Blog

  • রেলমন্ত্রী: ঈদযাত্রায় প্রতিদিন ট্রেনে প্রায় ৪২ হাজার যাত্রী পরিবহন করা হবে

    রেলমন্ত্রী: ঈদযাত্রায় প্রতিদিন ট্রেনে প্রায় ৪২ হাজার যাত্রী পরিবহন করা হবে

    পবিত্র রমজান মাসের শেষের দিকে এসে চলছে ঈদের প্রস্তুতি। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই ঈদুল ফিতর; তাই নাড়ির টানে মানুষ বাড়ি ফেরার পরিকল্পনা করছেন। রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, কেবল রাজধানী ঢাকা থেকেই সোয়া কোটিরও বেশি মানুষ নিজ ঠিকানায় ফিরে যাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে, যার চাপ সামাল দিতে বাংলাদেশ রেলওয়ে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে।

    আজ শুক্রবার ঈদের প্রথম দিন ট্রেন চলাচল পর্যবেক্ষণের জন্য কমলাপুর রেলস্টেশন পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি জানান, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে রেলসেবায় অতিরিক্ত কোচ ও বিশেষ ট্রেন যুক্ত করা হয়েছে। ইতিমধ্যে আনুমানিক ১২৪টি অতিরিক্ত কোচ যোগ করা হয়েছে; মিটারগেজে আরও প্রায় ১৪টি কোচ ও ব্রডগেজ লাইনে প্রায় পাঁচ জোড়া বিশেষ ট্রেন চালু করা হয়েছে। এসব ব্যবস্থায় প্রতিদিন প্রায় ৩৬ থেকে ৪২ হাজার যাত্রীকে সেবা দেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি বিচার করেন।

    মন্ত্রী জানান, ঈদ উপলক্ষে সরকার এবার সাত দিনের টানা সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে, যা শুরু হবে ১৭ মার্চ মঙ্গলবার থেকে। তবে রেলসেবা অনুযায়ী ঈদযাত্রা আজ ১৩ মার্চ থেকে কার্যত শুরু হয়ে গিয়েছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ গত ৩ মার্চ থেকে অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু করে এবং পর্যায়ক্রমে ২০ মার্চ পর্যন্ত অগ্রিম টিকিট বিক্রয় চালু রাখা হয়েছে।

    রেলমন্ত্রী বলেন, পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলে প্রতিদিন ৩৬ হাজার টিকিট অনলাইনে শতভাগ বিক্রি হয়ে যাচ্ছে; কিন্তু ওই ৩৬ হাজার টিকিটের জন্য অনলাইনে প্রায় ৩৭ লাখ মানুষ টিকিট কেনার চেষ্টা করেছেন। তিনি বললেন, প্রচণ্ড অনলাইন চাপের কারণে অনেক সময় টিকিট বুকিংয়ে পেমেন্ট শেষ না হওয়ার কারণে লোকেরা টিকিট না পেয়ে ফিরে যান। এক টিকিট বুক করার পর পেমেন্ট সম্পন্ন করার জন্য যাত্রীকে সাধারণত ৫ থেকে সর্বোচ্চ ১৫ মিনিট সময় দেয়া হয়, এ কারণে মাঝে মাঝে টিকিট অন্যের কাছে চলে যায়। সত্ত্বেও, রেলের দফতরের মতে, যারা টিকিট কিনতে চেয়েছেন তারা ন্যায্যভাবে টিকিট পেয়েছেন।

    ঈদযাত্রার শেষ মুহূর্তে কিছু ব্যক্তি ছাদে উঠে ভ্রমণের চেষ্টা করেন—এটি নিরাপত্তাহীনতার বড় কারণ। মন্ত্রী জানান, এমন অনভিপ্রেত পরিস্থিতি রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবু অতিরিক্ত ভিড়ের মধ্যে কখনো দুই-একজন যাত্রী ছাদে উঠে যেতে পারেন; শতভাগ রোধ করা কঠিন হলেও রেলমন্ত্রী দাবি করেন যে রেল কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে যেন কেউ ছাদে উঠতে না পারে।

    রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম অভিযান পরিচালনা ও ভ্রমণকারীদের নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন যাত্রা নিশ্চিতে সব প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। যাত্রীদেরও তিনি জরুরি নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানান—ট্রেন চলাচলের সময় নির্দেশনা অনুসরণ, ভিড় এড়ানো এবং ব্যক্তিগত সুরক্ষার প্রতি সচেতন থাকা যথা প্রয়োজন।

  • অস্ত্রোপচারের পর আইসিইউতে মির্জা আব্বাস

    অস্ত্রোপচারের পর আইসিইউতে মির্জা আব্বাস

    গুরুতর অসুস্থ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও দলের রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাসের মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। আজ শুক্রবার বিকেলে ঢাকা মহানগরের এভারকেয়ার হাসপাতালে তাঁর এই অস্ত্রোপচার করা হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের আইসিইউতে রাখা আছে এবং চিকিৎসকেরা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন।

    জুমার নামাজের পর দুপুরে এভারকেয়ার হাসপাতালে মির্জা আব্বাসকে দেখতে যান বিএনপির শীর্ষ নেতা তারেক রহমান। তিনি শয্যাহাস্যাপাশে কিছুক্ষণ অবস্থান করে তাঁর স্বাস্থ্যগত পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলাপ করেন। দ্রুত উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানানো হয়।

    হাসপাতালের সূত্রে বলা হয়েছে, অস্ত্রোপচারের পর মির্জা আব্বাসকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে এবং চিকিৎসকরা তাঁকে ঘন নজরদারিতে রাখছেন। পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হলে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য নেওয়ার চিন্তা আছে। মেডিকেল বোর্ডের অনুমতি মিললেই সিঙ্গাপুরে নেওয়ার জন্য প্রক্রিয়া চালু করা হবে বলে পরিবার জানিয়েছে।

    বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড সমস্ত রিপোর্ট পর্যালোচনা করে মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং ওই পরিকল্পনা অনুযায়ী অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। তিনি জানান, শুক্রবার সকালে মির্জা আব্বাসের সিটি স্ক্যান করা হলে অবস্থার অবনতি দেখা গিয়েছিল; এরপর ভার্চুয়াল মেডিকেল বোর্ড বসে এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পরিবারের সম্মতিও নেয়া হয়েছে।

    ঘটনার সময়কাল সম্পর্কে পরিবার বলেছে, ১১ মার্চ ইফতারের সময় অসুস্থ হয়ে মির্জা আব্বাস হঠাৎজ্ঞান হারান। তাকে দ্রুত এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে পরিবারের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে তাঁর আরোগ্য কামনায় দোয়া চাওয়া হয়েছে।

    আজ সকালে বিএনপির মিডিয়া সেলের এক কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান জানিয়েছিলেন, চিকিৎসকদের পরামর্শে মির্জা আব্বাসকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং সন্ধ্যা ৬টার দিকে তাঁকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে পাঠানোর কথা ছিল। তবে শেষপর্যন্ত ওই যাত্রা হচ্ছে না; চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরিবর্তিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    এরআগে বৃহস্পতিবার মির্জা আব্বাসকে দেখতে হাসপাতালে গেছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, স্থায়ী কমিটির অন্য সদস্য এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান।

    পরিবার ও চিকিৎসকরা রোগীর অবস্থা নিয়ে সতর্কভাবে কাজ করছেন। মির্জা আব্বাসের দ্রুত আরোগ্য এবং পরিস্থিতির উন্নতির জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে।

  • পানিসম্পদ মন্ত্রী: বিএনপি সরকারের ১৭ বছরের জঞ্জাল পরিষ্কার করতে হবে

    পানিসম্পদ মন্ত্রী: বিএনপি সরকারের ১৭ বছরের জঞ্জাল পরিষ্কার করতে হবে

    পানিসম্পদ মন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, ১৭ বছর ধরে জমে থাকা জঞ্জাল সরিয়ে বিএনপি সরকারের সময়ে সৃষ্ট অরুচিকর অবস্থা পরিষ্কার করতে হবে। খাল-বিচ্ছিন্ন অঞ্চলে জমে থাকা বর্জ্য ও আবর্জনা দ্রুত পরিষ্কার করা তাদের অন্যতম অগ্রাধিকার।

