Blog

  • বাংলাদেশ-ভারত নারী ক্রিকেট সিরিজ স্থগিতের আশঙ্কা

    বাংলাদেশ-ভারত নারী ক্রিকেট সিরিজ স্থগিতের আশঙ্কা

    ভারতীয় পুরুষ দলের বাংলাদেশ সফর স্থগিতের পরে আরেকটি আসন্ন সফরও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়তে পারে। বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের ভারতের সফর নিয়েও জটিলতা দেখা দিয়েছে। আগামী ডিসেম্বরে নির্ধারিত এই সিরিজ স্থগিতের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, এমনটাই জানিয়েছে ভারতের জনপ্রিয় গণমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস।

    আইসিসির ফিউচার ট্যুর প্রোগ্রামের (এফটিপি) আওতায়, বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট দল আগামী মাসে ভারতের বিরুদ্ধে তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলার পরিকল্পনা করেছিল। তবে ভারতের ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআই থেকে জানা গেছে, এখনো এই সিরিজের জন্য দরকারি সরকারি অনুমোদন মেলেনি।

    বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের পরিস্থিতি জটিল থাকায় এই সিরিজের আয়োজন নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। এরই মধ্যে সিরিজের সময়সূচি বা ভেন্যু ঠিকভাবে ঘোষণা হয়নি।

    প্রায় এক বছর আগে, গত আগস্টে ভারতীয় পুরুষ দলের বাংলাদেশ সফরও পিছিয়ে যায়। তখন বিসিসিআই জানিয়েছিল, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের প্রতিশ্রুতি এবং দুই দেশের সুবিধাজনক সূচির কারণে সিঁদান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই সিরিজটি এখন ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

    এবার নারী দলের সফরও একই পথে হাঁটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, বিসিসিআই কর্মকর্তারা ডিসেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে একটি বিকল্প হোম সিরিজ আয়োজনের চেষ্টা করছেন। এবারের ভারতের নারী দলের জন্য এটি প্রথম আন্তর্জাতিক সিরিজ হবে বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের পর।

    যদিও, জানুয়ারির শুরুর দিকে রয়েছে উইমেন্স প্রিমিয়ার লিগ (ডব্লিউপিএল) এবং এরপর অস্ট্রেলিয়া সফর। ফলে, যদি সফরটি হয়, তা সংক্ষিপ্ত আকারে অনুষ্ঠিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    অর্থাৎ, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এখনও পর্যন্ত এই ব্যাপারে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।

