দাকোপ উপজেলার পানখালী ইউনিয়নের মৌখালী গ্রামে ভয়াবহ নদী ভাঙনের কারণে আতঙ্কে জীবন যাপন করছে প্রায় ২০ হাজার মানুষ। ঝুঁকিপূর্ণ এ নদী বাঁধটি দ্রুত সংস্কার না করলে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে বলে জনমত গড়ে উঠেছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, যদি এ বাঁধ সংস্কার করা না হলো, তবে এটি এক মুহূর্তের মধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে, যার ফলে পানখালী ও তিলডাঙ্গা ইউনিয়নের প্রায় অর্ধশত গ্রাম প্লাবিত হতে পারে। এছাড়া পাউবো’র ৩১ নম্বর পোল্ডারের বিভিন্ন এলাকার নদীর পানি স্বাভাবিকের থেকে ৩ থেকে ৪ ফুট বেশি বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন নদী ভাঙনের আশংকা বেড়েছে। মৌখালী, পানখালী, লঙ্খোলা, খাটাইল, কাটাবুনিয়া, হোগলা বুনিয়া সহ বিভিন্ন গ্রামের প্রায় ২ হাজার পরিবারের লোকজন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। একই সময় ভদ্রা, আন্ধার মানিক, পশুর, ঢাকী, শিবসা নদীর পানি শুধু বৃদ্ধি পেয়ে পরিস্থিতি আরো সংকটগ্রস্ত করে তুলছে। এ সকল নদী ভাঙন দ্রুততর না হলে বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় ঠেকে রয়েছে। স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, কিছু দিন আগেই মৌখালী গাজী বাড়ির সামনে ভয়াবহ ফাটল দেখা দিলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিকে জানিয়েছিলেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেবার কারণে এখন বড় ক্ষতি হয়ে গেছে। ইউনিয়নের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, পানিবেষ্টিত এ বাঁধের অবস্থা আরও ভয়াবহ হয়ে পড়েছে। জনসাধারণের মানবিক বিপর্যয় এড়ানোর জন্য দ্রুত কার্যকরী ব্যবস্থা নেয়ার দাবি উঠে এসেছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য ও এলাকাবাসীর কথায়, পাউবো কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ না নেওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। চেয়ারম্যান শেখ সাব্বির আহম্মেদ সতর্ক করে দিয়ে বলেন, দ্রুত বিকল্প বাঁধ নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাউবো’র উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মধুসুদন পাল জানান, সরেজমিন পর্যবেক্ষণ শেষে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধটি সংস্কারের জন্য পরিকল্পনা শুরু হয়েছে। আশেপাশের অন্যান্য নদীর ভাঙন রোধে কার্যক্রম চালানোর জন্যও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেতে দ্রুত দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে।
Blog
-

নিষিদ্ধআ.লীগের সাবেক এমপি পীযুষ কান্তি আর নেই
আজ বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) ভোরে যশোরের বেজপাড়া এলাকার এক ভাড়া বাড়িতে মৃত্যুবরণ করেন আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট পীযুষ কান্তি ভট্টাচার্য্য। এই সংবাদটি তার বড় ছেলে বাবলুর মাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন। পীযুষ কান্তি ভট্টাচার্যের বয়স হয়েছিল প্রায় ৮৫ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
পীযুষ কান্তি ভট্টাচার্য্য স্ত্রীকে নিয়ে শহরের বেজপাড়ার ভাড়াবাড়িতে বসবাস করতেন। তার রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ১৯৬৬ সালে, এরপর ১৯৭৩ সালে তিনি জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এ সময় তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। উল্লেখ্য, তার জীবনমুখী আন্দোলন ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য তিনি দেশের জন্য পরিচিত একজন প্রবীণ নেতা ছিলেন। এখন তার অনুপस्थिति দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসেছে।
