Blog

  • জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনের ১০ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা

    জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনের ১০ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা

    ঢাকার আদালত Juli স্মৃতি ফাউন্ডেশনের ১০ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একটি সাংঘর্ষিক মামলা গ্রহণ করেছে। অভিযোগ, সম্প্রতি July যোদ্ধা জাহাঙ্গীর আলমকে মারধর ও শারীরিক নির্যাতনের ঘটনায় এই মামলা রুজু হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে ঢাকার কাঁচপুর ব্রিজের কাছে, যেখানে গত বছর জুলাইয়ে পুলিশ ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হামলায় জাহাঙ্গীর গুলিবিদ্ধ হন। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তিনি বরাবরই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন এবং আহত ও শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য এই ফাউন্ডেশনের সাহায্য চেয়েছিলেন।

    অভিযোগের অনুযায়ী, ২৭ মে দুপুরে জাহাঙ্গীর ফাউন্ডেশনের অফিসে যান এবং সেখানে আসামিদের সঙ্গে দেখা করেন। কিছু কাগজপত্র দেখানোর পর, অব্যাহত চাপ ও হুমকির মুখে তাকে এক অন্ধকার কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তার উপর অপ্রতিরোধ্য মারধর শুরু হয়, গুঁতো, লাঠি ও জিআই পাইপ দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়। গুরুতর অবস্থায় তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। যখন জাহাঙ্গীর জ্ঞান ফিরে পান, তখন আবার তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়েন আসামিরা।

    অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, তাকে ভুলভাবে ‘জুলাই যোদ্ধা’ বলার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন এবং মোবাইল ফোন সহ বিভিন্ন জিনিস ছিনতাই করে নেয়া হয়। তার ফেসবুকে কিছু পোস্ট দেখানোর জেরেও তাকে মারধর করা শুরু হয়। এ ছাড়াও, বিএনপি নেতার সঙ্গে তার ছবি কি কারণে ছিল তা জিজ্ঞাসা করা হয় এবং জোরপূর্বক করে তার ডান হাতে ইনজেকশন দেওয়া হয়। পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার পর, তাকে রাস্তার মধ্যে অচেতন অবস্থায় ফেলে রেখে যায় আসামিরা। হঠাৎ করেই, তিনি নারায়ণগঞ্জের খানপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হন।

    এই মামলায় আসামিরা হলো: সিনিয়র ভেরিফিকেশন অফিসার ইফতেখার হোসেন, কর্মকর্তা সাইদুর রহমান শাহিদ, সাগর, আফজালুর রহমান সায়েম, ফাতেমা আফরিন পায়েল, আলিফ, জাহিদ, মেহেদী হাসান প্রিন্স, এক্সিকিউটিভ মেম্বার সাবরিনা আফরোজ শ্রাবন্তী ও সোনিয়া আক্তার লুবনা। ঢাকার মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ হাসিবুজ্জামানের আদালত মামলাটি গ্রহণ করে শাহবাগ থানার অফিসার ইনচার্জকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। এ বিষয়ে বাদীর আইনজীবী ইলতুৎমিশ সওদাগর এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

  • প্রাথমিক শিক্ষায় সহকারী শিক্ষক নিয়োগে ধূমপান-াইজগ্যের শর্ত যোগ

    প্রাথমিক শিক্ষায় সহকারী শিক্ষক নিয়োগে ধূমপান-াইজগ্যের শর্ত যোগ

    সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে এবার ধূমপান ও যেকোনো ধরনের মাদক দ্রব্য গ্রহণের অভ্যাস থাকলে আবেদন করার অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর বুধবার এক আদেশে এই প্রয়োজনীয় শর্ত যুক্ত করে, যা শিক্ষাক্ষেত্রে এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করছে। এই সিদ্ধান্তের জন্য অনেকই স্বাগত জানিয়েছেন।

    ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ এর সভাপতি অধ্যাপক ডাঃ খন্দকার আব্দুল আউয়াল রিজভী বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে বলেন, ধূমপান এবং মাদক গ্রহণের অভ্যাস থাকলে শিক্ষক হিসেবে আবেদন অযোগ্য ঘোষণা করা দেশের জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি ঐতিহাসিক ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। তিনি আরও বলেন, তরুণ সমাজের মধ্যে নিকোটিনের আসক্তি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে, যা কিশোরদের মস্তিষ্কের বিকাশে বাধা সৃষ্টি করে এবং দীর্ঘমেয়াদে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের উপর মারাত্মক প্রভাব বিস্তার করে।

