Blog

  • বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তি ও দেশীয় সক্ষমতা বাড়ানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

    বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তি ও দেশীয় সক্ষমতা বাড়ানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বর্জ্য অপসারণে আধুনিক পদ্ধতি গ্রহণের পাশাপাশি আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় প্রকৌশলী ও শ্রমিকদের কাজে লাগানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি ঢাকা মহানগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর ও আধুনিক করতে দুই সিটি করপোরেশনকে তৎপরতা বাড়াতে বলেছেন।

    মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।

    ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মহানগর (ঢাকা) নিয়ে অত্যন্ত সিরিয়াস। তিনি নিয়মিত জানতে চান আমরা কী কী কাজ করছি, কোথায় কাজ বাকি আছে এবং কোথায় কী করতে হবে। দুই সিটির দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার পর শহরের পরিস্থিতিতে কিছু উন্নতি দেখা গেছে, বিশেষত বর্জ্য ব্যবস্থাপনায়।’

    তিনি আরও জানান, যারা দিনরাত বর্জ্য অপসারণে কাজ করেছেন তাদের জন্য সরকার ঈদ উপহার হিসেবে বোনাস দিয়েছে। ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম কোনো সরকারপ্রধান হিসেবে এই বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দিনরাত যারা কাজ করে, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তাদের বোনাস হয়েছে’—এই কথাও জানান তিনি এবং বলেন কর্মচারীরা প্রধানমন্ত্রীকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে।

    তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী এখনও পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন। ডিএসসিসি প্রশাসক বললেন, ‘যতটুকু হয়েছে তাতে খুশি নন; আরও অনেক কাজ বাকি আছে। খাল-নর্দমা ও বর্জ্যব্যবস্থাপনাকে কীভাবে আধুনিক করা যায়—এই বিষয়গুলোতে তিনি দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।’ তিনি যোগ করেন, ভবিষ্যতে এসব ক্ষেত্রে আরও কাজ হবে।

    দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়েও প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়েছেন। ‘বহিরাগত আমদানির ওপর কেন নির্ভর করা হবে? আমাদের লোকাল ইঞ্জিনিয়ার ও স্টুডেন্টরা কি দেশেই প্রয়োজনীয় ভেহিক্যালস, ডাম্পিং ট্রাক এবং স্পেয়ার পার্টস তৈরি করতে পারবে—এ ব্যাপারে তিনি আগ্রহী। তিনি চান লোকাল অংশগ্রহণ বাড়ুক, আমদানির ওপর নির্ভরতা কমুক’—ডিএসসিসি প্রশাসক এসব বক্তব্য রাখেন।

    ঈদকেন্দ্রিক প্রস্তুতির কথা জানিয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘ঈদ নিয়ে যেসব নির্দেশনা হয়েছে, উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়ররা নিয়ে ইতোমধ্যে কয়েকটি মিটিং করা হয়েছে। যারা শহর ছেড়ে যাবে তাদের নির্বিঘ্নে যাতায়াত করার জন্য বাস টার্মিনালগুলো ও আশপাশের রাস্তা-ঘাট কিছুটা সংস্কার করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি প্রতি সপ্তাহেই জানতে চান, সেই ধারাবাহিকতায় আজ তাদের এখানে ডাকা হয়েছিল।

    মশা নিম্নে জনসাধারণের অস্বস্তি কমাতে করণীয় সম্পর্কে তিনি জানান, ‘মশা মোকাবিলায় সময় লাগে। আগের তুলনায় কিছুটা উন্নতি হয়েছে, আমরা নিয়মিত মনিটারিং করছি। উত্তর সিটির বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় তদারকির জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সংখ্যা সীমিত হওয়ায় কাজ কষ্টসাধ্য হচ্ছে; তাই ওয়ার্ড প্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে।’

    দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘মশা কেবল কীটনাশক দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনার কারণে যে খাল, নর্দমা ও ড্রেন বন্ধ হয়েছে, সেগুলো পরিষ্কার করার জন্য একটি তীব্র পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। অনেক স্থানে খালের মুখ বন্ধ হয়ে গেছে, সেগুলো খনন করা হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী বর্ষার আগেই লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে। ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন শহর হিসেবে গড়ে তোলা আমাদের দায়িত্ব—এটাই আমাদের লক্ষ্য।’

