ইসলামী আন্দোলনের আমির চরমোনাই পীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম সম্প্রতি জামায়াতের সঙ্গে ঐক্য ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট করে বলেন, একটি দলের ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করে তারা আমাদের একা করে তুলতে চাইছিল। তবে এখন দেখা যাচ্ছে, সেই দলই এখন নিজেদের একা হয়ে গেছে। শনিবার বিকেলে মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ি ও ছনবাড়ি বাজারে আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এসব কথা বলেন তিনি। এই জনসভার আয়োজন হয় মুন্সিগঞ্জ-১ ও ২ আসনের ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থীদের সমর্থনে।
চরমোনাই পীর জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা না হওয়ার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, দেশ চালানোর জন্য স্পষ্ট নীতি ও আদর্শের দরকার। তিনি বলেন, আমরা ইসলামের পক্ষে ওয়ান বক্স পলিসির কথা বলেছি, যা এখনো আমাদের মূলনীতি। তিনি যোগ করেন, একমাত্র মুসলিম স্বার্থে কথা বলছি, অন্য কেউ ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য বলছে না। জামায়াতের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এক দল ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করে আমাদের একা করে ফেলতে চেয়েছিল, কিন্তু তাদেরই এখন একা হতে হয়েছে। দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষ ও আলেম-ওলামারা আমাদের সঙ্গে রয়েছে, আল্লাহও আমাদের পাশে আছেন।
চরমোনাই পীর আরো বলেন, বিগত ৫৫ বছরে ব্যক্তি ও দলের উন্নয়ন হয়েছে, তবে দেশের সার্বিক কল্যাণ হয়নি। তিনি মন্তব্য করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দেশকে নতুন করে গড়ার জন্য এক সুযোগ এনেছে। যারা পূর্বে দেশ পরিচালনায় ব্যর্থ, তাদের আর ক্ষমতায় থাকার সুযোগ নেই। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নতুন বাংলাদেশ গড়তে হলে নতুন বন্দোবস্তে ভোট দিতে হবে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ক্ষমতায় এলে জনগণের টাকাপয়সা কারো পকেটে যাবে না, দুর্নীতি হবে না, টাকা পাচার রোধ হবে, সন্ত্রাসও থাকবে না ইনশাআল্লাহ।
সর্বোপরি, তিনি বলেন, আমরা ১৯৮৭ সাল থেকে মানুষের কল্যাণে রাজনীতি করে আসছি, কোনো লোভ বা লালসায় নীতির পরিবর্তন করিনি। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে কেউ কেউ ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গোপন বৈঠক করছে, যার কোনো লাভ হবে না। এই দেশের ভবিষ্যৎ সন্তানরা এই রাষ্ট্র ও এই জাতিকে গড়বে, এটাই আমার বার্তা। তিনি মুন্সিগঞ্জ-১ ও ২ আসনে নিজেদের দলীয় প্রার্থীদের মধ্যে হাতপাখা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন— মুন্সিগঞ্জ-১-এ সহকারী মহাসচিব কে এম আতিকুর রহমান এবং মুন্সিগঞ্জ-২-এ দলের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি কে এম বিলাহ হোসেন।