    শুক্রবার (১৩ মার্চ) বেলা ১১টায় লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার মান্দারি বাজার এলাকায় খাল খনন কাজ পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় মন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আমরা নির্বাচিত সরকারের দায়িত্ব পেয়েছি। তারেক রহমানের নেতৃত্বে সব কাজ এবং সব দপ্তরে শহীদদের সম্মান বজায় রাখার পাশাপাশি খাল দখলমুক্ত করাও নিশ্চিত করা হবে।

    মন্ত্রী আরও বলেন, খাল খনন কর্মসূচি শুরু হলে সচেতন নাগরিক ও বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন হবে। ‘‘দেশপ্রেমিক সরকার হিসেবে আমরা দেশের মানুষকে নিয়ে এগোবো, তাই তাদের সহযোগিতা চাই,’’ তিনি যোগ করেন।

    প্রসঙ্গত, আগামী ১৬ মার্চ দিনাজপুরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি কাহারোল উপজেলার বলরামপুরে প্রায় সাড়ে ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ সাহাপাড়া খাল খননের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। পাশাপাশি সরকার সারাদেশে খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে বলে মন্ত্রী জানান।

    মন্ত্রী জানান, লক্ষ্মীপুরে ইতোমধ্যে তিনটি খাল পরিদর্শন করেছেন। তিনি আরও বলেন, খালগুলো খননের আগে সবচেয়ে প্রয়োজন যে বর্জ্য ও আবর্জনা তা পরিষ্কার করা এবং অবৈধ দখল তুলে নেওয়া। ‘‘এই দুটো কাজ না হলে জনগণ কাঙ্ক্ষিত সুফল পাবে না; সেজন্য পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করতে হবে,’’ তিনি আবেদন করেন।

  • আসিফের বিরুদ্ধে মামলা-চেষ্টা ‘পরিকল্পিত রাজনৈতিক আঘাত’ — নাহিদ ইসলাম

    আসিফের বিরুদ্ধে মামলা-চেষ্টা ‘পরিকল্পিত রাজনৈতিক আঘাত’ — নাহিদ ইসলাম

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আসিফ মাহমুদকে কেন্দ্র করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের চেষ্টা অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও নিন্দনীয়। তিনি এ ধরনের উদ্যোগকে জুলাই বিপ্লবের চেতনা ও তরুণ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে নেওয়া সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক আঘাত হিসেবে অভিহিত করেছেন।

    শুক্রবার দেওয়া এক বিবৃতিতে নাহিদ ইসলাম বলেন, আসিফ মাহমুদকে প্রধান আসামি করে আন্দোলনের সমন্বয়কদের বিরুদ্ধে তাঁদের অভ্যুত্থানকালীন ভূমিকার অভিযোগ করে মামলা নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে ওই মামলাটি আদালত গ্রহণ করেনি, বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

    নাহিদ আরও বলেন, গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন বাংলাদেশের জন্য এমন অপচেষ্টা একই সঙ্গে উদ্বেগের এবং নিন্দার যোগ্য। তিনি বলেন, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ব্যক্তিগত হামলা নয়; বরং জুলাই বিপ্লবের মূল চেতনা, ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রাম এবং সেই সংগ্রামের তরুণ নেতৃত্বকে কুঁচিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে নেওয়া পরিকল্পিত চালচিত্র।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন আজ দেশের তরুণ প্রজন্মের সাম্য, ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা ও গণতন্ত্রের প্রতীক। আন্দোলনের নেতৃত্বদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা বা ভয়ে-ভীতি দেখিয়ে দমন করা যাবে না; অতীতেও এমন চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও হবে বলে তিনি দৃঢ়ভাবে দাবি করেন।

    সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তিনি কার্যকর পদক্ষেপ নিতে এবং পরাজিত অপশক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান। নাহিদ আরও বলেন, ফ্যাসিবাদী কোনো গোষ্ঠীর অপতৎপরতা প্রতিহত করতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবেন।

  • খেলাপি ঋণ আদায় দ্রুত করতে মধ্যস্থতাকারী নিয়োগের নির্দেশ দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

