Blog

  • নিলামে বিক্রি হয়নি, সাবেক এমপিদের ৩১ বিলাসবহুল গাড়ি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে হস্তান্তর

    নিলামে বিক্রি হয়নি, সাবেক এমপিদের ৩১ বিলাসবহুল গাড়ি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে হস্তান্তর

    বিলুপ্ত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ সদস্যদের বিদেশ থেকে আমদানি করা ৩১টি বিলাসবহুল গাড়ি এখন থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীন সরকারি যানবাহন অধিদপ্তরে হস্তান্তর করা হবে। এই নির্দেশনা দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), যা আজ বুধবার (১২ নভেম্বর) একটি বিশেষ আদেশের মাধ্যমে জানানো হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে এনবিআর জানায়, এ গাড়িগুলোর শুল্কমুক্ত সুবিধা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস নির্দেশনা চায়। এর জবাবে জানা যায়, বিলুপ্ত সংসদ সদস্যদের ওই গাড়িগুলো শুল্কমুক্ত সুবিধায় খালাস হয় না এবং আমদানিকারকদেরকে স্বাভাবিক শুল্ক-কর পরিশোধ করে গাড়ি খালাস করতে হবে। গত বছর ৮ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম কাস্টমসকে এমন নির্দেশনা দেয় এনবিআর।

    শুল্ক-কর বাবদ মোট ২৬৯ কোটি ৬১ লাখ ৮৯ হাজার ৬০০ টাকা পরিশোধ করেছে গাড়িগুলোর আমদানিকারী। এই উচ্চ মূল্যের গাড়িগুলোর একক শুল্ক-কর সর্বোচ্চ ৯ কোটি ৪৪ লাখ ৮৩ হাজার ৩০০ টাকা, এবং সর্বনিম্ন ৮ কোটি ৬২ লাখ ৬৭ হাজার ৪০০ টাকা।

    তবে সব শুল্ক-কর পরিশোধ সত্ত্বেও, গাড়িগুলোর আমদানিকারকরা এগুলো খালাস করেননি। তাই আইন অনুযায়ী, কাস্টমস আইন, ২০২৩ এর ধারা ৯৪(৩) অনুসারে, গাড়িগুলোর নিলাম ঘোষণা করা হয়। কিন্তু নিলামের সময় কোনো ক্রেতা তাদের যৌক্তিক মূল্য প্রস্তাব না করায় গাড়িগুলো বিক্রি হয়নি। পরবর্তীতে বিষয়টি জনস্বার্থ বিবেচনায় আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় আলোচনা হয় এবং সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, এই অতি মূল্যবান গাড়িগুলোর যথাযথ ব্যবহারের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে হস্তান্তর করা হবে।

    এক্ষেত্রে, ভবিষ্যতে আমদানিকারকরা সব শুল্ক-কর পরিশোধের মাধ্যমে আইনানুগভাবে গাড়িগুলো খালাস করতে পারলে, চট্টগ্রাম কাস্টমস তাদের নির্ধারিত মূল্য থেকে শুল্কায়ন করে গাড়িগুলো তাদের হস্তান্তর করবে। এরপর গাড়িগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী সরকারি যানবাহন বিভাগে ব্যবহারের জন্য সরবরাহ করা হবে।

  • সোনার দাম ভরিতে কমলো ৫৪৪৭ টাকা

    সোনার দাম ভরিতে কমলো ৫৪৪৭ টাকা

    দেশের বাজারে কয়েক দফা মূল্যবৃদ্ধির পর হঠাৎ করে সোনার দাম কমলো। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সোমবার (১৫ নভেম্বর) রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, এখন থেকে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ভরিতে ৫ হাজার ৪৪৭ টাকা কমে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৮ হাজার ২৭২ টাকা। এর আগে এই দাম ছিল ২ লাখ ১৩ হাজার ৭১৯ টাকা। প্রস্তুতকারক ও বিক্রেতাদের জন্য এই তথ্য কার্যকর হবে আগামীকাল রোববার থেকে।

    বর্তমানে স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা ভালো মানের সোনার মূল্য কমেছে। ফলে সামগ্রিক বাজার পরিস্থিতির ভিত্তিতে নতুন দাম ঘোষণা করা হয়েছে।

