বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে লিস্ট এ ক্রিকেটে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ডটি ছিল হাবিবুর রহমান সোহানের নামে। সেই রেকর্ড এবার টি-টোয়েন্টি সংস্করণেও ভাঙলেন এই দ্রুতগতির ব্যাটার। কাতারে চলমান এশিয়া কাপ রাইজিং স্টারস টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ এ দলের প্রথম মাঠের ম্যাচে হংকং, চায়না বিরোধী খেলায় মাত্র ১৪ বলে ফিফটি করে তিনি দুর্দান্ত সুবিশাল ইনিংসের সূচনা করেন। এরপর দ্রুতগতিতে ঝড় তুলেন, শেষ পর্যন্ত ৩৫ বলে সমাপ্ত করেন তিন অঙ্কের মারকুটে ইনিংস। এটি বাংলাদেশের ব্যাটারদের মধ্যে সবচেয়ে কম বলের মধ্যে প্রথম তিন অংকের মাইলফলক, যা স্বার্থকভাবে রেকর্ডের মধ্যে স্থান করে নিয়েছে।
Blog
-

আসিফের মন্তব্যের জন্য বাফুফের কাছে বিসিবির দুঃখ প্রকাশ
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক ও সংগীত শিল্পী আসিফ আকবরের এক সংজ্ঞায়িত মন্তব্যের কারণে সম্প্রতি দেশের ক্রীড়াঙ্গণে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনায় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়াল বিসিবির সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের কাছে رسمیভাবে একটি চিঠি পাঠিয়ে এই বিষয়ের ব্যাখ্যা চাইেন।
শনিবার (১৫ নভেম্বর) বিসিবি তাদের আনুষ্ঠানিক উত্তর দিয়েছে। সেই চিঠিতে, যা আমিনুল ইসলাম বুলবুলের স্বাক্ষরে লেখা, আসিফের বক্তব্যের বিশদ ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ করা হয়, আসিফ আকবর বিসিবির সদস্য নয়, বরং জেলা প্রতিনিধিরূপে ওই মন্তব্য করেছিলেন।
চিঠিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ক্রিকেট কনফারেন্সে উল্লিখিত বক্তব্যটি আসিফ জেলা প্রতিনিধির দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দিয়েছেন, বিসিবির 공식 অবস্থান নয়। বিসিবি সভাপতি মনে করেন, আসিফ তার জেলার ক্রিকেট কার্যক্রম ও মাঠ ব্যবহারে দীর্ঘদিনের হতাশা থেকে ব্যক্তিগত ক্ষোভে এই মন্তব্যটি করেন।
বিসিবি সভাপতি স্পষ্ট করেন, এই বক্তব্যটি আসিফের ব্যক্তিগত মতামত, যা কখনোই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের রায় বা নীতির প্রতিফলন নয়। তিনি আরও দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, যদি এই বক্তব্যের কারণে ফুটবলপ্রেমী বা সাধারণ দর্শকদের মধ্যে কোনো বিভ্রান্তি বা আঘাত সৃষ্টি হয়ে থাকে, তাহলে তিনি আন্তরিকভাবে ক্ষমা চান।
বিসিবি সভাপতি যদিও দুঃখ প্রকাশ করেছেন, তবুও আসিফ আকবরের ব্যক্তিগত মন্তব্যের কারণে ফুটবল সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্ষোভ থাকায়, রাতে একটি সভা অনুষ্ঠিত হবে সোনালী অতীত ক্লাবে যেখানে তার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
চিঠির শেষে, বিসিবি সভাপতি দেশের ক্রীড়াঙ্গনে ফুটবলের অবদান স্বীকার করেন এবং ফুটবলের প্রতি তার অঙ্গীকার প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, খেলাধুলো প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, পাশাপাশি এটি ঐক্য ও সৌহার্দ্যের প্রতীক। সে কারণেই, বিসিবি সব ক্রীড়া সংস্থার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করে।
