Blog

  • সব রেকর্ড ভেঙে সোনার ভরি দুই লাখের কাছাকাছি

    সব রেকর্ড ভেঙে সোনার ভরি দুই লাখের কাছাকাছি

    বাংলাদেশের স্বর্ণের বাজার আবারও আকাশচুম্বি দামে পৌঁছেছে। সব থেকে গুণগত মানের ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরি দাম এবার ২,১৯২ টাকা বৃদ্ধির মাধ্যমে মোট ১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৭৬ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। এই দামে বিক্রি হলে এটি হবে দেশের সর্বোচ্চ স্বর্ণের দাম তার ইতিহাসে। এর আগে, গত শুক্রবার এই দাম ছিল ১ লাখ ৯৫ হাজার ৩৮৪ টাকা।

    বাজুসের পক্ষ থেকে শনিবার (৪ অক্টোবর) রাতে এই মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা দেয়া হয়, যা রোববার থেকে কার্যকর হবে। বাজারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা ও তেজাবী স্বর্ণের (পাকা স্বর্ণ) দাম বৃদ্ধি ঘটার পরিপ্রেক্ষিতে এই সংশোধনী আনা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

    নতুন দামে, ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরি দাম দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৭৬ টাকা। এছাড়া, অন্যান্য মান অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের মূল্য ১ লাখ ૮৮ হাজার ৯১০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৬১ হাজার ৬৫১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরি ১ লাখ ৩৪ হাজার ২৫৩ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।

    অতঃপর, এর আগে এই দামে ছিল ২২ ক্যারেট ১ লাখ ৯৫ হাজার ৩৮৪ টাকা, ২১ ক্যারেট ১ লাখ ৮৬ হাজার ৪৯৬ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৫৯ হাজার ৮৫৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ছিল ১ লাখ ৩২ হাজার ৭২৫ টাকা।

    অপরদিকে, রুপার মূল্য ওই একই geblieben, যার মানে কোনো পরিবর্তন আসেনি। এখনো পর্যন্ত রুপার দাম রয়েছে ২২ ক্যারেটের জন্য ৩ হাজার ৬২৮ টাকা, ২১ ক্যারেটের জন্য ৩ হাজার ৪৫৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ২ হাজার ৯৬৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির জন্য ২ হাজার ২২৮ টাকা।

  • দ্বিতীয় মাসে রপ্তানি হ্রাস অব্যাহত

    দ্বিতীয় মাসে রপ্তানি হ্রাস অব্যাহত

    চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় মাসে পণ্য রপ্তানিতে কিছুটা হেরফের দেখা গেছে। এ সময় রপ্তানি আয় প্রায় ৩ শতাংশ কমে গেছে। এই ধারা তৃতীয় মাসেও অব্যাহত থাকায় সেপ্টেম্বরে রপ্তানি কমে গেছে প্রায় ৫ শতাংশ। গত বছরের একই মাসের তুলনায় এই মাসে রপ্তানি কমেছে ১৭ কোটি ডলার से বেশি। ফলে, সেপ্টেম্বরে রপ্তানি মোট দাঁড়িয়েছে ৩৬৩ কোটি ডলারে, যা আগের বছরের একই মাসে ছিল ৩৮০ কোটি ডলার থেকে কিছুটা কম।

    রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, তৈরি পোশাকের রপ্তানি এই মাসে প্রায় ৬ শতাংশ কমে গেছে। মূলত পোশাকের রপ্তানি কমে যাওয়াতে মোট রপ্তানি আয় নেতিবাচক ধারায় রয়েছে। পোশাকের রপ্তানি এ মাসে পৌঁছেছে ২৮৪ কোটি ডলারে, যা গত বছরের একই মাসে ছিল ৩০১ কোটি ডলার।

    যদিও একক মাসের হিসাবে এই হ্রাস ঘটলেও, অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিক অর্থাৎ জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ের রপ্তানি আগের অর্থবছরের একই সময়ে তুলনায় প্রায় ৬ শতাংশ বেড়েছে। এই বৃদ্ধির মূল কারণ হলো, প্রথম মাসে রপ্তানি বেড়ে যায় ২৫ শতাংশ, তবে দ্বিতীয় মাসে এটি কমে যায় প্রায় ৩ শতাংশের কাছে।

  • সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পেয়ে ৮.৩৬ শতাংশে পৌঁছেছে

    সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পেয়ে ৮.৩৬ শতাংশে পৌঁছেছে

    সেপ্টেম্বরে দেশের মোট মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়ে হয়েছে ৮.৩৬ শতাংশ, যা আগের মাস আগস্টে ছিল ৮.২৯ শতাংশ। এই মাসে দেশের খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত দুই ধরনের পণ্যের দামে বেড়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি ও সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের পরও দেশব্যাপী মূল্যস্ফীতি আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) দ্বারা প্রকাশিত মাসিক ভোক্তা মূল্য সূচক (সিপিআই) অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে দেশের গড় মূল্যস্ফীতি ৮.৩৬ শতাংশে পৌঁছেছে। এর অর্থ হল, যদি একটি পণ্য গত বছর ১০০ টাকায় কিনতেন, তবে এই বছরের সেপ্টেম্বরে তার মূল্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৮ টাকা ৩৬ পয়সা। সাধারণ কথা বললে, মূল্যবৃদ্ধির এই হার অর্থনীতির উপর চাপ সৃষ্টি করছে, কারণ জীবনযাত্রার খরচ বাড়ছে। যদি মানুষের আয় একই রকম থাকে বা তার হারে কমে যায়, তবে তারা ধীরে ধীরে কষ্টে পড়ছেন। গত অর্থবছরে দেশের গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ১০ শতাংশের বেশি, তবে এ বছর অর্থাৎ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সেটি ৬.৫ শতাংশের মধ্যে ধরে রাখার লক্ষ্যমাত্রা সেট করেছে সরকার। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই লক্ষ্যমাত্রা নিশ্চিত করার জন্য সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে। তবে, সত্যিকার অর্থে এই লক্ষ্য অর্জন এখনো বেশ কঠিন, কারণ মূল্যস্ফীতি এখনও লক্ষ্যপর্যন্ত নামেনি। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সেপ্টেম্বর মাসে দেশের খাদ্য মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়ে ৭.৬৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা আগের মাসে ছিল ৭.৬ শতাংশ। খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতিও বেড়ে ৮.৯৮ শতাংশে পৌঁছেছে, যা আগের মাসে ছিল ৮.৯ শতাংশ। সরকারি নানা পদক্ষেপের পরও ভোগ্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে আসছে না। অন্যদিকে, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে এ মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি মূল্যস্ফীতি দেখা যাচ্ছে। ভারতে এই হার ২.০৭ শতাংশ, পাকিস্তানে ৫.৬ শতাংশ, শ্রীলঙ্কায় ১.৫ শতাংশ, নেপালে ১.৬৮ শতাংশ, আফগানিস্তানে ২.২ শতাংশ, মালদ্বীপে ৪.৬ শতাংশ এবং ভূটানে ৩.৬ শতাংশ। সাম্প্রতিক সময়ে শহরের চেয়ে গ্রামাঞ্চলের জীবনযাত্রার ব্যয় বেশি হচ্ছে। এই মাসে গ্রামাঞ্চলে গড় মূল্যস্ফীতি ৮.৪৭ শতাংশ হওয়ার পাশাপাশি শহরে তা ৮.২৮ শতাংশে নেমে এসেছে। এডিবি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের মুদ্রাস্ফীতির হার ৮ শতাংশে নেমে আসার পূর্বাভাস দিলেও বলেছে, এটি হবে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ হার। তবে, সামগ্রিকভাবে দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতি ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতার পথে এগোচ্ছে। তবুও, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে খাদ্য ও জ্বালানি খাতে মূল্যস্ফীতির সমস্যা এখনো বড় উদ্বেগের কারণ। অন্যদিকে, ভারতের ও শ্রীলঙ্কার অভিজ্ঞতা দেখাচ্ছে, কঠোর মুদ্রানীতি, কার্যকর বাজার তদারকি এবং উৎপাদনশীল নীতির বাস্তবায়ন হলে দ্রুত মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

  • মুদ্রাস্ফীতি কমলেও দারিদ্র্য বাড়ছে, কর্মসংস্থান কমেছে: বিশ্বব্যাংকের বিশ্লেষণ

    মুদ্রাস্ফীতি কমলেও দারিদ্র্য বাড়ছে, কর্মসংস্থান কমেছে: বিশ্বব্যাংকের বিশ্লেষণ

    চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রায় ৪.৮ শতাংশ বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। মুদ্রাস্ফীতির চাপ কিছুটা কমার কারণে বেসরকারি খরচে সামান্য বৃদ্ধি দেখা সম্ভব, যার ফলে গত অর্থবছরের তুলনায় অর্থনৈতিক কার্যক্রমের কিছুটা উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট প্রতিবেদনের মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়েছে। আগামি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এই প্রবৃদ্ধি আরও শক্তিশালী হয়ে ৬.৩ শতাংশে পৌঁছানোর আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।

