Blog

  • জামায়াতে সরকার গিলে কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণা: রফিকুল ইসলাম

    জামায়াতে সরকার গিলে কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণা: রফিকুল ইসলাম

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী মহাসচিব রফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, যদি জামায়াত ক্ষমতায় আসে, তাহলে কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণা করা হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এ বিষয়ে দেশের কোনও দ্বিমত নেই এবং মুসলিম বিশ্বের মধ্যে এ সিদ্ধান্ত সবাই সম্মত।

    শনিবার (১৫ নভেম্বর) রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত খতমে নবুওয়ত মহাসম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন। রফিকুল ইসলাম খান বলেন, আজকের এই সমাবেশে শুধু বাংলাদেশের মুসল্লিরা নয়, গোটা মুসলিম বিশ্ব থেকে প্রতিনিধিরা উপস্থিত আছেন। সবাই কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণা করার পক্ষে মত দিচ্ছেন।

    তিনি আরও বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বহু হাদিসে ঘোষণা করেছেন যে, তিনি একমাত্র শেষ নবী, তার পরে আর কোনো নবী আসবেন না। এই আস্থা এবং বিশ্বাস ইসলামি উম্মাহর অটুট অংশ। যদি বাংলাদেশের মানুষ আমাদের ভোটে রাষ্ট্র ক্ষমতা লাভ করে, তবে ইনশাআল্লাহ, কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণা করা হবে।

    এ মহাসম্মেলনে বিভিন্ন দেশের প্রখ্যাত আলেমরা যোগ দিয়েছেন, এর মধ্যে সৌদি আরব, ভারত ও পাকিস্তানের আলেমরা রয়েছেন। এটি প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খতমে নবুওয়ত মহাসম্মেলন হচ্ছে।সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহামুর্তি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম, জামায়াতের সহকারী মহাসচিব মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, হেফাজত ইসলামের আমির মাওলানা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আবদুল মালেকসহ দেশের শীর্ষ আলেম ও রাজনীতিবিদরা।

    আGastধ বিদেশি অতিথিরা মধ্যে রয়েছেন— জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম পাকিস্তানের সভাপতি মাওলানা ফজলুর রহমান, জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের (ভারত) সভাপতি মাওলানা সাইয়্যিদ মাহমুদ মাদানি, বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া পাকিস্তানের মহাসচিব মাওলানা হানিফ জালন্দরি, ইন্টাৰন্যাশনাল খতমে নবুওয়ত মুভমেন্টের ওয়ার্ল্ড নায়েবে আমির শায়খ আব্দুর রউফ মক্কি, পাকিস্তানের ইউসুফ বিন্নুরী টাউন মাদ্রাসার নায়েবে মুহতামিম ড. আহমাদ ইউসুফ বিন্নুরী, পাকিস্তানের মাওলানা ইলিয়াছ গুম্মান, মিসরের আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শায়খ মুসআব নাবীল ইব্রাহিম।

    মহাসম্মেলনের সভাপতিত্ব করেছেন সম্মিলিত খতমে নবুয়ত পরিষদ এর আহ্বায়ক ও খতমে নবুয়ত সংরক্ষণ কমিটি বাংলাদেশের আমির পীর মাওলানা আবদুল হামিদ।

