Blog

  • প্রাইজবন্ডের ১২১তম ড্র: প্রথম পুরস্কার জেতা নম্বর ০১০৮৩৩১

    প্রাইজবন্ডের ১২১তম ড্র: প্রথম পুরস্কার জেতা নম্বর ০১০৮৩৩১

    বাংলাদেশের প্রাইজবন্ডের ১২১তম ড্র সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই ড্রয়ে প্রথম পুরস্কার জিতে নেয় নম্বর ০১০৮৩৩১, যা একটি দামী ৬ লাখ টাকার পুরস্কার। দ্বিতীয় পুরস্কার অর্জন করেছে নম্বর ০১৫৬৮৯৭, যার মূল্য ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা। এছাড়াও, তৃতীয় পুরস্কার হিসেবে প্রত্যেকটির মূল্য ১ লাখ টাকা, নির্বাচিত হয়েছে দু’টি নম্বর: ০০৫৬৩৬২ ও ০৪৫৩৬৬৮। চতুর্থ পুরস্কার হিসেবে ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে দু’টি নম্বর: ০৯১২৪৪৪ ও ০৯৮৩৫৭২।

    ড্রটি অনুষ্ঠিত হয় ঢাকার বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে। এতে বাংলাদেশ ব্যাংক, সঞ্চয় অধিদপ্তর ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    পঞ্চম পুরস্কার হিসেবে ঘোষিত হয়েছে ১০ হাজার টাকার জন্য ৪০টি নম্বর, যা হল: ০০১৩৩৮৬, ০০১৪৯৯২, ০০২৮১৮৩, ০০৫৩২২৬, ০১১৯০৬৯, ০১৬৮৮৭৩, ০২৪৪০৭৪, ০২৫৭৫৯৪, ০২৬৫৯৩৮, ০২৯২৯৪১, ০২৯৬৪২৯, ০৩২৭৯১০, ০৩৪০৪০৭, ০৩৪৯৩১৫, ০৩৫৫২০৬, ০৩৬৭৫২৯, ০৩৬৯১১৭, ০৪১৭৭২৮, ০৪২৫৬৮৩, ০৫০১০৪৩, ০৫১৫৫৪২, ০৫৪৯৫২১, ০৫৬৫৯৩৬, ০৬০২২৬৫, ০৬২০২৫৯, ০৬২৪৭১৮, ০৬৭৪৩৪৪, ০৭১২৭৪০, ০৭৫৯০৫৯, ০৭৬৯৩৯২, ০၇৮২৭২৮, ০৭৯১৪২৮, ০৭৯৯৭৩২, ০৮২১৬৭৭, ০৮৬৫১২২, ০৯০৩৩৯২, ০৯০৪৩৫২, ০৯২২১৮০, ০৯৩৬৬১৭ ও ০৯৮৫৯৫২।

    নগদ দখলের জন্য মোট ৩,৮১৮টি প্রাইজবন্ডের মধ্যে নির্বাচিত হয়েছে ৪৬টি টিকিট। ড্রয়ের পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে পুরস্কার দাবি করতে হবে, এর পর দাবি গ্রহণযোগ্য হবে না। ২০২৩ সালের সংশোধিত নীতিমালা অনুযায়ী, প্রাইজবন্ডের পুরস্কারের অর্থের ওপর চালানো হয় ২০ শতাংশ কর।

