নতুন সরকার এলডিসি উত্তরণের পেছানোর উদ্যোগ নেবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

নতুন বাণিজ্য, শিল্প ও বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের সময়সীমা পিছিয়ে দেওয়ার জন্য নতুন সরকার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। তিনি জানান, এই গ্র্যাজুয়েশন ডেফার করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং ইতোমধ্যে সরকার এই ব্যাপারে কাজ শুরু করে দিয়েছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে প্রথমদিনের অফিসের সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার এলডিসি উত্তরণের মেয়াদ পেছানোর বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে এবং এ সংক্রান্ত সংশ্লিষ্ট দফতরগুলো সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় করে দ্রুত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষাপটে তিনি জানান, সরকার এ উদ্যোগে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয় এবং প্রথম সপ্তাহেই প্রয়োজনীয় চিঠি পাঠানোর পরিকল্পনা চলছে।

রপ্তানি পরিস্থিতির নতুন চ্যালেঞ্জের বিষয়ে তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের রপ্তানি কাঠামো এখনো খুব সংকীর্ণ। দেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৮৫ শতাংশই এক ধরনের পণ্যে নির্ভরশীল। এই একঘেয়ে পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে হলে বিভিন্ন পণ্যে বৈচিত্র্য আনতে হবে, নতুন বাজার খুঁজে বের করতে হবে এবং রপ্তানি বিস্তারিত সম্প্রসারণে জোর দিতে হবে। পাশাপাশি, বেসরকারি খাতের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাসও দেন তিনি।

বিশ্ব বাণিজ্য পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফ নীতিতে সাম্প্রতিক পরিবর্তনের কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতি অস্থিরতায় পড়েছে। এর ফলে বাংলাদেশ সীমিত সুযোগের মধ্যেই টিকে থাকার চেষ্টা করছেন। দেশের মার্জিন কম, তাই ভুলের জায়গা নেই—এমন পরিস্থিতিতে গত কয়েক মাসের মন্থর গতি দ্রুততার সঙ্গে ফিরিয়ে আনতে সরকার কাজ শুরু করবে।

রমজান মাসের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে বললেন, সবই স্বাভাবিক থাকলে বাজার স্থিতিশীল থাকবে। প্রয়োজনীয় পণ্য পর্যাপ্ত মজুদ আছে, পাইপলাইনে সরবরাহও অপর্যাপ্ত নয়। ফলে বাজারে অপ্রয়োজনীয় আতঙ্কের কোনও কারণ দেখছেন না তিনি।

রমজান এলেই বাজারে সিন্ডিকেটের কথা ওঠে—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, তিনি শুধু কথা বলতে চান না, কাজের মাধ্যমে ফল দেখিয়ে পরবর্তীতে সাফল্য প্রকাশ করবেন। বলেন, “আমি সাউন্ড বাইট দেব না, ইনশাআল্লাহ কাজ করে দেখাব।”

শুরুতেই কিছু পণ্যের দাম বাড়ার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি সাধারণত এককালীন চাহিদা বৃদ্ধির ফল। পুরো মাসের বাজার একসঙ্গে করায় দাম চোখে পড়ে, কিন্তু এ প্রভাব বেশিদিন স্থায়ী হয় না।

বৈদেশিক ও দেশীয় বিনিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনিশ্চয়তার মধ্যে বিনিয়োগ আসে না। স্থিতিশীল পরিবেশে বিনিয়োগকারীরা তাদের পুঁজি ও শ্রমের বিনিময়ে প্রত্যাশিত রিটার্ন পাবেন, এই নিশ্চয়তা দরকার। তিনি আরও বলেন, দেশে তরুণ শ্রমশক্তি আছে, প্রতি বছর লাখ লাখ নতুন মানুষ কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করছে। দীর্ঘসময় বিনিয়োগের স্থবিরতা দেশের জন্য বড় চাপ সৃষ্টি করছে, যা দ্রুত কাটিয়ে উঠতে না পারলে কর্মসংস্থান ও অর্থনীতিতে বড় ঝুঁকি থাকতে পারে।

নতুন সরকারের উদ্বোধনের সঙ্গে রমজান শুরু হওয়া এক চ্যালেঞ্জ—এমন প্রশ্নে বাণিজ্যমন্ত্রী বললেন, রমজান সামাল দেওয়া এখন প্রধান পরীক্ষার বিষয়। মানুষের প্রত্যাশা পূরণে সরকারকে সফল হতে হবে, আর এ জন্য সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, এটি ব্যক্তিগত বিষয় নয়, দেশের স্বার্থের বিষয়। সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করলে দেশ অগ্রসর হতে পারে। মৌলিক উদ্দেশ্য হলো দেশের অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা, এবং এ জন্য সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।