  • জনগণ সহজে ভোট দেবে না: মির্জা ফখরুল জামায়াতকে সতর্ক

    জনগণ সহজে ভোট দেবে না: মির্জা ফখরুল জামায়াতকে সতর্ক

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্পষ্ট ভাষায় বলেন, এই দেশের মানুষ ধর্মপ্রিয়, ধর্মের প্রতি উৎসাহী। তারা আল্লাহর নবীকে ভালোবাসে, বিশ্বাস করে, কিন্তু ধর্মান্ধ বা সাম্প্রদায়িক নয়। তিনি বলেন, গত নির্বাচনের হিসেব করে দেখেছেন, জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে ভোটের পরিমান মাত্র পাঁচ-ছয় শতাংশ। রাতারাতি তারা ৫১ শতাংশ ভোট পাবেন, এ ধরনের কল্পনা একেবারেই অযৌক্তিক। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ সহজে আপনারা কোনোভাবেই ভোট দেবে না, কারণ তারা আপনার প্রতি বিশ্বাস করেনা। শনিবার (১৫ নভেম্বর) বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত এক গণসমাবেশে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল। তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান আন্দোলনে মুসলমানরা অংশ নিয়েছিল নিজেদের স্বার্থ রক্ষার জন্য। অধিকাংশ মানুষ মুসলিম বলে তাদের সংগঠন জামায়াতও এই আন্দোলনে অংশ নেয়। তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময়ও জামায়াতের নেতারা পাকিস্তানের সঙ্গে হাত মিলিয়ে গণহত্যায় যোগ দিয়েছিল। তিনি বলেন, আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা, এই দেশের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করে এসেছি, তাই বুঝি এই বিষয়গুলো আমি স্পষ্ট বলতে পারি। আজকের সোশ্যাল মিডিয়ায় অযৌক্তিক কথা বলেও বাংলাদেশের শেকড় ও ঐতিহ্যকে ভাঙা যাবে না। মির্জা ফখরুল আরো জানান, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণায় বলেছেন, এই নির্বাচন ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, যত দেরি হচ্ছে, দেশের অবস্থা তত খারাপ হচ্ছে; জনগণের সমর্থন ছাড়া কোনও সরকার সফলতা অর্জন করতে পারে না। জামায়াতের উদ্দেশে তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, পরিষ্কার করে জানিয়ে দেয়, এই নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তুত হয়েছে বিএনপি। কেন মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন? বড় বড় বিলবোর্ড ও পোস্টারে অন্য দলের তুলনায় বেশি দেখতে পাচ্ছেন, অথচ তা বিশ্বাস করা হয় না। ভোট ছাড়াই তাদের অস্তিত্ব সংকটে পড়তে হবে, নির্বাচন হলে তারা পরাস্ত হবে বলেই চায় না। বিএনপি মহাসচিব উল্লেখ করেন, যতক্ষণ না পানির ন্যায্য হিস্যা পাচ্ছেন, ততদিন আন্দোলন চলবে। যদি ক্ষমতায় আসে, তাহলে গঙ্গা ব্যারাজ করে শুষ্ক মৌসুমে কৃষকদের ফসল রক্ষা করবে বিএনপি। তিনি আরও বলেন, ভারতের গোপনীয়ভাবে ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের জন্য পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, যার ফলে পদ্মা ও অন্যান্য নদীর পানি সংরক্ষণে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। এতে লক্ষ লক্ষ মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়ছে। বিএনপি ক্ষমতায় এলে তারা এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন।

  • বাংলাদেশে গণতন্ত্রের পক্ষে অস্ট্রেলিয়ার এমপিদের অবস্থানে তারেক রহমানের কৃতজ্ঞতা

    বাংলাদেশে গণতন্ত্রের পক্ষে অস্ট্রেলিয়ার এমপিদের অবস্থানে তারেক রহমানের কৃতজ্ঞতা

    বাংলাদেশের গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও সুষ্ঠু নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পক্ষে অস্ট্রেলিয়ার সংসদ সদস্যদের স্পষ্ট ও বিবেকপ্রসূত অবস্থান প্রকাশের জন্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। শনিবার রাতে এক ফেসবুক পোস্টে তিনি এই অনুভূতি ব্যক্ত করেন।

    তারেক রহমান বলেন, অনেক বাংলাদেশি—যাঁরা তাদের মধ্যে আছেন—অস্ট্রেলিয়ার সংসদ সদস্যদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছেন, কারণ তারা বাংলাদেশের গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং নির্বাচনপ্রক্রিয়ার বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন। তাদের এই বিবেকবান বক্তব্য আমাদের গভীর প্রত্যয় ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতিফলন, এবং বাংলাদেশের মানুষ যাতে নিরাপদে ও ন্যায্যভাবে তাদের মতামত প্রকাশ করতে পারে, সে বিষয়ে তাদের আন্তরিক দায়িত্ববোধের প্রকাশ।

    তিনি আরও জানান, বাংলাদেশজুড়ে অনেক নাগরিক উদ্বিগ্ন, কারণ তারা এমন একটি পরিস্থিতির প্রহরায় রয়েছেন যেখানে নির্বাচন স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং নিরাপদ হবে। তারা আশা করেন যে, নির্বাচনকালে ভয় বা বাধা ছাড়াই মানুষ তাদের মতামত প্রকাশ করতে পারবে। এই উদ্বেগ সাধারণ জনগণের কাছ থেকে এসেছে, যারা শান্তিপূর্ণ, ন্যায্য ও বিশ্বাসযোগ্য এক নির্বাচনের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার চাচ্ছেন।