-

কালীগঞ্জে ১৮০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ মাদক কারবারী আটক
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে এই প্রথমবারের মতো নতুন ধরনের মাদক ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ একজন মাদক কারবারীকে আটক করেছে হাইওয়ে পুলিশ। এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক একটি মাদক, যার সঙ্গে সাধারণত ইয়াবা বা হেরোইনের মতোই ভয়ঙ্কর প্রভাব রয়েছে। মাদকসেবীরা সাধারণত এই ট্যাবলেটটি বিভিন্ন রোগের ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করে থাকলেও, দুষ্কৃতিকারীরা অবৈধভাবে এগুলো সংগ্রহ করে মাদক হিসেবে সেবন করছেন।
বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে কালীগঞ্জের বারবাজারের ফুলবাড়ী এলাকা থেকে এই মাদকসহ সিরাজুল ইসলাম (৩৮) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে হাইওয়ে পুলিশ। সিরাজুলের পিতা জালাল উদ্দিন, তিনি ইবনে পীরজনা থানাধীন উজান গ্রামের বাসিন্দা। পরে বৃহস্পতিবার বিকালে তাকে মাদকসহ কালীগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়।
হাইওয়ে থানার অফিসার্স ইনচার্জ আলমগীর কবির বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা রাত সাড়ে ১২টায় বারবাজার ফুলবাড়ী এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় রেলগেট সংলগ্ন ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ওপর থেকে সিরাজুলকে আটক করেন এবং তার কাছ থেকে ১৮০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করেন।
অফিসার আরও জানান, এই নতুন ধরনের মাদক ট্যাবলেটটি মাদকসেবীদের মধ্যে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এটি ভারতের একটি ঔষধ কোম্পানি দ্বারা তৈরি হয়, যেখানে এটি ব্যাথানাশক ওষুধ হিসেবে ব্যবহার হয়। কিন্তু দুষ্কৃতিকারীরা এই ওষুধগুলো অবৈধভাবে এনে মাদক হিসেবে বিক্রি করছেন। তারা মনে করেন, অতিরিক্ত সেবনে মাদকসেবীরা নেশার ঘোরে চলে যায়, যা শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
বৃহস্পতিবার মাদকসহ ওই ব্যক্তি সিরাজুলকে কালীগঞ্জ থানায় সোপর্দ করা হয়। কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম বলেন, নতুন এই মাদকদ্রব্য ট্যাপেন্টাডলসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে মামলার আওতায় আনা হয়েছে।
-

পাটকেলঘাটায় ভাড়ার মোটরসাইকেল চালকের মৃত্যু
সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটায় ভাড়ায় চালিত এক মোটরসাইকেল চালকের মৃতদেহ আজ বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) ভোর ৫টার দিকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটে পাটকেলঘাটা থানার চারাবটতলা এলাকায়, যেখানে স্থানীয়রা আবিষ্কার করে তার মরদেহ বলে জানা গেছে।
নিহত ব্যক্তির নাম মোঃ অহিদ মোড়ল (৩৪)। তিনি সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা থানার খলিশখালী ইউনিয়নের হাজরাপাড়া গ্রামের মো. আব্দুর রশিদ মোড়লের ছেলে।
স্থানীয় বাসিন্দা মাহমুদুল ইসলাম জানান, অহিদ মোড়ল পেশায় একজন ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালক। বুধবার বিকেলে তিনি নিজের মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন, কিন্তু রাতে ফেরেননি। ধারণা করা হচ্ছে, অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা তার মোটরসাইকেল ভাড়া নিয়ে একই রাতে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে মরদেহটি রাস্তার পাশে ফেলে রেখে তারা পালিয়ে যায়। ভোরে স্থানীয়রা চারাবটতলার এলাকায় মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন।
পাটকেলঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ শাহিনুর রহমান বলেন, স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, আমরা ওই এলাকায় একটি মরদেহ উদ্ধার করেছি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি ভাড়ার মোটরসাইকেল চালক। মরদেহটি ময়না তদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। মর্গে ময়না তদন্তের রিপোর্ট আসলে মৃত্যুর স্পষ্ট কারণ জানা যাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
-

খুলনায় পুলিশের ৫৯তম ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল ব্যাচের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত
খুলনা পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে আজ বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) সকাল থেকে অনুষ্ঠিত হলো পুলিশের ৫৯তম ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) ব্যাচের সমাপনী কুচকাওয়াজ। এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন মোট ৫৪৬ জন প্রশিক্ষণার্থী, যারা দীর্ঘ প্রশিক্ষণের শেষ পর্যায়ে এই গৌরবোজ্জ্বল মুহূর্তে অংশগ্রহণ করে। সমাপনী কুচকাওয়াজের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকেন বাংলাদেশ পুলিশের অ্যাডিশনাল আইজি মোঃ মোস্তফা কামাল। তিনি ট্রেনিং সেন্টারের প্যারেড গ্রাউন্ডে এসে মনোমুগ্ধকর কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন এবং সালাম গ্রহণ করেন। কেন্দ্রীয় অতিথি হিসেবে তিনি কৃতি প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে পুরস্কার ও ট্রফি বিতরণ করেন। এই ব্যাচের মধ্যে বিভিন্ন বিভাগে পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে সর্ববিষয়ে চৌকস হিসেবে নির্বাচিত হন শেখ আবু তুরাব, এবং মাসকেট্রিতে শ্রেষ্ঠ হিসেবে মোঃ শাকিলকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
অ্যাডিশনাল আইজি তরুণ প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের উদ্দেশ্যে বলেন, জনগণের জীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, মানবিক মূল্যবোধ ও ন্যায্যতার প্রতিষ্ঠায় তাদের দায়িত্ব এখন আরও বাড়তি। তিনি বিশ্বাস করেন, এই প্রশিক্ষণে অর্জিত জ্ঞান, দক্ষতা ও মূল্যবোধ জীবনের পথপ্রদর্শক হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ পুলিশ জাতির অভ্যুত্থান, শান্তি, ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। পুলিশের দায়িত্ব কেবল আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা নয়, বরং সমাজে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, মাদক নিয়ন্ত্রণ, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, নারী ও শিশুদের সুরক্ষা, এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতেও তাদের অবদান অপরিহার্য। তিনি উল্লেখ করেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় শুরু হয়েছিল পুলিশের অসাম্প্রদায়িক ও সাহসীকতার ইতিহাসের প্রথম অধ্যায়, যেখানে রাজাকারবিরোধী প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন পুলিশ সদস্যরাই। এই আত্মত্যাগ ও সাহসিকতা আমাদের জাতীয় গর্ব। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যত বাংলাদেশের নেতৃত্ব গড়তে এই প্রশিক্ষিত তরুণরাই মূল ভূমিকা পালন করবে। তারা জনগণের আস্থা অর্জন করে দেশের সেবায় নিয়োজিত হবে। পাশাপাশি, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ পুলিশ সুনামের সাথে অংশ নিচ্ছে। প্রধান অতিথি নবীনদের প্রতি নির্দেশনা দিয়ে বলেন, দেশের গৌরব রক্ষা, সমস্ত ভেদাভেদ ভুলে সমাজে ন্যায় ও শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য দায়িত্বশীলতা, সততা ও পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করুন।
