নেপালের এভারেস্ট অঞ্চলে লম্বা সময় ধরে টানা বর্ষণ, তুষারপাত ও ঝড়ো আবহাওয়ার কারণে শতাধিক পর্যটক আটকা পড়ে গেছেন। শনিবার ভারতের সংবাদসংস্থা পিটিআইয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
Blog
-

যুদ্ধবিরতির মধ্যেও গাজায় হামলা, ত্রাণের ৭৫% আটকে রেখেছে ইসরায়েল
মার্কিন মধ্যস্ততায় যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে, তা থেকে কিছুটা হলেও ত্রাণের প্রবাহ বেড়েছে বললেও পরিস্থিতি মোটেও স্বাভাবিক নয়। গাজায় অব্যাহত ইসরায়েলি হামলার কারণে ত্রাণের বড় অংশ এখনো পৌঁছাতে পারেনি। দেশটি প্রতিশ্রুত ত্রাণের মাত্র ২৫ শতাংশই গাজার মানুষের হাতে পৌঁছে দিতে পারছে, অর্থাৎ মোট ত্রাণের প্রায় ৭৫ শতাংশই আটকে রয়েছে ইসরায়েলি নিষেধাজ্ঞার কারণে। এ পরিস্থিতিতে মানবিক সংকট হৃদয়বিদারক পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন গাজার কর্তৃপক্ষ।
শনিবারের এক বিবৃতিতে গাজার সরকারী গণমাধ্যমে বলা হয়, গত ১০ থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ৩ হাজার ২০৩টি বাণিজ্যিক ও ত্রাণবাহী ট্রাক গাজায় প্রবেশ করেছে। তবে অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে মাত্র ১৪৫টি ট্রাকের অনুমতি দেয়া হয়েছে, যা দৈনিক ৬০০ ট্রাকের নির্ধারিত পরিমাণের খুবই কম—মাত্র ২৪ শতাংশ। এক পর্যায়ে, ইসরায়েলি দখলদার বাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে এই ট্রাকগুলোতে বাধা দিচ্ছে, যার ফলে ২৪ লাখেরও বেশি মানুষের মানবিক সংকট আরও মারাত্মকতর হয়ে উঠেছে।
এমন পরিস্থিতিতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, যেন তারা চাপ সৃষ্টি করেন, এবং শর্ত বা বিধিনিষেধ বিনা দ্বিধায় ত্রাণ প্রবেশের অনুমতি দেন। অর্থাৎ, কোনো শর্তের তোয়াক্কা না করে মানবিক কাজে এগিয়ে আসার জন্য সবাইকে অনুরোধ করা হয়েছে।
বিশেষ করে, দীর্ঘ দুই বছর সংঘর্ষের কারণে বহু পরিবার এখন আশ্রয়হীন। অনেকের ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে, তারা খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছেন। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র ফারহান হক জানান, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের নির্দেশে রুট পরিবর্তনের ফলে ত্রাণ কার্যক্রম বেশ বেসামাল হয়েছে। তিনি বলেন, “এখন কনভয়গুলোকে মিসরের সীমান্তঘেঁষা ফিলাডেলফি করিডর দিয়ে যেতে হচ্ছে, যা মারাত্মক যানজটে আটকে রয়েছে।” এ জন্য যান চলাচল সহজ করার জন্য আরও সীমান্ত ও অভ্যন্তরীণ রুট চালুর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
অন্যদিকে, যুদ্ধবিরতি ভেঙ্গে গাজায় ইসরায়েলি বাহিনী শনিবারও বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়েছে। খাস জোন হিসেবে পরিচিত দক্ষিণাঞ্চলীয় খান ইউনিসে বিমান, কামান ও ট্যাংকের গোলাবর্ষণে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়। উত্তর গাজার জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরের পাশের বেশ কয়েকটি ভবনও ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, “ইসরায়েলি ড্রোন ও ভারী গোলাবর্ষণে ঘরবাড়ি ও কৃষিজমি ধ্বংসস্তুপে রূপান্তরিত হচ্ছে।”
মহামারী বা জরুরি পরিস্থিতির মতো এই পরিস্থিতিতে, গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ২২২ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৫৯৪ জন আহত হয়েছেন। পুরো পরিস্থিতি মানবিক সংকটের দিকে এগোচ্ছে, যেখানে প্রতিদিনই অসংখ্য মানুষ আহত হচ্ছে, অনেক প্রাণ হারাচ্ছে।
-

২০২৬ সালের রোজা ও ঈদের সম্ভাব্য তারিখ জানালেন জ্যোতির্বিদরা
