Blog

  • ইসির সঙ্গে রাজনৈতিক দলের সংলাপ শুরু ১৩ নভেম্বর

    ইসির সঙ্গে রাজনৈতিক দলের সংলাপ শুরু ১৩ নভেম্বর

    আগামী ১৩ নভেম্বর থেকে রাজনৈতিক দলের সাথে সংলাপ শুরু করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি), ভবিষ্যৎ নির্বাচনী প্রস্তুতিসমূহের অংশ হিসেবে। এই সিদ্ধান্তের ঘোষণা আগামী রোববার (৯ নভেম্বর) নির্বাচון কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে।

    নির্বাচন ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী ও স্বচ্ছ করতে, ইসি এই মাসের মধ্যে নির্বাচনী সমগ্রী সংগ্রহ, প্রাসঙ্গিক আইন সংশোধন, এবং ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজগুলো সম্পন্ন করতে চায়। এর মাধ্যমে ডিসেম্বরের শুরুতেই তারা মনোনীত তফসিল ঘোষণা এর জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নিতে সক্ষম হবে।

    বর্তমানে দেশের মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৬ লাখ ১২ হাজার ৩৮৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৭ লাখ ৬০ হাজার ৩৮২ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৫০ হাজার ৭৭২ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) ভোটার সংখ্যা ১ হাজার ২৩০। গত দুই মাসে (১ সেপ্টেম্বর থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত) দেশে ভোটার সংখ্যা বেড়েছে ১৩ লাখ ৪ হাজার ৮৮০ জন।

    ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, ১৮ নভেম্বর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। এর আগে, ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত কোনো দাবি বা আপত্তি জানানোর সুযোগ থাকবে।

  • সেনা কর্মকর্তাদের পক্ষে লড়বেন না ব্যারিস্টার সারওয়ার

    সেনা কর্মকর্তাদের পক্ষে লড়বেন না ব্যারিস্টার সারওয়ার

    পেশাগত স্বার্থের সংঘাত এড়াতে আনুষ্ঠানিকভাবে সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গুমের দুই মামলার এবং রাজধানীর রামপুরার ২৮ জনকে হত্যার মামলার আসামিপক্ষের আইনজীবীর তালিকা থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করেছেন ব্যারিস্টার এম. সারোয়ার। এই সিদ্ধান্তের জন্য তিনি আজ রোববার (০৯ নভেম্বর) ট্রাইব্যুনাল-১-এ নিজে ওকালতনামা প্রত্যাহারের আবেদন জানান। তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল গুমের দুই মামলায় তারসহ অন্য চারজনের ওকালতনামা বাতিল করে নতুন করে দাখিলের নির্দেশ দেন। ব্যারিস্টার সারোয়ার জানান, তিনি নিজে গুমের একটি মামলায় একজন অভিযোগকারী ছিলেন এবং এভাবে তার স্বার্থের দ্বন্দ্বের কারণে তিনি এখন প্রতিপক্ষের আইনজীবী হিসেবে কাজ করতে চান না। তিনি ব্যাখ্যা করেন, অভিযোগে কয়েকজন সাবেক সেনা কর্মকর্তার নাম রয়েছে, ফলে ব্যক্তিগত স্বার্থের সংঘাতের কারণে তিনি তাদের পক্ষের আইনজীবী থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করেন। উল্লেখ্য, এর আগে, ২১ অক্টোবর আদালত গুমের দুই মামলায় ১৩ জন সাবেক সেনা কর্মকর্তা এবং রামপুরার ২৮ জনের হত্যা মামলার দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার ও কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়, গত ২৩ অক্টোবর আওয়ামী লীগ শাসনামলে সংঘটিত হত্যা, গুম, নির্যাতন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের তিন মামলার দায়েরকৃত ১৫ সেনা কর্মকর্তার আইনজীবী প্যানেল থেকেও সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন ব্যারিস্টার এম. সারোয়ার। এই সব ঘটনাগুলো প্রত্যাহার ও পদক্ষেপের মাধ্যমে তিনি পেশাগত স্বার্থের সংঘাত এড়াতে চান এবং ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা ও দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট করতে চান।