  • কেন্দ্রীয় ব্যাংক পাঁচ শরিয়াহ ব্যাংককে অকার্যকর ঘোষণা করল

    কেন্দ্রীয় ব্যাংক পাঁচ শরিয়াহ ব্যাংককে অকার্যকর ঘোষণা করল

    অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হওয়া শরিয়াভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংকের মার্জার বা একীভূতকরণের উদ্যোগকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই ব্যাংকগুলোকে অকার্যকর ঘোষণা এবং পরিচালনা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রস্তাবনা এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সুপারিশের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। উল্লেখ্য, এই পাঁচটি ব্যাংক হলো— ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, গ্লোবাল ইসলামি ব্যাংক পিএলসি, ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি, এক্সিম ব্যাংক পিএলসি ও সোশ্যাল ইসলামি ব্যাংক পিএলসি। ব্যাংকগুলোকে জানানো হয়েছে যে, বুধবার (৫ নভেম্বর) এ বিষয়ে তাদেরকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। পৃথক পৃথক চিঠিতে বলা হয়েছে যে, আজ থেকেই তাদের পরিচালনা পর্ষদ কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। একই সঙ্গে ব্যাংকগুলো ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশের অধীন পরিচালিত হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একজন নতুন সরকারি মালিকানাধীন ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হবে, যার নাম হবে ‘সম্মিলিত ইসলামি ব্যাংক’। এই লক্ষ্যেই আজকের দিন থেকে ব্যাংকগুলোর পর্ষদ ভেঙে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, বুধবার ব্যাংকগুলোর চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের জরুরি ডাকা হয়েছে গভর্নর কর্তৃক। জানা গেছে, এই বৈঠকে তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিষয়ে অবহিত করা হবে। তবে এর আগে থেকেই ব্যাংকগুলোর কোম্পানি সচিবগণ এ বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত বিভিন্ন দিক সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। অবশেষে, আজ বিকেল ৪টায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর সংবাদ সম্মেলন করে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবেন বলে জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগে গত ৯ অক্টোবর সরকারি মালিকানাধীন ইসলামি ব্যাংক গঠনের জন্য উপদেষ্টা পরিষদ থেকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল, যা বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রস্তাবনা ও আর্থিক বিভাগ সুপারিশের মাধ্যমে সেটি অনুমোদিত হয়। গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে এই সব ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা ক্রমশই অবনতি হচ্ছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, তারল্য সংকট, বিশাল অঙ্কের শ্রেণিকৃত ঋণ, প্রওিশনের ঘাটতি এবং মূলধনী ঘাটতির কারণে ব্যাংকগুলো কার্যত দেউলিয়া হয়ে পড়েছে। অনেকবার তারল্য সহায়তা দেওয়া সত্ত্বেও এসব ব্যাংকের পরিস্থিতি উন্নতি হয়নি; বরং তাদের শেয়ারবাজারের মূল্য ব্যাপকভাবে হারাতে শুরু করেছে এবং প্রতিটি ব্যাংকের নিট সম্পদ মূল্য বা নেট অ্যাসেট ভ্যালুও ঋণাত্মক পর্যায়ে পৌঁছেছে।

  • পাঁচ শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের বোর্ড বাতিল হলেও গ্রাহকদের সেবা অক্ষুণ্ণ থাকবে

    পাঁচ শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের বোর্ড বাতিল হলেও গ্রাহকদের সেবা অক্ষুণ্ণ থাকবে

    বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের বোর্ড ভেঙে ফেললেও সাধারণ গ্রাহকদের সেবা স্থবির হবে না। ব্যাংকগুলোর পেমেন্ট, রেমিট্যান্স, এলসিসহ সকল ধরনের ব্যাংকিং কার্যক্রম আগের মতোই চালু থাকবে। বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব জানান।

    গভর্নর বলেন, বোর্ড বাতিল হলেও ব্যাংকগুলোর দৈনন্দিন কার্যক্রম বন্ধ হবে না। অর্থাৎ, ব্যবসা চলমান থাকবে, পেমেন্ট, রেমিট্যান্স ও এলসি সবই স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হবে। তিনি আরও বলেন, আমাদের লক্ষ্য হলো ব্যাংকগুলোকে ধাপে ধাপে সম্পদ ও আইটি সিস্টেমের একীভূতকরণ সম্পন্ন করে বিষয়গুলো সমন্বয় করা।

    গভর্নর জানান, এই পাঁচটি ব্যাংকের মোট ৭৫০টি শাখা ও প্রায় ৭৫ লাখ আমানতকারী রয়েছে। লিকুইডেশন এড়াতে প্রথম ধাপে কাঠামোগত ও প্রযুক্তিগত একীভূতিসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা শুরু হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, ‘নন-ভায়েবল’ বা টেকসই নয় বলে ঘোষিত পাঁচ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং প্রতিটি ব্যাংকে অস্থায়ী অ্যাডমিনিস্ট্রেটর নিয়োগের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সকালে ব্যাংকগুলোর কোম্পানি সেক্রেটারিকে ‘নন-ভায়েবিলিটি’ নোটিশ পাঠানো হয়েছে, এর মাধ্যমে বোর্ডের কার্যক্ষমতা বন্ধ হয়েছে এবং তারা আর কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না।

    গভর্নর উল্লেখ করেন, এই পাঁচ ব্যাংক একত্রিত হলে এটি দেশের বৃহত্তম ইসলামिक ব্যাংক হিসেবে পরিচিতি পাবে, যার পেইড-আপ ক্যাপিটাল হবে ৩৫ হাজার কোটি টাকা—যা বর্তমানে দেশের যেকোনো ব্যাংকের তুলনায় অনেক বেশি। তিনি নিশ্চিত করেছেন, এই নতুন ব্যাংকটি সরকারীয় মালিকানাধীন হলেও পরিচালনায় বেসরকারি ব্যাংকের মতো পেশাদারিত্ব ও স্বচ্ছতা বজায় থাকবে। এটি পরিচালনা করবেন পেশাদার এন্ডমডি, বাজারভিত্তিক বেতন কাঠামো এবং পৃথক শরিয়া বোর্ড। তিনি বলেন, আমরা মনে করি—ইসলামী ব্যাংকিং বাংলাদেশের ভবিষ্যত।