    আজ মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিশ্বব্যাংকের নিজস্ব কার্যালয়ে একটি সংবাদ সম্মেলনে এই প্রতিবেদনের প্রকাশ ঘটে। এ সময় একই অনুষ্ঠানে এশিয়ার ডেভেলপমেন্ট আপডেট নামক অন্য একটি প্রতিবেদনের বিষয়েও আলোচনা করা হয়।

    বিশ্বব্যাংকের ডিভিশনাল ডিরেক্টর জেন পেসমি ও তার দলের অন্য সদস্যরা এই প্রতিবেদনে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির বিস্তারিত বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেন। চিফ ইকনোমিস্ট ফ্রানজিসকা লেসলোট ওহসেজ বাংলাদেশের অর্থনীতির বর্তমান অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ প্রবণতা নিয়ে আলোচনা করেন, যেখানে উল্লেখ করা হয়, চলতি অর্থবছরে বিনিয়োগের পরিমাণ কিছুটা বাড়বে। তবে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা এই প্রবৃদ্ধির গতি কিছুটা বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

    এছাড়া, আমদানির স্বাভাবিক হওয়ার ফলে চলতি হিসাবের ভারসাম্য সামান্য ঘাটতির দিকে যেতে পারে। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের উন্নতির সঙ্গে রাজস্ব আয়ের বৃদ্ধির ফলে জিডিপি অনুপাতের রাজস্ব ঘাটতি ৫ শতাংশের নিচে রাখতে সক্ষম হবে বলেও আশাবাদ প্রকাশ করা হয়।

    প্রতিবেদনটি মুদ্রাস্ফীতির উন্নতি বিষয়ে নির্দেশ করে, যেখানে পরবর্তী মাসগুলোতে মুদ্রাস্ফীতির হার হ্রাসমান থাকলেও, ২০২৫ সালের আগস্টে তা ৮.৩ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার ২০২৪ সালের নভেম্বরের ১৩.৮% থেকে কমে ২০২৫ সালের আগস্টে ৭.৬% এ নেমে এসেছে। এই পরিবর্তনে বিনিময় হার স্থিতিশীল থাকা এবং খাদ্য সরবরাহের পুনরুদ্ধার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

    নিম্ন আয়ের মানুষজনের মধ্যে মজুরি বৃদ্ধির হার এখনো মুদ্রাস্ফীতির চেয়ে বেশি থাকলেও, সাম্প্রতিক সময়ে এই ব্যবধান কিছুটা কমে এসেছে। তবে দারিদ্র্যের হার বেড়ে চলেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ অর্থবছরে দেশের দারিদ্র্য হার ২১.২% এ পৌঁছেছে, যা ২০২৪ সালে ছিল ২০.৫%। শ্রমশক্তির অংশগ্রহণও কমে গেছে, যেখানে ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে শ্রমশক্তির অংশগ্রহণ হার ৬০.৯% থেকে কমে ৫৮.৯% হয়ে গেছে, মূলত নারীর অংশগ্রহণের হ্রাসের কারণে। এই সময়ে প্রায় ৩০ লাখ কর্মক্ষম বয়সী মানুষ শ্রমশক্তির বাইরে ছিলেন, যার মধ্যে ২.৪ মিলিয়ন নারী। মোট কর্মসংস্থান প্রায় ২০ লাখ কমে ৬৯.১ লাখে দাঁড়িয়েছে, ফলে শ্রমশক্তি অনুপাত ২ শতাংশ পয়েন্ট কমে ৫৬.৭% হয়েছে।

    অর্থনৈতিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা এখনও গভীর উদ্বেগের কারণ। খাতের খেলাপি ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় মূল চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে, যেখানে মূলধন-ঝুঁকি-ভারিত সম্পদের অনুপাত এখন ৬.৩%। সরকার দুর্বল ব্যাংকগুলো মার্জ করার উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি ব্যাংকের পরিচালনাগত ক্ষমতা এবং আইনগত কাঠামো সুদৃঢ় করতে কাজ করছে। তাছাড়া, আমানত সুরক্ষা ব্যবস্থা উন্নত করা এবং জরুরি তরল্য সহায়তা কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনাও বাস্তবায়নের পথে।