  • ৫ মামলায় হাইকোর্টে জামিন পেলেন সাবেক মেয়র আইভী

    ৫ মামলায় হাইকোর্টে জামিন পেলেন সাবেক মেয়র আইভী

    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র ও সাধারণ জনতার আন্দোলনের মধ্যে পোষাক শ্রমিক মিনারুল হত্যা সহ মোট পাঁচটি মামলায় নারায়ণগঞ্জের সাবেক মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভানেত্রী সেলিনা হায়াৎ আইভীকে জামিন প্রদান করেছেন হাইকোর্ট। আজ রোববার (৯ নভেম্বর) বিচারপতি এ এস এম আব্দুল মোবিন ও বিচারপতি সগীর হোসেনের বেঞ্চ এই রায় দেয়। আদালত তার জামিনের জন্য জারি করা রুলকে যথাযথ ঘোষণা করেন। আইভীর পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার সারা হোসেন।

  • সরকারের ধান ও চাল কেনার দাম নির্ধারণ: ধান ৩৪ টাকায়, সিদ্ধ চাল ৫০ টাকায়

    সরকারের ধান ও চাল কেনার দাম নির্ধারণ: ধান ৩৪ টাকায়, সিদ্ধ চাল ৫০ টাকায়

    এ বছর আমন মৌসুমে সরকারের উদ্যোগে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে মোট ৭ লাখ মেট্রিক টন ধান ও চাল সংগ্রহের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর মধ্যে সাড়ে ৫০ হাজার মেট্রিক টন ধান, ৬ লাখ মেট্রিক টন সেদ্ধ চাল এবং ৫০ হাজার মেট্রিক টন আতপ চাল সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারিত হয়েছে।

    সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি কেজি আমন ধানের সংগ্রহ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৪ টাকা, আর সেদ্ধ চাল কিনতে দেওয়া হবে ৫০ টাকা কেজি দরে। আতপ চালের দাম ঠিক করা হয়েছে ৪৯ টাকা কেজি। গত বছরের তুলনায়, এই দামে কিছুটা বাড়তি আয় হয়েছে, যেখানে কেজি প্রতি ধান ও চালের দাম ৪ টাকা বেশি দেওয়া হবে।

    আগামী ২০ নভেম্বর থেকে সারাদেশের বিভিন্ন বাজারে ধান ও চাল সংগ্রহের কার্যক্রম শুরু করবে সরকার। এই সংগ্রহ অভিযান চলবে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

    আজ রোববার (০৯ নভেম্বর) সচিবালয়ে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ সভাপতিত্বে এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, এই ধান ও চাল সংগ্রহ অভিযান আগামী ২০ নভেম্বর থেকে শুরু হবে এবং ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলমান থাকবে। এর মাধ্যমে সরকার বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং কৃষকরা তাদের ফসলের উপযুক্ত মূল্য পেতে পারেন, এই আশা ব্যক্ত করেন তিনি।

  • সিআইডি চালাচ্ছে সালমান-বেক্সিমকো সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ১৭ মামলার চার্জশিট

    সিআইডি চালাচ্ছে সালমান-বেক্সিমকো সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ১৭ মামলার চার্জশিট

    বিদেশি বাণিজ্যের আড়ালের মাধ্যমে ৯৭ মিলিয়ন ডলার পাচারের অভিযোগে বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান ও তার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ১৭টি মানিলন্ডারিং মামলার অভিযোগপত্র দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে পুলিশ, অর্থাৎ সিআইডি। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, এই মামলাগুলোর তদন্তের প্রক্রিয়ায় শক্তিশালী প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে অভিযোগপত্র প্রস্তুত করা হবে।

