Blog

  • ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের প্রগতির মাইলফলক: মির্জা ফখরুল

    ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের প্রগতির মাইলফলক: মির্জা ফখরুল

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ১৯৭৫ সালের এই দিনে বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় ঘোরে। তিনি বলেন, দেশের প্রেমিক সৈনিক ও সাধারণ মানুষের ঐক্যবদ্ধতা দিয়ে দেশের অন্যতম প্রিয় নেতা, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দি অবস্থা থেকে মুক্তি দেয়া হয় এবং দেশের পরিচালনার দায়িত্ব.assign করা হয়।

    তিনি উল্লেখ করেন, এটি ছিল বাংলাদেশের প্রগতির এক সৃষ্টি পয়েন্ট। জিয়াউর রহমান শেখ মুজিবুর রহমানের একদলীয় বাকশাল শাসন ব্যবস্থাকে পরিবর্তন করে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন, বিচার বিভাগকে স্বাধীন করেন এবং জনগণের অধিকার নিশ্চিত করেন।

    আজ, ঐতিহাসিক বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে, শুক্রবার (০৭ নভেম্বর), জাতীয় শেরেবাংলা নগরে বিএনপির নেতা জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে এ সব কথা বলেন মির্জা ফখরুল।

    মির্জা ফখরুল বলেন, জিয়াউর রহমান তার চতুর্থ বছরেই দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোতে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার করেন। তিনি একদলীয় শাসন ব্যবস্থাকে পরিহার করে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে যান এবং সংবাদপত্রের মুক্তি নিশ্চিত করেন। পাশাপাশি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে বিচার বিভাগীয় কাঠামো শক্তিশালী করেন, জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করেন এবং মুক্তবাজার অর্থনীতি চালু করেন। তাঁর এই ভিত্তির ওপর থাকতে গিয়ে পরবর্তীতে বাংলাদেশ উন্নতি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে গেছে। তাই আজকের দিনটি শুধু বিএনপির জন্য নয়, বাংলাদেশে গণতন্ত্রপ্রিয় মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তীতে বাংলাদেশে নানা চক্রান্তের খবর উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেছেন, ৭ই নভেম্বরের বিপ্লব ও সংহতি দিবস আমাদেরকে সেই পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা দেয়, যেখানে সত্যিকারের গণতন্ত্র ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। জনগণের ভোটাধিকার, বিচারসংস্থানের অধিকার রক্ষা করে দেশের অগ্রগতি সম্ভব হবে।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আব্দুল মঈন খান, সালাহউদ্দিন আহমদ, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন প্রমুখ।

  • নাহিদ ইসলাম: জুলাই সনদে নোট অব ডিসেন্ট থাকবে না

    নাহিদ ইসলাম: জুলাই সনদে নোট অব ডিসেন্ট থাকবে না

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জানিয়েছেন, জুলাই সনদে কোনো নোট অব ডিসেন্ট থাকবে না। আমাদের সঙ্গে যা সম্মতি হয়েছে, সেটাই থাকবে, আর জনগণ চাইলে বাকিটা ঠিক করবে। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সেগুলো বাস্তবায়িত হবে, এটাই আমাদের আশা। তিনি বিশ্বাস করছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে জুলাই সনদে আইনি ভিত্তি স্থাপনের মাধ্যমে আগামী নির্বাচন এগিয়ে যাবে।

    নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, আমরা গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাব। শুক্রবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সম্মেলন কক্ষে ইউনিভার্সিটি টিচার্স ফোরামের (ইউটিএফ) আত্মপ্রকাশ ও আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন।

    তিনি আরো বলেছিলেন, আগামী নির্বাচনে গণ-অভ্যুত্থানে যারা অংশ নেবে, তাদের সবাইকে সংসদে থাকতে হবে। সংসদে ব্যবস্থাপনা ও সংস্কার পরিষদ গঠন করা হবে, যেখানে নতুন সংবিধানের জন্য কাজ চলবে। শিক্ষকদের অবশ্যই এই প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করা জরুরি, এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি সেই বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য কাজ করবে।

