Blog

  • আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে শেখ হাসিনার ফাঁসির রায়ের খবর

    আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে শেখ হাসিনার ফাঁসির রায়ের খবর

    বিশ্ব মিডিয়ার প্রধান শিরোনামে উঠে এসেছে বাংলাদেশের বর্তমান বা সাবেক নেতাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেয়া ফাঁসির আদেশ। গত জুলাই-আগস্টে সংঘটিত গণহত্যার জন্য দায়ী হিসেবে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালকে এই আন্তর্জাতিক আদালত মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন। এই রায় দ্রুতই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রবল গুরুত্ব পেয়েছে।

    ব্রিটিশ সংবাদসংস্থা বিবিসি জানিয়েছে, গত বছর কাকতালীয়ভাবে সংঘটিত ছাত্র-অভ্যুত্থানের সময় ঘটে যা মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য এই নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এই রায় ঘোষণা করে। এতে বিচারপতি মা. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে আদালত তিনজনের ট্রাইব্যুনাল এই রায় প্রকাশ করে। অন্য দুই বিচারপতি হলেন মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে আদালত জানিয়েছে, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তিনটি গুরুতর অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেছে। একটিতে তাকে দেশের বিভিন্ন আন্দোলন দমন করার জন্য দায়ী করে আমৃত্যু কারাদণ্ড ও অন্য দুইটিতে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়।

    প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্স এর মাধ্যমে বলা হয়েছে, এই রায় বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী ঘটনা। এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এই বিচারে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে করা অভিযোগগুলো প্রমাণিত হয়েছে এবং তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।

    ভারতীয় জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, এই রায় ঘোষণা হওয়ার পর ঢাকার আদালত কক্ষেই উৎসবের আমেজ দেখা গেছে। মানুষ হাততালি ও উল্লাস করতে শুরু করে, কারণ দীর্ঘদিনের বিচার শেষে এই সিদ্ধান্ত এসেছে। বিচারকরা বলছেন, এই রায় বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির স্থাপন করবে।

    কাতার ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানাচ্ছে, গত বছর ছাত্র-নেতৃত্বাধীন আন্দোলনে দমন-পীড়নের জন্য শেখ হাসিনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দণ্ডিত করা হয়েছে। ৭৮ বছর বয়সী এই সাবেক প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে পলাতক থাকলেও, তাঁকে এই ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। তাদের ধারণা, এই রায় বাংলাদেশের সামগ্রিক রাজনীতি এবং বিচারব্যবস্থার জন্য নতুন এক দৃষ্টিকোণ তৈরি করেছে।

  • শেখ হাসিনার ফাঁসির রায়ের পর ভারতের প্রতিক্রিয়া

    শেখ হাসিনার ফাঁসির রায়ের পর ভারতের প্রতিক্রিয়া

    আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে ভারতে পলাতক থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে ফাঁসির আদেশ Penh গেছে। এই রায়কে কেন্দ্র করে ভারতের প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। সোমবার (১৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, বাংলাদেশের এই রায় তারা প্রত্যক্ষ করেছে। ভারত নিজেকে বাংলাদেশের কাছাকাছি প্রতিবেশী হিসেবে উল্লেখ করে বলেছে, তারা সবসময় বাংলাদেশের সাধারণ জনগণের স্বার্থে কাজ করে যাবে। স্বার্থের জন্য তারা শান্তি, গণতন্ত্র, অন্তর্ভুক্তি ও স্থিতিশীলতার পথে পাশে থাকবে। তবে রায় ঘোষণার পরপরই বাংলাদেশ ভারতের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে, ক্ষমতাচ্যুত এই দুই নেতাকে দ্রুত বাংলাদেশে হস্তান্তর করার জন্য। এর কোনও প্রতিক্রিয়া ভারত থেকে এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশ সরকার বলছে, এই দণ্ডপ্রাপ্ত দুই ব্যক্তির যদি অন্য কোনও দেশের আশ্রয় নেয়, তবে তা খুবই অবমাননাকর ও অন্যায় হিসেবে গণ্য হবে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানায়, ভারত সরকার যেন দ্রুত তাদেরকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠায়—এটাই তাদের দাবি। এর আগে বাংলাদেশ অসংখ্যবার ভারতকে লিখিত ভাবে অনুরোধ করেছিল, কিন্তু কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অনেকেরই প্রশ্ন, এই পরিস্থিতিতে ভারতের মনোভাব ও সিদ্ধান্ত কি হবে। উল্লেখ্য, ২৪ জুলাই ও আগস্টের মধ্যে সংঘটিত গণহত্যার দায়ে এই অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত হন শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান। এছাড়া, ঘটনাক্রমে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য দিয়ে সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনকে পাঁচ বছর জেলের সাজা দেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রেসিডেন্ট বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদার নেতৃত্বাধীন এই ট্রাইব্যুনাল তাঁদের বিরুদ্ধে ফাঁসির রায় দাবি করে, পাশাপাশি দেশের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও শহীদদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। তবে এই রায়ের ফলে শেখ হাসিনা যে ভারতের আইন(?:বা) বা মানসিকতা অনুযায়ী ফেরত আসবেন, সেটি নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