    নতুন দাম অনুযায়ী, সবচেয়ে মানসম্পন্ন বা ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম এখন ২ লাখ ৮ হাজার ২৭২ টাকা, ২১ ক্যারেটের জন্য ১ লাখ ৯৮ হাজার ৪০১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ১ লাখ ৭০ হাজার ৩৯৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতিতে প্রস্তুত সোনার প্রতি ভরি দাম নির্ধারিত হয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৭১৭ টাকা।

    বাজুসের তথ্যমতে, এই দামসমূহের সঙ্গে সরকারের নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুসের নির্ধারিত ৬ শতাংশ মজুরির যোগ দিতে হবে। তবে ডিজাইন এবং মানের পার্থক্য অনুযায়ী মজুরির পরিমাণে পরিবর্তন হতে পারে।

    অন্যদিকে, রুপার দামের মধ্যে কোনও পরিবর্তন হয়নি। বর্তমানে, ২২ ক্যারেটের রুপার এক ভরি বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ২৪৬ টাকায়, ২১ ক্যারেটের জন্য ৪ হাজার ৪৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ৩ হাজার ৪৭৬ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতিতে রুপার দাম রয়েছে ২ হাজার ৬০১ টাকা প্রতি ভরি।

  • বাংলাদেশের মোট ঋণ প্রথমবারের মতো ২১ লাখ কোটি টাকা ছাড়াল

    বাংলাদেশের মোট ঋণ প্রথমবারের মতো ২১ লাখ কোটি টাকা ছাড়াল

    দীর্ঘ সময় ধরে দেশের রাজস্ব আয় ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের ব্যয় বেড়ে চলায়, বাংলাদেশ সরকারের মোট ঋণের পরিমাণ প্রথমবারের মতো ২১ ট্রিলিয়ন টাকা বা ২১ লাখ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত অর্থ বিভাগের ঋণ বুলেটিনে জানানো হয়েছে, জুন মাসের শেষে এই পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২১ দশমিক ৪৪ ট্রিলিয়ন টাকা, যা এক বছরের মধ্যে ১৪ শতাংশ বৃদ্ধি। এটি মূলত দেশের অর্থনীতি বিভিন্ন দিক থেকে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে বাধ্য করছে।

    বুলেটিনে উল্লেখ করা হয়েছে, বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ বেড়ে ৯ দশমিক ৪৯ ট্রিলিয়ন টাকা হয়েছে, যা মোট ঋণের ৪৪ দশমিক ২৭ শতাংশ। গত পাঁচ বছর ধরে বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ধীরে ধীরে বাড়ছে। ২০২১ সালে এর পরিমাণ ছিল ৪ দশমিক ২০ ট্রিলিয়ন টাকা, যা মোট ঋণের প্রায় ৩৭ শতাংশ।

    অভ্যন্তরীণ ঋণও বৃদ্ধি পেয়েছে, যা গত অর্থবছরের ১০ দশমিক ৭৬ ট্রিলিয়ন টাকার থেকে বেড়ে ১১ দশমিক ৯৫ ট্রিলিয়ন টাকায় এসে দাঁড়িয়েছে। ২০২১ সালে অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণ ছিল ৭ দশমিক ২২ ট্রিলিয়ন টাকা।

    পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বৈদেশিক ঋণ দেশের অভ্যন্তরীন ঋণের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে গেছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, করোনাকালীন মহামারির পর দেশীয় ও বৈদেশিক উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যাপক ব্যয় ও সহযোগী দেশগুলো থেকে পাওয়া বাজেট সহায়তা এই ঋণবৃদ্ধির মূল কারণ। উল্লেখযোগ্য প্রকল্পের মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, ঢাকা মেট্রোরেল, মতিরবাড়ি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, এবং অন্যান্য বড় প্রকল্পগুলো রয়েছে, যার জন্য অর্থের প্রয়োজন পড়েছে।