    নাহিদ ইসলাম উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতের সংসদ ও সংস্কার পরিষদের সভায় তরুণ সমাজ, শিক্ষক, আলেম, নারী, সংখ্যালঘু ও বিভিন্ন পেশাজীবী একজনের মতো মিলেই আমরা যে জুলাই সনদের পথে রয়েছি, সেই বাস্তবায়নে এগিয়ে যাবো। তার আগে অবশ্যই আমাদের দাবি, গণভোটের মাধ্যমে জুলাই সনদের ভিত্তিতে এই অর্ডারটি ড. মোহাম্মদ ইউনূসের হাতে দিয়ে দিতে হবে।

    আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে ঘোষণাপত্র পাঠ করেন ইউনিভার্সিটি টিচার্স ফোরামের আহ্বায়ক অধ্যাপক মো. সিরাজুল ইসলাম ও সদস্য সচিব অধ্যাপক শামীম হামিদী।

  • মির্জা ফখরুলের অভিযোগ: সরকার নির্বাচন ব্যাহত করতে নিজেই পরিস্থিতি তৈরি করছে

    মির্জা ফখরুলের অভিযোগ: সরকার নির্বাচন ব্যাহত করতে নিজেই পরিস্থিতি তৈরি করছে

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারকে পুরোপুরি সমর্থন দিয়ে আমরা আশা করেছিলাম দেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষা করবেন তারা। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে তারা নিজেরাই এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে যাতে নির্বাচন ব্যাহত হতে পারে। আজ শুক্রবার (৭ নভেম্বর) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত র্যালির পূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

    সন্ধ্যা ৪টার দিকে নয়াপল্টন থেকে শুরু হয় এই র্যালি, যা কাকরাইল, মালিবাগ, বাংলামোটর হয়ে সোনারগাঁও হোটেলের সামনে গিয়ে শেষ হয়। সমাবেশের জন্য কার্যালয়ের সামনে একটি অস্থায়ী মঞ্চ তৈরি করা হয়।

    মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের দুর্ভাগ্য যে, যারা অন্তর্বর্তী সরকারকে সমর্থন দিয়েছি, তারা আজ নিজেই নির্বাচন ব্যাহত করার জন্য নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। তিনি বলেন, এই রাজনৈতিক জোটগুলো গণভোটের জন্য চাপ চাপ দিচ্ছে, যা স্পষ্টতই নির্বাচন নস্ট করার ষড়যন্ত্র। তিনি আরও বলেন, গণভোট হলে নির্বাচনের দিনই তা হতে হবে, কোনও পূর্বঘোষণার প্রয়োজন নেই। কারণ, দুটি ভোটের জন্য বহু অর্থের প্রয়োজন হবে, যা অপ্রয়োজনীয়।

    অন্য এক বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ঐক্যবদ্ধভাবে ইতোমধ্যে ঐক্য গড়ে তুলেছে, তবে কিছু অসৎ দলের ষড়যন্ত্রের কারণে পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে। তিনি বলেন, বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করে দাবি করছে যে, ভোটের আগেই গণভট হতে হবে। তিনি স্পষ্ট করেন, গণভোট নির্বাচন এরই মধ্যে হওয়া উচিত, এটা পরিকল্পিতভাবে নয়।

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে একগুচ্ছ গণতান্ত্রিক সংস্কারমূলক কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, এই সংস্কার কার্যপ্রতিষ্ঠায় অন্তর্বর্তী সরকার সহযোগিতা করলে বিএনপি তাদের পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে। তারা প্রায় এক বছর ধরে সংস্কারমূলক কাজ চালিয়ে গেছে, বিভিন্ন দলের সঙ্গে ঐকমত্যের ভিত্তিতে ১৭ অক্টোবর একসময়ে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলেন।

    অন্যদিকে, কিছু সিদ্ধান্তের বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, একদল উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য প্রেস কনফারেন্স করে জানিয়ে দেন যে, তাদের সিদ্ধান্ত হয়েছে— রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য সাত দিন সময় নির্ধারণ করা হবে। এতে চরম বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়, কারণ এত দীর্ঘ সময়ের মধ্য দিয়ে ইতিমধ্যে বৈঠকে অংশ নেওয়া দলের প্রতিনিধিরা কাজ করেছিলেন। তিনি জোড়ালোভাবে বলেন, সব টাকা-খরচের পরও কোনো ফলাফল আসেনি, যা মূলত রাজনৈতিক অচলাবস্থা সৃষ্টি করছে।