    শেয়ারহোল্ডারদের বিষয়ে গভর্নর বলেন, ‘শেয়ারহোল্ডারদের ইকুইটির মূল্য এখন নেগেটিভ। ফলে, শেয়ারের মূল্য জিরো বিবেচনা করা হবে এবং কারও ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না।’

    আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, দুই লাখ টাকা পর্যন্ত আমানতকারী সব গ্রাহক তাদের টাকা সম্পূর্ণরূপে তুলতে পারবেন। বড় আমানতের ক্ষেত্রে ধাপে ধাপে অর্থ উত্তোলনের সুযোগ থাকবে। এ বিষয় বিস্তারিত পরে গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে জানানো হবে। তিনি সকলকে উৎসাহিত করেন, প্রয়োজনীয়তার জন্যই অর্থ উত্তোলন করুন এবং উদ্বিগ্ন না থাকতে।

    আগামী জাতীয় নির্বাচনের সময়কালে যদি নতুন সরকার পরিবর্তন হয়, তাহলে এই প্রক্রিয়া বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা আছে কিনা প্রশ্নে তিনি জানান, দেশের স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে। সরকারি পরিবর্তন ছাড়া, সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজ চলবে।

    অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঘোষণা করেছে, অর্থনৈতিক পরিস্থিতির অবনতি ও আর্থিক দুর্বলতার কারণে শরিয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংককে অকার্যকর ঘোষণা করা হয়েছে। এই ব্যাংকগুলো হচ্ছে: ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি, এক্সিম ব্যাংক পিএলসি এবং সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি। বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিমধ্যে এই ব্যাংকগুলোকে চিঠি পাঠিয়েছে এবং তাদের পক্ষ থেকে এ বিষয় নিশ্চিত করা হয়েছে।

    চিঠিতে জানানো হয়েছে, ৫ নভেম্বর থেকে এই ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে এবং তারা এখন ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশের আওতায় পরিচালিত হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, একীভূত করে একটি নতুন সরকারি মালিকানাধীন ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হবে, যার নাম হবে ‘সম্মিলিত ইসলামি ব্যাংক’। এই প্রক্রিয়ায় আজকের দিনের মধ্যে ব্যাংকগুলোর পর্ষদ ভেঙে দেওয়া হয়।

    এছাড়াও, গত ৯ অক্টোবর সরকারি অনুমোদন পাওয়ার পর, এই ব্যাংকগুলো বন্ধের জন্য পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। এক বছর ধরে ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থা খুবই খারাপের দিকে যাচ্ছে। তারল্য সংকট, বিশাল পরিমাণ শ্রেণিকৃত ঋণ, প্রভিশন ঘাটতি এবং মূলধন ঘাটতিতে ভুগছে। এর ফলে, ব্যাংকগুলো কার্যত দেউলিয়া অবস্থায় এসে পড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে, তাদের শেয়ারবাজার মূল্য পড়ে গেছে এবং নেট এ্যাসেট ভ্যালু (এনএভি) ঋণাত্মক অবস্থায় রয়েছে।

  • পাঁচ ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন বন্ধের নির্দেশ

    পাঁচ ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন বন্ধের নির্দেশ

    ঢাকা Stock Exchange (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) আজ বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জানিয়েছে, একীভূত হয় থাকা পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন বর্তমানে স্থগিত করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে এখন से এসব ব্যাংকের শেয়ার বাজারে লেনদেন হবে না।

    ডিএসই ও সিএসই নিজেদের ওয়েবসাইটে ঘোষণা করে জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত ব্যাংকগুলো নিয়ে শেয়ার লেনদেন বন্ধ থাকবে। এই পাঁচ ব্যাংক হলো: ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামি ব্যাংক, সোস্যাল ইসলামি ব্যাংক (এসআইবিএল), এক্সিম ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামি ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক।

    প্রসঙ্গত, ব্যাংকগুলো কেন লেনদেন স্থগিত করা হলো, তার কারণ হলো ব্যাংক রেজুলিউশন অর্ডিনেন্স, ২০২৫ এর ধারা ১৫ অনুযায়ী, এখন থেকে এই ব্যাংকগুলো অকার্যকর হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক গত ৫ নভেম্বর এই নির্দেশনা দিয়ে বলে দিয়েছে যে, ব্যাংকগুলো অপারেশনে থাকছে না। এই নির্দেশের ফলে ব্যাংকগুলো পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে ফেলা হয়েছে।

    অপর দিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর জানান, এই পাঁচ ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডারদের ইকুইটির মূল্য এখন শূন্যের নিচে। অতএব, এই শেয়ারগুলো মানে বোঝা যাবে না এবং এগুলোর চূড়ান্ত মূল্য জিরো। কোন ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না।

