Blog

  • চিফ প্রসিকিউটর: ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি অনিয়ম পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেবে

    চিফ প্রসিকিউটর: ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি অনিয়ম পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেবে

    আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সদ্য অবসানপ্রাপ্ত প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা তালুকদারের বিরুদ্ধে ঘুষের অভিযোগ ও ফাঁস হওয়া অডিওর ঘটনায় ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করে তদন্ত শুরু হওয়ায় সব ধরণের অনিয়ম খতিয়ে দেখা হবে—এমনটাই জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, তথ্য-অনুসন্ধানকারী এই কমিটি যদি অনিয়ম পায়, তবে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    চিফ প্রসিকিউটর মঙ্গলবার (১০ মার্চ) এই কমিটি গঠনের ঘোষণা দেন। কমিটিতে পাঁচ জন সদস্য থাকবেন এবং তার কার্যক্রম বুধবার (১১ মার্চ) থেকে শুরু করেছে বলেও তিনি জানান। কমিটির প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে প্রসিকিউশন বা সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তা যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া।

    জুলাই হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় বিচার চলাকালীন সময়ে নতুনভাবে গরমালো ঘুষসংক্রান্ত অভিযোগটি ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে। চিফ প্রসিকিউটর নিজেই জানিয়েছেন, এ ধরনের ঘটনা বিচারপ্রক্রিয়াকে সন্দেহাতীতভাবে প্রভাবিত করতে পারে।

    ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন হওয়ার পর আওয়ামী লীগ আমলে সংঘটিত গুম, হত্যাসহ জুলাই হত্যাযজ্ঞের মামলাগুলোতে বিচার শুরু হয়; ইতোমধ্যে তিন মামলায় রায় দেওয়া হয়েছে এবং আগামী মাসে আরেকটি মামলার রায় ঘোষণা হবে। পাশাপাশি কয়েকটি মামলার সাক্ষ্যগ্রহণও প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

    প্রসিকিউশনের বিভিন্ন সদস্যের বিরুদ্ধে আগেও অভিযোগ উঠেছে—কিন্তু সদ্য সাবেক প্রসিকিউটর তালুকদারের ঘুষচাওয়ার অডিও ফাঁস হওয়া ঘটনার পর আলোচনা ও বিতর্ক তীব্র হয়েছে। চিফ প্রসিকিউটর ঘটনাটিকে গুরুত্বসহকারে দেখে বলছেন, অনুসন্ধানে যা পাওয়া যাবে তা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

    একই দিনে ট্রাইব্যুনালে আওয়ামী লীগ নেতা কামরুল ইসলাম ও ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের মামলার শুনানিও হয়। ট্রাইব্যুনাল ৩০ মার্চ এই মামলাগুলোতে মামলার বিচার শুরু হওয়া বা না হওয়ার বিষয়ে আদেশ জানাবে। পাশাপাশি আরও কয়েকটি জুলাই হত্যাযজ্ঞের মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ চালানো হয়েছে।

    চিফ প্রসিকিউটর পুনরায় জানিয়েছে, ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি সত্য উদঘাটন করতে কাজ করবে এবং যদি তদন্তে অনিয়ম ধরা পড়ে, তাৎক্ষণিক ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তদন্ত স্বচ্ছ ও দ্রুতগতিতে সম্পন্ন করার ওপর জোর দেয়া হয়েছে।

  • জুলাই সনদের সুবিধাভোগী হয়ে সরকার গঠন করে এখন উল্টো পথে হাঁটছে: মিয়া গোলাম পরওয়ার

    জুলাই সনদের সুবিধাভোগী হয়ে সরকার গঠন করে এখন উল্টো পথে হাঁটছে: মিয়া গোলাম পরওয়ার

    জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, জুলাই অভ্যুত্থানের সুবিধাভোগী হয়ে যারা সরকারি দলে যোগ দিয়ে সরকার গঠন করেছিলেন, তারা এখন অপ্রত্যাশিতভাবে পিছুხাড়া করে যাচ্ছেন। তিনি অভিযোগ করেন যে জুলাই সনদ, সংবিধান সংস্কার এবং সংশ্লিষ্ট আইনি বিষয়ে ষড়যন্ত্র চলছে।

    আজ (বুধবার) সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস আয়োজিত ‘‘গণভোটের রায় বাস্তবায়নে অনীহা: উদ্বিগ্ন নাগরিক সমাজ’’ শীর্ষক গোলটেবিলে এসব কথা বলেন মিয়া গোলাম পরওয়ার।