উল্লেখ্য, ৯ নভেম্বর বাংলাদেশ ক্রিকেট কনফারেন্সে আসিফ আকবর মন্তব্য করেছিলেন যে, ফুটবলের আধিপত্যের ফলে দেশের স্টেডিয়ামে ক্রিকেটের পরিস্থিতি খারাপ হয়ে যাচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন যে, ফুটবলাররা উইকেট ভেঙে ফেলছেন এবং ক্রিকেটকে আভিজাত্যের খেলা হিসেবে আখ্যা দিয়ে মাঠের অধিকার নিয়ে মারামারির জন্য প্রস্তুত থাকছেন। তাঁর এই অসাধু মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে। সাবেক ফুটবলার থেকে শুরু করে সাধারণ ফুটবলপ্রেমীরাও এই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানান।
-

৯৩ রানে অলআউট ভারত, তিন দিনে ইডেনে লজ্জাজনক হার
ইডেন গার্ডেনসে যেন এক উলটপুরাণের মতোই পুরো ম্যাচের পরিণতি হয়ে গেল মাত্র তিন দিনে। স্বাভাবিক লক্ষ্য ছিল ১২৪ রান, তবে ভারতের ব্যাটসম্যানদের জন্য ছিল এক দুঃস্বপ্নের সমাপ্তি। দক্ষিণ আফ্রিকা, যারা একাদশের স্পিন-বোলিং আঘাতে ভারতের চেহারা বদলে দিল, মাত্র ৯৩ রানে অলআউট হয়ে গেল। এই জয়ে তারা দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল।
-

‘আমি স্বৈরাচারী নই’— জ্যোতির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের জবাব দিলেন অধিনায়ক
বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি নানা বিতর্কের মধ্যেও নিজের অবস্থান পরিষ্কার করলেন। বেশ কিছু দিন ধরে তাঁর বিরুদ্ধে জুনিয়র ক্রিকেটারদের মারধর ও সিনিয়ররা ধ্রুবকভাবে দলের ক্যারিয়ার নষ্টের অপবাদ দেওয়ার মতো অভিযোগ উঠেছে। এসব গুঞ্জন ভয়ঙ্করভাবে বেড়ে যাওয়ার সাথে সাথে দলের নেতৃত্ব নিয়েও সমালোচনা জোরদার হয়।
সম্প্রতি শিনবোন ইনজুরির রিহ্যাব নিচ্ছেন জ্যোতি। তখন তিনি বিকেএসপি-তে বসে ক্রিকবাজের সাথে এক খোলামেলা সাক্ষাৎকার দেন, যেখানে তিনি নিজের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট করেন। ড্রেসিং রুমে ‘স্বৈরশাসন’ চালানোর অভিযোগ থেকে শুরু করে সিনিয়রদের সাথে সম্পর্ক, এমনকি ভারতোর বিপক্ষে সিরিজের আগের দলের পরিবেশ—সবকিছু তিনি পরিষ্কার ভাষায় ব্যাখ্যা করেন। নিচে মূল কথোপকথনের শেয়ার করা হলো:
জ্যোতি বলেন, আমি কোনোভাবেই স্বৈরাচারী নয়। ড্রেসিং রুমে সবাই নিজের স্থান আছে, আমি নিজেও। অধিনায়ক হিসেবে সম্মান পাই, তবে সুযোগ-সুবিধা সবার জন্য সমান। কাদের এ কথা বলছেন বুঝতে পারছি, কারা এর পেছনে রয়েছে তা স্পষ্ট। দীর্ঘ দিন ধরে নেতৃত্ব দিচ্ছি, সবাই আমার পছন্দ করবে এটা ভুল; তবে আমি জানি আমি দলের জন্য কি করছি।
জাহানারা রুমানা-প্রেরণার অভিযোগ প্রসঙ্গে জ্যোতি জানান, এই নিয়ে বেশ সময় থেকে শুনছি। আমি কি নির্বাচক? আমি ২০১৫ সাল থেকে জাতীয় দলে খেলছি। কখনো ড্রেসিং রুমে ‘সিন্ডিকেট’ দেখিনি। ২০২১ সালে অধিনায়ক হওয়ার পর ২০২৩ অস্ট্রেলিয়া সিরিজ পর্যন্ত আমি নির্বাচনী অধিবেশনে ছিলাম না। আমি এবং অন্যান্য খেলোয়াড়রা জানতাম না কে দল থেকে খেলবে, বোর্ডই ঘোষণা করত। সত্য জানার জন্য বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।
নিউজিল্যান্ডে হাসান তিলকরত্নের কোচ থাকাকালীন এক ম্যাচে রুমানা আপু, সালমা আপু এবং হয়তো জাহানারা আপু খেলেননি। সালমা আপু একবার বলেছিলেন, “তুমি আমাদের বসিয়ে দিয়েছ।” তখন আমি বলেছিলাম, “আমি একদমই এখনই জানছি টিমের একাদশ।” این কথোপকথনের মধ্যে ছিলো হাসি-ঠাট্টা ও অনেক কিছু।
অভিযোগের বিষয়ে জ্যোতি সাফ জানান, জুনিয়র ক্রিকেটারদের গালিগালাজ বা চড় মারার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। এটি কেবল একজনের অভিযোগ, যা তিনি নিজে ব্যক্ত করেছেন। ম্যাচের উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে সবাই ‘কেন ধরলে না?’ বা ‘ভালো কর’ ইত্যাদি বলে থাকেন, তবে আমি কাউকে এমনকিছু গালি দিই না। আমার মানসিক সমস্যা বা মানসিক রোগ আছে বলে কোনও ভিত্তি নেই।