  • ২০২৬ সালে মোট কতটি দিন ব্যাংক বন্ধ থাকবে জানা গেল

    ২০২৬ সালে মোট কতটি দিন ব্যাংক বন্ধ থাকবে জানা গেল

    আগামী বছর, অর্থাৎ ২০২৬ সালে ব্যাংকগুলোর জন্য মোট ২৮ দিন ছুটি থাকবে। বাংলাদেশ ব্যাংক এই ছুটির তালিকা বৃহস্পতিবার (১৬ নভেম্বর) প্রকাশ করেছে, যা দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের জন্য প্রযোজ্য। বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব সাইড সুপারভিশন এই তালিকা প্রকাশ করে ব্যাংক ব্যবস্থাপনা এবং প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠিয়েছে।

    নতুন এ তালিকা অনুযায়ী, ২০২৬ সালে প্রথম ব্যাংক বন্ধ থাকবে শবে-বরাতে, যার জন্য ৪ ফেব্রুয়ারি একদিন ব্যাংক বন্ধ থাকবে। এরপর ফেব্রুয়ারি মাসে ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের দিন ব্যাংক বন্ধ থাকবে। মার্চ মাসে শবে কদর উপলক্ষে ১৭ মার্চ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বন্ধ রাখবে। ঈদুল ফিতরের জন্য ১৯ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত পাঁচ দিন ব্যাংক বন্ধ থাকবে। ঈদের আগের দুই দিন, ঈদের দিন ও ঈদের পরের দুদিন ব্যাংক বন্ধ থাকবে, যাতে এই সময়ে সাপ্তাহিক ছুটির দিনও অন্তর্ভুক্ত।

    এরপর, ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালনের জন্য ব্যাংক বন্ধ থাকবে। এ ছাড়াও, চৈত্র সংক্রান্তির জন্য রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলার জন্য এক দিন বন্ধের ব্যবস্থা থাকবে ১৩ এপ্রিল। বাংলা নববর্ষের দিন, অর্থাৎ ১৪ এপ্রিল ব্যাংক বন্ধ থাকবে। মে মাসে ১ মে বঙ্গবন্ধুর স্মরণে ব্যাংক বন্ধ থাকবে। এছাড়াও, ২৬ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে ব্যাংক বন্ধ থাকবে, যেখানে দুদিন সাপ্তাহিক ছুটি অন্তর্ভুক্ত আছে।

    জুলাই মাসে আশুরার জন্য ২৬ জুন এবং ১ জুলাই ব্যাংক হলিডে থাকবে। ৫ আগস্ট গৌরবময় গণঅভ্যুত্থানের দিন ব্যাংক বন্ধ থাকবে। ২৬ আগস্ট ঈদে মিলাদুন্নবী (স.) উপলক্ষে ব্যাংক বন্ধ থাকবে। একইভাবে, ৪ সেপ্টেম্বর জন্মাষ্টমী, ২০ ও ২১ অক্টোবর দুর্গাপূজা, ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস, ২৫ ডিসেম্বর বড়দিন এবং ৩১ ডিসেম্বর ব্যাংক বন্ধের দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ৯ নভেম্বরের নির্দেশনা অনুযায়ী এই ছুটির তালিকা কার্যকর হবে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে ব্যাংকের ছুটি ছিল ২৪ দিন, ২০২৫ সালে ২৭ দিন। আর ২০২৬ সালে তা বেড়ে দাঁড়ালো মোট ২৮ দিন।

  • স্মারক স্বর্ণ ও রুপার মুদ্রার মূল্য বেড়েছে

    স্মারক স্বর্ণ ও রুপার মুদ্রার মূল্য বেড়েছে

    আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারে স্বর্ণ ও রুপার দামের ঊর্ধ্বগতিénের কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক আজ স্মারক স্বর্ণ ও রুপার মুদ্রার মূল্য পুনঃনির্ধারণ করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব কমিউনিকেশন্স অ্যান্ড পাবলিকেশন্স এ একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে নতুন মূল্য ঘোষণা করেছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, স্মারক স্বর্ণ মুদ্রার (বাক্সসহ) নতুন বিক্রয় মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৮৫ হাজার টাকা, যা আগে ছিল ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা। একইভাবে, স্মারক রুপার মুদ্রার (বাক্সসহ) নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৪ হাজার টাকা, যা আগে ছিল ৮ হাজার ৫০০ টাকা।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারের দামের পরিবর্তনের কারণে এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। নতুন মূল্য কার্যকর হবে ১৭ নভেম্বর ২০২৫ থেকে। বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের জনগণ ও গণমাধ্যমকে এই তথ্য প্রচারে বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছে।