    তারেক রহমান বলেন, এই সময়ে অস্ট্রেলীয় সংসদ সদস্যদের নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং রাজনৈতিক অধিকার রক্ষা করার জন্য যে আহ্বান জানিয়েছে তা বাংলাদেশের জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে গভীরভাবে সংগতিপূর্ণ। এই বার্তা সেই সত্যকেই স্বীকৃতি দেয়, যা দেশের বহু মানুষ কয়েক মাস ধরে উচ্চারিত করে আসছেন—গণতন্ত্র সবসময়ই সবচেয়ে শক্তিশালী হয় যখন তা অন্তর্ভুক্তিমূলক, স্বচ্ছ ও সহিংসতা ও ভয়ভীতি মুক্ত থাকে।

    তিনি আরও বলেন, অস্ট্রেলিয়ায় থাকা বাংলাদেশি প্রবাসীরা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে এই উদ্বেগগুলো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরছেন। তাঁদের অবদান ও মাতৃভূমির প্রতি অটুট টান দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গভীর করেছে। দেশের উন্নয়ন ও শান্তির জন্য তাঁদের এই প্রচেষ্টা বাংলাদেশের মানুষের স্বপ্ন ও প্রত্যাশাকে বৈশ্বিক পর্যায়েও গুরুত্বের সঙ্গে উপস্থাপন করছে।

    তারেক রহমান উল্লেখ করেছেন, ‘অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশ পরস্পরকে সম্মান ও সহযোগিতার ভিত্তিতে সম্পর্ক বজায় রেখেছে। বাংলাদেশের মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অস্ট্রেলীয় এমপিদের প্রতি আমরা অন্তর থেকে কৃতজ্ঞ। তাদের এই সমর্থন আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—গণতন্ত্রের অঙ্গীকার একত্রে রক্ষা করা আমাদের যৌথ দায়িত্ব। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় যখন দেশগুলো একসঙ্গে দাঁড়ায়, তখন শান্তি, ন্যায় এবং অগ্রগতির পথে আরও দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যেতে পারি।’

  • শেখ হাসিনার রায়কে ঘিরে নৈরাজ্য সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করছে এক কতৃপক্ষ: মির্জা ফখরুল

    শেখ হাসিনার রায়কে ঘিরে নৈরাজ্য সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করছে এক কতৃপক্ষ: মির্জা ফখরুল

    শেখ হাসিনার রায় ঘিরে দেশের মধ্যে বর্তমানে গভীর উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন, একটি বিশেষ মহল নানা চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে নৈরাজ্য সৃষ্টি করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। আজ রোববার (১৬ নভেম্বর) দুপুরে ঢাকায় রিপোর্টার্স ইউনিটির এক আলোচনাসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

    মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন বিভ্রান্তির মধ্যে রয়েছে। একদিকে চলছে বিভ্রান্তি ও অনিশ্চয়তা, অন্যদিকে একটি ইচ্ছাকৃত গোষ্ঠী এই অস্থিরতা আরও বাড়ানোর চেষ্টা করছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, অনেক হতাশা ও অন্ধকারের মাঝেও দেখা যাচ্ছে, ফেব্রুয়ারিতে সম্ভবত নির্বাচন হবে। সেই কারণে, বিলম্ব না করে সবাইকে একত্রিত হয়ে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে সম্পন্ন করার জন্য এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো উচিত।

    তিনি আরও বলেন, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের মতো নয় এবং স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে হলে একটি নির্বাচিত সরকার গঠন জরুরি। তিনি বলেন, এবার যদি একটি বৈধ সরকারের হাতে ক্ষমতা না থাকে, তাহলে দেশের সমস্যার সমাধান হবে না। এক্ষেত্রে, তিনি দেশের জনগণের Vote ফিরিয়ে আনার জন্য সকল রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে আহ্বান জানিয়েছেন।

    অপরদিকে, আগামীকাল সোমবার শোনা হবে দেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গণহত্যার রায়। বিএনপি নেতারা মনে করেন, এই রায়ের মাধ্যমে একটি মহল দেশের পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করে তুলতে চাচ্ছে। মির্জা ফখরুল উল্লেখ করেন, শেখ হাসিনার রায় ঘিরে দেশজুড়ে একটি আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং কিছু ব্যক্তি বা গোষ্ঠী এই পরিস্থিতি অপব্যবহার করে নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তিনি সবাইকে এই চক্রান্ত রুখে দেওয়ার আহ্বান জানান।