  • ২২ বছরের অপেক্ষা শেষ, বাংলাদেশ জিতল ভারতকে হারিয়ে

    ২২ বছরের অপেক্ষা শেষ, বাংলাদেশ জিতল ভারতকে হারিয়ে

    ফিলিপাইনের রেফারির শেষ বাঁশির অপেক্ষায় ছিল পুরো জাতীয় স্টেডিয়াম। যখন রেফারি বাঁশি বাজালেন, তখন দর্শকদের উল্লাসে মুখরিত হলো গ্যালারি। ফুটবলাররা তখন অনুপ্রেরণার ঝাঁকুনি পেয়েছেন। এই জয় বাংলাদেশের জন্য বিশেষ কারণ, তারা দীর্ঘ ২২ বছর পর ভারতের বিপক্ষে এই জয় অর্জন করতে সক্ষম হল। এর আগে ২০০৩ সালে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে মতিউর মুন্নার জোড়া গোলের মাধ্যমে বাংলাদেশ ভারতের ওপর জয় লাভ করেছিল। এবার,২০১-এরশিয় যুদ্ধের জয় এনে দিয়েছেন শেখ মোরসালিনের বিস্ময়কর গোল। ম্যাচের মাত্র ১২ মিনিটে বাংলাদেশের জন্য প্রথম গোলটি আসে, এবং তারা সেই লিড প্রায় ৮০ মিনিটের জন্য বজায় রাখতে সক্ষম হয়। এই জয় আরও গুরুত্বপূর্ণ কারণ, বাংলাদেশ হংকং ও নেপালের বিপক্ষে ম্যাচের শেষ মুহূর্তে গোল হজম করেছিল, যেখানে রক্ষণ বা গোলরক্ষকের ভুলে হারতে বসেছিল। কিন্তু আজ, সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়নি। ভারত দ্বিতীয়ার্ধে আরও আক্রমণ চালিয়েও গোল করতে পারেনি। দ্বিতীয় হাফের শুরু থেকে ভারতের আক্রমণ তীব্র হলেও বাংলাদেশের রক্ষণ আর গোলরক্ষকের দৃঢ়তায় তারা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। ৬৫ মিনিটে বাংলাদেশের এক কৌশলী Counter Attack থেকে গোলের সুযোগ তৈরি হয়, তবে সে এগিয়ে যেতে পারেনি। ৭৮ মিনিটে শাকিল আহাদ টপ বলতে বললেন, দূরপাল্লার শট দিলেও ভারতীয় গোলরক্ষক সান্ধু দুর্দান্ত সেভ করেন। ৯২ মিনিটে ভারত সমতা ফেরানোর জন্য মরিয়া ছিল, কিন্তু বাংলাদেশের মানসিকতা আর মিতুল মারমার সাফল্যে তারা সফল হয়নি। পরে, ৯৬ মিনিটে বাংলাদেশের নিরাপদ অবস্থানে থাকার ফলে তারা জয় নিশ্চিত করে। সন্ধ্যার ম্যাচটি শুরু থেকেই ছিল উত্তেজনাপূর্ণ, বাংলাদেশ জয়ের জন্য মুখিয়ে ছিল। প্রথমার্ধে বাংলাদেশ যথাসাধ্য আক্রমণ করে ভারতের রক্ষণকে চাপে রাখে। খেলায় একমাত্র গোলটি আসে ১১ মিনিটে, মাঝমাঠ থেকে রাকিব হোসেন তার দ্রুততার মাধ্যমে দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে তুলে বল পাঠান শেখ মোরসালিনের দিকে। মোরসালিন দ্রুতই গোল করেন, যা পুরো দলের মনোবল বাড়ায়। এরপর, রাকিব আরও একটি সুযোগ তৈরি করেন, তবে ভারতীয় গোলরক্ষক গুরপ্রীত সিং সান্ধু বল প্রতিরোধ করেন। ৩১ মিনিটে পরিস্থিতির অবনতি হয়, যখন ভারতীয় খেলোয়াড়রা গোলের কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ার সময়, গোলপোস্টের কাছে বল বাইরে চলে যায়। এরপর ৩৫ মিনিটে খেলার উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, দুদলের মধ্যে হাতাহাতি ও ঝগড়া শুরু হয়। অর্ধেকের শেষ দিকে, হামজা চৌধুরী গুরুত্বপূর্ণ এক ডিফেন্সিভ ক্লিয়ারেন্স করেন, যাতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উত্তেজনা নিয়ন্ত্রিত হয়। প্রথমার্ধের শেষের দিকে, হামজার এক সেরা শট ভারতীয় রক্ষণের অদম্য প্রতিরোধের কারণে গোলের বাইরে চলে যায়। এই জয় বাংলাদেশের ফুটবল প্রেমীদের জন্য নতুন আশার কথা, তারা দীর্ঘ ২২ বছর পর এই মনোমুগ্ধকর জয়ে জয়ের স্বাদ পেলেন।

  • বাংলাদেশ ক্রিকেটে তিন ফরম্যাটে সহ-অধিনায়ক হিসেবে শান্ত, মিরাজ ও সাইফ

    বাংলাদেশ ক্রিকেটে তিন ফরম্যাটে সহ-অধিনায়ক হিসেবে শান্ত, মিরাজ ও সাইফ

    বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের জন্য সুখবর এসেছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সবাইকে জানানোর মতো সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তিনটি ফরম্যাটে নতুন করে সহ-অধিনায়ক নিযুক্ত হয়েছে। মঙ্গলবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বোর্ড এটি নিশ্চিত করেছে। টেস্ট সিরিজে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তের ডেপুটি হিসেবে দায়িত্বে আছেন মিডফিল্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ। চলমান টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে এই দুজনকেই বাংলাদেশ দলের নেতৃত্বের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ১৫ বছরের দায়িত্বে থাকা শান্তকে এই দায়িত্বে আরও শক্তিশালী করেছে বোর্ড।