জাহানারা আলমের অভিযোগ প্রসঙ্গে জ্যোতি উল্লেখ করেন, তিনি শুনেছেন যে অস্ট্রেলিয়ায় কেউ ফোন করে বলেছে, “জোতি আপু মারছে”—এমন ভিত্তিহীন তথ্য। কোচ বা ম্যানেজমেন্টকে জানালে সত্যটুকু জানা যাবে। প্রমাণের অভাবে এসব অভিযোগ বিশ্বাসযোগ্য নয়।
শ্রীলঙ্কায় মারুফার সাথে যা ঘটেছে, সেটাকেও তিনি উল্টোভাবে দেখানোর দোহাই দেন। বলেন, মারুফা দলের অন্যতম সেরা ফিল্ডার, কিন্তু পাকিস্তান সিরিজে বেশ কিছু ভুলে হাই ক্যাচে সমস্যায় পড়েন। অতিরিক্ত অনুশীলনে বারবার বলেছিলেন, “বাবা, ক্যাচিং ঠিক কর।” ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সে ক্যাচ ফেললে হাতেও ব্যথা হয়ে যায়। মারুফার ডান হাত তার বোলিং হাত, তাই হাতের চোট এ ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি করেছিল। ম্যাচ শেষে তিনি মারুফাকে জড়িয়ে ধরেন, কারণ সে কষ্ট পেয়েছিল। ক্যাচে ভুলের জন্য সে কাঁদছিল, তবে আমি তার সাহস বাড়াতে ও সমর্থন দিতে গিয়েছিলাম।
-

তামিম ইকবাল বিপিএল থেকে নিজের নাম প্রত্যাহার করলেন
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সর্বশেষ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিলেও, শেষ মুহূর্তে সরকারী হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে তামিম ইকবাল উপস্থিত থাকেননি। এই ঘটনা পরবর্তী সময়ে দেশের এই তারকা ওপেনারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, বিশেষ করে বিপিএলে তার অংশগ্রহণ নিয়ে বিভিন্ন জল্পনা সৃষ্টি হয়েছিল। বর্তমানে সব ধরণের ধোঁয়াশা কাটিয়ে, নিজেই নিশ্চিত করেছেন যে তিনি এবার পিএিল খেলবেন না। ক্রিকেটভিত্তিক জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম ক্রিকবাজের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তামিম জানান, তিনি এই মৌসুমে বিপিএলে অংশ নিচ্ছেন না এবং ড্রাফট থেকে নিজের নাম প্রত্যাহারের জন্য অনুরোধ করেছেন। ২০১২ সালে বিপিএল শুরু হওয়ার পর থেকে সব বছরেই মাঠে দেখা গেছে তাকে। সর্বশেষ দুটি মৌসুমে ফরচুন বরিশালের অধিনায়ক হিসেবে দলের সাথে ফাইনালে যাওয়া ও শিরোপা জেতার কৃতিত্ব ছিল তার। তবে এবারের পরিস্থিতি অনেকটাই বদলে গেছে। বোর্ডের নির্বাচনের উত্তাপ, ফিসনেট ইস্যু এবং বরিশাল ফ্র্যাঞ্চাইজির অবর্তমানে তার বিপিএলে অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। অবশেষে, তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, এই আসরে তাকে দেখা যাবে না।
-

মালয়েশিয়ায় কারখানায় অভিযান: ১২৩ বিদেশি, আরও ৪৫ বাংলাদেশি সহ আটক
অবৈধ অভিবাসন বিরোধী কঠোর পদক্ষেপের অংশ হিসেবে মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্য পুলিশ এবং ইমিগ্রেশন বিভাগ পাশাপাশি অভিযান চালিয়ে ১২৩ জন বিভিন্ন দেশের অবৈধ অভিবাসীকে আটক করেছে। সোমবার (১৬ নভেম্বর) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন জোহর রাজ্য ইমিগ্রেশন ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তারা।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ১৪ নভেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে শুরু হওয়া এই সাঁড়াশি অভিযানে জোহর অভিবাসন বিভাগ ও সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ সংস্থার সদস্যরা অংশ নেন। অভিযানে দেখা গেছে, একাধিক প্লাস্টিক কারখানায় অসংখ্য বিদেশি শ্রমিককে বৈধ পাস ছাড়াই নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