    অধ্যাপক ডাঃ রিজভী যোগ করেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ‘দূরদর্শী ও সাহসী’ একটি সিদ্ধান্ত, যা দেশের স্বাস্থ্যের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।

  • পুলিশের সতর্কবার্তা: সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের নামে প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকুন

    পুলিশের সতর্কবার্তা: সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের নামে প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকুন

    সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের নাম ও ছবি ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রতারক চক্র এ ধরনের কৌশলে সাধারণ মানুষকে ঠকানোর অপপ্রয়াস চালাচ্ছে। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স বৃহস্পতিবার রাতে তাদের ফেসবুক অফিসিয়াল পেজে এক পোস্টে এই সতর্কতা জারি করে। সেখানে বলা হয়, সম্প্রতি বিভিন্ন দায়িত্বশীল ব্যক্তি ও উচ্চ কর্মকর্তাদের ছবি ও নাম ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপে অর্থ চাওয়া অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। মনে রাখতে হবে, আইডিতে থাকা ব্যক্তির ছবি দেখে তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মোবাইল নম্বরটি সত্য বলে মনে করার কোনো কারণ নেই। এই ধরনের ভুলে সাড়া না দিতে এবং সাবধানতা অবলম্বন করার জন্য সাধারণ মানুষকে সতর্ক করছে পুলিশ। পুলিশ আরও জানায়, বাংলাদেশের পুলিশ প্রশাসন এই প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। যদি কেউ এ ধরনের প্রতারণার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাধারণ মানুষ যেন এই ধরনের প্রতারণা থেকে সাবধান থাকেন ও কোনও অজানা বার্তা বা লেনদেনের প্রস্তাবে সাড়া না দেন সে জন্যই এই সতর্কতা জারি করছে পুলিশ।

  • এনসিপির মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু, মূল্য নির্ধারিত ১০ হাজার টাকা

    এনসিপির মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু, মূল্য নির্ধারিত ১০ হাজার টাকা

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন আবেদন ফরম বিক্রির কার্যক্রম শুরু করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। ফরমের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ হাজার টাকা। তবে স্বজনী আন্দোলনের জন্য, বিশেষ করে জুলাই যোদ্ধা এবং নিম্নআয়ের মানুষদের জন্য এই মূল্য কমিয়ে ২ হাজার টাকা রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে এনসিপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির একটি সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি বিস্তারিত জানানো হয়।

    নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক, বলেন, এই নির্বাচন জন্য মনোনয়ন ফরম বিক্রি ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে। এরপর, অর্থাৎ ১৫ তারিখের মধ্যে মনোনয়ন প্রার্থীদের জন্য প্রাথমিক বাছাই তালিকা প্রকাশ করা হবে।

    এদিকে, কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি ডাঃ তাসনিম জারা জানান, আজ থেকেই মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু হয়েছে। প্রার্থীরা তিনটি উপায়েই ফরম সংগ্রহ ও পূরণ করতে পারবেন। প্রথমে, কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে সরাসরি ফরম সংগ্রহ করতে হবে। এছাড়া, অনলাইনে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে মনোনয়ন ফরম ডাউনলোড ও পূরণ করা যাবে। তাছাড়া, দুই মুখ্য সংগঠক ও সাংগঠনিক সম্পাদকদের মাধ্যমে ওফরম সংগ্রহ করে জমা দিতে পারবেন। এই কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রার্থীরা সহজে এবং সুবিধাজনকভাবে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ ও জমা দিতে পারবেন।

  • নির্বাচনে ধর্মের ব্যবহার প্রতিরোধে সাত দফা দাবি হিন্দু মহাজোটের

    নির্বাচনে ধর্মের ব্যবহার প্রতিরোধে সাত দফা দাবি হিন্দু মহাজোটের

    জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী প্রচার কাজে ধর্মের ব্যবহার বন্ধের পাশাপাশি নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতের জন্য সাত দফা দাবি উত্থাপন করেছে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট। বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাছির উদ্দিনের সঙ্গে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই বৈঠকে মহাজোটের নেতারা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে তাদের গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলে ধরেন।

