Blog

  • দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্টের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

    দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্টের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

    দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে দেশের আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। এই সিদ্ধান্তের ভিত্তি হল তার বিরুদ্ধে ২০২৪ সালে সামরিক আইন জারির ব্যর্থ প্রচেষ্টার মাধ্যমে রাষ্ট্রদ্রোহের নেতৃত্ব দেয়ার অভিযোগ। এই মামলায় একজন গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে তার সরকারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী কিম ইয়ং-হিউনকেও ৩০ বছরের কারাদণ্ডের কথা ঘোষণা করা হয়।

    বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের তিন বিচারকের প্যানেল এই রায় ঘোষণা করেন। শুনানিতে উঠে আসে যে, সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওল তৎকালীন বিরোধী দলের নেতা ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ংকে আটকানোর জন্য সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

    প্রসিকিউটররা এই মামলায় সাবেক প্রেসিডেন্টের জন্য মৃত্যুদণ্ডের দাবি করেছিলেন, তবে আদালত তাকে ৬৫ বছর বয়সের এই ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করে।

    তবে এটি একমাত্র নয়। একই মামলায় দেশটির সাবেক গোয়েন্দা প্রধান রোহ সাং-উনকে ১৮ বছর, সাবেক পুলিশ প্রধান চো জি-হোকে ১২ বছর, সিউল মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক প্রধান কিম বং-সিককে ১০ বছর এবং ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি পুলিশের সাবেক প্রধান মোক হিউন-তায়েককে তিন বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

    দণ্ডপ্রাপ্ত সবাই এক সপ্তাহের মধ্যে আপিল করার সুযোগ পাবে, বলেও জানানো হয়।

    এর আগে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লি সাং-মিনকে তার দায়িত্বের সময় ২০২৪ সালে সামরিক আইন জারির ব্যর্থ প্রচেষ্টায় যোগ দেওয়ার জন্য সাত বছরের কারাদণ্ড প্রদান করে আদালত। ৬১ বছর বয়সী এই ব্যক্তিকে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ সরকারবিরোধী গণমাধ্যমগুলোকে বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ বন্ধের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।

    তাছাড়া, জানুয়ারিতে দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী হান ডাক-সুকে ২৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়, যিনি সামরিক আইন ঘোষণায় ভূমিকা রাখার জন্য দায়ী ছিলেন। তিনি ইউনের মন্ত্রিসভার দ্বিতীয় সদস্য।

    আর এই পুরো ঘটনাবলি শুরু হয় ২০২৪ সালের ৩ ডিসেম্বর যখন প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওল সামরিক আইন জারি করেন। তবে ব্যাপক প্রতিবাদের মুখে মাত্র ছয় ঘণ্টার মধ্যেই তিনি তা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন। এর ফলে ১৪ ডিসেম্বর তাকে পার্লামেন্টে অভিশংসন করে বরখাস্ত করা হয়, এবং পরে ১৫ জানুয়ারি তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    সবশেষে, এই ঘটনাক্রমে উল্লেখযোগ্য ভাবে, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আইনের শাসন পরিস্থিতি আবারো আলোচনায় এসেছে।

  • পাকিস্তানের পাঞ্জাবে ৮ মাসে ৯২৪ জনকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা

    পাকিস্তানের পাঞ্জাবে ৮ মাসে ৯২৪ জনকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা

    গত নভেম্বরের এক দিনে পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলা বাহাউয়ালপুরে ঘটে যায় তারকা একটি জঘন্য নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা। তখন পাঞ্জাব পুলিশ ক্রাইম কন্ট্রোল ডিপার্টমেন্টের (সিসিডি) একটি সশস্ত্র দল বাড়ি ঢুকে মা জুবাইদা বিবি ও তার পরিবারের সদস্যদের মোবাইল ফোন, নগদ টাকা এবং অলঙ্কার লুট করে নিয়ে যায়, পাশাপাশি তাদের তিন ছেলে ও দুই জামাতাকে অপহরণ করে।

