Blog

  • পুঁজিবাজারে সবসময় মুনাফা আসবে ভাবা ভুল: অর্থ উপদেষ্টা

    পুঁজিবাজারে সবসময় মুনাফা আসবে ভাবা ভুল: অর্থ উপদেষ্টা

    অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, পুঁজিবাজার থেকে সর্বদা মুনাফা আসবে — এই ধারনাটি ভুল। তিনি সতর্ক করে বলছেন, কেউ যদি এটিকে নিয়মিত আয়ের স্থায়ী উৎস মনে করে, তাহলে এটি বিনিয়োগকারীদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি ডেকে আনতে পারে। মূলধন বাজারে যেমন মুনাফার সুযোগ রয়েছে, ঠিক তেমনি রয়েছে ক্ষতির সম্ভাবনাও। তাই বিনিয়োগকারীদের সহজেই বুঝতে হবে যে শেয়ার এবং বন্ড কেনার মানে কখনো কখনো ক্ষতিও ভাগ করে নিতে হয়।

    সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের বন্ড ও শুরুক মূলধন বাজার উন্মোচন: রাজস্ব, অবকাঠামো এবং ইসলামী মানি মার্কেট উন্নয়ন’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

    ড. আহমেদ বলেন, বাংলাদেশে এখনও মূলধন বাজার যথেস্ট উন্নত হয়নি। সরকারি বন্ডের সেগমেন্ট থাকলেও সেখানে বেসরকারি খাতে অংশগ্রহণ খুবই কম, এবং শেয়ারবাজারের অবস্থা খুবই সংকুচিত। এর ফলে বড় প্রকল্পগুলোর অর্থায়ন ঝুঁকি ভাগাভাগি না করে কেবল ব্যাংকের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, যার ফলাফল হলো ঋণখেলাপি ও তহবিলের অপব্যবহার। এটি দেশের জন্য বড় ট্র্যাজেডি। প্রকৃতপক্ষে ঝুঁকি কমানোর জন্য মানুষকে বন্ড, ডিবেঞ্চার ও শেয়ার বিনিয়োগের মাধ্যমে ঝুঁকি ভাগাভাগি করতে হবে। শুধুমাত্র ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে তা ভুল খাতে ব্যবহার করাই সমাধান নয়। তাই মূলধন বাজারে বেসরকারি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে এবং বিনিয়োগকারীদের বুঝতে হবে যে এখানে ঝুঁকি যতটাই আছে, তার সঙ্গে লভ্যাংশ বা মুনাফার সম্ভাবনাও রয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে সুকুক বাজারে প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকার বন্ড রয়েছে, তবে এগুলো শিক্ষা ও স্যানিটেশন খাতে ব্যবহৃত হওয়ায় আয়ের হার কম। যদি এই বন্ডগুলো উৎপাদনমুখী প্রকল্পে বিনিয়োগ করা হয়, তাহলে লাভবান হওয়া কঠিন হবে না, পাশাপাশি ব্যাংকের উপর চাপ কমবে। অবশ্যই সুকুক প্রকৃত সম্পদভিত্তিক হতে হবে যাতে বিনিয়োগকারীর আস্থা বজায় থাকে।

    অর্থ উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে সিকিউরিটাইজেশন কার্যকর হয়নি, যা বড় বড় প্রকল্প, যেমন মেট্রোরেল, বাস্তবায়নে ব্যবহার করলে বিশ্বব্যাংকের ঋণের ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব হত। আপনারাও উল্লেখ করেন যে পেনশন ও গ্র্যাচুইটি ফান্ডের ব্যবহারে সতর্ক থাকতে হবে, কারণ এগুলো সরকারি দায়বদ্ধতার অংশ।

    তিনি আরও বলেন, মূলধন ও সুকুক বাজারের পাশাপাশি বীমা বাজারের উন্নয়নে নজর দেওয়াও জরুরি। সেই সঙ্গে কর কাঠামো ও প্রণোদনা সংস্কার করে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে।

    সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ এবং আরো অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি।

  • গভর্নরের পরামর্শ: সঞ্চয়পত্র ও বন্ডের জন্য আলাদা বাজার তৈরি করুন

    গভর্নরের পরামর্শ: সঞ্চয়পত্র ও বন্ডের জন্য আলাদা বাজার তৈরি করুন

    বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বাজারকে আরও শক্তিশালী ও যুগোপযোগী করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব করেছেন। তিনি বলেন, দেশের সঞ্চয়পত্র ও বেসরকারি বন্ডের জন্য পৃথক সেকেন্ডারি মার্কেট বা পরবর্তী বাজার তৈরি করা জরুরি, যা দ্রুত সম্ভব যদি রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকুক। এই উদ্যোগ দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোকে সুদৃঢ় করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর, রাজধানীর উত্তরায় অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে গভর্নর এসব কথা বলেন, যেখানে বন্ড ও সুকুক মার্কেটের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। তিনি বলেন, বর্তমানে সঞ্চয়পত্রের কিছু লেনদেন বাজারে হয়, কিন্তু তা সম্পূর্ণভাবে ট্রেডযোগ্য করা উচিত। এতে সাধারণ গ্রাহকরা উপকৃত হবেন এবং বাজারে তারল্য বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি, তিনি বেসরকারি বন্ডের জন্যও লেনদেনযোগ্যতার প্রস্তাব দেন। তাঁর মতে, সঠিক কাঠামো প্রতিষ্ঠিত হলে বন্ড মার্কেটের আকার দ্বিগুণ হতে পারে, যা দেশের আর্থিক খাতের জন্য ইতিবাচক দিক হবে।

    আহসান এইচ মনসুর আরও বলেন, দীর্ঘমেয়াদি তহবিলের উৎস হিসেবে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন শ্রমশক্তি, পেনশন ব্যবস্থা, করপোরেট পেনশন ফান্ড, প্রভিডেন্ট ফান্ড ও বেনেভোলেন্ট ফান্ডকে গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি জোর দিয়েছেন, এই ধরনের বিনিয়োগের জন্য একটি কার্যকর পেনশন নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা প্রয়োজন, যা তহবিলের ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে পরিচালনা করবে।

    গভর্নর আরও বললেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কাঠামো তুলনা করলে দেখা যায়, আন্তর্জাতিক অর্থনীতি মূলত বন্ড-নির্ভর, যেখানে প্রায় ১৩০ ট্রিলিয়ন ডলার বন্ড ইস্যু হয়েছে, যা দেশের মোট জিডিপির ১৩০ শতাংশ। বিপরীতে, বাংলাদেশ প্রধানত ব্যাংকনির্ভর অর্থনৈতিক কাঠামো পরিচালনা করছে, যেখানে স্টক মার্কেটের পরিমাণ ৯০ ট্রিলিয়ন ডলার ও মানি মার্কেটের আকার মাত্র ৬০ ট্রিলিয়ন ডলার। দেশের বিমা খাতের আকারও খুবই ছোট—জিডিপির মাত্র ০.৪ শতাংশ।

    গভর্নর বলেন, বাংলাদেশের বাজারে বন্ডের চাহিদা ও সরবরাহ উভয়কেই বাড়ানো দরকার। বর্তমানে সরকারি বন্ডের আধিপত্য থাকলেও করপোরেট বন্ডের বাজার খুবই ছোট। তিনি কারো কারো জন্য ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা ও রাজনৈতিক প্রভাবের দিকে ইঙ্গিত করেন, যা করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    গভর্নর বলেন, সুকুক বা ইসলামী বন্ডের বাজারও এখনও খুবই ক্ষুদ্র, যেখানে মোট ছয়টি সুকুক ইস্যু হয়েছে, যার মূল্য প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা। তিনি দ্রুত এই বাজার বাড়ানোর জন্য একটি নতুন কৌশল প্রস্তাব করেন। সেটি হলো, যমুনা বা পদ্মা সেতুর মতো বড় প্রকল্পের টোল আয় বা মেট্রোরেল প্রকল্পের উপার্জিত অর্থকে ‘সিকিউরিটাইজ’ করে বিভিন্ন নতুন প্রকল্পে বিনিয়োগের জন্য ব্যবহার করা। এর জন্য অর্থ মন্ত্রালয়ে একটি বিশেষ, কার্যকরী বিভাগ গঠন করার পরামর্শ দেন তিনি।