    বৈঠক শেষে এক ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের নির্বাহী মহাসচিব ও মুখপাত্র পলাশ কান্তি দে জানান, আমাদের প্রস্তাবের সঙ্গে কমিশন একমত হয়েছেন এবং তারা ইতিমধ্যে এ বিষয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছে। সিইসি সুন্দর পরিবেশে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার গুরুত্ব জোরদার করে বলেছেন, শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। সবাই ভোট কেন্দ্রে যাবেন, এটাই আমাদের অঙ্গীকার।

    পলাশ কান্তি দে বলেন, ‘ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার পর অনেক এলাকাতেই দেখা গেছে বাসাবাড়ি, মঠ ও মন্দির ভাঙচুর হয়েছে। এ ধরনের অশান্তির যেন পুনরাবৃত্তি না হয়, সেজন্য আমরা সিইসির দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। তিনি নিশ্চয়তা দিয়েছেন, এবার কেউ যেন আমাদের উপর অত্যাচার করতে না পারে। আমরা কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

    তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচনের আগে-পরে হিন্দু সম্প্রদায় ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে আমরা অনেক উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে দুর্গাপূজা ও নির্বাচন এগুলো নিয়ে আমাদের ভয়ের কারণ আছে। অতীতে বিভিন্ন নির্বাচনের সময় সংখ্যালঘু মুসলিম ও হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর অকারণে আঘাত হয়েছে। তবে এবার কমিশন বলেছে, অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না, সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।’

    সিইসির আশ্বাসে জানিয়েছেন, সংখ্যালঘু ভোটারা নিরাপদে ভোট কেন্দ্রে যাবেন এবং ফিরে আসার সময়ও আতঙ্কে ভুগবেন না। যদি কোনও অপ্রিত्यक्ष বা প্রত্যক্ষ আঘাত হানা হয়, তাহলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর ব্যবস্থা নেবে। বিশেষ করে ভোটে পক্ষ-প্রতিপক্ষের ব্যাপক প্রস্তুতি ও সংঘর্ষের সম্ভাবনা থাকায় এ বিষয়ে কমিশনও বিস্তারিত মনোযোগ দিয়েছে।

    সিইসির উদ্ধৃতি দিয়ে পলাশ কান্তি দে জানিয়েছেন, ‘এবারের দুর্গাপূজা খুবই সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছে, কোথাও বিশৃঙ্খলা দেখা যায়নি। পরীক্ষামূলকভাবে আমরা দেখেছি, এই নিরাপত্তার বলয় আরও শক্তিশালী করে ভোটের দিন নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হবে।’

    বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের সাত দফা দাবি হলো: ভোটের ১০ দিন আগে ও পরে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাসাবাড়ি, মঠ ও মন্দিরের নিরাপত্তা জোরদার করা, ভোটকালে সেনা মোতায়েন, সংখ্যালঘু ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে প্রচার ও সমাবেশ নিষিদ্ধ, ধর্মের ব্যবহার না করে ভোট করার ব্যবস্থা, হামলা হলে সেই নির্বাচনী এলাকা ও সংশ্লিষ্ট ভোটের স্থগিত ও তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি, সংখ্যালঘু ও নারী ভোটারদের নিরাপত্তার জন্য কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল গঠন এবং ভোট কেন্দ্রে যাওয়া-আসার ক্ষেত্রে নির্বিঘ্নতা নিশ্চিত করা।

  • রাহুল গান্ধীর অভিযোগ: হরিয়ানায় প্রতি ৮ জনে ১ জন ভুয়া ভোটার

    রাহুল গান্ধীর অভিযোগ: হরিয়ানায় প্রতি ৮ জনে ১ জন ভুয়া ভোটার

    ভারতের বিহার রাজ্যে প্রথম দফার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার এক দিন আগে ফের ভোটচুরি নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন কংগ্রেসের মহাসচিব ও লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তিনি দাবি করেছেন, ২০২৪ সালের হরিয়ানার বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক ভোটচুরি সংঘটিত হয়েছে। তার মতে, হরিয়ানায় মোট ২ কোটি ভোটারদের মধ্যে প্রায় ২৫ লাখ ভোটার থাকছে ভুয়া বা জাল ভোটার। এর অর্থ হলো, প্রতিটি আটজনের মধ্যে একজন করে ভোটার ভুয়া। এই ধরনের ভোটারদের সংখ্যা বিশ্লেষণে তিনি আরও উল্লেখ করেন, মানুষের ছবি ব্যবহার করে বহু ভুয়া নামের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। একজন ব্রাজিলিয়ান মহিলার ছবি দিয়ে তিনি দেখিয়েছেন যে, ওই মহিলার ছবি বিভিন্ন ভোটার তালিকায় মোট ২২ বার ব্যবহার করা হয়েছে—কখনও তিনি বিভিন নামের সাথে যুক্ত, যেমন সীমা, সুইটি বা সরস্বতী।