    খেলাপি ঋণ আদায় দ্রুত করতে মধ্যস্থতাকারী নিয়োগের নির্দেশ দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

    বাংলাদেশ ব্যাংক তফসিলি ব্যাংকগুলোর কাছে খেলাপি ঋণ সংক্রান্ত বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য দক্ষ মধ্যস্থতাকারী (মিডিয়েটর) নিয়োগের নির্দেশনা জারি করেছে। আদালতে মামলাসূত্রে যাওয়ার আগেই ‘প্রাক-মামলা মধ্যস্থতা’ pদ্ধতিতে সমাধান নিশ্চিত করাই নতুন উদ্যোগের লক্ষ্য।

    কেন্দ্রীীয় ব্যাংক woensdag একটি সার্কুলার জারি করে জানিয়েছে, এ উদ্যোগের ফলে বিচার ব্যবস্থায় মামলার চাপ কমবে এবং এমনও ঋণবর্ণনা রয়েছে যেগুলো ভবিষ্যতে অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩ বা দেউলিয়া আইন, ১৯৯৭-এর আওতায় যেতে পারে—তাতে আদালতে যাওয়ার আগেই সমাধানের সুযোগ তৈরি হবে।

    সার্কুলারে বলা হয়েছে, তফসিলি ব্যাংকগুলোকে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) পদ্ধতির মাধ্যমে ৩০ জুন ২০২৬ সালের মধ্যে তাদের মোট খেলাপি ঋণের অন্তত ১ শতাংশ বিরোধ বন্ধ করে দিতে হবে। চলতি অর্থবছরের শেষ দিন হিসেবে এই সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং এটি ব্যাংক খাতের তারল্য ও আর্থিক স্থিতি উন্নয়নের ওপর নিয়ন্ত্রকের গুরুত্বের প্রতিফলন।

    বড় পরিমাণ অনাদায়ী ঋণের মধ্যে এই ১ শতাংশ আদায়কে জাতীয় পর্যায়ে ঋণ পুনরুদ্ধারের একটি কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নতুন নির্দেশনা ২২ মে ২০২৪ সালে জারি করা বিএরপিডি সার্কুলার নং-১১-এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখছে, তবে এবার আদালতে মামলা দায়েরের আগেই বিরোধ নিষ্পত্তির ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।

    মধ্যস্থতাকারীদের নিয়োগে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নির্দেশ দিয়েছে যে, বিদ্যমান আইন অনুযায়ী বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানগুলোর গঠিত প্যানেল থেকে মধ্যস্থতাকারী নির্বাচন করতে হবে। এসব প্যানেলে সাধারণত অবসরপ্রাপ্ত বিচারক, ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং অন্যান্য অভিজ্ঞ পেশাজীবীরা থাকার কথা।

    সার্কুলারে মধ্যস্থতাকারী নির্বাচনের ক্ষেত্রে ১০টি যোগ্যতা ও অযোগ্যতার শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে প্যানেল সদস্যপদ যাচাই, নিরপেক্ষতা, পেশাগত সুনাম, বিষয়ভিত্তিক দক্ষতা, মধ্যস্থতা সংক্রান্ত জ্ঞান, প্রমাণিত অভিজ্ঞতা, পরিষ্কার আইনি রেকর্ড, আর্থিক সততা, ঋণখেলাপি না থাকা এবং যথোপযুক্ত আর্থিক সক্ষমতা।

    নতুন নীতিমালার অধীনে ব্যাংকগুলোকে মধ্যস্থতাকারী নিয়োগের সময় কঠোর প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় হলফনামা ও অঙ্গীকারপত্র গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

    তফসিলি ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে গ্রাহকদের মধ্যে এসব মধ্যস্থতা সুবিধার ব্যাপারে সচেতনতা সৃষ্টিরও নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক; যাতে ঋণগ্রহীতারা আদালতচাপিত দীর্ঘ প্রক্রিয়া বাইপার করে দ্রুত সমঝোতাভিত্তিক সমাধানে আগ্রহী হন।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, আদালতের বাইরে দ্রুত সমঝোতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি হওয়া গেলে দীর্ঘ সময় লাগা আইনি প্রক্রিয়ার বিকল্প হিসেবে একটি কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে উঠবে এবং ব্যাংক খাতের আর্থিক স্থিতি ও তরলতা উন্নয়নে সহায়ক হবে।