    সেমিনান শেষে গভর্নর জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিমধ্যে বন্ড মার্কেটের উন্নয়নের জন্য একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে। খুব শিগগিরই এই প্রতিবেদনে সুপারিশসমূহ সহ বিভিন্ন ধরনের বন্ডের উন্নয়নের দিকনির্দেশনা সরকারের কাছে উপস্থাপন করা হবে।

  • স্বর্ণের দাম নতুন রেকর্ড: ভরি ১ লাখ ৯১ হাজার টাকার বেশি

    স্বর্ণের দাম নতুন রেকর্ড: ভরি ১ লাখ ৯১ হাজার টাকার বেশি

    বিশ্ব বাজারে সোনার দামে হু হু করে বৃদ্ধির কারণে দেশের বাজারে এক নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) আজ ঘোষণা করেছে, দেশি বাজারে ভরিপ্রতি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের মূল্য এখন ১ লাখ ৯১ হাজার ১৯৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দাম, যা আগে কখনো এমন উচ্চতায় পৌঁছায়নি। এই নতুন দামের কার্যকারিতা আগামী মঙ্গলবার থেকে শুরু হবে।

    বাজুসের পাবলিসিটি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে নতুন দাম নির্ধারিত হয়েছে। বর্তমানে, দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের প্রতি ভরি দাম দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯১ হাজার ১৯৬ টাকা, যা এর আগে কখনো এর চাইতেও বেশি ছিল না। অন্যান্য ক্যারেটের স্বর্ণের দামও যথাক্রমে ২১ ক্যারেটের জন্য ১ লাখ ৮২ হাজার ৪৯৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ১ লাখ ৫৬ হাজার ৪২৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির জন্য ১ লাখ ২৯ হাজার ৭৯৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    বাজুসের নির্দিষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী, স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুসের সর্বনিম্ন মজুরি ৬ শতাংশ যোগ করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন,মানভেদে এই মজুরির হার পরিবর্তিত হতে পারে।

    অপরদিকে, বিশ্ববাজারে সোনার মূল্য খারাপের মুখে নেই। এক আউন্স সোনার দাম কখনো ৩ হাজার ৭০০ ডলারের বেশি হয়নি। একদিনে ৩৪ ডলার মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় এক মাসে মোট ১০.৩৫ ডলার বৃদ্ধি হয়েছে, যা প্রায় ৪০০ ডলার। এর আগে, ১৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ববাজারে এক আউন্স সোনার দাম ৩ হাজার ৬৯০ ডলার ছিল। এরপর দাম কমার পর ১৮ সেপ্টেম্বর কিছুটা দাম কমলেও, ২০ সেপ্টেম্বর ফের দামের উল্লম্ফন ঘটে। ওই দিন, দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের প্রতি ভরি দাম ১ লাখ ৮৯ হাজার ৬২২ টাকা ছিল, যা আগের তুলনায় ১ হাজার ১৫৫ টাকা বেশি। ২১ ক্যারেটের জন্য দাম ১ লাখ ৮০ হাজার ৬৯৯ টাকায় দাঁড়ায়, যা ১ হাজার ৯৭ টাকার বৃদ্ধি।