    রাহুল গান্ধীর দাবি, এই ভোট চুরির মাধ্যমে হরিয়ানায় বিজেপি পরপর নির্বাচনে জয় লাভ করেছে। তিনি বলেন, কংগ্রেসের হার মাত্র ২২ হাজার ভোটের ব্যবধানে হয়েছিল, তাই এই জালিয়াতি ও ভোটচুরির ফলে ফলাফল অর্থহীন হয়ে পড়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি এই ভোট চুরির জন্য পরিকল্পিতভাবে নির্বাচন কমিশনের আইনশৃঙ্খলা ও সততা নষ্ট করেছে। রাহুলের মতে, এই নির্বাচনকে টার্গেট করে হরিয়ানায় বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন একসঙ্গে ষড়যন্ত্র করেছে। তিনি আরও জানান, হরিয়ানার বেশিরভাগ বুথের ফলাফলের পূর্বাভাসে নিশ্চিত ছিল যে কংগ্রেস জিতবেন, কিন্তু ফলাফল সম্পূর্ণ বিপরীত হয়েছে।

    অপরদিকে, নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগ অগ্রাহ্য করে বলেছে, তারা যখন এই সম্পত্তি সম্পর্কে গোপন তথ্য জানতে পারে তখন কেন কেউ অভিযোগ করেনি। কমিশনের মতে, হরিয়ানার ভোটার তালিকায় এই ধরনের ভুল ও ভুয়া ভোটার সম্পর্কে কোনো অভিযোগ বা মামলা এখনো জমা পড়েনি। পাঞ্জাব ও হরিয়ানায় এই মুহূর্তে মাত্র ২২টি নির্বাচনী আপিল বিচারাধীন রয়েছে। ফলে, কমিশন এই অভিযোগের সত্যতা অস্বীকার করে জানিয়েছে, ভোটার তালিকা নিয়ে কোনও বিশাল ষড়যন্ত্রের প্রশ্ন নেই।

  • মামদানির জয়ে নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব হ্রাস: ট্রাম্প

    মামদানির জয়ে নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব হ্রাস: ট্রাম্প

    নিউইয়র্কের নতুন মেয়র জোহরান মামদানির নির্বাচনের পরবর্তীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন যে, এই বিজয় দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি সৃষ্টি করেছে। ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন যে, এখনো শহরটি ‘কমিউনিস্ট শহর’ হয়ে যাওয়ার পথে এগোচ্ছে বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, “আমরা বিষয়গুলো দেখছি” এবং স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা দেননি কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব হ্রাস পেয়েছে। ট্রাম্পের মতে, নিউইয়র্ক এখন ‘কমিউনিজম’ এর রাজত্বে চলে গেছে বলে তিনি দাবি করেন এবং ফ্লোরিডাকে চরম পন্থা থেকে মুক্ত করার জন্য প্রস্তুত বলেও উচারে উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, সামনের দিনগুলোতে এই শহরকে বাঁচানো ও উন্নত করার জন্য মার্কিনিদের জন্য সিদ্ধান্ত নিতে হবে— কমিউনিজম গ্রহণ করবেন, নাকি যুক্তিসঙ্গত উন্নয়ন ও সমঝোতা।

    ট্রাম্প তার নির্বাচনী জয়ের এক বছর পূর্তিতে মন্তব্য করেন, “আমরা আমাদের অর্থনীতি উদ্ধার করে স্বাধীনতা ফিরে পেয়েছি এবং একসঙ্গে দেশকে রক্ষা করেছি।” এরপরেই তিনি জানান, মামদানির বিজয়ে তিনি সহযোগিতার বিষয়েও আগ্রহী এবং বলছেন, “হয়তো তাকে একটু সাহায্য করব।” ট্রাম্প এই বক্তব্য দেন ডেমোক্র্যাট তারকা কমলা হ্যারিসের বিরুদ্ধে জয়ের এক বছর উপলক্ষে বক্তৃতায়।

