Blog

  • এনসিপি এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেবে: নাহিদ ইসলাম

    এনসিপি এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেবে: নাহিদ ইসলাম

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম নিশ্চিত করেছেন যে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার দল সম্পূর্ণরূপে এককভাবেই নির্বাচনে অংশ নিবে। বুধবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের গোদনাইলে শহীদ গাজী সালাউদ্দিনের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে তিনি এ কথা জানান। গত ২৬ অক্টোবর, দীর্ঘ চিকিৎসার পরে, July আন্দোলনের সময় গুরুতর আহত গাজী সালাউদ্দিনের মৃত্যু ঘটে।

    নাহিদ ইসলাম শোকার্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, জুলাই আন্দোলনের বীর যোদ্ধাদের আমরা কখনও ভুলতে পারি না। তাদের অবদান আমাদের জন্য অমুল্য। দেশের জন্য এই সব শহীদ সেনাদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং ন্যায্য সহায়তা যেন রাষ্ট্রের দায়িত্বে অন্তর্ভুক্ত হয়, সেই দাবি তিনি জোরের সঙ্গে তুলে ধরেন। তিনি আরো বলেন, সরকার যেন দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার মাধ্যমে তাদের পরিবারের পাশে থাকে।

    তিনি জানান, দেশের ৩০০টির মতো আসনে প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তবে, শ্রদ্ধা ও সংহতির প্রতীক হিসেবে, বেগম খালেদা জিয়ার নির্বাচনী আসনগুলোতে কোন প্রার্থী নাম ঘোষণা না করে থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

    এনসিপি নেতাদের বক্তব্যে আরও উঠে আসে, যারা দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের প্রতি সম্মান জানানোই দলটির মূল অঙ্গীকার। তাদের ত্যাগ আমাদের অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন, আহমেদ তনু, সালেহ আহমেদসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

  • যমুনা অভিমুখে জামায়াতসহ আট ইসলামি দল শোভাযাত্রা

    যমুনা অভিমুখে জামায়াতসহ আট ইসলামি দল শোভাযাত্রা

    সংসদ নির্বাচনের আগেই গণভোট এবং জুলাই মাসে জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের জন্য আদেশ জারির demand‌తో আজ বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে যমুনার পথে যাত্রা শুরু করেছে আটটি ইসলামি দলসহ জামায়াত। সংগঠনগুলো রাজধানীর শাপলা চত্বর থেকে মিছিল চালিয়ে পল্টনের দিকে এগোচ্ছে। পল্টনে পৌঁছানোর পর তারা সংক্ষিপ্ত এক সমাবেশ করবে এবং পরে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখে রওনা হবে বলে জানা গেছে। সংগ্রামী এই আন্দোলনের অংশ হিসেবে এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী নেতাকর্মীরা ব্যক্ত করেছেন, তারা সরকারের কাছে তাদের মূল দাবি জানাতে এই স্মারকলিপি প্রদান করবেন। গত বুধবার আগারগাঁওয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে বৈঠক শেষে জামায়াতের সহকারী সাধারণ সম্পাদক হামিদুর রহমান আযাদ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘আমাদের দাবি খুবই স্পষ্ট—আগামী নির্বাচনের আগে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে, এবং তা পৃথক দিনে হবে।’ দলের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে— জুলাই মাসের জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের আদেশ জারি করা এবং সেই আদেশের পরই নভেম্বরের মধ্যে গণভোটের ব্যবস্থা নেওয়া; নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করে মুক্ত এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন পরিচালনা; ফ্যাসিস্ট সরকারের জুলুম-নির্যাতন, গণহত্যা ও দুর্নীতির বিচার দৃশ্যমান করা; এবং জাতীয় পার্টিসহ ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা। এই আটটি ইসলামি দলের মধ্যে রয়েছে জামায়াত ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খিলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি।

  • মানুষের মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করতে হবে: তারেক রহমান

    মানুষের মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করতে হবে: তারেক রহমান

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ৫ আগস্টের মহান আত্মদান ও সাহসিকতার মাধ্যমে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ফ্যাসিস্ট শাসকরা দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়। এর মাধ্যমে মানুষের মধ্যে গণতন্ত্রের মুক্তির পথে নতুন আলোর সৃষ্টি হয়েছে। আজকে চূড়ান্ত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনসহ গণতন্ত্রের অপরিহার্য শর্তগুলো পূরণ করতে হবে এবং মানুষের মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

