Blog

  • ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার বদলে ‘জাতীয় অনৈক্য’ সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে কমিশন

    ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার বদলে ‘জাতীয় অনৈক্য’ সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে কমিশন

    বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার নামে এখন পর্যন্ত কোনো আলোচনা হয়নি যে সংবিধান সংস্কার পরিষদ তাদের সুপারিশে কোন কিছু বলেছে।’ তিনি আরও বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ ২৭০ দিবসে সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করতে না পারলে সেই সংস্কার স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার প্রস্তাবটি হাস্যকর বলে মনে করেন। মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) সচিবালয়ে আইন উপদেষ্টার সাথে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সামনে এ কথা বলেন তিনি। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আসন্ন নির্বাচন হবে সংসদের মাধ্যমে। সংসদ সদস্যরা নির্বাচন করবেন। বর্তমানে যদি সংবিধান সংস্কার পরিষদের কাজ পরিচালনা করতে হয়, তবে তা সংসদে আলোচনা হওয়ার কথা। এই বিষয়টি কখনো কমিশনের মধ্যে আলোচনা হয়নি।’ তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচন হবে সংসদের জন্য। সংবিধান সংস্কারের জন্য নয়। নির্বাচনের জন্য সংবিধান অনুযায়ী কমিশনের মূল দায়িত্ব হলো সংসদ ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পরিচালনা। অটোপাসের মতো কোনো বিষয় সংবিধানে থাকতে পারে না।’ বিএনপি নেতা আরও remarked করেন, ‘ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশে আমি দেখেছি, তারা ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে দেশের সম্পূর্ণ একতার অভাবজনিত পরিস্থিতি সৃষ্টি করছেন।’ তিনি বলেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদে এই আদেশের সাথে সংযুক্ত করা হয়েছে বহু অপ্রচলিত ও অবৈধ বিষয়, যা কখনো স্পষ্টভাবে আলোচনা হয়নি। সংবিধান সংস্কার পরিষদের নামও একটি প্রস্তাব হিসেবে যোগ করা হয়েছে, যা নিয়ে আগে কোনো আলোচনা হয়নি।’ সালাহউদ্দিন জানান, ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশে ভোটের জন্য অনুপাতিক হারে উচ্চকক্ষ গঠন করার প্রস্তাবও করা হয়েছে, যদিও সম্প্রতি এই বিষয়টি কমিশনের সভায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি। তিনি আরও বলেন, ‘এই কমিশন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে কিছু সুপারিশ দিয়েছে যাতে দেশের সামগ্রিক জাতীয় ঐক্য বাধাগ্রস্ত হয়।’ শেষ পর্যায়ে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘আমরা আশা করছি, উপদেষ্টা পরিষদ ও সরকার সংবিধানভিত্তিক আলোচনা করবেন এবং একটি সংবিধান সম্মত পদ্ধতি নেবেন।’ আরবিপিও এবং জোটের প্রতীক নিয়ে বর্তমানে যা হচ্ছে, সেটার পক্ষপাতমূলক আচরণের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘যেকোনো রাজনৈতিক দল তাদের স্বাধীনভাবে নিজস্ব প্রতীকে বা জোটের প্রতীকে নির্বাচন করতে পারবে। হঠাৎ করেই একটি অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, যেখানে জোটবদ্ধ হলেও নির্বাচন করতে হবে তাদের নিজস্ব প্রতীকে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এটি অপ্রত্যাশিত, এবং আমরা আশা করি বর্তমান সরকার নির্বিকারভাবে দায়িত্ব পালন করবে।’ তিনি শেষমেশ জানান, আইন কমিশন এবং সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে বিএনপি হতাশা প্রকাশ করছে এবং স্বচ্ছ ও সংবিধান সমর্থনকারী প্রক্রিয়া গঠনের জন্য তারা আশাবাদী।