    অন্য দিকে, ২০২৫ সালে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি সামান্য হ্রাস পেয়ে ৪% এ দাঁড়াবে, যা ২০২৪ সালে ছিল ৪.২%। এই হ্রাসের মূল কারণ হলো দুর্বল বিনিয়োগ, রাজনৈতিক পরিস্থিতির অনিশ্চয়তা এবং ব্যবসায় পরিচালনায় উচ্চ ব্যয়ের কারণে বেসরকারি বিনিয়োগ কমে যাওয়া, পাশাপাশি সরকারি বিনিয়োগের অবনমন। এডিপি বা পাবলিক ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের বাস্তবায়নেও ধীরগতি লক্ষণীয়।

    প্রতিবেদনে কর-রাজস্বের গুরুত্বও তুলে ধরা হয়, যেখানে দেখা গেছে বাংলাদেশের কর-জিডিপি হার দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় কম, যা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও টেকসই উন্নয়নের জন্য এক প্রতিবন্ধকতা।

  • সোনার দাম রেকর্ডের নতুন উচ্চতায়, ভরি ২ লাখ টাকার ওপরে

    সোনার দাম রেকর্ডের নতুন উচ্চতায়, ভরি ২ লাখ টাকার ওপরে

    দেশের স্বর্ণ বাজারে এক দিনের ব্যবধানে আবারও জোরদার ফেরার খবর জানিয়ে এগিয়ে এসেছে স্বর্ণের দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স এ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) জানিয়েছে, ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের ভরির মূল্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ১৫০ টাকা, যা মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হবে। এ ঘোষণার ফলে দেশের স্বর্ণ বাজারে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার রাতে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানায়, বর্তমানে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের এক ভরি মূল্য ২ লাখ ৭২৬ টাকা। এটি দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দাম, যা আগের তুলনায় অনেকটাই বেড়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী, স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা খাঁটি স্বর্ণের মূল্য আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। এর আগে শনিবার (অক্টোবর ৪) স্বর্ণের দাম প্রতি ভরি ২ হাজার ১৯৩ টাকা করে বাড়ানো হয়। নতুন দাম অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম হবে ২ লাখ ৭২৬ টাকা, ২১ ক্যারেটের জন্য ১ লাখ ৯১ হাজার ৬০৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ১ লাখ ৬৪ হাজার ২২৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের জন্য ১ লাখ ৩৬ হাজার ৪৪৫ টাকা। স্বর্ণের এই দাম নির্ধারণের সময় সরকার থেকে ভ্যাট হিসেবে ৫ শতাংশ এবং বাজুসের ন্যূনতম মজুরি ৬ শতাংশ যুক্ত করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরির হার আলাদা হতে পারে। এই পরিস্থিতি আগে জানানো হয়েছিল, যখন গত শনিবার স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করে বাজুস। তখন প্রতি ভরি ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ছিল ১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৭৬ টাকা, ২১ ক্যারেটের ১ লাখ ৮৮ হাজার ৫৯৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৬১ হাজার ৬৫১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির ১ লাখ ৩৪ হাজার ২৫৩ টাকা। অন্য দিকে, রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ২২ ক্যারেটের রুপার প্রতি ভরি দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৬২৮ টাকা, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। একইভাবে, ২১ ক্যারেটের রুপার দাম ৩ হাজার ৪৫৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ২ হাজার ৯৬৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির ২ হাজার ২২৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

  • একই দিনে গণভোট ও সংসদ নির্বাচন করলে বিলম্বের সুযোগ থাকবে না: সালাহউদ্দিন

    একই দিনে গণভোট ও সংসদ নির্বাচন করলে বিলম্বের সুযোগ থাকবে না: সালাহউদ্দিন

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, যদি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে কোনো পক্ষই নির্বাচন পেছানোর সুযোগ পাবে না। তিনি আরও উল্লেখ করেন, নির্বাচন যেন ততটাই হয় যেমনটি পরিকল্পনা করা হয়েছে, কোনো বিলম্বের স্থান নেই।