নতুন বছর শুরু হতে এখনো দুই মাসের বেশি সময় বাকি। এরই মধ্যে ২০২৬ সালের রমজান ও ঈদের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করেছেন বিশিষ্ট জ্যোতির্বিদরা। they জানিয়েছেন যে, এই বছর রমজানের শুরু হতে পারে ১৯ ফেব্রুয়ারি, যা মধ্যপ্রাচ্যসহ অন্যান্য বেশ কিছু দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।
গত ১৬ অক্টোবর, আমিরাতের জ্যোতির্বিদ্যা সংস্থার সভাপতি ইব্রাহিম আল-জারওয়ান জানিয়েছেন, ২০২৬ সালে হিজরি ১৪৪৭ সালের রমজান শুরু হবে আনুমানিক ১৭ ফেব্রুয়ারি। তবে সূর্যাস্তের এক মিনিট পরে চাঁদ আকাশে উঠবে বলে জানা গেছে, ফলে চাঁদটি খালি চোখে দেখা সম্ভব নয়। তাই, ধারণা করা হচ্ছে, রমজানের সূচনা হবে ১৮ ফেব্রুয়ারি নয়, বরং ১৯ ফেব্রুয়ারি।
এছাড়া, ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে ২০ মার্চ, শুক্রবার। তিনি আরো বলেছেন, রমজানের প্রথম দিন হবে ১৯ ফেব্রুয়ারি, এবং শাওয়াল মাসের প্রথম দিন হিসেবে ঈদ উৎসবের দিন নির্ধারিত হবে ২০ মার্চ।
প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যপ্রভৃতি দেশগুলিতে রোজার সময়কাল বৃদ্ধি পাবে। প্রথমে প্রতিদিন প্রায় ১২ ঘণ্টা রোজা বজায় থাকবে, যার পরিমাণ ধীরে ধীরে বাড়বে। কালানুক্রমে এটি পৌঁছাবে ১৩ ঘণ্টার কোটার দিকে।
আল-আরাবিয়া সূত্র বলছে, সৌদি আরবের চাঁদ দেখার কমিটি আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি বৈঠক করবে, যেখানে রমজান শুরু ও ঈদের তারিখ নির্ধারণের জন্য আলোচনা হবে। জানা যায়, সৌদি আরব তাদের নিজস্ব উম আল-কুরা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী রোজা ও ঈদ ঘোষণা করে। তবে উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যের চাঁদ দেখার তারিখের সঙ্গে বাংলাদেশের সময়ের ভিন্নতা থাকায়, বাংলাদেশের জন্য সম্ভাব্য তারিখ হলো ২০ ফেব্রুয়ারি রোজার প্রথম দিন এবং ২১ মার্চ ঈদুল ফিতর পালন হতে পারে।
-

আজাদ: সব রাজনৈতিক দলের সমান সুযোগ ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে
জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য এবং খুলনা অঞ্চলের সহকারী পরিচালক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বলেছেন, দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে জুলাই জাতীয় সনদকে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। এই প্রেক্ষাপটে তিনি জোর দিয়ে বলেন, গণভোটের মাধ্যমে জুলাই জাতীয় সনদকে আইনি স্বীকৃতি প্রদান করে তার ভিত্তিতে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের দাবি তুলছেন তারা। আজাদ আরও উল্লেখ করেছেন, দেশের জনগণ একটি সম্পন্ন, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন প্রত্যাশা করে। এজন্য তিনি সব রাজনৈতিক দলকে সমান সুযোগ ও স্বাধীনভাবে কার্যক্রম চালানোর পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
গতকাল শনিবার সকালে নগরীর সোনাডাঙ্গায় আল ফারুক সোসাইটি মিলনায়তনে জামায়াতের খুলনা অঞ্চলের নির্বাচনী দায়িত্বশীল সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খুলনা অঞ্চলের নির্বাচনী দায়িত্বশী মাস্টার শফিকুল আলম। উপস্থিত ছিলেন খুলনা অঞ্চল টিমের সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা মশিউর রহমান খান, মুহাদ্দিস রবিউল বাসার, খুলনা মহানগরীর আমীর অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান, সাতক্ষীরার আমীর শহিদুল ইসলাম মুকুল, বাগেরহাট জেলার আমীর মাওলানা রেজাউল করিম, খুলনা জেলা নায়েবে আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা কবিরুল ইসলাম, মহানগর সেক্রেটারি এড. শেখ জাহাঙ্গীর হোসাইন হেলাল, জেলার সেক্রেটারি মুন্সী মিজানুর রহমান, বাগেরহাট জেলার সেক্রেটারি শেখ মোহাম্মদ ইউনুস, বাগেরহাট-৩ আসনের জামায়াত মনোনীত সংসদপ্রার্থী অধ্যক্ষ আব্দুল আলিম, বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্যপ্রার্থী মঞ্জুরুল হক রাহাতসহ আরও অনেকে। এতে খুলনা অঞ্চলের চারটি জেলার প্রতিনিধি, মহানগরীর ১৩টি আসনের পরিচালকদের পাশাপাশি সদস্য সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।
-

নির্বাচন নিয়ে নতুন ষড়যন্ত্রের মোকাবেলা করবে জনগণ: এড. মনা
মহানগর বিএনপি’র সভাপতি এড. শফিকুল আলম মনা বলেছেন, আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নতুন ষড়যন্ত্র চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করে আসছি। যারা আবারও ভোট চুরি কিংবা ভোট বঞ্চনার অপচেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে জনগণের সম্পৃক্ততা দিয়ে কঠোরভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। গতকাল শনিবার রাতে নগরীর ২৯, ৩০ ও ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মীসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
শফিকুল আলম মনা আরও বলেন, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার দেশের গণতন্ত্র ও মানুষের মৌলিক অধিকার লুণ্ঠন করছে। বিএনপি’র হাজারো নেতা-কর্মীকে পরিকল্পিতভাবে গুম, হত্যা ও নির্যাতনের শিকার করা হচ্ছে। ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলমসহ অনেক নেতার সন্ধান আজও মেলেনি, তাদের পরিবারের সদস্যরা কান্নার আঁচড়ে এই অন্ধকারে ডুবছে।
জিয়া পরিবারের ত্যাগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জিয়া পরিবার। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় বন্দি করে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। তারেক রহমানের ভাই শোনাতে পারছেন না তাঁর মা’কে, কারণ এখন তিনি জনতার মা।’
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে মনা বলেন, “জিয়াউর রহমান জনগণের কল্যাণে জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। খনন প্রকল্প থেকে শুরু করে গণশিক্ষা কার্যক্রম—all এসব সাধারণ মানুষের উন্নয়নের জন্য। মৃত্যুর পরও তার নামে কোনও বিত্ত-বৈভব থাকেনি।”
বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৩১ দফা পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, “তারেক রহমান দেশের মানুষের জন্য নতুন স্বপ্ন দেখিয়েছেন। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘হেলথ কার্ড’ চালু করা হবে, যার মাধ্যমে জনগণ অর্ধমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে পারবে এবং বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা পাবেন। পাশাপাশি এক কোটি বেকার কর্মসংস্থানও নিশ্চিত করা হবে।”
ধর্মীয় রাজনীতির অপব্যবহার নিয়ে তিনি বলেন, “আজকাল কেউ কেউ জান্নাতের টিকিট বিক্রি করছে। বলে, আমাদের ভোট দিলে আপনি জান্নাতে যাবেন। এটি আল্লাহর সঙ্গে শিরক করার সমান, যা কখনো ক্ষমার যোগ্য নয়।” তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে 앞으로 আসন্ন আন্দোলনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান।