  • নভেম্বরে গণভোট চেয়ে জামায়াতসহ আট দল নতুন কর্মসূচি ঘোষণা

    নভেম্বরে গণভোট চেয়ে জামায়াতসহ আট দল নতুন কর্মসূচি ঘোষণা

    বাংলাদেশে নতুন রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামীসহ মোট আট দল। মোক্ষম দাবির মধ্যে রয়েছে নভেম্বরে গণভোট সম্পন্ন করা এবং তার জন্য একটি ধারাবাহিক five দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা। বুধবার (২৯ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এই আট দল যোগ দিয়ে তাদের লক্ষ্য ও দাবি প্রকাশ করে।

    পরবর্তী কর্মসূচির অংশ হিসেবে, আগামী ৩০ অক্টোবর নির্বাচনী সংস্থার কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হবে। এরপর, ওই দলের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে আলোচনা ও পরিকল্পনা নির্ধারণের জন্য ৩ নভেম্বর এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এই বৈঠকের শেষে বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়।

    সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ বলেন, গণভোট ছাড়া জাতীয় সংবিধান ও আইনের উপর ভিত্তি করে স্থিরতা আসবে না। তারা সবাই একমত পোষণ করেছেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে নভেম্বরের মধ্যেই গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত, যা জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বশর্ত।

    তাদের মতে, ইতোমধ্যে নির্বাচন পরিকল্পনার রোডম্যাপ তৈরি হয়েছে, যেখানে তারা অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে আসছেন। কালো টাকা, ভোটের কেন্দ্র দখল, পেশিশক্তি ও অনিয়ম প্রতিরোধসহ গণতন্ত্রের মূল বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে তারা জোর দাবি করেছেন। আইনী মাধ্যমে উন্নত মানের সংসদ ও দীর্ঘস্থায়ী সরকারের জন্য পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের পক্ষে তারা মত প্রকাশ করেছেন, যেখানে দেশের বহু রাজনৈতিক দল, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, কলামিস্ট, লেখক ও গবেষকসহ সাধারণ মানুষ একমত পোষণ করেছেন।

    সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, নির্বাচন কমিশন ভোটের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তবে কিছু পরিবর্তন আনতে সরকার ও সংস্থাদের প্রস্তুতি ও সিদ্ধান্তে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। তারা জুলাইয়ের জাতীয় সনদ কার্যকর, নভেম্বরের মধ্যে গণভোট ও ২০২৬ সালে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন করার জন্য দফায় দফায় দাবি জানিয়ে আসছেন।

    সমস্ত দল ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার জন্য, তাদের কর্মসূচি বাস্তবায়ন ও জনগণের দাবিকে সামনে রেখে সবাইকে একসঙ্গে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়।

    এছাড়া, নেতৃবৃন্দ একসাথে দাবি করেন:
    1. জুলাইয়ের জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি ও এই বছর নভেম্বরের মধ্যেই গণভোট সম্পন্ন করা।
    2. পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনে পিআর পদ্ধতি চালু করা যেন যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বে-প্রত্যাশিত নির্বাচনের মান সম্মত হয়।
    3. অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সমান সুযোগ ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা।
    4. ফ্যাসিস্ট সরকারের জুলুম, গণহত্যা ও দুর্নীতির বিচার দৃশ্যমান করা।
    5. স্বৈরাচারী রাষ্ট্রদুর্বৃত্তদের সহযোগী রাজনৈতিক দল ও সংগঠন, যেমন জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কর্মকা- নিষিদ্ধ করা।

    সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ ইউনুছ আহমাদ, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমেদ আবদুল কাদের, অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও প্রতিনিধিরা, যারা দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলে দেবার জন্য সম্মিলিতভাবে এই আন্দোলনে একত্রীকরণে গভীর অনুরোধ জানান।