    ঘটনার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিভিন্ন জেলা থেকে উদ্ধার হয় পাঁচজনের মরদেহ। নিহতরা হলেন জুবাইদা বিবির তিন ছেলে—ইমরান (২৫), ইরফান (২৩), ও আদনান (১৮)—সহ আরও দুজন। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা পাকিস্তানের বৃহত্তম মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অব পাকিস্তান (এইচআরসিপি) এর নথিপত্রে তালিকাভুক্ত হয়েছে। জুবাইদা বিবি মিডিয়াকে বলেছিলেন, ‘তারা ঝড়ের মতো বাহাউয়ালপুরে আমাদের বাড়িতে ঢুকে সব কিছু নিয়ে যায়।’

    তিনি আরও জানিয়েছিলেন, ‘আমরা তাদের পিছু পিছু লাহোর পর্যন্ত গিয়েও জেলখানার গেটে পৌঁছালাম, তবুও তাদের খুঁজে পেলাম না। পরের দিন আমাদের ছেলে ও জামাতাদের লাশ পেয়েছি।’

    অভিযোগের ভিত্তিতে তারা আদালতেও গিয়েছিলেন, কিন্তু পাঞ্জাব পুলিশের হুমকির মুখে অভিযোগ প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন। জুবাইদা বিবি ও তার স্বামী আবদুল জব্বার জানিয়েছেন, ‘আমরা বুঝতে পারিনি যে তারা আমাদের পরিবারকে এভাবে হত্যা করবে। তারা কোনও অপরাধী নয়, তারা ছিল খেটে খাওয়া মানুষ, বিবাহিত ও সন্তানের পিতা।’

    ২০৫৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি এই ঘটনার সাক্ষ্য দিয়েছেন হিউম্যান রাইটস অব পাকিস্তান। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে গঠিত হয় সিসিডি, যার লক্ষ্য ছিল পাঞ্জাবে সংগঠিত অপরাধ ও গ্যাংসভার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া। মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ বলেছিলেন, ‘আমরা চাই সব অপরাধ দূর করে একটি নিরাপদ পাঞ্জাব গড়ে তুলতে।’ তবে, বাস্তবে দেখা যায়, সিসিডি কার্যক্রমের নেপথ্যে অলিখিত অনুমোদন ও এক ধরনের বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা বাড়ছে। প্রেস ট্রাস্টের রিপোর্ট অনুসারে, গত ৮ মাসে পাঞ্জাবে নিখোঁজ ও ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে ৯২৪ জনের বিচারবহির্ভূত হত্যা হয়েছে।

    সিসিডি গঠনের পরে থেকে শুরু হয় এই নির্যাতনের কল্পনা। এই বাহিনী, নির্মিত হয় মূলত অপরাধ দমন ও গ্যাংসভার বিরুদ্ধে ক্রিয়াশীল হতে, কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, এটি অনেক সময় অবৈধ হত্যা ও অপপ্রয়োগের আসরে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে বাস্তব পরিস্থিতিতে তারা বিচারহীনতার সুবিধা নিয়ে দিনকে দিন অপরাধের মাত্রা বাড়াচ্ছে।

    প্রাদেশিক বাহিনীটির কার্যক্রম শুধুমাত্র পাঞ্জাবেই সীমাবদ্ধ থাকলেও, এই অভিনেতা অন্য রাজ্যে কোনো কার্যক্রম চালায় না।

    বিশ্লেষকদের মতে, এইচআরসিপি’র প্রতিবেদনে বলেছে, এই বাহিনী একটি ‘সমান্তরাল পুলিশ’ হিসেবে কাজ করছে এবং অলিখিত দায়মুক্তির সুবিধা গ্রহণ করে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছে। ফারাহ জিয়া, এইচআরসিপির পরিচালক, আলজাজিরাকে জানিয়েছেন, ‘১৯৬০ সালের পর থেকে পাঞ্জাবে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড শুরু হয়। ২০২৪ সালে, যেখানে শুধুমাত্র জানুয়ারি থেকে ডিসেম्बর পর্যন্ত ৩৪১টি such হত্যাকাণ্ডের নিদর্শন পাওয়া গেছে, সেখানে ২০২৫ সালে মাত্র ৮ মাসে ৯২৪টি ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করা আবশ্যক।’