    সিআইডির মিডিয়া শাখা থেকে এ সংক্রান্ত তথ্য নিশ্চিত করা হয়। অভিওেগপত্রের এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য রোববার (৯ নভেম্বর) বিকেল ৩টায় মালিবাগের সিআইডি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে বিস্তারিত তথ্য ও ব্যাখ্যা প্রদান করা হবে। সিআইডির কর্মকর্তারা বলছেন, মামলাগুলোর গুরুত্ব ও ব্যাপকতা বিবেচনা করে তারা দ্রুত এগিয়ে যেতে চান।

  • প্রাইজবন্ডের ১২১তম ড্র: প্রথম পুরস্কার জিতেছেন ০১০৮৩৩১ নম্বর

    প্রাইজবন্ডের ১২১তম ড্র: প্রথম পুরস্কার জিতেছেন ০১০৮৩৩১ নম্বর

    বাংলাদেশের প্রাইজবন্ডের ১২১তম ড্র সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই ড্রয়ে প্রথম পুরস্কার হিসেবে ৬ লাখ টাকা জিতে নিয়েছেন নম্বর ০১০৮৩৩১। দ্বিতীয় পুরস্কার পেয়েছে ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা, যা এসেছেঃ ০১৫৬৮৯৭। এছাড়া, তৃতীয় পুরস্কার হিসেবে ১ লাখ টাকা করে দু’টি নম্বর নির্ধারিত হয়েছে; এরা হলেন ০০৫৬৩৬২ ও ০৪৫৩৬৬৮। চতুর্থ পুরস্কার হিসেবে ৫০ হাজার টাকা করে পেয়েছে দুই নম্বর, যথাক্রমে ০৯১২৪৪৪ ও ০৯৮৩৫৭২।

    ঢাকার বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে রোববার এই ড্র অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশ ব্যাংক, সঞ্চয় অধিদপ্তর ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    অর্থনীতির নিয়ম অনুসারে, ১০ হাজার টাকার পঞ্চম পুরস্কারের জন্য ৪০টি নম্বর ঘোষণা করা হয়। সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু নম্বর হলোঃ ০০১৩৩৮৬, ০০১৪৯৯২, ০০২৮১৮৩, ০০৫৩২২৬, ০১১৯০৬৯, ০১৬৮৮৭৩, ০২৪৪০৭৪, ০২৫৭৫৯৪, ০২৬৫৯৩৮, ০২৯২৯৪১, ০২৯৬৪২৯, ০৩২৭৯১০, ০৩৪০৪০৭, ০৩৪৯৩১৫, ০৩৫৫২০৬, ০৩৬৭৫২৯, ০৩৬৯১১৭, ০৪১৭৭২৮, ০৪২৫৬৮৩, ০৫০১০৪৩, ০৫১৫৫৪২, ০৫৪৯৫২১, ০৫৬৫৯৩৬, ০৬০২২৬৫, ০৬২০২৫৯, ০৬২৪৭১৮, ০৬৭৪৩৪৪, ০৭১২৭৪০, ০৭৫৯০৫৯, ০৭৬৯৩৯২, ০৭৮২৭২৮, ০৭৯১৪২৮, ০৭৯৯৭৩২, ০৮২১৬৭৭, ০৮৬৫১২২, ০৯০৩৩৯২, ০৯০৪৩৫২, ০৯২২১৮০, ০৯৩৬৬১৭ ও ০৯৮৫৯৫২।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মোট ৩ হাজার ৮১৮টি প্রাইজবন্ডের মধ্যে ৪৬টি টিকিট পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত হয়েছে। ড্রয়ের পরের ৬০ দিনের মধ্যে পুরস্কার দাবি করতে হবে; এই সময় সীমা অতিক্রান্ত হলে দাবি গ্রহণযোগ্য হবে না।

    ২০২৩ সালের সংশোধিত নীতিমালা অনুযায়ী, প্রাইজবন্ডের পুরস্কারের উপর ২০ শতাংশ কর দিতে হয়।

  • কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্ত: পাঁচ শরিয়াহ ব্যাংককে অকার্যকর ঘোষণা