  • এক ভরির সোনার দাম ছাড়াল ২ লাখ ৭০ হাজার ৪৩০

    এক ভরির সোনার দাম ছাড়াল ২ লাখ ৭০ হাজার ৪৩০

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) টানা দ্বিতীয় দিন সোনার দাম বাড়িয়েছে। বুধবার (১১ মার্চ) সকালে দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে ভালো মানের ২২ ক্যারেট সোনার এক ভরির দাম ২ লাখ ৭০ হাজার ৪৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন এই দাম সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।

    বাজুস বলেছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) মূল্য বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সোনার নতুন মূল্য তালিকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট সোনার দাম পড়বে ২,৭০,৪৩০ টাকা। একই বিবেচনায় ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি দাম হয়েছে ২,৫৮,১২৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২,২১,২৬৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১,৮০,৬১৭ টাকা।

    সোনার দর বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে রুপার দামও বাড়ানো হয়েছে। রুপার দাম ভরিতে ১৭৫ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম রাখা হয়েছে ৬,৭০৭ টাকা। তদুপরি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৬,৪১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫,৪৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৪,০৮২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    বাজুসের এই সিদ্ধান্ত বাজারে কাঁচামালের মূল্য ওঠানামা ও স্থানীয় চাহিদার প্রভাবকে মাথায় রেখে নেওয়া হয়েছে বলে তারা জানিয়েছে। মূল্যবৃদ্ধি গ্রাহক ও গহনা ব্যবসায়ীদের ক্রয়-বিক্রয়ে প্রভাব ফেলতে পারে, তাই ক্রেতাদের সাবধানতা ও ব্যবসায়ীদের স্টক পরিকল্পনা আপডেট করার পরামর্শ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

  • কেসি-১৩৫ বিধ্বস্তে সব ছয় ক্রুর মৃত্যু নিশ্চিত; ইরান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্তে ইসরায়েলে সতর্কতা

    কেসি-১৩৫ বিধ্বস্তে সব ছয় ক্রুর মৃত্যু নিশ্চিত; ইরান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্তে ইসরায়েলে সতর্কতা

    যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) শুক্রবার জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার পশ্চিম ইরাকে বিধ্বস্ত হওয়া কেসি-১৩৫ জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানের ছয়টি ক্রু সদস্যের সবার মৃত্যুও নিশ্চিত হয়েছে।

    প্রাথমিকভাবে সেনাবাহিনী চার ক্রুর মৃত্যুর কথা জানিয়েছিল এবং দুইজনকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছিল। কিন্তু উদ্ধারকাজের পর তারা ও জীবিত উদ্ধার করা যায়নি বলে সেন্টকম জানায়।

    পেন্টাগনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে যুদ্ধের ভয়ের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেছেন, “যুদ্ধ মানেই নরক। যুদ্ধ মানেই বিশৃঙ্খলা।” তিনি নিহত সৈন্যদের ‘আমেরিকান হিরো’ বলেন এবং ডোভারে তাদের অভিবাদনের কথা উল্লেখ করেন, পাশাপাশি তাদের আত্মত্যাগকে চলমান মিশনে শক্তি যোগাবে বলেও তোরণ করেছেন।

    সেন্টকম জানায়, কেসি-১৩৫ ট্যাঙ্কার বিমানটি মাঝা-আকাশে অন্য একটি বিমানের সঙ্গে সংঘর্ষের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পশ্চিম ইরাকে বিধ্বস্ত হয়। সংঘর্ষের অপর বিমানটি ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে—বিমানটির লেজের অংশের কিছু অংশ নিখোঁজ রয়েছে। সেন্টকম দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে।