    আলোচিত ব্যাংকগুলোতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মালিকানার পরিমাণ যথাক্রমে:
    – ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামি ব্যাংক: ৬৫ শতাংশের বেশি, যার পরিমাণ ৭৮৭ কোটি টাকা (শেয়ার সংখ্যা ১২০ কোটি ৮১ লাখ)
    – গ্লোবাল ইসলামি ব্যাংক: প্রায় ৩২ শতাংশ, অর্থাৎ ৩০৮ কোটি টাকা (শেয়ার সংখ্যা ৯৮ কোটি ৭৪ লাখ)
    – ইউনিয়ন ব্যাংক: প্রায় ৩২ শতাংশ, অর্থাৎ ৩৩ কোটি ৩৬ লাখ টাকা (শেয়ার সংখ্যা ১০৩ কোটি ৬৩ লাখ)
    – এক্সিম ব্যাংক: ৩৯ শতাংশ, অর্থাৎ ৫৬৫ কোটি টাকা (শেয়ার সংখ্যা ১৪৪ কোটি ৭৬ লাখ)
    – সোশ্যাল ইসলামি ব্যাংক: ১৯ শতাংশ, অর্থাৎ ২২৯ কোটি ২০ লাখ টাকা (শেয়ার সংখ্যা ১১৪ কোটি ২ লাখ)

    প্রাতিষ্ঠানিক ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশও রয়েছে এই ব্যাংকগুলোতে, যার বিবরণ আলাদা আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ঘোষণা ব্যাংকের ভবিষ্যৎ কর্মকাণ্ড ও বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বর্তমান।

  • দুর্বল ৫ ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডাররা ক্ষতিপূরণ পাবেন

    দুর্বল ৫ ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডাররা ক্ষতিপূরণ পাবেন

    বাংলাদেশ ব্যাংক (বিবি) জানিয়েছে, ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ, ২০২৫ (বিআরও ২০২৫) অনুযায়ী দুর্বল অর্থনীতির পাঁচটি ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডাররা ক্ষতিপূরণ পাবেন, যদি তাদের বিনিয়োগের যথাযথ ক্ষতি হয়।

    বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানা গেছে, ‘বিআরও ২০২৫-এর ধারা ৪০ অনুযায়ী, যদি কোনও তফশিলি ব্যাংক রেজল্যুশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিণত হয়ে লিকুইডেশনের (বর্তমান অর্থে পরিসমাপ্তি) মাধ্যমে শেষ হয় এবং শেয়ারহোল্ডাররা রেজল্যুশন প্রক্রিয়ার কারণে লিকুইডেশনের তুলনায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন, তবে তাদের ক্ষতির পরিমাণের ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।’

    এই ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে একটি স্বতন্ত্র পেশাদার মূল্যায়নকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে, যাকে বাংলাদেশ ব্যাংক রেজল্যুশন শেষ হওয়ার পরে নিয়োগ করবে।

    এছাড়া সরকার ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী বা শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষা করার জন্য বিশেষ ক্ষতিপূরণও বিবেচনা করতে পারে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, এই বিধানটি আন্তর্জাতিক সর্বোত্তম অনুশীলনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি করা হয়েছে। এতে আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক এবং ওইসিডির মত আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রযুক্তিগত সহায়তা ও মতামত অন্তর্ভুক্ত।

    অধ্যাদেশে রেজল্যুশনের আওতায় থাকা ব্যাংকের বিভিন্ন দাবিদারর (যেমন আমানতকারী ও শেয়ারহোল্ডার) অধিকার স্পষ্টভাবে নির্ধারিত হয়েছে।

    বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বর্তমানে রেজল্যুশন প্রক্রিয়া চলমান ব্যাংকগুলো বড় পরিমাণ ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে এবং তাদের নিট সম্পদ মূল্য (নিট অ্যাসেট ভ্যালু বা এনভি) ঋণাত্মক।

    এই আর্থিক পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে, বিআরও ২০২৫-এর ধারা ৪২ অনুযায়ী গঠিত ব্যাংকিং সেক্টর ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট কমিটি (বিসিএমসি) ২৪ সেপ্টেম্বর একটি সভায় এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে, এই পাঁচটি ব্যাংকের রেজল্যুশন প্রক্রিয়ায় শেয়ারহোল্ডাররা ব্যাংকের ক্ষতি বহন করবেন।

    রেজল্যুশন টুলস ফ্রেমওয়ার্ক অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংক ধারাসমূহের অধীনে বিভিন্ন অংশীদারদের ওপর ক্ষতি আরোপের ক্ষমতা রাখে। এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে শেয়ারহোল্ডার, দায়ী ব্যক্তি, অতিরিক্ত টিয়ার ১ মূলধনধারী, টিয়ার ২ মূলধনধারী ও সাব-অর্ডিনেটেড ডেট হোল্ডার।