  • ভারতকে হারানোর জন্য হামজা-জামালদের ২ কোটি টাকা পুরস্কার ঘোষণা

    ভারতকে হারানোর জন্য হামজা-জামালদের ২ কোটি টাকা পুরস্কার ঘোষণা

    বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচ মানেই যেন এক আবেগের উত্তাপ আর অশেষ উন্মাদনা। আজকের ম্যাচের আগে থেকেই গ্যালারিতে উপচে পড়া দর্শকদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা দর্শক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা জাতীয় স্টেডিয়ামে উপস্থিত হয়ে বাংলাদেশের জয় উপভোগ করতে দর্শক শ্রোতাদের সাথে ছিলেন।

    আজকের ম্যাচে বাংলাদেশ ২-১ গোলে ভারতের বিপক্ষে ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করে। এই জয়কেই চারদিকে উৎসাহ এবং খুশির ছোঁয়া। বিভিন্ন দপ্তর ও কর্মকর্তারা ড্রেসিংরুমে গিয়ে ফুটবলারদের সাথে এই বিজয় উদযাপন ভাগ করে নেন। যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এই ঐতিহাসিক জয় উদযাপন করার জন্য ২ কোটি টাকা বোনাস ঘোষণা করেছেন।

    বাফুফে কর্মকর্তারা জানান, এই ঘোষণা ফুটবলারদের মধ্যে নতুন এই জয়কে উৎসাহী ও অনুপ্রাণিত করেছে। উপস্থিত ছিলেন বাফুফে সভাপতি, যিনি হোটেলে উপস্থিত থেকে নৈশভোজে অংশ নেন। আগামীকাল সকালে হামজা ইংল্যান্ডের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করবেন।

    উল্লেখ্য, যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সম্প্রতি নারী ফুটবল দলের জন্য দুই দফায় মোট দেড় কোটি টাকা দিয়েছেন। গত বছর সাফ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য এক কোটি টাকা এবং এশিয়া কাপের কোয়ালিফাই করার জন্য ৫০ লাখ টাকা। তিনি তাদের সব প্রতিশ্রুতি পালন করেছেন।

    অন্যদিকে, বাংলাদেশ নারী ফুটবলারদের সাফ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য দেড় কোটি টাকা ঘোষনা করলেও একটি বছর পার হলেও অর্থাফল এখনও পাননি। এই পরিস্থিতিতে দেশের ফুটবলপ্রেমীরা আশা করেন, শীঘ্রই এই অর্থ পরিশোধ হবে।

  • ভারতের বিপক্ষে ২২ বছর পর জয় বাংলা ফুটবল দলের জন্য লজ্জার হার

    ভারতের বিপক্ষে ২২ বছর পর জয় বাংলা ফুটবল দলের জন্য লজ্জার হার

    বাংলাদেশ ফুটবল দল সম্প্রতি একটি ঐতিহাসিক জয় লাভ করেছে, যা ২২ বছর পরে দেশের ফুটবল ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যুক্ত করল। গতকাল ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে, বাংলাদেশের ক্যাপ্টেন শেখ মোরসালিনের একমাত্র গোলের জন্য ধন্যবাদ, তারা ১-০ ব্যবধানে ভারতের বিরুদ্ধে জয়লাভ করে। এই জয়টির ফলে স্বাগতিক ফুটবলাররা উল্লসিত ও উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেন, যেন তাদের স্বপ্নের সত্যি হওয়ার মুহূর্ত।

    অন্যদিকে, ভারতের ডাগআউটে হতাশার আর্তনাদ পড়ে যায়। অনেকটাই মাথা নিচু করে মাঠ ছাড়েন খালিদ জামিলের শিষ্যরা। দেশটির গণমাধ্যমেও এই হারকে ‘লজ্জার’ বলে অভিহিত করা হয়েছে, যা একজন পর্যবেক্ষককেও ভাবিয়ে তুলেছে।