    একই দিনে ইরান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ শনাক্ত হওয়ার পর ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দেশজুড়ে সতর্কতা জারি করেছে। সামরিক সূত্রে বলা হয়েছে, সতর্কবার্তা হাতে লাগার সঙ্গে সঙ্গেই নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে হবে এবং পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    এই ঘটনাগুলোর প্রেক্ষিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক আঘাতের ফলে একদিন ইরানের জনগণ তাদের সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্যে উঠে দাঁড়াতে পারে, তবে তা সঙ্গে সঙ্গেই ঘটবে না। ফক্স নিউজ রেডিওকে দেওয়া সেই সাক্ষাৎকারে তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আগামী সপ্তাহে আমরা তাদের ওপর খুব কঠোর আঘাত হানতে যাচ্ছি।” তিনি একই সঙ্গে স্বীকার করেছেন যে এখন পর্যন্ত ইরানিসদের মধ্যে সরকারের বিরুদ্ধে বড় ধরনের প্রতিবাদের লক্ষণ দেখা যায়নি।

    বিশ্লেষকরা মনে করছেন ট্রাম্প প্রশাসন ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সামরিক সফলতার মাধ্যমে ঘরোয়া জনমতকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করছে। দোহায় অবস্থিত ডোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের মোহাম্মদ এলমাসরি আল-জাজিরাকে বলেছেন, ট্রাম্প ও হেগসেথ জনগণকে যুদ্ধের সাফল্য নিয়ে নিশ্চিন্ত করতে চাইছেন। এলমাসরি বলেন, হেগসেথ প্রায়ই ইরানের সামরিক সক্ষমতা নস্যাৎ করার বড়াই করেছেন, যা বাস্তবে ইরানি বাহিনীকে অবমূল্যায়ন করে এবং এটি আমেরিকান প্রোপাগান্ডার অংশ হতে পারে।

    এতে উত্থিত উদ্বেগগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়া। সাম্প্রতিক সংঘাতে এখন পর্যন্ত ১,৩০০’রও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে—এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি এবং সামরিক অভিযানের সম্ভাব্য তীব্রতা অঞ্চলটিকে আরও অস্থির করতে পারে।

    সূত্র: সিএনএন, আল-জাজিরা।

  • কাবুলে পাকিস্তানি বিমান হামলায় অন্তত ৪ নিহত, আহত ১৫

    কাবুলে পাকিস্তানি বিমান হামলায় অন্তত ৪ নিহত, আহত ১৫

    আফগান কর্তৃপক্ষ জানায়, রাজধানী কাবুলসহ সীমান্তবর্তী কয়েকটি প্রদেশে পাকিস্তান রাতভর বিমান হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনায় কাবুলে অন্তত চারজন নিহত এবং ১৫ জন আহত হয়েছেন। হামলায় শহরের কয়েকটি আবাসিক এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছেন বলে কাবুল পুলিশ মুখপাত্র খলিল জাদরান নিশ্চিত করেছেন।

    পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, তারা মূলত তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) জঙ্গিগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে এসব অভিযান চালিয়েছে। পাকিস্তান দাবি করেছে, সাম্প্রতিক সময়ে তাদের দেশের ওপর বাড়তি জঙ্গি হামলার জেরে ইসলামাবাদ গত মাস থেকেই আফগানিস্তানের ভেতরে বিভিন্ন জায়গায় বিমান হামলা জোরদার করেছে।

    তালেবান সরকারের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে; তারা বলছে যে আফগান ভূখণ্ড থেকে কোনো জঙ্গি তৎপরতা পরিচালিত হয় না। তালেবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছেন, কাবুল ছাড়াও দক্ষিণাঞ্চলের কান্দাহার ও পাকিস্তান সীমান্তবর্তী পাকতিয়া ও পাকতিকা প্রদেশেও পাকিস্তানের হামলার খবর পাওয়া গেছে।

    কান্দাহারে বিমানবন্দরের কাছে বেসরকারি বিমান সংস্থা কাম এয়ারের এক জ্বালানি ডিপোতেও হামলার সংবাদ পাওয়া গেছে। ওই ডিপো থেকে বেসামরিক এবং জাতিসংঘের উড়োজাহাজে জ্বালানি সরবরাহ করা হয়। পাকিস্তান দাবি করেছে, ওই অভিযানে কোনো বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হয়নি। তবে দুই পক্ষের দেওয়া হতাহতের তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।