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্ত: পাঁচ শরিয়াহ ব্যাংককে অকার্যকর ঘোষণা

    আর্থিক পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার কারণে শরিয়াভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংককে জরুরি ভিত্তিতে মার্জার বা একীভূত করে নতুন গভর্নমেন্ট মালিকানাধীন ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেন কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এই ব্যাংকগুলো হলো— ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি, এক্সিম ব্যাংক পিএলসি এবং সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি। বুধবার (৫ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংক তাদেরকে এই সংক্রান্ত চিঠি পাঠিয়েছে, যার মাধ্যমে পরিচালনা পর্ষদ কার্যক্রম ৫ নভেম্বর থেকে স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংকগুলোকে ব্যাংক রেজোিউশন অধ্যাদেশের আওতায় পরিচালনা করা হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই একীভূতকরণ প্রক্রিয়ার শেষে একটি নতুন সরকারি মালিকানাধীন ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হবে, যার নাম হবে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’। এ জন্য আজই ব্যাংকগুলোর পর্ষদ ভেঙে দেওয়া হয়েছে। সরকার এই পদক্ষেপের অংশ হিসেবে উভয় পক্ষের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করছে। গ্রাহকদের তথ্য জানানোর জন্য আজ বিকেল ৪টায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এক সংবাদ সম্মেলনে আলোচ্য বিষয়ে বিস্তারিত জানাবেন। গত এক বছরের বেশি সময় ধরে এই ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থা খুবই নাজুক হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বিশাল তারল্য সংকট, শ্রেণিকৃত ঋণের অঙ্কে প্রবল বৃদ্ধি, প্রভিশন ঘাটতি ও মূলধন কমতির কারণে এই ব্যাংকগুলো কার্যত দেউলিয়া হয়ে পড়েছে। অনেকবার তারল্য সহায়তা দেওয়ার পরেও তাদের আর্থিক অবস্থা উন্নতি পায়নি, বরং শেয়ার বাজারে মূল্য মারাত্মকভাবে পতিত হয়েছে এবং নিট সম্পদ মূল্য বা নেট অ্যাসেট ভ্যালু (এনএভি) ঋণাত্মক অবস্থায় রয়েছে। এই ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ও গ্রাহকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।

  • পাঁচ শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের বোর্ড বাতিলের কারণে গ্রাহকদের সেবা অব্যাহত থাকবে

    পাঁচ শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের বোর্ড বাতিলের কারণে গ্রাহকদের সেবা অব্যাহত থাকবে

    বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের বোর্ড বাতিল হলেও গ্রাহকসেবায় কোনো বিঘ্ন ঘটবে না। ব্যাংকগুলোর পেমেন্ট, রেমিট্যান্স, এলসিসহ সব ধরনের কার্যক্রম আগের মতোই অব্যাহত থাকবে। বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

    গভর্নর এও উল্লেখ করেন, যদিও ব্যাংকের বোর্ড ভেঙে দেওয়া হয়েছে, তবুও দৈনন্দিন কার্যক্রম বন্ধ হবে না। অর্থাৎ, পেমেন্ট, রেমিট্যান্স, এলসি সহ সব ব্যাংকিং কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চালু থাকবে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে ব্যবসায়িক কার্যক্রম ধরে রাখা এবং ধাপে ধাপে পাঁচ ব্যাংকের সম্পদ ও আইটি সিস্টেম একীভূত করে একটি শক্তিশালী সংস্থা গঠন করা।

    তিনি জানান, এই পাঁচ ব্যাংকের মোট শাখা সংখ্যা ৭৫০টি, যেখানে লাখ লাখ আমানতকারী যুক্ত আছেন। লিকুইডেশন এড়ানোর জন্য প্রথম ধাপেই কাঠামোগত ও প্রযুক্তিগতভাবে এই ব্যাংকগুলোকে একত্রীকরণ করা হচ্ছে।