    বর্তমানে, এই পাঁচটি ব্যাংকের একীভূতকরণ প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট বিধানসমূহ বিবেচনায়, সাধারণ বিনিয়োগকারী বা শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ সংরক্ষণের কোন সুযোগ বর্তমানে নেই। তবে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী বা শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষার্থে সরকারের চিন্তাভাবনা রয়েছে, যেখানে তাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।

    সূত্র: বাসস

  • মানুষের মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করতে হবে: তারেক রহমান

    মানুষের মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করতে হবে: তারেক রহমান

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ৫ আগস্টের মহান মুক্তিযুদ্ধের আত্মদান স্মরণ করে ফ্যাসিস্ট রাশিনারা দেশ থেকে পলায়ন করে। এই জয় বাংলার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে গণতন্ত্রের মুক্তির পথ আরও প্রসারিত হয়েছে। এখন চূড়ান্ত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হতে হবে, কারণ এটি মানুষের মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করার অন্যতম প্রয়োজন।

    তিনি এই বক্তব্য ৭ নভেম্বর মহান জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের উপলক্ষে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় ব্যক্ত করেন। এছাড়া, তিনি ৬ নভেম্বর বৃহস্পতিবার বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানান।

    তারেক রহমান বাংলাদেশবাসীসহ সকলের জন্য আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন পাঠিয়ে বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের এই তারিখে জাতি এক নতুন মোড় নেয়। সেনা-জনতার এই বিপ্লব শুধুমাত্র এক পরিবর্তনসাধক ঘটনা নয়, এটি দেশের আধিপত্যবাদ বিরোধী জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সূচনা। এই বিপ্লবের মাধ্যমে বাংলাদেশ তার সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে ।

    তিনি বলছেন, ৭ নভেম্বরের এই দিনে দেশের যুবসমাজ জাতীয় মুক্তির জন্য রাস্তায় নেমে আসে, স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের পুনরুজ্জীবনের সংকল্প নিয়ে। তাই এই দিনটি ইতিহাসে অশেষ গুরুত্ব বহন করে। স্বাধীনতাত্তোর শাসক গোষ্ঠী স্বার্থের জন্য দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়। এর মধ্যে রয়েছে একদলীয় বাকশাল গঠন ও গণতন্ত্রের হত্যা।

    তিনি বলেন, বাকশালী সরকার কায়েম করে মানুষের ন্যায়সংগত অধিকারগুলো হরণ করে চরম অগণতান্ত্রিক ও ফ্যাসিবাদী পদ্ধতিতে। এর সময়, ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর, জাতীয় মুক্তির ঘোষক জিয়াউর রহমানকে সপরিবারে ক্যান্টনমেন্টে বন্দী করে রাখা হয়। তত্কালীন ক্রান্তিকালে, ৭ নভেম্বর, এই সংকটকালীন সময়ের মধ্যে স্বজাতির স্বাধীনতা রক্ষার জন্য দেশপ্রেমিক সৈনিক এবং সাধারণ জনগণের একতারা রাস্তায় নেমে আসে, ফলে জিয়াউর রহমান মুক্তি পান।

    এই পরিবর্তনের ফলে রাষ্ট্রপ্রধান জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে দেশের প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসে এবং গণতান্ত্রিক চেতনা মুক্ত হয়। মানুষ শান্তি অনুভব করে। তবে, আধিপত্যবাদী শক্তির এজেন্টরা স্বার্থান্বেষী হয়ে ১৯৮১ সালে হত্যা করে জিয়াউর রহমানকে। তিনি শাহাদত বরণ করলেও তার আদর্শ এখনও মানুষের মধ্যে জীবন্ত এবং দেশপ্রেমে উজ্জীবিত, যা দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষায় দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ।

    তিনি আরও বলেন, আবারো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে আওয়ামী ফ্যাসিস্টরা নিরীহ নেতা-কর্মীদের দমন করে দীর্ঘ ১৬ বছর গণতন্ত্রকে ধ্বংসের অপচেষ্টা চালায়। এর ফলে দেশের সার্বভৌমত্ব দিনে দিনে দুর্বল হয়ে পড়তে থাকে। আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকার গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যা, দুর্নীতি এবং অপশাসনের ভয়াল রাজত্ব কায়েম করে।

    তিনি উল্লেখ করেন, খালেদা জিয়াসহ অন্যান্য প্রিয় নেতাদের বন্দী করে দীর্ঘদিন মুক্তি দেওয়া হয়নি। তিনি সমাজে ন্যায়বিচার ও সুষ্ঠু শাসন প্রতিষ্ঠার উপর জোর দেন।