  • খুবির প্রিন্টমেকিং বিভাগে আধুনিক দুটি ল্যাবের উদ্বোধন

    খুবির প্রিন্টমেকিং বিভাগে আধুনিক দুটি ল্যাবের উদ্বোধন

    খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিন্টমেকিং বিভাগে সম্প্রতি দুইটি অত্যাধুনিক ল্যাবের উদ্বোধন করা হয়েছে। এই ল্যাবগুলো হলো ‘এডভান্সড প্রিন্টমেকিং ল্যাব’ ও ‘ইনটাগিও প্রিন্টমেকিং ল্যাব’, যা এই বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য এক নতুন দিশা উন্মোচন করবে। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম এই দুটি ল্যাবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পর তিনি সরাসরি ল্যাবগুলো পরিদর্শন করেন এবং সেখানে ব্যবহৃত বিভিন্ন আধুনিক যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তিগত সুবিধাগুলি সম্পর্কে অবহিত হন। উপাচার্য ব্যক্ত করেন, শিল্পচর্চা ও গবেষণায় আধুনিক অবকাঠামো অত্যন্ত জরুরি। এই নতুন ল্যাবগুলো থেকের শিক্ষার্থীরা তাদের সৃজনশীলতা প্রকাশ ও ব্যবহারিক দক্ষতা বৃদ্ধি করতে পারবে, যা তাদের ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ হারুনর রশীদ খান ও চারুকলা স্কুলের ডিন (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. শেখ সিরাজুল হাকিম। সভাপতিত্ব করেন প্রিন্টমেকিং বিভাগের প্রধান প্রফেসর ড. নিহার রঞ্জন সিংহ। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন ড্রইং অ্যান্ড পেইন্টিং বিভাগের প্রধান ড. তরিকত ইসলাম, ভাস্কর্য বিভাগের প্রধান শান্তনু মন্ডলসহ স্কুলের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থী। নতুন এই ল্যাবগুলোতে সংযোজিত হয়েছে আধুনিক কম্পিউটার, লিথোগ্রাফি প্রেস, ইনটাগ্রীও প্রেস, অটোমেটেড ইনটাগ্রীও প্রেস, লিনোকাট মেশিন, লিনোকাট প্রেস মেশিন, গ্রেইনার মেশিন, ফিউম হুড, লার্জ ফরম্যাট ইকো-সলভেন্ট প্লটার, প্লটার প্রিন্টার এবং লেজার কাটিং ও এনগ্রেভিং মেশিন—এমনকি আরও নানা ধরনের উন্নত সরঞ্জাম। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এসব আধুনিক যন্ত্রপাতি শিক্ষার্থীদের প্রিন্টমেকিং দক্ষতা উন্নয়নে সহায়ক হবে এবং সৃজনশীলতা আরো বিকাশ ঘটাবে। এই উদ্যোগের ফলে প্রিন্টমেকিং বিভাগ শিক্ষায় অবদান রাখার জন্য আরও একটি মাইলফলক অর্জন করল।

  • জুলাই সনদ বাস্তবায়নে কোনও টালবাহানা চলবে না

    জুলাই সনদ বাস্তবায়নে কোনও টালবাহানা চলবে না

    মহানগর জামায়াতের আমির মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেছেন, যদি সংখ্যালঘিষ্ঠতার ভিত্তিতে জনগণের অমত বা অস্বীকৃতি উপেক্ষা করা হয়, তাহলে তাকে ফ্যাসিবাদের মতো পরিণতি ভোগ করতে হবে। তিনি আরো হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে কোনো ধরনের বিলম্ব বা ধীরগতির সুযোগ দেওয়া হবে না। গৃহীত সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সবাইকে সচেতন ও সুসংগঠিত থাকতে হবে।

    আজকের এই গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন মহানগর জামায়াতের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত খুলনা-৩ আসনের নির্বাচনের পরে ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে জামায়াতের কর্মী সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তিনি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের আমীর হিমেল হোসেন। এতে উপস্থিত ছিলেন মহানগর জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক ইকবাল হোসেন, খালিশপুর থানা আমীর মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মামুন, হাফেজ ইমামুল ইসলাম, ১৫ নম্বর কাউন্সিলর প্রার্থী মোঃ সাজ্জাদ হোসেন, কবির হোসেন, ফজলুল হক, মাসুম বিল্লাহ, বাবুল হোসেন, ফয়সাল ও সাইফুল প্রমুখ। বক্তারা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে সনদ এর দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