    বিশেষ করে, মওলানা ভাসানীর জাতীয় উন্নয়নে অবদান স্মরণ করে বিএনপি নেতা বলেন, তিনি স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখেছেন এবং একটি কল্যাণকর রাষ্ট্র গড়ার চিন্তা করেছিলেন। তবে, তিনি তার সেই স্বপ্ন পূরণ হতে দেখার সুযোগ পাননি। তিনি আরও বলেন, মওলানা ভাসানীর প্রতি বিএনপির একগণ্য দায়িত্ব রয়েছে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে তিনি দোয়া করেছিলেন এবং বঙ্গবন্ধুর চাচাতো ভাই মশিউর রহমান যাদু মিয়াকে জিয়াউর রহমানের সঙ্গে কাজ করতে বলেছিলেন।

    এছাড়াও উল্লেখ্য যে, জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় সোমবার (১৭ নভেম্বর) ঘোষণা হবে। এই মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিচার চলছিল। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদার নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই রায়ের তারিখ নির্ধারিত করেছেন। এই ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই বিচারক হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    সর্বোপরি, এই রায়ের প্রতি দেশের মানুষ ও পরিবারগুলো গভীর আগ্রহের সঙ্গে অপেক্ষা করছে। বাংলাদেশ টেলিভিশন সরাসরি এই রায়ের সম্প্রচার করবে, এর পাশাপাশি ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গায় বড় পর্দায় এই ঘোষণা প্রচারিত হবে। একই সঙ্গে ট্রাইব্যুনালের ফেসবুক পেজেও সরাসরি দেখানো হবে এই গুরুত্বপূর্ণ রায়।

  • রাজপথের কর্মসূচি চলবে যতক্ষণ না পর্যন্ত নিরপেক্ষ লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড পাওয়া যায়: মিয়া গোলাম পরওয়ার

    রাজপথের কর্মসূচি চলবে যতক্ষণ না পর্যন্ত নিরপেক্ষ লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড পাওয়া যায়: মিয়া গোলাম পরওয়ার

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেছেন যে, সরকার ও তার তিন উপদেষ্টা নির্বাচন ও গণভোট প্রক্রিয়ায় নিরপেক্ষতা হারাচ্ছেন। তাঁর মতে, এই ‘ভুল পথনির্দেশ’ এর কারণেই এখনো সম্পূর্ণভাবে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হচ্ছে না, যা আটটি দল মেনে নিয়েছে। তাই, তারা ঘোষণা দিয়েছে— যতক্ষণ পর্যন্ত সত্যিকারভাবে সমান সুযোগ নিশ্চিত না হবে, তখন পর্যন্ত রাজপথের আন্দোলন চলতেই থাকবে।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার রোববার (১৬ নভেম্বর) রাজধানী মগবাজারে আল ফালাহ মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন। তিনি বলেন,সব কথা সব সময় প্রকাশ করে বলতে হয় না; প্রয়োজন হলে, আমরা তিন উপদেষ্টার নামও প্রকাশ করব। আমাদের কাছ কাছে তথ্য ও প্রমাণ আছে।

    তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, সরকার এখনই সতর্ক না হলে, নিরপেক্ষ ও অবাধ নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পথ অনেকটাই বন্ধ হয়ে যাবে। প্রশাসনের অনেকগুলো জায়গায় এখনো দলীয় পক্ষপাত দেখা যায়, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। এই তিন উপদেষ্টার প্রভাব–প্রতিপত্তি ও সরকারের পক্ষপাতিত্ব পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে তুলেছে বলে তিনি আশঙ্কা ব্যক্ত করেন।

    এদিকে, আট দলীয় জোটের দাবি আদায়ে, নির্বাচনকে সবার জন্য গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠু করার জন্য তারা মাঠে আন্দোলন চালিয়ে যাবে। বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড না তৈরি হবে, ততক্ষণ তাদের আন্দোলন চলবে।

    জামায়াতের এই নেতা আরও জানান, তাদের মূল তিনটি দাবি এখনো পূরণ হয়নি— এক, নিরপেক্ষ ও সমান সুযোগের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড সৃষ্টি; দুই, ফ্যাসিবাদের দোষীদের বিচার; তিন, প্রশাসনে দলীয় প্রভাব ও পক্ষপাতিত্ব রোধ। এই ইস্যুগুলো নিয়ে আট দলের স্টিয়ারিং কমিটি পরবর্তী কর্মসূচির ঘোষণা দেবে।