    সোমবার (৬ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘গুণমানসম্পন্ন ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন’ বিষয়ে এক আলোচনায় তিনি এই মন্তব্য করেন। সালাহউদ্দিন বলেন, নির্বাচন এক চ্যালেঞ্জ নয়; যারা নির্বাচন বিলম্ব করতে চাইছেন, তারাই প্রকৃত চ্যালেঞ্জ।

    তিনি আরও বলেন, সংসদ নির্বাচনের সময় একই সঙ্গে গণভোট নেওয়া সম্ভব। এতে জনসম্পৃক্ততা কমবে না, বরং বিভ্রান্তিও সৃষ্টি হবে না। আগের স্থানীয় নির্বাচনের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে, একাধিক ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুবিধায় ভোটাররা বিভ্রান্ত হননি। তাই সরকার দু’টি ভোটের জন্য আলাদা দিন না রেখে, একই দিনে ভোটগ্রহণের পরিকল্পনা নিতে পারে…

    সালাহউদ্দিন সরকারকে আশ্বস্ত করে বলেন, নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে একটি গণভোটের আয়োজন করতে দেশের নির্বাচন কমিশনকে অধ্যাদেশ জারি করতে হবে। তিনি বিশ্বাস করেন, জনগণ এতে অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তুত।

    আলোচনায় তিনি আরও বলেন, নির্বাচন পেছানোর জন্য বিভিন্ন অজুহাত দেয়া হবে। তিনি এই সব চক্রান্তকারীদের সতর্ক করে দিয়ে বলেন, তারা যেন অতিরিক্ত জটিলতা সৃষ্টি না করে।

    সালাহউদ্দিন দাবি করেন, বাইরে থেকে পাঠানো গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বা রাজনীতি সম্পর্কিত বার্তা সাধারণ মানুষের জন্য মূল্যহীন। তিনি পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ফ্যাসিবাদবাদের বিরুদ্ধে একজোট থাকলে কোনো সংকট তৈরি হবে না।

  • গোলাম পরওয়ারের মন্তব্য: শিক্ষাব্যবস্থা মানবতা হারিয়েছে, পশু তৈরি করছে

    গোলাম পরওয়ারের মন্তব্য: শিক্ষাব্যবস্থা মানবতা হারিয়েছে, পশু তৈরি করছে

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার দেশের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, শুধু সেক্যুলার শিক্ষা মানুষকে নৈতিক চরিত্র দেয় না, বরং ইসলামের সুশিক্ষা ছাড়া এই শিক্ষাব্যবস্থা মানবতার চেয়ে বেশি পশু তৈরি করছে। তার এই মন্তব্যের প্রমাণ হিসেবে তিনি আবরারের নির্মম হত্যাকাণ্ডের কথা উল্লেখ করেন। সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আব্দুস সালাম হলে শহীদ আবরার ফাহাদ দিবসের উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এই কথা বলেন, যা বাংলাদেশ জনতা দলের ‘রুখে দাঁড়াও ভারতীয় আধিপত্যবাদ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাগপার সহ সভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান।

    গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, আবরার ফাহাদ কোন ছাত্রসংগঠনের সঙ্গে ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন দেশপ্রেমিক ও মেধাবী ছাত্র। তিস্তা নদী, ফেনী নদী, গ্যাসের অবস্থা ও কলকাতার বন্দরের বিষয় নিয়ে তিনি ফেসবুকে ভারতীয় আধিপত্যের বিরুদ্ধে লেখালেখি করলে বুয়েট ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মেধাবী ছাত্ররা এই ধরনের নৃশংস কাজ করতে পারে কীভাবে? এটি দেখায় তাদের মনন, শিক্ষা ও চরিত্রে মানবতা হারিয়ে গেছে।

    অতিরিক্তভাবে, তিনি বলেন, এখন আধিপত্যবাদ নৈরাজ্য বা শুধু ভৌগোলিক দখল নয়, বরং একটি দেশের অন্য দেশের ওপর রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে শাসন প্রতিষ্ঠা করাও আধিপত্যবাদের অংশ। এর মাধ্যমে দেশের সরকারি সিদ্ধান্ত, অর্থনীতি ও পররাষ্ট্রনীতিতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হয়ে থাকে। এর কারণে বাংলাদেশ তিস্তার পানি পাচ্ছে না এবং নানাভাবে শোষিত হচ্ছে।