    প্রতি দিক থেকে প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)ও কাজ করছে। নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবহন ও ইলেকট্রিক থ্রি-হুইলার উন্নয়নে বুয়েটের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়েছে।

    সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পরে বুয়েট যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. এহসান সাংবাদিকদের জানান, বর্জ্য অপসারণে স্বয়ংক্রিয় (অটোমেশন) ব্যবস্থা চালুর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে পৌরসভা ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বসে পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে।

    তিনি আরও বলেন, বুয়েট উদ্ভাবিত ইলেকট্রিক থ্রি-হুইলার বাস্তবায়ন এবং দেশে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি উন্নয়নের কাজ চলছে। তবে এ বিষয়ের জন্য এখনও কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি।

  • জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান: বাংলাদেশ আধিপত্য মেনে নেবে না, জাতি অতীতের বোঝা ঝেড়ে ফেলেছে

    জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান: বাংলাদেশ আধিপত্য মেনে নেবে না, জাতি অতীতের বোঝা ঝেড়ে ফেলেছে

    সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশ আর কোনো বাহ্যিক আধিপত্য মেনে নেবে না এবং অতীতের অন্যায়-অবহেলাসহ যে বোঝা ছিল, তা জাতি ঘাড় থেকে ফেলেছে। তিনি বলেন, ‘চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা আমাদের দেশকে দখলমুক্ত করেছেন। এখন আমাদের যুবসমাজ মাথা উঁচু করে বাঁচতে চায়।’

    মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকালে মিরপুর-১৫ এর বাসিন্দাদের মাঝে চীনের সহযোগিতায় ফুডপ্যাক বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি بودند বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।

    বক্তব্যের শুরুতেই তিনি চীনা রাষ্ট্রদূতকে ধন্যবাদ জানান এবং চীনকে বাংলাদেশের অন্যতম বড় ও আন্তরিক উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে অভিহিত করেন। ১৯৭৬ সালে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক স্বীকৃতির পর থেকে চীন বিভিন্ন বড় অবকাঠামো নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে—যেমন মিরপুর ইনডোর স্টেডিয়াম ও চীন-বাংলাদেশ মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র। ডা. শফিকুর বলেন, এসব স্থাপনা চীনের অকৃত্রিম বন্ধুত্বের চিহ্ন, কিন্তু গত কোনো ফ্যাসিস্ট শাসনামলে এসব নিদর্শন হাইজ্যাকও হয়েছিল।

    চীনকে প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘‘চীন এমন একটি দেশ যারা বাংলাদেশীর অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেনি। অন্যদিকে অনেকে কিছু না দিয়ে সব নিয়ে যায় বা সময়ে সময়ে আবদ্ধ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে। চীন অবিচল, সত্যিকার বন্ধু হিসেবে কাজ করছে।’’

    তিনি আশা প্রকাশ করেন যে তিস্তা নদী নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ভবিষ্যতে চীন আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, ‘‘তিস্তা প্রকল্পটি উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের বেদনা; এই বেদনার অবসান আমরা চাই। অতীতে কেন এটি পারেনি, তা তো শিশুরাও বুঝে—আমরা আর সেই লেগ্যাসি বহন করতে চাই না।’’

    অনুষ্ঠানে ডা. শফিকুর রহমান আরও জানান, চীন ইতিমধ্যে বাংলাদেশে এক হাজার বেডের দুটি হাসপাতাল নির্মাণ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বিশাল হল নির্মাণের ঘোষণা ও বাজেট বরাদ্দ করেছে। তিনি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য একটি ‘পাইলট প্রজেক্ট’ শুরু করতে চীনা রাষ্ট্রদূতকে বিশেষ আহ্বান জানান।

    মিরপুরবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘‘আমি আপনাদেরই একজন—এই এলাকা আমার নিজের ঘর। সরকার বা বন্ধু রাষ্ট্র থেকে যা কিছু আসবে, তা আমানত হিসেবে আপনাদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে। এর বাইরে আমরা ব্যক্তিগতভাবে ও সংগঠনিকভাবে আপনাদের পাশে থাকার চেষ্টা করব।’’

