মোংলা: মহিলা দলের নেত্রীর বাড়ি থেকে ১৯৭ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার, স্বামী গ্রেফতার

মোংলার চিলা এলাকায় নারী রাজনীতিবিদ তানিয়া বিশ্বাস (লিথি) এর বসতঘর থেকে ১৯৭ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করেছে কোস্ট গার্ড। অভিযানে তার স্বামী শান্ত পাড়ইকে আটক করা হয়। ঘটনা শুক্রবার (১৩ মার্চ) সন্ধ্যা–রাতে ঘটেছে বলে এলাকাবাসী ও কোস্ট গার্ড সূত্র জানিয়েছে।

কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন শুক্রবার রাতে মোংলা থানাধীন চিলা বাজার সংলগ্ন ওই বাড়িতে বিশেষ অভিযান চালায়। অভিযানে জব্দ করা মদের মূল্য প্রায় ১০ লক্ষ টাকা ধার্য করা হয়েছে। অভিযানের সময় বাড়িতে উপস্থিত লিথির স্ত্রী বা পরিবারের অন্য সদস্যরা তাদের তৎপরতায় কোস্ট গার্ডকে তথ্য জানায় এবং অভিযানের সময় শান্ত পাড়ই পালানোর চেষ্টা করলেও পরে ধাওয়া করে তাকে আটক করা হয়।

আটক ব্যক্তির নাম পরিচয় থেকে জানা যায়, তিনি শান্ত পাড়ই (অভিজিৎ পাড়ই) — মোংলা থানার চাঁদপাই ইউনিয়নের দক্ষিণ কাইনমারী গ্রামের পুত্র। এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, আটককৃত ব্যক্তিকে মাদক ও অবৈধ মারচেন্ডাইজ ব্যবসায় জড়িত সন্দেহ করা হচ্ছে।

তানিয়া বিশ্বাস (লিথি) সম্পর্কে জানা যায়, তিনি মোংলা থানার জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সহ-সভাপতি। মদ উদ্ধার সংক্রান্ত বিষয়টি জানালে লিথি স্বীকার করেন যে বাড়িতে মদ পাওয়া গেছে, কিন্তু দাবি করেন যে মদগুলো তাদের নয় — এগুলো তার স্বামীর পরিচিত একজন ব্যক্তির ছিল। তিনি সেই ব্যক্তির নাম জানাতে অস্বীকার করেন এবং জানান তারা কেবল সেই মদগুলো বাড়িতে রাখার অনুমতি দিয়েছিল। একই সঙ্গে তিনি জানান, তার স্বামী ওয়ার্ড স্তরের বিএনপি সদস্য।

মোংলা থানা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক লিপি বেগম বলেন, কোনো অপরাধীই দলের উপরে নয়; মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকলে আইন সবার জন্য সমানভাবে কার্যকর হবে, দলের মর্যাদা যাই থাকুক না কেন। তিনি জানান, দলের উচ্চ পর্যায়ের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। লিপি বেগম আরও উল্লেখ করেন, দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব—বিশেষত দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও স্থানীয় শীর্ষ নেতারা—মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন এবং সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আশ্বাস দিয়েছেন।

কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন ঘটনার সত্যতা একটি প্রেস নোটে নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, জব্দকৃত মদ ও আটককৃত শান্ত পাড়ইকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থার জন্য মোংলা থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম চলছে। তদন্ত শেষে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলেও তিনি জানান।

এ ঘটনার পর থেকে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, এ ধরনের ঘটনা ফুটে তোলে বিক্রয় ও অবৈধ মাদক চক্রের কার্যক্রমের গভীরতা, এবং তারা আশা করেন আইনশৃңখলা বাহিনী দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করবে।