Blog

  • গাজায় মৃত্যুফাঁদ ও ধ্বংসস্তূপের নিচে হাজার হাজার অবিস্ফোরিত বোমা

    গাজায় মৃত্যুফাঁদ ও ধ্বংসস্তূপের নিচে হাজার হাজার অবিস্ফোরিত বোমা

    ফিলিস্তিনের গাজা শহর ইসরায়েলি অবরোধের কারণে পুনর্গঠনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজ বন্ধ অবস্থায় রয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে রয়েছে হাজারো প্রাণ, যেখানে আরও এক বিরাট চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়েছে অসংখ্য অবিস্ফোরিত বোমা। এই বোমাগুলোর পরিমাণ হাজার হাজার টন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    মানবিক সহায়তা ও ভারী যন্ত্রপাতি প্রবেশ না করার কারণে গাজার জীবনযাত্রা বিপন্ন হয়ে পড়েছে। সোমবার (২৭ অক্টোবর) আল জাজিরার খবরে জানানো হয়, এই অবরোধের কারণে প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছাতে ইতোমধ্যে বড় বাধা সৃষ্টি হয়েছে।

    গাজার মেয়র ইয়াহিয়া আল-সররাজ সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ভারী যন্ত্রপাতি ঢুকতে না পারায় ধ্বংসস্তূপ সরানো ও অবকাঠামো পুনর্গঠনের কাজ প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে উল্লেখ করেছেন, গাজা জুড়ে অবিস্ফোরিত ইসরায়েলি বোমার ঝুঁকি খুবই গুরুতর। এসব বোমা এখন মানুষের জীবনকে মারাত্মক হুমকির মধ্যে রেখে চলেছে।

    তিনি আরও জানান, পানি সরবরাহের জন্য নতুন পাইপলাইন ও কূপ খননের জন্য কমপক্ষে ২৫০টি ভারী যন্ত্রপাতি এবং এক হাজার টনের মতো সিমেন্টের প্রয়োজন। তবে, বর্তমানে সীমান্তের অশান্ত পরিস্থিতির কারণে মাত্র ছয়টি ট্রাক গাজায় ঢুকতে সক্ষম হয়েছে। ফলে প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম আনা সম্ভব হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে এখনও প্রায় ৯ হাজার ফিলিস্তিনি ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা থাকায় জীবন বিপন্ন। বেশিরভাগ নতুন যন্ত্রপাতি ইসরায়েলি বন্দিদের মৃতদেহ উদ্ধারে কাজে লাগানো হচ্ছে, ফিলিস্তিনিদের জন্য নয়।

    খুদারি বলেন, যতক্ষণ না সব ইসরায়েলি বন্দির মরদেহ ফেরত আসে, ততক্ষণ কোনো যুদ্ধবিরতি বা সমাধান সম্ভব নয়। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা গেছে, রাফাহ শহরের উদ্ধার কার্যক্রমে হাসামের সামরিক শাখা কাসাম ব্রিগেডসহ রেড ক্রসের গাড়িগুলো আনা হয়েছে।

    ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এক ভাষণে জানান, গাজায় কোনও বিদেশি বাহিনী কাজ করতে পারবে কি-না, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার শুধুই ইসরায়েলির। তিনি বলেন, আমরা আমাদের নিরাপত্তা নিজস্ব আঙ্গিকে রক্ষা করি। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, গাজায় কোন বাহিনী গ্রহণযোগ্য নয়, এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত আমরা নেবো। তিনি এমনকি যুক্তরাষ্ট্রও এই অবস্থানকে মেনে নিয়েছে বলে দাবি করেন।