    অতি গুরুত্বপূর্ণ এক প্রশ্নের উত্তরে, গোলাম পরওয়ার বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নির্বাচন নিয়ে, একটি নির্দলীয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারহিসাবে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন প্রয়োজন। এ জন্য বৈধ রাষ্ট্র কাঠামো বদলে, রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংস্কার চালিয়ে নতুন একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে ফ্যাসিস্ট বা অসামাজিক নেতাদের আর জন্ম না হয়।

    তিনি আরও জানান, আসন্ন নির্বাচনে ইসলামী ও দেশপ্রেমিক শক্তির মধ্যে যে সমঝোতার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে, তা যেন কোনো আধিপত্যবাদী গোষ্ঠী বাধা সৃষ্টি না করে। পাশাপাশি ভারতসহ প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে সমতা ও ন্যায্যতা বজায় রেখে সুসম্পর্ক স্থাপন করতে হবে, যাতে দেশের স্বার্থ অক্ষুণ্ণ থাকে।

  • তারেক রহমানের মন্তব্য: উপযুক্ত অন্তর্বর্তী সরকার থাকলে সন্দেহ কমবে

    তারেক রহমানের মন্তব্য: উপযুক্ত অন্তর্বর্তী সরকার থাকলে সন্দেহ কমবে

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যত বেশি দৃঢ় ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্থির থাকবে, ততই সমাজে সংশয় বা অবিশ্বাস কমে যাবে। তিনি বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেন, যা মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) সকালে দ্বিতীয় পর্বে প্রকাশিত হয়েছে।

    সাক্ষাৎকারে তাকে প্রশ্ন করা হয়—আপনি কয়েক মাস আগে বলেছিলেন যে, অন্তর্বর্তী সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে জনগণের মধ্যে সন্দেহ রয়েছে, তা কি আপনি এখনও অনুভব করেন?

    তারেক রহমান জবাব দেন, ‘আমার মনে আছে, আমি যখন এই মন্তব্য করেছিলাম, তখন সরকার কোনও নির্দিষ্ট রোডম্যাপ বা নির্বাচনের জন্য সঠিক সময়সূচী ঘোষণা করেনি। তারা কেবলমাত্র সাধারণ কথাবার্তা বলেছে, কিছু পরিকল্পনা বা তারিখ উল্লেখ করেনি। এই জন্যই, অন্তর থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছিল। তবে, যখন ওই সরকার প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস একটি রোডম্যাপ ঘোষণা করেন, এবং পরবর্তীতে তিনি বেশ কয়েকবার তাদের সিদ্ধান্তের ব্যাপারে দৃঢ়তা দেখান, তখন ধীরে ধীরে মানুষের মন থেকে সংশয় কমতে শুরু করে।

    তিনি আরও বলেন, ‘আমরা মনে করি, যেখানে যত বেশি তাদের কার্যক্রমে দৃঢ়তা থাকবে, মানুষ ততই বিশ্বাসićে ফিরে আসবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়বে, যদি তারা জনগণের স্বার্থে কাজ করে।’

    বিএনপির নেতা বলছেন, ‘এই সরকারকে সফল করতে আমরা চাই, তারা মূলত সংস্কার ও সুষ্ঠু, স্বচ্ছ নির্বাচন আয়োজনের প্রতি মনোযোগী হোন। এই লক্ষ্য অর্জনই মূলত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এবং জনগণের প্রত্যাশা। আমাদের আশা, তারা উত্কৃষ্টভাবে এ দায়িত্ব পালন করবেন।’

    তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘সরকারের কাজের মান কতটাই বা ভালো হচ্ছে, তা নির্ভর করে কার্যকারিতার ওপর। দেশ পরিচালনায় অন্তর্বর্তী সরকারকে মূল্যায়ন করতে গেলে, এটি ক্ষণস্থায়ী হলেও এর দায়িত্ব রাজনৈতিক ও জনতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

    অন্তর্বর্তী সরকারের সক্ষমতা ও কার্যক্ষমতা বিচার করতে হলে তারেক রহমান ব্যাখ্যা করেন, ‘বাংলাদেশ একটি বড় দেশের মতো। জনসংখ্যার দিক থেকে সেটি বিশ্বে অনেক বড়। যুক্তরাজ্য যেমন সাত কোটি মানুষ থাকলেও, আমাদের দেশের জনসংখ্যা প্রায় ২০ কোটির কাছাকাছি। এর মানে, এই দেশ পরিচালনা একরকম শক্তি ও শক্তিমত্তার প্রয়োজন। এজন্য অবশ্যই জনগণের ম্যান্ডেট সহকারে দুর্দান্ত এক সরকার দরকার।’

