বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ব্যাপকভাবে স্পষ্ট করেন, দেশে বর্তমানে এক নীতিভ্রষ্ট ও অপবিত্র শিল্পের মতো চাঁদাবাজির উত্থান হয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “চাঁদাবাজদের জন্য আমাদের পক্ষ থেকে কার্ড দেখানো হয়েছে—কমপ্লিট লাল। আমরা কোনভাবেই কারো সন্তানকে চাঁদাবাজিতে যুক্ত হতে দেব না। যারা এই পথে যেতে চান, তাদের উচিত ফিরে আসা, না হলে তাদেরকে কঠোর আইনি শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।”
আজ রবিবার (২৫ জানুয়ারি), ঢাকা-৪ ও ঢাকা-৫ আসনের নির্বাচনী এলাকায় আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথাগুলো বলেন। এই জনসভা ছিল নির্বাচনের আগের প্রস্তুতি ও সচেতনতামূলক এক ক האירוע, যেখানে ডা. শফিকুর রহমান জাতীয় আন্দোলনে শহীদ শহীদদের স্মৃতিতে গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। সভার শুরুতেই তিনি এক শহীদ বোনের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দিয়ে বলেন, “এটি আমার নয়, এই সম্মান তাদের প্রাপ্য—শহীদ মাতৃভারতীরা যারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে লড়য় ছিল।”
আমির যুবসমাজের জন্য বার্তা দেন, “আমরা তাদের হাতে বেকার ভাতা তুলে দিয়ে তাদের অকার্যকর করতে চাই না। বরং তাদের কর্মক্ষম করে তুলতে চাই, যাতে তারা দক্ষ কারিগর হয়ে নিজ নিজ খাতে দেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হয়। শিক্ষার যেকোনো মাধ্যম—সাধারণ, আলিয়া বা কউমি—সেখানে কর্মমুখী ও প্রযুক্তিগত শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
নারীদের মর্যাদা ও নিরাপত্তার ব্যাপারে বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, “আমাদের মা-বোনদের সম্মান আমাদের জীবনের চেয়েও মূল্যবান। তাদের নিরাপত্তার জন্য কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বিশেষ করে ব্যস্ত সময়ে (পিক আওয়ার) বড় শহরগুলোর বিভিন্ন রাস্তায় শুধুমাত্র মহিলাদের জন্য ‘ইভিনিং বাস সার্ভিস’ চালু করা হবে, এবং সরকারি বাসের নিচতলা মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।”
নির্বাচনী এলাকায় উন্নয়নের জন্য প্রযুক্তির ব্যবহারের ঘোষণা দিয়ে তিনি জানান, “আমরা দুটি অ্যাপ চালু করব—একটি চাঁদাবাজদের গোপন চিহ্নিত করতে, এবং অন্যটি থেকে জনগণ তাদের সমস্যার কথা সরাসরি জানাতে পারবে। যদি নির্বাচন আমাদের হাতে থাকে, তবে প্রতি ছয় মাসে একবার জনপ্রতিনিধিদের জনগণের সামনে হাজির হয়ে তাদের কাজের হিসেব দিতে হবে।”
জলাবদ্ধতা ও নদী দূষণে তিনি সতর্কবার্তা দেন, বললেন, “যদি আমরা ক্ষমতা পাই, তবে ওই এলাকার এমপি, কাউন্সিলর ও মেয়ররা বছরে চারবার ওই দূষিত নদীর পানিতে গোসল করবেন। তখন তাদের বুঝতে হবে, এই নদী পরিষ্কার না হলে তারা নিজেরাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”
জুলাই আন্দোলনের শহীদদের জন্য রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও সম্মান আদায়ের দাবিও জানান ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, “জুলাইয়ের গণহত্যাকারীদের ক্ষমা করা হবে না। juli গণহত্যার চেতনা এখনও বেঁচে আছে। কোন পক্ষ অবাঞ্চিতভাবে নির্বাচনের ফলাফল পরিবর্তনের চেষ্টা করলে, ছাত্র-জনতা তা রুখে দেবে। প্রশাসনকে সাধারণ মানুষের পক্ষ নিতে হবে, কোন দলের নয়, নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।”
জনসভায় বিরাট অংশগ্রহণ ছিল—দেশের বিভিন্ন জেলা ও স্থান থেকে আসা নেতৃবৃন্দ, শহীদ পরিবারের সদস্যরা, এবং সাধারণ জনগণ। ডা. শফিকুর রহমান ভোটারদের প্রতি অনুরোধ করেন আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে স্বাধীনতা ও সুবিচার প্রতিষ্ঠার পক্ষে রায় দেওয়ার জন্য।