সভায় উদ্বোধক ছিলেন মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. মিরাজুর রহমান মিরাজ এবং প্রধান বক্তা ছিলেন সদস্য সচিব মো.ইস্তিয়াক আহমেদ ইস্তি। বিশেষ বক্তা ছিলেন সিনিয়র যুগ্ম-আহবায়ক মুনতাসির আল মামুন। বিশেষ অতিথি ছিলেন মহানগর বিএনপি’র সাবেক যুগ্ম-আহবায়ক বদরুল আলম খান, সদর থানা বিএনপি’র সভাপতি কে. এম হুমায়ুন কবির ও সাধারণ সম্পাদক ফরিদ আহমেদ মোল্লা। সভাপতিত্ব করেন সদর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক গোলাম কিবরিয়া এবং সঞ্চালনায় ছিলেন সদস্য সচিব রায়হান বিন কামাল। অনুষ্ঠানে খুলনা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের বিভিন্ন ওয়ার্ডের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
-

নির্বাচনে জনগণের অধিকার ফিরিয়ে আনাই বিএনপির মূল লক্ষ্য: বকুল
বিএনপি’র কেন্দ্রীয় ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল বলেছেন, বিএনপি’র আন্দোলনের লক্ষ্য ক্ষমতা দখল নয়, বরং হারানো জনগণের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনা। তিনি বলেন, আমরা দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য রাজপথে সংগ্রাম করে যাচ্ছি। আমাদের একটাই লক্ষ্য—‘আমার ভোট আমি দেবো, যেখানে খুশি সেখানে দেবো’ এই শ্লোগানকে বাস্তবে রূপ দেওয়া।
শনিবার বিকেলে নগরীর ৬নং ওয়ার্ডের এলাকা নির্বাচিত সাধারণ নারী ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে এসব কথা বলেন। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা বকুল।
বকুল বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয় বলে তারা দমন-পীড়ন চালাচ্ছে। বলেন, এ দীর্ঘ সংগ্রামে আমাদের অসংখ্য নেতা-কর্মী খুন ও গুম হয়েছেন। লক্ষ লক্ষ নেতা-কর্মী পঙ্গু হয়ে গেছে, বহু পরিবার তাদের প্রিয়জন হারিয়েছেন, তবে তাদের ন্যায়বিচার পাননি। ছাত্রনেতারা পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি, শিক্ষাজীবন নষ্ট হয়েছে।
তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কারাবাসের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, দেশের নিরীহ নেত্রীকে নির্জন কক্ষে বন্দি করা হয়েছিল শুধুমাত্র জনগণের অধিকার নিয়ে কথা বলার অপরাধে। তিনি বলেন, যদি তিনি আপোষ করতেন, মুক্তি পেতেন, কিন্তু জনগণের অধিকার প্রশ্নে কখনো আপোস করেননি।
বকুল আরো বলেন, অনেকেই বলতেন — খুন হতে চাই না, গুম হতে চাই না। কারণ, খুন হলে অন্তত লাশ পাওয়া যায়, কিন্তু গুম হলে পরিবার বারবার অপেক্ষা করে থাকে। এই নির্মম পরিস্থিতি দেশের সরকার এই ঘটনা সৃষ্টি করেছে।
তিনি বলেন, বিএনপি একটিই লক্ষ্য—একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক ও জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা। আমরা চাই একটি এমন দেশ যেখানে প্রতিটি নাগরিকের অধিকার সুরক্ষিত থাকবে, ভোটের মাধ্যমে সরকার গঠিত হবে, এবং সেই সরকার জনগণের পাশে থাকবে।
সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন মহানগর বিএনপি’রের সভাপতি শফিকুল আলম মনা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সাদী, সাবেক যুগ্ম-আহবায়ক চৌধুরী শফিকুল ইসলাম হোসেন, শিক্ষক জয় প্রকাশ, সালমা বেগম, মদীনা হাওলাদার, মিতা শাহা, হিরা খাতুন প্রমুখ। -

নগরীতে বাসা ভাড়া দেখানোর নামে ডাকাতি, গ্রেফতার ৩
নগরীর দুটি আলাদা ঘটনায় বাসা ভাড়া দেখানোর নাম করে প্রতারকদের দল গৃহবধূর হাতে-পায়ে বাঁধে এবং টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যায়। এই ঘটনাগুলির মধ্যে একটি নগরীর পূর্ব বানিয়াখামার এলাকায় ঘটে, যেখানে প্রতারক চক্রের সদস্যরা বাসা দেখানোর জন্য যোগাযোগ করে। পরে তারা চয়ন কুমার মন্ডলের স্ত্রী প্রতিমা মণ্ডলকে পিস্তল দেখিয়ে জিম্মি করে। এর পর তাকে বেঁধে রাখে এবং ঘর থেকে ৬২ হাজার টাকা ও প্রায় দুই ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নেয়। এই ঘটনা জানার পর চয়ন