    অবশ্য, ব্যবসায়ী মহল, রক্ষণশীল গণমাধ্যম এবং ট্রাম্পের কঠোর সমালোচকদের মতামতের মাঝেই, অত্যন্ত অপ্রত্যাশিতভাবে, অপশনটিতে অবাধ ও সুষ্ঠু ভোটে নিউইয়র্কের নতুন মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হন মামদানি। ভোটের পর তিনি বলেন, তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে জীবনযাত্রার ব্যয় ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে চান। মুসলিম অভিযাত্রীর এই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব জানান, তিনি নিজেকে বহির্বাগত থেকে উঠে আসা একজন outsider হিসেবে দেখেছেন এবং এখন তিনি চমকে দিয়েছেন সবাইকে। তিনি মজার ছলে বলেন, “হোয়াইট হাউস থেকে এখনও আমাকে অভিনন্দন জানানো হয়নি।”

    মামদানির বক্তব্যে স্পষ্ট করে দেন, নিউইয়র্কবাসীর কল্যাণে তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে আরও কার্যকর আলোচনা করতে চান, বিশেষ করে জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর পরিকল্পনায়। তিনি মনে করেন, ট্রাম্পের মতো করে আমাদেরও সমস্যা চিহ্নিত করে তার সমাধানে উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি যোগ করেন, “আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করলে নিউইয়র্ক আরও সুন্দর এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে।”

  • ফিলিপাইনে কালমায়েগির তাণ্ডবে মৃতের সংখ্যা ১৪০ ছাড়ালো

    ফিলিপাইনে কালমায়েগির তাণ্ডবে মৃতের সংখ্যা ১৪০ ছাড়ালো

    ফিলিপাইনে প্রবল ঘূর্ণিঝড় কালমায়েগির আঘাতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৪০ জনে দাঁড়িয়েছে। সরকারি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, এ দুর্যোগে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ১৪০ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। পাশাপাশি এখনও ১২৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন, যা উদ্ধারের অপেক্ষায়। এই সময়ে ঝড়টি ভিয়েতনামের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এ তথ্য নিশ্চিত করে এএফপি।

    এই সপ্তাহে সেবু প্রদেশের বিভিন্ন শহরে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। বন্যার পানিতে গাড়ি, নদীর তীরে স্থাপনা এবং বিশাল জাহাজের কন্টেনার পর্যন্ত ভেসে গেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বলছে, এই বন্যার কারণে বহু স্থাপনা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    জাতীয় নাগরিক প্রতিরক্ষা দপ্তর বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) নিশ্চিত করে, এই দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ১১৪ জনের মৃত্যুর খবর এসেছে। তবে সেবু প্রাদেশিক প্রশাসন বলছে, তাদের রেকর্ডে দেখা গেছে, মৃতের সংখ্যা আরও ২৮ জন বাড়তে পারে। এর ফলে মোট মৃতের সংখ্যা ১৪০ ছাড়াতে পারে।

    উদ্ধারের সময় গত মঙ্গলবার সেবুর দক্ষিণে মিন্দানাও দ্বীপে ত্রাণ কার্যক্রমের জন্য পাঠানো একটি সামরিক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার শিকার হয়। হেলিকপ্টারটি আজগাসান দেল সুর এলাকার কাছে বিধ্বস্ত হয়।

    বিমানের খবর অনুসারে, হেলিকপ্টারটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরে তৎকালীন খোঁজখবর ও উদ্ধার অভিযান শুরু করে সেনাবাহিনী। পরে বিমানবাহিনী এক মুখপাত্র নিশ্চিত করেন, ”পাইলটসহ ছয়জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।” এই হেলিকপ্টারটি ত্রাণ কাজে নামানো চারটি হেলিকপ্টারের একটি ছিল।

    জাতীয় দুর্যোগ সংস্থা তাদের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে চার লাখের বেশি মানুষের বাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।

  • বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের চারদিকে আলোচনার ঝড়: বিলিয়ন ডলারের চুক্তিতে ভারতের উদ্বেগ

    বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের চারদিকে আলোচনার ঝড়: বিলিয়ন ডলারের চুক্তিতে ভারতের উদ্বেগ