    তিনি বলেন, গণভোটে প্রায় ৬৮ শতাংশ ভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়লাভ করে—প্রায় পাঁচ কোটির মতো মানুষ এর পক্ষে ভোট দিয়েছে। সংবিধানের বিধান অনুযায়ী ৫০ শতাংশের বেশি পেলে সেটি গণরায়ের মর্যাদা পায়; তবু বিএনপি তা উপেক্ষা করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ এখনও সম্ভব। ৫ আগস্ট থেকে যে শিক্ষা নেওয়া উচিত—জনগণের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে যারা অবিচার করবেন, তাদের সেই শিক্ষা হতে হবে—তাও তিনি বারবার জোর দিয়েছেন। তিনি নতুন প্রজন্মের মধ্যে Julio সনদের প্রতি সিরিয়াস মনোভাব থাকার কথা উল্লেখ করে সংগঠনের প্রতি সতর্ক থাকার আহ্বান করেন।

    আইনমন্ত্রী নিয়ে তার অভিযোগও ছিল। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, জুলাই সনদ ও সংবিধান সংস্কার আদেশ বাস্তবায়ন না-করায় ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না-গ্রহণ সম্পর্কে যে আইনি ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে, সেটি কেন আইনমন্ত্রীর তরফ থেকে নেই। তিনি বলেছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিভিন্ন আইনি যুক্তি দিচ্ছেন, কিন্তু এ বিষয়টি ব্যাখ্যা করা আইনমন্ত্রীর কাজ—তাই তিনি নীরব কেমন করে থাকতে পারেন, তা জানা নেই।

    তিনি সাবজুডিসের আড়ালে জাতীয় সংসদে জুলাই সনদের আলোচনা সচেতনভাবে দীর্ঘ করে দেয়ার চক্রান্ত চলছে বলে অভিযোগ করেছে। সাবজুডিসের নাম করে বিষয়টিকে টালবাহানা করা হচ্ছে এবং সংখ্যার জোরে পার্লামেন্টে এই আলোচনাকে দীর্ঘায়িত করে এটা একটি পরিকল্পিত কৌশল হিসেবে জনগণের সামনে আনা হচ্ছে, বলেন তিনি।

    শেষে মিয়া গোলাম পরওয়ার বিএনপির সংসদ সদস্যদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করে জুলাই সনদে উল্লিখিত প্রতিটি ঐকমত্য বাস্তবায়নে এগিয়ে আসুন। ওই সনদের যে আকাঙ্ক্ষা রক্তের বিনিময়ে গড়া, সেটি বাস্তবায়ন করতে তাদের ভূমিকা অপরিহার্য—এই আশায় তিনি বক্তৃতা শেষ করেন।

  • রাষ্ট্রপতির ভাষণ ঘিরে সংসদে সরকারি-বিরোধী দলের মুখোমুখি অবস্থান

    রাষ্ট্রপতির ভাষণ ঘিরে সংসদে সরকারি-বিরোধী দলের মুখোমুখি অবস্থান

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আগামীকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে। প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী ওইদিনই রাষ্ট্রপতি সংসদে বার্ষিক ভাষণ দেবেন। কিন্তু এই কক্ষেই রাষ্ট্রপতির ভাষণকে কেন্দ্র করে সরকারি ও বিরোধী দলের মনোভাব পরস্পরবিরোধী হয়ে উঠেছে।

    বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামি ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সংসদে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে ‘ফ্যাসিস্টদের দোসর’ আখ্যা দিয়ে তাঁকে ভাষণ দেওয়া থেকে বিরত রাখতে দাবি করেছেন। তাদের অভিযোগ ও আপত্তির কথা সংসদে গৃহীত আলোচনা-সমালোচনার বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে।

    অন্যদিকে ক্ষমতাসীন বিএনপি মনে করছে নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি সংসদে ভাষণ দেবেন। বুধবার দুপুরে সংসদ ভবন থেকে বেরিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্ধিন আহমদ সাংবাদিকদের সামনে বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জাতীয় সংসদে ভাষণ দেবেন।’ তিনি জানান, সংসদ অধিবেশন আগামীকাল সকাল ১১টায় শুরু হবে এবং সেখানে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে; তাদের শপথগ্রহণ করাবেন রাষ্ট্রপতি। তিনি আরও বলেন, আগামী অধিবেশনে জুলাই সেশনের বিষয়বস্তুও আলোচ্য হবে।