উপস্থিত ছিলেন খুলনা পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট মোঃ মাহবুবুর রহমান ভুঁইয়া, জাহানাবাদ সেনানিবাসের কমান্ড্যান্ট ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী সাজ্জাদ হোসেন, খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি মোঃ রেজাউল হক, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোঃ জুলফিকার আলী হায়দার, বিভিন্ন পর্যায়ের সেনা ও পুলিশ কর্মকর্তারা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রশিক্ষণার্থীদের অভিভাবকগণ। অনুষ্ঠানে যোগ দেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, যারা তরুণ প্রজন্মের এই প্রশিক্ষণের গুরুত্ব গুরুত্ব দেয়। এটি ছিল একটি গর্বের মুহূর্ত, যেখানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এই তরুণরা ভবিষ্যতের प्रहरी হিসেবে নিজেদের প্রস্তুত করে উঠছে।
-

অক্টোবরের রিজার্ভ ৩২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে; বছরব্যাপী বৃদ্ধি দেখা গেছে
দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের এই উল্লম্ফনে দেশপ্রেমে স্বস্তি ফিরেছে। চলতি বছর অক্টোবরের ৩০ তারিখ পর্যন্ত দেশের রিজার্ভ ৩২ বিলিয়ন ডলানের বেশি হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুসারে, এই সংখ্যাকিছুটা কম বলে গণ্য হলেও, মোট রিজার্ভ বেড়েছে অন্যভাবে—প্রায় ২৭.৫৪ বিলিয়ন ডলার। এর থেকে আলাদা রিজার্ভ হিসাব রয়েছে, যা বাংলাদেশ ব্যাংক আইএমএফকে দেখায় না, তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী সেটি ২১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।
শুধু ২০২৪ সালের অর্ধেকের তথ্য বলছে, অক্টোবর ৩০ পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩২.১৪ বিলিয়ন ডলার। আর বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ সোয়া ২৭.৫৪ বিলিয়ন ডলার। এর পাশাপাশি, বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্য একটি হিসাব অনুযায়ী (যা প্রকাশ্য নয়) রিজার্ভের পরিমাণ ২১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৩ সালের পর থেকে রিজার্ভের ধারাবাহিক বৃদ্ধি দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক সংকেত।
অর্থনীতির অন্যতম সূচক হলো বৈদেশিক মুদ্রার মজুত বা রিজার্ভ। এর জন্য মূল উৎস হলো প্রবাসী আয়, রফতানি, বিদেশি বিনিয়োগ ও ঋণ থেকে প্রাপ্ত ডলার। অন্যদিকে, দেশের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যয়—যামান, ঋণের সুদ, শিক্ষার্থী ও পর্যটকদের ভিসা খরচ—মিলিয়ে এই মুদ্রা ব্যয় হয়। এসব অর্থ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ গঠিত হয়, আর বেশি খরচ হলে তা কমে যায়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে প্রবাসীদের রেমিট্যান্স পাঠানোর ধরণ পরিবর্তিত হয়েছে। এর ফলে, বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংককে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করতে হয়নি। বরং ব্যাংকগুলো থেকে ডলার পরিচালনা করে তারা।