    বাংলাদেশ আগামী এক বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে এক বিলিয়ন ডলার মূল্যের সয়াবিন আমদানি করতে যাচ্ছে। বাংলাদেশের শীর্ষ তিনটি সয়াবিন প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে এই ব্যাপারে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে এবং আগামী ১২ মাসের মধ্যে তারা এই বৃহৎ অঙ্কের সয়াবিন সংগ্রহের পরিকল্পনা করছে। এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশের সয়ামিলের বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, যা ভারতের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে ভারতীয় সয়ামিলের রপ্তানি ইতিমধ্যে কমে এসেছে। এতে করে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এই চুক্তি কার্যত ভারতের সয়ামিল শিল্পের জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

    বাংলাদেশ ভারতের অন্যতম প্রধান সয়ামিলের বাজার, তবে গত বছর দেশটিতে সয়ামিলের রপ্তানি কমে ১ দশমিক ৬৩ লাখ টনে নেমে এসেছে, যা আগের বছরের চেয়ে ৪৬ শতাংশ কম। এর পাশাপাশি, ভারতের সয়ামিলের প্রসেসর অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক ডিএন পাঠক বলেছেন, “বাংলাদেশ এখন যুক্তরাষ্ট্র থেকে কমদামে প্রচুর সয়াবিন কিনছে। এর ফলে ২০২৪-২৫ সালে আমাদের রপ্তানি significantly কমে যেতে পারে। এছাড়া বাংলাদেশের এটি একটি বিশাল চুক্তি যা নিশ্চিত করে যে, এখন থেকে তারা বাংলাদেশের মতো দেশে থেকে সয়াবিন কিনবে না। এই বিষয়টি আমাদের জন্য এক প্রকার চিন্তার কারণ।”

    গত মঙ্গলবার ঢাকায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেয়া হয়, বাংলাদেশের তিন শীর্ষ সয়াবিন প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান আগামী ১২ মাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১ বিলিয়ন ডলার মূল্যের সয়াবিন কিনবে। এই চুক্তিটি দুদেশের বাণিজ্য সম্পর্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ চীন গত অর্থবছরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে সয়াবিন কেনা কমিয়ে দিয়ে বিকল্প বাজার খুঁজছিল, তখন বাংলাদেশে বিপুল পরিমাণ সয়াবিন রপ্তানি করতে পারে এমন সম্ভাবনা দেখা দেয়।

    এটি বাংলাদেশের জন্য অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণে একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নতি হলেও, ভারতের জন্য অবশ্যই বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে যখন এখন বেশিরভাগ দেশের মধ্যে বাণিজ্য উত্তেজনা এবং স্পর্ধা বাড়ছে।

  • পুতিনের নির্দেশ: পারমাণবিক পরীক্ষা পুনরায় আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া শুরু

    পুতিনের নির্দেশ: পারমাণবিক পরীক্ষা পুনরায় আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া শুরু

    রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্রুত পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা শুরু করার ঘোষণা দেওয়ার পর এবার নিজ দেশের প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি ক্রেমলিনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বলছেন, তারা পারমাণবিক পরীক্ষার জন্য প্রাথমিক পরিকল্পনা ও প্রস্তুতিপর্ব সম্পন্ন করতে প্রস্তুত হন।

    বিশ্ব সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, গতকাল বুধবার রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে পুতিন স্পষ্ট করেছেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোনও পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষাসম্পন্ন দেশ কোনো পরীক্ষা চালায়, তাহলে রাশিয়াও সমান শক্তিতে প্রতিশোধ দেবে। তিনি বলেন, “আমরা সুতরাং পররাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা, গোয়েন্দা সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট সরকারি বিভাগগুলোকে নির্দেশ দিচ্ছি, তারা পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করবে, নিরাপত্তা পর্ষদে রিপোর্ট দেবে এবং পারমাণবিক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য প্রাথমিক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।”

    ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের ভেঙে যাওয়ার পরে রাশিয়া আর কোনও পারমাণবিক পরীক্ষা চালায়নি। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বিশ্ব পিছিয়ে থাকলেও বর্তমানে পরিস্থিতি বদলে গেছে। ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে পশ্চিমের দেশগুলোর মধ্যে উত্তেজনা বেড়ে চলছে এবং রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়ছে। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে নানা কঠোর নীতির কারণে ইতিমধ্যেই রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক উত্তপ্ত।

