিন, তবে চিন্তা-ভাবনা করে ভোট দিন। কারণ এই ভোট দেশের ভবিষ্যত নির্ধারণ করবে।

    তিনি সতর্ক করে বলেন, ভোটাররা যেন কোনো প্রকার প্রলোভন, সুবিধা বা মিথ্যা আশ্বাসে বিভ্রান্ত না হন। বরং যতটা সম্ভব যোগ্য ও সত্যকার প্রার্থীকে ভোট দিতে হবে, যে এলাকার উন্নয়ন ও দেশের পরিবর্তনে সক্ষম।

    প্রচারণা শেষে তিনি শাপলা চত্বরের ভোট দিতে ও গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার জন্য সবাইকে আহ্বান জানান।

  • জামায়াতের আমিরের চাঁদাবাজদের জন্য কঠোর বার্তা

    জামায়াতের আমিরের চাঁদাবাজদের জন্য কঠোর বার্তা

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ব্যাপকভাবে স্পষ্ট করেন, দেশে বর্তমানে এক নীতিভ্রষ্ট ও অপবিত্র শিল্পের মতো চাঁদাবাজির উত্থান হয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “চাঁদাবাজদের জন্য আমাদের পক্ষ থেকে কার্ড দেখানো হয়েছে—কমপ্লিট লাল। আমরা কোনভাবেই কারো সন্তানকে চাঁদাবাজিতে যুক্ত হতে দেব না। যারা এই পথে যেতে চান, তাদের উচিত ফিরে আসা, না হলে তাদেরকে কঠোর আইনি শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।”

    আজ রবিবার (২৫ জানুয়ারি), ঢাকা-৪ ও ঢাকা-৫ আসনের নির্বাচনী এলাকায় আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথাগুলো বলেন। এই জনসভা ছিল নির্বাচনের আগের প্রস্তুতি ও সচেতনতামূলক এক ক האירוע, যেখানে ডা. শফিকুর রহমান জাতীয় আন্দোলনে শহীদ শহীদদের স্মৃতিতে গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। সভার শুরুতেই তিনি এক শহীদ বোনের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দিয়ে বলেন, “এটি আমার নয়, এই সম্মান তাদের প্রাপ্য—শহীদ মাতৃভারতীরা যারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে লড়য় ছিল।”

    আমির যুবসমাজের জন্য বার্তা দেন, “আমরা তাদের হাতে বেকার ভাতা তুলে দিয়ে তাদের অকার্যকর করতে চাই না। বরং তাদের কর্মক্ষম করে তুলতে চাই, যাতে তারা দক্ষ কারিগর হয়ে নিজ নিজ খাতে দেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হয়। শিক্ষার যেকোনো মাধ্যম—সাধারণ, আলিয়া বা কউমি—সেখানে কর্মমুখী ও প্রযুক্তিগত শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

    নারীদের মর্যাদা ও নিরাপত্তার ব্যাপারে বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, “আমাদের মা-বোনদের সম্মান আমাদের জীবনের চেয়েও মূল্যবান। তাদের নিরাপত্তার জন্য কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বিশেষ করে ব্যস্ত সময়ে (পিক আওয়ার) বড় শহরগুলোর বিভিন্ন রাস্তায় শুধুমাত্র মহিলাদের জন্য ‘ইভিনিং বাস সার্ভিস’ চালু করা হবে, এবং সরকারি বাসের নিচতলা মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।”

    নির্বাচনী এলাকায় উন্নয়নের জন্য প্রযুক্তির ব্যবহারের ঘোষণা দিয়ে তিনি জানান, “আমরা দুটি অ্যাপ চালু করব—একটি চাঁদাবাজদের গোপন চিহ্নিত করতে, এবং অন্যটি থেকে জনগণ তাদের সমস্যার কথা সরাসরি জানাতে পারবে। যদি নির্বাচন আমাদের হাতে থাকে, তবে প্রতি ছয় মাসে একবার জনপ্রতিনিধিদের জনগণের সামনে হাজির হয়ে তাদের কাজের হিসেব দিতে হবে।”

    জলাবদ্ধতা ও নদী দূষণে তিনি সতর্কবার্তা দেন, বললেন, “যদি আমরা ক্ষমতা পাই, তবে ওই এলাকার এমপি, কাউন্সিলর ও মেয়ররা বছরে চারবার ওই দূষিত নদীর পানিতে গোসল করবেন। তখন তাদের বুঝতে হবে, এই নদী পরিষ্কার না হলে তারা নিজেরাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”

    জুলাই আন্দোলনের শহীদদের জন্য রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও সম্মান আদায়ের দাবিও জানান ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, “জুলাইয়ের গণহত্যাকারীদের ক্ষমা করা হবে না। juli গণহত্যার চেতনা এখনও বেঁচে আছে। কোন পক্ষ অবাঞ্চিতভাবে নির্বাচনের ফলাফল পরিবর্তনের চেষ্টা করলে, ছাত্র-জনতা তা রুখে দেবে। প্রশাসনকে সাধারণ মানুষের পক্ষ নিতে হবে, কোন দলের নয়, নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।”

    জনসভায় বিরাট অংশগ্রহণ ছিল—দেশের বিভিন্ন জেলা ও স্থান থেকে আসা নেতৃবৃন্দ, শহীদ পরিবারের সদস্যরা, এবং সাধারণ জনগণ। ডা. শফিকুর রহমান ভোটারদের প্রতি অনুরোধ করেন আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে স্বাধীনতা ও সুবিচার প্রতিষ্ঠার পক্ষে রায় দেওয়ার জন্য।

  • দেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সমালোচনার ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করণে গুরুত্ব দরকার: তারেক রহমান

    দেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সমালোচনার ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করণে গুরুত্ব দরকার: তারেক রহমান

    বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, সমালোচনার মধ্যে থাকলে দেশের মানুষের কোনো উন্নয়ন সম্ভব নয়। রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর পলোগ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত নির্বাচনি সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি বলেন, চট্টগ্রাম থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, তাঁর জন্য এই শহরের সঙ্গে তার গভীর আবেগ বিদ্যমান। যিনি এই মাটিতে শহীদও হন। চট্টগ্রামের ছেলে খালেদা জিয়াকে তিনি ‘দেশনেত্রী’ উপাধি লাভ করেছিলেন। এসব কারণে এই শহর তাঁর পরিবারের সঙ্গে অঙ্গাঅঙ্গি আবেগের সম্পর্ক রয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালে আমরা যে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করেছিলাম, ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার আন্দোলন সেই স্বাধীনতাকে রক্ষা করছে। দেশের মানুষ এখন পরিবর্তন চায়, যাতে প্রত্যেক নাগরিক উন্নত শিক্ষা ও সুচিকিৎসার সুযোগ পেয়ে থাকেন।

    তারেক রহমান বলেন, আমরা আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী দলের বিভিন্ন সমালোচনা করতে পারি; কিন্তু এতে কারো উপকার হবে না। বিএনপি একমাত্র দল যা ক্ষমতা গ্রহণের সময়ে সব সময় মানুষের জন্য কাজ করেছে। দ্রব্যমূল্যের অ升তি রোধে উৎপাদন বাড়াতে হবে। এজন্য আমরা কৃষকের কাছে কৃষক কার্ড পৌঁছে দিতে চাই, যাতে তারা সুবিধা পায়।

    তিনি আরও বললেন, চট্টগ্রামের অন্যতম সমস্যা জলাবদ্ধতা। খাল-নালা বন্ধ হয়ে এই সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। এ জন্য তিনি বলেন, খাল কাটা উদ্যোগ নেওয়া হবে। চট্টগ্রামে বিভিন্ন ইপিজেড রয়েছে যেখানে লাখ লাখ মানুষ কর্মসংস্থান পেয়েছেন। এগুলি বিএনপির আমলে অনুষ্ঠিত হয়। আবার ১২ ফেব্রুয়ারি যদি আমাদের ভোটে জয় লাভ করে ক্ষমতায় আসতে পারি, তাহলে আরও নতুন ইপিজেড তৈরি হবে। ফলে চট্টগ্রাম হবে দেশের অর্থনৈতিক বাণিজ্যিক কেন্দ্র।

    তিনি বলেন, দেশের পরিকল্পনাগুলোর সফল বাস্তবায়নের জন্য দুটি বিষয়ে কঠোর নজরদারি দরকার। প্রথম, নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। অতীতে বিএনপি দেশ পরিচালনা করে তখন যাতে অপরাধ ও অস্থিতিশীলতা কম হয়, সেজন্য কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দ্বিতীয়, দুর্নীতি দমন। তিনি উল্লেখ করেন, বেগম খালেদা জিয়া দুর্নীতির বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ সংগ্রাম করেছেন, এবং ভবিষ্যতে যদি কেউ দুর্নীতিতে লিপ্ত হয়, তাহলে কোন ছাড় নয়।

    পরিশেষে তিনি সবাইকে ধানের শীষে ভোট দিতে অনুরোধ করেন। বলেন, এই বছর আগে থেকেই ধন্যবাদ জানিয়ে, তাহাজ্জুদে নামাজ পড়বেন, তারপর কেন্দ্রে গিয়ে ফজরের নামাজ পড়ে ভোট দেবেন। গত ১৫ বছর ধরে দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। আবার সেই ষড়যন্ত্র রুখতে এবার ধানের শীষে ভোট দিন।

    একই সঙ্গে, রোববার ভোর থেকেই নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলে জড়ো হতে শুরু করেন। কেউ হেঁটে, কেউ মিছিল করে যোগ দেন। দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় পরে তারেক রহমানের উপস্থিতি ও মহাসমাবেশকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেখা যায়। সমাবেশের অংশ হিসেবে নানা ব্যানার-ফেস্টুনে পুরো এলাকা সেজে ওঠে।

    শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বিজি-১৪৭ দিয়ে তারেক রহমান চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। এরপর সরাসরি রেডিসন ব্লু হোটেলে যান এবং রাত কাটান। তিনি রোববার সকালে তরুণ নেতাদের সঙ্গে একটি পলিসি ডায়ালগে অংশ নেন, এরপর মহাসমাবেশে যোগ দেন। তার চট্টগ্রাম সফর শেষে তিনি ফেনী, কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জে বিভিন্ন পথসভায় অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।

    সেই সঙ্গে, মহাসমাবেশের জন্য চট্টগ্রাম শহর ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রায় দুই হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছে। সমাবেশের মঞ্চ ও আশপাশের এলাকা তিন স্তরে ভাগ করা হয়েছে—রেড জোন, ইয়েলো জোন ও গ্রিন জোন।

    উল্লেখ্য, তারেক রহমান ২০০৫ সালে শেষবার চট্টগ্রাম সফর করেছিলেন। তখন তিনি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন ও লালদিঘী মাঠে এক জনসভায় ভাষণ দেন।