খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় তরুণদের ভূমিকা অপরিহার্য। একজন সচেতন ও দায়বদ্ধ তরুণই পারে ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও উন্নত সমাজ গঠনে নেতৃত্ব দিতে।
তিনি আরও বলেন, আমরা যতই বলি আজকের শিশু-তরুণই আগামী দিনের দেশের কর্ণধার, বাস্তবে তা সব ক্ষেত্রেই মানা হয়ে ওঠে না। বিশেষ করে স্লাম এলাকায় থাকা ছোট শিশুদের মধ্যে স্কুলে যাওয়ার আগ্রহ কমে যাচ্ছে; অনেকের বাবা-মা লেখাপড়ার বদলে দ্রুত আয় শুরু করাকেই প্রাধান্য দেন। এসব শিশুকে বিদ্যালয়মুখী করার জন্য সরকারকে প্রস্তাব পাঠানো হবে বলে তিনি জানান।
নজরুল ইসলাম মঞ্জু এসব কথা বলেন মঙ্গলবার দুপুরে নগরের সিএসএস আভা সেন্টারে আয়োজিত বার্ষিক শিশু ও যুব সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে। সম্মেলনটি ওয়ার্ল্ড ভিশন-বাংলাদেশ আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রতিপাদ্য ছিল — তারুণ্যের প্রত্যয়ে মুছে যাবে ভেদ, গড়ব সুশাসন ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ। প্রকল্পভিত্তিক শিশু ও যুব ফোরামের সদস্যরাও অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
কেসিসি প্রশাসক বলেন, প্রধানমন্ত্রী তাকে একটি পরিচ্ছন্ন, দুষণমুক্ত ও সবুজ শহর গড়ে তোলার পাশাপাশি ড্রেনগুলো এমনভাবে পরিস্কার করার নির্দেশ দিয়েছেন যাতে মশার লার্ভা ও উৎপত্তিস্থল নষ্ট হয়। ওপরের ঝুলন্ত তারগুলো মাটির নিচে সরিয়ে নিরাপদ ও সুন্দর শহর গড়ে তোলা হবে—এই লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছেন তিনি।
তিনি আরও জানান, ওয়ার্ল্ড ভিশন যে কাজগুলো করছে, সেগুলোতে সিটি কর্পোরেশন প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে। বিশেষ করে শিশুদের পুষ্টি, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, শিক্ষা ও জীবিকা বিষয়ক উদ্যোগগুলোতে সমন্বয় করা হবে।
ওয়ার্ল্ড ভিশন-বাংলাদেশ ২০২৪ সাল থেকে ‘খুলনা শহর এরিয়া কর্মসূচি’র আওতায় নগরের ৩১টি ওয়ার্ডে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয়ে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর সার্বিক উন্নয়নে কাজ করছে। কর্মসূচির ফোকাসে রয়েছে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি, শিশু নিরাপত্তা, জীবিকায়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন।
সম্মেলনে তরুণদের জন্য আলাদা সেশনে ধরা হয় দায়িত্বশীল অনলাইন আচরণ, গণমাধ্যম সচেতনতা, ইতিবাচক ডিজিটাল কার্যক্রমে অংশগ্রহণ এবং প্রযুক্তি ব্যবহার করে সমাজে কিভাবে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা যায়। বিশেষজ্ঞরা এই বিষয়ে ধারণা ও পরামর্শ দেন। কেসিসি প্রশাসক আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে তরুণ সমাজ ঐক্য, সততা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে এগিয়ে এলে একটি সুশাসনভিত্তিক, সম্প্রীতিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ নগরী গড়ে তোলা সম্ভব।
সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন ওয়ার্ল্ড ভিশন-বাংলাদেশের সিনিয়র ম্যানেজার ফুলি সরকার। বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, খুলনার উপ-পরিচালক এস এম বদিউজ্জামান; পিবিআই-খুলনার পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন; যুব ফোরামের সহ-সভাপতি আফরোজা স্বর্ণা এবং সেক্রেটারি খন্দকার ওয়ালিদ।