  • ইন্দোনেশিয়ার জাভায় ভূমিধসে ১৮ জনের মৃত্যু

    ইন্দোনেশিয়ার জাভায় ভূমিধসে ১৮ জনের মৃত্যু

    ইন্দোনেশিয়ার মধ্য জাভায় প্রবল বর্ষণ এবং ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে পৃথক দুটি স্থানে ভয়াবহ ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে, এতে কমপক্ষে ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখনো বেশ কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন এবং তাদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চলছে।

    সোমবার (১৭ নভেম্বর) প্রকাশিত এক বার্তায় জানানো হয়, দেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা ও স্থানীয় উদ্ধারকারীদের তৎপরতায় নিখোঁজদের খুঁজে পাওয়ার জন্য বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

    প্রথমে জানানো হয়, মধ্য জাভার দক্ষিণ উপকূলীয় চিলাচাপ রিজেন্সির চিবেউইং গ্রামে ভূমিধসে অন্তত ১৬ জন মারা গেছেন। সেখানে এক ডজনের বেশি বাড়ি মাটির নিচে চাপা পড়ে গেছে। উদ্ধারকারীদের জন্য চ্যালেঞ্জের বিষয় হলো, বেশ গভীরতে থাকা এসব বাড়ি থেকে লোকজনকে উদ্ধার করা খুবই কঠিন। ডিপো অ্যাক্সক্যাভেটর ব্যবহার করেও উদ্ধারকাজ চালানো হচ্ছিল। তবে গভীরতা বাড়ার কারণে উদ্ধার প্রচেষ্ঠায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে।

    অপরদিকে, শনিবার মধ্য জাভার বানজারনেগারাতে আলাদা এক ঘটনায় দুজনের মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় আরও ২৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানানো হয়। এই ঘটনার ফলে প্রায় ৩০টি বাড়ি ও কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, এই বছর থেকে শুরু হওয়া বর্ষা মৌসুম সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়ে এপ্রিলে অবধি চলতে পারে। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, এই সময়ে প্রবল বৃষ্টিপাত ও বন্যার ঝুঁকি বেশি হয়ে থাকে। আন্তর্জাতিক মহল এই ঘটনা থেকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি উদ্ধার তৎপরতা ও ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

  • দুই বছরে ইসরায়েলি কারাগারে নির্যাতনে নিহত অন্তত ৯৮ ফিলিস্তিনি

    দুই বছরে ইসরায়েলি কারাগারে নির্যাতনে নিহত অন্তত ৯৮ ফিলিস্তিনি

    ২০২৩ সালের অক্টোবরে থেকে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৯৮ জন ফিলিস্তিনি ইসরায়েলি সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনীর বন্দী হিসেবে থাকা অবস্থায় নিহত হয়েছেন। গাজা থেকে অনেক শতাধিক মানুষ আটক হওয়ার পর তাদের মধ্যে নিখোঁজের সংখ্যাও বাড়ছে, যা করে আরও বেশি মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা করছে মানবাধিকার সংগঠন ফিজিশিয়ান্স ফর হিউম্যান রাইটস–ইসরায়েল (পিএইচআরআই)। ডিয়ার গার্ডিয়ানসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

    পিএইচআরআই-এর অনুসন্ধানে জানা গেছে, এসব মৃত্যু ঘটেছে শারীরিক নির্যাতন, চিকিৎসা না দেয়া এবং অপুষ্টির কারণে। তারা এই তথ্য সংগ্রহের জন্য তথ্য অধিকার আইনের অধীন বিভিন্ন নথি, ফরেনসিক রিপোর্ট, আইনজীবী, স্বজন এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষাৎকার সংগ্রহ করেছে।

    প্রথম আট মাসের পরিস্থিতি নিয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের পূর্ণাঙ্গ তথ্য থাকলেও, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেড়ে গেছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এই সময়টিতে গড়ে প্রতি চার দিনে একটি করে বন্দী মৃত্যুবরণ করেছেন। মে ২০২৪ পর্যন্ত ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এই হেফাজত মৃত্যুর তথ্য আপডেট করেছে, তবে পিএইচআরআই’র গবেষকেরা আরও ৩৫টি অজানা মৃত্যুর ঘটনাও নিশ্চিত করেছেন।

    নাজি আব্বাস, পিএইচআরআই-র বন্দী ও আটক বিষয়ক বিভাগের পরিচালক, বলেছেন, এ সংখ্যাগুলো খুবই বড়। তবে তিনি অবহিত করে বলেছেন, এ সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে, কারণ অনেকের মরদেহ ও মৃত্যুর খবর তাদের কাছে পৌঁছায়নি। তিনি বলেন, ‘আমরা নিশ্চিত—হেফাজতে থাকা অনেক মানুষই মৃত্যুবরণ করেছেন, যাদের বিষয়ে আমাদের কোনও তথ্য নেই।’