আর্থিক দিক থেকে দেখলে, চলমান অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে দেশে এসেছে ২৪৭.৭৯ কোটি ডলার রেমিট্যান্স, আগস্টে তা ছিল ২৪২.২০ কোটি ডলার, সেপ্টেম্বরেএসেছে ২৬৮.৫৮ কোটি ডলার এবং অক্টোবরে তা দাঁড়ায় ২৫৬ কোটি ডলার। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মার্চে রেকর্ড ৩২৯ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স প্রবাহ ছিল। সার্বিকভাবে, ওই অর্থবছরে প্রবাসী আয় এসেছে ৩০.০৩ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ২৬ শতাংশ বেশি।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, মাত্র ১০ বছর আগে, অর্থাৎ ২০১৩ সালের জুনে, দেশের রিজার্ভ ছিল ১৫.৩২ বিলিয়ন ডলার। তার পর ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেয়ে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে রিজার্ভ পৌঁছায় ৩৯ বিলিয়ন ডলারে। এরপর, নভেম্বর ২০২১-এ তা ৪৮.০৪ বিলিয়ন ডলারে গিয়ে পৌঁছায়। তবে, এরপর অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে রিজার্ভ ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকে এবং ২০২৪ সালে তা কিছুটা সংকোচনের দিকে যায়।
-

প্রাইজবন্ডের ১২১তম ড্র: প্রথম পুরস্কার জিতলেন নম্বর ০১০৮৩৩১
বাংলাদেশের প্রাইজবন্ডের ১২১তম ড্র অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই ড্রয়ে প্রথম পুরস্কার হিসেবে জিতেছেন নম্বর ০১০৮৩৩১, যার মূল্য ৬ লাখ টাকা। দ্বিতীয় পুরস্কার পেয়েছেন ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা, যা অর্জন করেছে নম্বর ০১৫৬৮৯৭। এছাড়া, দুটি নম্বরের জন্য ১ লাখ টাকার তৃতীয় পুরস্কার ঘোষণা করা হয়—সেগুলো হলো ০০৫৬৩৬২ ও ০৪৫৩৬৬৮। চতুর্থ পুরস্কার হিসেবে ৫০ হাজার টাকা করে পেয়েছে দুইটি নম্বর—০৯১২৪৪৪ ও ০৯৮৩৫৭২।
রোববার ঢাকার বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে এ ড্র অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বাংলাদেশ ব্যাংক, সঞ্চয় অধিদপ্তর ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
১০ হাজার টাকার পঞ্চম পুরস্কারের জন্য মোট ৪০টি নম্বর ঘোষণা করা হয়। এই নম্বরগুলো হলো: ০০১৩৩৮৬, ০০১৪৯৯২, ০০২৮১৮৩, ০০৫৩২২৬, ০১১৯০৬৯, ০১৬৮৮৭৩, ০২৪৪০৭৪, ০২৫৭৫৯৪, ০২৬৫৯৩৮, ০২৯২৯৪১, ০২৯৬৪২৯, ০৩২৭৯১০, ০৩৪০৪০৭, ০৩৪৯৩১৫, ০৩৫৫২০৬, ০৩৬৭৫২৯, ০৩৬৯১১৭, ০৪১৭৭২৮, ০৪২৫৬৮৩, ০৫০১০৪৩, ০৫১৫৫৪২, ০৫৪৯৫২১, ০৫৬৫৯৩৬, ০৬০২২৬৫, ০৬২০২৫৯, ০৬২৪৭১৮, ০৬৭৪৩৪৪, ০৭১২৭৪০, ۰۷৫۹۰۵۹, ۰৭৬৯۳۹۲, ০৭৮২৭২৮, ০৭৯১৪২৮, ০৭৯৯৭৩২, ০৮২১৬৭৭, ০৮৬৫১২২, ০৯০৩৩৯২, ০৯০৪৩৫২, ০৯২২১৮০, ০৯৩৬৬১৭ ও ০৯৮৫৯৫২।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুসারে, মোট ৩ হাজার ৮১৮টি প্রাইজবন্ডের মধ্যে ৪৬টি টিকিট পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত হয়েছে। সঞ্চয় অধিদপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, ড্র-পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে পুরস্কার দাবি করতে হবে, এর পর সময় শেষ হয়ে গেলে দাবি গ্রহণ করা হবে না।
অর্থনৈতিক নির্দেশিকা অনুযায়ী, ২০২৩ সালে প্রাইজবন্ডের পুরস্কারের অর্থের ওপর ২০ শতাংশ কর প্রযোজ্য।
-

কেন্দ্রীয় ব্যাংক পাঁচ শরিয়াহ ব্যাংককে অকার্যকর ঘোষণা করলো
আর্থিক সমস্যায় জর্জরিত পাঁচটি শরিয়াহ ভিত্তিক ব্যাংককে মার্জার বা একীভূত করার নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর পাশাপাশি, ব্যাংকগুলোকে অকার্যকর করে ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রস্তাব ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সুপারিশের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ব্যাংকগুলো হলো—ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামি ব্যাংক পিএলসি, গ্লোবাল ইসলামি ব্যাংক পিএলসি, ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি, এক্সিম ব্যাংক পিএলসি এবং সোশ্যাল ইসলামি ব্যাংক পিএলসি। বুধবার (৫ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংক এসব ব্যাংককে এ বিষয়ে চিঠি