    তারেক রহমান বলেন, আওয়ামী ফ্যাসিস্টরা পরিকল্পিতভাবে দেশীয় সংস্কৃতি, ভাষা ও ঐতিহ্য ওপর আঘাত হানার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এই জন্য, আমি মনে করি, ৭ নভেম্বরের চেতনাকে ধারণ করে সকল জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে শক্তিশালী গণতন্ত্র গড়তে হবে। এখনই সময়, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার জন্য।

  • যমুনা অভিমুখে জামায়াতসহ ৮ দলের পদযাত্রা পুলিশের বাধায় রক্তপাত এড়ালো

    যমুনা অভিমুখে জামায়াতসহ ৮ দলের পদযাত্রা পুলিশের বাধায় রক্তপাত এড়ালো

    সংসদ নির্বাচনের আগে জনগণের ভোটাধিকার ও জুলাই মাসে জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের জন্য ঘোষণা করা পাঁচ দফা দাবির জন্য আরও এক বড় পদযাত্রা করছিলেন জামায়াতসহ আটটি ইসলামি ও রাজনৈতিক দল। তবে পুলিশ তাদেরকে বাধা দেয়। এই ঘটনায় সাংবাদিক ও নেতাকর্মীরা জানান, বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে বিশাল এক মিছিল নিয়ে প্রধান উপদেষ্টাকে স্মারকলিপি দাবি করতে যমুনা নদীর পাড়ে এসে পৌঁছানোর সময় পুলিশ তাদেরকে পেছনে ঠেলে দেয়। এ সময় নেতারা চেষ্টা চালিয়ে যান এবং শেষ পর্যন্ত যমুনার তীরে এসে স্মারকলিপি প্রদান করেন।

    আট দলের মধ্যে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি।

    এর আগে সকাল থেকেই এই দলের নেতাকর্মীরা পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ঢাকার শাপলা চত্বর থেকে মিছিল নিয়ে পুরানা পল্টনে বিশেষ সমাবেশের জন্য জমায়েত করেন। এই সমাবেশে অংশ নেন বিভিন্ন ইসলামি দল ও সংগঠনের নেতারা। নেতারা সেখানে সরকারের কাছে জোর দিয়ে বলেছে, যেন তারা জনগণের ভোটাধিকার ও পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী জুলাই মাসে জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের আদেশ জারি করে। তারা আরও দাবি করেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনে যেন অংকের পরিবর্তে গণতান্ত্রিক পদ্ধতি — অর্থাৎ, পিআর (সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) পদ্ধতি চালু হয়।

    তাদের পাঁচ দফা মূল দাবি হলো: প্রথমত, জুলাইয়ের জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের জন্য দ্রুত আদেশ জারি ও নভেম্বরে গণভোটের আয়োজন; দ্বিতীয়ত, নির্বাচনে সকলের জন্য সমান সুযোগ তৈরি করে তোলা; তৃতীয়ত, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা; চতুর্থত, ‘ফ্যাসিস্ট’ সরকারী জুলুম-নির্যাতন, গণহত্যা ও দুর্নীতির দায় স্বচ্ছভাবে যাচাই করে বিচারের ব্যবস্থা করা; এবং শেষমেশ, ‘স্বৈরাচারের দোসর’ হিসেবে চিহ্নিত পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার দাবি।

    এই চলমান আন্দোলন ও প্রতিবাদে আরও জোরদার করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন নেতাকর্মীরা, যাতে সরকারের অপপ্রয়াস ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী ফুটপ্রিন্ট তৈরি হয়।

  • পাঁচ দফা দাবি মানা না হলে ১১ নভেম্বর ঢাকার পরিস্থিতি ভিন্ন হবে

    পাঁচ দফা দাবি মানা না হলে ১১ নভেম্বর ঢাকার পরিস্থিতি ভিন্ন হবে

    নভেম্বরে অনুষ্ঠিত গণভোট ও জুলাইয়ে জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেয়ার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে আন্তঃসরকারি সংলাপের মাধ্যমে পাঁচ দফা দাবি উপস্থাপন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতারা। এতদসত্ত্বেও যদি এই দাবিগুলি মানা না হয়, তাহলে আগামী ১১ নভেম্বর ঢাকায় পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপ ধারণ করবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।

    তিনি বলেন, ‘আমাদের পাঁচ দফা দাবি মেনে নিয়ে জুলাইয়ের সনদ বাস্তবায়ন ও জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য আশু ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। না হলে ১১ নভেম্বর ঢাকার চিত্র নতুন করে বদলে যাবে, ইনশাআল্লাহ।’ এই ঘোষণা দিয়েছেন তিনি বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মৎস্য ভবনের সামনে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে।