    আজ সংসদ ভবনে ক্ষমতাসীন দলের সংসদীয় দলের বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান; আগামীকালের অধিবেশন সংক্রান্ত বিষয়গুলো সেখানে আলোচনা হয়েছে।

    অন্যদিকে বিরোধী পক্ষের এমপি-দেরও একটি বৈঠক আজ দুপুরে অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের পরে জামায়াতে ইসলামের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের সাংবাদিকদের বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি ফ্যাসিস্টদের দোসর; সংসদে তাঁর বক্তব্য দেওয়ার অধিকার নেই।’ তিনি জানান, আগামীকালের সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা কী হবে সে বিষয়ে বৈঠকে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অনেক নতুন সদস্য থাকার কারণে সংসদের মান ও চরিত্র সম্পর্কে সদস্যদের সতর্ক করা হয়েছে।

    ডেপুটি স্পিকার নিয়ে সিদ্ধান্ত সম্পর্কে প্রশ্নে তাহের বলেন, প্রস্তাব এলে তারা বক্তব্য জানাবেন এবং এ বিষয়টি আগামীকাল স্পষ্ট হয়ে যাবে। তিনি আরও জানান, তারা মনে করেন রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়ার অধিকার সংরক্ষিত নয় এবং বিএনপি কেন তাঁকে ভাষণ দেওয়াচ্ছে, সে বিষয়ে তাদের অসন্তোষ রয়েছে; এ সম্পর্কে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তা কাল সংসদে প্রকাশ করা হবে।

    পরিস্থিতি স্পষ্ট হওয়া পর্যন্ত আগামীকালকের অধিবেশন এবং রাষ্ট্রপতির ভাষণকে কেন্দ্র করে সংসদে তর্ক-তিতিক্ষা ও উত্তপ্ত বিতর্কের সম্ভাবনা দেখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

  • এক ভরিতে সোনার দাম ২ লাখ ৭০ হাজার ৪৩০ টাকা ছাড়াল

    এক ভরিতে সোনার দাম ২ লাখ ৭০ হাজার ৪৩০ টাকা ছাড়াল

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) টানা দ্বিতীয় দিনে সোনার দাম বাড়িয়েছে। ভরিতে ২ হাজার টাকারও বেশি বাড়িয়ে সংগঠনটি ২২ ক্যারেটের এক ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনার নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে ২ লাখ ৭০ হাজার ৪৩০ টাকা।

    বাজুস বুধবার (১১ মার্চ) সকালে এ তথ্য জানিয়ে বলেছে যে নতুন দাম সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।

    সংগঠনটি জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) মূল্য বাড়ার কারণে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

    নতুন দাম অনুযায়ী দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনার মূল্য দাঁড়িয়েছে: ২২ ক্যারেট — ২ লাখ ৭০ হাজার ৪৩০ টাকা; ২১ ক্যারেট — ২ লাখ ৫৮ হাজার ১২৪ টাকা; ১৮ ক্যারেট — ২ লাখ ২১ হাজার ২৬৬ টাকা; এবং সনাতন পদ্ধতিতে প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৮০ হাজার ৬১৭ টাকা।

    সোনার পাশাপাশি রুপার দামও বাড়ানো হয়েছে। ভরিতে ১৭৫ টাকা করে বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৭০৭ টাকা; ২১ ক্যারেট — ৬ হাজার ৪১৫ টাকা; ১৮ ক্যারেট — ৫ হাজার ৪৮২ টাকা; এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৮২ টাকা।

    বাজারের এসব পরিবর্তন ক্রেতা ও বিজেবায়ীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ; প্রতিদিনের দর ও স্থানীয় শর্ত অনুযায়ী লেনদেনের সময় সতর্ক থাকা উচিত।

  • সোনার দাম ভরিতে সর্বোচ্চ ৩,২৬৬ টাকা কমল

    সোনার দাম ভরিতে সর্বোচ্চ ৩,২৬৬ টাকা কমল

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) সোমবার ঘোষণা করেছে যে সোনার দাম প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৩,২৬৬ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছে। নতুন দাম সকাল ১০টা থেকে কার্যকর করা হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার দাম কমার প্রেক্ষিতে স্থানীয় বাজারে দাম সমন্বয় করা হয়েছে। ফলে ভালো মানের ২২ ক্যারেট সোনার এক ভরির মূল্য দুই লাখ ৬৪ হাজার ৯৪৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে — যা ভরিপ্রতি দুই লক্ষ ৬৫ হাজার টাকার নিচে নামা হিসেবে দেখা যায়।

