Blog

  • রাজধানীতে ধারাবাহিক ককটেল নৈরাজ্য, উদ্বেগে সাধারণ মানুষ

    রাজধানীতে ধারাবাহিক ককটেল নৈরাজ্য, উদ্বেগে সাধারণ মানুষ

    আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণে আজ সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন অংশে একের পর এক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটছে, যার ফলে সাধারণ জনগণের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। এসব ঘটনা নাশকতার জন্য পরিকল্পিত বলে ধারণা করা হচ্ছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

    সোমবার (১০ নভেম্বর) ভোর ৪টার দিকে মিরপুরের চারপাশে ঘটে প্রথম এই ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা, যেখানে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের গড়া গ্রামীণ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এর কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর জানা যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে যে, কী কারণে এই ঘটনা ঘটেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দোষীদের চিহ্নিত করার জন্য তদন্ত শুরু হয়েছে।

    এর ঠিক কিছুক্ষণ পর, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মোহাম্মদপুরের স্যার সৈয়দ রোডে অবস্থিত একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সামনে দু’টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। এটি কল্যাণের জন্য কোনও হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতি হয়নি, তবে এই ধরনের ঘটনাগুলো যেন ভবিষ্যতেও না ঘটে তার জন্য পুলিশ সতর্ক রয়েছে।

    একই সময়ে ধানমন্ডি-২৭ নম্বরের মাইডাস সেন্টারসের সামনে অজ্ঞাত দুই-তিন ব্যক্তি মোটরসাইকেলে করে এসে ককটেল নিক্ষেপ করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এই ঘটনারও মোক্ষম কোনও হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। ডিএমপি জানিয়েছে যে, এসব ঘটনায় ঘটনার স্থান ও সময়ের বিবরণ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে, এবং দোষীদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

    উল্লেখ্য, বর্তমানে রাজধানীতে ককটেল বিস্ফোরণের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বেড়ে চলেছে। গত শুক্রবার (৭ নভেম্বর) রাতে রমনা এলাকায় একটি গির্জার সামনে দুটি ককটেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে একটিকে বিস্ফোরণ ঘটে, অন্যটি অবিস্ফোরিত অবস্থায় পড়ে থাকে। একই রাতে মোহাম্মদপুরে সেন্ট যোসেফ হাইস্কুলের গেটের ভেতরে গেল শুক্রবার রাতে আরও একটি ককটেল বিস্ফোরণ হয়। স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, সে রাতে বিদ্যুৎ থাকছিল না, যেখানে এই ঘটনাটি ঘটেছে।

    যদিও কেবল ককটেল নিক্ষেপই নয়, নাশকতাকারীরা বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনাও চালিয়ে যাচ্ছে। সোমবার ভোরে রাজধানীর মেরুল বাড্ডা ও শাহজাদপুর এলাকায় দুটি বাসে দুর্বৃত্তরা আগুন দেয়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে দ্রুত গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। তবে তদন্তে জানা যাবে এই আগুনের কারণ কি ছিল। এ সকল ঘটনায় এখনো কারও হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

    বেশ কয়েকদিন ধরে এ ধরনের ঘটনা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ঘটছে, যা রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর আগে, গত শুক্রবার রাতে মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার একটি বাসেও দুর্বৃত্তরা আগুন ধরিয়েছে। এতে হতাহত হয়নি।

    পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দোষীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে কাজ চালানো হচ্ছে। সরকারের উচ্চ পর্যায়ে এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাগুলোর জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষও সতর্ক থাকতে এবং অবিলম্বে কোনও সন্দেহজনক পরিস্থিতি নজরে এলেই পুলিসকে اطلاع দিতে আহ্বান জানানো হয়েছে।

  • পিতার হত্যার পর মরদেহের পাশে বসে ছেলে স্মোকিং

    পিতার হত্যার পর মরদেহের পাশে বসে ছেলে স্মোকিং

    মাদারীপুরের শিবচরে পারিবারিক অশান্তির জেরে গভীর রাতে এক বাবাকে কোদাল দিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে তারই ছেলে। হত্যার পর সেই ছেলে বাবার মরদেহের পাশে বসে সিগারেট ধরিয়ে ছিলেন, যা ঘটনা জানাজানি হলে পুরো এলাকায় শোরগোল পড়ে যায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে অভিযুক্ত ছেলে ফারুক মিয়াকে (২৭) গ্রেপ্তার করে।