  • গণভোটের তারিখ দেরিতে হলে জাতীয় নির্বাচন সংকটময় হয়ে উঠবে: পরওয়ার

    গণভোটের তারিখ দেরিতে হলে জাতীয় নির্বাচন সংকটময় হয়ে উঠবে: পরওয়ার

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার অবিলম্বে গণভোটের তারিখ ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, গণভোটের তারিখের বিষয়ে যত দেরি হবে, ততই দেশের জাতীয় নির্বাচন আরও সংকটের মধ্যে পড়বে। আজ বুধবার (২৯ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবে জামায়াতের সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনের অংশ হিসেবে আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা মন্তব্য করেন।

    গোলাম পরওয়ার আরো বলেন, ‘ঐক্যমত্য কমিশন সরকারকে যে রিপোর্ট দিয়েছে, তাতে স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি। বলা হয়েছে, হয় জাতীয় নির্বাচনের আগে বা তার দিন গণভোট হতে পারে। মানে তারা বিষয়টি ঝুলিয়ে রেখেছে। এই অবস্থায় ক্রিটিক্যাল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, যেন সব কিছু সরকারের কোর্টে চলে গেছে। এখন সরকারের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।’

    তিনি জানান, আন্দোলনরত দলের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে ঘোষণা দিয়েছেন— যদি আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে নভেম্বরের মধ্যে গণভোটের তারিখ জানিয়ে দেয়া হয়, তাহলে কোনো ঝামেলা হতো না। এতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সামঞ্জস্য ও স্থিরতা বজায় থাকত।

    গোলাম পরওয়ার আরো বলেন, ‘‘অন্য কিছু দল, যারা একই দিনে গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন একসঙ্গে করার কথা বলছেন, তাদের কথা শুনে আমাদের সুবিধা হয়েছে। কিন্তু যারা আগে থেকেই গণভোট ও নির্বাচনের তারিখ নির্দিষ্ট করার জন্য দাবি জানিয়েছিলেন, তাদের কথাও শোনা হয়নি। এ ভাবেই ঐকমত্য কমিশন মধ্যবর্তী ছেদে অবস্থিত হয়ে পড়েছে।’’

    তিনি বলেন, ‘‘আমরা আজ এই ৮টি দল স্পষ্টভাবে বলতে চাই, সরকারের দায়িত্ব এখন দ্রুত গণভোটের তারিখ ঘোষণা করা। যদি আগে থেকে না বলা হয় বা সময়ে ঘোষণা না করা হয়, তাহলে ভবিষ্যতে জাতীয় নির্বাচনের তারিখ নিয়ে নতুন অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হবে।’’

    ফেব্রুয়ারীর মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে গোলাম পরওয়ার প্রধান উপদেষ্টা এবং ঐক্যমত্য কমিশনের প্রধানের দায়িত্বের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ‘‘উনিই জাতিকে সংকটমুক্ত ও সংশয়হীন করার দায়িত্বে। রাজনীতির আকাশে যে অন্ধকার জমে আছে, সেটি দূর করে সঠিক পথে আলো দেখাতে পারবেন শুধু উনিই।’’

    সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ ইউনুস আহমদ। তিনি বলেন, পরবর্তী দিনে, অর্থাৎ ৩০ অক্টোবর, পাঁচ দফা দাবি আদায়ের জন্য নির্বাচনি কমিশনের কাছে স্মারকলিপি প্রদান এবং ৩ নভেম্বর বৈঠকের পর বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

  • জুলাই সনদের আইনি প্রতিষ্ঠা জরুরি: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

    জুলাই সনদের আইনি প্রতিষ্ঠা জরুরি: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

    জুলাই সনদের বিষয়ে রাজনৈতিক আলোচনা কেবল রাজনৈতিক সমঝোতার এক ফাঁকা বুলি নয়; এর জন্য অবশ্যই একটি শক্তিশালী আইনি ভিত্তি থাকা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রধান সমন্বয়কারী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। আজ বুধবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর বাংলামোটরে দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

    নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জানান, আগামী বছরের জন্য জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫ বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তাবিত সুপারিশের দ্রুত বাস্তবায়ন প্রয়োজন। তিনি বলেন, জুলাই সনদ কেবল একটি রাজনৈতিক সমঝোতার নয়, এটি একটি আইনি নীতিমালা এবং এর জন্য দৃঢ় আইনি ভিত্তি থাকতে হবে। এনসিপি ইতিমধ্যে জানিয়েছে, তারা যদি সরকার এই সনদ বাস্তবায়নের জন্য খসড়া আদেশের প্রস্তাব দেখে সম্মতিকর স্বাক্ষর দেয়, সেটিই হবে।

    পাটওয়ারী আরও বলেন, গতকাল জাতীয় ঐকমত্য কমিশন সরকারকে বরাবরই গুরুত্ব দিয়ে একটি রূপরেখা সুপারিশ করেছে যা এই সনদ বাস্তবায়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, কমিশন দুটি পৃথক সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছে—একটি সংবিধানবিরোধী সংস্কার, যা প্রজ্ঞাপন ও খসড়া সুপারিশের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে, এবং অন্যটি বিরতী সরকারকে দ্রুত এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, কমিশনের প্রস্তাবিত ৪৮টি সংস্কার প্রস্তাব সংবিধানের সঙ্গে সংযুক্ত। এই প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নে দুটি আলাদা খসড়া সুপারিশ করা হয়েছে। প্রথমটি, প্রস্তাব-১, বাস্তবায়নের জন্য সরকারের এগিয়ে যাওয়া উচিত কারণ এতে উল্লেখ রয়েছে—নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংস্কার কার্যক্রম শেষ না হলে, গৃহীত খসড়া বিলই আইনে পরিণত হবে।

    এছাড়াও, সংবিধান সংশোধন বিলটি আইন আকারে কার্যকর করে গণভোটের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ম্যান্ডেট বাস্তবায়ন করাও জরুরি বলে দাবি করেন তিনি। কোণঠাসা বা দ্বিধাবিধুর না হয়ে, সরকারের উচিত প্রস্তাব-১ অনুযায়ী কার্যক্রম শুরু করা।

    নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, কিছু ভাষাগত অস্পষ্টতা থাকলে সেগুলো সংশোধন করতে হবে, যাতে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি সুদৃঢ় হয়। প্রথম ঘোষণাটি গ্রহণের মাধ্যমে এই সনদের আইনি ভিত্তিও প্রতিষ্ঠিত হবে।

    সরকার যদি এই আইনি ভিত্তিসম্পন্ন খসড়া আদেশ অনুমোদন করে, তবে সনদে স্বাক্ষর এবং বাস্তবায়নের পথে অগ্রগতি সম্ভব হবে।

    উল্লেখ্য, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশে এক লক্ষাধিক জনতার ওপর ভিত্তি করে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ-২০২৫’ জারির প্রস্তাব রয়েছে।

    এই খসড়াগুলোর মধ্যে প্রথমটির বিধান অনুযায়ী—আগামী দেশের সংবিধান সংস্কার কমিটি ২৭০ দিনের মধ্যে কাজ শেষ না করলে, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রস্তুতকৃত বিলই আইন হিসেবে গণ্য হবে। অন্যদিকে, দ্বিতীয় প্রস্তাবের সূত্রে, এই সময়সীমার মধ্যে সংস্কার সম্পন্ন করার জন্য পরিষদকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে সংবিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্ভব হয়।

  • জাতীয় নির্বাচনে ব্যত্যয় হলে দায় ইউনূস সরকারের – মির্জা ফখরুল

    জাতীয় নির্বাচনে ব্যত্যয় হলে দায় ইউনূস সরকারের – মির্জা ফখরুল

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, প্রয়োজনীয় সংস্কারের পরও যদি জাতীয় নির্বাচনটি ব্যত্যয় ঘটে, তাহলে এর পুরো দায়-দায়িত্ব নিতে হবে ড. ইউনূস সরকারকে। তিনি আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন।