    অন্যান্য মানের দামের তালিকা অনুযায়ী: ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার মূল্য দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ৫২ হাজার ৮৭৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি দুই লাখ ১৬ হাজার ৭৭৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম এক লাখ ৭৬ হাজার ৯৪৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    সোনার সঙ্গে রূপার দামও কমেছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রূপার দাম এখন ৬ হাজার ৩৫৭ টাকা। ২১ ক্যারেটে প্রতি ভরি রূপা ৬ হাজার ৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটে ৫ হাজার ১৯০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রূপার দাম ৩ হাজার ৯০৭ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।

    আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটেও আজ দরপতন ধরা পড়েছে। গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি সূত্রে জানা যায় যে আন্তর্জাতিক বাজারে এখন প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৫,০৯০ ডলার, যেটি গতকাল ছিল ৫,১৭০ ডলার। গত ফেব্রুয়ারিতে (৩০ জানুয়ারি) দাম ছিল ৫,২০০ ডলার এবং ২৯ জানুয়ারি তা ৫,৫০৪ ডলারে উঠেছিল।

    বিশ্ববাজারে গত সপ্তাহে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সম্পর্কিত উত্তেজনার কারণে সোনার দাম বাড়েছিল, কিন্তু আজকের পরিবর্তনে স্থানীয় বাজারে দাম নামা দেখা যাচ্ছে।

    এদিকে, মাসের শেষে বিশ্ববাজারে খাড়া বৃদ্ধির সময় দেশের বাজারেও বড় ধরনের পরিবর্তন হয়েছে — ২৯ জানুয়ারি বাজুস একবারে ভরিপ্রতি ১৬,২১৩ টাকা বাড়ানোর মাধ্যমে ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম রেকর্ডভাবে দুই লাখ ৮৬ হাজার টাকায় পৌঁছে দেয়, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

  • শ্রীলঙ্কা আদালত ইরানকে ৮৪ নাবিকের মরদেহ হস্তান্তরের নির্দেশ দিল

    শ্রীলঙ্কা আদালত ইরানকে ৮৪ নাবিকের মরদেহ হস্তান্তরের নির্দেশ দিল

    শ্রীলঙ্কার এক আদালত গত সপ্তাহে উপকূলীয় এলাকায় ইরানি যুদ্ধজাহাজে হামলায় নিহত ৮৪ নাবিকের মরদেহ ইরান দূতাবাসকে হস্তান্তর করার নির্দেশ দিয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম বুধবার (১১ মার্চ) এই তথ্য জানিয়েছে।

    ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া অনুসারে আক্রান্ত জাহাজ আইআরআইএস ডেনা একটি সাবমেরিনের টর্পেডো আঘাতের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়; জাহাজটি তখন ভারত আয়োজিত সামরিক মহড়া থেকে ফেরত আসছিল। এই হামলায় ৮৪ জন নিহত হন এবং প্রায় ৩২ জন পানিগ্রস্ত অবস্থায় বেঁচে যান।

    গলের হাবর পুলিশ লাশ হস্তান্তরের জন্য আদালতে আবেদন করে এবং আদালত তা মঞ্জুর করে। মৃতদেহগুলো বর্তমানে গালের ন্যাশনাল হাসপাতালের মর্গে রাখা আছে।

    একই সময় শ্রীলঙ্কা ৩০ দিন মেয়াদি ভিসা দিয়েছে আইআরআইএস বুশেহর নামের দ্বিতীয় ইরানি জাহাজের ২০৮ সদস্যকে; তারা জাহাজের ইঞ্জিনগত সমস্যার কারণে শ্রীলঙ্কার উপকূলে এসে নোঙর করেছিল। সরকারের বরাতে জানা গেছে, ওই জাহাজটি পরে ত্রিঙ্কোমালিতে সরিয়ে নেয়া হবে।

    এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্য বৃদ্ধির পাশাপাশি ব্যবসা ও জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে। শ্রীলঙ্কার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুটোই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার; যুক্তরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কার পোশাক রপ্তানির প্রায় ৪০ শতাংশের ক্রেতা এবং ইরান তাদের বড় চা ক্রেতাদের মধ্যে রয়েছেন।