    অপর দিকে, দেশের বাজারে প্রতি ভরি স্বর্ণের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেট স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৮ হাজার ২৭২ টাকায়, ২১ ক্যারেট ১ লাখ ৯৮ হাজার ৮০১ টাকায়, ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৭০ হাজার ৩৯৯ টাকায়। এছাড়া, সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ প্রতি ভরি বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৭১৮ টাকায়।

  • অস্ট্রেলিয়ার এমপিদের গণতন্ত্রের পক্ষে অবস্থানে তারেক রহমানের কৃতজ্ঞতা

    অস্ট্রেলিয়ার এমপিদের গণতন্ত্রের পক্ষে অবস্থানে তারেক রহমানের কৃতজ্ঞতা

    বাংলাদেশে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও সুষ্ঠু নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে অস্ট্রেলীয় সংসদ সদস্যরা স্পষ্ট ও বিবেকবান দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করায় বাংলাদেশের জন্য এই দৃষ্টান্তমূলক সমর্থনের জন্য তারেক রহমান আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি এক ফেসবুক পোস্টে বলেন, অনেক বাংলাদেশি—যার মধ্যে আমি নিজেও আছি—অস্ট্রেলিয়ার ওই সংসদ সদস্যদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছে। তাঁরা যারা আন্তর্জাতিক গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ হয়ে বাংলাদেশের মানুষজনের শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের আহ্বান জানিয়েছেন, তা সত্যিই প্রশংসার যোগ্য। তাদের এই বিবেচনাপ্রসূত বক্তব্য বাংলাদেশের গণতন্ত্রের শক্তিকে আরও দৃঢ় করে, এবং বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের অবস্থানকে স্পষ্ট করেছে।

    তারেক রহমান উল্লেখ করেন, দেশের সাধারণ নাগরিকরা অস্হিরতা, নিরাপত্তাহীনতা ও নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন, যেখানে প্রত্যেকে ভয় বা বাধা ছাড়াই মতামত প্রকাশ করতে চান। এসব উদ্বেগ মূলত তথাকথিত রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তার কারণে, যা বাংলাদেশের স্বাভাবিক উন্নয়ন ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। এমন পরিস্থিতিতে অস্ট্রেলীয় এমপিদের চরম মানবাধিকৃতমুলক ও বৈধ দিক নির্দেশনা বাংলাদেশের মানুষের জন্য অনেকটাই সহায়ক। তাঁদের এই প্রত্যয় ও বার্তা বাংলাদেশের শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনার নতুন দিশার সূচনা হতে পারে।

    তারেক রহমান বলেন, অস্ট্রেলিয়ায় থাকা বাংলাদেশি প্রবাসীরা দায়িত্বশীলতার জন্য এগুলো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরছেন। তাঁদের এই উদ্যোগ দেশ-বিদেশে বাংলাদেশের মানবাধিকার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সমাজের উন্নয়নে অমূল্য অবদান রাখছে। দেশের প্রতি তাদের এই ভালোবাসা, বিশ্বাস ও আন্তরিকতা দুই দেশের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করছে। একটি গণতান্ত্রিক, শান্তিপূর্ণ ও উন্নত ভবিষ্যতের জন্য এই বন্ধন এবং একতা অপরিহার্য।

    তিনি সংক্ষিপ্তভাবে বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশ পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একত্রে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অস্ট্রেলীয় এমপিদের জন্য আমরা আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। তাঁদের এই সমর্থন আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—গণতন্ত্রের জন্য বিশ্বব্যাপী অঙ্গীকার শুধু একটি দৃষ্টিভঙ্গি নয়, এটি একটি যৌথ দায়িত্ব। আমাদের উচিত একে অপরের পাশে থেকে শান্তি, ন্যায় ও উন্নয়নের পথে একসঙ্গে অগ্রসর হওয়া।’

  • শেখ হাসিনার রায় ঘিরে নৈরাজ্য ছড়ানোর চেষ্টায় একটি মহল: মির্জা ফখরুল

    শেখ হাসিনার রায় ঘিরে নৈরাজ্য ছড়ানোর চেষ্টায় একটি মহল: মির্জা ফখরুল

    শেখ হাসিনার রায়ের বিরুদ্ধে দেশে সৃষ্টি হয়েছে ভীতির পরিবেশ। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন, রায় ঘিরে একটি শক্তিশালী মহল নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে চাচ্ছে। রোববার (১৬ নভেম্বর) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ৪৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