  • সিঁধ কেটে ঘরে ঢুকে চোরের হামলায় গৃহকর্তা মারাত্মক আহত, মৃত্যু

    সিঁধ কেটে ঘরে ঢুকে চোরের হামলায় গৃহকর্তা মারাত্মক আহত, মৃত্যু

    পটুয়াখালী জেলায় সিঁধ কেটে ঘরে প্রবেশ করে চোরের হাত থেকে রক্ষা করার সময় গৃহকর্তাকে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করা হয়েছে। এ ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) সকালে সদর উপজেলার জৈনকাঠী ইউনিয়নের সেহকাঠী গ্রামে। নিহত মোশারেফ খাঁন (৪৫) সেখানকার একজন স্থানীয় ব্যক্তি ও মো. হানিফ খাঁনের বড় ছেলে। তিনি পেশায় একজন অটোবাইক চালক ছিলেন।

    পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে চোরেরা সিঁধ কেটে ঘরে প্রবেশ করে। এই সময় তারা তাঁর মেয়ে মালা আক্তারকে পা ধরে টানতে থাকে। বাড়ির তারেকতাং না মানায় মালা চিৎকার করতে শুরু করেন। শুনতে পেয়ে মোশারেফ দ্রুত ঘুম থেকে উঠে রাজি হন চোরের হাত থেকে পরিবারের সদস্যদের রক্ষা করার জন্য। তখনই দুই অজ্ঞাত ব্যক্তি মোশারেফকে ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাত করে। গুরুতর রক্তক্ষরণে তিনি রাস্তায় পড়ে যান। পথের মধ্যে তার মৃত্যু হয়। পরে পরিবার তাকে দ্রুত পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে, হাসপাতালের গেটে পৌঁছানোর আগে তিনি মারা যান।

    নিহতের স্ত্রী শাহনাজ বেগম বলেন, “রাতে দুই অচেনা লোক সিঁধ কেটে আমাদের বাসায় ঢুকেছিল। তারা আমার মেয়ের পা ধরে টানছিল। ঘুম থেকে উঠে, আমার স্বামী তাদের ধরে ফেলায় তারা তাকে কুপিয়ে মার ডালে। তারা কি চুরি করতে এসেছিল, নাকি অন্য কিছু—তা আমরা জানি না। পরিবারের পক্ষ থেকে আমরা এই ঘটনাটির সুষ্ঠু বিচার চাই।”

    নিহতের মা, মোর্শেদা বেগম, কান্তি করে বলেন, “আমার একমাত্র বড় ছেলে আজকে আমাদের ছেড়ে চলে গেল, তাকে এভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। বাড়িতে শুধু রক্তের সুরে এক করুণ দৃশ্য। আমি আর সহ্য করতে পারছি না।”

    পটুয়াখালী সদর থানার ওসি ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, খবর পাওয়ার সাথে সাথে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে ও মোবাইল করে তদন্ত শুরু করেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি অনুসারে, প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • নভেম্বরে নতুন পোশাক গ্রহণ করবে পুলিশ

    নভেম্বরে নতুন পোশাক গ্রহণ করবে পুলিশ

    গণঅভ্যুত্থানের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার সাধারণ পুলিশ সদস্যদের জন্য নতুন ইউনিফর্মের সিদ্ধান্ত নেয়। চলতি বছরের শুরুর দিকে বাংলাদেশ পুলিশ, র‍্যাব ও আনসার বাহিনীর পোশাক পরিবর্তনের ঘোষণা আসে। এখন, নয় মাস পর, পুলিশ সদস্যরা তাদের নতুন পোশাক পরার জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন। ১৫ নভেম্বর থেকে ঢাকার মেট্রোপলিটন পুলিশসহ (ডিএমপি) সব মহানগর পুলিশের সদস্যরা নতুন ইউনিফর্ম পরতে পারবেন। তবে জেলা পুলিশের জন্য নতুন পোশাক পেতে কিছুটা আরও সময় লাগতে পারে।