    দক্ষিণ এশিয়ান ডার্বির পর ভারতের বেশকিছু বিশ্লেষক এবং গণমাধ্যমে ফুটে উঠেছে, এই হারকে দেশের জন্য বড় ধাক্কার হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংবাদমাধ্যম যেমন দ্য হিন্দু, এনডিটিভি, ফার্স্ট পোস্ট ইত্যাদি ভারতের হারকে ‘লজ্জার’ বলে আখ্যায়িত করেছে।

    প্রায় ২০০৩ সালে ঢাকা স্টেডিয়ামেই সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে বাংলাদেশের জন্য মতিউর মুন্নার গোল্ডেন গোলের মাধ্যমে ভারতকে পরাজিত করেছিল। সেই সময়ের স্মৃতি এখন আবার ফিরে এসেছে, কারণ ২২ বছর পরে একই মাঠে বা উল্লেখযোগ্যভাবে একই স্থানে বাংলাদেশ জয়লাভ করল, এতে ফুটবলে নতুন আশা জাগছে। ম্যাচের ১২ মিনিটে বাংলাদেশের হয়ে গোল করেন শেখ মোরসালিন, যা পুরো ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেয়। এই গোলের ফলে তারা অবিস্মরণীয় জয় ছুঁয়ে দেয়, যা দর্শকদের মনে গেঁথে থাকবে অনন্তকাল।

    বাংলাদেশের ফুটবল সূচনায় একটি নতুন সূর্যোদয় দেখছে ফুটবলপ্রেমীরা, যার সূচনা হয়েছিল একজন ইংল্যান্ড প্রবাসী ফুটবলার হামজা দেওয়ান চৌধুরীর অবদান দিয়ে। তার দেখানো পথে হাঁটছে তরুণ ফুটবলাররা যেমন- সামিত সোম, ফাহামিদুল, জায়ান আহমেদ ও কিউবা মিচেল। অন্যদিকে, ভারতের ফুটবল ধীরে ধীরে অস্তাচলে চলে যাচ্ছে। অধিনায়ক সুনীল ছেত্রী বা অন্য তারকারা এ সময় নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছেন। গতকাল বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচে স্কোয়াডে ছিলেন না তিনি, এমনকি কোচ বদলেও জয় আশা এখন ধীরে ধীরে দূর হওয়ার পথে।

    এশিয়ান কাপ ২০২৭-এর বাছাইপর্বের আগেই দুই দলই এই টুর্নামেন্টের জন্য বিদায় নিশ্চিত করে ফেলেছে। তার পরও ঢাকার ন্যাশনাল স্টেডিয়ামের ম্যাচটি ছিল বাংলাদেশের জন্য এক রূপের নবজাগরণের মঞ্চ। অন্যদিকে, ভারত ছিল ‘মানরক্ষার’ আশায় মাঠে নামলেও তারা প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স দেখাতে পারেনি। বাংলাদেশ আবারও প্রমাণ করল তাদের ফুটবলে পরিবর্তন আসছে, যদিও এখন পরের পর্বে যাওয়ার সুযোগ নেই। তবুও এই জয় বাংলার জন্য এক নতুন ইতিহাসের সূচনা, যা ফুটবলপ্রেমীদের মনে নতুন আশা জাগিয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশ ১৮৩ নম্বরে অবস্থান করছে, আর ভারতের র‌্যাংকিং ১৩৬।

    অভিযান শেষে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভারতীয় সমর্থকদের ক্ষোভ ঠিকই ফুটে উঠেছে। তারা এই হারের জন্য কোচ খালিদ জামিল সহ সমর্থকদের সমালোচনায় মুখর। এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে ভারতের জয়ের সংখ্যা এখন শূন্য, ফলে তারা গ্রুপে তলানিতে। এই হেরে দেশের ফুটবল ইতিহাসে এটি সবচেয়ে খারাপ পারফরম্যান্স। অন্যদিকে, বাংলাদেশের জন্য এই জয়টি ছিল উৎসবের মতো, যা ফুটবলে তাদের নতুন প্রেরণা যোগাচ্ছে। যদিও এখন আর পরের পর্বের জন্য সুযোগ নেই, কিন্তু এই জয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে ভবিষ্যতের জন্য।