  • ফুলতলায় সড়ক দুর্ঘটনায় যুবলীগ নেতা প্রিন্সের মৃত্যু

    ফুলতলায় সড়ক দুর্ঘটনায় যুবলীগ নেতা প্রিন্সের মৃত্যু

    ফুলতলা উপজেলার যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার এর কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-সম্পাদক এস এম শহিদুল্লাহ প্রিন্স (৪৫) বৃহস্পতিবার বিকেলে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। তিনি গাড়াখোলা গ্রামের শেখ রওশন আলীর ছেলে। এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রিন্স ফুলতলা বাজার থেকে মোটরসাইকেল (নং-খুলনা-ল-১১-১৪৩৯) চালিয়ে তার দামোদর পূর্বপাড়া গ্রামে নিজ বাসায় ফেরছিলেন। তখন তিনি খুলনা-যশোর মহাসড়কের বিদ্যুৎ অফিসের পার হয়ে বাড়ির রাস্তায় প্রবেশের সময় এক যশোরগামী ট্রাকের (অজ্ঞাত) ধাক্কায় ছিটকে পড়েন। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাঁকে দ্রুত খুলনার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল ৪টার মধ্যে তার মৃত্যু ঘটে। এই দুর্ঘটনা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং পুলিশ দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখছে।

  • যশোরে তারাবির নামাজ শেষে গ্রাম্য ডাক্তারকে কুপিয়ে হত্যা

    যশোরে তারাবির নামাজ শেষে গ্রাম্য ডাক্তারকে কুপিয়ে হত্যা

    যশোরের শার্শা উপজেলার গাতিপাড়া মোড়ে এক গ্রাম্য চিকিৎসককে দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে হত্যা করেছে। ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার রাতে, সাড়ে ১০টার দিকে। নিহত ব্যক্তি আল-আমিন, বারিপোতা গ্রামের বাসিন্দা ও নাভারণের রফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি তারাবির নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে এ নির্মম হামলার শিকার হন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আল-আমিন নিজ গ্রাম বারিপোতা থেকে একটি চিকিৎসা চেম্বার পরিচালনা করতেন। এলাকাবাসীর মাঝে তিনি পরিচিত একজন চিকিৎসক ছিলেন। প্রতিদিনের মতোই তিনি তারাবির নামাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। কিন্তু গাতিপাড়া হাইস্কুলের সামনে, ‘তারের বেড়া’ নামে একটি স্থান পৌঁছানোর সময়, ওৎ পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা অপ্রত্যাশিতভাবে তার উপর হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদের হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন।

    হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে ও তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করে, কিন্তু তার অবস্থার অবনতি ঘটলে অবশ্যই তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে এলাকার মানুষ ও পুলিশ ঘটনাস্থলে যান। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং মৃতদেহ উদ্ধার করে যশোরের ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয় ময়নাতদন্তের জন্য।

    শার্শা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শাহ-আলম বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এর পেছনে ব্যক্তিগত শত্রুতা বা পূর্ব বিরোধ থাকতে পারে। তবে এই ঘটনার কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি, তদন্ত চালানো হচ্ছে।

  • পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ হবে আজ রাতে, কাল আলোচনা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন

    পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ হবে আজ রাতে, কাল আলোচনা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন

