দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্টের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে দেশের আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। এই সিদ্ধান্তের ভিত্তি হল তার বিরুদ্ধে ২০২৪ সালে সামরিক আইন জারির ব্যর্থ প্রচেষ্টার মাধ্যমে রাষ্ট্রদ্রোহের নেতৃত্ব দেয়ার অভিযোগ। এই মামলায় একজন গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে তার সরকারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী কিম ইয়ং-হিউনকেও ৩০ বছরের কারাদণ্ডের কথা ঘোষণা করা হয়।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের তিন বিচারকের প্যানেল এই রায় ঘোষণা করেন। শুনানিতে উঠে আসে যে, সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওল তৎকালীন বিরোধী দলের নেতা ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ংকে আটকানোর জন্য সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

প্রসিকিউটররা এই মামলায় সাবেক প্রেসিডেন্টের জন্য মৃত্যুদণ্ডের দাবি করেছিলেন, তবে আদালত তাকে ৬৫ বছর বয়সের এই ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করে।

তবে এটি একমাত্র নয়। একই মামলায় দেশটির সাবেক গোয়েন্দা প্রধান রোহ সাং-উনকে ১৮ বছর, সাবেক পুলিশ প্রধান চো জি-হোকে ১২ বছর, সিউল মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক প্রধান কিম বং-সিককে ১০ বছর এবং ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি পুলিশের সাবেক প্রধান মোক হিউন-তায়েককে তিন বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

দণ্ডপ্রাপ্ত সবাই এক সপ্তাহের মধ্যে আপিল করার সুযোগ পাবে, বলেও জানানো হয়।

এর আগে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লি সাং-মিনকে তার দায়িত্বের সময় ২০২৪ সালে সামরিক আইন জারির ব্যর্থ প্রচেষ্টায় যোগ দেওয়ার জন্য সাত বছরের কারাদণ্ড প্রদান করে আদালত। ৬১ বছর বয়সী এই ব্যক্তিকে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ সরকারবিরোধী গণমাধ্যমগুলোকে বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ বন্ধের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।

তাছাড়া, জানুয়ারিতে দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী হান ডাক-সুকে ২৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়, যিনি সামরিক আইন ঘোষণায় ভূমিকা রাখার জন্য দায়ী ছিলেন। তিনি ইউনের মন্ত্রিসভার দ্বিতীয় সদস্য।

আর এই পুরো ঘটনাবলি শুরু হয় ২০২৪ সালের ৩ ডিসেম্বর যখন প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওল সামরিক আইন জারি করেন। তবে ব্যাপক প্রতিবাদের মুখে মাত্র ছয় ঘণ্টার মধ্যেই তিনি তা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন। এর ফলে ১৪ ডিসেম্বর তাকে পার্লামেন্টে অভিশংসন করে বরখাস্ত করা হয়, এবং পরে ১৫ জানুয়ারি তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সবশেষে, এই ঘটনাক্রমে উল্লেখযোগ্য ভাবে, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আইনের শাসন পরিস্থিতি আবারো আলোচনায় এসেছে।