    তিনি এই মন্তব্য করেন ৭ নভেম্বর মহান জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের বিশেষ বাণীতে। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    তারেক রহমান দেশের মানুষসহ সকলের জন্য আন্তরিক শুভকামনা ও অভিনন্দন পাঠিয়ে বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহী-জনতার বিপ্লব শুধুমাত্র রাজনৈতিক মোড় Temer পরিবর্তনের ঘটনা নয়, এটি দেশপ্রেমে উদ্দীপ্ত হয়ে জাতীয় স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধারের আত্মোৎসাহের এক সংগ্রাম। এই বিপ্লব দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে, দেশের অর্থনীতি ও জাতীয় ঐক্যকে সুদৃঢ় করে।

    তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের এই দিনে সিপাহী-জনতা রাজপথে নেমে এসেছিল স্বাধীনতা রক্ষা ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার নিয়ে। সেই সময় দেশপ্রেমে উজ্জীবিত এই জনতার আন্দোলনে এক বদলে যাওয়া পরিস্থিতি তৈরি হয়। কিন্তু স্বাধীনতার পরবর্তীতে ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী নিজ স্বার্থে দেশকে দুর্বল করে দিয়ে আধিপত্যবাদী চালাকচাতুরির মাধ্যমে ক্ষমতা ধরে রাখতে চায়। এর জন্য তারা একদলীয় বাকশাল গঠন করে গণতন্ত্রকে হত্যা করে।

    তিনি আরও বলেন, বাকশালী সরকার অগণতান্ত্রিক ও ফ্যাসিবাদী পন্থায় মানুষের ন্যায়সঙ্গত অধিকারগুলো হরণ করে। এই চরম সংকটময় সময়ে ৭৫ এর ৩ নভেম্বরের দিন বিপথগামী চক্রেরা মহান স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানকে সপরিবারে ক্যান্টনমেন্টে বন্দী করে। ঐ সময়ই জনতার ও সেনাদের সম্মিলিত ঐক্য ও সংহতির ফলে মুক্ত হন জিয়াউর রহমান। এই ঘটনার ফলে রাষ্ট্রপতি জিয়ার নেতৃত্বে দেশে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসে, গণতন্ত্রের নতুন দ্বার উন্মোচিত হয় এবং বাক-স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে।

    পরে, তবে, আধিপত্যবাদী শক্তির এজেন্টরা ১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে নির্মমভাবে হত্যা করে। যদিও জিয়াউর শাহাদত বরণ করেছিলেন, কিন্তু তার আদর্শের বলীয়ান নানা মানবতাবাদী নেতা ও কর্মী দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষা করতে এখনও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

    তিনি মনে করেন, আবারও চক্রান্তের গোপন পথে আওয়ামী ফ্যাসিস্টরা প্রায় ১৬ বছর ধরে গণতন্ত্রের বিকাশে বাধা সৃষ্টি করে, দেশের সার্বভৌমত্বকে দুর্বল করে তোলে। দুর্বলতাগুলোর জন্য তারা মানবাধিকার ও রাষ্ট্রীয় নিয়মনীতি লঙ্ঘন করে বিরোধী নেতাকর্মীদের নিপীড়ন করে, গুম করে, হত্যা করে, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড চালায় এবং দুর্নীতি ও অপশাসনের রাজত্ব কায়েম করে।

    তারেক রহমান আরও বলেন, stolen Democracy এর প্রতীক খালেদা জিয়াকে অনেক বছর ধরে কারাবন্দি রেখে মুক্তি দেয়া হয়নি। তিনি সমাজে ন্যায্য বিচার ও সুস্থ শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য জোরালোভাবে আহ্বান জানান।

    তিনি শেষ করে বলেন, আওয়ামী ফ্যাসিস্টরা দেশীয় সংস্কৃতি, ভাষা ও ঐতিহ্যগুলো ধ্বংসের চেষ্টা করে। তাই ৭ নভেম্বরের চেতনায় সকল জাতীয়তাবাদী শক্তিকে একত্রিত হয়ে শক্তিশালী গণতন্ত্র গড়ে তুলতে হবে। এখন সময় দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার, এই মুহূর্তে এর গুরুত্ব অপরিহার্য।