পাঠিয়েছে। ব্যাংকগুলো এই খবর ঢাকা পোস্টকে নিশ্চিত করেছে। পৃথক পৃথক চিঠিতে বলা হয়েছে, ৫ নভেম্বর থেকে ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে, ব্যাংকগুলো এখন বাংলাদেশের ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশের আওতায় পরিচালিত হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, একটি নতুন সরকারি মালিকানাধীন ইসলামি ব্যাংক বা ‘সম্মিলিত ইসলামি ব্যাংক’ গঠনের পরিকল্পনা আছে এই প্রক্রিয়ার আওতায়। এর অংশ হিসেবে আজকে পর্ষদ ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এদিকে, বুধবার ব্যাংকগুলোның চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের জরুরি ডাকা হয়েছে গভর্নর দ্বারা। জানা গেছে, ওই বৈঠকে তাদের এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। ইতোমধ্যে, ব্যাংকগুলোর কোম্পানি সচিবগণকে এ বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আজ বিকেল ৪টায় সাংবাদিকদের এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব তথ্য মূলত আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবেন। গত ৯ অক্টোবর, সরকারি মালিকানাধীন ইসলামি ব্যাংক গঠনের অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ, যা বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রস্তাব ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সুপারিশের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে। গত এক বছরে, এসব ব্যাংকের আর্থিক পরিস্থিতি সংকটজনকভাবে খারাপ হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, তাদের মধ্যে চলমান তারল্য সংকট, বিশাল অঙ্কের শ্রেণিকৃত ঋণ, প্রভিশনের ঘাটতি এবং মূলধন কমে যাওয়ার কারণে ব্যাংকগুলো কার্যত দেউলিয়া অবস্থায় পৌঁছে গেছে। এর আগে বেশ কয়েকবার অর্থসাহায্য দেওয়া সত্ত্বেও এসব ব্যাংকের পরিস্থিতি উন্নতি না হওয়ার পরিবর্তে আরো খারাপ হয়েছে। এর ফলে, তাদের শেয়ার বাজারের মূল্য ব্যাপকভাবে কমে গেছে এবং নিট সম্পদ বা নেট অ্যাসেট ভ্যালু (এনএভি) ঋণাত্মক অবস্থায় রয়েছে।
-

পাঁচ ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন বন্ধের সিদ্ধান্ত
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) আজ (৬ নভেম্বর) ঘোষণা করেছে যে একীভূতের প্রক্রিয়ায় থাকা পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন স্থগিত করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে ব্যাংকগুলোকে এখন থেকে পুঁজিবাজারে কোনও শেয়ার লেনদেন করতে হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত নতুন ঘোষণা না দেওয়া হয়।
শেয়ারের লেনদেন বন্ধের জন্য ব্যাংকগুলো হলো: ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক (এসআইবিএল), এক্সিম ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংক। ডিএসই জানিয়েছেন, এই ব্যাংকগুলোর শেয়ার লেনদেন স্থগিতের মূল কারণ হলো এগুলোর রেজোলিউশন প্রক্রিয়া। বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক ৫ নভেম্বর এই ব্যাংকগুলোকে অ-কার্যকর হিসেবে ঘোষণা করার ফলে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও, বাংলাদেশ ব্যাংক एक চিঠির মাধ্যমে ব্যাংক পরিচালনা পরিষদ ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে এবং ব্যাংকগুলো এখন থেকে রেজোলিউশন অধ্যাদেশ, ২০২৫ অনুসারে কাজ করবে বলে জানানো হয়েছে।
গতকাল বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর সাংবাদিকদের বলেছেন, এই পাঁচ ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডারদের বিনিয়োগের মূল্য এখন শূন্যের নিচে, অর্থাৎ শেয়ারগুলোর মূল্য শূন্য হিসেবে বিবেচিত হবে। কোনো ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না।