    অনুষ্ঠানে চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন দুস্থদের হাতে সরাসরি ফুডপ্যাক তুলে দেন। অনুষ্ঠানে জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের স্থানীয় নেতারা, বিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ এবং স্বেচ্ছাসেবীরা উপস্থিত ছিলেন। শৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্বেচ্ছাসেবকরা প্রতি আসনে উপহার সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন।

  • জামায়াত ও এনসিপি নিয়ে মন্তব্য করলেন মনিরুল হক চৌধুরী

    জামায়াত ও এনসিপি নিয়ে মন্তব্য করলেন মনিরুল হক চৌধুরী

    জাতীয় সংসদের অধিবেশনে জামায়াত ও এনসিপি নিয়ে কড়া মন্তব্য করেছেন বিএনপি সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরি। রোববার রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

    মনিরুল হক বলেন, ‘‘স্বাধীনতার পরও এক মেধাবী অংশ গঠিত হয়েছিল—জাসদ। কিন্তু বাড়াবাড়ির ফলে দেশ-জাতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদেরও ক্ষতি হয়েছে। আমাদের উচিত ধৈর্য্য ও সহনশীলতা বজায় রাখা।’’

    তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকা স্মরণ করাতে বলেন, ১৯৯১ সালের সংসদে তিনি দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে তাদের সঙ্গে কাজ করেছেন। বিএনপিকে যেন এমনভাবে উপস্থাপন করা হয় না যেন এই দেশে বিগত ১৫–২০ বছর বিএনপি ছিলই না। বেগম খালেদা জিয়া অনেক আপত্তি উপেক্ষা করে জামায়াতের সাথে কাজ করেছেন; রাজনীতিকে এ পর্যায়ে নিয়ে আসার পেছনে তাঁরও কিছু অবদান আছে, এটা মনে রাখতেই হবে। ইতিহাসের বিচারে দেখুন, কোথায় গিয়ে আমরা পৌঁছেছি—এই বিবেচনাও থাকা উচিত, তিনি যোগ করেন।

    সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, কী ভাষায় কথা বলব তা নিয়েও অনিশ্চয়তা আছে—আগে যাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে কথা বলতাম, তাদের চিনতাম, কিন্তু আজকের বিরোধীদলকে তিনি সে পরিচয়ে চিনেন না। নেতা তারেক রহমানের কথাও উল্লেখ করে তিনি বলেন, নেতা বলেছিলেন ‘‘কঠিন নির্বাচন’’—সেদিন অনেকে বিষয়টি বুঝতে পারেননি, পরে নির্বাচন করার সময় তাদের কষ্ট বোঝা গেছে।

    মনিরুল হক আরও বলেন, এত সংখ্যক সদস্য নিয়ে সংসদে এলে কৃতজ্ঞতা প্রকাশের বিষয়ও রয়েছে; আলহামদুলিল্লাহ বলে ঠিক যাদের কথা বলা উচিত ছিল, তারা ছিলেন জামায়াতে ইসলামী। কিন্তু আজ আমাদের সম্পর্কে অনেক প্রশ্ন উঠছে—জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদেরকেও প্রশ্ন করতে হচ্ছে যে মুক্তিযুদ্ধ আর ২৪’র ঘটনা একই ধরনের কি না। তিনি বলেন, যদি ফ্যাসিস্ট শাসনের আমলে বিচার নামে অন্যায় ঘটিত হয়ে থাকে, সেটি আলাদা বিষয়।

    অবশেষে তিনি মহান সংসদের উদ্দেশ্যে এ প্রশ্ন রেখে জামায়াতকে একটি কথা বলেন—স্বাধীনতার পর বা এনসিপির নেতৃত্বে যারা আছেন তাদের বয়স কম হলেও তিনি তাদের শ্রদ্ধা করেন, কারণ তারা সাহসী সন্তান এবং বর্তমান যুগের দাবিকে প্রতিনিধিত্ব করছে।

  • ক্রেডিট কার্ড গাইডলাইন হালনাগাদ: ঋণসীমা বাড়লো ৪০ লাখ

    ক্রেডিট কার্ড গাইডলাইন হালনাগাদ: ঋণসীমা বাড়লো ৪০ লাখ

    বাংলাদেশ ব্যাংক ক্রেডিট কার্ড পরিচালনাকে আরও সুশৃঙ্খল, স্বচ্ছ এবং গ্রাহকবান্ধব করতে নতুন গাইডলাইন জারি করেছে। এতে কার্ডের সর্বোচ্চ ঋণসীমা বাড়ানো হয়েছে এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, গ্রাহক অধিকার সুরক্ষা ও বিরোধ নিষ্পত্তি সম্পর্কে নতুন নির্দেশনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে—রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেইন খান এ তথ্য জানান।