    মহানগর বিএনপি’র সভাপতি এড. শফিকুল আলম মনা বলেন, একুশে ফেব্রুয়ারি শুধু শোকের দিন নয়, এটি আমাদের স্বাধিকার ও আত্মপরিচয়ের অমোঘ প্রতীক। ভাষা আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগের ফলশ্রুতিতে অর্জিত মাতৃভাষার মর্যাদা আজ বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত। এই ভাষা আন্দোলনের চেতনা গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও অধিকার সংগ্রামের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে রয়েছে। তিনি গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে মহানগর বিএনপি, অঙ্গ সংগঠন ও সহযোগী সংগঠনের যৌথ সভায় এ কথা বলেন। সভাপতির বক্তৃতায় তিনি আরও বলেন, ভাষা শহীদদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত একুশ আমাদের জাতীয় চেতনার মূল ভিত্তি। এই চেতনা ধারণ করে বিএনপি সকল নেতাকর্মীকে একসঙ্গে কাজ করে দেশের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করার অঙ্গীকার করে। তিনি সকলকে কর্মসূচি সফল করার জন্য আহ্বান জানান। মহানগর সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন বলেন, ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা আমাদের দায়িত্ব। একুশের সব অনুষ্ঠানকে শুধু আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে না নিয়ে ভাষা ও সংস্কৃতির মর্যাদা রক্ষা করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের চেতনাকে ধারণ করে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করা হবে একুশের প্রকৃত শ্রদ্ধা। নেতাকর্মীদের সবাইকে সময়মতো উপস্থিত থাকার জন্য তিনি আদেশ দেন। সভার শেষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দুই দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করে, যা আজ ২০ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ১০টার মধ্যে দলীয় কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি, রাত ১২টা ১ মিনিটে শহীদ হাদিস পার্কের শহীদ বেদিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ এবং ২১ ফেব্রুয়ারি সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে মহানগরীর সব দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা ও কালো পতাকা উত্তোলন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একইদিন বাদ জোহর আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হবে। এছাড়া আগামী ১৫ রমজান পর্যন্ত মহানগরীর বিশিষ্টজনদের সম্মানে একটি ইফতার মাহফিলের আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়। সভায় বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন বেগম রেহানা ঈসা, বদরুল আনাম খান, শেখ সাদী, হাসানুর রশীদ চৌধুরী মিরাজ, থানা সভাপতি কে এম হুমায়ূন কবির, শেখ হাফিজুর রহমান মনি, মুর্শিদ কামাল, এড. শেখ মোহাম্মদ আলী, থানার সাধারণ সম্পাদক মোলল্লা ফরিদ আহমেদ, শেখ ইমাম হোসেন, আসাদুজ্জামান আসাদ, মুক্তিযোদ্ধা দলের নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আলমগীর হোসেন, তাঁতী দলের নেতা আবু সাঈদ শেখ, ওলামা দলের নেতৃত্ব মাওলানা মোঃ আবু নাঈম কাজী, শ্রমিক দলের নেতা মো. মজিবর রহমান, মহিলা দলের যুগ্ম-আহবায়ক এড. হালিমা আক্তার খানম, জাসাসের সদস্য সচিব কে এম এ জলিল, কৃষক দলের সদস্য সচিব শেখ আদনান ইসলাম দীপ, শ্রমিক দলের সদস্য সচিব মো. শফিকুল ইসলাম শফি, আঞ্চলিক শ্রমিক দলের সদস্য সচিব আলমগীর তালুকদার, থানা সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির ইকবাল বাপ্পী, মো. নাসির উদ্দিন, মতলেবুর রহমান মিতুল, নুরুল হুদা পলাশ ও সৈয়দ তানভীর আহমেদ প্রমুখ।

  • ভ্যাট রিটার্নের সময় ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাড়লো

    ভ্যাট রিটার্নের সময় ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাড়লো

    জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ই-ভ্যাট সিস্টেমে অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন জমা দেওয়ার সময়সীমা আরেকবার বাড়ানো হয়েছে। এই নতুন সময়সীমা অনুযায়ী, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অনলাইনে ভ্যাট প্রদান করতে পারবে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় গতকাল রোববার রাতে, এনবিআর এর দ্বিতীয় সচিব ব্যারিস্টার মোঃ বদরুজ্জামান মুন্সীর স্বাক্ষরিত এক আদেশের মাধ্যমে। সাধারণত প্রতিমাসের ১৫ তারিখের মধ্যে, আগের মাসের বিক্রির তথ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করে। তবে পবিত্র শবে বরাত ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে দীর্ঘ সময়ের সরকারি ছুটি আর বিভিন্ন অনলাইন সিস্টেমের প্রযুক্তিগত সমস্যার জন্য এই সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশেষ করে জানুয়ারি মাসের অ্যানালাইসিসের জন্য ওটিপি সার্ভার ডাউন থাকায় জনস্বার্থে এই সময়সীমা ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। এনবিআরের নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল না করলে আইন অনুযায়ী বিলম্ব ফি ও জরিমানার শাস্তি মৃত্যুবরণ করতে পারে। তাই, সার্ভার সমস্যা বা অন্য কোনো কারণে করদাতারা অযথা জরিমানা থেকে বেঁচে থাকতে অতিরিক্ত সময়ের সুবিধা নেওয়ার জন্য এই সময় বাড়ানো হয়েছে। এনবিআর সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে দেশে ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান Number সম্পূর্ণ ৬ লাখ ৪৪ হাজারের কাছাকাছি, তবে এর মধ্যে বেশিরভাগই এখনও রিটার্ন দাখিল করেনি।