    রোববার (৯ নভেম্বর) শিবচর উপজেলার বাঁশকান্দি ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পঞ্চগ্রাম এলাকায় এই নৃশংস ঘটনা ঘটে। এরপর সোমবার (১০ নভেম্বর) সকালে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর সদর হাসপাতালে পাঠায়।

    নিহত মনির মিয়া (৬৫) চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ভোলারহাট থানার বড়হাটি গ্রামের বাসিন্দা। কয়েক দিন আগে কাজের সন্ধানে পরিবারসহ মাদারীপুরের শিবচরে এসে একটি ভাড়াবাসায় থাকতেন তিনি।

    পুলিশ ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন, রোববার বিকেল থেকে পরিবারের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মনির মিয়া ও তার ছেলে ফারুকের মধ্যে ঝগড়া চলছিল। এরপর রাতে প্রায় ১টার সময় পরিবারের সবাই ঘুমিয়ে পড়লে, ঘুমন্ত অবস্থায় ফারুক পরিকল্পনা অনুযায়ী বাবাকে কোদাল দিয়ে কোপ মারেন। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

    আশপাশের লোকজনের চিৎকারে ঘুম ভেঙে যায় পরিবারের অন্য সদস্যদের, তারা দ্রুত বাইরে এসে পরিস্থিতি দেখে হতভম্ব হয়ে যান। হত্যাকাণ্ডের পরে ফারুক মরদেহের পাশে বসে থাকলেও, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সেখান থেকে কোদাল উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত ছেলেকে গ্রেপ্তার করে।

    আসামীর বিরুদ্ধে নিশ্চিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, পারিবারিক দ্বন্দ্ব এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের কারণ হতে পারে। তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং তদন্ত এখনও চলমান।

  • সাতক্ষীরা জেলায় নবীন গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য প্রকল্প অনুমোদন

    সাতক্ষীরা জেলায় নবীন গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য প্রকল্প অনুমোদন

    জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) ১২টি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প অনুমোদন করেছে, যার মোট ব্যয় ৭ হাজার ১৫০ কোটি ২১ লাখ টাকা। এই অর্থের পুরো শেয়ারটাই সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় করা হবে। আজ সোমবার (১০ নভেম্বর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভার পরে এ তথ্য গণমাধ্যমে জানানো হয়। সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা ও একনেক চেয়ারপারসন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বিস্তারিত মতে, অনুমোদিত ১২টির মধ্যে ৮টি নতুন প্রকল্প, ২টি সংশোধিত এবং ২টির ব্যয় বা মেয়াদ বৃদ্ধির প্রকল্প রয়েছে। এই ১২ প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ। পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্পের মধ্যে অন্যতম হলো— মানিকগঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও সাতক্ষীরা জেলার গরীব ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য অবকাঠামো উন্নয়ন। কৃষি মন্ত্রণালয় একটি প্রকল্পের মাধ্যমে গেছে— কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোণার হাওর অঞ্চলের ক্ষুদ্রসেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় দুটি প্রকল্পে কাজ করবে— গাজীপুরের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী ও রংপুরের বিভাগীয় ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ স্থাপন। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় একটি প্রকল্পের মাধ্যমে স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মাণের কাজ এগিয়ে নেবে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত তিনটি প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে পরিবার পরিকল্পনা, মা ও শিশু স্বাস্থ্য সেবা, এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা কার্যক্রমের উন্নয়ন। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ঢাকার সেনানিবাসে নির্ঝর আবাসিক এলাকায় আধুনিক অফিসার বাসস্থান নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় নড়াইল-কালিয়া মহাসড়ক ও কালিয়া সেতুর জন্য নতুন পরিকল্পনা করছে, যার জন্য মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। শিল্প মন্ত্রণালয় টাঙ্গাইলের বিসিক শিল্প পার্কের উন্নয়ন চালু থাকবে। সভায় আরও ৯টি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়, যার মধ্যে রয়েছে শিক্ষার উন্নয়ন, বেসরকারি স্কুলের উন্নয়ন, মুক্তিযোদ্ধাদের সংরক্ষণ ও উন্নয়ন, যুবকদের দক্ষতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তির মাধ্যমে বন ব্যবস্থাপনা, কৃষি গবেষণার কেন্দ্রস্থাপন, ঢাকা শহর ও আশপাশের এলাকা উন্নয়ন, র‌্যাবের সক্ষমতা বৃদ্ধি ইত্যাদি। এই সব প্রকল্পের জন্য বিভিন্ন উপদেষ্টা ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন, যারা দেশের উন্নয়ন অগ্রগতির জন্য এই বৃহৎ পরিকল্পনাগুলোর বাস্তবায়নে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠছেন।