    সর্বশেষ, প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সঞ্চালনায় র‌্যালির পূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ড. আব্দুল মঈন খান, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হকসহ অন্যান্য নেতারা বক্তব্য রাখেন।

  • বিএনপি গণভোটে আলোচনা করতে রাজি নয়, জামায়াতের হামিদুর রহমানের দাবি

    বিএনপি গণভোটে আলোচনা করতে রাজি নয়, জামায়াতের হামিদুর রহমানের দাবি

    গণভোটের পরিকল্পনা সম্পর্কে অপ্রতীক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে এটি কি নির্দিষ্ট সময়ে বা নির্বাচনের আগের দিন অনুষ্ঠিত হবে, এবং জুলাই মাসে সনদ বাস্তবায়নের রূপরেখা কীভাবে নির্ধারণ হবে—এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে স্পষ্ট জানাতে আপ্রাণ চেষ্টা করছে অন্তর্বর্তী সরকার। তবে এই বিশেষ ইস্যুতে বিএনপি আলোচনায় বসতে রাজি নন, এমনটাই জানিয়েছেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ।

    শনিবার (৮ নভেম্বর) রাজধানীর হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টালে এক বিশেষ সংলাপে অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। সেখানে তিনি বলেন, গণভোট নিয়ে আলোচনা করতে তারা প্রস্তুত, কিন্তু বিএনপি এতে আগ্রহী নয়। হামিদুর রহমান বলেন, আমরা বিএনপি মহাসচিবের সঙ্গে আলোচনা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তারা জানিয়েছে, তারা আমাদের সঙ্গে আলোচনা করবে না। তারপরও আমরা যেকোনো সময় আলোচনা করতে প্রস্তুত রয়েছি, প্রয়োজন হলে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোকেও এ আলোচনায় যুক্ত করতে চাচ্ছি।

    তিনি আরও জানান, জুলাই সনদ স্বাক্ষরিত হয়েছে, তবে তার বাস্তবায়ন কীভাবে হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। যখন জাতীয় ঐকমত্য কমিশন সরকারের কাছে সুপারিশ পাঠায়, তখনই বিরোধ সৃষ্টি হয়।

    নেতাকর্মীদের সাথে সংলাপ ও জনমত প্রকাশের গুরুত্বে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সংলাপ ও জনমত দুটোই অপরিহার্য। আলোচনাই একমাত্র পথ নয়—অর্থাৎ, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আলোচনা চালিয়ে যাওয়া এবং মানুষের বাকস্বাধীনতা বজায় রাখা জরুরি। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তারা কোনো ভয়াবহতা বা সহিংসতা করছে না।

    গণভোটের আয়োজন ও পরিকল্পনা সম্পর্কিত প্রশ্নে তিনি বলেন, সাধারণত নির্বাচনে ভোট কেন্দ্রে ভিপি, বা দখলের প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। একই দিনে দুইটি ভোট নেওয়া গেলে সময়ের ব্যাপারটি জটিল হয়ে দাঁড়াবে, ফলে ভোট গণনা কম হয়ে যেতে পারে। এরপর বলবেন, জনগণ জুলাই মাসের চার্টারকে সমর্থন করেনি।

    তিনি আরও মন্তব্য করেন, বর্তমানে দেশের প্রশাসন পুরোনো ফ্যাসিবাদী আমলের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। জনগণের আস্থা এখনো পুনরুদ্ধার হয়নি। সুতরাং, গণভোটের মাধ্যমে জনগণের আস্থা ফিরলে পরবর্তী নির্বাচন আরও গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠবে বলে তিনি মনে করেন।