    এর আগে ওই দাবিগুলোর জন্য প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন জামায়াতে ইসলামীসহ আটটি রাজনৈতিক দলের নেতারা। স্মারকলিপি তুলে দেওয়ার পরে, সেখানে তিনি বলেন, ‘উচ্চ অংশগ্রহণের মাধ্যমে ঢাকায় মহাসমাবেশ হবে আগামী ১১ নভেম্বর। তার আগে আমাদের দাবি মানা প্রয়োজন।ósitos নির্দেশনাও প্রদান করা হবে।’

    প্রতিটি দলের নেতা লিয়াজোঁ কমিটি গঠন ও সমাবেশ সফল করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়ার আহ্বান জানান। এর আগেই, উপদেষ্টা কার্যালয়ে স্মারকলিপি দেওয়ার পর, বিভিন্ন দলের নেতারা ঢাকার জনগণকে মুক্ত করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

    ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহেরসহ অন্য নেতারা বলেন, ‘জেলা ও মহানগরে কর্মসূচি শুরু হয়েছে। ১১ নভেম্বরের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। যদি দাবি মানা না হয়, তাহলে আমরা ‘চলো চলো ঢাকা চলো’ কর্মসূচি পালন করব। ঢাকা হবে জনতার শহর, দাবি আদায়ের জন্য লড়াই চলবে।’

    এদিকে, পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ সকালে মতিঝিলের শাপলা চত্বর ও পল্টন মোড়ে জামায়াত ও অন্যান্য দলের নেতাকর্মীরা জড়ো হতে থাকেন। বেলা ১১টার পর বিভিন্ন জেলা থেকে নেতাকর্মীরা মিছিলের মাধ্যমে পুরনো পল্টনে একত্রিত হন। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের পর দুপুর ১২:০৫ মিনিটে তারা যমুনা অভিমুখে পথযাত্রা শুরু করেন।

    এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন- জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা উত্তরের সভাপতি শেখ ফজলে বারী মাসউদ, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির সাখাওয়াত হোসেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়াজি, নেজামে ইসলাম দলের মহাসচিব মুসা বিন ইহজার, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব ইউসুফ সাদিক হাক্কানী, জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল হক।

    তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে জুলাইয়ে জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের আদেশ জারি করা, এর ওপর নভেম্বরে গণভোট আয়োজন, আগামী জাতীয় নির্বাচনে পার্লামেন্টে বা উচ্চ পরিষদে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধি পদ্ধতি চালু, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সব মানুষের জন্য সমান ব্যালেন্স তৈরি, ‘ফ্যাসিস্ট’ সরকারের জুলুম-নির্যাতন, গণহত্যা ও দুর্নীতির বিচার দ্রুত কাজ করা এবং ‘স্বৈরাচারের দোসর’ জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলকে নিষিদ্ধ করার দাবি যেন দ্রুত বাস্তবায়িত হয়।

  • জামায়াতের আমিরের ঘোষণা: ২০০ এমপি নির্বাচিত হলেও সরকারি সুবিধা নেওয়া হবে না

    জামায়াতের আমিরের ঘোষণা: ২০০ এমপি নির্বাচিত হলেও সরকারি সুবিধা নেওয়া হবে না

    জামায়াতের কেন্দ্রীয় আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আগামী নির্বাচনে কেউ একজন এমপি হলে, এমনকি যদি ২০০ জন এমপি নির্বাচন করে তবেও জামায়াত কোনও সরকারি সুবিধা গ্রহণ করবে না। তিনি এই ঘোষণা দেন বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় সিলেটের এক বিশিষ্ট কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত সুধী সমাবেশে।

    শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতের কেউ কোনও অপকর্মে জড়াবেন না। যারা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত থাকবেন, তাদের কঠোরভাবে দমন করা হবে। তিনি দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, ৫ আগস্টের পর দেশের পরিস্থিতিতে অনেক পরিবর্তন এসেছে, কিন্তু রাজনৈতিক দলের নেতারা দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে পারেননি।

    আমির আরো উল্লেখ করেন, আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে যদি সমাজে ন্যায্যতা ও বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে দুর্নীতির জাল কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। কারণ, দেশের স্বার্থই সব কিছু থেকে আগে।

    এ সমাবেশে দলের কেন্দ্রীয় নেতারা ছাড়াও আসন্ন নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থী এবং সিলেট মহানগরের দায়িত্বশীল নেতারা উপস্থিত ছিলেন। অতি সম্প্রতি তৃতীয়বারের মতো বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির নির্বাচিত হওয়ার পর, বুধবার (৫ নভেম্বর) নিজ জন্মভূমি সিলেটে গিয়ে তিনি নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