    সন্ধি যুগের সরকার বা সেনা সমর্থিত সরকারের মূল্যায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এক কথায় বলতে গেলে, এক এগারোর সরকার ছিল উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও অনৈতিক। তারা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল, দেশকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিতে চাইছিল। তবে আমাদের মতে, সেই সময়ের সরকারের নিহিত ছিল অনেক ত্রুটি-বিচ্যুতি, তারপরও নানা সংঘর্ষ ও চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে দেশের গণতন্ত্র ধীরে ধীরে গড়ে উঠছিলো।’

    কূটনীতির ক্ষেত্রে বিএনপির মূলনীতির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের মূলনীতি একটাই—বাংলাদেশের স্বার্থের অখণ্ডতা। সবার আগে বাংলাদেশ, তার জনগণ, সার্বভৌমত্ব। এটা বাস্তব ও সরল বিষয়, এর বেশি কিছু নয়।’ তিনি যোগ করেন, ‘দ্রুত বলার জন্য, আমার দৃষ্টি শুধুই বাংলাদেশের স্বার্থে, বাইরের বিষয়াবলি আমার কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমি বাংলাদেশের একজন নাগরিক, দেশের স্বার্থই আমার প্রথম প্রাধান্য।’

  • ফেব্রুয়ারির ভোট নিয়ে শঙ্কা নেই, তবে জুলাইয়ে সংস্কার প্রয়োজন

    ফেব্রুয়ারির ভোট নিয়ে শঙ্কা নেই, তবে জুলাইয়ে সংস্কার প্রয়োজন

    আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে জামায়াতে ইসলামী কোনো শঙ্কা করছি না বলে স্পষ্ট করে মন্তব্য করেছেন দলের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের। তিনি মনে করছেন, তবে এই নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও ঐক্যবদ্ধ করার জন্য জুলাই মাসের সংশোধনী, বিশেষ করে সনদ সংস্কার, খুব জরুরি।

    তাহের বলেন, আমাদের লক্ষ্য এখন অত্যন্ত স্পষ্ট—নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ নির্বাচনের মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক, জনগণের প্রতিনিধিত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা করা। তিনি জানান, প্রধান উপদেষ্টা ও দলের অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে নিউইয়র্কে সফরকালে বহুবার আলোচনা হয়েছে। আমাদের সবাইকে একযোগে বলতে হয়েছে, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের জন্য সময় মতো উদ্যোগ নিতে হবে। এর জন্য বৈধতা ও আইনের দিক থেকে অবশ্যই শক্তিশালী সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

    তাহের প্রমাণ দেয়, ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের মতো নির্বাচনের অভিজ্ঞতা আমাদের শিক্ষা দিয়েছে, সমস্যার সমাধানে অবাধ, নিরপেক্ষ, ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনই একমাত্র সমাধান। তিনি জানান, জুলাই মাসের সংশোধন ও সংস্কার প্রক্রিয়াকে দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে, যাতে পরিকল্পনা অনুযায়ী নির্বাচন সম্ভব হয়।

    তাহের বলেন, বর্তমানে কিছু পক্ষের ষড়যন্ত্র ও দেরি করানো সংস্কার বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করছে। যদি এসবের কারণে নির্বাচনের সময় আবার সমস্যা হয় বা নির্বাচন সংশয় হয়, তাহলে তাদের দায়িত্ব নিতে হবে এবং জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।

    জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে অংশগ্রহণ ও যুক্তরাষ্ট্র সফরের বিষয়ে তাহের বলেন, বাংলাদেশ প্রথম দেশ হিসেবে সরকার ও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের একসঙ্গে এই সম্মেলনে প্রতিনিধিত্ব করেছিল। তিনি এটা একাত্মতার প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেন। এছাড়াও, তিনি প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে, জামায়াতে ইসলামী প্রথম এই দাবি তুলেছে বলে উল্লেখ করেন। এ বিষয়ে সরকার নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে, এবং জনগণের পরিচয়পত্রের মাধ্যমে ভোটার হিসেবে নিবন্ধন ও ভোট দেওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলে তাঁর আশাবাদ।