  • জনমত গঠনে রাজপথে জামায়াত: হামিদুর রহমান

    জনমত গঠনে রাজপথে জামায়াত: হামিদুর রহমান

    জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, জামায়াত কোনও প্রেশার গ্রুপ নয়, বরং জনগণের মতামত ও প্রত্যাশা ব্যক্ত করতে রাজপথে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমরা মতভিন্নতা মেনে নিতে পারি, তবে মতবিরোধের রাজনীতি চাই না। আজ শনিবার (৮ নভেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘নির্বাচনী ইশতেহারে প্রযুক্তির ব্যবহার’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এই মন্তব্য করেন।

    হামিদুর রহমান বলেন, আমরা বিশ্বাস করি যে ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। জনগণের ইচ্ছা ও অভিপ্রায়ের ভিত্তিতে এক সুন্দর ও পরিবর্তনশীল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আমরা এগুচ্ছি। সেই লক্ষ্যে রাজনৈতিক সংস্কারে গুরুত্ব দিতে হবে।

    তিনি জানিয়েছেন, কিছু নোট অব ডিসেন্ট সহ সনদ স্বাক্ষরিত হয়েছে, তবে বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া সনদের বাইরে, ফলে সেখানে মতবিরোধ প্রকাশ পায়নি। তবে বাস্তবায়নের সময় মতভিন্নতা দেখা দিয়েছে।

    তার ভাষায়, নির্বাচনের সময় নিয়ে কমিশনের পাঁজরা রয়েছে। গণভোটের দিন নির্বাচন যখন হয়, তখন নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে, যেমন ভোটগ্রহণ স্থগিত বা অনিশ্চয়তা। তিনি বলেন, মূলত নির্বাচনে বিজয়ই লক্ষ্য, কিন্তু সময়ে ভোট বন্ধ থাকলে ফলাফলের ওপর প্রশ্ন উঠতে পারে। তাই মূল্যায়ন করে নির্ভরযোগ্য ও সমঝোতামূলক ভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।

    জামায়াত নেতা বলেন, আমরা কি আবার ফ্যাসিবাদী সময়ের মতো সনদের অনিশ্চয়তা ফেরাতে চাই? গণভোটের আগে যদি প্রশাসন ও নির্বাচনী সংস্থাগুলি সঠিকভাবে কাজ করে, তা দেশের জন্য সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ একটি পরীক্ষার। এর মাধ্যমে জনগণ বিশ্বাসের সঙ্গে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন।

    তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে দেশের জনগণের আস্থা খোয়া গেছে, এখন সেই আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ২৭ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে বিদেশে, অথচ জনস্বার্থে এক থেকে দেড় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে গণভোটের চেষ্টা অপচয় নয় বলেও দৃঢ় বক্তব্য দেন।

    বিএনপি ও জামায়াতের সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জামায়াতের আহ্বানে বিএনপি বসতে রাজি হয়নি। তিনি আরও বলেন, আমরা চাইনি রাজনীতি আবার ফ্যাসিবাদী চর্চায় ফিরে যাক। তবে, বিএনপি চাইলে আলোচনায় বসতে আমরা প্রস্তুত।

    হামিদুর রহমান যোগ করেন, জামায়াত সব সময়ই আলোচনা চালিয়ে গেছে। পাশাপাশি, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ও রুচির কথা বলেও মত প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, আমরা সহিংসতা সমর্থন করি না, বরং পূর্ণ রাজনীতির ধারায় থাকি।

    তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা সম্পর্কে তিনি বলেন, নব্বইয়ের তিন জোটের রূপরেখা বাস্তবায়িত হয়নি। পরিবর্তন আনা একান্ত প্রয়োজন। তরুণরা কী চায়, সেটিও বুঝতে পেরেছি—তাদের জন্য ভবিষ্যতের দিশা উন্মুক্ত করতে হবে।

  • উত্তরে কুয়াশা বৃদ্ধি ও তাপমাত্রা কমতে পারে ৩ ডিগ্রি পর্যন্ত

    উত্তরে কুয়াশা বৃদ্ধি ও তাপমাত্রা কমতে পারে ৩ ডিগ্রি পর্যন্ত

    বর্তমানে মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে, ফলে সারাদেশে শুষ্ক আবহাওয়া বিরাজ করছে। তবে, উত্তরের জেলাগুলোর ভোরের সময় কুয়াশার ঘনত্ব ক্রমে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে দেশের কোনো περιοχήতেও বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। তবে রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমতে পারে, যা সাধারণত শীতের প্রকটতা বৃদ্ধি করে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই ঠাণ্ডার প্রভাবে শীতের অনুভূতি আরও বাড়বে।