  • যমুনা অভিমুখে জামায়াতসহ ৮ দলের পদযাত্রা পুলিশের বাধায় বন্ধ

    যমুনা অভিমুখে জামায়াতসহ ৮ দলের পদযাত্রা পুলিশের বাধায় বন্ধ

    সংসদ নির্বাচনের আগে গণভোট ও জুলাইের জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের জন্য পাঁচ দফা দাবি জারি সহ অন্যান্য আহ্বানে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা জামায়াতসহ আটটি দলের নেতা-কর্মীরা বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) দুপুর ১২টায় যমুনার দিকে বিশাল গণমিছিল নিয়ে যান। তাদের উদ্দেশ্য ছিল প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি প্রদান। তবে পুলিশ তাদেরকে বাঁধা দেয়, এতে মিছিল আটকে যায়। এর পর আট দলের শীর্ষ নেতা-নেত্রীসহ নেতা-কর্মীরা স্মারকলিপি নিয়ে যমুনার দিকে যান। এই আট দলের মধ্যে রয়েছে জামায়াতে ইসলামি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি। এর আগে সকালে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, তারা রাজধানীর শাপলা চত্বর থেকে মিছিল করে পুরানা পল্টনে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হন। এই সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন দলের শীর্ষ নেতারা, যারা গণভোট, জুলাইয়ের জাতীয় সনদ এবং নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান। দলগুলোর প্রধান পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে— জুলাইয়ের জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের আদেশ দ্রুত জারি, নভেম্বরের মধ্যে গণভোট আয়োজন, উভয় কক্ষে বা উচ্চকক্ষে প্রমাণিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতি চালু, সবার জন্য অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন এবং ‘ফ্যাসিস্ট’ সরকারের জুলুম-নির্যাতন, গণহত্যা ও দুর্নীতির বিচারে দৃশ্যমান পদক্ষেপ। তারা আরও দাবি করেন, স্বৈরাচারী সরকারের দোসর জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলকে কার্যকরভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে।

  • পাঁচ দফা মানা ছাড়া ১১ নভেম্বর ঢাকার পরিস্থিতি ভিন্ন হবে

    পাঁচ দফা মানা ছাড়া ১১ নভেম্বর ঢাকার পরিস্থিতি ভিন্ন হবে

    জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বাংলাদেশে নভেম্বরে জাতীয় গণভোট ও জুলাইয়ের মধ্যে জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের জন্য সরকারকে পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে আটটি রাজনৈতিক দল। এই দাবিগুলোর অগ্রাহ্য হলে ১১ নভেম্বর ঢাকার পরিস্থিতি পালটেপড়তে পারে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী জুলাইয়ে স্বাক্ষরিত ন্যাশনাল সার্টিফিকেটের বাস্তবায়ন ও গণভোটের দাবি মেনে না নিলে, আগামী ১১ নভেম্বর ঢাকার চিত্র ভিন্ন রূপ নেবে ইনশাআল্লাহ। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, খুব দ্রুত উপদেষ্টা পরিষদ এই বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

    বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মৎস্য ভবনের সামনে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিয়া গোলাম পরওয়ার এ হুঁশিয়ারি দেন। এর আগে, দাবি আদায়ের জন্য আটটি রাজনৈতিক দলের নেতারা প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন। স্মারকলিপি দেওয়ার পরে জামায়াতের নেতারা উপস্থিত হয়ে সমাবেশে বক্তব্য রাখতে যান।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, ১১ নভেম্বর এই আট দল একত্রে রাজধানীতে মহাসমাবেশ করবে। তারা সরকারের কাছে আবেদন করেছেন যে, মহাসমাবেশের আগে দাবি মানা হলে, শান্তিপূর্ণ মতবিনিময় সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, প্রতিটি দলের সঙ্গে লিয়াজোঁ কমিটি গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে ১১ তারিখের সফল সমাবেশে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া যায়।

    স্মারকলিপি দেয়ার সময়, জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের সতর্ক করে দিয়ে বলেন, যদি দাবিগুলো মানা না হয় এবং পরিস্থিতি পরিবর্তন না ঘটে, তাহলে ১১ নভেম্বর ঘোষণা করবেন ‘‘চলো চলো ঢাকা চলো’ কর্মসূচি। এতে ঢাকা জনতার শহরে পরিণত হবে, দাবি আদায়ের জন্য লড়াই হবে। তিনি বলেন, “লড়াই চাই, লড়াই করে বাঁচতে চাই।”

    এদিকে, ঘোষণা অনুযায়ী সকাল থেকে মতিঝিলের শাপলা চত্বর ও পল্টন মোড়ে বিভিন্ন দলের কর্মীরা জড়ো হতে শুরু করেন। ১১টার পর ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে তারা পুরানা পল্টনে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে। এখানে নেতাদের বক্তৃতার শেষের পরে দুপুর ১২:০৫ মিনিটে সবাই যমুনা অভিমুখী পদযাত্রা শুরু করেন।