    ইসরায়েলের গোপন নথিতে দেখা গেছে, গাজা থেকে আটক হওয়া কয়েকজন ফিলিস্তিনিকে কারাগারে মারা গেছেন। তবে এই রিপোর্ট বলছে, অধিকাংশ নিহত ব্যক্তি সাধারণ বেসামরিক মানুষ, যারা হামাস বা ইসলামিক জিহাদের যোদ্ধা নয়। দ্য গার্ডিয়ান, ‘+৯৭২ ম্যাগাজিন’ এবং হিব্রু ভাষার স্থানীয় গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে এ তথ্য উঠে এসেছে।

    ২০২৪ সালের মে মাসে সেনাবাহিনীর একটি ডেটাবেসে দেখা গেছে, যেখানে হামাস ও ইসলামিক জিহাদের ৪৭ হাজারের বেশি যোদ্ধার নাম রয়েছে, সেখানে শ্বাসরুদ্ধ হেফাজতের মধ্যে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল মাত্র ২১ জন। কিন্তু একই সময়ে গাজা থেকে আটক হওয়া অস্বচ্ছ ব্যাবস্থায় মারা গেছেন ৬৫ জন ফিলিস্তিনি।

    এই সব মৃত্যুর তালিকা অসংখ্য ব্যক্তি, যারা কোনও অভিযোগ বা বিচার পায়নি। এর মধ্যে কয়েকজন ছিলেন ইসরায়েলের নাগরিকত্ব বা অধিকারপ্রাপ্ত ফিলিস্তিনি।

    দুই বছর ধরে চলা এই যুদ্ধে ইসরায়েলি কারাগারে ফিলিস্তিনিদের ওপর শারীরিক ও যৌন সহিংসতার মতো নিষ্ঠুরতার ঘটনা প্রতিনিয়ত বেড়ে চলেছে। এমনকি, ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন–গভির কারাগারে বন্দীদের জন্য গোপন কক্ষে এমন একটি পরিবেশের কথা প্রকাশ্যে বলেও গর্ব করেছেন, যেখানে বন্দীরা দিন আলো দেখেন না।

    বিরোধী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা এর বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ তুলেছেন। তারা বলছেন, আইনের নিয়মভঙ্গের অভিযোগ তুললেও কোনও উল্লেখযোগ্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অস্ত্র ও বন্দুকের মাধ্যমে নির্যাতন চালানো, মৃত্যু বেড়ে যাওয়া—এসব হচ্ছে সাধারণ ঘটনা।

    নাজি আব্বাস মন্তব্য করেছেন, ‘এটা একেকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং পুরো ব্যবস্থায় এটা বিস্তার লাভ করেছে। এটি চলতেই থাকবে।’ এর মূল কারণ, ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মধ্যে দায়মুক্তির সংস্কৃতি। দু’বছর সময়ে একটিমাত্র ঘটনায় বিচার হয়েছে, তার জন্য অভিযুক্ত সেনাকে মাত্র সাত মাসের সাজা দেওয়া হয়েছে। আর এক ঘটনায় বিচার শুরু হলে ডানপন্থীরা বিক্ষোভ করে, সামরিক বিভাগের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার হয়। এখন তারা এই মামলা প্রত্যাহার করতে চাইছে।

    তিনি আরও বলেন, ‘অসংখ্য মৃত্যুর পরেও কোনো কর্তৃপক্ষ কেউই এখনো গ্রেপ্তার বা মামলা করেনি। এই নীতিগুলো এখনও চালু থাকলে, সব ফিলিস্তিনি বন্দীর জন্য ঝুঁকি থাকবে—সুস্থ থাকলেও, কমবয়সী হলেও বা দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা থাকার পরও।’

    অবশ্য কিছু মৃত্যু বেশ আলোচিত হয়েছে, যেমন, ৫০ বছর বয়সী আদনান আল–বুরশ। তিনি আল–শিফা হাসপাতালের অর্থোপেডিক্স বিভাগের প্রধান ছিলেন। চার মাস আটক থাকার পর ওফের কারাগারে তিনি মারা যান। তাঁর সঙ্গে থাকা একজন জানান, মৃত্যুর আগে বুরশকে প্রহরীরা আঙিনায় নিয়ে আসে—তিনি ছিলেন আহত ও কোমর থেকে নিচে উলঙ্গ। এখনও পর্যন্ত মরদেহ গাজায় ফেরত দেয়া হয়নি।

    অন্যদিকে, অনেকের মৃত্যু রয়েছে অজানার মতো। অনেক মৃতদেহের পরিচিতি বা নাম জানা সম্ভব হয়নি। কারাগার ও সামরিক বাহিনী শুধু মৃতের সংখ্যা ও কোথায় মারা গেছে, তার তথ্য দিয়েছে, তবে তাদের নাম বা বিস্তারিত তথ্য দেননি। এর মধ্যে বেশিরভাগই গাজার নাগরিক।