    তারা মনে করে, আন্দোলন বা কর্মসূচি নির্বাচনকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে না বরং, এটি একটি স্পষ্ট বার্তা দেবে যে, সরকার নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে সক্ষম হলে তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবে না।

    এদিকে, নির্বাচনের বিভিন্ন অভিযোগের মধ্যে গণভোট ইস্যুতে তাদের দৃঢ় অবস্থান রয়েছে। তারা সংবিধান ও মৌলিক সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোটের জন্য সমর্থন জানিয়েছেন।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, কমিশনের মূল সংস্কারসমূহের পক্ষে তারা শুরু থেকে অবস্থান নিয়েছে। এসব সংস্কার সহজভাবে ভোটারদের তুলে ধরতে হবে, যাতে সবাই বোঝে কেন এগুলো জরুরি। সরকারের বা নির্বাচন কমিশনের উচিত যেন স্পষ্ট করে বলে দেয়— এই সংস্কারগুলো কেন প্রয়োজন, না হলে জনগণের একটা বড় অংশ বিষয়টি বুঝতে পারে না।

  • প্রধান উপদেষ্টার: এবার নির্বাচন দেশ রক্ষার লড়াই

    প্রধান উপদেষ্টার: এবার নির্বাচন দেশ রক্ষার লড়াই

    আগামী নির্বাচন ও গণভোটে শতভাগ সততা, নিরপেক্ষতা এবং নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, এবারের নির্বাচন সাধারণ নির্বাচন নয়, বরং এটি দেশকে রক্ষার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সংগ্রাম।

    আজ সোমবার (১৭ নভেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে নতুন জামানতপ্রাপ্ত ৫০ জেলা প্রশাসকসহ ৬৪ জেলার প্রশাসকদের উদ্দেশে এসব কথা বলেন তিনি। ইউনূস বলেন, এই নির্বাচন কেবল পাঁচ বছরের জন্য সরকার গঠনের জন্য নয়, এটি গণভোট যুক্ত হওয়ার কারণে আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এটি এক সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী নির্বাচন, যা বহু প্রহসনের পরিসমাপ্তি ঘটানোর দিক নির্দেশ করে দেয়। তিনি উল্লেখ করেন, এই নির্বাচন প্রতীক হিসেবে গণঅভ্যুত্থানের পর্যায়ের অন্যতম একটি স্তর। এটি জাতির ভবিষ্যৎ দিগন্ত নির্ধারণ করবে—শতাব্দীর দিশারী হিসেবে।

    প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, এই নির্বাচনে জেলা প্রশাসকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনভাবেই এর ব্যর্থতা মেনে নেয়া হবে না। এই নির্বাচন সফল হলে জাতি নতুন করে জেগে উঠবে এবং জেলা প্রশাসকরা দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে দেশকে এগিয়ে নেবেন।

    তিনি জানান, জেলা প্রশাসকদের সবাই যেন প্রয়োজনীয় সব তথ্য আগাম জেনে নেন, এবং কর্তব্য পালনকে উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ করে তুলতে সবাই সচেষ্ট হন। বিশেষ করে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, তরুণ ও নারী ভোটারদের সংখ্যাবৃদ্ধি লক্ষ্য করতে হবে; কারণ অনেক আগে থেকে তারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি।

    বিশ্ব পর্যবেক্ষকদের আগ্রহও এই নির্বাচনে দৃশ্যমান। তারা গভীর আগ্রহের সঙ্গে দেখছে, নির্বাচন কতটা সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ হয়। ইউনূস বলেন, এই নির্বাচনকে সফল করে তোলার জন্য আমাদের প্রতিশ্রুতি থাকতে হবে— এটি হলো একটি গণঅভ্যুত্থানের স্বপ্নের বাস্তবায়ন। এই সংগ্রামে আমাদের জয়ের কোনও বিকল্প নেই। স্বাধীন জাতি হিসেবে টিকে থাকতে হলে এই লড়াইয়ে সম্পূর্ণ জিততেই হবে।

    বৈঠকটি পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব শেখ আব্দুর রশীদ। আলোচনায় অংশ নেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান এবং আইন উপদেষ্টা প্রফেসর আসিফ নজরুল।

    এছাড়াও বিভিন্ন মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তা, ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হক ও বগুড়ার জেলা প্রশাসক মহা., তারফিকুর রহমান বিভিন্ন দিক থেকে বক্তব্য রাখেন।

  • এক্সকাভেটর নিয়ে প্রবেশের চেষ্টা: ধাক্কাধাক্কি, লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেল ব্যবহার