    সীমান্তপেরিয়ে বিমান হামলার ঘটনায় পরিস্থিতি তীব্রভাবে উত্তপ্ত থাকায় আন্তর্জাতিক উদ্বেগ দেখা দিয়েছে; আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও বেসামরিক নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য সুস্পষ্ট এবং স্বচ্ছ তল্লাশি ও তদন্তের আহ্বান জানানো হচ্ছে।

  • ঝিনাইদহে সংঘর্ষে আহত বিএনপি কর্মী তরু মিয়া ঢাকায় মারা গেছেন

    ঝিনাইদহে সংঘর্ষে আহত বিএনপি কর্মী তরু মিয়া ঢাকায় মারা গেছেন

    ঝিনাইদহের মাধবপুরে জামায়াত ও বিএনপির কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে আহত বিএনপির কর্মী তরু মিয়া (৪৮) শুক্রবার রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। হাসপাতাল সূত্রে রাত সাড়ে ৮টার দিকে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়।

    পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সদর উপজেলার গান্না ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামে জামায়াতের নারী কর্মীদের একটি আলোচনা সভায় বাধা দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ ঘটনায় উভয়পক্ষ মিলিয়ে অন্তত আটজন আহত হন।

    আহতদের প্রথমে ঝিনাইদহ জেনারেল হাসপাতালে আনা হয় বলে জানিয়েছেন ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি আবু কালাম। তিনি বলেন, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হলে তরু মিয়া বমি করছিলেন এবং তার শারীরিক অবস্থা সংকটজনক হওয়ায় চিকিৎসক তাকে ঢাকায় স্থানান্তরের নির্দেশ দেন। ঢাকায় এসে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়। তার মরদেহ বর্তমানে বাড়িতে নেওয়া হচ্ছে।

    নিহত তরু মিয়ার বাড়ি মাধবপুর গ্রামে। পরিবার বলছে, তিনি প্রায় দুই যুগ বিদেশে ছিলেন এবং পাঁচ মাস আগে দেশে ফিরে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যেতেন। তার ছেলে শিপন রহমান ইউনিয়ন ছাত্রদলের কর্মী বলেও জানা গেছে।

    ঘটনাস্থলের একপক্ষ জানতে চাইলে সদর উপজেলা জামায়াতের আমির ড. হাবিবুর রহমান দাবি করেন, জামায়াতের নারী কর্মীদের তালিম কর্মসূচিতে বিএনপির নেতা-কর্মীরা অনায়াসে হামলা চালায়, তা সত্ত্বেও হামলার ঘটনা সংঘটিত হয়।

    অন্যদিকে সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মুন্সি কামাল আজাদ পান্নু অভিযোগ করেন, জামায়াতের নারী কর্মীরা বিএনপি পরিবারের নারীদের জোর করে তালিমে নিতে চেয়েছিল; বিষয়টি জানতে গেলে আগে থেকেই ওত-পেতে থাকা জামায়াত কর্মীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়।

    ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) শেখ বিলাল হোসেন ঘটনায় তরু মিয়ার ঢাকায় মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, পরিস্থিতি যাতে শিগগিরই নিয়ন্ত্রণে আনা যায়, সেজন্য এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ, র‌্যাব ও সেনাসদস্যরা টহল দিচ্ছেন এবং সার্বিক পরিস্থিতি মনিটর করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    উপজেলা ও পুলিশ সূত্র মতে, ঘটনার সঠিক কারণ ও হামলার পর্যায়ক্রমিক দায়-দায়িত্ব নির্ণয়ের জন্য তদন্ত চলছে। পুলিশ এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

  • খুলনায় প্রতি ৫০০ টন বর্জ্যের মধ্যে ১৫% প্লাস্টিক ও ১০% ই-বর্জ্য

    খুলনায় প্রতি ৫০০ টন বর্জ্যের মধ্যে ১৫% প্লাস্টিক ও ১০% ই-বর্জ্য

    নগর ভবনের জিআইজেড মিলনায়তনে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় খুলনা সিটি কর্পোরেশনের আয়োজনে ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক বর্জ্য (ই-বর্জ্য) ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার সভাপতিত্ব করেন কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) কর্তৃক প্রেরিত “ডিমান্ড ফর জাস্টিস” শীর্ষক নোটিশের প্রেক্ষিতে কেসিসি এই সভার আয়োজন করে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ, পরিবেশ অধিদপ্তর, বেলা ও বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠন ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