    অক্টোবরে ট্রাম্প হাঙ্গেরিতে রাশিয়ার সঙ্গে বৈঠক বাতিল করেন এবং পরের দিন রাশিয়ার দুটি বৃহৎ তেল কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। এরপর ৩০ অক্টোবর ট্রাম্প ঘোষণা করেন, তিনি প্রতিরক্ষা বিভাগকে নির্দেশ দিচ্ছেন “অবিলম্বে” পারমাণবিক পরীক্ষা শুরু করার জন্য, যেন যুক্তরাষ্ট্রও অন্য বড় শক্তিগুলোর মতো শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাতে পারে। তিনি আরও বলেন, এক সপ্তাহ আগে তিনি রাশিয়ার নতুন ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা সমালোচনা করেছিলেন, যা পারমাণবিক ওয়ারহেড বহন করতে সক্ষম।

    ক্রেমলিনের সূত্র জানায়, পুতিন একটি পরিকল্পিত উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করেছেন, যেখানে তিনি জেনারেল ভ্যালেরি গেরাসিমভসহ অন্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আন্দ্রে বেলোউসোভ বলেন, “আমেরিকার সাম্প্রতিক পদক্ষেপ রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় নতুন হুমকি সৃষ্টি করেছে। আমাদের পারমাণবিক বাহিনীকে দ্রুত প্রস্তুত থাকতে হবে, যাতে শত্রুর আক্রমণ প্রতিরোধ ও প্রতিশোধে সক্ষম হই।” তিনি জানান, রাশিয়ার আর্কটিক অঞ্চলের নোভাইয়া জেমলাইয়া ঘাঁটি অল্প সময়ের নোটিশে পারমাণবিক পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত।

    বিশ্লেষকেরা বলছেন, এখন পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, কোনও দেশই আর পারমাণবিক পরীক্ষায় অনড় থাকতে চাইছে না। বিশ্বে বর্তমানে রাশিয়া মোট ৫ হাজার ৪৫৯টি পারমাণবিক ওয়ারহেডের মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৬০০টি সক্রিয়। যুক্তরাষ্ট্রের সংখ্যাও প্রায় একই রকম, যেখানে সক্রিয় ওয়ারহেডের সংখ্যা প্রায় ৩৮০০। ইতিহাসে দেখা যায়, স্নায়ুযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আড়াই থেকে তিনগুণ বেশি ওয়ারহেড ছিল।

    অন্যদিকে, চীন এখনও তুলনামূলকভাবে কম হলেও গত কয়েক বছর ধরে তার পারমাণবিক শক্তি বৃদ্ধি করছে। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুসারে, বর্তমানে চীনের ওয়ারহেড সংখ্যা প্রায় ৬০০, এবং প্রতিবছর গড়ে ১০০টি করে বাড়ছে। অন্যান্য পারমাণবিক ক্ষমতাসম্পন্ন দেশগুলো হলো ফ্রান্স, ব্রিটেন, ভারত, পাকিস্তান, ইসরায়েল ও উত্তর কোরিয়া।

    ১৯৯২ সালে শেষবার পরমাণু পরীক্ষা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র, এরপর থেকে আন্তর্জাতিক চুক্তির আওতায় অনেক দেশই এই পরীক্ষামূলক কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে। ভারতের ও পাকিস্তানের দেয়া পরীক্ষা ১৯৯৮ সালে এবং উত্তর কোরিয়ার ২০০৬ সালের পর থেকে চলমান। এ বছর ও শেষ নয়, তারা আবার কয়েকবার পরীক্ষা চালিয়েছে। এই পরীক্ষাগুলি পরিবেশে বিরূপ প্রভাব ফেলছে এবং সামগ্রিক বিশ্বস্ততা ও স্থিতিশীলতাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

    তবে, ট্রাম্প স্পষ্ট করেননি, তার কথা কি সরাসরি পারমাণবিক বিস্ফোরণ সংক্রান্ত, না পারমাণবিক শক্তিচালিত ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা। তবে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, এটি পারমাণবিক পরীক্ষার পথেই ছাড় হতে পারে, যেখানে নতুন অস্ত্রের সরবরাহ ও উৎপাদনের জন্য পরীক্ষা হবে।

    বিশ্লেষকদের সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, কোনও দেশের পারমাণবিক পরীক্ষা শুরু হলে এটি অন্য দেশগুলোর ড্রাগে ঠেলে দিতে পারে যে, এর ফলস্বরূপ বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা অবনতি হতে পারে। জাতিসংঘের উচিত এসব পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসা এবং অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণে গুরুত্ব দেওয়া। তবে তা না হলে, ভবিষ্যতে আরও বিপজ্জনক এক পারমাণবিক প্রতিযোগিতার দিকে বিশ্ব চলে যেতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত মানবতার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।