    এর পাশাপাশি শ্রীলঙ্কার দক্ষিণাঞ্চলের একটি বন্দরে আইআরআইএস লাভান নামের তৃতীয় ইরানি জাহাজ ১৮৩ সদস্য নিয়ে নোঙর করেছে। কর্তৃপক্ষ এখন পরিস্থিতি তদন্ত ও নৌসুরক্ষা জোরদার করেছে।

  • ভারতে প্রথমবার প্যাসিভ ইউথানেশিয়ার পথে সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি

    ভারতে প্রথমবার প্যাসিভ ইউথানেশিয়ার পথে সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি

    সুপ্রিম কোর্ট ভারতে প্রথমবারের মতো নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে প্যাসিভ ইউথানেশিয়া—অর্থাৎ কৃত্রিমভাবে জীবন বাঁচানোর চিকিৎসা ব্যবস্থা সরানোর অনুমতি—দিয়েছে। দীর্ঘ তেরো বছর শয্যাশায়ী থাকা দিল্লির যুবক হরীশ রানাকে হাসপাতালে কৃত্রিমভাবে জীবনধারণের ব্যবস্থা বন্ধ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে এবং সিদ্ধান্তটিকে বিচারব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    হরীশ রানার বয়স বর্তমানে ৩২। তিনি একসময় পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। ২০১৩ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেলের পঞ্চম তলা থেকে পড়ে গুরুতরভাবে আঘাত পান; মেরুদণ্ডে ভোগান্তিকর আঘাতের ফলে তিনি কোয়াড্রিপ্লেজিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে সম্পূর্ণ শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন। ওই ঘটনার পর থেকে তার চারটি অঙ্গই কার্যত অচল।

    চিকিৎসকদের বিবরণ অনুযায়ী হরীশের বহুবছরের অবস্থায় তিনি বাহ্যিক জগতের কোনও সচেতনতা রাখতে পারছেন না, নিজের অস্তিত্ব সম্পর্কে কোনো অনুভূতিই নেই। তার শ্বাসপ্রশ্বাস ও ন্যূনতম শারীরিক কার্যক্রম কেবল চিকিৎসা-সহায়তায় বজায় রাখা হচ্ছে। এই অনিশ্চিত ও দীর্ঘস্থায়ী কষ্টের মধ্যে পরিবারের পক্ষ থেকে আদালতে আবেদন জানানো হয় যাতে ছেলে প্রয়োজনে কৃত্রিমভাবে বাঁচিয়ে রাখার চিকিৎসা বন্ধ করার অনুমতি দেওয়া হয়। পরিবারের যুক্তি—দীর্ঘ তেরো বছর ধরে মুসলমানের মতো অনিশ্চিত জীবনে রাখা হচ্ছে এবং স্বাভাবিকভাবে সুস্থ হওয়ার বাস্তব সম্ভাবনা নেই।

    মামলার ভার বিবেচনা করে সুপ্রিম কোর্ট নয়ডা জেলা হাসপাতালে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠনের নির্দেশ দেয়। ওই বিশেষজ্ঞ দল হরীশের শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করে আদালতে রিপোর্ট জমা দেয় এবং প্রতিবেদনে বলা হয় যে হরীশের স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সম্ভাব্যতা কার্যত নেই।

    কেন্দ্র সরকারের ও চিকিৎসকদের মতামত বিবেচনায় নিয়ে মামলাটিতে একাধিক পর্যায়ের শুনানি হয়। গত বছর বিচারপতিরা মন্তব্য করেছিলেন যে বিষয়টি শুধু আইনি নয়—এটি গভীর মানবিক, নৈতিক ও চিকিৎসা নীতিগত প্রশ্নও ছুঁয়ে যায়। এ প্রসঙ্গে বেঞ্চ হ্যামলেটের “টু বি অর নট টু বি” লাইন উদ্ধৃত করে জীবনের অস্তিত্ব ও মৃত্যুর সিদ্ধান্ত সম্পর্কিত নরমাল দ্বন্দ্বের ওপর জোর দেন।

    অবশেষে মঙ্গলবার বিচারপতি জে.বি. পারদিওয়ালা ও বিচারপতি কে.ভি. বিশ্বনাথনের বেঞ্চ হরীশ রানাকে কৃত্রিমভাবে জীবনধারণের চিকিৎসা ব্যবস্থা সরিয়ে নেওয়ার অনুমতি দেন। একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট পরিষ্কার করেন যে সক্রিয় ইউথানেশিয়া (অ্যাকটিভ ইউথানেশিয়া) ভারতে এখনও সম্পূর্ণভাবে বেআইনি; তবে রোগীর শারীরিক অবস্থার প্রেক্ষিতে এবং রোগীর সর্বোত্তম স্বার্থ বিবেচনায় প্যাসিভ ইউথানেশিয়া নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে অনুমোদনযোগ্য হতে পারে।