    অন্যদিকে, গাজার পুনর্গঠন এবং পুনর্বাসনের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে মাঠে রয়েছে বিস্ফোরিত না হওয়া বিশাল পরিমাণ বোমা। হালো ট্রাস্টের মধ্যপ্রাচ্য পরিচালক নিকোলাস টরবেট জানিয়েছেন, গাজার প্রতিটি অংশে বহু ধরনের বোমা পড়ে রয়েছে। এসব বোমার মধ্যে অনেকগুলি এমন ছিল, যা আঘাতের পরই বিস্ফোরিত হওয়ার কথা ছিল কিন্তু হয়নি। এই বোমাগুলোর স্বাভাবিক অপসারণে সময় লাগছে, যা পুনর্গঠনের কাজকে ব্যাপকভাবে ধীর করে দিচ্ছে।

    টরবেট পরামর্শ দিয়েছেন, ছোট পরিমাণ বিস্ফোরক ব্যবহার করে সহজে বোমা নিষ্ক্রয় করা যেতে পারে। তার মতে, বিশেষ জটিল সরঞ্জামের প্রয়োজন পড়ে না; হালকা যান বা হাতে নিয়েও এই কাজ সম্ভব।

    ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল জানিয়েছেন, ইসরায়েল গাজায় অন্তত দুই লাখ টন বোমা ফেলেছে, যার মাঝে প্রায় ৭০ হাজার টনের মতো বোমা এখনও বিস্ফোরিত হয়নি। এই সব বোমা অপসারণ না হওয়া গেলে পুনর্গঠন ও নাগরিক জীবন স্বাভাবিক করা অনেক কঠিন হবে।

  • ভারতে ফেরত পাঠানো হলো হাতকড়া পড়ে ৫০ তরুণকে

    ভারতে ফেরত পাঠানো হলো হাতকড়া পড়ে ৫০ তরুণকে

    উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখায় ভারতের তরুণরা যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন। বিনিয়োগ করেছিলেন জমি বিক্রি, বাড়ি বন্ধক রাখা এবং এজেন্টদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ দিয়ে অবৈধ পথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য। এই স্বপ্নের ভুরভুরি এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। অবৈধভাবে বসবাসের জন্য ধরা পড়ে তাদের হাতকড়া ও পায়ে বেড়ি পরানো হয় এবং মার্কিন প্রশাসনের হাতে তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হয়।

    রোববার (২৬ অক্টোবর) ভোরে হরিয়ানা রাজ্যের ৫০ জন তরুণ ভারতে ফেরত এসেছেন, যাদের বয়স ২৫ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। রাজ্য প্রশাসনের তথ্যমতে, তাদের মধ্যে ১৬ জন কারনাল, ১৪ জন কাইথাল, ৫ জন কুরুক্ষেত্র এবং ১ জন পানিপথ জেলার বাসিন্দা। তারা সবাই ‘ডানকি রুট’ অনুসরণ করে দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকার দেশগুলো পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন। কেউ কেউ সেখানে কিছু বছর অবস্থান করেছেন, আবার কেউ মাত্র কিছু মাস। অন্যদের মধ্যে কেউ কেউ ফেরত পাঠানোর আগে কারাভোগও করেছেন।

    কারনালের ২৬ বছর বয়সী অঙ্কুর সিং জানিয়েছেন, ২০২২ সালের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাতে তার খরচ হয় প্রায় ২৯ লাখ রুপি। চার মাসের দীর্ঘ যাত্রায় তিনি দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন দেশে যান। তিনি বলছিলেন, ‘সব কিছু ঠিকঠাকই চলছিল, কিন্তু এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে একটি মদের দোকানে কাজ করার সময় ধরা পড়ি’।

    তারপর তাকে আটক করে কেন্দ্রীয় বন্দরে রাখা হয়, এবং গত ২৪ অক্টোবর তাকে ভারতে ফেরত পাঠানো হয়। এই ফ্লাইটে হরিয়ানা ছাড়াও পাঞ্জাব, হায়দরাবাদ, গুজরাট ও সমগোত্রের বিভিন্ন স্থান থেকে তরুণেরা এসেছিলেন। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে এপর্যন্ত প্রায় দুই হাজার পাঁচশ’ ভারতীয় নাগরিককে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আটটি সামরিক, চার্টার্ড এবং বাণিজ্যিক ফ্লাইটে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও গুজরাটের বাসিন্দা।