  • ভারতের জন্য ‘গলার কাঁটা’ হাসিনা

    ভারতের জন্য ‘গলার কাঁটা’ হাসিনা

    ওয়াশিংটনভিত্তিক দক্ষিণ এশিয়া বিশ্লেষক মাইকেল কুগেলম্যান মনে করেন, নির্বাসিত অবস্থায় হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ার ফলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক দীর্ঘমেয়াদে চাপের মধ্যে থাকবে। তার ভাষায়, হাসিনার উপস্থিতি দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে কাঁটার মতো আটকে থাকবে। তবে তিনি এও মনে করেন যে, ভারতের নিজস্ব মিত্রদের প্রতি তার প্রতিশ্রুতি রক্ষার জন্য এটি একটি প্রতিফলন, কারণ ভারতের জন্য এটি রাজনৈতিকভাবে দীর্ঘমেয়াদে কিছু সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। কুগেলম্যান বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে বংশভিত্তিক দলগুলো দীর্ঘ সময় সংকটে থাকলেও পুরোপুরি বিলুপ্ত হয় না। তাই আওয়ামী লীগকেও পুরোপুরি বাতিল করার সময় এখনও আসেনি। ভবিষ্যতের রাজনৈতিক পরিবর্তনে এই দলটির ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।অন্যদিকে ভারতের জিন্দাল গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক শ্রীরাধা দত্ত বলেন, হাসিনা ইস্যুতে ভারতের পরিস্থিতি ‘অস্বস্তিকর’। তিনি ব্যাখ্যা করেন, ভারত বুঝতে পারছে যে বাংলাদেশের বেশির ভাগ জনগণ হাসিনার প্রতি ক্ষুব্ধ, কিন্তু তাকে আবার বাংলাদেশের মূল রাজনীতিতে স্থান দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। দত্ত আরও বলেন, আদর্শ অবস্থায় ভারত চাইবে একসময় আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় ফিরুক, কারণ ‘হাসিনা ভারতের জন্য সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বিকল্প’। তবে বর্তমান বাস্তবতায় ভারতের জন্য প্রয়োজন ঢাকার অন্যান্য রাজনৈতিক স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠন। তিনি আরও যোগ করেন, দুই দেশের সম্পর্ক বর্তমানে খুবই সংকটাপন্ন, তাই হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টিকে কেন্দ্র করে সম্পর্ক জটিল না করে এগিয়ে যেতে হবে।জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সঞ্জয় ভর্ধ্বাজ বলেন, হাসিনা ইস্যুতে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট—ঢাকার বর্তমান সরকারকে তারা ‘অ্যান্টি-ইন্ডিয়া’ হিসেবে দেখে। ভর্ধ্বাজের মতে, বাংলাদেশে এখন যেসব রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় আছে, তারা প্রকাশ্যে ভারতের সমালোচনা করে ও হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য নয়াদিল্লিকেই দোষারোপ করছে। তিনি আরও বলেন, এই পরিস্থিতিতে ভারতের জন্য হাসিনাকে ফেরত দেওয়া হলে সেটি হবে ভারতের বিরোধী শক্তিগুলোর বৈধতা প্রদান, যা বাস্তবসম্মত নয়।ভারত-বাংলাদেশ প্রত্যর্পণ চুক্তিতে ‘রাজনৈতিক ব্যক্তিদের’ অপরাধের ক্ষেত্রে ছাড় রয়েছে, এবং ভারতের পক্ষ থেকে এই ব্যতিক্রমটাই প্রয়োগ হচ্ছে বলে ভর্ধ্বাজ উল্লেখ করেন। ২০১৩ সালে ছাড়সহ চুক্তি অনুযায়ী, ভারত ও বাংলাদেশ আসামীদের প্রত্যর্পণ করতে বাধ্য। তবে যদি আসামীরার মধ্যে ‘রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব’ থাকে, তাহলে প্রত্যর্পণের অনুরোধ প্রত্যাখ্যানের সুযোগও রয়েছে।একদিকে, সম্পর্কের নতুন সমীকরণ গড়ার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দুই দেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এখন কিছুটা তিক্ততার মুখে পড়লেও, সম্পূর্ণ ভেঙে যায়নি। বাণিজ্য, সীমান্ত নিরাপত্তা, আঞ্চলিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। তবে হাসিনা সম্পর্কের বিষয়টি দুই দেশের কূটনীতিতে বড় বাধা হয়ে রয়ে গেছে। বাংলাদেশ তাকে প্রত্যর্পত করতে চাইলেও ভারত মনে করছে নাว่า এটি সম্ভব। অন্যদিকে, ভারতও বুঝতে পারছে যে ঢাকার নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে।

  • হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়: ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্কের নতুন উত্তেজনা

    হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়: ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্কের নতুন উত্তেজনা

    ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে ভারতে মৃত্যুদণ্ডের রায়ে মুখোমুখি হয়েছেন সাবেক বাংলাদেশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই সিদ্ধান্তের ফলে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা চলে এসেছে। গত একবছরে বাংলাদেশ বারবার অনুরোধ করলেও ভারত তাকে প্রত্যর্পণ না করে, দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক অস্থিরতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ের বিশ্লেষকরা—মাইকেল কুগেলম্যান, শ্রীরাধা দত্ত এবং সঞ্জয় ভর্ধ্বাজ—ভারতের সামনে বাস্তবতা, দ্ব›দ্ব এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার নানা দিক বিশ্লেষণ করেছেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, যদি ভারত হাসিনাকে ফেরত না দেয়, তবে এর ফলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের মধ্যে কী ধরনের টানাপোড়েন তৈরি হতে পারে, তা স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।

  • ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলের ড্রোন হামলা, নিহত ১৩

    ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলের ড্রোন হামলা, নিহত ১৩

    দক্ষিণ লেবাননের সাইদা শহরের আইন আল-হিলওয়ে ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলের ড্রোন ও বিমান হামলায় এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ১৩ জন নিহত হয়েছেন। এ হামলায় আরও অনেক লোক গুরুতর আহত হয়েছেন, যা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

    গতকাল মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) সন্ধ্যার সময় এই হামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন লেবাননের স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়। স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল আল-মানার জানিয়েছে, শরণার্থী শিবিরের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ইসরায়েলি বিমান ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার পথে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান নিম্নে থেকে আরও হামলা চালায়, যা পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে।

    এই ঘটনায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, হামলার লক্ষ্য ছিল শরণার্থী শিবিরের ভেতর থাকা সংঘটিত সদস্যদের, যারা স্বীকার করে থাকেন যে সেখানে হামাসের সক্রিয় প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে। তারা বলেছে, এই হামলাটি হামাসের কার্যক্রমের জন্যতেই চালানো হয়েছে এবং ইসরায়েলি সেনারা বলেছে, তারা লেবাননে হামাসের উপস্থিতি ও সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোনও হুমকি দেখা দিলে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

    অন্যদিকে, হামাস এই দাবি সম্পূর্ণ অস্বীকার করে জানিয়েছে, শরণার্থী শিবিরে তাদের কোনো প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নেই। তারা বলেছে, ইসরায়েলি এই হামলা ছিল নিরীহ শনিবার শান্তিপূর্ণ জনগণের ওপর বর্বরোচিত আঘাত এবং লেবাননের সার্বভৌমত্বের এক ন্যায়বিচারবিহীন লঙ্ঘন।

    একই সময়ে, পশ্চিম তীরে গুশ এটজিওন জংশনে দুই ফিলিস্তিনি সন্দেহভাজনের ছুরিকাঘাত ও গাড়িচাপায় একজন ইসরায়েলি নাগরিক নিহত ও আরও তিনজন আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থলেই ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী হামলাকারী দুজনকে গুলি করে হত্যা করে।