    আদালত কেন্দ্র সরকারের কাছে স্বেচ্ছামৃত্যু সংক্রান্ত স্পষ্ট ও সংহত আইন প্রণয়নের পরামর্শও দিয়েছে। আইন ও চিকিৎসা নীতি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই রায় দেশে মেডিকেল নৈতিকতা, রোগীর অধিকার ও মানবাধিকার নিয়ে নতুন করে তীব্র আলোচনা শুরু করবে এবং ভবিষ্যতে রোস্টার, চিকিৎসক ও পরিবার—সব পক্ষের জন্য স্পষ্ট বিধান প্রয়োজন হবে।

    কথা বলার মতো যেখানে মানবিক কষ্ট ও আইনি কাঠামোর গুণগত সমন্বয় দরকার, সেখানে এই সিদ্ধান্তটি একটি সুস্পষ্ট নির্দেশনা স্বরূপ কাজ করবে—কিন্তু একই সঙ্গে পরবর্তী আইন প্রণয়ন ও নীতিগত সংরক্ষণের ওপরও বড় দায়িত্ব আরোপ করবে।

  • দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় তরুণদের ভূমিকা অপরিহার্য: কেসিসি প্রশাসক

    দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় তরুণদের ভূমিকা অপরিহার্য: কেসিসি প্রশাসক

    খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় তরুণদের ভূমিকা অপরিহার্য। একজন সচেতন ও দায়বদ্ধ তরুণই পারে ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও উন্নত সমাজ গঠনে নেতৃত্ব দিতে।

    তিনি আরও বলেন, আমরা যতই বলি আজকের শিশু-তরুণই আগামী দিনের দেশের কর্ণধার, বাস্তবে তা সব ক্ষেত্রেই মানা হয়ে ওঠে না। বিশেষ করে স্লাম এলাকায় থাকা ছোট শিশুদের মধ্যে স্কুলে যাওয়ার আগ্রহ কমে যাচ্ছে; অনেকের বাবা-মা লেখাপড়ার বদলে দ্রুত আয় শুরু করাকেই প্রাধান্য দেন। এসব শিশুকে বিদ্যালয়মুখী করার জন্য সরকারকে প্রস্তাব পাঠানো হবে বলে তিনি জানান।

    নজরুল ইসলাম মঞ্জু এসব কথা বলেন মঙ্গলবার দুপুরে নগরের সিএসএস আভা সেন্টারে আয়োজিত বার্ষিক শিশু ও যুব সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে। সম্মেলনটি ওয়ার্ল্ড ভিশন-বাংলাদেশ আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রতিপাদ্য ছিল — তারুণ্যের প্রত্যয়ে মুছে যাবে ভেদ, গড়ব সুশাসন ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ। প্রকল্পভিত্তিক শিশু ও যুব ফোরামের সদস্যরাও অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

    কেসিসি প্রশাসক বলেন, প্রধানমন্ত্রী তাকে একটি পরিচ্ছন্ন, দুষণমুক্ত ও সবুজ শহর গড়ে তোলার পাশাপাশি ড্রেনগুলো এমনভাবে পরিস্কার করার নির্দেশ দিয়েছেন যাতে মশার লার্ভা ও উৎপত্তিস্থল নষ্ট হয়। ওপরের ঝুলন্ত তারগুলো মাটির নিচে সরিয়ে নিরাপদ ও সুন্দর শহর গড়ে তোলা হবে—এই লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছেন তিনি।

    তিনি আরও জানান, ওয়ার্ল্ড ভিশন যে কাজগুলো করছে, সেগুলোতে সিটি কর্পোরেশন প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে। বিশেষ করে শিশুদের পুষ্টি, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, শিক্ষা ও জীবিকা বিষয়ক উদ্যোগগুলোতে সমন্বয় করা হবে।

    ওয়ার্ল্ড ভিশন-বাংলাদেশ ২০২৪ সাল থেকে ‘খুলনা শহর এরিয়া কর্মসূচি’র আওতায় নগরের ৩১টি ওয়ার্ডে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয়ে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর সার্বিক উন্নয়নে কাজ করছে। কর্মসূচির ফোকাসে রয়েছে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি, শিশু নিরাপত্তা, জীবিকায়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন।