  • পুরান ঢাকায় গুলিতে নিহত ব্যক্তি শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমনের অন্যতম সহযোগী

    পুরান ঢাকায় গুলিতে নিহত ব্যক্তি শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমনের অন্যতম সহযোগী

    পুরান ঢাকার সূত্রাপুরে বেলা ਸাড়ে এগারোটায় ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে দুর্বৃত্তদের গুলিতে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। তিনি তারিক সাইফ মামুন (৫৫) নামে একজন, যিনি শীর্ষ সন্ত্রাসীদের তালিকার একজন ছিলেন। ঘটনার সময় তিনি সোহেল চৌধুরী হত্যা ও সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদের ভাই সাইদ আহমেদ টিপু হত্যা মামলার মূল সন্দেহভাজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন। দুপুর ১১টার দিকে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসকরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নিয়ে আসেন, যেখানে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার স্বজনরা বলছেন, মামুন সাধারণ একজন ব্যক্তি এবং এর সঙ্গে কোনও রাজনীতির সম্পর্ক নেই। তবে পুলিশ জানিয়েছে, তিনি শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমন-মামুন গ্রুপের সদস্য ছিলেন, যেখানে ইমন বর্তমানে পলাতক থাকেন। এই গ্রুপটি মূলত ডেঙ্গু-নাশক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকার পাশাপাশি বিভিন্ন অপরাধের জন্য পরিচিত। জানা গেছে, মামুনের অর্থনৈতিক জীবন ছিল মিরপুরে একটি গার্মেন্টস ব্যবসা, যেখানে তিনি দুই মেয়ের সঙ্গে থাকতেন। গত দুই দিন আগে সকালে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন জজকোর্টে একটি মামলার হাজিরা দিতে, এবং এরপরই তার মৃত্যুর খবর আসে। নিহতের খালাতো ভাই হাফিজ বলেন, তিনি জানেন না কেন তার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে। এ ব্যাপারে নিহতের স্ত্রী দিপা বলেন, তার স্বামী মিরপুরের গার্মেন্টস ব্যবসায়ী এবং দুই মেয়ের সঙ্গে থাকতেন। তিনি বলেন, গত দুই দিন আগে দুপুরে বের হয়ে জজকোর্টে ছিলেন। তার মৃত্যুর খবর পেয়ে তিনি খুবই উদ্বিগ্ন। জিজ্ঞাসাবাদে, তিনি উল্লেখ করেন, ‘ইমন নামে একজনের নাম নেওয়া হয়েছে, যার সঙ্গে তাঁর স্বামীর শত্রুতা ছিল।’ তিনি আরও বলেন, কিছুদিন আগে ইমন তার স্বামীকে মারধর করেছিল। তবে ইমনের সঙ্গে এই হত্যার যোগসূত্র বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য দেননি। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সকাল ১০:৫২ মিনিটে হাসপাতালের গেটের সামনে নিরাপত্তার অভাবে স্বাভাবিক কাজকর্ম চলছিল। এরপর ১০:৫৩ মিনিটে সাদা চেক শার্ট পরিহিত একজন দৌড়ে হাসপাতালে প্রবেশ করেন। এর কিছুক্ষণ পরে মুখোশ ও ক্যাপ পরিহিত দুইজন উপস্থিত হয়ে একাধিক গুলি চালিয়ে দ্রুত চলে যান। এই ঘটনায় আশেপাশে থাকা অনেকের মধ্যে অস্থিরতা দেখা যায়, তারা আতঙ্কে ছোটাছুটি করতে শুরু করেন।

  • গোপালগঞ্জের সংঘর্ষে এনসিপি ও আওয়ামী লীগ দুই পক্ষই দায়ী: তদন্ত কমিটি

    গোপালগঞ্জের সংঘর্ষে এনসিপি ও আওয়ামী লীগ দুই পক্ষই দায়ী: তদন্ত কমিটি

    গত জুলাই মাসে গোপালগঞ্জে অনুষ্ঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘটিত৩০ ঘটনাটির পেছনে উভয় পক্ষই দায়ী বলে প্রকাশিত হয়েছে বিচার বিভাগীয় তদন্তের প্রতিবেদনে। এই তদন্তে দেখা গেছে, সংঘর্ষের জন্য উসকানি, গুজব, এবং দুই পক্ষের চরম অবস্থানের পাশাপাশি মাঠের পরিস্থিতির সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয় না হওয়াও বড় কারণ ছিল। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পরিস্থিতি অনুযায়ী সময়মতো সিদ্ধান্ত নেওয়ায় ব্যর্থতা এবং প্রশাসনের জবাবদিহিতা না থাকাটাই এই সংঘাতের অবদান রেখেছে।