    বন্দীদের পরিবারগুলোও হয়তো এখনো জানে না যে তাদের প্রিয়জন মারা গেছেন। কারণ, ইসরায়েল বন্দীদের অবস্থান জানানো বা তথ্য দেয়ার ব্যাপারে ইচ্ছাকৃতভাবে কঠোরভাবেই বাধা দিয়ে থাকে। যুদ্ধের প্রথম সাত মাসে গাজা থেকে আটক হাজারো মানুষের পরিবারের তথ্যই রveal হয়নি। পিএইচআরআই বলছে, এর মধ্যে মূল নীতি ছিল বলপূর্বক গুমের মতো।

    ২০২৪ সালের মে মাসে গাজার ফিলিস্তিনিদের বিষয়ে জানার জন্য একটি ইমেইল ঠিকানা চালু হলেও পরিস্থিতির উন্নতি খুবই ধীর। পিএইচআরআই মন্তব্য করে বলছে, ‘অব্যাহত ব্যর্থতা ও অস্বচ্ছতা এখনো রয়ে গেছে।’

    আইনজীবীরা বারবার বলছেন, তাদের আবেদন করলে দেখা যায়, যে ক্লায়েন্টের ব্যাপারে তথ্য চাইছে, তাদের এইজড়ো বা গ্রেপ্তারের রেকর্ড বা নথিপত্রই নেই, যদিও সেই গ্রেপ্তার সম্পূর্ণ প্রমাণিত। মানবাধিকার সংগঠন হামোকেদ জানিয়েছে, গত ছয় মাসে প্রায় ৪০০ ব্যক্তির ব্যাপারে ‘নথি নেই’ হিসেবে বলা হয়েছে।

    সম্ভবা সবচেয়ে আলোচিত একজন বন্দী হলেন হুস্সাম আবু সাফিয়া, গাজার কামাল আদওয়ান হাসপাতালে পরিচালকের। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে তাঁকে এক অভিযানে আটক করা হয়। ভিডিওতে দেখা গেছে, ইসরায়েলি সৈন্যরা তাঁকে অ্যারেস্ট করে গাড়িতে তুলে নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এরপর এক সপ্তাহের বেশি সময় পর্যন্ত সেনাবাহিনী দাবি করে, তাঁরা তাঁকে হেফাজতে নেননি।

  • ফ্রান্স থেকে ইউক্রেনের জন্য ১০০টি রাফাল যুদ্ধবিমান ও উন্নত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা

    ফ্রান্স থেকে ইউক্রেনের জন্য ১০০টি রাফাল যুদ্ধবিমান ও উন্নত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা

    রাশিয়ার তীব্র আক্রমণের মোকাবিলায় নিজেদের সামরিক শক্তি বাড়াতে ইউক্রেনের জন্য ফ্রান্স বিশাল এক সামরিক উপহার হিসেবে ১০০টি রাফাল এফ-৪ যুদ্ধবিমান এবং উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠাতে যাচ্ছে। এই চুক্তি স্বাক্ষর হয় প্যারিসে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাঁক্রো এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কির মধ্যে। জেলেনস্কি এই সিদ্ধান্তকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে অভিহিত করেছেন, কেননা এটি ইউক্রেনের জন্য এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। আশা করা হচ্ছে, এই প্রক্রিয়া ২০২৩ সালের মধ্যে শুরু হয়ে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত চলবে এবং পুরোপুরি বাস্তবায়িত হবে।

    আর্থিক ব্যয় এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ফ্রান্স বিষয়টি সমাধানে ইইউর অর্থায়ন ও জব্দ করা রাশিয়ান সম্পদ ব্যবহারের পরিকল্পনা নিচ্ছে। এই পদক্ষেপটি অনেক রাজনীতিবিদ ও দেশবাসীর মধ্যে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, কারন এর মাধ্যমে রাশিয়ান সম্পদ থেকে অর্থ সংগ্রহ করা একটি জটিল ও বিতর্কিত বিষয়।

    উভয় নেতার যৌথ ব্রিফিংয়ে জেলেনস্কি জানান, ‘আমরা একটি কৌশলগত চুক্তি করতে যাচ্ছি যা ধারাবাহিকভাবে ১০ বছর চলবে।’ তিনি আরও বলেন, ইউক্রেন এই চুক্তির মাধ্যমে ফরাসি রাডার, আটটি উন্নত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং অন্যান্য অত্যাধুনিক অস্ত্রপত্র পাবে। জেলেনস্কি উল্লেখ করেন, এই ধরনের আধুনিক ব্যবস্থা ব্যবহার করে দেশটির জীবনকে রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি।

    রাশিয়া সম্প্রতি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রে আঘাত বাড়িয়েছে, মূলত জ্বালানি ও রেল অবকাঠামো লক্ষ্য করে, যা দেশের ব্যাপক ব্ল্যাকআউটের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই হামলাগুলিকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে কিয়েভ ও পশ্চিমা মিত্ররা। গত কিছু সময়ে উত্তর-পূর্ব ইউক্রেনের বালাক্লিয়া শহরে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তিনজন নিহত ও উন্নত অল্পসংখ্যক আহত হয়েছে।