    ফেরত আসাদের মধ্যে রয়েছেন হরিয়ানার ঘোড়াউন্ডা ব্লকের হুসন (২১)। তিন বোনের একমাত্র ভাই হুসনের পরিবারের কাছ থেকে ৪৫ লাখ রুপি এজেন্টদের দিতে হয় মার্কিন ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার জন্য। তার কাকা সুরেন্দর সিং জানিয়েছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পরে হুসন ধরা পড়ে। পরিবার জমি বিক্রি করেছিল, কিন্তু সবই বৃথা গেল’।

    অন্যদিকে, কারনাল জেলার কালসী গ্রামের শ্রমজীবী পরিবার থেকে আসা হরিশ এসসি ২০২৩ সালে কর্মী ভিসায় কানাডা গিয়ে পরে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। সেখানে কাজ করার সময় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তাকেও আটক করা হয়।

    কাইথাল জেলার তারাগড় গ্রামের নরেশ কুমার এক বছরেরও বেশি সময় আটক থাকার পর ভারতে ফিরে এসেছেন। তিনি বলছেন, ‘ফ্লাইটে ওঠার সময় আমাদের হাতে হাতকড়া পরানো হয়, তবে কেউ খারাপ ব্যবহার করেনি। আমি সেখানে ১৪ মাস জেলে ছিলাম’।

    তিনি আরও জানিয়েছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাতে তাকে ৫৭ লাখ ৫০ হাজার রুপি দিতে হয় এজেন্টদের, যারা কম খরচে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এই টাকা জোগাতেই পরিবার জমি বিক্রি ও ধার করতে হয়েছে।

    কাইথালের পুলিশ সুপার উপাসনা জানান, জেলার ১৪ জন তরুণকে রোববার বিকেলে দিল্লি থেকে উন্নত করা হয়। তাদের মধ্যে একজন আবগারি মামলার পলাতক আসামি ছিলেন। জিন্দ জেলার এসপি কুলদীপ সিং জানিয়েছেন, জেলাটির আরও তিনজন তরুণ ফেরত এসেছেন এবং তাদেরকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

  • ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের উত্তরসূরীর নাম ঘোষণা

    ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের উত্তরসূরীর নাম ঘোষণা

    ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস তার উত্তরসূরীর নাম ঘোষণা করেছেন। গতকাল রোববার এক লিখিত ঘোষণা তিনি জানিয়েছেন, যদি কখনো তিনি দায়িত্ব পালন করার মতো অবস্থা থেকে অক্ষম হয়ে পড়েন, তবে অস্থায়ীভাবে তার স্থলাভিষিক্ত হবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট হুসেইন আল শেখ।

    এই ঘোষণা ফিলিস্তিনের সরকারি বার্তা সংস্থা ওয়াফা থেকে প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে আব্বাস বলেছেন, “যদি কোনো কারণে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট ও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (পিএ) প্রধানের পদ শূন্য হয়ে যায়, তখন ভাইস প্রেসিডেন্ট হুসেইন আল শেখ অস্থায়ীভাবে এই পদে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। তাঁর দায়িত্ব হবে ফিলিস্তিনের নির্বাচনী আইন অনুযায়ী নির্বাচনের আয়োজন করা এবং নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর।

    ফিলিস্তিনের সংবিধান অনুসারে, প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা শেষ হওয়ার পরে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন লাখ করতে হবে। যদি কোনো অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি এর জন্য বাধা সৃষ্টি করে, তবে বিদায়ী প্রেসিডেন্ট আরও এক মেয়াদ এই পদে থাকতে পারবেন।