    আজ শনিবার (৮ নভেম্বর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে আবহাওয়া অধিদফতর এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

    আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক জানান, মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে স্থিতিশীল থাকায় দেশের আকাশে মূলত শুষ্কতা বিরাজ করছে। আজ সকাল থেকেই দেশের উত্তর ও উত্তরপূর্বাঞ্চলের কিছু অংশে হালকা কুয়াশা হতে পারে। রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমে গিয়ে কক্ষনো কোথাও ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। পাশাপাশি, দিনের তাপমাত্রাও সামান্য হ্রাস পাচ্ছে।

    রোববার (৯ নভেম্বর) ও সোমবার (১০ নভেম্বর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসেও একই রকম শুষ্ক আবহাওয়ার সংকেত দেওয়া হয়েছে। ভোরের দিকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হালকা কুয়াশা দেখা যেতে পারে। রাত ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতেই থাকবে।

    অপর দিকে, মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) ও বুধবার (১২ নভেম্বর) দিনের বেলা আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া শুষ্ক থাকবে। আবার কিছু অঞ্চলে হালকা কুয়াশার প্রবণতা থাকতে পারে। এই সময়ে রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে, তবে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে।

    আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, সামনের পাঁচ দিন ধরে রাত ও দিনের তাপমাত্রা ধাপে ধাপে বাড়তে পারে, যা শীতের মৌসুমে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের কাছাকাছি আনতে সহায়তা করবে।

  • উপদেষ্টা আসিফ নজরুল নির্বাচন প্রসঙ্গে মন্তব্যের বাইরে থাকলেন

    উপদেষ্টা আসিফ নজরুল নির্বাচন প্রসঙ্গে মন্তব্যের বাইরে থাকলেন

    রাজশাহী কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের দর্শন শেষে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পর্কে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল স্পষ্ট করে বললেন, ‘নির্বাচন বিষয়ক আলোচনা আমার উদ্দেশ্য নয়, আমি রাজশাহীতে আসছি শুধুমাত্র এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিদর্শনের জন্য।’ শনিবার সকালে নগরীর এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে উপস্থিত থেকে তিনি বিভিন্ন কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং প্রশিক্ষণার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় বিভিন্ন সাংবাদিক তাঁর সাথে প্রশ্নোত্তরে সরাসরি এতটুকুই মন্তব্য করেন। পরে তিনি বলেন, ‘প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত এই কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলো দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যাপিঠ। সারাদেশে শতাধিক এই কেন্দ্র রয়েছে যেখানে কাজ করেন প্রশিক্ষণার্থীরা, তারা দেশের পাশাপাশি বিদেশেও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে দিচ্ছেন। বিশেষ করে রাজশাহীর এই কেন্দ্রীয় টিটিসি নারী প্রশিক্ষণেও এগিয়ে, যা বাংলাদেশের মধ্যে অন্যতম। সকালে সারে দশটার কিছু আগে তিনি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের বিভিন্ন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন এবং প্রশিক্ষণার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এতে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী জেলা প্রশাসকসহ কেন্দ্রের উর্ধতন কর্মকর্তারা।

  • নির্বাচনের জোয়ার বইছে, ফেব্রুয়ারিতে ভোট: প্রেস সচিব

    নির্বাচনের জোয়ার বইছে, ফেব্রুয়ারিতে ভোট: প্রেস সচিব

    সারাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি জোর.clicked করে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেছেন, ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ বিষয়ে তিনি উল্লেখ করেন যে, প্রধান উপদেষ্টা সহ সবাই দিনরাত পরিশ্রম করে নির্বাচনী প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

    শনিবার (৮ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অনুষ্ঠিত ‘নির্বাচনী ইশতেহারে প্রযুক্তির ব্যবহার’ শীর্ষক এক সেমিনারে এ সব কথা বলেন শফিকুল আলম। তিনি জানান, সম্পূর্ণ দেশজুড়ে নির্বাচনের জন্য একটা উচ্ছ্বাস এবং উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। আশ্বস্ত করে বলেন, ফেব্রুয়ারির প্রথম ভাগেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর জন্য একটি অন্তর্বর্তী সরকার সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