    দৈনন্দিন জুনজীবনে নগদ বহনের বিকল্প হিসেবে ব্যক্তি পর্যায়ে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। ব্যবহার ও সেবার পরিধি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে খাতে থাকা জটিলতা ও ঝুঁকিগুলো কমাতে এবং গ্রাহকসেবা আরও মানসম্মত করতে পূর্বের নীতিমালা হালনাগাদ করে এই পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন তৈরি করা হয়েছে।

    নতুন গাইডলাইনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে—যেমন প্রযোজ্যতা ও সংজ্ঞা, ক্রেডিট কার্ডের প্রকারভেদ, গ্রাহকের যোগ্যতার মানদণ্ড, ঋণসীমা ও সুদের হার নির্ধারণ, কার্ড ইস্যু ও বিপণন পদ্ধতি, বিলিং ও আদায় প্রক্রিয়া, গ্রাহকের তথ্যের গোপনীয়তা ও অধিকার সুরক্ষা, বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা, অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পাশাপাশি ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা অনুশীলন জোরদার এবং দায়িত্বশীল ঋণদানকে উৎসাহিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

    গাইডলাইনে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে বিতরণযোগ্য সর্বোচ্চ ঋণসীমা আগের ২৫ লাখ টাকার থেকে বাড়িয়ে এখন ৪০ লাখ টাকা করা হয়েছে। অনিরাপদ (আনসিকিউরড) ঋণের সীমাও ১০ লাখ থেকে বাড়িয়ে ২০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া গ্রাহকের অভিযোগ, অনিয়ম বা জালিয়াতি, লেনদেন পরিশোধে সমস্যা এবং বিরোধ নিষ্পত্তি সংক্রান্ত প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক আশাবাদী যে এই গাইডলাইন কার্যকর হলে ক্রেডিট কার্ড খাত আরও স্বচ্ছ ও নিরাপদ হবে এবং গ্রাহকের অধিকার সুরক্ষায় তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

  • চট্টগ্রাম-মোংলা বন্দর ও শিপিং করপোরেশনে অনিয়ম খতিয়ে দেখছে দুদক

    চট্টগ্রাম-মোংলা বন্দর ও শিপিং করপোরেশনে অনিয়ম খতিয়ে দেখছে দুদক

    দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চট্টগ্রাম বন্দর, মোংলা বন্দর ও বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতি ও নিয়োগভিত্তিক অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে। তদন্ত কাজ ত্বরান্বিত করতে সংস্থাটির উপ-পরিচালক নাজমুচ্ছায়াদাতকে প্রধান করে চারটি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়েছে।

    দুদক সূত্রে রোববার (১৫ মার্চ) জানা যায়, প্রাথমিক অনুসন্ধানে এসব সংস্থার বিভিন্ন চুক্তি, প্রকল্প এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের যাবতীয় তথ্য তলব করা হয়েছে। দায়ের হওয়া অভিযোগগুলো যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো থেকে নথিপত্র সংগ্রহসহ প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

    দুদকের প্রাথমিক তথ্যে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বর্তমান চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে অর্থসংক্রান্ত একাধিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। তথ্য অনুসারে, তিনি শিপিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক থাকাকালে ৬টি জাহাজ কেনার প্রস্তাব ছিল, যার মোট ব্যয় ধরা হয়েছিল ২,৪৮৬ কোটি টাকা; তবে বাস্তবে শেষ পর্যন্ত মাত্র ৪টি জাহাজ কেনার নথি পাওয়া গেছে। এই ভ্রান্তি বা অসম্পূর্ণ প্রকল্পের কারণে প্রায় ৪৮৬ কোটি টাকার আর্থিক অসঙ্গতি ধরা পড়েছে বলে দুদক জানিয়েছে।

    এছাড়া মোংলা বন্দরের ‘পশুর চ্যানেল সংরক্ষণ ড্রেজিং’ প্রকল্পে ১,৫৩৮ কোটি টাকার বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এই প্রকল্পসহ অন্যান্য অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখতে দুদকের অনুসন্ধানকারী দল সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসা এবং নথি-দলিল তলব করছে।