    মির্জা ফখরুল তার বক্তব্যে বলেন, বর্তমান দেশের রাজনীতিতে বিভ্রান্তি তীব্র আকার ধারণ করেছে। পরিস্থিতি এখন অনেক জটিল ও সংকটময়। একটি দুষ্টচক্র বা গোষ্ঠী দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করার জন্য নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, হতাশা, বিভ্রান্তি এবং অনিশ্চয়তার মধ্যেও ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচনের সম্ভাবনা দেখা গেছে। পরিস্থিতি যদি দ্রুত না স্বাভাবিক হয়, তবে রাজনৈতিক দলগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে এবং নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করে জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতে হবে।

    মির্জা ফখরুল অভিযোগ করে বলেন, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো না, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না। একটি নির্দিষ্ট দল বা সরকার যদি কার্যকর না হয়, তবে দেশের সমস্যা সমাধান হবে না। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন, দ্রুত একটি নির্বাচিত সরকার গঠনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে।

    এছাড়া, তিনি উল্লেখ করেন, আগামীকাল সোমবার শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আদালত থেকে নামের ভিত্তিতে গণহত্যার রায়ের ঘোষণা দেওয়ার কথা রয়েছে। এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ বিরাজ করছে। বিএনপি নেতা বলেন, শেখ হাসিনার রায় ঘিরে নৈরাজ্য সৃষ্টির একটা চক্রান্ত হচ্ছে, যা রুখে দিতে দেশবাসীসহ সবাইকে এক সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

    মওলানা ভাসানীর অবদান স্মরণ করে উল্লেখ করেন, তিনি স্বপ্ন দেখেছিলেন একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গড়ার, তবে তার সেই স্বপ্ন সত্যি হয়নি। বিএনপি তার প্রতি দায়িত্বশীল এবং সম্মান প্রদর্শন করে। তিনি বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে (আরেকটি মহান নেতা) প্রিনাম করে দোয়া করতেন ভাসানী। তাছাড়া, মশিউর রহমান জাদু মিয়াকে জিয়াউর রহমানের সঙ্গে কাজ করার জন্য উৎসাহিত করেছিলেন।

    অতীতের এক উল্লেখযোগ্য ঘটনায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায়ে এখনো দেরি হচ্ছিল। আগামী সোমবার (১৭ নভেম্বর) রাজ্য বিচারিক আদেশ কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদার নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-১ এই রায় ঘোষণা করতে নির্ধারিত করেছে। অন্যান্য বিচারকরা হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো.Mohitulul Hk Enam Chowdhury.

    শেখ হাসিনার মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় সরাসরি সম্প্রচার করা হবে বাংলাদেশ টেলিভিশনের মাধ্যমে। পাশাপাশি, ঢাকা শহরে কয়েকটি বড় বড় স্থানে বড় স্ক্রিনে এই রায় প্রচার করা হবে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে। এছাড়া, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ফেসবুক পেজেও এই রায় দেখানো হবে।

  • রাজপথের কর্মসূচি চলবে যতক্ষণ না পার পাওয়া যাবে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড: মিয়া গোলাম পরওয়ার

    রাজপথের কর্মসূচি চলবে যতক্ষণ না পার পাওয়া যাবে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড: মিয়া গোলাম পরওয়ার

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেছেন যে, সরকারের তিন উপদেষ্টা নির্বাচন ও গণভোট প্রক্রিয়ায় নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ন করছেন। এই সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর ভূমিকার কারণে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত হচ্ছে না বলে মনে করছে আটটি দল। এই কারণেই তারা ঘোষণা দিয়েছেন—প্রতিশ্রুত লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড পাওয়া না পর্যন্ত রাজপথের কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সব কিছু ফরমালি বলা সম্ভব নয়। প্রয়োজন হলে সময়মতো ওই তিন উপদেষ্টার নামও প্রকাশ করবেন। আমাদের কাছে তাদের বিরুদ্ধে তথ্য–প্রমাণ রয়েছে।