    সম্মেলনে তরুণদের জন্য আলাদা সেশনে ধরা হয় দায়িত্বশীল অনলাইন আচরণ, গণমাধ্যম সচেতনতা, ইতিবাচক ডিজিটাল কার্যক্রমে অংশগ্রহণ এবং প্রযুক্তি ব্যবহার করে সমাজে কিভাবে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা যায়। বিশেষজ্ঞরা এই বিষয়ে ধারণা ও পরামর্শ দেন। কেসিসি প্রশাসক আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে তরুণ সমাজ ঐক্য, সততা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে এগিয়ে এলে একটি সুশাসনভিত্তিক, সম্প্রীতিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ নগরী গড়ে তোলা সম্ভব।

    সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন ওয়ার্ল্ড ভিশন-বাংলাদেশের সিনিয়র ম্যানেজার ফুলি সরকার। বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, খুলনার উপ-পরিচালক এস এম বদিউজ্জামান; পিবিআই-খুলনার পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন; যুব ফোরামের সহ-সভাপতি আফরোজা স্বর্ণা এবং সেক্রেটারি খন্দকার ওয়ালিদ।

  • সাতক্ষীরায় পাঁচ মন্দিরে দুঃসাহসিক চুরি, স্বর্ণ-রুপাসহ প্রায় ২০ লাখ টাকার মালামাল লুট

    সাতক্ষীরায় পাঁচ মন্দিরে দুঃসাহসিক চুরি, স্বর্ণ-রুপাসহ প্রায় ২০ লাখ টাকার মালামাল লুট

    সাতক্ষীরায় পুরাতন সাতক্ষীরা ‘মায়ের বাড়ি’ এলাকায় বুধবার ভোরে পাঁচটি মন্দিরে তালা ভেঙে চুরির ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বুধবার (১১ মার্চ) ভোর প্রায় তিনটার দিকে শুরু করে মন্দিরগুলোতে তালা কেটে ভেতরে ঢোকে চোরেরা এবং নগদ টাকা, স্বর্ণ ও রুপার গহনা সহ আনুমানিক ২০ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে যায়।

    জেলা মন্দির সমিতির সাধারণ সম্পাদক নিত্যানন্দ আমিন বলেন, মন্দির এলাকায় মেসে থাকা ছাত্ররা ভোর সাড়ে তিনটা থেকে চারটার দিকে চুরির শিকার মন্দিরগুলোর অবস্থা দেখতে পেয়ে তাদের জানান। পরিদর্শনে দেখা গেছে কালী মন্দির, অন্নপূর্ণা মন্দির, জগন্নাথ মন্দির, চৈতন্যদেব মন্দির ও রাধা-গোবিন্দ মন্দির—সবই তালা ভাঙা এবং ভিতরে তছনছ।

    নিত্যানন্দ আমিন আরও বলেন, আমরা খোঁজখবর নিয়ে জানতে পেরেছি চোরেরা প্রায় সাত ভরি ওজনের স্বর্ণের গহনা এবং কয়েক ভরি ওজনের রুপার গহনা, নগদ টাকা ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে গেছে। চুরির তালিকায় রয়েছে কালীমাতার স্বর্ণের জিহবা, দুটি স্বর্ণের বালা, কয়েক জোড়া শাখা-পলু, একটি স্বর্ণের চেইন ও বিভিন্ন রুপার গহনা। সব মিলিয়ে ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ২০ লাখ টাকার মতো।

    পরিকল্পিত ও পেশাদারভাবে কাজ করার সূত্রে পুলিশের নিকট মন্দির সমিতি আশঙ্কা করছে এই চোরদের কোনো গ্রুপের কাজ হতে পারে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং সেখান থেকে একটি তালা কাটা মেশিন উদ্ধার করা হয়েছে।

    মন্দির সমিতির নির্বাহী সদস্য ও শিক্ষক দীপা সিন্দু তরফদার বলেন, মাত্র দুই দিন আগে শহরের কাটিয়া কর্মকারপাড়া এরাকায় এক মন্দিরেও চুরির ঘটনা ঘটেছিল। বারবার মন্দিরে চুরি হওয়ায় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বাড়ছে। তিনি দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার, চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধারের পাশাপাশি মন্দিরগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন।