    দুদক জানিয়েছে, এখনকার করে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং অভিযোগের প্রমাণাদি পাওয়া গেলে প্রযোজ্য আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অনুসন্ধান চলছে, তাই কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি।

  • কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে প্রাণে বেঁচে গেলেন মোজতবা খামেনি

    কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে প্রাণে বেঁচে গেলেন মোজতবা খামেনি

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ দেশটির অনেকে নিহত হন—তবে সেদিন মোজতবা খামেনি ভাগ্যক্রমে বেঁচে গেছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফে প্রকাশিত প্রতিবেদন ও ফাঁস হওয়া একটি অডিও রেকর্ডিং সেই ঘটনার শ্বাসরুদ্ধকর বিবরণ তুলে ধরে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র-ইস্রায়েলের প্রথম ধাপের আঘাতের প্রধান লক্ষ্য ছিল আলি খামেনির কম্পাউন্ড—যে জায়গায় তিনি বাস করতেন ও কর্মতৎপরতা চালাতেন। একই হামলায় মোজতবা খামেনিকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। সেখানে উপস্থিত সূত্রের বরাতে টেলিগ্রাফ জানায়, স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৩২ মিনিটে ইসরাইলি “ব্লু স্প্যারো” ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতের কয়েক মুহূর্ত আগে মোজতবা কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান—একটি কাজ করার উদ্দেশ্যেই।

    ফাঁস হওয়া অডিওর কথোপকথনে আয়াতুল্লাহ খামেনির কার্যালয়ের প্রটোকল প্রধান মাজাহের হোসেইনি ঘটনার বর্ণনা দেন। অডিওর শ্রোতাদের মধ্যে ছিলেন জ্যেষ্ঠ ধর্মীয় নেতারা ও বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর (আইআরজিসি) কমান্ডাররা। সেই কথায় জানা যায়, মোজতবা ঠিক কক্ষ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে তাঁর বাড়িতে ‘ব্লু স্প্যারো’ ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে।

    মাজাহের হোসেইনি জানান, মোজতবা সরাসরি পুরোপুরি বিস্ফোরণের লক্ষ্যবস্তু না হলেও পায়ে আঘাত পান। হামলায় তার স্ত্রী ও সন্তানেরা তাৎক্ষণিকভাবে নিহত হন। এতে তার শ্যালকের দেহও বহুগুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়—অডিওর বর্ণনায় শ্যালকের মাথা দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল।

    আরও বলা হয়, খামেনির সামরিক ব্যুরোর একজন শীর্ষ কর্মকর্তা মোহাম্মদ সিরাজি ওই আঘাতে ‘ছিন্নভিন্ন’ অবস্থায় নিহত হন; পরে তার মরদেহ শনাক্তের সময় শুধু কয়েক কিলোগ্রাম মাংস অবশিষ্ট ছিল বলে উল্লেখ করা হয়।

    টেলিগ্রাফ তাদের কাছে পাওয়া ওই অডিও ফাইল নিরপেক্ষভাবে যাচাই করার দাবি করেছে। তবে ইরানের এক অনামিক কর্মকর্তা বলেন, সামরিক কমান্ডারদের কাছে মোজতবার বর্তমান অবস্থার বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য নেই—সে কেনাকাটা মোজতবা সুস্থ আছেন না, সে বিষয়ে স্পষ্টতা এখনো মেলে নি।

    এই ঘটনার পরও বিবਾਦিত অবস্থানগুলি প্রকাশ পেয়েছে—১৪ মার্চ এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তখনকার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘‘তিনি (মোজতবা) আদৌ বেঁচে আছেন কি না, আমি জানি না। এখন পর্যন্ত কেউ তার উপস্থিতির প্রমাণ দিতে পারেনি।’’ তিনি বলেন, ‘‘আমি শুনেছি যে তিনি বেঁচে নেই। আর যদি বেঁচে থাকেন, তবে দেশের স্বার্থে তার উচিত আত্মসমর্পণ করা।’ তবে ট্রাম্প খামেনির মৃত্যুর খবরে ‘গুজব’ বলেও উল্লেখ করেন।

    তার বিপরীতে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-আরাবি আলজাদিদকে বলেছেন, নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি ‘সুস্থ আছেন’ এবং ‘পরিস্থিতির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে’ রয়েছেন।