    নতুন ইউনিফর্মের রং নির্ধারণ করা হয়েছে। পুলিশে ব্যবহৃত হবে লোহার (আয়রন) রঙের পোশাক, র‍্যাবের পোশাক জলপাই (অলিভ) রঙের এবং আনসার বাহিনীর পোশাক সোনালি গমের (গোল্ডেন হুইট) রঙের। আপাতত রাজধানীর মেট্রোপলিটন পুলিশ সদস্যরা নতুন পোশাক পাবেন। পর্যায়ক্রমে সারা দেশে জেলা পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তারা এই নতুন পোশাক পরবেন।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সূত্র জানিয়েছে, আগামী নির্বাচনোত্তর সময়ের জন্য সব বাহিনী যেন সমান রঙের ইউনিফর্ম পরতে পারে, সেই জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইউনিফর্মের রং ও কাপড়ের ধরণ নির্ধারিত হয়েছে।

    পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে জেলা ও মহানগর পুলিশের ইউনিফর্মের রঙ আলাদা। তবে এখন থেকে সবাই একই রঙের পোশাক পরবেন। পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (লজিসটিক্স) খোন্দকার নজমুল হাসান বলেছেন, নতুন ইউনিফর্ম ১৫ নভেম্বরের মধ্যে দেখা যাবে। সেই দিন থেকে ঢাকা মহানগর ও অন্যান্য মহানগর পুলিশের সদস্যরা নতুন পোশাক পরা শুরু করবেন। পর্যায়ক্রমে সব ইউনিট নতুন ইউনিফর্ম পাবে।

    অন্যদিকে, র‍্যাবের বর্তমান কালো রঙের পোশাকের পরিবর্তনের কথা থাকলেও নতুন জলপাই রঙের ইউনিফর্মের অগ্রগতি এখনও দেখা যায়নি।

    এছাড়া, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর জন্য সোনালি গমের রঙের নতুন ইউনিফর্ম তৈরির খবর থাকলেও রং পরিবর্তনের বিষয়টি এখনো স্পষ্ট হয়নি। তবে সম্ভবত ভবিষ্যতেও এই পরিবর্তনের দিকে নজর দেওয়া হবে।

  • রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে উত্তেজনা বজায় রাখার ভাষ্য পরিবেশ উপদেস্টার

    রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে উত্তেজনা বজায় রাখার ভাষ্য পরিবেশ উপদেস্টার

    পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, সরকার ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এমন প্রতিশ্রুতি স্পষ্ট করে দিচ্ছেন। তাঁদের ভাষ্য, সরকারের বিরুদ্ধে কোনো কঠোর অভিযোগ নেই। বরং, রাজনৈতিকভাবে উত্তেজনা সৃষ্টি ও বজায় রাখতে কথাবার্তা এবং তৎপরতা চালানো এখন এক ধরনের কৌশল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। আজ বুধবার (২৯ অক্টোবর) রাজধানীর গুলশানে একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জুলাই সনদের প্রয়োগের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ঐক্য বা বিভক্তি নেই, বরং মতানৈক্য রয়েছে। এই মতানৈক্য আলোচনা ও সংলাপের মাধ্যমে নিরসন সম্ভব। এ সময় তিনি আরও বলেন, সরকারের বিরুদ্ধে স্পষ্ট কোনো অভিযোগ না থাকলেও, বলার লাইন দিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা ধরে রাখতে কিছু বক্তব্য ও সমালোচনাকে ব্যবহার করা হচ্ছে। এটি একটি কৌশল হিসেবেও দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, নদীভাঙন প্লাবিত মানুষের সহায়তার জন্য ৫০০ কোটি টাকার বদলে এক হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব থাকা সত্ত্বেও, আইনি জটিলতা এবং নীতিমালা এসব কাজে বিলম্ব সৃষ্টি করে। পাশাপাশি, পরিবেশ মন্ত্রণালয় সবসময় বাজেটের সংকটে ভুগছে। পাশাপাশি, জাতীয় পর্যায়ে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা করার জন্য বেশি বিনিয়োগের প্রয়োজন রয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের দূরপ্রান্ত অঞ্চলে পানি সরবরাহের জন্য প্রতিষ্ঠিত জলবায়ু পরিবর্তন তহবিলে অর্থ বরাদ্দ থাকলেও, মূলত এই কাজটি পরিচালনা এবং বাস্তবায়নের দায়িত্ব রয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের। তিনি আরও বলেন, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র উদ্যোগগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে টেকসই উন্নয়নের উপর বেশি জোর দিতে হবে, যাতে সম্পৃক্ত মন্ত্রণালয়গুলো সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারে।**