    তদন্তকারী কমিটির একজন সদস্য সাজ্জাদ সিদ্দিকী জানান, তাদের প্রতিবেদনে ৮ থেকে ১০টি সুপারিশ ও ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়ানোর জন্য পাঁচটি মূল করণীয় তুলে ধরা হয়েছে। তবে, গুলির বিষয়টি এই কমিটির কার্যপরিধির মধ্যে ছিল না বলে তিনি স্পষ্ট করেছেন।

    ১৬ জুলাই গোপালগঞ্জে সংঘটিত এই সংঘর্ষে গুলিতে পাঁচজনের মৃত্যুর পর, সরকার একটি বিচারপতিকে প্রধান করে ছয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিশন গঠন করে। তদন্তের লক্ষ্য ছিল, ওই ঘটনার মূল কারণ, দায়ী ব্যক্তি ও ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার প্রতিরোধে করণীয় নির্ধারণ। তবে, এই রিপোর্ট সেপ্টেম্বরে সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৌঁছালেও এখনো জনসম্মুখে প্রকাশিতা হয়নি।

    সংঘর্ষের প্রথম সূত্রপাতের বিষয়েও তদন্তে মূলত দেখা গেছে, এনসিপির রোজার সমাবেশের নাম পরিবর্তন করায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়, যা উত্তেজনা বাড়ায়। পাশাপাশি, সমাবেশের আগের দিন ও তার সকালেই বিভিন্ন স্থানে হামলা ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।

    আলোচনায় উঠে আসে, এনসিপির সমাবেশে ‘মুজিববাদ মুর্দাবাদ’ স্লোগানও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে, অনেকের ধারণা হয়তো এই স্লোগান কিছু ভুল বোঝাবুঝির জন্ম দেয়। এরফলে, মিসকনসিভ করা বিষয়গুলো দিকে দিকে বিভ্রান্তি ও বেড়ে ওঠে, যার ফলশ্রুতিতে সহিংসতা রূপ নেয়।

    প্রতিবেদনটি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গোপালগঞ্জে উত্তেজনা আগে থেকেই ছিল, যেখানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটছিল। মূলত, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং রাজনৈতিক দলের সংযোগের অভাব এই সংঘাতের জন্য দায়ী।

    তদন্তে জানা গেছে, মূল জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে বিভিন্ন ভিডিও, ছবি ও প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষাৎকার বিশ্লেষণ করা হয়। বেশিরভাগেরই রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে এবং স্থানীয় লোকজনের নেতৃত্বে ঘটনার ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষের সময় এসব ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে আরেকবার আক্রমণ চালানো হয় এবং ঘটনাস্থল থেকে শীর্ষ নেতা-কর্মীদের সামরিক বাহিনীসহ নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়।

    তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ভবিষ্যতে এমন ঘটনাগুলো প্রতিরোধে কয়েকটি সুপারিশ চালু করা জরুরি। এর মধ্যে রয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কার্যক্রমের কমপক্ষে ১৫ দিন আগে প্রশাসনের অনুমতি নেয়ার প্রক্রিয়া জোরদার করা। অপরাধমূলক উসকানি বা উসকানিমূলক ভাষা ও মন্তব্যের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়। পাশাপাশি, কর্মসূচি আয়োজনের ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন ও সংগঠকদের মধ্যে ভালো সমন্বয়ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বলা হয়।

    এছাড়া, ভবিষ্যতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যাতে দায়িত্বে অবহেলা না করে সেই জন্য পেশাদারিত্ব নিশ্চিতের পাশাপাশি, সহিংসতা প্রতিরোধে বডি ক্যামেরার ব্যবহার ও প্রমাণ সংগ্রহের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। গুলিতে নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সুপারিশও করা হয়েছে, কারণ এই ক্ষতি একান্তই রাষ্ট্রের মানবিক দায়িত্বের অংশ।