আটকদের মধ্যে বাংলাদেশের ৪৫ জন, মিয়ানমারের ৭১ জন, ভারতের ৪ জন, নেপালের ২ জন এবং পাকিস্তানের ১ জন নাগরিক রয়েছেন। কর্মকর্তারা বলছেন, এ সকল ব্যক্তির বিরুদ্ধে অনুমতি না নিয়ে কাজ করা, বৈধ কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হওয়া, এবং অভিবাসন আইনের বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘনের মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।
এছাড়াও, এই অবৈধ নিয়োগে জড়িত থাকার অভিযোগে ওই কারখানার একজন স্থানীয় মানবসম্পদ ব্যবস্থাপককেও আটক করা হয়েছে। অভিযান চলাকালে কারখানার ভেতরে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। কিছু শ্রমিক পালানোর চেষ্টা করে, আবার কেউ লুকিয়ে থাকার চেষ্টা করে। তবে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে ইমিগ্রেশন ও নিয়ন্ত্রণে থাকা সদস্যরা পালানোর সব পথ বন্ধ করে দেয়।
জোহর রাজ্য ইমিগ্রেশন বিভাগ সতর্ক করে জানিয়েছেন, অবৈধ বিদেশি কর্মীদের আড়াল বা সুরক্ষা দেয়ার সব কৌশলই সরকারী রাডার থেকে छাপা যাবে না। আটককৃত সকল সন্দেহভাজনকে আরও তদন্তের জন্য স্থানীয় সেতিয়া ট্রপিকা ইমিগ্রেশন ডিপোতে রাখা হয়েছে।
জোহর বিভাগ বারবার জানিয়েছে, কর্মীদের অপব্যবহার রোধ এবং অভিবাসন আইন মান্যতা নিশ্চিত করার জন্য এই অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং আরো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
-

মেক্সিকোতে জেন-জিরা আন্দোলনে উত্তাল পরিবেশ
মাদকবিরোধী অভিযানে এক মেয়রের হত্যার ঘটনায় দেশটির জেন-জি আন্দোলন উত্তাল হয়ে উঠেছে মেক্সিকোতেই। শনিবার (১৫ নভেম্বর) সহিংসতায় রূপ নেয়া এই আন্দোলনে কমপক্ষে ১৫০ জন আহত হয়েছেন, যার বেশিরভাগই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য বলে জানা গেছে, প্রতিবেদনে দ্য গার্ডিয়ান উল্লেখ করেছে।
প্রথমে এই আন্দোলন শুরু হয়েছিল জেন-জিরা নামে এক গ্রুপের প্রতিবাদ হিসেবে, তবে ধীরে ধীরে সব বয়সী মানুষ এই আন্দোলনে যোগ দিতে শুরু করে। বিরোধী দলও এই আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়েছে।
রাজধানী মেক্সিকো সিটির নিরাপত্তা প্রধান পাবলো ভাজকুয়েজ বলেছেন, প্রথমে এই প্রতিবাদ শান্তিপূর্ণ ছিল, কিন্তু কিছু মুখোশধারী দল সহিংসতা শুরু করে। বর্তমানে পুলিশ ও পুলিশের বিরুদ্ধে হামলার ঘটনায় ১০০ জনের বেশি আহত হয়েছে, এর মধ্যে ৪০ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। অন্যদিকে, পুলিশের অভিযানে আহত হয়েছেন ২০ বিক্ষোভকারী।
প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শেইনবাউম এই বছরের অক্টোবর থেকে ক্ষমতায় আছেন এবং এরই মধ্যে তার জনপ্রিয়তা कायम রয়েছে। তবে বেশ কয়েকটি উচ্চপ্রোফাইল হত্যা ঘটনাসহ কিছু বিতর্কের কারণে তিনি সমালোচনার মুখে পড়েছেন। বিশেষ করে, মিশোয়াকান রাজ্যের উরুয়াপান শহরের মেয়র মাঞ্জো রদ্রিগেজের হত্যার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। উনি শহরে মাদক চোরাচালান গ্যাংদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছিলেন, তাই তাদের হাতে নিহত হন।
এ দিকে, রোসা মারিয়া আভিলা নামে এক ৬৫ বছর বয়সী বিক্ষোভকারী বলেছেন, এই মেয়র ছিলেন সত্যিকারে একজন সাহসী নেতা, যিনি অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে পাহাড়ি এলাকাগুলোতে পাঠাচ্ছিলেন। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে তার দৃঢ় সংকল্প প্রমাণিত। অন্য একজন বিক্ষোভকারী আন্দ্রেস মাসা (২৯) বলেছেন, আমরা আরও নিরাপত্তা চাই।
বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্টের বাসভবন ন্যাশনাল প্যালেসের সামনে জড়ো হন। সেখানে তারা ভবনটির চারপাশে থাকা লোহার বেড়াগুলো ভেঙে ফেলে। এরপর পুরো পরিস্থিতি সহিংসতায় রূপ নেয়। তখন পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও অগ্নিনির্বাপক ব্যবহার করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে।
-

গাজা গণহত্যায় ৬৩টি দেশ জড়িত, সরকারগুলোর বিরুদ্ধে আইনি সতর্কতা
অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে গাজা গণহত্যার জন্য বিশ্ববাসীর চোখে এক নতুন জরুরি সত্য উদ্ঘাটন করেছেন জাতিসংঘের বিশেষ দূত ফ্রান্সেসকা আলবানিজ। তিনি যুক্তরাজ্য, ইতালি, জার্মানি সহ ইউরোপের প্রধান শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন যে, তারা গাজায় চলমান গণহত্যা ও ব্যাপক নৃশংসতার পেছনে জড়িত। আলবানিজ সতর্ক করে বলেছেন, এসব দেশের সরকার বা কর্মকর্তারা যদি এই গণহত্যার সাথে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে জড়িত থাকেন, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় কঠোর পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। এই উদ্বেগ প্রকাশের সময় তিনি বিশেষভাবে বলেন, এই পরিস্থিতিতে কোন অবস্থাতেই চুপ থাকাটা সম্ভব নয়। তাঁর মতে, গাজায় চলমান মানবাধিকার লংঘন ও গণহত্যার জন্য ৬৩টি রাষ্ট্র দায়ী, যারা ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘনে সহায়তা করছে। তিনি নিজের সর্বশেষ প্রতিবেদন “গাজা গণহত্যা: একটি যৌথ অপরাধ” এর ব্যাপক বিশ্লেষণ তুলে ধরে বলেছেন, যদিও গাজা ও পশ্চিম তীরে গণহত্যা ও নৃশংসতার প্রমাণ স্পষ্ট, ইউরোপের ক্ষমতাধর রাষ্ট্রগুলো ইসরায়েলকে কূটনৈতিক, সামরিক ও রাজনৈতিকভাবে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। আলবানিজ এও বলেন, ব্রিটিশ সরকারের শ্রোতাদের সামান্য কিছু ভূমিকা রয়েছে, যারা ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে সোচ্চার বলে পরিচিত, কিন্তু বাস্তবে তাদের এই অবস্থান গণহত্যা বন্ধে বা প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা নেয়নি। তিনি বিশেষ করে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমারকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, গাজার জনগণের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের যুদ্ধের সমর্থনে ব্রিটিশ সরকারের জড়িত থাকার সত্যতা স্বীকার করতে হবে। আলবানিজ দৃঢ়ভাবে বলেন, ব্রিটিশ সরকারের এই সমর্থন গাজার মানুষকে আরও ঝুঁকিতে ফেলছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, ইউরোপের সবচেয়ে শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলো এখনো ইসরায়েলের কাছে নানা প্রকার আবরণ বা সমর্থন দিচ্ছে, যা গণহত্যা ঠেকাতে এক বড় ধরনের অন্তরায়। বিশেষ করে জার্মানি ও ইতালির ভূমিকা নিয়ে তিনি দ.Crossত্য দিয়েছেন, এজন্য তারা হয়তো geçmişের ভুলের পুনরাবৃত্তি করছে। আলবানিজ বলেন, “গণহত্যা প্রতিরোধে এই দুই দেশের দায়িত্ব ব্যাপক। বিশেষ করে জার্মানির ইতিহাসের কারণে তাদের আরো বেশি দায়বদ্ধতা রয়েছে। তারা আরও একবার ইতিহাসের ভয়ঙ্কর অধ্যায়ের দিকে ফিরে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।” মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন গাজায় মানবাধিকার ও গণহত্যা সংক্রান্ত তদন্তের জন্য আলবানিজের ওপর জুলাই