    এক্সকাভেটর নিয়ে প্রবেশের চেষ্টা: ধাক্কাধাক্কি, লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেল ব্যবহার

    ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে এক্সকাভেটর নিয়ে প্রবেশের চেষ্টা করলে ব্যাপক সংঘর্ষ ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পুলিশ ও সেনাবাহিনী বিক্ষোভকারীদের লাঠিচার্জ এবং টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। এ সময় বিক্ষোভকারীরা ইট-পাটকেলও ছোড়ে যা দুই পক্ষের মধ্যে চাপ বাড়ায়।

    জুলাই-মঞ্চ নামে একটি সংগঠনের নেতারা ব্যানারে একদল লোক আজ সোমবার দুপুর ১টা ৭ মিনিটের দিকে ৩২ নম্বরে পুলিশি ব্যারিকেড ভেঙে প্রবেশের জন্য চেষ্ট করেন। তখন পুলিশ তাদের সতর্ক করে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়, কিন্তু তারা সরেননি বরং প্রবেশের চেষ্টা চালিয়ে যায়। পরিস্থিতি জটিল হওয়ার পরে পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং নিউ মডেল কলেজের গলির দিকে টেনে নিয়ে যায়। একই সময়ে সেনাবাহিনীও বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া দেয়।

    বিক্ষোভকারীরা পরে নিউ মডেল কলেজের সামনের এলাকায় অবস্থান নিয়ে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। এমনকি পুলিশ ও সেনারা আবার তাদের ধাওয়া দেয় এবং তিন রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। কিছু বিক্ষোভকারী পান্থপথ দিয়ে চলে যায়, আবার অন্যরা মিরপুর সড়ক হয়ে ২৭ নম্বরের দিকে যায়।

    বেলা ২টার দিকে পরপর চারটি সাউন্ড নোট ছুঁড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। দেখা গেছে, বিক্ষোভকারীদের ছোড়া ইটে পুলিশের এক সদস্য আহত হয়েছেন। পাশাপাশি পুলিশ তিনজন বিক্ষোভকারীকে আটক করে প্রিজন ভ্যানে তোলেন।

    এদিকে, বিক্ষোভের আগের দিন দুপুরে সাইন্সল্যাব এলাকা থেকে দুটি এক্সকাভেটর নিয়ে আসে বিক্ষোভকারীরা। তাদের একজন বলেন, তারা julho মঞ্চের ব্যানারে এখানে এসেছেন এবং শেখ হাসিনা ও অন্যান্য আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন।

    ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মাসুদ আলম বলেছেন, কেউ যেন বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িত না হয়, তা নিশ্চিত করতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ ধীরে ধীরে ৩২ নম্বরের মিরপুর সড়কের একপাশ বন্ধ করে দেয় ও অন্য পাশে ডাইভারসন করে দেয় যাতে যান চলাচল সচল থাকে।

  • শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রমাণিত: ট্রাইব্যুনাল

    শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রমাণিত: ট্রাইব্যুনাল

    আজ সোমবার (১৭ নভেম্বর) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর নেতৃত্বে বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারসহ তিন সদস্যের বেঞ্চ এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন। তিনি জানান, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ সময়ে সাজানো জোটের নেতৃত্বে মূলত শেখ হাসিনা মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত। একইসঙ্গে, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামীান খান এবং পুলিশের সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এই তিনজনই এখন বিভিন্ন দেশে পলাতক থাকলেও, তাদের বিরুদ্ধে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    বিশেষ করে, শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামীান খান পলাতক রয়েছেন ও বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। অন্যদিকে, চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন গত বছর গ্রেফতার হন এবং এর মধ্যে তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনও সম্পন্ন হয়েছে।

    প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত ১ জুন এই তিনজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে—৬টি মূল অভিযোগ, যার মধ্যে শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর খেতাব দিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি, অস্ত্র ব্যবহারে আন্দোলন দমন, রংপুরে গুলিতে একজনের মৃত্যু, ঢাকা চানখাঁরপুলে গুলিবর্ষণে ছয়জনের মৃত্যু এবং আশুলিয়াতে ছয়জনকে পুড়িয়ে মারার মতো গুপ্তচরচোরা আক্রমণ।

    অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে, গত ১০ জুলাই ট্রাইব্যুনাল এই তিন আসামির বিরুদ্ধে চূড়ান্ত অভিযোগ গঠন করে। তবে, শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামীান খান এখনও পলাতক থাকায় তাদের কোনো গ্রেফতারকরার কার্যক্রম এখনো সম্পন্ন হয়নি, অন্যদিকে, চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন এখনো জেলহাজতে রয়েছেন। এই মামলার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ের বিচার প্রক্রিয়া এগিয়ে যাচ্ছে।

  • শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খাঁন কাদেরের মৃত্যুদণ্ড ঘোষনা

    শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খাঁন কাদেরের মৃত্যুদণ্ড ঘোষনা

    বিশেষ আদালত সম্প্রতি এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তে গণহত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেছেন বর্তমানের নির্বাসিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কাদেরকে। এই মামলার বিচারবিষয়ক বিষয়গুলো বিশদভাবে পর্যবেক্ষণ করে, ২৪ জুলাই-আগস্টের সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য তাদের দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করা হয়। এই রায় বাংলায় ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

    বিচারকরা আজ সোমবার (১৭ নভেম্বর) দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে রায়ের প্রথম অংশ পড়ে শোনান। তাঁরা ৪৫৩ পৃষ্ঠার মামলার ডকুমেন্টের ছয়টি অধ্যায় বিশ্লেষণ করেন। ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার নেতৃত্বে তিন সদস্যের এক বিচারপতি প্যানেল এই রায় দেয়। এরপর দুপুর ২টায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রায় পড়া সম্পন্ন হয়।

    বিশেষ এই বিচারে যারা দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন, তার মধ্যে রয়েছে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কাদের। তবে তারা বিভিন্ন কারণে এখন পলাতক থাকলেও মামলার অন্য এক গুরুত্বপূর্ণ আসামি সাবেক আইজিপি মামুন প্রায় এক বছর ধরে তার কারগারে আছেন। তিনি রাজসাক্ষ্য দিয়েছিলেন এবং এর ফলে তার শাস্তির ব্যাপারে ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তে কিছুটা সুবিধা হয়েছে। প্রসিকিউশন এই দুজনের সর্বোচ্চ সাজা চেয়েছেন।

    মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে পাঁচটি মানবতাবিরোধী অপরাধের বিষয়, এর মধ্যে রয়েছে উসকানি, মারণাস্ত্র ব্যবহার, আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ড, চানখারপুলে হত্যাযজ্ঞ ও আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানো। মোট অভিযোগপত্রের পৃষ্ঠা সংখ্যা প্রায় আট হাজার সাতশ’। এতে অন্তর্ভুক্ত তথ্যসূত্র দুই হাজার ১৮ পৃষ্ঠা, জব্দতালিকা ও দালিলিক প্রমাণাদি চার হাজার পাঁচশ’ পৃষ্ঠা এবং শহীদদের তালিকার বিবরণ দুই হাজার সাতশ’ বিশ পৃষ্ঠা। এতে মোট সাক্ষীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৪ জন।

    প্রথম দিন থেকেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। ট্রাইব্যুনাল ও সুপ্রিম কোর্টের আশপাশে অতিরিক্ত পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ নজরদারি চলছে। গত ১৩ নভেম্বর থেকে রায় ঘোষণা অনুষ্ঠানের দিনকে কেন্দ্র করে যান চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়।

    সবশেষে, এই মামলার রায় ঘোষণার জন্য ১৩ নভেম্বর দিন ধার্য করা হয়। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার প্রধানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই সিদ্ধান্ত নেয়। রায়ের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ২৮ কার্যদিবসের মধ্যে ৫৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য-প্রমাণ সম্পূর্ণ হয়েছে। পাশাপাশি, প্রসিকিউশন ও স্টেটের পক্ষে যুক্তিতর্ক চলে মোট নয় দিন। এসব প্রক্রিয়ার শেষে রাষ্ট্রের আইনজীবীরা সর্বোচ্চ শাস্তির জন্য দাবি করেন।

    অন্যদিকে, মামলার একটি গুরুত্বপূর্ণ আসামি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন, তবে তার খালাসের জন্য বেশ কিছু আইনি দপ্তর আবেদন করেছেন। আইনজীবীরা মনে করেন, এই মামলার সব দোষীদেরই যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত হবে। তবে, পুরো প্রক্রিয়া আইনি নিয়মবলে চলবে এবং সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে।