    ম্যাঁক্রো জেলেনস্কির কাছে বলেন, ‘আমরা ১০০টি রাফাল যুদ্ধবিমান পরিকল্পনা করছি—এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি ইউক্রেনের সামরিক পুনরুজ্জীবনে বড় সহায়ক হবে।’ তিনি ইউক্রেনকে ভবিষ্যতের যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে উৎসাহিত করেন।

    রাফাল যুদ্ধবিমানগুলোকে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষার জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। দেশটি বর্তমানে সীমান্তবর্তী ক্ষুদ্র ও বড় শহরগুলোয় দূরপাল্লার আকাশ থেকে আকাশে হামলা মোকাবিলায় অক্ষম। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, রাশিয়া প্রতি মাসে প্রায় ছয় হাজার গ্লাইড বোমা ব্যবহার করছে, ফলে ২০০ কিলোমিটার পাল্লার একটি ফরাসি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা খুবই প্রয়োজন, যেহেতু রাশিয়ানদের নিজস্ব ২৩0 কিলোমিটার পাল্লার অর্পিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে।

    কিয়েভ ও প্যারিসের এই উল্লেখযোগ্য ঘোষণা বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই চুক্তির বাস্তব ফলাফল নির্ভর করবে সময়সীমা, সরবরাহ এবং অস্ত্রের ওপর। ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সামরিক সরঞ্জাম যেমন জার্মানির লেপার্ড টু ট্যাংক বা মার্কিন এফ-১৬ যুদ্ধবিমান, সবই প্রশিক্ষণ, সহায়তা ও খুচরা যন্ত্রাংশের ওপর heavily dependent।

    এই চুক্তির অর্থ কে দিচ্ছে তা নিয়ে আলোচনা হলেও ধারণা করা হচ্ছে, ফ্রান্স নিজস্ব বাজেট এবং ইইউর যৌথ ঋণ ব্যবস্থা থেকে অর্থ সংগ্রহ করবে। তবে ব্রাসেলসের আলোচনা অনুযায়ী, এখনই অর্থের যোগান স্বচ্ছ নয় এবং ইউক্রেনের অর্থনৈতিক সহায়তা আগামী দুই বছর ইইউর দ্বারা চালিয়ে যাওয়া হবে। তবে রাশিয়ার জব্দকৃত ১৬২ বিলিয়ন ডলার সম্পদ ব্যবহারে ঐক্য নেই।

    এদিকে, ইউক্রেনের বিমান বাহিনী ইতোমধ্যেই ফ্রান্সের মিরাজ এবং মার্কিন তৈরি এফ-১৬ ব্যবহার করছে। সম্প্রতি কিয়েভ সুইডেনের গ্রীপেন যুদ্ধবিমান পাওয়ার আশা করছে। এই আড়ালে, জেলেনস্কি স্পেনের সঙ্গে আরও সামরিক ও অন্যান্য সহায়তা চুক্তি করবেন এবং চলতি সপ্তাহে তিনি গ্রিসের সঙ্গে একটি গ্যাস চুক্তিও সম্পন্ন করেছেন। এই গ্যাস সরবরাহ শীতে ইউক্রেনসহ বলকান অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

  • এমইউজে খুলনার দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনে রাশিদুল সভাপতি, রানা সম্পাদক ও মতি কোষাধ্যক্ষ নির্বাচিত

    এমইউজে খুলনার দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনে রাশিদুল সভাপতি, রানা সম্পাদক ও মতি কোষাধ্যক্ষ নির্বাচিত

    মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন (এমইউজে) খুলনার দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনে নতুন সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মোঃ রাশিদুল ইসলাম, যিনি দৈনিক মানবজমিনের খুলনা ব্যুরো প্রধান। সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন আব্দুর রাজ্জাক রানা, যিনি দৈনিক সংগ্রামের খুলনা বিভাগীয় প্রধান। কোষাধ্যক্ষ নির্বাচিত হয়েছেন মোঃ রকিবুল ইসলাম মতি, যিনি এসএ টিভির খুলনা প্রতিনিধি। এই তিনজন বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন কারণ অন্য কোনো প্রার্থী ছিলেন না। এছাড়াও, অন্যান্য পদে নির্বাচিত হন মোঃ নূরুজ্জামান (বাসস, খুলনা জেলা প্রতিনিধি), আশরাফুল ইসলাম নূর (সময়ের খবর, সিনিয়র রিপোর্টার), মোঃ এরশাদ আলী (নয়াদিগন্ত, খুলনা ব্যুরো প্রধান) ও কে এম জিয়াউস সাদাত (প্রবর্তন, নির্বাহী সম্পাদক)। গত রোববার অনুষ্ঠিত দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনে মোট ৭ পদে অন্য কেউ প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করায় নির্বাচন কমিশন তাদের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করে। নির্বাচনের পরিচালনা করেন ইউনিয়নের সিনিয়র সদস্য ও ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেসের খুলনা ব্যুরো প্রধান জি এম রফিকুল ইসলাম। অপর সদস্যরা হলেন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও কালের কণ্ঠের খুলনা ব্যুরো প্রধান এইচ এম আলাউদ্দিন ও দৈনিক খুলনাঞ্চলের সম্পাদক মিজানুর রহমান মিলটন। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় খুলনা প্রেসক্লাবের ইউনিয়ন কার্যালয়ে বর্তমান সভাপতি মোঃ আনিসুজ্জামান ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন হিমালয় ছেড়ে নবনির্বাচিত নেতাদের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন। এর পাশাপাশি, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতৃবৃন্দ নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। বিএনপি নেতারা এক যৌথ বিবৃতিতে বলছেন, নতুন এই কমিটি পেশাদার সাংবাদিকদের ন্যায্য অধিকার রক্ষা, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সার্বিক কল্যাণে কাজ করবে। তারা আরও উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে সংগঠনটি মহান মুক্তিযুদ্ধ, বাংলাদেশের স্বাধিকার ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। গণহত্যাকারী ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার চেষ্টা যেন কেউ না করে, সে জন্য মিডিয়াগুলোকে দেশের জনগণের পক্ষে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে উদ্বুদ্ধ করা হবে। নেতৃবৃন্দ এই দীর্ঘ পথচলায় সকলের সহযোগিতা প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। বিবৃতিদাতারা হলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল, তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল, মহানগর বিএনপি সভাপতি এড. শফিকুল আলম মনা, জেলা আ“`}