মাসে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে তিনি এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ এবং তাঁর সম্পদ ব্যবস্থায় বাধার মুখে। ২৮ অক্টোবর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সদর দপ্তরে সরাসরি যোগ দিতে পারছিলেন না, তবে তিনি কেপটাউন থেকে ভার্চুয়ালি বক্তব্য প্রদান করেন। আলবানিজ বলেন, “এই নিষেধাজ্ঞা এবং সীমাবদ্ধতা সত্যিই দুঃখজনক। একজন জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞ হিসেবে তার আন্তর্জাতিক উপদেষ্টা ও প্রতিবেদন প্রকাশের কাজ অচল করে দেওয়া হয়েছে।” তাঁর বিরুদ্ধে মার্কিন সরকারের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে অন্যান্য জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে থাকা তাদের কূটনৈতিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ নিয়ে আন্তর্জাতিক আদালতে মোকদ্দমা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ফিলিস্তিন ও আফগানিস্তানের নৃশংসতা তদন্তের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রধান প্রসিকিউটর ও তার ডেপুটির ওপরে নিষেধাজ্ঞা। আলবানিজ এই সিদ্ধান্তকে ‘মাফিয়া-ধাঁচের’ অপপ্রচারে বলে সমালোচনা করেছেন, এবং বলেছেন, এই নিষেধাজ্ঞাগুলো আইসিসির তদন্ত ও বিচার কার্যক্রমের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। তিনি আরও জানিয়েছেন, “তারা তদন্ত চালিয়ে যেতে, গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করতে এবং আন্তর্জাতিক বিচার ব্যবস্থাকে কার্যকর করতে পারবেন; এই ব্যবস্থা প্রতিরোধের আশঙ্কাও রয়েছে। তবে, আমাদের এটুকু জানা দরকার যে, এই বিষয়ে আমাদের অনেক অনেক কাজ ও ত্যাগের প্রয়োজন রয়েছে। এই দুর্দশার অবসান ঘটানোর জন্য, আমাদের দৃঢ় প্রতিশ্রুতির মধ্যে দিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।” আন্তর্জতিক পরিস্থিতি কতটা সংকটাপন্ন, তা স্পষ্ট করে দিতে আলবানিজ আরও বলেন, এই ধরনের পদক্ষেপ ও নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে প্রধান বাধা। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বিশ্ব সম্প্রদায়কে একযোগে এগিয়ে আসতে হবে, যাতে গণহত্যা ও মানবাধিকার লংঘন রোধ সম্ভব হয়।
-

মদিনা যাওয়ার পথে দুর্যোগে ৪২ ভারতীয় মুসল্লি নিহত
সৌদি আরবে মক্কা থেকে মদিনা যাওয়ার পথে একটি ডিজেল ট্যাংকারের সাথে একটি যাত্রীবাহী বাসের ভয়াবহ সংঘর্ষে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে ঘটনাস্থলেই অন্তত ৪২ জন ভারতীয় ওমরাহযাত্রী নিহত হয়েছেন। তাদের সবাই দক্ষিণ ভারতের তেলেঙ্গানার বাসিন্দা। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছেন। সৌদি সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় নিহত ৪২ জনের মধ্যে ২০ জন নারী ও ১১ জন শিশু।
উপলব্ধ সংবাদ অনুযায়ী, এই দুর্ঘটনা রোববার স্থানীয় সময় রাত ১টা ৩০ মিনিটের দিকে মক্কা-মদিনা রুটের মুহরাস বা মুফরিহাত এলাকায় ঘটে। মুহরাস থেকে মদিনার দূরত্ত্ব প্রায় ১৬০ কিলোমিটার। অভিযুক্ত বাসের অধিকাংশ যাত্রী তখন ঘুমাচ্ছিলেন বলে জানা যায়।
তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেভান্থ রেড্ডি এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, “মক্কা-মদীনা উপত্যকায় এই সড়ক দুর্ঘটনায় তেলেঙ্গানার ৪২ জন যাত্রী নিহতের ঘটনায় আমি গভীর শোকাহত। আমি রাজ্যপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছি যেন তারা নিহতের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করে পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে। পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সৌদি দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে, আমরা সৌদিতে যে কোনো সহায়তা পাঠাতে প্রস্তুত।”