    গুলির তদন্তে দেখা গেছে, কার গুলিতে কি ধরনের অঘটন ঘটে, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। মরদেহের পোস্টমর্টেমের রিপোর্টও একই রকম ভাষায় উল্লেখ করে, মৃত্যুর কারণ ছিল রক্তক্ষরণ ও শক। তবে, কার গুলিতে এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে, সেটি তদন্তের মধ্যে ছিল না। এই জন্য, विशेषज्ञদের মতামত নিচ্ছেন, যেন এ বিষয়ে আলাদা তদন্ত করা হয় এবং দায়ীদের সঠিকভাবে চিহ্নিত করা যায়।

    সংক্ষেপে, এই অস্থিরতা ও সংঘাতের জন্য বেশ কিছু কারণ ও দোষী ব্যক্তির প্রাধান্য পাওয়া যাচ্ছে। সরকারের উচিত হয়েছে, এই বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে তদন্ত করে দুর্বলতা চিহ্নিত করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা, যাতে ভবিষ্যতে এমন ক্ষতের পুনরাবৃত্তি রোধ হয় এবং সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা ফিরে আসে।

  • ৫ দফা দাবি না মানলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি জামায়াতসহ ৮ দলের

    ৫ দফা দাবি না মানলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি জামায়াতসহ ৮ দলের

    অন্তর্বর্তী সরকারের পাঁচ দফা দাবি মানতে না চাইলে আগামী ১১ নভেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য সমাবেশ থেকে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবে জামায়াতসহ আটটি রাজনৈতিক দল। আজ শনিবার (৮ নভেম্বর) জাগপা-র ঢাকা মহানগর কার্যালয়ে এক যুক্ত Committee বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দলের নেতারা এ হুঁশিয়ারি দেন। এই বৈঠকে বলা হয়, ১১ নভেম্বরের সমাবেশ সফল করার জন্য সকলের অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। ওই সমাবেশের মাধ্যমে অর্থাৎ জুলাইয়ের জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের আদেশ জারি, জাতীয় নির্বাচনের আগেই গণভোট, উভয় কক্ষে পিআর পদ্ধতি চালু, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার দাবিiew। পাশাপাশি, ফ্যাসিস্ট সরকারের এর আগের জুলুম, নির্যাতন, গণহত্যা এবং দুর্নীতির বিচার ও দমন، জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলকে নিষিদ্ধ করার দাবিও উঠে এসেছে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন জাগপা-র সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন। বক্তব্য দেন জামায়াতের সহকারী মহাসচিব হামিদুর রহমান আজাদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আশরাফ আলী আকন্দ, খেলাফত মজলিসের নেতারা ও অন্যান্য দলের নেতারা। নেতারা বলেন, তারা আলোচনা করতে প্রস্তুত, তবে বিএনপি আলোচনা করতে না চাইলেও তাদের পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়েছে যে, গণভোট অবশ্যই জাতীয় নির্বাচনের আগে অনুষ্ঠিত হতে হবে। অন্যথায়, জনসমাবেশে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করার জন্য সবাই প্রস্তুত। বলতে গেলে, এই ৫ দফার দাবি তারা বাস্তবায়নের জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

  • তরিক রহমানের মত: অন্তর্বর্তী সরকার কারো দলীয় স্বার্থ বাস্তবায়নের নয়

    তরিক রহমানের মত: অন্তর্বর্তী সরকার কারো দলীয় স্বার্থ বাস্তবায়নের নয়

    বিএনপি’s ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট করে বলেছেন, একটি অন্তর্বর্তী সরকার কারো দলীয় স্বার্থ বা স্বেচ্ছাচারিতা পূরণে কাজ করতে পারবেন না। তিনি মন্তব্য করেন, দেশের মুক্তি ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য এখন গুরুত্বপূর্ণ যে, নতুন সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত, জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ ও জবাবদিহিমূলক হতে হবে। এই সাদা পরিস্থিতিতে জনগণের প্রত্যাশা হলো ফ্যাসিবাদমুক্ত একটি বাংলাদেশ যারা স্বপ্ন দেখেন তাদের জন্য একমাত্র পথ হলো স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন।

    শনিবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) কনভেনশন হলে অনুষ্ঠিত হিন্দু প্রতিনিধি সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তারেক রহমান এসব কথা বলেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, দেশ অস্থিতিশীল হলে জালিম ও পলাতক শাসক গোষ্ঠীর পুনর্বাসনের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়, যা দেশের জন্য ক্ষতিকর। এজন্য তিনি অন্তর্বর্তী সরকারকে ‘গুপ্ত রাজনীতি’ সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