    সংবিধানের ডিক্রি বলে, কাকে পরিস্থিতি শূন্য হয়ে গেলে পরবর্তী নির্বাচনের আগ পর্যন্ত অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট হিসেবে পালন করবেন ফিলিস্তিনের পার্লামেন্টের স্পিকার বা প্যালেস্টাইনিয়ান ন্যাশনাল কাউন্সিলের চেয়ারম্যান।

    মাহমুদ আব্বাসের এই সাম্প্রতিক ঘোষণা সংবিধানের ডিক্রি নম্বর এক-এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক ছিল বলে জানানো হয়। পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, এই ডিক্রি বাতিল করা হয়েছে। আব্বাস উল্লেখ করেছেন, “ফিলিস্তিনের রাজনৈতিক ব্যবস্থা, মাতৃভূমির নিরাপত্তা ও সংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর রক্ষা নিশ্চিত করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”

    অষ্টমে আব্বাসের পক্ষে গত ২০ বছর ধরে তিনি ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট। ২০০৪ সালের নভেম্বরে পরলোকগমন করেন দেশের প্রথম প্রেসিডেন্ট ও নেতা ইয়াসের আরাফাত। তার মৃত্যুর পর ২০০৫ সালের জানুয়ারিতে আব্বাস প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

    সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

  • ব্রিটেনে ভারতীয় বংশোদ্ভূত যুবতীকে ধর্ষণ

    ব্রিটেনে ভারতীয় বংশোদ্ভূত যুবতীকে ধর্ষণ

    উত্তর ইংল্যান্ডের ওয়ালসাল এলাকায় সম্প্রতি একজন ২০ বছর বয়সী ভারতীয় বংশোদ্ভূত যুবতীকে তাৎক্ষণিকভাবে ধর্ষণ করা হয়েছে। ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস পুলিশ সন্দেহভাজন হিসেবে একজন শ্বেতাঙ্গ পুরুষকে চিহ্নিত করেছে এবং এর দ্রুত খোঁজে জনগণের সহায়তা চেয়েছে। এ খবর ডেইলি মেইল ও পিটিআই বার্তা সংস্থা প্রকাশ করেছে।

    পুলিশ জানায়, শনিবার সন্ধ্যার সময় পার্ক হল এলাকায় রাস্তার পাশে অচেতন অবস্থায় ওই যুবতীকে পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। পুলিশ তদন্তের অংশ হিসেবে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে এবং এটিকে একটি ‘বর্ণগত প্রতিবন্ধকতার কারণে আক্রমণ’ হিসেবে বিবেচনা করছে।

    ডিটেকটিভ সুপারিনটেনডেন্ট রোনান টাইরার বলেন, এটি এক চরম নৃশংস আক্রমণ, যেখানে যুবতীর ওপর বর্বরতা চালানো হয়েছে। তদন্ত চলমান রয়েছে এবং অপরাধীকে দ্রুত গ্রেফতার করার জন্য সম্ভাব্য সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি, সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে সিসিটিভি ফুটেজ, ড্যাশক্যাম ভিডিও পর্যালোচনা এবং জনসাধারণের তথ্য সংগ্রহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

    সন্দেহভাজন ব্যক্তির বিষয়ে জানা গেছে, তিনি একজন শ্বেতাঙ্গ যুবক, প্রায় ৩০ বছর বয়সী। তার মাথায় ছোট চুল রয়েছে এবং কালো পোশাক পরা অবস্থায় দেখা গেছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, ভিকটিম একজন পাঞ্জাবি যুবতী, এবং এটি শেষ কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয় বর্ণগত ভিত্তিতে আক্রমণ। এর আগে ওল্ডবারি এলাকায় একজন শিখ নারী এ ধরনের হামলার শিকার হন। তবে পুলিশ এখনও নিশ্চিত নয়, এই ঘটনার সাথে পূর্ববর্তী আক্রমণের যোগসূত্র রয়েছে কিনা।