    সভায় গবেষণার তথ্য উদ্ধৃত করে জানানো হয়, প্রতি ৫০০ টন বর্জ্যের মধ্যে প্রায় ১৫ শতাংশ প্লাস্টিক (প্রায় ৭৫ টন) এবং ১০ শতাংশ ই-বর্জ্য (প্রায় ৫০ টন) রয়েছে। এছাড়া বলা হয় এই হার বছরে ২০–৩০ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ই-বর্জ্য মাটি, পানি ও বায়ু দূষণের কারণ হয়ে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত, শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত সমস্যা ও দীর্ঘমেয়াদে ক্যান্সারের মতো গুরুতর রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে সভায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

    সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়ে সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়: ই-বর্জ্য পৃথক করে সংগ্রহের ব্যাপারে জনগণকে জানানো হবে, ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে প্রচারপত্র বিতরণ ও বিলবোর্ডে প্রদর্শনের মাধ্যমে সচেতনতা বাড়ানো হবে, কেসিসি ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সক্রিয়ভাবে প্রচারে যুক্ত করার অনুরোধ জানানো হবে এবং ওয়ার্ড পর্যায়ে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হবে। এছাড়া বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    সভায় ইলেকট্রনিক পণ্যের ব্যবহার হ্রাস, প্রতিটি পণ্যের সম্ভাব্য আয়ু বাড়ানো ও মেরামত-রিপেয়ার উৎসাহিত করার পাশাপাশি নির্মাণাধীন বর্জ্য রিসাইক্লিং প্ল্যান্টে ই-বর্জ্য পুনর্ব্যবহার ও রিসাইক্লিং-এর সুযোগ রাখা হলে সমস্যার সমাধানে সহায়ক হবে বলে সুপারিশ করা হয়।

    সভায় বক্তৃতায় কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, মহানগরকে ঝুঁকিমুক্ত, সবুজ ও সুস্থ শহর হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে হবে। এর প্রথম ধাপ সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ; বর্জ্য সংগ্রহকারী থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট সকল অংশধারীকে পরিকল্পনার আওতায় এনে কাজ শুরু করতে হবে, তিনি বলেন।

    সভায় উপস্থিত ছিলেন কেসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান প্রফেসর ড. মোঃ মুজিবুর রহমান, চীফ প্ল্যানিং অফিসার আবির উল জব্বার, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ শরীফ শাম্মিউল ইসলাম, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরা, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট কোহিনুর জাহান, নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আনিচুজ্জামান, শেখ মোঃ মাসুদ করিম, কনজারভেন্সি অফিসার প্রকৌশলী মোঃ আনিসুর রহমান, মোঃ অহিদুজ্জামান খান, আর্কিটেক্ট রেজবিনা খানম, ভেটেরিনারি সার্জন ড. পেরু গোপাল বিশ্বাস, আইটি ম্যানেজার শেখ হাসান হাসিবুল হক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোল্লা মারুফ রশীদ, এস্টেট অফিসার গাজী সালাউদ্দিনসহ অন্যান্য ওয়ার্ড পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ।

    বিকেলে কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু নগর ভবনের শহিদ আলতাফ মিলনায়তনে কেসিসি’র পূর্ত বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে এক সভায় মিলিত হন। সেখানে তিনি চলমান বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন। জলাবদ্ধতা নিরসনকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিদ্যমান ড্রেন ব্যবহারের মাধ্যমে তা মোকাবিলা করতে হবে। পাশাপাশি নগর সম্প্রসারণ, ময়ূর নদ সংস্কার, রিভারসাইড সড়ক নির্মাণ ও ক্ষতিগ্রস্ত শহর রক্ষা বাঁধ মেরামতের পরিকল্পনা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

    পূর্ত বিভাগের সভায় উপস্থিত ছিলেন কেসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, চীফ প্ল্যানিং অফিসার আবির উল জব্বার, নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আনিচুজ্জামান, শেখ মোঃ মাসুদ করিম, সিসিএইউডি প্রকল্পের টিম লিডার ক্যামেরুন ল।, মেহেদী হাসানসহ সহযোগী প্রকৌশলী ও সহকারীরা।