    প্রেস সচিব আরও বলেন, জনগণ সৎ ও দক্ষ শাসন প্রত্যাশা করে। তবে সেটি একদিনে সম্ভব নয়। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, বিভিন্ন দেশে সংস্কার প্রক্রিয়া প্রায় ১০ থেকে ১৫ বছরেও সম্পন্ন হয়। ভবিষ্যতে আবারও সংলাপ হতে পারে। নেপালে এরকম সংস্কার করতে প্রায় ৯ বছর লেগেছে।

    শফিকুল আলম যোগ করেন, অনেকেই বলছেন যে, নারীকর্মী ও শ্রমিকদের প্রতিনিধিত্ব নেই নির্বাচনী সনদে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, সব শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিত্বই সনদে প্রতিফলিত হয়েছে।

    পরবর্তী সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জের মধ্যে একটি হলো কর্মসংস্থান সৃষ্টি। তিনি বলেন, এআই প্রযুক্তি এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

    প্রেস সচিব আরও জানান, কয়েক বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ হয়েছে রেল প্রকল্পে। সবকিছুই গোপালগঞ্জে কেন্দ্র করে। এসব উদ্যোগ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাস্তবায়িত হয়েছে। তিনি ঝুঁকি মোকাবেলার জন্য আগামী সরকারকে প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দেন।

    শেখ হাসিনার কারাবাসের বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে শক্ত موقف নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে শফিকুল আলম বলেন, শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে সবাইকে স্পষ্ট বক্তব্য দিতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান আন্দোলনকারী সবাইকে আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করছে। ১৮ কোটি মানুষকে সন্ত্রাসী বলে মনে করে ক্ষমতায় আসতে চায় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ধরনের অপপ্রচার ও হামলা প্রতিরোধে রাজনৈতিক দলগুলোকে একজোট হয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান।

  • নরসিংদীর খেয়াঘাটে ভাড়া সমাধানে সংঘর্ষ, ১৫ জন আহত

    নরসিংদীর খেয়াঘাটে ভাড়া সমাধানে সংঘর্ষ, ১৫ জন আহত

    নরসিংদীর চরদিঘলদী ইউনিয়নের খেয়াঘাটে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ফের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আজ শনিবার (৮ নভেম্বর) সকালে মাইকে ঘোষণা করে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়, যার ফলে দুটি দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ চালানো হয়। এতে টেঁটাসহ দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে কমপক্ষে ১৫ জন আহত হন। হতাহত ব্যক্তিদের মধ্যে বেশিরভাগই নরসিংদী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, তবে বেশ কয়েকজন গোপনে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন, কারণ তারা পুলিশের গ্রেপ্তার থেকে বাঁচতে চান। ঘটনা ঘটে সদর উপজেলার মাধবদী থানার চরদিঘলদী ইউনিয়নের জিতরামপুর এলাকায়, যেখানে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া ও আধিপত্য কেন্দ্র করে সংঘাত চলছিল। শনিবার সকালে পুলিশ উপস্থিত না থাকা এবং ব্যাপক উত্তেজনা থাকায় পরিস্থিতি চলে যায় ভয়ংকর পর্যায়ে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম জানান, ভোরে পুলিশ না থাকার সুযোগ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করে। তিনি আরও বলেন, সামান্য আহত একজন বা দুইজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

  • সাপের কামড়ের অ্যান্টিভেনম সারাদেশের উপজেলাগুলোতেও পাঠানো নির্দেশনা ঘোষণা

    সাপের কামড়ের অ্যান্টিভেনম সারাদেশের উপজেলাগুলোতেও পাঠানো নির্দেশনা ঘোষণা

    অ্যান্টিভেনমের স্বল্পতা দূর করতে দেশের সব উপজেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালে পর্যাপ্ত পরিমাণে সাপের কামড়ের অ্যান্টিভেনম সরবরাহের জন্য স্বাস্থ্য ও ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর বিভিন্ন নির্দেশনা জারি করেছে। বিশেষ করে, প্রত্যেক উপজেলা সদরে কমপক্ষে দুটি ফার্মেসিতে এই অ্যান্টিভেনম রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