    গভর্নর আরও বলেন, ‘নন-ভায়েবল’ বা টেকসই নয় এমন ব্যাংকগুলোতে পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে সেখানে অস্থায়ী প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছে। সকালে ব্যাংকগুলোর কোম্পানি সেক্রেটারিকে ‘নন-ভায়েবিলিটি’ নোটিশ পাঠানো হয়েছে, যার ফলে এখন আর কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার তাদের নেই।

    একইসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, এই ব্যাংকগুলো একীভূত হলে দেশটির সবচেয়ে বড় শরিয়াহ ব্যাংক হবে এবং এর পেইড-আপ ক্যাপিটাল হবে ৩৫ হাজার কোটি টাকা, যা বর্তমানে দেশের সব ব্যাংকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। গভর্নর নিশ্চিত করেছেন, এটি সরকারি মালিকানাধীন হলেও পরিচালনা হবে একটি বেসরকারি ব্যাংকের মতো। পেশাদার ব্যবস্থাপনা, বাজারভিত্তিক বেতন কাঠামো এবং পৃথক শরিয়াহ বোর্ড গঠন করা হবে। তিনি বলেন, ইসলামিক ব্যাংকিং বাংলাদেশের অর্থনীতির ভবিষ্যৎ বলেও তিনি বিশ্বাস করেন।

    শেয়ারহোল্ডারদের বিষয়ে গভর্নর বলেন, তাদের ইকুইটির মূল্য বর্তমানে নেগেটিভ। ফলে শেয়ারের মূল্য শূন্য বিবেচনা হবে এবং কাউকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না।

    আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, সাধারণ আমানতকারীরা দুই লাখ টাকার পর্যন্ত সকল টাকা সম্পূর্ণভাবে তুলতে পারবেন। বড় অঙ্কের আমানতের ক্ষেত্রে ধাপে ধাপে তুলতে পারবেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে জানানো হবে। তবে, সব Depositorsকে তিনি অনুরোধ করেন প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ তোলার জন্য, উদ্বেগে না পড়ে।

    প্রায় দিনের শেষে, তিনি জানিয়েছেন, দেশের স্বার্থে সরকার যদি পরিবর্তন হয়, তাহলে এই প্রক্রিয়াও বন্ধ হবে না। দেশের স্বার্থটাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে।

    অপরদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষণা করেছে যে অর্থনৈতিক দুর্বলতার কারণে শরিয়াহ ভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংক মার্জ বা একীভূত করার জন্য এগুলোর পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং ব্যাংকগুলো অকার্যকর ঘোষণা করা হয়েছে। এই ব্যাংকগুলো হলো: ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, গ্লোবাল ইসলামি ব্যাংক পিএলসি, ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি, এক্সিম ব্যাংক পিএলসি এবং সোশ্যাল ইসলামি ব্যাংক পিএলসি।

    বুধবার এই ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংক এক চিঠিতে এর বিষয়টা নিশ্চিত করেছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, ৫ নভেম্বর থেকে এই ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ কার্যক্রম বন্ধ থাকবে এবং তারা ব্যাংক রেজোলিউশনের (সমাধান) প্রয়োজনীয় বিধান অনুযায়ী পরিচালিত হবে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, এই ব্যাংকগুলোকে একীভূত করে একটি নতুন রাষ্ট্রের মালিকানাধীন ইসলামি ব্যাংক গঠন করা হবে, যার নাম ‘সম্মিলিত ইসলামি ব্যাংক’। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আজকে তারা পরিচালনা পরিষদ ভেঙে দেওয়া হয়েছে।

    এদিকে, বুধবার এই ব্যাংকগুলোকে তাদের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি)-কে জরুরি তলব করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আসন্ন বৈঠকে তাদের ব্যাখ্যা ও অস্থায়ী ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হবে। এর আগের দিনগুলোতে ব্যাংকের কোম্পানি সচিবগণ বিষয়গুলো পর্যালোচনা করেছেন।