    তদন্তে যুক্ত আছে পাবলিক প্রটেকশন ইউনিট, পুলিশ ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা। ওয়ালসাল পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ফিল ডলবি বলেন, এই এলাকা বৈচিত্র্যময়। তারা জানিয়েছেন, এই দুর্ব্যবহার আমাদের সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে এবং তারা স্থানীয় জনগণের উদ্বেগ বুঝতে চেষ্টা করছে। পুলিশ আগামী দিনগুলোতে অধিক উপস্থিতি ও সতর্কতা জোরদার করবে যেনো এই ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

  • পর্তুগালে বিতর্কিত নির্বাচনি পোস্টার ভাইরাল: ‘এটা বাংলাদেশ নয়’

    পর্তুগালে বিতর্কিত নির্বাচনি পোস্টার ভাইরাল: ‘এটা বাংলাদেশ নয়’

    পর্তুগালের কট্টর ডানপন্থি নেতা আন্দ্রে ভেনচুরা এবং তার দল শেগার নতুন নির্বাচনি প্রচার এখন সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। মন্তিজো শহরের একটি বাসস্টপে ঝুলানো একটি বিলবোর্ডে বড় ছোট অক্ষরে লেখা ছিল, ‘Isto não é Bangladesh’ অর্থাৎ ‘এটি বাংলাদেশ নয়’। এই বাক্যটি স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। আরও একটি পোস্টারে লেখা ছিল, ‘জিপসিদের আইন মানতে হবে’, যা জেনোফোবিয়া এবং বর্ণবাদী রঙে রঙিন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এই পোস্টার গুলোকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিতর্ক ছড়িয়েছে। ভেনচুরা নিজে এই পোস্টারগুলোর ছবি তার ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করে লিখেছেন, ‘ওরা এরই মধ্যে রাস্তায় নেমে পড়েছে। ১৮ জানুয়ারি আমরা এই দেশের ভাবমূর্তি পরিবর্তন করতে চলেছি। কোনো ভয় নেই!’। এই পোস্টার গুলোর বিতর্কের মাঝে মনোযোগ আকর্ষণ করছে তার রাজনৈতিক উদ্দেশ্য। তবে এই বিতর্কের ব্যাপারে মন্তিজো শহরের মেয়র কার্লোস আলবিনো বলেছেন, ‘যখন বলা হয় আইন মানতে হবে, তখন সবাইকেই মানতেই হবে। এটি কোনো বিশেষ সম্প্রদায় বা দলের জন্য নয়। অভিবাসী হোক বা কোনও রাজনৈতিক দলের সদস্য—সবাই আইন মানতে বাধ্য। আন্ড্রে ভেনচুরার মতো ব্যক্তিরাও আইন মানার বাইরে নয়। জেনোফোবিয়া ও বর্ণবাদ অপরাধ, আর তা আমরা মেনে নিচ্ছি না।’ মেয়র আরও উল্লেখ করেছেন, ‘এটি আইন লঙ্ঘনের শামিল, তাই নগর পরিষদ সরাসরি অভিযোগ দায়ের করবে না। তবে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মাধ্যমে তদন্ত করা হবে।’ অন্যদিকে, বাংলাদেশি সাংবাদিক ফারিদ পাটোয়ারি বলছেন, ‘অনলাইনে এই ধরনের বার্তা দেখা যায়, কিন্তু রাস্তায় পোস্টার থাকলে তার প্রভাব অনেক বেশি। এটি সহিংসতার আশঙ্কাও বাড়ায়। পর্তুগাল সাধারণত শান্তিপূর্ণ ও আতিথেয় দেশ হিসেবে পরিচিত, তবে এই ধরনের বার্তা প্রকাশ পেলে আমাদের উচিত দ্রুত প্রতিরোধ গড়ে তোলা।’ বাংলাদেশের দূতাবাস সোশ্যাল মিডিয়ায় এক বিবৃতিতে প্রবাসীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে এবং বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। উল্লেখ্য, পর্তুগালে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট মার্সেলো রেবেলো দে সুসা, লুইস মার্কেস মেন্ডেস, আন্তোনিও হোসে সেগুরো, আন্দ্রে ভেনচুরা, হেনরিক গোভেইয়া, জোয়াও কোট্রিম দে ফিগেইরেডো, আন্তোনিও ফিলিপ, ক্যাটারিনা মার্টিনস ও হোর্ঝে পিন্টোসহ আরও বেশ কয়েকজন।