  • নতুন অর্থমন্ত্রী বললেন, পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি চলতে দেওয়া যাবে না

    নতুন অর্থমন্ত্রী বললেন, পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি চলতে দেওয়া যাবে না

    নতুন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী jasno করেছেন, পৃষ্ঠপোষকতার ভিত্তিতে অর্থনীতি চলতে দেওয়া যাবে না। তিনি আরও বলেছেন, দেশের অর্থনীতিতে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতেই হবে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রথম অফিসের দিন সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

    অর্থমন্ত্রী জানান, আমাদের রাষ্ট্রের বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান বর্তমানে খুবই দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। সেই জন্য এই প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনরুদ্ধার করোনোর জন্য কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। প্রতিষ্ঠানে পেশাদারিত্ব ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে, পাশাপাশি দক্ষতা বৃদ্ধি অপরিহার্য। এই উপাদানগুলো না থাকলে কোন কর্মসূচির আলোকবর্তিকা প্রয়োজনেও সফলতা আসবে না।

    নতুন অর্থমন্ত্রী বলেন, পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি বন্ধ করতে হবে এবং বাংলাদেশে অর্থনীতির মূলমন্ত্র হতে হবে সুবিন্যস্ত ও সকলের জন্য সমান সুযোগের ব্যবস্থা। দেশের প্রতিটি মানুষ যেন অর্থনীতিতে অংশগ্রহণের সুযোগ পায় এবং এর সুফল পৌঁছে যায় প্রত্যেকের কাছে, সেজন্যই সব ধরনের সমালোচনা ও সেনসিটিভ নিয়ন্ত্রণ শিথিল করতে হবে।

    অর্থনীতিকে মুক্ত করতে গিয়ে বলেন, বাংলাদেশ মূলত ওভার রেগুলেটেড হয়ে গেছে। পৃষ্ঠপোষকতা ও রাজনৈতিক পদক্ষেপের কারণে এই রেগুলেশন অতিরিক্ত বাড়ে গেছে। তাই এখনই এটি ডিরেগুলেটেড এবং শিথিল করতে হবে। সরকারের নিয়ন্ত্রণ কমিয়ে লিবারলাইজেশন বা মুক্ত বাজার নীতিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। যাতে সবার সমান অধিকার আসে এবং অর্থনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ সম্ভব হয়।

    অর্থমন্ত্রীর আরও বলেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি সকলের জন্য সমানভাবে প্রসারিত হবে এবং প্রাপ্ত সুফল সবার কাছে পৌঁছাবে।

    অতিরিক্ত হিসেবে উল্লেখ্য, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১১ আসন থেকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য। তিনি বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য, এবং এর আগে ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় বাণিজ্য মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

  • নতুন সরকার এলডিসি উত্তরণের পেছানোর উদ্যোগ নেবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

    নতুন সরকার এলডিসি উত্তরণের পেছানোর উদ্যোগ নেবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

    নতুন বাণিজ্য, শিল্প ও বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের সময়সীমা পিছিয়ে দেওয়ার জন্য নতুন সরকার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। তিনি জানান, এই গ্র্যাজুয়েশন ডেফার করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং ইতোমধ্যে সরকার এই ব্যাপারে কাজ শুরু করে দিয়েছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে প্রথমদিনের অফিসের সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

    বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার এলডিসি উত্তরণের মেয়াদ পেছানোর বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে এবং এ সংক্রান্ত সংশ্লিষ্ট দফতরগুলো সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় করে দ্রুত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষাপটে তিনি জানান, সরকার এ উদ্যোগে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয় এবং প্রথম সপ্তাহেই প্রয়োজনীয় চিঠি পাঠানোর পরিকল্পনা চলছে।

    রপ্তানি পরিস্থিতির নতুন চ্যালেঞ্জের বিষয়ে তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের রপ্তানি কাঠামো এখনো খুব সংকীর্ণ। দেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৮৫ শতাংশই এক ধরনের পণ্যে নির্ভরশীল। এই একঘেয়ে পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে হলে বিভিন্ন পণ্যে বৈচিত্র্য আনতে হবে, নতুন বাজার খুঁজে বের করতে হবে এবং রপ্তানি বিস্তারিত সম্প্রসারণে জোর দিতে হবে। পাশাপাশি, বেসরকারি খাতের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাসও দেন তিনি।

    বিশ্ব বাণিজ্য পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফ নীতিতে সাম্প্রতিক পরিবর্তনের কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতি অস্থিরতায় পড়েছে। এর ফলে বাংলাদেশ সীমিত সুযোগের মধ্যেই টিকে থাকার চেষ্টা করছেন। দেশের মার্জিন কম, তাই ভুলের জায়গা নেই—এমন পরিস্থিতিতে গত কয়েক মাসের মন্থর গতি দ্রুততার সঙ্গে ফিরিয়ে আনতে সরকার কাজ শুরু করবে।

    রমজান মাসের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে বললেন, সবই স্বাভাবিক থাকলে বাজার স্থিতিশীল থাকবে। প্রয়োজনীয় পণ্য পর্যাপ্ত মজুদ আছে, পাইপলাইনে সরবরাহও অপর্যাপ্ত নয়। ফলে বাজারে অপ্রয়োজনীয় আতঙ্কের কোনও কারণ দেখছেন না তিনি।

    রমজান এলেই বাজারে সিন্ডিকেটের কথা ওঠে—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, তিনি শুধু কথা বলতে চান না, কাজের মাধ্যমে ফল দেখিয়ে পরবর্তীতে সাফল্য প্রকাশ করবেন। বলেন, “আমি সাউন্ড বাইট দেব না, ইনশাআল্লাহ কাজ করে দেখাব।”

    শুরুতেই কিছু পণ্যের দাম বাড়ার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি সাধারণত এককালীন চাহিদা বৃদ্ধির ফল। পুরো মাসের বাজার একসঙ্গে করায় দাম চোখে পড়ে, কিন্তু এ প্রভাব বেশিদিন স্থায়ী হয় না।

    বৈদেশিক ও দেশীয় বিনিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনিশ্চয়তার মধ্যে বিনিয়োগ আসে না। স্থিতিশীল পরিবেশে বিনিয়োগকারীরা তাদের পুঁজি ও শ্রমের বিনিময়ে প্রত্যাশিত রিটার্ন পাবেন, এই নিশ্চয়তা দরকার। তিনি আরও বলেন, দেশে তরুণ শ্রমশক্তি আছে, প্রতি বছর লাখ লাখ নতুন মানুষ কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করছে। দীর্ঘসময় বিনিয়োগের স্থবিরতা দেশের জন্য বড় চাপ সৃষ্টি করছে, যা দ্রুত কাটিয়ে উঠতে না পারলে কর্মসংস্থান ও অর্থনীতিতে বড় ঝুঁকি থাকতে পারে।

    নতুন সরকারের উদ্বোধনের সঙ্গে রমজান শুরু হওয়া এক চ্যালেঞ্জ—এমন প্রশ্নে বাণিজ্যমন্ত্রী বললেন, রমজান সামাল দেওয়া এখন প্রধান পরীক্ষার বিষয়। মানুষের প্রত্যাশা পূরণে সরকারকে সফল হতে হবে, আর এ জন্য সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, এটি ব্যক্তিগত বিষয় নয়, দেশের স্বার্থের বিষয়। সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করলে দেশ অগ্রসর হতে পারে। মৌলিক উদ্দেশ্য হলো দেশের অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা, এবং এ জন্য সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।