    অতীত বছরগুলোতে, ৯ অক্টোবর ব্যাংকের অনুমোদন দেয়া হয় সরকারি মালিকানাধীন ইসলামি ব্যাংক গঠনের জন্য। এর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের উপদেষ্টা পরিষদ, এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সুপারিশের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

    গত এক বছর ধরে, ব্যাংকগুলো নানা সংকটের মধ্যে রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছে তরলতার সংকট, বিশাল পরিমাণ শ্রেণিকৃত ঋণ, প্রোফিশিয়েন্সি ঘাটতি এবং মূলধনের দুর্বলতা। এসব কারণে ব্যাংকগুলো কার্যত দেউলিয়া পর্যায়ে পৌঁছেছে। বারবার অর্থসাহায্য দেওয়া সত্ত্বেও এই ব্যাংকগুলোর পরিস্থিতি উন্নতি হয়নি। বরং শেয়ার বাজারে মূল্য কমে গেছে এবং তাদের নেট অ্যাসেট ভ্যালু (নেভি) নেতিবাচক অবস্থানে পৌঁছেছে।

  • পাঁচ ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন স্থগিত করল ডিএসই ও চিটস্টক

    পাঁচ ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন স্থগিত করল ডিএসই ও চিটস্টক

    ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) আজ বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি তাদের únীয় সম্প্রীতি ও একীভূত করার প্রক্রিয়া চালু থাকায় নেওয়া হয়েছে, যার ফলে এখন থেকে এসব ব্যাংকের শেয়ারবাজারে লেনদেন বন্ধ থাকবে।

    ডিএসই ও সিএসই নিজস্ব ওয়েবসাইটে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এই ব্যাংকগুলোর শেয়ার লেনদেন বন্ধ থাকবে। শেয়ার লেনদেন স্থগিতের এই তালিকায় রয়েছে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক (এসআইবিএল), এক্সিম ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক।

    এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল কারণ হিসেবে ডিএসই জানিয়েছে, ব্যাংক রেজোলিউশন নিয়ন্ত্রক বা ব্যাংক রেজোলিউশন অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর ধারা ১৫ অনুযায়ী, ৫ নভেম্বর থেকে এই ব্যাংকগুলো অ-কার্যকর হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এর মানে এই ব্যাংকগুলো এখন আর কার্যক্রমে থাকছে না।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি চিঠির মাধ্যমে জানানো হয়েছে, ৫ নভেম্বর তারা ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে যে, ব্যাংক রেজোলিউশন অধ্যাদেশ, ২০২৫ অনুসারে তাদের পরিচালনা চালাতে হবে। পাশাপাশি, ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদও ভেঙে দেওয়া হয়েছে।

    গতকাল বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, এই পাঁচ ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডারদের ইকুইটির মূল্য এখন শূন্যের নিচে। ফলে, এই শেয়ারের মূল্য বিনা মানে হিসেবে বিবেচিত হবে এবং কেথাও ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না।

    অর্থাৎ, এই ব্যাংকগুলোতে সাধারণ বিনিয়োগকারী ও উদ্যোক্তাদের মালিকানার অবস্থা গুরুতররূপে দুর্বল। বিভিন্ন ব্যাংকের কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোর শেয়ার সংখ্যা ও বিনিয়োগকারীদের মালিকানার পরিমাণ বিশ্লেষণ করে দেখা গেল, বেশিরভাগ শেয়ার এখন মূল্যহীন বলে গণ্য হবে।

    উদাহরণস্বরূপ, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের মূলধনের ১,২০৮ কোটি টাকার বিপরীতে ১২০ কোটি ৮১ লাখ শেয়ার রয়েছে, যার মধ্যে সাধারণ বিনিয়োগকারীর অংশ ৬৫ শতাংশের বেশি। গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের ক্ষেত্রে পরিমাণ ৯৮৭ কোটি টাকার মূলধন থাকলেও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মালিকানা মাত্র ৩২ শতাংশ। অন্যদিকে, ইউনিয়ন ব্যাংকের ক্ষেত্রে ১,৩৬২ কোটি টাকার মূলধনের বিপরীতে ১০৩ কোটি ৬৩ লাখ শেয়ার রয়েছে, যার মধ্যে সাধারণ বিনিয়োগকারীর মালিকানা প্রায় ৩২ শতাংশ।