  • হাসিনা খোঁজার জন্য ট্রাইব্যুনাল এলাকায় বিভ্রান্তিকর মাইকিং

    হাসিনা খোঁজার জন্য ট্রাইব্যুনাল এলাকায় বিভ্রান্তিকর মাইকিং

    রাজধানীর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এলাকায় সোমবার ভোর থেকেই অদ্ভুত এক মাইকিং শোনা যায়, যা সাধারণত কেউ হারিয়ে গেলে প্রচারের জন্য ব্যবহৃত হয়। সেখানে বলা হচ্ছিল, ‘একটি হারানো বিজ্ঞপ্তি… আমাদের হাসিনা খালা (শেখ হাসিনা) গত ৫ আগস্ট সপরিবারে হারিয়ে গেছেন। যদি কেউ তার সন্ধান পান, তবে তাকে হাইকোর্টের ফাঁসির মঞ্চে পৌঁছে দেবেন।’ এই ধরনের বক্তব্য শুনে আশেপাশের মানুষরা অবাক হয়ে যান। এটি সম্ভবত কোনো ধরণের অপপ্রচারের অংশ বা অনাকাঙ্ক্ষিত একটি মিসইনফরমেশন যা পরিস্থিতি জটিল করে তুলতে পারে।

    শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার দিন হওয়ায় আদালতের চারপাশে সকাল থেকেই ব্যাপক জনসমাগম দেখা যায় বিভিন্ন পেশার মানুষ সেখানে উপস্থিত হয়েছেন রায়ের ফলাফলের জন্য। নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর থাকলেও রাজধানীর যানবাহন স্বাধীনভাবেই চলাচল করা চলছে। ব্যক্তিগত গাড়ি ও গণপরিবহন স্বাভাবিকভাবে চলাচল করছে।

    এদিন জনসম্মুখে পতিত আওয়ামী লীগের ‘লকডাউন’ কর্মসূচির কোন প্রভাব পড়েনি, বরং বিভিন্ন ইসলামিক দলসহ আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বী ও অন্যান্য বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো সকাল থেকেই মাঠে ছিল। একদিকে রায়ের দিনকে কেন্দ্র করে তৎপরতা চলছে অপর দিকে, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণবিক্ষোভে প্রায় এক হাজার চারশোর বেশি মানুষ নিহত ও বিশাল সংখ্যক আহতের অভিযোগে এই মামলাটি দায়ের হয়।

    অন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বর্তমান রায়ের জন্য বিচারক বিনা বিরতিতে চার দশকের বেশি সময়ের ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করে বিভিন্ন সাক্ষ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে এ মামলার শুনানি করেন। এতে মোট ৫৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হয়, যার মধ্যে বিভিন্ন প্রভাবশালী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সাক্ষ্যপ্রমাণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যেমন আহত ও নিহত ব্যক্তি, সাংবাদিক, চিকিৎসক, পুলিশ আদিত আহত ও নিহতের পরিবার এবং প্রত্যক্ষদর্শীরা।

    উল্লেখ্য, এই মামলার একাধিক আসামি—including শেখ হাসিনা, অঙ্গীকার ধরা হয়েছে—অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁদের বিরুদ্ধে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ আনা হয়। বিচারকাজে দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে প্রকাশিত অডিও, ভিডিও ও অন্যান্য প্রমাণের পাশাপাশি সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন নিজে নিজের অপরাধ স্বীকার করে আদালতের কাছে স্বীকারোক্তি দেন।

    এছাড়াও মামলার শুনানিতে অংশ নেন বিভিন্ন স্বাক্ষী, যারা ২১শে আগস্টের হামলার বিষয়ে পরবর্তী তথ্য ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে সাক্ষ্য দেন, যেমন আহত শিক্ষার্থী, পুলিশি গুলিতে আহত ব্যক্তি, সাংবাদিক ও চিকিৎসক। এছাড়াও, বিভিন্ন তদন্তকারী কর্মকর্তা ও প্রত্যক্ষদর্শীর কথাও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

    গত ১৩ নভেম্বর, রায়ের তারিখ নিশ্চিত হওয়ার পর, নানা ধরণের পরিস্থিতির জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করে। সেকারণে, সোশ্যাল মিডিয়াসহ বিভিন্ন মাধ্যমে লকডাউন, হরতাল ও কর্মসূচির ঘোষণা দেয়া হয়। এর ফলে দেশের বিভিন্ন অংশে অগ্নিসংযোগসহ নানা প্রকার অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন দলের কর্মসূচির ভয়াবহতা ও হামলার ঘটনাও ঘটেছে। এভাবে পরিস্থিতি আরও অনিশ্চয়তার দিকে গড়িয়ে যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।