    সংক্ষেপে, দ্য টেলিগ্রাফের ফাঁস হওয়া অডিও সেই হামলার সময়ের নাটকীয় মুহূর্তগুলো উন্মোচন করেছে—কিন্তু মোজতবা খামেনির বাস্তব সময়ের অবস্থান ও সুস্থতা সম্পর্কে বিপরীত বিবৃতি ও অনিশ্চয়তা এখনো থেকে যায়।

  • ফুজাইরাহের কাছে তেল ট্যাঙ্কারে অজানা হামলা

    ফুজাইরাহের কাছে তেল ট্যাঙ্কারে অজানা হামলা

    সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রধান সমুদ্রবন্দর ফুজাইরাহের কাছাকাছি মঙ্গলবার ভোরে একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলার ঘটনা ঘটে বলে ব্রিটিশ সংস্থা ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশন (ইউকেএমটো) জানিয়েছে। হামলাটি ওমান উপসাগরের সেই এলাকায় ঘটেছে যেখানে জাহাজটি নোঙ্গর করা ছিল; ফুজাইরাহ থেকে ঘটনাস্থলটি প্রায় ২৩ নটিক্যাল মাইল দূরে।

    ইউকেএমটো বলেছে, ট্যাঙ্কারটি কোনো বিস্ফোরক ধরণের আঘাত পেয়েছে। হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রটি কী—ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র নাকি অন্য কিছু—এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে তাদের বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে যে জাহাজটিতে তীব্র ক্ষতি হয়নি এবং কোনো হতাহত বা নিহতের খবরও পাওয়া যায়নি।

    ফুজাইরাহ হার্মুজ প্রণালীর কাছাকাছি অবস্থিত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্বালানী রফতানিতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান-সম্পর্কিত উত্তেজনার পর থেকেই বন্দরটির কার্যক্রমে সীমাবদ্ধতা এসেছে। ইউকেএমটো এই ঘটনার বিষয়ে আরও তদন্ত চালাচ্ছে এবং পরবর্তী বিবরণ প্রকাশ করার সম্ভাবনা রয়েছে।

  • খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে ঈদের জামাত সকাল সাড়ে সাতটায়

    খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে ঈদের জামাত সকাল সাড়ে সাতটায়

    খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে পবিত্র ঈদুল ফিতরের জামাত সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার প্রস্তুতি নিতে মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বেলা ১১টায় প্রশাসনিক ভবনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম।

    সভায় জানানো হয়েছে, এবার দ্বিতীয়বারের মতো কেন্দ্রীয় মাঠেই ঈদুল ফিতরের জামাত হবে, যা সকাল সাড়ে সাতটায় (৭টা ৩০ মিনিট) শুরু হবে। আগেরবারের চেয়ে এবারের আয়োজন আরও সুব্যবস্থা ও নিরাপত্তা জোরদার রেখে করা হবে। বিশেষভাবে মহিলাদের জন্য পৃথক নামাজের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে সভায় নিশ্চিত করা হয়।

    অতিরিক্ত নিরাপত্তা ও জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ করতে সভায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো, রাত্রিকালীন পাহারা জোরদার, সামনের এলাকা ও প্রবেশপথে নজরদারি বৃদ্ধি এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেয়ার উত্তেজনামূলক পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। বক্তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বহিরাগত বিপুল সংখ্যক মুসল্লির সমাগমকে মাথায় রেখে সার্বিক প্রস্তুতি নিতে হবে।

    সভায় উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ হারুনর রশীদ খান, ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ নূরুন্নবী, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. এস এম মাহবুবুর রহমান, ছাত্র বিষয়ক পরিচালক প্রফেসর ড. মোঃ নাজমুস সাদাত, মসজিদ কমিটির সভাপতি ও খান বাহাদুর আহছানউল্লাহ হলের প্রভোস্ট প্রফেসর শরিফ মোহাম্মদ খান। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) জাকিয়া সুলতানা, হরিণটানা থানার ওসি (তদন্ত) টিপু সুলতান, সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক মিহির কান্তি পাল, সিটিএসবির পুলিশ পরিদর্শক মল্লিক মোঃ ইমাম ও তাজউদ্দীন আহমেদ তাজ।