  • তরিকুল ইসলাম ছিলেন অবিচল সংগ্রামী ও কিংবদন্তি নেতা

    তরিকুল ইসলাম ছিলেন অবিচল সংগ্রামী ও কিংবদন্তি নেতা

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, কিছু রাজনৈতিক দল দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্রকে বাধাগ্রস্ত করতে চক্রান্ত চালাচ্ছে। এরা জনগণের অধিকার হরণ করে ক্ষমতা কুক্ষোতে রাখতে এবং নির্বাচনে বাঁধা সৃষ্টি করে আবারও দেশের অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে চাইছে। তিনি বলেন, দেশকে ফ্যাসিবাদী রাস্তায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে, যা জাতি কখনো মেনে নেবে না।

    বৃহস্পতিবার যশোরের টাউন হলে এক স্মরণসভার বক্তৃতায় তিনি এই কথা বলেন। এটি ছিল বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের অংশগ্রহণে তরিকুল ইসলাম নামে একজন ত্যাগী ও সংগ্রামী নেতার সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী পালনের আয়োজন।

    মির্জা ফখরুল আরও বলেন, দ্রুত নির্বাচনের জন্য সরকারকে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করতে হবে, অন্যথায় তাদের ব্যর্থতা স্বীকার করতে হবে। দেশের জনগণের প্রত্যাশা হচ্ছে, নির্বাচন যেন সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়, তখনই দেশের উন্নয়ন হবে। তিনি উল্লেখ করেন, আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়া থেকে শুরু করে আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে বিএনপি আজকের অবস্থানে এসেছে। জনগণের দলের জন্য দয়া করে দেশ অস্থিতিশীল করবেন না, রাজপথে নামলে পরিস্থিতি ভিন্ন রূপ নেবে।

    সংস্কার কমিশনের বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ৮৩ কোটি টাকা খরচ করে কমিশনটি একাধিক রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক করেছে। সব দলের মতামত নিয়ে এগোতে চাইলে কিছু বিষয় এখনো সমাধানবিহীন রয়ে গেছে, যার জন্য সাত দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। তিনি মনে করেন, কমিশনের এই অপ্রত্যাশিত ধীরগতি দেশের রাজনীতি আর পূর্ণাঙ্গ সমাধান থেকে দূরে রাখছে।

    তিনি আরও বলেন, ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের দিনটি দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই দিনে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দেশের শাসনভার হাতে নিয়ে দেশের স্বাধিকার রক্ষায় দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এই ইতিহাসের মহান অর্জন স্মরণ করে তিনি ভবিষ্যতে সবার ঐক্যকে আরও জোরদার করার আহ্বান জানান।

    বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি নির্বাচন নিয়ে টালবাহানা চলতে থাকে, তার ফল নেতিবাচক হবে। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের পতনের পর দেশের গণতন্ত্র আবার দৃঢ় হয়েছে। সেই গণতন্ত্রের পত পত পত স্বরূপের জন্য আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। বিশেষ করে জাতীয় ইতিহাসের এমন দিনগুলোর গুরুত্ব আমরা গভীরভাবে জানি। ফলে যেসব চক্রান্ত বা পরিকল্পনায় দেশকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়ার প্রচেষ্টা চলছে, সেগুলো প্রতিহত করতে আমাদের সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।

    মির্জা ফখরুল আরও জানান, তরিকুল ইসলাম ছিলেন সার্বক্ষণিক সংগ্রামী ও আদর্শপরায়ণ নেতা। তিনি মা, পতিতা ও দেশের মুক্তির জন্য নিবেদিত ছিলেন। কখনো অন্যায়ের কাছে আপস করেননি। স্বাধীনতা ও স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নের জন্য দীর্ঘ সময় সংগ্রাম করেছেন, তবে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও স্বাধিকার দেখার সৌভাগ্য পাননি। আজকের প্রজন্মের জন্য তার মতো নেতাদের প্রয়োজন রয়েছে।

    শেষে তিনি মরহুম তরিকুল ইসলামের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং যশোর জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনের প্রাথমিক প্রার্থীদের পরিচয় তুলে ধরেন। তিনি ধানের শীষে ভোট প্রত্যাশা করেন।

    সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপি সভাপতি এড. সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুর, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, সহ-ধর্মবিষয়ক সম্পাদক অমলেন্দু দাস অপু, সাবেক দপ্তর সম্পাদক মফিকুল হাসান তৃপ্তি, কৃষক দলের যুগ্ম-সম্পাদক টিএস আইয়ুব, কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ সহ প্রজামাণ্য পেশাজীবী ব্যক্তিরা।

    উল্লেখ্য, এই স্মরণসভা ঐতিহাসিক জনসভায় রূপ নিয়েছে, যেখানে নেতৃবৃন্দ তরিকুল ইসলামের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পাশাপাশি রাজনীতি ও দেশের উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করেছেন।