প্রতিটি ব্যাংকের মূলধন ও শেয়ার সংখ্যার বিবরণে দেখা যায়,ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন ১,২০৮ কোটি টাকা, যেখানে মোট শেয়ার ১২০ কোটি ৮১ লাখ। এর মধ্যে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অংশ ৬৫ শতাংশের বেশি। এছাড়া, প্রাতিষ্ঠানিক ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে শেয়ারের ২৯ শতাংশ এবং উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে ৬ শতাংশ।
গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন ৯৮৭ কোটি টাকা, মোট শেয়ার ৯৮ কোটি ৭৪ লাখ, যেখানে সাধারণ বিনিয়োগকারীর অংশ প্রায় ৩২ শতাংশ। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা ৫৩ শতাংশ মালিকানা রাখেন, তালিকায় উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের অংশ ১৫ শতাংশ।
ইউনিয়ন ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন ১০৩৬ কোটি টাকা, মোট শেয়ার ১০৩ কোটি ৬৩ লাখ। সাধারণ বিনিয়োগকারীরা এই ব্যাংকের শেয়ারের ৩২ শতাংশের মালিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে প্রায় ১৪ শতাংশ, এবং উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের অংশ ৫৪ শতাংশ।
এক্সিম ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন ১৪৪৮ কোটি টাকা, শেয়ার সংখ্যা ১৪৪ কোটি ৭৬ লাখ। সাধারণ বিনিয়োগকারীরা এই ব্যাংকের শেয়ারের ৩৯ শতাংশ মালিক, আর প্রাতিষ্ঠানিক ও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ২৯ শতাংশ, অন্যদিকে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে ৩২ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।
শেষে, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন ১১৪০ কোটি টাকা, মোট শেয়ার সংখ্যা ১১৪ কোটি ২ লাখ। সাধারণ বিনিয়োগকারীরা এই ব্যাংকের ১৯ শতাংশের মালিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ৬৯ শতাংশ এবং উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের অংশ মাত্র ১২ শতাংশ।
-

পাঁচ শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের বোর্ড বাতিল, গ্রাহকসেবা অব্যাহত থাকবে
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের বোর্ড বাতিল হলেও গ্রাহকসেবায় কোনও বিঘ্ন ঘটবে না। এই ব্যাংকগুলোতে পেমেন্ট, রেমিট্যান্স ও এলসি সহ সব ধরনের ব্যাংক্রিয় কার্যক্রম আগের মতোই চালু থাকবে। বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
গভর্নর উল্লেখ করেন, যদিও ব্যাংকের বোর্ড ভেঙে গেছে, তবে দৈনন্দিন ব্যাংকিং কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলতে থাকবেই। ব্যবসার ধারাবাহিকতা রক্ষা করা আমাদের লক্ষ্যে, এবং ধাপে ধাপে এই পাঁচ ব্যাংকের সম্পদ ও আইটি সিস্টেম একত্রিত করে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করাই আমাদের উদ্দেশ্য।
তিনি আরও জানান, এই পাঁচ ব্যাংকের মোট ৭৫০টি শাখা রয়েছে এবং তারা প্রায় ৭৫ লাখ আমানতকারীর সুবিধা দিয়ে থাকে। লিকুইডেশন এড়াতে তাদের স্বার্থে ব্যাংকগুলোকে প্রথম ধাপে কাঠামোগত ও প্রযুক্তিগতভাবে একীভূত করার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
গভর্নর বলেন, ‘নন-ভায়েবিল’ বা অস্থায়ীভাবে চলমান না-ছাড়ার মতো ঘোষণা দেওয়া এই পাঁচ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়া হয়েছে। সাথে সাথে, ব্যাংকগুলোর কোম্পানি সেক্রেটারিকে ‘নন-ভায়েবিলিটি’ নোটিশ পাঠানো হয়েছে, যার ফলে তারা আর কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না।