    এক প্রশ্নের জবাবে তাহের স্পষ্ট করে বলেন যে, তিনি চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যাননি। সেখানে জাতিসংঘের অধিবেশন অংশগ্রহণের জন্য গিয়েছিলেন। আমেরিকায় তাঁদের পরিবার ও মেয়ে রয়েছে, তাদের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ করেছেন।

    অবশেষে, তিনি গুজবের সত্যতা অস্বীকার করে বলেন, অনলাইনে ও মিডিয়ায় বারংবার ছড়ানো এই ধরনের গুজব, যেমন ভারতের সেনা প্রধানের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ ও চিকিৎসারজন্য গিয়েছে—সবই মিথ্যা। এগুলো কৃত্রিম ও অপ্রামাণিত খবর, যা AI টেকনোলজি দিয়ে তৈরি। তিনি বলেন, এসব অপপ্রচেষ্টার বিরুদ্ধে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে এবং সত্যের পথ অনুসরণ করতে হবে।

  • নির্বাচনে জয় ও একক সরকার গঠনে আত্মবিশ্বাসী তারেক রহমান

    নির্বাচনে জয় ও একক সরকার গঠনে আত্মবিশ্বাসী তারেক রহমান

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, তিনি আগামী জাতীয় নির্বাচনে জয় লাভ করে এককভাবে সরকার গঠনের ব্যাপারে খুবই আশাবাদী। এই কথা তিনি যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে একথা বলেন। ডের যুগের বেশি সময় ধরে লন্ডনে বসবাস করলেও তিনি দেশের রাজনীতিতে সরাসরি অংশগ্রহণের জন্য ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তারেক রহমান বলেন, আমার বাংলাদেশের ফেরার সময় খুব দ্রুত অাসছে। তিনি আরও বলেন, একাধারে অবাধ এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন না হলে শেখ হাসিনার সরকার পতন সম্ভব নয়, কারণ তা ছাত্রলীগ নেতৃত্বাধীন অভ্যুত্থানের মাধ্যমে পরিবর্তন আসবে না। সাক্ষাৎকারে তিনি দৃঢ় বলে জনান, আমরা আত্মবিশ্বাসী যে, আমরা জয়ী হব। আমাদের ধারণা, আমরা এককভাবে সরকার গঠনের জন্য উপযুক্ত অবস্থানে আছি। তিনি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বৈদেশিক নীতি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, ভারতসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুদ্ধার ও উন্নয়নের জন্য তিনি কাজ করবেন। এ ছাড়াও তিনি বলেন, বিএনপি নতুন সরকারে দায়িত্ব নিলে কোন প্রতিহিংসার সুযোগ প্রদান করা হবে না। জনমত জরিপে বিএনপি এগিয়ে থাকায়, ফেব্রুয়ারি মাসের নির্বাচনের পর তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারে নেতৃত্ব দিচ্ছেন অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস, যিনি শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ও সমালোচনাও করেছেন। তিনি ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেন, বিএনপি অন্যদের নিয়ে গঠন করবে সরকার, যাতে তরুণ নেতারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি আরও যোগ করেন, দেশের অর্থনীতি বৈচিত্র্যময় করতে আমাজন, আলিবাবা এবং ই-কমার্সের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সরবরাহ কেন্দ্র তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে। ৫৯ বছর বয়সী তারেক রহমান ২০০৮ সাল থেকে নির্বাসনে রয়েছেন, তাঁর বিরুদ্ধে বহু মামলার ঘটনা ঘটেছে, যা তিনি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি অঙ্গীকার করেন, নতুন বিএনপি সরকার প্রতিহিংসার রাজনীতির অবসান ঘটাবে। তবে আওয়ামী লীগের জনসমর্থনের বিষয়ে প্রশ্ন এড়িয়ে গেছেন তিনি। সাক্ষাৎকারে বলেন, যদি তাদের অপরাধ প্রমাণিত হয়, তবে আওয়ামী লীগ কীভাবে নির্বাচনেও অংশগ্রহণ করবে? প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনকারালে দুর্নীতি ও বিরোধীদলের ওপর দমন-পীড়নের নানা বিষয় উঠে এসেছে, যার মধ্যে রয়েছে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও গুম। তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে তিনি অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের অর্থ উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রাখবেন, কারণ তাদের দাবি যারা সরকারের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি, তারা অর্থ চুরি করে বিদেশে পাচার করে চলেছেন।