    অন্যসব ব্যাংকের ক্ষেত্রেও একই রকম পরিস্থিতি দেখা গেছে, যেখানে প্রাতিষ্ঠানিক ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মালিকানা বড় অংশে এবং উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের অংশ কমে গেছে। এতদুভাবে, এই ব্যাংকগুলোর এ ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় বিনিয়োগকারীরা যেন তার কোনো ক্ষতিপূরণ পাবে না, সেটাও নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

  • দুর্বল ৫ ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডাররা ক্ষতিপূরণ পাবেন

    দুর্বল ৫ ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডাররা ক্ষতিপূরণ পাবেন

    বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ, ২০২৫ (বিআরও ২০২৫) অনুযায়ী পাঁচটি সমস্যাাপন্ন ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডাররা ক্ষতিপূরণ পাবেন। বাংলাদেশের ব্যাংক প্রসেসে একীভূতকরণ বা রেজল্যুশন প্রক্রিয়া চলাকালে যদি কোনো ব্যাংক শেষ পর্যন্ত লিকুইডেশনের (পরিসমাপ্তি) আওতায় আসে এবং এর ফলে শেয়ারহোল্ডাররা রেজল্যুশনের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ পাবেন, তবে এটি নির্ধারণের জন্য পৃথক একটি মূল্যায়নকারী প্রতিষ্ঠানের সাহায্য নেওয়া হবে। সেই প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় রেজল্যুশন প্রক্রিয়া শেষে নিয়োগ দেওয়া হবে। এছাড়া, সরকার ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী বা শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষার জন্য বিশেষ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করতে পারে। ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ, ২০২৫ আন্তর্জাতিক মানের অনুশীলনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে করা হয়েছে, যেখানে আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থা like IMF, World Bank এবং OECD-এর পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা গ্রহণ করা হয়েছে। এই অধ্যাদেশে রেজল্যুশনের আওতায় থাকা ব্যাংকের দাবিদার, যেমন আমানতকারী ও শেয়ারহোল্ডারদের অধিকার স্পষ্টভাবে নির্ধারিত। বিশ্বস্ত আর্থিক বিশ্লেষণ সংস্থা ‘ইকুয়েটর’ এর বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে, বর্তমানে রেজল্যুশন প্রক্রিয়াধীন ব্যাংকগুলো অনেক ক্ষতির মুখে, তাদের নিট সম্পদমূল্য (নিট অ্যাসেট ভ্যালু বা ভিএভি) ঋণাত্মক। এই পরিস্থিতি বিবেচনায়, ব্যাংকিং সেক্টর ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট কমিটি (বিসিএমসি) গত ২৪ সেপ্টেম্বর এক সভায় সিদ্ধান্ত নেয় যে, এই পাঁচটি ব্যাংকের সমস্যাগ্রস্ত শেয়ারহোল্ডাররা রেজল্যুশনের মাধ্যমে ব্যাংকের ক্ষতির ভার বহন করবেন। নির্দিষ্ট আইন ও নীতিমালা অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন অংশীদার যেমন শেয়ারহোল্ডার, দায়ী ব্যক্তি, অতিরিক্ত টিয়ার ১ এবং টিয়ার ২ মূলধনধারীর ওপর ক্ষতি আরোপ করার ক্ষমতা রাখে। বর্তমান পরিস্থিতিতে, এই পাঁচ ব্যাংকের একীভূতকরণ প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট আইনি বিধান ও সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সাধারণ বিনিয়োগকারী বা শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষা করা এখনো সম্ভব নয়। তবে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী ও শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থে ক্ষতিপূরণের বিষয়টি সরকার বিবেচনা করতে পারে।