    গত বৃহস্পতিবার উচ্চ আদালতের বিচারপতি ফাহমিদা কাদেরের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে এই সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদনের মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়, যেখানে দেশের প্রত্যন্ত এলাকা तक অ্যান্টিভেনমের সরবরাহ নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়। এই নির্দেশনার বাস্তবায়ন কতটা কার্যকর হচ্ছে তা নিশ্চিত করতে আজ শনিবার, ৮ নভেম্বর, এই ব্যাপারে স্বয়ং আইনজীবী অ্যাডভোকেট মীর এ কে এম নুরন্নবী নিশ্চিত করেছেন।

    প্রথমে, গত ১৭ আগস্টের মধ্যে উপজেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম সরবরাহের নির্দেশ দেওয়া হয়, যা মূলত হাইকোর্টের একটি রিটের শুনানি চলাকালে আসে। এই রিটের মাধ্যমে জনস্বার্থে সারাদেশে সাপের কামড়ের চিকিৎসা ব্যবস্থা জোরদার করার দাবি জানানো হয়। এরপর, ১৮ আগস্টের মধ্যে, বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি সৈয়দ জাহেদ মনসুরের বেঞ্চ এই নির্দেশ দেন।

    অ্যাডভোকেট মীর এ কে এম নুরন্নবী এই রিটের পক্ষে শুনানি করেন, সহায়তায় ছিলেন অ্যাডভোকেট ইসমাঈল হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শফিকুর রহমান, তানিম খান ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ইকরামুল কবির। রিটটি বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন সংযুক্ত করে হাইকোর্টে দাখিল করা হয়।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত সারা দেশে সাপের কামড়ে ৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এসময় মোট আক্রান্ত হয়েছে ৬১০ জন। রাজধানীর মহাখালীর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য প্রকাশ করেন, যেখানে বলা হয়, বিষধর সাপের মধ্যে রাসেলস ভাইপার ও চন্দ্রবোড়া বেশ উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।

    প্রতিবেদনে আরো জানানো হয়, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এই সময়ে মোট ৪১৬ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে বিষধর সাপে দংশিত ৯১ জন, আর চন্দ্রবোড়ার দংশন হয়েছে ১৮ জন। এই দংশনে মারা গেছেন ১১ জন, তাঁদের মধ্যে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে চন্দ্রবোড়ার কারণে।

    সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, রাসেলস ভাইপার ও অন্যান্য বিষাক্ত সাপের কারণে জনসচেতনতা ও আতঙ্ক বাড়ছে। বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যক মানুষ এই বিষধর সাপের দংশনের শিকার হয় এবং এর জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের নানা পদক্ষেপ গ্ৰহণ অব্যাহত রয়েছে। ২০২২ সালের জরিপে দেখা গেছে, একশো ট্রাকে সাড়ে সাত হাজার মানুষ সাপের দংশনে মৃত্যু হয়েছে।

    বিশেষ করে, চন্দ্রবোড়া ভাইপার ও অন্যান্য বিষধর সাপের বিষ নিয়ে গবেষণা ও চিকিৎসার ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। বাংলাদেশে এখনো পর্যন্ত চন্দ্রবোড়ার দংশনের চিকিৎসার জন্য অ্যান্টিভেনম তৈরি হয় না, তবে ভারতের কাছ থেকে অ্যান্টিভেনম সংগ্রহ করে বিভিন্ন হাসপাতালে সরবরাহ করা হয়। এ সব সাপে দংশনের চিকিৎসার জন্য অ্যান্টিভেনম একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, যা বিষপ্রাপ্ত রোগীর জীবন রক্ষা করে। তবে, এর সংরক্ষণ, ক্রয় ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে রাষ্ট্রের নির্দিষ্ট নীতিমালা বা কর্মসূচি নেই। তারপরও, অ্যান্টিভেনমের ব্যবহার জনস্বাস্থ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে ধারনা করা হয়।