    রোববার ১৬ নভেম্বর রাজধানীর মগবাজারে আল ফালাহ মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

    তিনি সতর্ক করে বলেছেন, সরকার এখনই সজাগ না হলে নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হবে। দুর্বার প্রশাসনিক থাকার স্বরূপ এবং তিন উপদেষ্টার প্রভাব–প্রতিপত্তির কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।

    তিনি আরো বলেন, আট দলীয় জোটের মতো, এই অবস্থায় নির্বাচন অবাধ–সুষ্ঠু হবে না—এর ফলে জনগণের মধ্যে যে সন্দেহ সৃষ্টি হচ্ছে, এর দায় সরকারকে নিতে হবে।

    গোলাম পরওয়ার স্পষ্ট ভাষায় বললেন, নির্বাচন যাতে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়, সেটি নিশ্চিত করতেই আমরা মাঠে আছি। তবে যতক্ষণ পর্যন্ত লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি না হয়, আমাদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

    তিনি আরও জানিয়ে দেন, আমাদের মূল দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— তিনটি এখনো অপূর্ণ, যার মধ্যে হচ্ছে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড সৃষ্টি, ফ্যাসিবাদী দোষীদের বিচার, এবং প্রশাসনে দলীয় পক্ষপাত দূর করা। এইসব বিষয়ের উপর ভিত্তি করে আট দলীয় জোটের স্টিয়ারিং কমিটি পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণ করে ঘোষণা দেবে।

    নেতারা মনে করেন, এই আন্দোলন নির্বাচনকে বিঘ্নিত করবে না বরং নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করার পথে সহায়তা করবে।

    অপরদিকে, নির্বাচন নিয়ে থাকা অভিযোগের মধ্যেই দেশের গণভোট বিষয়েও তারা নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে বলেছেন। এমনকি, সংবাদ সম্মেলনে তারা জুলাই সনদের আইনগত ভিত্তি এবং মৌলিক সংস্কার বাস্তবায়নের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, কমিশনের মূল সংস্কারগুলো নিয়ে আমরা শুরু থেকেই সমর্থন দিয়ে আসছি। এগুলোর প্রয়োজনীয়তা সাধারণ ভোটারদের কাছে সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করতে হবে।

    তার দাবি, প্রচারপত্র, জাতীয় প্রচারমাধ্যম ও মুক্ত কমিউনিকেশনের মাধ্যমে সরকারের এবং নির্বাচন কমিশনের স্পষ্ট জাননো উচিত—কেন এই সংস্কারগুলো জরুরি। না হলে জনগণের বড় একটি অংশ বিষয়টি বোঝার সুযোগ পান না।

  • ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ: বিএনপি

    ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ: বিএনপি

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে ১৭ নভেম্বর (সোমবার) দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাম্প্রতিক রায়ের উপর বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। পক্ষ থেকে একটি প্রস্তাব সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়, যেখানে উল্লেখ করা হয় যে, দীর্ঘ ষোলো বছর ধরে চলা ফ্যাসিবিদ্বেষী রাজনৈতিক আন্দোলন এবং এই বছর ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ অবশেষে ফ্যাসিস্ট শাসন থেকে মুক্ত হয়েছে। সভায় বলা হয়, এই সময়ের মধ্যে বিরোধী দলীয় নেতা-কর্মী, সাধারণ জনগণ গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, মামলার নামে নিপীড়নসহ বিভিন্ন দুঃসহ অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছে। এই দীর্ঘ সংগ্রামের মাধ্যমে, ছাত্র-জনতা, শ্রমিকসহ সব শ্রেণির মানুষের আত্মদান, আহত হওয়া ও স্থায়ী ক্ষত-বিক্ষত হওয়ার পরই এই পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে। বিএনপি সংক্ষেপে জানায়, দেশবাসী ও আন্তর্জাতিক মহলের প্রত্যাশা ছিল—স্বৈরশাসন চলাকালীন সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ ও হত্যাকাণ্ডের বিচার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায়, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রধান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার ঘনিষ্ঠ দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে যে রায় ঘোষণা হয়েছে, তাকে দলটি ‘আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে সম্পন্ন বিচার’ হিসেবে বিশ্লেষণ করে। রায় অনুযায়ী, শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামালকে সর্বোচ্চ শাস্তি এবং পুলিশে সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনকে সহযোগিতার জন্য পাঁচ বছর কারাদণ্ড দেওয়াকে বিএনপি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার এক স্বাভাবিক এবং সুবিচারমূলক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছে। সভায় আরও বলা হয়, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য বিএনপি জনগণের সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছে এবং অন্যান্য মামলায় অভিযুক্তদের সুবিচার পাওয়ার দাবি তুলছে। পাশাপাশি তারা মনে করে যে, দীর্ঘদিন ধরে গুম, খুন ও রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের শিকার পরিবারের ক্ষত কিছুটা হলেও প্রশমিত হবে, এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের আত্মা শান্তি পাবে।