    সোনার অস্বাভাবিক দামে এত বৃদ্ধি হওয়ার পেছনে নানা কারণ রয়েছে বলে বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন। বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন ট্যারিফ অ্যান্ড ট্যাক্সেশনের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন জানান, আমেরিকার শুল্ক নিয়ে দুর্ব্যবস্থা থাকায় এবং চীন, রাশিয়া, ভারতের সঙ্গে বৈঠক চলায় ডলারের চাহিদা বাড়ছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলের চলমান ঝামেলার জন্য বিভিন্ন দেশ নিরাপদ সম্পদ হিসেবে ডলারে সঞ্চয় করছে। এর ফলস্বরূপ, চীন ও ভারতসহ অন্যান্য দেশ সোনা কিনে রিজার্ভ করছে, আর সরবরাহ কমে যাওয়ার কারণেও দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই পরিস্থিতির ফলে, দেশের জুয়েলারি ব্যবসায় মন্দা দেখা দিয়েছে এবং স্বর্ণের বাজারের আকার সংকুচিত হয়ে আসছে।

  • একদিনের ব্যবধানে স্বর্ণের দামে ফের রেকর্ড উচ্চতা

    একদিনের ব্যবধানে স্বর্ণের দামে ফের রেকর্ড উচ্চতা

    ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে দেশের স্বর্ণবাজারে আবারও নতুন করে দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) জানিয়েছে, ভরিতে ৩ হাজার ৬৬৩ টাকা দাম বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৫৯ টাকা। এটি এখন পর্যন্ত দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ মূল্য। মঙ্গলবার রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে, এবং আগামী বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) থেকে এই নতুন দাম কার্যকর হবে।

    বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে সামগ্রিক বাজার পরিস্থিতির বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

    নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের মূল্য দাঁড়াতে চলেছে ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৫৯ টাকা। এর পাশাপাশি, ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম হবে ১ লাখ ৮৬ হাজার ৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৫৯ হাজার ৪২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের ভরি দাম নির্ধারিত হয়েছে ১ লাখ ৩২ হাজার ৩৫১ টাকা।

    বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, স্বর্ণ বিক্রির ক্ষেত্রে অবশ্যম্ভাবীভাবে সরকারের নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুসের নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যোগ করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন, মান ও মানভেদে এই মজুরির হার পরিবর্তিত হতে পারে।

    উল্লেখ্য, এর আগে, গত ২২ সেপ্টেম্বর দেশের বাজারে স্বর্ণের দামের সর্বশেষ সমন্বয় করা হয়েছিল। তখন ভরিতে ১ হাজার ৫৭৪ টাকা দাম বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের মূল্য নির্ধারিত হয়েছিল ১ লাখ ৯১ হাজার ১৯৬ টাকা। এটি ছিল এ সময় দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সর্বোচ্চ। সেই সময়ের জন্য অন্যান্য ক্যারেটের দাম ছিল ২১ ক্যারেটের জন্য ১ লাখ ৮২ হাজার ৪৯৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ১ লাখ ৫৬ হাজার ৪২৬ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির জন্য ১ লাখ ২৯ হাজার ৭৯৭ টাকা। সেই দামসমূহ কার্যকর হয়েছিল ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে।

    একের পর এক দাম সমন্বয় בשנת ২০২৪ সালে মোট ৬২ বার অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে দাম বাড়ানো হয়েছে ৩৫ বার, আর কমানো হয়েছে ২৭ বার। এর আগে, চলতি বছর মোট ৫৭ বার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, যেখানে ৪০ বার দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ১৭ বার দাম কমানো হয়েছিল।

    অতিরিক্ত, এই দামে রুপার দামও বেড়েছে। ভরিতে ১৫২ টাকা দাম বৃদ্ধি পেয়ে রুপার নতুন দাম নির্ধারিত হয়েছে ৩ হাজার ৬২৮ টাকা, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এছাড়াও, ২১ ক্যারেটের রুপার মূল্য হবে ৩ হাজার ৪৫৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ২ হাজার ৯৬৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির জন্য ২ হাজার ২২৮ টাকা।

  • মির্জা ফখরুলের নামে ভারতের পত্রিকায় প্রকাশিত সাক্ষাৎকার সম্পূর্ণ মিথ্যা: বিএনপি