কুমার মণ্ডল সদর থানায় মামলা করেন। পুলিশ প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে খানজাহান আলী রোডের একটি বাড়ি থেকে তিনজনকে গ্রেফতার করে। তাদের কাছ থেকে একটি পিস্তল সদৃশ লাইটার, তিনটি মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য কিছু সামগ্রী উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা ডাকাতির কথা স্বীকার করেছে। এদের সঙ্গে জড়িত আরও কেউ থাকলে তাকেও শনাক্তের জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে।
-

খুলনা জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব মনিরুল হাসান বাপ্পি নির্বাচন
খুলনা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ছিলেন আবু হোসেন বাবু। বেশ কিছুদিন ধরে তার সুস্থতার জন্য চিকিৎসা চলছিল। এতেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন, ফলে কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেন, পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত মনিরুল হাসান বাপ্পিকে ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিবের দায়িত্ব প্রদান করা হবে।
সোমবার (১ নভেম্বর) দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাড. রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, গত ২৯ ডিসেম্বর রাতে বিএনপির নেতাকর্মী শেখ আবু হোসেন বাবুকে মিনিস্ট্রোতে ভর্তি করানো হয়। পরে তার অবস্থা অবনতির কারণে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে স্কয়ার হাসপাতাল স্থানান্তর করা হয়। গত ৩১ ডিসেম্বর তার এক অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়, তবে তিনি সম্পূর্ণভাবে সুস্থ হয়ে ওঠেননি।
অন্যদিকে, গত ৩ মে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডের এক আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা শেষে ৩০ জুলাই দেশে ফিরেছেন তিনি।
অতীতে, গত বছর ১৯ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রের সিদ্ধান্তে খুলনা জেলা বিএনপির পুরোনো আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। এরপর, ১৩ ডিসেম্বর নতুন করে তিন সদস্যের জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এই কমিটিতে মো. মনিরুজ্জামান (মন্টু) আহ্বায়ক, শেখ আবু হোসেন (বাবু) সদস্য সচিব, এবং মো. মোমরেজুল ইসলাম জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে নিয়োগ পান।
-

কেন্দ্রীয় ব্যাংক মন্দ ঋণ অবলোপনে সময়সীমা শিথিলের নির্দেশনা দিল
বাংলাদেশ ব্যাংক বিজ্ঞপ্তি দিয়ে মন্দ ঋণ অবলোপনের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোর জন্য সময়সীমা শিথিল করেছে। পাশাপাশি, এখন থেকে অবলোপনের আগে অন্তত ৩০ কর্মদিবস আগে ঋণগ্রহীতাকে লিখিত নোটিশ পাঠানোর বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে যেন ঋণগ্রহীতা বিষয়টি আগে থেকেই জানতে পারে।
সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংক ১৮ ফেব্রুয়ারির পূর্বের নীতিমালা সংশোধন করে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। এর মাধ্যমে জানানো হয়েছে, এখন থেকে যেসব ঋণ দীর্ঘ সময় ধরে মন্দ বা ক্ষতিজনক শ্রেণিতে রয়েছে এবং ভবিষ্যতে তার পরিশোধের সম্ভবনা ক্ষীণ, সেগুলো অবলোপন করা যাবে। এর জন্য অবশ্য পুরোনো ঋণগুলোকে কালানুক্রমিকভাবে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
নতুন নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ঋণ অবলোপনের জন্য অন্তত ৩০ কর্মদিবস আগে ঋণগ্রহীতাকে লিখিত নোটিশ দিতে হবে। কারণ, ঋণ অবলোপনের পরও ঋণগ্রহীতা দায়মুক্ত হন না; অর্থ পরিশোধ না করা পর্যন্ত তিনি খেলাপি হিসেবেই বিবেচিত থাকবেন।