    ফিলিস্তিনি জরুরি সেবা সংস্থাগুলি জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে একজন নারীর অবস্থা আশঙ্কাজনক। পাশাপাশি, গাজায় এক আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা বাহিনী (আইএসএফ) মোতায়েনের প্রস্তাব জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পাস হওয়ার পর সেখানে আলাদা মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে। কিছু ফিলিস্তিনি এই পরিস্থিতিকে গাজা থেকে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও মানবিক পুনর্বাসনের সুযোগ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ আশঙ্কা করে উঠেছেন, এই বাহিনী গাজায় নতুন ধরনের নিয়ন্ত্রণ ও হস্তক্ষেপের সূচনা করতে পারে।

    এই পরিস্থিতিতে, জর্ডান ও ফিলিস্তিনের নেতৃবর্গ যুদ্ধবিরতি আরও শক্তিশালী করতে এবং গাজার পুনর্গঠনের জন্য আন্তর্জাতিক সমন্বিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। জর্ডানের পক্ষ থেকে পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে, ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষা ও জেরুজালেমের পবিত্র স্থানসমূহের নিরাপত্তার জন্য তাদের দৃঢ় অবস্থান।

    উল্লেখ্য, লেবানন–ইসরায়েল সীমান্তে উত্তেজনা গত বছর শেষের দিকে বৃদ্ধি পায় এবং ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের দিকে পরিস্থিতি সম্পূর্ণরূপে যুদ্ধের রূপ নেয়। যদিও নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, লেবাননের পক্ষ অভিযোগ করছে যে ইসরায়েল প্রায়শই এই চুক্তি লঙ্ঘন করছে। বিশ্লেষক করিম এমিল বিতার বলেছেন, চুক্তি অনুযায়ী ইসরায়েল লক্ষ্য ছিল ২৬ জানুয়ারির মধ্যে দক্ষিণ লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার, কিন্তু তারা নির্ধারিত সময়সীমা মানেনি।

  • গাজা ইস্যুতে ট্রাম্পের প্রস্তাব পাস, রাশিয়ার কড়া সতর্কতা

    গাজা ইস্যুতে ট্রাম্পের প্রস্তাব পাস, রাশিয়ার কড়া সতর্কতা

    গাজায় শান্তি ফেরানোর নামে আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী বাহিনী (আইএসএফ) মোতায়েনের পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই প্রস্তাবকে রাশিয়া রাজনৈতিক ও উপনিবেশিক মনোভাবের প্রতিফলন বলে মনে করছে। গত ১৭ নভেম্বর জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ একটি রেজ্যুলেশন পাস করেছে, যেখানে গাজা অঞ্চলে এই আন্তর্জাতিক বাহিনী গঠন করার প্রস্তাবনা রয়েছে। তবে এর ক্ষেত্রে রাশিয়া ও চীন ভোটদানে বিরত ছিল। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই পরিকল্পনাকে সমর্থন জানানো হলেও রাশিয়া কেন ভোটদান থেকে বিরত থাকল, তা নিয়ে ব্যাপক তৎপরতা চলছে। রাশিয়ার জাতিসংঘে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ভাসিলি নেবেনজিয়া মনে করেন, এই প্রস্তাব স্বচ্ছতার অভাবে এবং ফিলিস্তিনিদের মতামত উপেক্ষা করে তৈরি হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘এই নথি যেন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অজুহাত হয়ে না দাঁড়ায়। ইসরাইল ও অবাধ পরীক্ষাগার হিসেবে ব্যবহৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের উপর এই দলিল যেন নিজস্ব স্বার্থের জন্য ব্যবহৃত না হয়।’ রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আরও উল্লেখ করেন, এই পরিকল্পনাটি উপনিবেশিক যুগের চিন্তাভাবনার মতো, যেখানে ফিলিস্তিনিদের মতামত গুরুত্ব পেত না। তিনি আফসোস করে বলেন যে, এই প্রস্তাবে আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা বাহিনী কীভাবে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (পিএ) সঙ্গে কাজ করবে, সেই স্পষ্টতা নেই। তিনি মনে করেন, এই বাহিনী গাজার পরিস্থিতি পরিচালনার জন্য নয় বরং আরও যুদ্ধোমুখী অবস্থার সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়া, রুশ দূত বলেন এই বাহিনী ‘রামাল্লার মতামত বা স্বায়ত্বশাসনকে বিবেচনা না করে স্বেচ্ছাচারীভাবে কাজ করতে পারে।’ নতুন এই বাহিনীতে করোন তুরস্ক, কাতার ও মিসর ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে। মূলত গাজার পুনর্নির্মাণ ও নিরাপত্তার অজুহাতে এই বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে, ট্রাম্প এই ভোটকে ‘ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত’ দাবি করে বলেছেন, আরও উত্তেজনাপূর্ণ ঘোষণা আসবে। অপর পাশে হামাস এই পরিকল্পনাকে চাপিয়ে দেওয়ার ‘আন্তর্জাতিক অভিভাবকত্ব’ আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেছে এবং জানিয়েছে তারা কখনো অস্ত্র দেয়া বন্ধ করবে না। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকেও সতর্ক করে বলা হয় যে, এই প্রস্তাব ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতা, যুদ্ধাপরাধের দায়বদ্ধতা এবং ক্ষতিপূরণের মৌলিক বিষয়গুলো উপেক্ষা করছে।