    মির্জা ফখরুলের নামে ভারতের পত্রিকায় প্রকাশিত সাক্ষাৎকার সম্পূর্ণ মিথ্যা: বিএনপি

    সম্প্রতি কলকাতা কেন্দ্রিক বাংলা পত্রিকা ‘এই সময়’ এ মির্জা ফখরুল ইসলামের নামে প্রকাশিত সাক্ষাৎকারের বিষয়টি বিএনপি ভুল এবং মনগড়া বলে জানিয়েছে। আজ বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দলের সহ-দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু এক বিবৃতিতে এই প্রতিক্রিয়া জানান। বিবৃতিতে বলা হয়, সম্প্রতি বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নামে ভারতের কলকাতার বাংলা দৈনিক এই সময়কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারের ভিত্তিহীন সংবাদ প্রচারিত হয়েছে। ওই পত্রিকায় ‘নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি কে চান ফখরুল’ শিরোনামে একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও মনগড়া। বিএনপি বলছে, বিএনপির মহাসচিব সম্প্রতি কোনো বিদেশি গণমাধ্যমে কোনও সাক্ষাৎকার দেননি। এই ধরনের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার লক্ষ্যে ছড়ানো হয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেন। বানোয়াট এই বক্তব্যের মাধ্যমে জনগণের মধ্যে সন্দেহ ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার অপচেষ্টা চলছে। বিএনপি এও জানায়, বর্তমানে দেশের জনগণের ও দলের নেতাকর্মীদের এই ধরনের অসত্য বুলিটাকে বিভ্রান্ত হওয়ার কোন সুযোগ নেই এবং এই ধরনের ভাওয়াটো খবরের কোনো ভিত্তি নেই।

  • সিপিবির সভাপতি নির্বাচিত জহির চন্দন, সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী

    সিপিবির সভাপতি নির্বাচিত জহির চন্দন, সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী

    চার বছরের জন্য বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন সাজ্জাদ জহির চন্দন। তিনি ইতিমধ্যে সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। নতুন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন, যিনি سابقে কেন্দ্রীয় কমিটিরও প্রেসিডিয়াম সদস্য ছিলেন।

    বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) ত্রয়োদশ কংগ্রেসে ৪৩ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি নতুন করে নির্বাচন হয়, যার প্রথম সভা আজ পুরানা পল্টনের মুক্তি ভবনে অনুষ্ঠিত হয়। এই সভা সকাল ১১টা start হয়ে বেলা ১টায় সমাপ্ত হয়।

    সভায় সভাপতিমণ্ডলীর অন্যান্য সদস্যরা হলেন মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, রফিকুজ্জামান লায়েক, এস এ রশীদ, রাগিব আহসান মুন্না, জলি তালুকদার এবং আমিনুল ফরিদ।

  • শিগগিরই বিএনপি দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত করবে: ডা. জাহিদ

    শিগগিরই বিএনপি দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত করবে: ডা. জাহিদ

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য বিএনপি শিগগিরই দলের মনোনয়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। এই ঘোষণা দিয়েছেন তিনি বৃহস্পতিবার সকালে ‘বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস’ উপলক্ষে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মাজারের কাছে থেকে একটি র‌্যালির সূচনার আগে এক বক্তব্যে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ডা. জাহিদ।

    তিনি বলেন, ‘যেসব প্রার্থীরা জনগণের মাঝে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন এবং দলীয় জরিপেও এগিয়ে থাকবেন, তারাই আগামী নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পাবেন।’ আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য শেয়ার করে তিনি জানান, বিএনপি বর্তমানে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং শিগগিরই দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হবে।