    তরিক রহমান ব্যাখ্যা করেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে কিছু বিরোধী মতামত বা আন্দোলন গোপনে চালিয়ে যান, যাতে শত্রু শক্তির পথ সুগম হয়। আজকের সময়েও যাতে সেই অপশক্তি আবার গণতন্ত্রের পথে বাধা সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে তিনি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, কিছু অপ্রিয় আন্দোলন বা সহিংসতা দেশের মানুষের মূল অধিকার ক্ষুণ্ণ করতে পারে, তাই এসব থেকে সজাগ থাকতে হবে।

    তারেক রহমান দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন, ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে একজনের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ অংশগ্রহণ দেশের সাধারণ মানুষের অধিকার নষ্ট করে কিছু অশুভ শক্তির উত্থান ঘটাতে পারে। এসব অপশক্তি যেন পুনরায় দেশকে অস্থিতিশীল করতে না পারে, তার জন্য জাতীয় ঐক্য বজায় রাখা জরুরি। এ ক্ষেত্রে বিএনপি ও তার সহযোগী সংগঠনগুলো একযোগে কাজ করে চলবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

    তিনি আরও বলেন, বিএনপি সবসময়ই শান্তিপ্রিয়, সহনশীল ও গণমুখী দল। দেশের ভিন্নমত বা দৃষ্টিভঙ্গি সহনশীলভাবে গ্রহণ করে দেশের সমৃদ্ধি ও মানুষের অধিকার রক্ষার আন্দোলনে তারা অবিচল। নির্বাচনে জিতলে গণতান্ত্রিক সরকারের পরিকল্পনা থাকবে, যার মধ্যে রয়েছে পাঁচ মিলিয়ন পরিবারের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ এবং তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি।

    বিশেষ করে তরুণদের জন্য তিনি বলেন, বিভিন্ন কারিগরি ট্রেনিং ও ভাষা শেখানোর ব্যবস্থা করে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে প্রস্তুত বিএনপি। এ ছাড়াও তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য আমাদের শক্তি। সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করার অঙ্গীকার তারা করেন, যেখানে সকলের অধিকারে সমান মর্যাদা থাকবে।

    তারেক রহমান শেষবিচারে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের আশ্বাস দিয়ে বলেন, তাদের দাবিগুলো ব্যতিরেকে রাখা হবে না। মতুয়া বহুজন সমাজ ঐক্য জোটের নেতারা সম্মেলনে অংশ নেন, যেখানে প্রধান অতিথি ছিলেন তারেক রহমান নিজে। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা তাদের দাবি তুলে ধরেন, যা ভবিষ্যৎ শান্তিপূর্ণ সমাধানে গুরুত্ব দেয়।

  • সালাহউদ্দিনের মন্তব্য: অন্য দল দ্বারা আহ্বান কেন, আমরা যাব

    সালাহউদ্দিনের মন্তব্য: অন্য দল দ্বারা আহ্বান কেন, আমরা যাব

    প্রধান উপদেষ্টা আহ্বান জানালে বিএনপি আলোচনা করতে রাজি আছে বলে জানিয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, আমরা মনে করেছিলাম জাতীয় ঐকমত্য কমিশন রেফারির ভূমিকা পালন করবে। অন্তর্বর্তী সরকার সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে নিজেদের দায়িত্ব পালন করবে এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মাধ্যমে পরিস্থিতি পরিচালনা করবে। কিন্তু এখন দেখছি, আপনাদের পক্ষ থেকে রেফারি হয়ে একটি গোল দিয়ে দেওয়া হয়েছে। এরপর বলছেন, রাজনৈতিক দলগুলোকে সাত দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, না হলে নিজেদের সিদ্ধান্ত নেবে।

    শনিবার (৮ নভেম্বর) রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে ছাত্রদলের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের ৫০ বছর পূর্তির আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

    সালাহউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, সরকারকে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু ভোটের জন্য সব রকম চেষ্টা করার আহ্বান জানাই। আমরা স্বেচ্ছা समर्थन দিচ্ছি, তবে সেটি সীমারেখার মধ্যে। যদি মনে করেন, অন্য রাজনৈতিক দল দিয়ে আমাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন, তাহলে প্রশ্ন হলো, তারা কারা? অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা যদি আমাদের কাউন্সিলে ডেকে নিয়ে আলোচনা করতে আহ্বান জানায়, আমরা সব সময় আলোচনায় আগ্রহী। তবে অন্য এক দলকে দিয়ে কেন আমাদের আহ্বান জানানো হচ্ছে?