  • হাসিনার বিচার স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিক মানের: গোলাম পরওয়ার

    হাসিনার বিচার স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিক মানের: গোলাম পরওয়ার

    মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনার হত্যার রায় নিয়ে জামায়াতের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার দৃঢ়ভাবে দাবি করেছেন, এই বিচার সম্পূর্ণ ও স্বচ্ছভাবে হয়েছে। তিনি বলেন, এই রায়ের ব্যাপারে কারো আপত্তি বা প্রশ্নের কিছু নেই, কারণ এটি অনুসন্ধান ও বিচার প্রক্রিয়া অনেকটাই স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখেছে।

    সোমবার রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন, যেখানে রায় বিবেচনার পর তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। গোলাম পরওয়ার মন্তব্য করেন, ট্রাইব্যুনালের রায় অন্তত জনসম্মতিতে কিছুটা আশার বার্তা দিয়েছে। তিনি বলেন, দীর্ঘ বিচারকালীন সময়ে বিচারকরা যে রায় দিয়েছেন, তাতে স্পষ্ট হয়েছে অপরাধীদের নির্বিচারে নিষ্ঠুরতা, ঘৃণা ও প্রহসনমূলক অপরাধের বিষয়টি। আদালত প্রমাণ হিসেবে অডিও-ভিডিও, ফোনালাপের তথ্য ও অন্যান্য প্রমাণাদি ট্রাইব্যুনাল সামনে আনতে সক্ষম হয়েছে, যা শুনে সবাই বিস্মিত হয়েছেন।

    তিনি আরও বললেন, মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াতের নেতাদের বিচার নিয়ে আগে অনেক প্রশ্ন ওঠে দুনিয়ার বিভিন্ন দেশেও। তিনি অভিযোগ করেন, সেইসব বিচারগুলো সত্যিকারের স্বচ্ছ বা আন্তর্জাতিক মানের ছিল না। সেগুলোর ক্ষেত্রে বিশেষভাবে বাজি ধরা হয় যে, সাজানো, সাক্ষী ও ডকুমেন্টেশন সবই ভুয়া ও কৃত্রিম। এমনকি ব্রিটিশ আদালতেও এই বিচারকে ‘জেনোসাইড অফ জাস্টিস’ বলে আখ্যায়িত করা হয়।

    সরকারি এই বিচার প্রক্রিয়ায় গণমাধ্যমের ভাষ্য অনুযায়ী, কোট-আনকোট করে সাক্ষ্যপ্রমাণ ও সাক্ষীদের হস্তান্তর, সাক্ষীদের মামলা থেকে তুলে নেওয়া এবং বিদেশ থেকে লিখিত রায় প্রেরণ—এসব নানা অপ্রমাণিত পদ্ধতি ব্যবহার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

    অতএব, আজকের এই রায়ের মাধ্যমে যে বিচার হয়েছে, সেটি একান্তভাবে ন্যায়সঙ্গত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হওয়া উচিত বলে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, যারা নিরীহ মানুষকে হত্যা, জোরপূর্বক নিপীড়নের শিকার করেছেন—যেমন, আয়নাঘর, পিলখানা, শাপলা চত্বরসহ বিভিন্ন জায়গায়—তাদের জন্য আরও বেশি বিচারের প্রয়োজন। এখানে একটাই রায় পেয়েছি, যা সবাইকে বিচারপ্রার্থী করে তুলছে।

    সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, এহসানুল মাহবুব জুবায়ের ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।