    জাহিদ হোসেন আরও বলেন, ‘গত ১৮ মাস ধরে দলের নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দেশব্যাপী নেতাকর্মীরা ব্যাপকভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এছাড়া, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান শিগগিরই দেশে ফিরবেন বলে আশা করা হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘বর্তমানে তিনি লন্ডনে অবস্থান করছেন, যেখানে চিকিৎসার জন্য যান। ২০০৮ সালে লন্ডনে যাওয়ার পর থেকে তিনি দেশে ফিরেছেন না। গত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন মামলার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে।’

    এখনও পর্যন্ত তারেক রহমানের দেশে ফিরে আসার সময় নির্দিষ্ট করে বলছেন বিএনপি নেতারা। যদিও অনেক নেতা বিভিন্ন সময় দাবি করেছেন, তিনি শিগগিরই ফিরবেন। আজও ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘তারেক রহমান শিগগিরই দেশে ফিরবেন, যা সবাই জানে।’

    তিনি বলেন, ‘বিএনপি এখন দেশের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ষড়যন্ত্র রুখতে প্রস্তুত। জনগণের সমর্থন নিয়ে দলটি ৩১ দফা কর্যক্রম বাস্তবায়ন করবে।’

  • নিউইয়র্ক বিমানবন্দরে হেনস্তার ঘটনা: জামায়াত নেতা ডা. তাহেরের ব্যাখ্যা

    নিউইয়র্ক বিমানবন্দরে হেনস্তার ঘটনা: জামায়াত নেতা ডা. তাহেরের ব্যাখ্যা

    অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গী হিসেবে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন বিএনপি, জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এর শীর্ষ নেতারা। তাদের এই সফর নিয়ে বেশ কিছু রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে সম্প্রতি নিউইয়র্কের বিমানবন্দরে এনসিপি নেতা আখতার হোসেনের ওপর প্রবাসী আওয়ামী লীগ কর্মীদের হামলার ঘটনাটি আলোচনায় আসে।

    ঘটনার সময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও এনসিপি নেত্রী ডা. তাসনিম জারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। তবে জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের উপস্থিতি বা অনুপস্থিতির বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অনেকের ধারণা, হয়তো তাকে সরিয়ে রাখা হয়েছিল বা তিনি আগে থেকেই ঘটনাটি জানতেন। এসব জল্পনার ব্যাপারে তিনি স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রদান করেন।

    সাক্ষাৎকারে তাহের জানান, শুরুতে আমাদেরকে প্রধান উপদেষ্টার বহরে নেওয়ার জন্য তাঁর সঙ্গে গাড়িতে ওঠানো হয়েছিল। কিন্তু ভিসার জটিলতার কারণে পরে আলাদাভাবে যেতে হয়। সরকারি প্রতিনিধি দলের ভিসা জি-ওয়ান ক্যাটগরির ছিল, যেখানে ফিঙ্গারপ্রিন্টের প্রয়োজন হয় না। অন্যদিকে আমাদের ভিসা ছিল ট্যুরিস্ট ক্যাটগরির, যেখানে ফিঙ্গারপ্রিন্ট করতে হয়। এ কারণে যোগাযোগে কিছু সমস্যা হয়। এর ফলে আমরা হেঁটে ইমিগ্রেশনে যাই।

    তিনি আরও বলেন, প্রধান উপদেষ্টা তখনও আমাদের জন্য অপেক্ষা করছিলেন এবং প্রায় ১০ মিনিটেরও বেশি সময় তিনি পরিস্থিতি দেখছিলেন। তবে সমন্বয়ের অভাবে আমরা একসঙ্গে বের হতে পারিনি।

    বাংলাদেশ মিশনের ভূমিকা নিয়েও তিনি সমালোচনা করেন। বলেন, মিশনের উচিত ছিল আমাদের যথাযথভাবে জানানো এবং সার্বিক সমন্বয় করা। যদি আমরা সবাই একসঙ্গে বের হতাম, তাহলে এই ধরনের ঘটনা ঘটত না। মিশনের ব্যর্থতার কারণেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