    আরও উপস্থিত ছিলেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) শেখ শারাফাত আলী, জনসংযোগ ও প্রকাশনা বিভাগের পরিচালক (রুটিন দায়িত্ব) মিজানুর রহমান খান, প্রশাসন শাখা প্রধান মোঃ জাবেদ এলাহী, এস্টেট শাখা প্রধান এস এম মোহাম্মদ আলী, রেজিস্ট্রারের সচিব শেখ আফসার উদ্দিন, কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম মুফতি আব্দুল কুদ্দুসসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।

    সভায় গ্রহণ করা পরিকল্পনা ও নিরাপত্তা পরিপত্র বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রদায়ের কাছে সময়মতো পরিবেশিত হবে। প্রশাসন সবাইকে অনুরোধ করেছে—নির্ধারিত সময়ে মসজিদের নির্দেশনা মেনে চলা, ব্যক্তিগত মূল্যবান সামগ্রী সচেতনভাবে রাখা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা নেওয়ার জন্য।

  • তারেক রহমান ধাপে ধাপে কৃষক কার্ড, হেলথ কার্ডসহ নির্বাচন-পূর্ব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবেন

    তারেক রহমান ধাপে ধাপে কৃষক কার্ড, হেলথ কার্ডসহ নির্বাচন-পূর্ব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবেন

    খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণের প্রত্যাশা পূরণে নিরলসভাবে কাজ করছেন। ইতোমধ্যে তিনি ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করেছেন এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সংশ্লিষ্টদের ভাতার অন্তর্ভুক্ত করেছেন। ধাপে ধাপে তিনি কৃষক কার্ড, হেলথ কার্ডসহ অন্যান্য নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করবেন বলেও জানান তিনি।

    প্রধানমন্ত্রী কেসিসি’র দায়িত্ব দেওয়ার সময় মেট্রোপলিটন শহরগুলোকে পরিচ্ছন্ন, ধূলা ও মশামুক্ত নিরাপদ শহর হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন বলে জানান নজরুল ইসলাম মঞ্জু। মাঠ পর্যায়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও দৃঢ়ভাবে চালাতে এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের উদ্দীপনা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী এ অনুদান প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছেন।

    কেসিসি প্রশাসক গতকাল সোমবার বিকেলে নগর ভবনের শহীদ আলতাফ মিলনায়তনে 열린 অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে ১২টি সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ঈদ উপহার হিসেবে অনুদান প্রদান করেছেন।

    বক্তব্যে প্রশাসক মঞ্জু বলেন, মহানগরীর বিদ্যমান সমস্যাসমূহ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট তুলে ধরা হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী ‘‘নতুন বাংলাদেশ’’ গড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দুর্নীতি ও অপচয়মুক্ত সিটি কর্পোরেশন গড়ে তুললে খুলনা মহানগরীকে নতুনভাবে সাজিয়ে তোলা সম্ভব হবে—এই কাজে সকলের সহযোগিতা অনিবার্য। অনুষ্ঠানে উপস্থিত পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন।

    অনুষ্ঠানে প্রশাসক পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের হাতে অনুদান তুলে দেন। মোট ৭২৮ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর মধ্যে প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা করে বিতরণ করে মোট ৩৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা দেওয়া হয়।

    প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সচিব আরিফুল ইসলাম, প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরা, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট কোহিনুর জাহান, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ শরীফ শাম্মীউল ইসলাম, কনজারভেন্সি অফিসার প্রকৌশলী মোঃ আনিসুর রহমান, মোঃ অহিদুজ্জামান খান, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোল্লা মারুফ রশীদসহ ওয়ার্ডভিত্তিক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মীবৃন্দ। অনুষ্ঠানে কর্মীদের অবদানের প্রশংসা করা হয় এবং ভবিষ্যতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন শহর গড়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

  • নেইমার ছাড়া ২৬ সদস্যের ব্রাজিল স্কোয়াড ঘোষণা, ফিরলেন এন্ড্রিক

    নেইমার ছাড়া ২৬ সদস্যের ব্রাজিল স্কোয়াড ঘোষণা, ফিরলেন এন্ড্রিক

    ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে সময় সীমিত—এই অবস্থায় দুইটি মার্চের প্রীতি ম্যাচকে সামনে রেখে ২৬ সদস্যের স্কোয়াড ঘোষণা করেছে ব্রাজিল। কোচ কার্লো আনচেলত্তি মার্চের ফিফা উইন্ডোতে অনুষ্ঠিত প্রীতি ম্যাচ দুটির পর চূড়ান্ত দল ঘোষণা করবেন। সেই প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আসন্ন ম্যাচে নেইমারকে বাইরে রেখে দল ঘোষণা করা হয়েছে।