    সাতক্ষীরা সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শফিকুল ইসলাম ঘটনাটি নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং চুরির ঘটনায় তদন্ত শুরু করা হয়েছে। তিনি বলেন, স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য এবং পুনরায় নজরদারির মাধ্যমে দায়ীদের ধরতে পুলিশ সব সম্ভাব্য ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

  • মিনেইরো ফাইনালে কিল-ঘুষি-লাথি, রেফারি দেখালেন ২৩টি লাল কার্ড

    মিনেইরো ফাইনালে কিল-ঘুষি-লাথি, রেফারি দেখালেন ২৩টি লাল কার্ড

    দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবলের উগ্র আবেগ কখনো কখনো মাঠ ও স্টেডিয়ামকে রণক্ষেত্রে পরিণত করে—তাই এমন ঘটনা অচেনা নয়। তবু ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত মিনেইরো চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে যা ঘটল, তা বদলে দিল ফুটবলের ইতিহাসের পাতাও। ক্রুজেইরো ও অ্যাটলেতিকো মিনেইরোর মাঝে ফাইনালে একটি ক্ষুদ্র সংঘর্ষ থেকে শুরু করে মাত্র কয়েক মিনিটে ব্যাপক দাঙ্গায় পরিণত হয় ম্যাচটি, আর শেষ পর্যন্ত রেফারি ২৩টি লাল কার্ড দেখিয়ে দেন—একটি নতুন বিশ্বরেকর্ড।

    শিরোপার লড়াই শেষ মুহূর্তে। ক্রুজেইরো তখন ১-০ গোলে এগিয়ে। ইনজুরি টাইমের শেষ ৩০ সেকেন্ডে ক্রুজেইরোর স্ট্রাইকার ক্রিস্টিয়ান ও অ্যাটলেতিকো’র গোলরক্ষক এভারসনের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। ঘটনার পরই কবজি হারিয়ে ফেলেন এভারসন—তিনি ক্রিস্টিয়ানকে টেনে মাটিতে ফেলেন এবং তাঁর বুকের ওপর উঠে ক্ষোভ উস্কে দেন।

    রেফারি পরিস্থিতি নরম করার চেষ্টা করলেও মুহূর্তের মধ্যে উত্তেজনা আরও জোরালো হয়। পেছন থেকে ক্রুজেইরোর এক খেলোয়াড় এভারসনকে ধাক্কা দিলে গোলরক্ষক গোলপোস্টে আঘাত পেয়ে পড়েন; ঠিক এরপর থেকে দুই দলের খেলোয়াড়েরা একে অন্যকে কিল-ঘুষি ও লাথি মারতে লাগেন। বিষয়টি কেবল মাঠের খেলোয়াড়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি—ডাগআউট থেকে বেঞ্চের খেলোয়াড় এবং ক্লাব স্টাফরাও বrawl-এ জড়িয়ে পড়ে।

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে নিরাপত্তাকর্মী ও সামরিক পুলিশ মাঠে হস্তক্ষেপ করে; মামলাটি প্রায় দশ মিনিটের জন্য বন্ধ রাখতে হয়। শান্তি ফিরিয়ে আনতে বলা হলেও উত্তেজনা কাটিয়ে ওঠা সহজ ছিল না। ম্যাচ পুনরায় শুরু হলে রেফারি মূহুর্তেই কাউকে সরাসরি কার্ড না দিলেও ম্যাচ শেষে ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে যে ওই ঘটনায় মোট ২৩ জন খেলোয়াড়কে লাল কার্ড দেখানো হয়েছে।

    রিপোর্ট অনুসারে অ্যাটলেতিকো’র ১১ জন খেলোয়াড় লাল কার্ড পেয়েছেন—তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য নাম ব্রাজিলীয় সাবেক তারকা স্ট্রাইকার হাল্কও রয়েছেন—এবং ক্রুজেইরোর ১২ জন খেলোয়াড় লাল কার্ড পেয়েছেন। এই সংখ্যায় ১৯৫৪ সালে দেখা ২২ লাল কার্ডের ৭২ বছরের পুরোনো রেকর্ডও টপকানো হয়েছে।

    ফাইনালের এই দুর্ঘটনা ব্রাজিলীয় ফুটবলের জন্য বড় ধাক্কা—দর্শক ও ফুটবল মহলে প্রতিক্রিয়া পড়েছে এবং এখন দেখার বিষয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কি ধরনের শাস্তিমূলক বা গঠনমূলক পদক্ষেপ নেয়।