  • আমি যেন শেখ হাসিনার ফাঁসি কার্যকর দেখার স্বপ্ন দেখি

    আমি যেন শেখ হাসিনার ফাঁসি কার্যকর দেখার স্বপ্ন দেখি

    জুলি শহীদ রাকিবুল হোসেনের বাবা-মা মানছেন, দ্রুত শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকর করতে হবে। তারা দাবি করেন, গত গণঅভ্যুত্থানে গনহত্যা ও মানবতাবিরোধী অসংখ্য অপরাধের জন্য আদালতে দেওয়া রায় প্রমাণিত হয়েছে। সোমবার বিকেলেও তারা এই দাবি প্রকাশ করেন। শহীদ রাকিবুলের মা হাফিজা খাতুন বলেন, শেখ হাসিনা তার ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ছাত্র-জনতাকে হত্যা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। আদালতের রায়ে সব অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আমি কিছুটা সন্তুষ্ট। আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ জানাচ্ছি, তিনি যেন আমাকে এ দেখার সৌভাগ্য দেন যে, কবে আমি শেখ হাসিনার ফাঁসি কার্যকর হতে দেখতে পারবো। তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আছাদুজ্জামান খান কামালসহ সকল প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ দফতর পক্ষের সাথে যুক্ত সবাইকে ফাঁসি দিতে হবে। যারা এই গণহত্যার সঙ্গে জড়িত হয়ে বিদেশে পালিয়ে গেছে, তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে ফাঁসির দণ্ড কার্যকর করতে হবে। আজ আমরা খুশি, কারণ সমাজের এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের জন্য তারা দায়ী। ১৮ জুলাই ঢাকার মিরপুর ১০ নম্বর ওয়ার্ডে অনুষ্ঠিত গণঅভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছিলেন ইঞ্জিনিয়ার রাকিবুল হোসেন। আন্দোলনরত অবস্থায় পুলিশ তার উপর গুলি চালিয়ে তাকে নিহত করে। তিনি ঢাকার বনানীর একটি জুট মিলের ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করতেন। তার গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলার বাসুদেবপুর গ্রামে।

  • শেখ হাসিনার বিচারপ্রাপ্ত রায় দেশে আইনের শাসন ফিরিয়ে আনছে

    শেখ হাসিনার বিচারপ্রাপ্ত রায় দেশে আইনের শাসন ফিরিয়ে আনছে

    অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যান্ডেট বাস্তবায়নের পথ এখন সুস্পষ্ট মনে করছেন বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির তথ্য সম্পাদক ও খুলনা-৪ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী আজিজুল বারী হেলাল। তিনি বলেন, জুলাই সনের মাধ্যমে শুরু হওয়া সংস্কার প্রক্রিয়া এখন কার্যকর রূপ পাচ্ছে। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গুম-খুনের ঘটনায় আদালতের বিচারে প্রাপ্ত রায় এটিই প্রমাণ করে যে, দেশের আইন শাসন আবার ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। গতকাল সোমবার আইচগাতীতে বিএনপি নেতাকর্মীদের সাথে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন হেলাল। তিনি আরও বলেন, এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো অবাধ, সুষ্ঠু এবং সবার গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের আয়োজন করা। এই নির্বাচনই সিদ্ধান্ত নেবে দেশের ভবিষ্যৎ কেমন দাঁড়াবে। অনেক বছর ধরে জনগণ যা চেয়েছে, সেটি বাস্তবে রূপ দিতে এবার সুযোগ এসেছে। বিএনপি সবসময় শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কার্যকলাপ ও গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। জনগণই আমাদের শক্তির উৎস, এবং গণতন্ত্রই আমাদের পথ, আনলেন তিনি।