  • আশুলিয়ায় পড়ে থাকা ৭.৬২ লেখা গুলির রহস্য উদঘাটনে বিচার চলছে

    আশুলিয়ায় পড়ে থাকা ৭.৬২ লেখা গুলির রহস্য উদঘাটনে বিচার চলছে

    জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের জেরে আশুলিয়ায় সংঘটিত এক নৃশংস ঘটনার বিচার চলছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। তদন্তে জানা গেছে, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পর দীর্ঘদিন অজুহাতে লুকানো ওই ঘটনা মানবতাবিরোধী অপরাধের অন্তর্গত। সাবেক একজন সংসদ সদস্যসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যদান করেছেন সিআইআরের এসআই মো. আশরাফুল হাসান।

    29 অক্টোবর বুধবার, ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী ও তার তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই মামলার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। অন্য সদস্যরা হলেন- অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

    এদিন সকাল সোয়া এগারোটার দিকে আশুলিয়া থানার এসআই আশরাফুল আদালতে উপস্থিত হন। তিনি জপে শপথ নিয়ে জব্দতালিকা অনুযায়ী সাক্ষ্য দেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, ১৪ এপ্রিল এই বছরের ঘটনাপ্রবাহে, থানার ওসি বেতার বার্তায় জানান, আশুলিয়া থানার পশ্চিম পাশে মনির ও লতিফ মণ্ডলের পুরোনো টিনশেড বাড়ির সীমানা প্রাচীরের ভিতরে গুলি পড়ে থাকতে দেখা গেছে। এরপর তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে উপস্থিত সাক্ষীদের উপস্থিতিতে ৬টি রাইফেলের গুলি ও এক চার্জার উদ্ধার করেন। পেটেন্ট ইংরেজি ভাষায় লেখা ফলকদের মধ্যে ‘৭.৬২’ উল্লেখ ছিল।এই ধারালো অস্ত্রের গুলিগুলো জব্দতালিকা মূলে নিয়ম অনুযায়ী কাগজে স্বাক্ষর করে জমা দেওয়া হয়।

    তিনি আরও জানান, কনস্টেবল মো. মামুনুর রশিদও ঐ জব্দতালিকার সাক্ষী। এই আলামত পরে থানায় সংরক্ষিত হয়। তারপর, তিনি তার কর্মকর্তার নির্দেশে ঐ আলামত আত্নসাৎ করে তদন্ত সংস্থার কাছে জমা দেন।

    সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষ হওয়ার পরে, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা এই জবানবন্দর নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। এখন পর্যন্ত এ মামলায় মোট ২০ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন।

    এ মামলার গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, বিভিন্ন পুলিশ কর্মকর্তা ও কনস্টেবলরা। আজকের দিনে পুলিশ তাদের আদালতে হাজির করে। তবে আরও আটজন—তথ্যপ্রমাণিতভাবে এসেছেন পলাতক আছেন।

    গত বছর ৫ আগস্ট, আশুলিয়ার একটি পুলিশের গুলিতে ছয় তরুণ প্রাণ হারান। পরে পুলিশ তাদের লাশ তুলে এনে বাড়ির পার্শ্ববর্তী নদীতে ফেলে দেয়। এ সময় একজন জীবিত ছিলেন, যাকে জীবিতই পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। পেট্রোল ঢেলে এন্তেজাম করে তাদের জীবন্ত মানুষকেই পুড়িয়ে মারার বর্বরতাজনক এই ঘটনার বিচার চলছে। এর প্রেক্ষিতে ১১ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ দায়ের করা হয়।

  • মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর জন্য নতুন শর্তে রিক্রুটিং এজেন্সীর সুযোগ

    মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর জন্য নতুন শর্তে রিক্রুটিং এজেন্সীর সুযোগ

    মালয়েশিয়ায় কর্মী প্রেরণের ক্ষেত্রে আগে তুলনায় অন্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর সুযোগ ছিল বেশি। তবে এখন से অভিন্ন মানদণ্ডের ভিত্তিতে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, পাকিস্তান এবং মায়ানমার দেশের রিক্রুটিং এজেন্টদের নির্বাচন করা হবে, যা প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিক করবে। এ জন্য এজেন্সিগুলোকে দশটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত পূরণ করতে হবে বলে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হচ্ছে। বুধবার (২৯ অক্টোবর) মন্ত্রণালয় পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমান সরকার অন্য দেশগুলোর মতো বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর জন্যও মানদণ্ড নির্ধারণে জোর দিচ্ছে। ২০২৩ সালের মে মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩য় জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের সভায় মালয়েশিয়ার প্রতিনিধিরা এই মানদণ্ডের বিষয়টি সম্মতিপূর্ণভাবে গ্রহণ করে। এজেন্সিগুলোর জন্য নির্ধারিত এসব শর্ত মানা আবশ্যক বলে উল্লেখ করা হয়।

    নিম্নে উল্লেখ করা হলো, রিক্রুটিং এজেন্সির জন্য নির্ধারিত দশটি মূল মানদণ্ড:
    ১. লাইসেন্স পাওয়ার পরে কমপক্ষে ৫ বছর মানবসম্পদ পরিচালনার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
    ২. বিগত ৫ বছরে কমপক্ষে ৩,০০০ কর্মী বিদেশে প্রেরণের প্রমাণ থাকতে হবে।
    ৩. বিগত ৫ বছরে তিনটি ভিন্ন ভিন্ন গন্তব্যে কর্মী প্রেরণের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
    ৪. বাংলাদেশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বৈধ লাইসেন্স, প্রশিক্ষণ ও নিয়োগ সম্পর্কিত অনুমোদন থাকতে হবে।
    ৫. প্রেরণকারী দেশের দিক থেকে ‘শ্রমের সনদ’ বা সৎাচরণের সনদ (Certificate of Good Conduct) থাকতে হবে।
    ৬. শ্রমিকের জোরপূর্বক নিয়োগ, মানব পাচার, শ্রম আইন লঙ্ঘন বা অন্য আর্থিক অপরাধে জড়িত থাকার রেকর্ড থাকলে চলবে না।
    ৭. নিজস্ব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও মূল্যায়ন ব্যবস্থা থাকতে হবে যেখানে আবাসন, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও দিকনির্দেশনা দেয়া হয়।
    ৮. স্বীকৃত আন্তর্জাতিক নিয়োগকর্তাদের কাছ থেকে প্রশংসাপত্র থাকতে হবে।
    ৯. কমপক্ষে ৩ বছর ধরে পরিচালিত, ১০,০০০ বর্গফুটের স্থায়ী অফিস থাকতে হবে যেখানে কর্মী বাছাই ও নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা হয়।
    ১০. পূর্বে যেসব গন্তব্যে কর্মী প্রেরণ করা হয়েছে, সেগুলোর আইনগত শর্তাবলী ও নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।

    উপরের শর্তাবলী পূরণকারী সকল বৈধ বাংলাদেশী রিক্রুটিং এজেন্সিকে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর জন্য তালিকা তৈরি করার জন্য বাংলাদেশ সরকার মালয়েশিয়ার প্রতি অনুরোধ করবে। এরই ধারাবাহিকতায়, এই মানদণ্ড পূরণে সক্ষম বাংলাদেশি লাইসেন্সধারী এজেন্সিগুলোর জন্য আগামী ৭ নভেম্বর ২০২৫ এর মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সহ আবেদন করার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।