    অন্তর্বর্তী সরকারের এইভাবে সময় বেধে দেওয়ার ক্ষমতা নেই বলে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, আপনারা কোনো নির্বাচিত সরকার নয়, এটাই মনে রাখা জরুরি। আপনাদের কাছে এত ক্ষমতা নেই যে, আমাদের ওপর ডিক্টেট করার অধিকার রাখেন। যদি সাত দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত না হয়, আমরা নিজেরাই সিদ্ধান্ত নেব। এত শক্তি দেখানোর জন্য আপনাদের মানা হয় না।

    জামায়াতকে লক্ষ্য করে সালাহউদ্দিন বলেন, আপনি ১৯৭১ সালের পরিণতিতে যা করেছিলেন, ১৯৪৭ সালে শুরু করেছিলেন, জাতীয় পার্টির হাত ধরে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের পাশে ছিলেন—এমন সব কর্মকাণ্ডের ফলে দেশের পরিস্থিতি কী রকম হবে? আবার যদি আওয়ামী লীগের সঙ্গে যোগ দিয়ে পুনরায় ক্ষমতা চান, তাহলে কি হবে? এরাজ্যেতো নানা অগণতান্ত্রিক শক্তি উৎসাহিত হবে। এর ফলে বাংলাদেশে অগণতান্ত্রিক কার্যকলাপ বাড়বে।

    তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি আপনি বলতে চান, আমাদের কিছু করতে হবে, ভাড়া ভাতে ছাই ছিটিয়ে দেবেন—এমন ভাবনা দেশের মানুষ আর কখনো গ্রহণ করবে না। সুযোগ এড়িয়ে যান।

    জামায়াতের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনি চাইলে ঘি খেতে পারেন। কিন্তু আমরা দেশের গণতন্ত্রের সংগ্রামে রাজপথের আন্দোলন চালিয়ে যাব, অগণতান্ত্রিক ও উত্তপ্ত পরিস্থিতি আর সৃষ্টি হতে দেব না। সরকারের উপর আল্টিমেটাম দিয়েছেন কেউ? তাহলে তারা কি এই আল্টিমেটাম দিয়েছে? সরকার তো আপনার কথামত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনকে সবসময় মেনে চলেছে। আপনারাও একই সঙ্গে সুর মিলিয়ে কথা বলছেন।

    ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির এর পরিচালনায় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক আমানুল্লাহ আমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায়সহ অন্যান্যরা।

  • দেশের সব সংকট দেশের নাটকের অংশ, মানুষ ভোট দিতে চায়: মির্জা ফখরুল

    দেশের সব সংকট দেশের নাটকের অংশ, মানুষ ভোট দিতে চায়: মির্জা ফখরুল

    বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের বর্তমান সংকটগুলো কেবল এক ধরনের নাটকের অংশ, যেখানে সাধারণ মানুষ আসলে এসবের অর্থ বোঝে না। তারা কেবল চায় ভোট দিতে, নিজেদের ভোটের মাধ্যমে পরিবর্তন আনার সুযোগ। আজ রোববার (৯ নভেম্বর) দুপুরে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার দৌলতপুর বালিকা উচ্চবিদ্যালয় মাঠে জগন্নাথপুর ইউনিয়নের বাসিন্দাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এই কথা বলেন।

    মির্জা ফখরুল ইসলাম আরও বলেন, ‘বিএনপি হলো শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের দল, এবং বেগম খালেদা জিয়ার দল। আমরা শুধু কথা বলছি না, কাজেও বিশ্বাস করি। মুনাফিকিরাই বিশ্বাস করে না।’’ তিনি উল্লেখ করেন, ‘১৯৭১ সালে পাকিস্তানিরা এদেশের কিছু মানুষ নিয়ে গণহত্যা চালিয়েছিল, যার মধ্যে ছিল বিরোধী মতাবলম্বী মানুষ। আবার এইবার শেখ হাসিনা তার প্রশাসন দিয়ে এই দেশেই গণহত্যা চালিয়েছে। স্বজনদের দখলে থাকা ন্যায্য দাবির জন্য তাদের ওপর অত্যाचार চালানো হচ্ছে।’

    মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, ‘বর্তমান সরকার নির্বাচিত নয়, তাই তারা সাধারণ মানুষের কষ্ট বোঝে না। কৃষকরা তাদের ধানের ন্যায্য মূল্য পায় না, শাকসবজির দাম ফুরিয়ে যায়। হিমাগারে আলু পড়ে রয়েছে বিক্রির অপেক্ষায়। কৃষি জন্য প্রয়োজনীয় সারও কৃষকদের পাওয়া যাচ্ছে না। যদি বিএনপি ক্ষমতায় আসে, তবে এই সমস্ত সমস্যা সমাধান হবে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় গেলে নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হবে, যার মাধ্যমে তারা ন্যায্যমূল্যে তেল, চাল, ডাল সহ অন্যান্য পরিত্যাজ্য পণ্যে পৌছে যাবে। কৃষকদের জন্যও আলাদা কৃষি কার্ড দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে তারা তাদের ন্যায্য অধিকার ফিরে পাবে।’

    মির্জা ফখরুল দাবি করেন, ‘নির্বাচনের দিন গণভোটের ব্যবস্থা থাকতে হবে, কারণ বোঝা দরকার, কিসের জন্য কি দরকার। গণভোট-সনদ উপলব্ধি বোঝে সাধারণ মানুষ না, শুধুই শিক্ষিত মানুষ। আমরা সব সংস্কারে সম্মত, তবে এমন কিছু নয় যা সংসদে পাস হতে পারে।

    তিনি শেষবারের মত বলেন, ‘দাঁড়িপাল্লা দিয়ে নির্বাচন করতে হবে। ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার মধ্যে আপনাদের বেছে নিতে হবে। এটি আমার শেষ নির্বাচন, তাই আপনাদের ধানের শীষের পক্ষেই ভোট দেয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি। আমি চাই আমাদের এই যাত্রা সফল হোক।’

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেনের সভাপতিত্বে, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, পৌর বিএনপির সভাপতি শরিফুল ইসলাম শরীফ, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদ, সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন তুহিনসহ অন্য নেতাকর্মীরা।

  • মির্জা ফখরুলের আহ্বান: হিন্দু-মুসলমান ভাই ভাই, ধানের শীষে ভোট দিন

    মির্জা ফখরুলের আহ্বান: হিন্দু-মুসলমান ভাই ভাই, ধানের শীষে ভোট দিন

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটারদের প্রতি ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘হিন্দু-মুসলমান ভাই ভাই, ধানের শীষে ভোট চাই।’ এ সময় সভায় উপস্থিত হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষও এই শ্লোগানে সাড়া দেন। শনিবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) কনভেনশন হলে অনুষ্ঠিত ‘হিন্দু প্রতিনিধি সম্মেলন-২০২৫’ অনুষ্ঠানে এই বক্তব্য দেন বিএনপি মহাসচিব। অনুষ্ঠানে তিনি মতুয়া বহুজন সমাজের কাছে থাকা বিভিন্ন দাবি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে তুলে ধরেন। এরপর বলেন, ‘এই দাবি আজই বাস্তবায়ন হবে তখনই, যখন আমাদের নেতা তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রীর পদে বসাতে পারবো। ধানের শীষে ভোট দেওয়া আপনারা কি করবেন? আমি আপনারা থেকে সেই প্রতিশ্রুতি শুনতে চাই। আপনি কি আমাকে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন যে, আপনি আমার নেতাকে প্রধানমন্ত্রী করবেন? তাহলে একসঙ্গে শ্লোগান দিই: হিন্দু-মুসলমান ভাই ভাই, ধানের শীষে ভোট চাই।’ ফখরুল আরও বলেন, আমরা এমন বাংলাদেশ গড়তে চাই যেখানে ধর্মের নামে বিভেদ থাকবে না। অতীতের দাঙ্গা-হাঙ্গামা ভুলে, সবাই একসঙ্গে থাকব, একটি অসাম্প্রদায়িক, প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক সমৃদ্ধ জাতি হিসেবে গড়ে তুলব। তিনি উল্লেখ করেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্বপ্ন দেখেছিলেন এমন বাংলাদেশ গড়ার, যেখানে সব ধর্ম ও জনগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিত। মতুয়া বহুজন সমাজের পক্ষ থেকে তুলে ধরা হয়, অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন বাস্তবায়ন, সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন, জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠন, সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা, দেবোত্তর সম্পত্তি সংরক্ষণ আইন, ট্রাস্টের বদলে হিন্দু ফাউন্ডেশন স্থাপন, মনোনয়ন ও সংসদসহ জাতীয় জীবনের সব স্তরে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের যথোপযুক্ত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার দাবি।