এদিকে, হায়দরাবাদের এমপি আসাদউদ্দিন ওয়াইসি এএনআই সংবাদমাধ্যমকে জানান, “ডিজেল ট্যাংকারের সঙ্গে সংঘর্ষের ফলে বাসে আগুন ধরে যায়। আমি সৌদি আরবের ভারতীয় দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন আবু মতিন জর্জের সাথে কথা বলেছি। তিনি আমাকে আশ্বস্ত করেছেন যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। নিহত ও জখম যাত্রীদের নাম-পরিচয় জানার জন্য আমরা হায়দরাবাদের দুটি ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গেও যোগাযোগ করেছি। মরদেহ ফিরিয়ে আনা ও আহতদের চিকিৎসার জন্য আমরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানিয়েছি।”
-

ইসরায়েলি বাহিনী চালিয়েছে শান্তিরক্ষীদের ওপর গুলি
লেবাননে নিযুক্ত জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীর ওপর গুলি চালিয়েছে দখলদার ইসরায়েলি সৈন্যরা। রোববার এক বিবৃতিতে শান্তিরক্ষীরা জানায়, ভারী মেশিনগানের গুলিটি তাদের বেশ কাছ থেকে, মাত্র ৫ মিটার দূরে আঘাত হেনেছে। আল জানিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, দখলদার বাহিনী এক বছর ধরে চলমান যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে প্রায় প্রতিদিনই লেবাননে আক্রমণ চালাচ্ছে। ইউনিফিলের সূত্রে জানানো হয়, লেবাননের ভূখণ্ডে ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠিত অবস্থানের কাছ থেকে মেরকাভা ট্যাঙ্ক দিয়ে শান্তিরক্ষীদের ওপর গুলি ছোড়া হয়। ভারী মেশিনগানের গুলি তাদের খুব কাছ থেকে আঘাত হানে, যার দূরত্ব মাত্র ৫.৫ গজের মতো। ইউএনফিল উল্লেখ করে, ওই ট্যাংকটি ইসরায়েলি অবস্থানের ভেতরে চলে যাওয়ার আধা ঘণ্টা পরে শান্তিরক্ষীরা নিরাপদে চলে যেতে সক্ষম হয়। তবে ইসরায়েল দাবি করেছে, তাদের সৈন্যরা শান্তিরক্ষীদের টহলদলকে সন্দেহভাজন মনে করে গুলি চালিয়েছে। অন্যদিকে, লেবাননের সেনাবাহিনী এক পৃথক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা নিশ্চিত করতে চান যে, ইসরায়েলি বাহিনী তাদের চলমান লঙ্ঘন বন্ধ করার জন্য আন্তর্জাতিক সমন্বয়কালে উদ্যোগ নেয়। এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে তারা, কারণ এসব কর্মকাণ্ড উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলছে। গত সেপ্টেম্বরেও ইউনিফিল জানিয়েছিল, ইসরায়েলি ড্রোনগুলো দক্ষিণ লেবাননের শান্তিরক্ষীদের কাছে চারটি গ্রেনেড ফেলে; যার মধ্যে একটি এর কাছাকাছি অবস্থান সম্পন্ন একটি জাতিসংঘের কর্মী ও যানবাহনের কাছে পড়েছিল। ইউনিফিলের দাবি, এই গুলিবর্ষণগুলো জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাব ১৭০১ এর গুরুতর লঙ্ঘন। বিবৃতিতে তারা আবারও ইসরায়েলি বাহিনীকে শান্তিরক্ষীদের ওপর বা কাছাকাছি যেকোনো আক্রমণমূলক আচরণ ও হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানায়। উল্লেখ্য, লেবাননের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক ইসরায়েলি আক্রমণে হাজারো মানুষ নিহত হয়েছে, এর বেশিরভাগই বেসামরিক নাগরিক। এছাড়া, একাধিক লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে, যারা নিজেদের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে সংকটে পড়েছে।