    হেলাল উল্লেখ করেন, যারা দেশের মানুষের ওপর অত্যাচার-নিপীড়ন চালিয়ে পালিয়ে গিয়েছিল, তাদের বিরুদ্ধে আদালত ঐতিহাসিক রায় দিয়েছেন। আসন্ন নির্বাচনে ষড়যন্ত্রের জন্য সমস্ত অপশক্তি এখনই প্রতিরোধের মুখে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়া বানচাল করার জন্য যেসব ষড়যন্ত্র চলছে, তা সবই ব্যর্থ হবে।

    জনগণের ভোটাধিকার সংগ্রামের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ ঢের আন্দোলন করেছে, সংগ্রাম করেছে, তাদের নিজের ভোট নিজে দেওয়ার জন্য, পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার জন্য।” আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের দিকে লক্ষ্য করে বিএনপি কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করবে না বলে জানানো হয়। তিনি বলেন, “রাজনীতি মানে মানুষের সুবিধা বাড়ানো, কষ্ট দেওয়া নয়। বিএনপি পরিবর্তনের রাজনীতি চায়—সংঘাতের নয়।” এই সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপি’র যুগ্ম-আহবায়ক খান জুলফিকার আলী জুলু। এতে আরও বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপি’র অন্যান্য নেতারা, যেমন খায়রুল মোল্লা, কামরুজ্জামান টুকু, শেখ আব্দুর রশিদ, এনামুল হক সজল, নাজমুস সাকিব পিন্টু, আব্দুস সালাম মল্লিক, রিয়াজ মোল্লা, আরিফুর ইসলাম আরিফ, আলী আজগর, খান সাহানুর রহমান আর্জু, শেখ আনিসুর রহমান ও অন্যান্য নেতারা। সভা শেষে নেতাকর্মীরা নির্বাচনী প্রস্তুতি, কেন্দ্রভিত্তিক কমিটি ও প্রচারণার কৌশল বিষয়ক পরবর্তী পরিকল্পনা গ্রহণ করেন।

  • দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে হবে

    দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে হবে

    আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে খুলনা-২ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম মঞ্জু সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে হবে। তিনি বলেন, বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে নির্বাচনকে বিলম্বিত করার চেষ্টাও চলমান। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন বেশ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ গত ১৬ বছর ফ্যাসিস্ট সরকার শাসনামলে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন সাধারণ মানুষ। তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দলকে শক্তিশালী করে আগামী নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান।

    সোমবার সকাল সাড়ে ১১টায় ১৬নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সাবেক সহ-সভাপতি মরহুম আব্দুল জলিল বিশ্বাস, ২৩নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা মরহুম আব্দুল আজিজ, যুবদলের সাবেক নেতা মরহুম আরাফত রহমান মাসুম, সাংবাদিক মরহুম এটিএম আব্দুর রফিক, ৩০নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সাবেক সভাপতি মরহুম মোজাফফর হোসেন, সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক মরহুম শেখ ফারুক হোসেনসহ বিভিন্ন নেতাকর্মীর বাসভবনে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এছাড়াও, অসুস্থ বিএনপি নেতাদের সুস্থতা কামনা করে বিশেষ দোয়া এবং তাঁদের ভরসা দিয়ে দোয়া করেন। এ সময় তিনি সকলকে আগামী নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার জন্য উদ‍্যোগী ও একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।

    সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক আরিফুজ্জামান অপু, নজরুল ইসলাম বাবু, আসাদুজ্জামান মুরাদ, আনোয়ার হোসেন, সাদিকুল রহমান সবুজ, ইউসুফ হারুন মজনু, নিয়াজ আহমেদ তুহিন, শামসুজ্জামান চঞ্চল, শেখ জামিরুল ইসলাম জামিল, ইশহাক তালুকদার, মেজবাহ উদ্দিন মিজু, রবিউল ইসলাম রবি, আসলাম হোসেন, আলমগীর হোসেন আলম, ইকবাল হোসেন, রিয়াজুর রহমান, মাসুদ খান বাদল, আব্দুল হাকিম, আতিকুর রহমান, সাইমুন ইসলাম রাজ্জাক, অরিফুর রহমান আরিফ, আমির হোসেন বাচ্চু, এম এ সালাম, বাবুল হোসেন, সুলতান মাহমুদ সুমন, শহিদুল ইসলাম খোকন, জাহিদুল ইসলাম, হাফিজুর রহমান টুটুল, আবু তালেব, ওহেদুর রহমান বাবু, সমির কুমার সাহা, শুকুর আলী, সজল আকন নাসিব, আব্দুল্লাহ আল মামুন, আসাদ সানা, আবুল কাশেম, জাহিদুল ইসলাম শেখ, সেলিম বড় মিয়া, আলাউদ্দিন আলম, জাহান আলী সরদার, হারুন মোল্লা, খান রাজিব, খন্দকার সোহেল, শামীম রেজা, পারভেজ মোড়ল, মেজবাউল আলম পিন্টু, ফিরোজ আহমেদ, সোহরাব হোসেন, এড. এনামুল কবির, আবুল কালাম গাজী, জুয়েল রহমান, আক্তারুজ্জামান, ফারুক হোসেন, আব্দুর রহিম, ইউনুচ সরদার, আব্দুল করিম, পারভেজ আহমেদ, জাহিদল ইসলাম জিহাদ, মামুনুর রহমান রাসেল, শফিক উদ্দিন, তানভীর প্রিন্স, মো: মুন্না, মারুফ হোসেন, মহিউদ্দিন মঈন, ফিরোজ হোসেন প্রমুখ।