    এতে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা উত্তরের সভাপতি অধ্যক্ষ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির সাখাওয়াত হোসেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়াজি, নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুসা বিন ইহজারা, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা ইউসুফ সাদিক হাক্কানী, জাগপা মুখপাত্র প্রকৌশলী রাশেদ, এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল হক।

    তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে জুলাইয়ের জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের আদেশ জারি, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে গণভোটের আয়োজন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সকলের জন্য সমান সুযোগের ব্যবস্থা, ফ্যাসিস্ট সরকারের গণকের সাথে সমাপ্ত জুলুম, নিপীড়ন, গণহত্যা ও দুর্নীতির বিচার, এবং স্বৈরাচারী দোস্ত জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা।

  • পরকীয়ার জেরে পুলিশ দম্পতির ফাঁসি, সহকর্মী পুলিশ হত্যার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত

    পরকীয়ার জেরে পুলিশ দম্পতির ফাঁসি, সহকর্মী পুলিশ হত্যার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত

    ময়মনসিংহে পরকীয়ার জেরে সহকর্মী পুলিশ সদস্যকে হত্যা করার মামলায় দুই পুলিশ সদস্য দম্পতিকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত বুধবার (৬ নভেম্বর) এই চাঞ্চল্যকর রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত সেই দম্পতি হলেন কনস্টেবল মো. আলাউদ্দিন এবং তাঁর স্ত্রী কনস্টেবল নাসরিন নেলী। আলাউদ্দিনের বাসা ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার ভবানীপুরে।

    মামলার তথ্যে জানা যায়, ২০১৪ সালে আলাউদ্দিনের স্ত্রী নাসরিন নেলীর সাথে সহকর্মী কনস্টেবল সাইফুল ইসলামের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। এই সম্পর্কের কারণে তারা তিনজনই জড়িয়ে পড়ে এক জঘন্য হত্যাকাণ্ডে। ২০১৪ সালের আগস্ট মাসে ময়মনসিংহের কাঁচিঝুলি অঞ্চলে নেলীর ভাড়া বাসায় অবস্থানরত অবস্থায় প্রেমিক সাইফুল ইসলামকে হত্যা করে নেলী ও তার স্বামী আলাউদ্দিন।

    হত্যা শেষে তারা মরদেহ বাসার আড়ালে গুম করার চেষ্টা করেন, কিন্তু পুলিশের তল্লাশির সময় বস্তাবন্দী লাশসহ হাতেনাতে ধরা পড়েন। ঘটনার পর, নিহত সাইফুলের মা মোছা. মুলেদা বেগম ২০১৪ সালের ১৩ আগস্ট কনস্টেবল আলাউদ্দিন, নাসরিন নেলী ও অজ্ঞাতনামা দুজনের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত এই দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগে আনুষ্ঠানিক রায় দেন, যেখানে তাদের দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয়া হয়।

  • আওয়ামী লীগের চিঠি: জাতিসংঘে কাজ হবে না, বললেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

    আওয়ামী লীগের চিঠি: জাতিসংঘে কাজ হবে না, বললেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

    আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে জাতিসংঘে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের পাঠানো চিঠিতে বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে গভীর চিন্তার কথা প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. תৌহিদ হোসেন। তিনি বৃহস্পতিবার বিকেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ বিষয়ে কথা বলেন।

    সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, জাতিসংঘে চিঠি দিয়ে কিছুই হবে না। বিএনপি বা ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ যারা এই চিঠি পাঠিয়েছে, তারা এই বিষয়টি নিয়ে ঢাকায় কোনো ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেনি।

    এর আগে, বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নয়’ বলে উল্লেখ করে এর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন পেতে জাতিসংঘকে চিঠি দেয় ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ। এই চিঠি শনিবার ঢাকায় জাতিসংঘ উন্নয়ন প্রকল্পের (ইউএনডিপি) প্রতিনিধির কাছে পাঠানো হয়, যার মাধ্যমে তারা এই আহ্বান জানায়। চিঠিটি পাঠিয়েছেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে।

    চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘অবাধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত আমরা জাতিসংঘ ও ইউএনডিপির সকল সহযোগিতা স্থগিত করছি। পাশাপাশি, সব রাজনৈতিক পক্ষের সঙ্গে সংলাপ ও সমঝোতা প্রসারে উৎসাহিত করছি। আমরা মনে করছি, এ ধরনের পরিস্থিতিতে মানবাধিকার ও আইনের শাসন বজায় রাখা খুবই জরুরি, যা মনে রাখতে হবে।’

    চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ‘বাংলাদেশে ইউএনডিপির নির্বাচনী কার্যক্রম, ব্যালট প্রজেক্ট এবং বিভিন্ন সহায়তার কার্যক্রম নিয়ে আমাদের গুরুতর উদ্বেগ রয়েছে। কারণ, এই নির্বাচন সমূহ অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নয় বলে মনে করছে সরকার। এর ফলে, আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘের মূলনীতি এবং অবাধ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মানদণ্ড রক্ষা করা কঠিন হবে, যা ইউএনডিপির ম্যান্ডেটেরও পরিপন্থী।’

    সংক্ষেপে, এটি বোঝা যায় যে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ জাতিসংঘের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক ও সহযোগিতা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাদের অভিযোগ মানছে না সরকার ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

  • জাতীয় লজিস্টিকস নীতি-২০২৫ অনুমোদন, বিনিয়োগ ও রপ্তানি উন্নতির আশা

    জাতীয় লজিস্টিকস নীতি-২০২৫ অনুমোদন, বিনিয়োগ ও রপ্তানি উন্নতির আশা

    সরকার সম্প্রতি ‘জাতীয় রজিস্টিকস নীতি-২০২৫’ অনুমোদন করেছে, যা দেশের পরিবহন, সরবরাহ ও বাণিজ্য ব্যবস্থাকে আধুনিক, আরও দক্ষ ও টেকসই করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এই নীতিটি আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর প্রধান উপদেষ্টা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের ৪৭তম বৈঠকে অনুমোদন পায়। প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস এই বৈঠকের সভাপতিত্ব করেন।

    বৈঠকের শেষে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম একটি সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, একটি সুসংগঠিত নীতিমালা থাকলে সরকারি ও বেসরকারি খাতে কার্যক্রম আরও সুসংহত হয় এবং লক্ষ্য অর্জনে সুবিধা হয়। নীতিমালাটি দেশের লজিস্টিকস খাতের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা হিসেবে কাজ করবে।

    প্রেস সচিব আরও উল্লেখ করেন, এই নীতির কারণে দেশের বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে, বিদেশি বিনিয়োগ আগের তুলনায় অনেক বেশি আসবে এবং আমাদের রপ্তানি খাতের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে।

    বর্তমানে প্রধান বন্দর চট্টগ্রাম বন্দরে মাঝে মাঝে পণ্য রপ্তানি করতে সময় লেগে যায় ১১ দিন পর্যন্ত। এ নীতিমালার বাস্তবায়ন হলে পণ্য পরিবহন ও পৌঁছানোর সময় কমে আসবে এবং রপ্তানি কার্যক্রম আরও সহজ ও গতিশীল হবে।

    প্রেস সচিব জানান, ২০২৪ সালে একটি প্রাথমিক নীতি প্রস্তুত করা হয়েছিল, যা পরে মূল্যায়ন করে দেখা যায় প্রত্যাশা পূরণে সফলতা ঘটেনি। subsequently, জনপ্রশাসন সচিব এহসানুল হকের নেতৃত্বে একটি কমিটি নতুন করে এই নীতির খসড়া তৈরি করে।

    মূল লক্ষ্য হিসেবে বলে রাখা হয়, ২০৫০ সালের মধ্যে রেল ও নৌ পরিবহন খাতে অগ্রাধিকার দিয়ে লজিস্টিকস খাতকে উন্নত ও যুগোপযোগী করা। দেশের প্রায় ৩ হাজার কিলোমিটার নৌপথের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে।

    এছাড়া, সরকার ও বেসরকারি অংশীদারিত্বে (পিপিপি) বিনিয়োগের সুযোগ থাকবে, যার মাধ্যমে এই খাতকে একটি ডিজিটাল ইকোসিস্টেমে রূপান্তর করা হবে। এতে শুল্ক, ফি, কাগজপত্রসহ সব কার্যক্রম ব্যবস্থা দ্রুত সম্পন্ন হবে।

    প্রধান উদ্দেশ্য হলো—আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর বাংলাদেশে বিভিন্ন শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধাগুলো ধীরে ধীরে কমে যাবে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাবে, যা চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দেবে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় রপ্তানি খাতের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি, যার জন্য এই নীতিটি ভূমিকা রাখবে।

  • ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুমোদিত

    ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুমোদিত

    অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ কর্তৃক ২০২৬ সালের সরকারের সংশ্লিষ্ট ছুটির তালিকা অনুমোদন পেয়েছে। নতুন বছরে মোট ছুটির সংখ্যা নির্ধারিত হয়েছে ২৮ দিন। এর মধ্যে, সপ্তাহের শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি হিসাবে গণ্য হবে, যা মোট ছুটির অঙ্কে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (০৬ নভেম্বর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকটি সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

    সন্ধ্যায়, রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রেস সচিব শফিকুল আলম এই সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেন। তিনি জানান, বৈঠকে ২০২৬ সালের জন্য সরকারি ছুটির তালিকা অনুমোদন করা হয়েছে। এর আগে, আগের বছরের মতো, এই তালিকা নির্বাহী আদেশে এবং সাধারণ ছুটি মিলিয়ে মোট ২৮ দিন নির্ধারিত হয়েছে।

    উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জন্য ছুটির তালিকা গত বছরের ১৭ অক্টোবর অনুমোদিত হয়েছিল, যেখানে মোট ছুটির সংখ্যা ছিল ২৬ দিন। এর মধ্যে সাধারণ ছুটি ১২ দিন এবং নির্বাহী আদেশের ছুটি ১৪ দিন। এই ছুটির মধ্যে পাঁচ দিন সাধারণ ছুটির এবং চার দিন নির্বাহী ছুটির মধ্যে সাপ্তাহিক ছুটিও ছিল।

    নতুন বছরে, ২০২৬ সালে মোট ছুটির সংখ্যা হবে ২৮ দিন। এর মধ্যে সপ্তাহের শনি ও শুক্রবারের সাপ্তাহিক ছুটি অন্তর্ভুক্ত থাকবে ৯ দিন। মূল ছুটির সংখ্যা হিসেবে গণ্য হবে ১৯ দিন।

  • পাকিস্তান থেকে পাখির খাদ্যের আড়ালে নিষিদ্ধ পণ্য আসার চেষ্টা

    পাকিস্তান থেকে পাখির খাদ্যের আড়ালে নিষিদ্ধ পণ্য আসার চেষ্টা

    পাকিস্তান থেকে দুইটি কনটেইনারে ৩২ টন পাখির খাবার আনার পরিকল্পনা ছিল। তবে সেই চালানে লুকানো ছিল ২৫ টন পপি বীজ, যা আমদানির জন্য নিষিদ্ধ। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে চট্টগ্রামের কাস্টমস কর্মকর্তারা এই চালানটি শনাক্ত করে জব্দ করেছেন। বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান চট্টগ্রাম কাস্টমস। পপি বীজ অঙ্কুরোদগমের জন্য উপযোগী এবং ক ‘শ্রেণির মাদক হিসেবে বিবেচিত। এটি মূলত পাখির খাদ্য হিসেবে পাকিস্তান থেকে আনা হচ্ছিল।

    চট্টগ্রামের কোরবানিগঞ্জে অবস্থিত মেসার্স আদিব ট্রেডিং এই চালানটি আমদানি করে। এর নথিতে ছিল ৩২ টন পাখির খাদ্য। ৯ অক্টোবর এই দুই কনটেইনার চট্টগ্রাম বন্দরে আনা হয় এবং পরে খালাসের জন্য ছাবের আহমেদ টিম্বার কোম্পানি লিমিটেডের বেসরকারি ডিপোতে স্থানান্তর করা হয়।

    এরই মধ্যে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমস কর্মকর্তারা চালানের খালাস স্থগিত করে പരിശോധന শুরু করেন। ২২ অক্টোবর দু’টি কনটেইনার খোলা হলে নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। পরীক্ষায় পপি বীজের পাশাপাশি ৭ টন পাখির খাবার পায় কাস্টমস। দেখা যায়, মুখের পাখির খাদ্য হিসেবে যেন পপি বীজের পাত্র গোটানো হয়। পপি সিডকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী ‘ক’ শ্রেণির মাদক হিসেবে ধরা হয় এবং এটি দেশের আমদানি-নিষিদ্ধ পণ্য তালিকার অন্তর্ভুক্ত। তবে দেশে পপি সিডকে ‘পোস্তদানা’ মসলা হিসেবে রান্নায় ব্যবহৃত হয়।

    চালানটির ঘোষিত মূল্য ছিল ৩০ লাখ ২ হাজার ৪৮২ টাকা, কিন্তু পরীক্ষায় পাওয়া পণ্যটির বাজারমূল্য প্রায় ৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা বলে জানা গেছে। এ ব্যাপারে জড়িত ব্যক্ত বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।