এছাড়া, অবলোপনযোগ্য অন্যান্য সুরক্ষা বা মৃত ব্যক্তির নামে থাকা ঋণ ব্যাংক নিজের বিবেচনায় অবলোপন করতে পারবে, তবে মৃত ব্যক্তির উত্তরসূরি থাকলে সেটির বিষয়টি বিবেচনায় আনতে হবে। ব্যাংকের নিজস্ব নীতিমালার আওতায় অবলোপিত ঋণের আর্থিক প্রণোদনার সুযোগ রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজন হলে পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদনক্রমে এই নীতিমালা প্রণয়ন করা যাবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ঋণ অবলোপনের আগে বন্ধকীকৃত সম্পত্তি বিক্রির সব প্রচেষ্টা চালাতে হবে এবং আইনগত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। যদি মামলার আওতায় না আসে, তবে পাঁচ লাখ টাকার ঋণ বা মৃত ব্যক্তির নামে থাকা যেকোনো পরিমাণ ঋণ মামলা ছাড়া অবলোপন করা যাবে। এর আগে, ঋণের স্থিতি থেকে স্থগিত সুদ বাদ দিয়ে অবশিষ্ট অর্থের সমপরিমাণ প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হবে।
নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, কোনো ঋণ আংশিকভাবে অবলোপন করা যাবে না, এবং ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন ছাড়া এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে না।
এক শীর্ষ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ডলার সংকট কমে আসায় দেশের বৈদেশিক রিজার্ভ বেড়ে গেছে। এর ফলস্বরূপ, ব্যাংকগুলোর আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা মন্দ ঋণ অবলোপনের শিথিলতাকে সহজ করবে এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাকে আরও বাস্তবসম্মত করে তুলবে।
-

আবার কমলো স্বর্ণের দাম প্রতিভরিতে ৩৬৭৪ টাকা
দেশের বাজারে স্বর্ণের মূল্য আবার কমানো হয়েছে। স্থানীয় বাজারে তেজাবী বা পাকা স্বর্ণের দাম কমার পরিপ্রেক্ষিতে এখন থেকে দেশের বাজারেও স্বর্ণের দাম হ্রাস করা হয়েছে। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) দাম ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা কমে গেছে। একইভাবে, রূপার দামও নিম্নমুখী। এটি আজ মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হবে বলে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) নিশ্চিত করেছে।
নতুন দাম অনুযায়ী ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের মূল্য নির্ধারিত হয়েছে ২ লাখ ৪ হাজার ২৮৩ টাকা। বছরনতুন মান অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ৪৯৯ টাকা কমিয়ে এক লাখ ৯৪ হাজার ৯৯৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম কমিয়ে নতুন মূল্য হয়েছে এক লাখ ৬৭ হাজার ১৪৫ টাকা। এছাড়াও, সনাতন পদ্ধতির (প্রথাগত) এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ৫৫৫ টাকা হ্রাস পেয়ে এখন নির্ধারিত হয়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৯৪১ টাকা।
বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং এর বৈঠকে এই দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে কমিটির সভাপতি মাসুদুর রহমানের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।
অন্যদিকে, ভালো মানের ২২ ক্যারেটের এক ভরি রূপার দাম ১২৪ টাকা কমে এখন নির্ধারিত হয়েছে ৪ হাজার ২৪৬ টাকা। ২১ ক্যারেটের রূপার দাম ১৬৭ টাকা কমে হয়েছে ৪ হাজার ৭ টা টাকা। ১৮ ক্যারেটের রূপার দাম ৯৯১ টাকা কমে নতুন মূল্য ৩ হাজার ৪৭৬ টাকা। একইভাবে, সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রূপার দাম ৭৫৮ টাকা হ্রাস পেয়ে এখন ২ হাজার ৬০১ টাকা।