  • নড়াইলে প্রতিপক্ষের হামলায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা খুন

    নড়াইলে প্রতিপক্ষের হামলায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা খুন

    নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় শুক্রবার সকালে প্রতিপক্ষের হামলায় ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মাসুদ শেখ (৪৬) হত্যার ঘটনা ঘটেছে। আজ (২৮ অক্টোবর, মঙ্গলবার) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার রাতে উপজেলার শুক্তগ্রামে হাডুডু খেলাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে এক বিরোধ সৃষ্টি হয়। এই ঝামেলা কিছুটা মিটে যাওয়ার পর, রাত সাড়ে ৯টার দিকে খেলার মাঠ থেকে বাড়ি ফেরার পথে প্রতিপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র এবং হাতুড়ি নিয়ে হামলা চালায়। এতে গুরুতর আহত হন মাসুদ শেখ। তার বন্ধু ও স্বজনরা তাকে প্রথমে কালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। কিন্তু অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তার মৃত্যু হয়। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে মর্গে রাখা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তের জন্য পুলিশ কাজ করছে।}

  • খুলনায় দুই বাড়িতে সন্ত্রাসীদের গুলিবর্ষণ, এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি

    খুলনায় দুই বাড়িতে সন্ত্রাসীদের গুলিবর্ষণ, এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি

    খুলনার দৌলতপুর মহেশ্বরপাশা এলাকায় ফিল্মি দৃশ্যের মত দুর্বৃত্তদের গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। আজ মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) ভোরের দিকে প্রথমে মহেশ্বরপাশা খুঠিরঘাট এলাকায় রড-সিমেন্ট ব্যবসায়ী মেহেদী হাসানের বাড়িতে গুলি চালানো হয়। এর কিছুক্ষণ পর কুয়েটের একজন কর্মচারী মহসিন শেখ লিটুর বাড়িতে একইভাবে গুলির ঘটনাটি ঘটে। এই ঘটনার কারণে এলাকা এখন ব্যাপক আতঙ্কে ভুগছে। দুইটি বাড়ির মধ্যে দূরত্ব প্রায় দুই কিলোমিটার।

    সিসি টিভির ফুটেজে দেখা গেছে, কুয়েটের কর্মচারী মহসিন শেখ লিটুর বাড়িতে চারটি মোটরসাইকেলে মোট কয়েকজন যুবক হেলমেট পড়ে উপস্থিত হয়। তারা মূল entrance এর কাছাকাছি দাঁড়িয়ে থাকেন। পরে মোটরসাইকেল থেকে তারা নেমে, মহসিনের রুমের দিকে এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। গুলি চালানোর পর ছেলেরা দ্রুত স্থান ত্যাগ করে।

    স্থানীয়রা জানায়, গুলির ফলে মহসিনের রুমের জানালা ভেঙে যায়। ঘটনার সময় মহসিন নিজে ফজরের নামাজ পড়তে মসজিদে ছিলেন, আর তার স্ত্রী কামরুন নাহার ও দুই সন্তান ঘুমাচ্ছিলেন পাশের রুমে। মহসিন শেখ কুয়েটের ডাটা প্রসেসর হিসেবে কর্মরত।

    দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিক ইসলাম জানান, দুই বাড়িতে গুলির ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাস্থল থেকে ৬ রাউন্ড গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ এখন তদন্তে নেমে দেখছে, কারা এই গুলির ঘটনায় জড়িত এবং কেন এই হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা ঘটানো হলো।