    প্রবাসী আওয়ামী লীগ কর্মীরা যখন এনসিপি নেতা আখতার হোসেনকে লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপ করেন, তখন সেখানে বিএনপি মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও তাসনিম জারা উপস্থিত ছিলেন। তবে তাকেই দেখা যায়নি। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ এর আগেও এই ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে, তাই আমাদের কিছুটা আগাম আশঙ্কা ছিল। তবে তখন কি ঘটছে তা বুঝতে পারছিলাম না।

    তাহের এও বলেন, আমি নেতাদের কাছে ছিলাম এবং আমাদের কিছু ছেলেরা স্লোগান দিচ্ছিল, ‘তাহের ভাই জিন্দাবাদ’। আমি বলেছিলাম, ফখরুল সাহেবের নামেও স্লোগান দিতে, যাতে তিনি বিব্রত না হন। কিন্তু তখন তারা উত্তেজিত ছিল এবং আমার কথা শুনছিল না। পরে আমি কিছুটা দূরে সরে দাঁড়াই। এরপর আমাকে সংবর্ধনা দেওয়া হয় এবং ফুল দিয়ে সম্মানিত করা হয়। আমি কয়েক মিনিট বক্তব্যও দিই। এই সময়ে ডিম নিক্ষেপের ঘটনাটা ঘটে।

    তিনি আরও জানান, টিভি ফুটেজে স্পষ্ট দেখা গেছে, আখতার হোসেনকে রক্ষা করার চেষ্টা করা দুজন আমাদের কর্মী ছিলেন। কিন্তু আখতারের ওপরে হামলার ঘটনাটি দুঃখজনক ও দুঃখজনক ঘটনা।

  • মির্জা ফখরুল: নির্বাচনের সময় ফেব্রুয়ারি

    মির্জা ফখরুল: নির্বাচনের সময় ফেব্রুয়ারি

    বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্পষ্ট করে বলেছেন, এবারের নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতেই অনুষ্ঠিত হবে। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী ও দলের শীর্ষ উপদেষ্টারাও এই মাধ্যমে নির্বাচনের পক্ষে সরাসরি অবস্থান নিয়েছেন। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, শত্রুরা বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে নিয়ে যেতে চাইছে, যা প্রতিরোধ করতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

    যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক থেকে প্রকাশিত বাংলা সংবাদপত্র ‘ঠিকানা’-তে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। সাংবাদিক খালেদ মহিউদ্দিনের সঙ্গে কথা বলার সময় মির্জা ফখরুল বলেন, ‘নির্বাচন অবশ্যই ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হবে। তবে আমাদের দেশের মধ্যে সর্বত্র যে অবিশ্বাসের সৃষ্টি হয়েছে, সেটি দূর করতে হবে। সবাই যেন বিশ্বাসের পরিবেশ সৃষ্টি করে এগিয়ে যায়।’

    বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, ড. ইউনূসও নির্বাচনের পক্ষে অবস্থান ব্যক্ত করেছেন এবং বিএনপি চেয়ারপার্সনের সঙ্গে বৈঠকে এ বিষয়ে দৃঢ় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, অন্যান্য রাজনৈতিক দলও জানে যে আসন্ন নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

    তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, প্রধান উপদেষ্টা ও সেনাবাহিনী নির্বাচনকালীন সময়ে সতর্ক থাকলেও বাংলাদেশে সমস্যার সরল সমাধান এখনো আসেনি। শত্রুরা দেশকে অস্থিতিশীল রাখতে চাচ্ছে, এতে দেশের স্থায়িত্ব ও আস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তিনি বলেন, ‘মব ভায়োলেন্স, বাড়িঘর ধ্বংস এবং কারখানা জ্বালানোর মত ঘটনা এখন অনেক পরিকল্পিতভাবে ঘটছে।’

    মির্জা ফখরুল আরও যোগ করেন, ‘অপ্রত্যাশিতভাবে ১৫ বছরের রাজনৈতিক বিভাজন সৃষ্টি হয়েছে যার ফলে সাধারণ মানুষ ও মিডিয়ার মধ্যেও অবিশ্বাসের সৃষ্টি হয়েছে, যা দ্রুত কাটিয়ে উঠতে হবে। এখন বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হলো মানুষের মধ্যে আস্থা স্থাপন করা।’