  • ব্রিটিশ ভারতের অন্যতম তৃণমূল নেতা ও গণআন্দোলনের মহা নায়ক মওলানা ভাসানী

    ব্রিটিশ ভারতের অন্যতম তৃণমূল নেতা ও গণআন্দোলনের মহা নায়ক মওলানা ভাসানী

    খুলনা মহানগর বিএনপি’র সভাপতি এড. শফিকুল আলম মনা বলেছেন, মওলানা ভাসানীর জীবন আমাদের জন্য মহান শিক্ষা- সাধারণ জীবন ও উচ্চ ভাবনাকে সম্পৃক্ত করতে। মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী আফ্রো-এশিয়া ও লাতিন আমেরিকার মানুষের কাছে একজন ‘মজলুম জননেতা’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি ছিলেন ব্রিটিশ ভারতের অন্যতম তৃণমূল রাজনীতিবিদ এবং গণআন্দোলনের মুখপাত্র। বিভিন্ন সাধারণ ও স্থানীয় নির্বাচনে জয়ী হলেও কখনো ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য আকৃষ্ট হননি। তার নেতৃত্বের মূল ভিত্তি ছিল কৃষক, শ্রমিক ও সাধারণ জনগোষ্ঠীর অধিকার ও স্বার্থ রক্ষার জন্য অবিরাম সংগ্রাম। ১৯৪৭ সালে সৃষ্ট পাকিস্তান এবং ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরবর্তী রাজনীতিতে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ১৮৮০ সালের ১২ ডিসেম্বর সিরাজগঞ্জের ধানগড়া পল্লীতে জন্মগ্রহণ করেন, তার পিতা হাজি শারাফত আলী। নিজ শিশু ও কিশোর বয়সেই পিতা-মাতাকে হারান। গতকাল সোমবার সকালে স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা ও জাতির পিতা মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে খুলনা মহানগর বিএনপি’র আয়োজিত আলোচনায় সভাপতির বক্তৃতায় এ কথা বলেন। এড. মনা বলেন, তার ডাকনাম ছিল চেগা মিয়া, ছোটবেলায় তিনি ছাচা ইব্রাহিমের আশ্রয়ে থাকতেন। তখন সিরাজগঞ্জে আসেন ইরাকের একজন আলেম ও ধর্মপ্রচারক নাসির উদ্দিন বোগদাদী, যিনি হামিদকে কিছু সময়ের জন্য আশ্রয় দেন। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি টাঙ্গাইলের কাগমারিতে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন এবং পরে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটের কালা গ্রামে একটি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেন। আপশোসের সঙ্গে বলে রাখতে চাই, অসহায় মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা, গণতন্ত্র, মানবাধিকার, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় মওলানা ভাসানী প্রতিনিয়ত আমাদের অনুপ্রেরণা। তার অগাধ দেশপ্রেম, দেশের স্বার্থ রক্ষা ও গণতন্ত্র ও মানবতার বিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে অবিরাম সংগ্রাম আমাদের জন্য চিরস্মরণীয়। তার আদর্শ অনুসরণ করে আমাদের প্রত্যাশিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব। মনা আরও বলেন, অধিকার প্রতিষ্ঠায় তিনি এ দেশের মানুষের সাহস জুগিয়েছেন তার নির্ভীক ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বের মাধ্যমে। তার হুঁশিয়ারি ও হুঁশিয়ারিতে অত্যাচারী শাসক ও শোষকগোষ্ঠীর মসনদ কাঁপত। কঠিন সময় ও দুর্দিনে জনস্বার্থে মানুষের পাশে থাকার জন্য তিনি জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করেছিলেন। অনুষ্ঠানে মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন বলেন, মওলানা ভাসানী আমাদের জাতীয় ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় নাম, যিনি ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে উপমহাদেশের নিপীড়িত-নির্যাতিত মানুষের অধিকার আদায়, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অমোঘ নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি কৃষক, শ্রমিক ও সাধারণ মেহনতি জনতার ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় এক আলোকবর্তিকা। সভা শেষে বিশেষ দোয়া ও মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এই আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন, নগর বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সাদী, মাসুদ পারভেজ বাবু, হাসানুর রশীদ চৌধুরী মিরাজ, থানা সভাপতি কেএম হুমায়ূন কবির, সেখ হাফিজুর রহমান মনি, মুর্শিদ কামাল, কাজী মিজানুর রহমান, বদরুল আনাম খান, সাবেক নেতা জামাল উদ্দিন তালুকদার, থানা সাধারণ সম্পাদক শেখ ইমাম হোসেন, আবু সাঈদ হাওলাদার, আসাদুজ্জামান আসাদ, বিএনপি’র বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ ও অঙ্গ সংগঠনের কর্মীরা।