  • সৌদি যুবরাজের সামনে খাসোগি হত্যার প্রশ্নে ট্রাম্পের অনীহার জবাব

    সৌদি যুবরাজের সামনে খাসোগি হত্যার প্রশ্নে ট্রাম্পের অনীহার জবাব

    হোয়াইট হাউসে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের বিশাল বৈঠকের পর সাংবাদিকরা বিভিন্ন প্রশ্নের মুখোমুখি হন। তখনই এক সাংবাদিক খাসোগি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে প্রশ্ন করেন, যা মুহূর্তেই ট্রাম্পের মনোভাব বদলে দেয়। তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে জবাব দেন, এই ধরনের প্রশ্ন খাসোগির মতো বিতর্কিত ব্যক্তির প্রসঙ্গে করা হয় কারণ তিনি একজন পছন্দের ব্যক্তি ছিলেন না। ট্রাম্পের মতে, এ ধরনের কথা বলায় যুবরাজ বিব্রত হচ্ছেন। তিনি আরও জানান, এসব বিষয়ে মোহাম্মদ বিন সালমান কিছুই জানতেন না। ট্রাম্পের ভাষ্য, খাসোগি একজন রাজনৈতিক অস্থির ব্যক্তি ছিলেন, যাকে অনেকেই পছন্দ করতেন না, এ জন্যই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।

    বিবিসি জানিয়েছে, ট্রাম্পের এই মন্তব্য সৌদির যুবরাজের বিরুদ্ধে যে কথাগুলো বলা হয়েছে, সেগুলো মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ২০১৮ সালে ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে খাসোগির মৃত্যু হয়। ২০২১ সালে মার্কিন গোয়েন্দারা বলেছিলেন, যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান নিজেই এই হত্যার অনুমতি দিয়েছিলেন।

    এ বিষয়ে ট্রাম্পের মন্তব্যের পর যুবরাজ মোহাম্মদও নিজের মত প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের তদন্তে তাঁর প্রশাসন যথাযথ পদক্ষেপ নিয়েছে এবং ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক।

    খাসোগির স্ত্রী হানান ট্রাম্পের এই ভিন্ন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের সঙ্গে যুবরাজের আগের মতামত সম্পূর্ণ ভিন্ন। ২০১৯ সালে একটি অনুষ্ঠানে নিজে খাসোগির হত্যার দায় স্বীকার করেছিল যুবরাজ। এক্স-এ (আগের টুইটার) এক পোস্টে তিনি বলেন, ক্ষমা ও ক্ষতিপূরণের জন্য তারা যুবরাজের সঙ্গে দেখা করতে চান।

    বর্তমানে রাজনৈতিক আশ্রয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে বসবাসরত হানান আরও জানান, খাসোগির স্ত্রী হিসেবে তিনি জীবনে সত্যের জন্য লড়াই চালিয়ে যাবেন।