  • গোপালগঞ্জে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

    গোপালগঞ্জে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

    গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার একটি বাগান থেকে রঞ্জু সিকদার নামে ৩২ বছর বয়সী এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) সকালে মুকসুদপুরের খান্দারপাড়া ইউনিয়নের গোপ্তরগাতী গ্রামে এই দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা দেখতে পান, বাড়ির পাশের একটি গাছে রঞ্জু সিকদারের মরদেহ ঝুলছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি সরিয়ে নিয়ে মর্গে পাঠিয়েছেন। ওসি মোস্তফা কামাল জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে এটি আত্মহত্যা। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরে। পারিবারিক বা মানসিক সমস্যার কারণেও এ ঘটতে পারে বলে ধারণা করছেন পুলিশ। স্বজনরা এই ঘটনার শোকে কেঁদে ফেলেছেন। ময়না তদন্তের রিপোর্ট দেখার পরে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এই ঘটনায় পরিবার ও স্থানীয়রা শোকপ্রকাশ করেছেন।

  • বেনাপোলে ধান রাখার গোলাঘর থেকে পিস্তল উদ্ধার, আটক ১

    বেনাপোলে ধান রাখার গোলাঘর থেকে পিস্তল উদ্ধার, আটক ১

    যশোরের শার্শা উপজেলার বেনাপোল সীমান্তে অভিযানে বিজিবি ধান রাখার গোলাঘর থেকে একটি দেশি পিস্তল উদ্ধার করেছে। এ সময় একজন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার ভোরের দিকে, যখন খুলনা ২১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের দৌলতপুর বিওপির একটি বিশেষ টহলদল এই অভিযান চালায়। বিজিবির সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সুবেদার ফখরুল ইসলাম এর নেতৃত্বে টহলদল সীমান্তের মূল পিলার ১৭/০৯ এস থেকে প্রায় ১০০০ গজ বাংলাদেশের ভিতরে, দৌলতপুর উত্তরপাড়া এলাকায় অভিযান চালায়। তদন্তের সময় স্থানীয় এক বাসিন্দার ধান রাখার গোলাঘর তল্লাশি করে সেখানে রাখা একটি দেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়। এ সময়, যশোর জেলার শার্শা উপজেলার বেনাপোল পোর্ট থানার দৌলতপুর উত্তরপাড়া গ্রামের সোলায়মান হোসেনের ছেলে আতাউর রহমান (মূলবয়স ৪০)কে ঘটনাস্থল থেকে আটক করে বিজিবি। ২১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল খুরশিদ আনোয়ার নিশ্চিত করে জানান, অস্ত্রটি আইনে মামলা দিয়ে আটক ব্যক্তিকে বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

  • নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি ঘিরে ফ্যাসিবাদী কর্মকাণ্ডের অভিযোগগুলো জোরালো

    নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি ঘিরে ফ্যাসিবাদী কর্মকাণ্ডের অভিযোগগুলো জোরালো

    খুলনা থেকে পরিচিত ছিল নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি একটি আওয়ামী লীগ সমর্থিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে। গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর, ঢাকায় গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ২২ আগস্ট বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি লিয়াকত শিকদারের সহযোগী সিরাজুল হক চৌধুরীকে বিএনপি-ট্যাগ দিয়ে ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। মূল লক্ষ্য ছিল অর্থ আত্মসাৎ, স্বজনপ্রীতি এবং বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা। প্রথমে মিজানুর রহমানকে ট্রাস্টি সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং পরে আরও দু’জন ট্রাস্টি যোগ দেন। 