অন্তর্ভুক্ত এই পাঁচ শরিয়াহ ব্যাংক দ্বারা মিলেই দেশের সবচেয়ে বড় শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক তৈরি হবে বলে উল্লেখ করেন গভর্নর। নতুন এই সংযুক্ত ব্যাংকের পুঁজি পাত্র হবে ৩৫ হাজার কোটি টাকা—যা বর্তমানে দেশের যে কোনও ব্যাংকের থেকে অনেক বেশি। তিনি নিশ্চিত করেন, এটি একটি ‘সরকারি মালিকানাধীন হলেও বেসরকারি ব্যাংকের মতো পরিচালিত’ হবে। পেশাদার ব্যবস্থাপনা, বাজারভিত্তিক বেতন কাঠামো, পৃথক শরিয়াহ বোর্ড গঠন করা হবে। তিনি বললেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, ইসলামিক ব্যাংকিং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ।’
শেয়ারহোল্ডারদের বিষয়ে গভর্নর জানান, ‘শেয়ারদাতাদের ইকুইটির মূল্য এখন নেগেটিভ। তাই শেয়ারের মূল্য শূন্যে বিবেচনা করা হবে। কেউ ক্ষতিপূরণ পাবেন না।’
জনসাধারণকে আরও আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, দুই লাখ টাকা পর্যন্ত আমানতকারীরা সকল টাকা সম্পূর্ণ নিজেরা তুলতে পারবেন। বড় অঙ্কের আমানতের ক্ষেত্রে ধাপে ধাপে অর্থ উত্তোলনের সুযোগ থাকবে। বিস্তারিত পরবর্তীতে গেজেট নোটিফিকেশন এর মাধ্যমে জানানো হবে। পাশাপাশি, তিনি সবাইকে অনুরোধ করেন, আতঙ্কে না পড়ে প্রয়োজনীয়তার বেশি অর্থ তোলা এড়িয়ে চলার।
আগামী জাতীয় নির্বাচন ও সরকার পরিবর্তনের পর এ প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে কি না, জানতে চাইলে গভর্নর বলেন, এটি দেশের স্বার্থে নেওয়া একটি সিদ্ধান্ত। সরকার বদলালেও, জনগণের সুবিধার জন্য এই অগ্রাধিকার দেওয়া অব্যাহত থাকবে।
অন্যদিকে, আর্থিক স্থবিরতার কারণে শরিয়াহভিত্তিক এই পাঁচ ব্যাংককে অকার্যকর ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর পাশাপাশি, এই ব্যাংকগুলোকে মার্জ বা একীভূত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রস্তাব ও অর্থনৈতিক বিভাগে সুপারিশের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়। ব্যাংকগুলো হলো ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামিক ব্যাংক পিএলসি, গ্লোবাল ইসলামিক ব্যাংক পিএলসি, ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি, এক্সিম ব্যাংক পিএলসি এবং সোশ্যাল ইসলামিক ব্যাংক পিএলসি। বুধবার এই ব্যাংকগুলোকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়।
চিঠির মাধ্যমে জানানো হয়, ৫ নভেম্বর থেকে এই ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ কার্যক্রম স্থগিত থাকবে এবং এই ব্যাংকগুলো ‘রেজোলিউশনের’ আওতায় পরিচালিত হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, এই ব্যাংকগুলোকে একীভূত করে একটি নতুন, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ইসলামিক ব্যাংক গঠন করা হবে, যার নাম ‘সম্মিলিত ইসলামিক ব্যাংক’ হবে। এ বিষয়ে আজ ওই ব্যাংকের বিভিন্ন পরিচালক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের জরুরি সভা ডাকা হয়েছে। সেখানে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অবহিত করা হবে।
গত ৯ অক্টোবরে সরকারি অনুমোদন পায় এই নতুন ইসলামিক ব্যাংক গঠনের জন্য উপদেষ্টা পরিষদ। চলতি বছর যা দেশের আর্থিক ব্যবস্থার জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। এক বছর ধরে এসব ব্যাংকের আর্থিক পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপ হতে থাকায় বাংলাদেশ ব্যাংক তাদেরকে অনেক চেষ্টা করেও সহযোগিতা করতে পারেনি। ব্যাংকের লিকুইডিটি সংকট, বড় আকারের শ্রেণিকৃত ঋণ, প্রভিশন ঘাটতি এবং মূলধন সমস্যা এই ব্যাংকগুলোকে কার্যত দেউলিয়া করে দিয়েছে। অন্তত শেয়ারবাজারে তাদের মূল্য অনেক কমে গেছে, এবং সকল ব্যাংকের শরৎ সম্পদ মান নেগেটিভে গিয়ে দাঁড়িয়েছে।