    আনচেলত্তির ঘোষিত স্কোয়াডে জায়গা পেয়েছেন এন্ড্রিক—আনচেলত্তির অধীনে তাকে ফের দলে ডাকা হল। এ ছাড়াও প্রথমবারি সুযোগ পেয়েছেন লিও পেরেইরা, গ্যাব্রিয়েল সারা, ইগর থিয়াগো এবং রায়ান। দলে ফেরত এসেছেন ইবানেজ ও দানিলো থেকেও।

    ব্রাজিল আগামী ২৬ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে এবং পাঁচ দিন পর (৩১ মার্চ) অরল্যান্ডোতে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে আরেকটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে। ছাড়াছাড়ি সামনের গুলো ম্যাচে দল চূড়ান্ত করার শেষ পরীক্ষা ধরা হবে।

    আনচেলত্তি জানিয়েছেন, এই স্কোয়াড গঠন করতে অনেক খেলোয়াড়ের চোট-ব্যাথার বিষয় বিবেচনা করা হয়েছে। ‘যারা শতভাগ ফিট, তাদের নিয়েই এই দল করা হয়েছে’, বলেছেন তিনি। এডার মিলিটাও, ব্রুনো গুইমারেস ও এস্তেভাও চোটজনিত কারণে দলে নেই; রদ্রিগো (রদ্রিগো গোয়েস) সম্প্রতি বিশ্বকাপ খেলার আশা বন্ধ হওয়ায় তিনি भी দলের বাইরে রয়েছেন। কোচ প্রত্যাবর্তন অপেক্ষায় তাদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন।

    নেইমার কেন চূড়ান্ত স্কোয়াডে নেই—এ বিষয়ে আনচেলত্তি সরাসরি ব্যাখ্যা দেননি। মিরাসালের বিপক্ষে নেইমার মাঠে ছিলেন না এবং চোটজনিত অস্বস্তির জন্য তাকে না ডাকার কারণও বলা হয়েছে; তবে আনচেলত্তি জানিয়েছেন, সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় মাত্রা ও ম্যাচের তীব্রতা বিবেচনা করেছেন।

    আনচেলত্তি নির্দিষ্টভাবে বলেছেন, নতুন খেলোয়াড় ডাকা হলে তাঁরা কেমনভাবে জাতীয় দলের পরিবেশে মানিয়ে নেয়, সেটাও দেখা হয়। প্রত্যেক খেলোয়াড় ও বাইরে থাকা ব্যক্তিদের সম্পর্কে দলের স্টাফদের নির্ভরযোগ্য মূল্যায়ন রয়েছে।

    বছরের এই প্রথমবারের স্কোয়াডে থাকা নামগুলি নিচে দেওয়া হলো:

    গোলরক্ষক: অ্যালিসন, বেন্তো, এডারসন

    ডিফেন্ডার: অ্যালেক্স সান্দ্রো, ব্রেমার, দানিলো, ডগলাস সান্তোস, গ্যাব্রিয়েল মাগালায়েস, ইবানেজ, লিও পেরেইরা, মার্কসিনিয়োস, ওয়েসলি

    মিডফিল্ডার: অ্যান্দ্রে সান্তোস, ক্যাসেমিরো, দানিলো, ফ্যাবিনিয়ো, গ্যাব্রিয়েল সারা

    ফরোয়ার্ড: এন্ড্রিক, গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লি, ইগর থিয়াগো, জোয়াও পেদ্রো, লুইজ হেনরিক, ম্যাথিউস কুনহা, রাফিনহা, রায়ান, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র

    ম্যাচগুলো বিশ্বকাপের আগে দলের ছাঁটাই ও খেলোয়াড় যাচাই-বাছাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক থাকবে। আনচেলত্তি ও তার স্টাফদের সামনে এখন মূল চ্যালেঞ্জ—ফিট থাকা এবং মানানসই প্রতিপক্ষের বিপরীতে দলের সেরা চেহারা খুঁজে বের করা।