    জানা যায়, ১৯ নভেম্বর শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে, সংশ্লিষ্ট অসাধুচক্রের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। তখন সিরাজুল হক চৌধুরী এক অফিস আদেশে তৌহিদুল ইসলাম আজাদ, পবিত্র কুমার সরকার ও সৈয়দ মোহাম্মদ ওবায়দুল্লাহকে সাময়িক বিরত থাকার নির্দেশ দেন এবং একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। যদিও এই কমিটি বিভিন্ন প্রভাবের মুখে পড়লেও শিক্ষকদের ও শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব থাকায় তদন্তের প্রতিবেদনটি বের হয়। তাতে দেখা যায়, অর্থ লেনদেনের নানা অনিয়ম ও আর্থিক কেলেঙ্কারির প্রমাণ। এই বিষয়টি এখনো ইউজিসি তদ্বিরাধীন রয়েছে।

    সূত্রগুলোর ভাষ্য, মূলত একটি চক্রের উদ্দেশ্য ছিল পলাতক ট্রাস্টি নেতাদের টাকা সরবরাহ ও আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধ কর্মকাণ্ডে অর্থ যোগান দেওয়া। এতে বিশেষ করে তালুকদার আব্দুল খালেক ও এস এম কামালসহ পলাতক বেশ কিছু আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে গোপন সংযোগ ছিল সিরাজুল হক চৌধুরী ও অন্যান্য অভিযুক্ত ট্রাস্টিদের।

    অভিযোগে আরও জানা যায়, ২০২৩ সালে মেয়র নির্বাচনের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল অর্ডার অনুযায়ী শিক্ষক-সহকর্মীদের অর্থ প্রদান করা হয়, যা তদন্ত রিপোর্টে নিশ্চিত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে দুদক এ বিষয়ে তদন্ত চালাচ্ছে। প্রতিষ্ঠার ১২ বছরে এখনো বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো সমাবর্তন হয়নি এবং স্থায়ী ক্যাম্পাসের কাজও শুরু হয়নি।

    শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে, বর্তমান ট্রাস্টি মিজানুর রহমান স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিলেও, সিরাজুল হক চৌধুরী এই প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করেন। তিনি অভিযুক্ত তিন ট্রাস্টির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেন। তবে এই তিনজনের বিরুদ্ধে নানা অপরাধের অভিযোগ রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনিয়ম, বিএনপির সমাবেশে হামলার মামলা এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ড। এর পাশাপাশি, এক চিঠিতে দেখা যায়, যেখানে সিরাজুল হক চৌধুরীকে চেয়ারম্যান নিযুক্ত করার সময় সদস্যদের স্বাক্ষর সংক্রান্ত গড়মিল রয়েছে।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে অনৈতিক সম্পর্কের ঘটনা প্রকাশ পায়, যেখানে শাহিদা খানম নামে একজন কর্মকর্তাকে রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর আগে অন্য এক রেজিস্ট্রারকে হঠাৎ করে অব্যাহতি দিয়ে দেওয়া হয়। তবে, এর ফলস্বরূপ, এক ভিডিও ফুটেজ ভাইরাল হলে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করেন এবং এই আন্দোলন দমন করতে নানা হুমকি দেওয়া হয়। সিরাজুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা হয়, তার গ্রেফতারের জন্য আদালত থেকে পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

    বর্তমানে মিজানুর রহমান বলেন, তিনি স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি আরো জানিয়েছেন, যেকোনো বাধা উপেক্ষা করে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য কাজ চালিয়ে যাবেন। দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয় স্বৈরাচারের আধিপত্যে থাকায় নানা অনিয়মের অবসান হতে যাচ্ছে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমি কাউকেই এক টাকার অবৈধ অর্থ দিতে দেব না।

    আরও জানা যায়, অভিযুক্ত ট্রাস্টিরা ঢাকা গোপনে বিভিন্ন বৈঠক করে বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সবাই আশা করছে, বিশ্ববিদ্যালয়টি শীঘ্রই স্বৈরাচার মুক্ত হয়ে স্বাভাবিক ও সুষ্ঠু শিক্ষা কার্যক্রম চালু করবে।