    যদিও এনসিপি ও জামায়াত নির্বাচন নিয়ে ভিন্ন মত পোষণ করে, তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলো সবসময় আলোচনা করে কিছু অর্জন করার চেষ্টায় থাকে। অবশ্য কিছু দাবি বাস্তবায়ন সহজ নয়, কিন্তু ইতোমধ্যে বহু আলোচনা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও হবে।’

    বিএনপি মহাসচিব চরম উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমানে সবচেয়ে মারাত্মক সমস্যার নাম হলো—মব ভায়োলেন্স। কেউ কারো বিরুদ্ধে আক্রমণ, বাড়ি ভাঙা, কারখানা পুড়ানোর কর্মকাণ্ড এখন খুব পরিকল্পিতভাবে ঘটছে। এটি আগে এতটা দেখতে পাওয়া যায়নি। তিনি মনে করেন, একটি পক্ষ এই সব ঘটাচ্ছে এবং তারা বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা ও স্থায়িত্বে বিশ্বাস করে না। তারা চায় না বাংলাদেশ নিজের পায়ে দাঁড়াক শক্তভাবে, বরং অস্থিরতা সৃষ্টি করতে চায়।

  • প্রধান উপদেষ্টার আশাবাদ: শিগগিরই ‘জুলাই সনদ’ স্বাক্ষর হবে রাজনৈতিক দলগুলোর

    প্রধান উপদেষ্টার আশাবাদ: শিগগিরই ‘জুলাই সনদ’ স্বাক্ষর হবে রাজনৈতিক দলগুলোর

    দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল শীঘ্রই সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক সংস্কারমূলক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে একটি ‘জুলাই সনদ’ স্বাক্ষর করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি এর মাধ্যমে দেশের একের পর এক স্বৈরশাসকের পুনরুত্থান রোধ করার লক্ষ্য ধারণা করেন।

    বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের সদরদপ্তরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ অধিবেশনের সময় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সাথে এক বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। হাঁফিয়ে ওঠা এ সুযোগে, প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার এই বৈঠকের বিস্তারিত তথ্য জানিয়েছেন।

    বৈঠকে দুই নেতা গুরুত্বপূর্ণ নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। তার মধ্যে ছিল বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন, অন্তর্বর্তী সরকারের গৃহীত সংস্কারমূলক পদক্ষেপ, পাকিস্তানের সাম্প্রতিক প্রবল বন্যা, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পরিস্থিতি, এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধির উপায়।

    প্রধান উপদেষ্টা পাকিস্তানে সাম্প্রতিক বন্যায় এক হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানিতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন। এ সময় শেহবাজ শরিফ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবকে এই দুর্যোগের প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

    বৈঠকে ড. ইউনূস জানিয়েছেন, বাংলাদেশ আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সাতটি জাতীয় কমিশনের প্রস্তাবিত বড় আকারের রাজনৈতিক সংস্কার বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবর্তন হবে।

    তিনি আরও জানান, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে আলোচনা শেষপ্রান্তে রয়েছে এবং প্রত্যাশা করা যায় যে, সব পক্ষ শিগগিরই সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক মূল বিষয়গুলো নিয়ে একটি ‘জুলাই সনদ’ স্বাক্ষর করবে।

    আন্তঃআঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করতে সার্কের নিষ্ক্রিয়তা ও চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে দুই নেতা আলোচনা করেন। বৈঠকে শেহবাজ শরিফ আমন্ত্রণ জানিয়েছেন, ড. ইউনূস পাকিস্তানে সফর করবেন—এর আগে তার সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে।

    বৈঠকটিতে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, প্রধান উপদষ্টার মুখ্য সচিব সিরাজ উদ্দিন মিয়া এবং এসডিজি বিষয়ে মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ।