Blog

  • চুয়াডাঙ্গায় ঈদের দিনে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে নিহত ২

    চুয়াডাঙ্গায় ঈদের দিনে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে নিহত ২

    চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার ডাউকি ইউনিয়নের ছত্রপাড়া গ্রামে ঈদুল ফিতরের দিন বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে দুইজন নিহত এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন। শনিবার (২১ মার্চ) দুপুরে আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ববিরোধকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া উত্তেজনা ক্রমে বাঁধভাঙা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

    নিহতরা হলেন ছত্রপাড়া গ্রামের মৃত ইংরেজ কাজির ছেলে নাজিম উদ্দীন কাজি (৭৫) এবং নাবু কাজির ছেলে শিমুল কাজি (১৮)। স্থানীয়রা জানান, ঈদের নামাজ শেষে পুরোনো বিরোধ থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে শুরু হওয়া ধন্দর পরে বড় ধরনের মারামারিতে অনূ্যে অভিনত হয়।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, সংঘর্ষ চলাকালে শিমুল কাজি আহত হওয়ার খবর পেয়ে তার দাদা নাজিম উদ্দীন ঘটনাস্থলে ছুটে যান। নাজিম দুর্বল হয়ে পড়লে হাসপাতালে নেয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়; এলাকাবাসীর一অংশের দাবি তিনি নাতিকে রক্ষা করতে গিয়ে ধাক্কা খেয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হন। অন্যদিকে গুরুতর আহত শিমুলকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়েছিলো, পথে তারও মৃত্যু হয়।

    স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি লাল খাঁ ও উপজেলা যুবদলের সদস্য জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বাধীন ‘জাহাঙ্গীর গ্রুপ’ প্রতিপক্ষ ‘কুবির কাজি গ্রুপ’-এর উপর হামলা চালায়। এতে কুবির কাজিসহ বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

    আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. প্রশান্ত কুমার ধর জানান, সংঘর্ষের পর অন্তত পাঁচজন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। তাদের মধ্যে আছিয়া বেগম ও শরিফুল ইসলামকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়ায় রেফার করা হয়েছে।

    আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি বনি ইসরাইল বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঠিকঠাক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তিনি জানান, ঘটনায় এখনই কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি, ঘটনার বিস্তারিত ও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে তা বলা হবে। местা

    স্থানীয়রা শান্তি ফেরানো এবং পরিস্থিতি দ্রুত সুষ্ঠুভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

  • মোংলায় জামায়াত নেতার নেতৃত্বে সশস্ত্র হামলায় বিএনপি নেতা ও স্ত্রী জখম

    মোংলায় জামায়াত নেতার নেতৃত্বে সশস্ত্র হামলায় বিএনপি নেতা ও স্ত্রী জখম

    মোংলায় ঈদের রাতেই তুচ্ছ বিষয়ে উস্কানিতে হামলা; স্থানীয় বিএনপি নেতা মোঃ আনিছুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী গুরুতর জখম হয়েছেন। ২০ মার্চ (শুক্রবার) রাত সাড়ে ১০টার দিকে মোংলা পৌরশহরের শিকারীর মোড়ে ওই ঘটনা ঘটে। বর্তমানে আহত দম্পতিকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা চলছে।

    স্থানীয়রা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত ১২ মার্চ গাড়ি দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ৯ জন নিহত হওয়ার পর জানাজার বিষয়কে কেন্দ্র করে জামায়াত নেতা খোকন ও বিএনপি নেতা আনিছুর রহমানের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়েছিল। শুক্রবার রাতে নিহতদের স্মরণে ঈদ বাজার করতে বের হওয়া ওই দম্পতিকে পূর্বের সেই কথা কাটাকাটির জেরে জামায়াত নেতার নেতৃত্বে তৎপর কয়েকজন সশস্ত্র ব্যক্তি এলোপাথারি হামলা চালায়। হামলাকারীদের মধ্যে আছেন খোকনের সহযোগী আশিক ও কাজী রাজু; মোট ৮-১০ জন সন্দেহভাজন হামলাকারী দেশীয় অস্ত্র ও দা নিয়ে উপস্থিত ছিল।

    হামলার সময় স্বামিকে রক্ষা করার চেষ্টা করলে দুর্বৃত্তরা স্ত্রীর ওপরও দা দিয়ে কোপাতে শুরু করে; দ্রুত তাদের শরীরে গুরুতর জখমের চিহ্ন দেখা যায়। চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে গেলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা আহত দম্পতিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসে।

    ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে মোংলা থানা পুলিশ। একই পরিবারের পক্ষ থেকে আজ সকালে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মোংলা থানার ওসি (তদন্ত) মানিক চন্দ্র গাইন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা করা হয়েছে এবং অভিযানে দোষীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

    এই ঘটনার পর থেকে মোংলা পৌরশহরে রাজনৈতিকভাবে উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জনজীবন ঠিক রাখতে পুলিশি তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা ও দ্রুত বিচারের প্রত্যাশা তৈরী হয়েছে, এবং পুলিশ ঘটনাস্থল সংলগ্ন এলাকায় ক্লিয়ারিং ও নজরদারী কার্যক্রম বৃদ্ধি করেছে।

  • পিএসএলে খেলতে ছাড়পত্র পেলেন মুস্তাফিজ, শরিফুলসহ পাঁচ বাংলাদেশি

    পিএসএলে খেলতে ছাড়পত্র পেলেন মুস্তাফিজ, শরিফুলসহ পাঁচ বাংলাদেশি

    পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) খেলতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) পাঁচ জন ক্রিকেটারকে অনাপত্তি পত্র (এনওসি) দিয়েছে। এ ছাড়া তারা এই মৌসুমে লিগে খেলতে পারবেন নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত—১২ এপ্রিল পর্যন্ত।

    এনওসি পাওয়া খেলোয়াড়রা হলেন বাঁ-হাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমান, শরিফুল ইসলাম, রিশাদ হোসেন, নাহিদ রানা ও পারভেজ হোসেন ইমন। মুস্তাফিজকে সরাসরি চুক্তিতে দলে ভেড়িয়েছিল লাহোর ক্যালান্দার্স, পাশাপাশি পারভেজ ইমনও লাহোর দলে জায়গা পেয়েছেন। রিশাদ হোসেনকে নিয়েছে রাওয়ালপিন্ডি (পিন্ডিজ), আর নাহিদ রানা ও শরিফুল ইসলামকে দলে নিয়েছে পেশোয়ার জালমি।

    শরিফুল প্রথমবারের মতো কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে ডাক পেয়েছেন—কয়েক দিন আগেই তিনি পাঞ্জম বাংলাদেশি হিসেবে পিএসএলে অংশগ্রহণের সুযোগ পেলেন। সবকিছু ঠিক থাকলে ত্রয়ী নাহিদ-শরিফুল-পেশোয়ার জালমির জার্সিতে ময়দানে দেখা যাবে, আর রিশাদ খেলবেন রাওয়ালপিন্ডির হয়ে।

    পিএসএল আর বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সূচির সমন্বয় করেই বিসিবি এই সীমাবদ্ধ সময়ের এনওসি দিয়েছে। বাংলাদেশ দলের আন্তর্জাতিক ব্যস্ততা এখনও কম থাকলেও এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহে নিউজিল্যান্ড বাংলাদেশে তিনটি ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে আসছে। স্কোয়াডকে ওই সিরিজের জন্য দেশে রাখা এবং প্রয়োজনীয় বিকল্প থাকে—এগুলো বিবেচনায় রেখেই ১২ এপ্রিল পর্যন্ত এনওসি দেওয়া হয়েছে বলে বোর্ডের বিশ্বস্ত সূত্র ঢাকা পোস্টকে জানিয়েছে।

    বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান নাজমুল আবেদীন ফাহিমও সম্প্রতি এ প্রসঙ্গে বলেছেন, ওয়ানডে সিরিজে আমাদের প্রয়োজনীয় খেলোয়াড়রা আমরা ছেড়ে দেব না। তবে যদি মনে হয় কোনো খেলোয়াড়ের পিএসএলে খেলা তার টি-টুয়েন্টি উন্নয়নের জন্য ভালো হবে এবং একইসঙ্গে আমাদের বিকল্প আছে, তাহলে ছাড় দেয়া হবে।

    পিএসএল ২৬ মার্চ দিয়ে শুরু হচ্ছে। উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হবে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন লাহোর ক্যালান্দার্স ও হায়রাবাদ হিউস্টন—সুতরাং প্রথম দিনেই মুস্তাফিজ ও ইমনের খেলার সম্ভাবনা রয়েছে। তৃতীয় দিন ২৮ মার্চ রয়েছে রিশাদ, নাহিদ ও শরিফুলের খেলার সম্ভাব্য ম্যাচ। যদি তারা সবাই একাদশে থাকে, তাহলে পেশোয়ার জালমি বনাম রাওয়ালপিন্ডির ম্যাচে জাতীয় দলের সতীর্থরা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামবেন।

    এভাবে পিএসএলে খেলায় বাংলাদেশের কয়েকজন বড় তারকার আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বাড়বে—তবে স্পষ্ট সময়সীমার মধ্যে তারা দেশের ম্যানেজমেন্টের শর্ত মেনে গ্রাউন্ড থেকে দেশে ফিরবেন।

  • আইপিএলে নতুন ধাক্কা: একের পর এক বিদেশি তারকার অনুপস্থিতি

    আইপিএলে নতুন ধাক্কা: একের পর এক বিদেশি তারকার অনুপস্থিতি

    আইপিএল শুরু হতে বাকি মাত্র কয়েক দিন। এমন সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘর্ষের কারণে আকাশপথ অনিরাপদ হওয়ায় বিদেশি খেলোয়াড়দের আনা-নেওয়ায় জটিলতা বেড়েছে এবং একদিকে একের পর এক ক্রিকেটারের চোট ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে চিন্তায় ফেলেছে। ২৮ মার্চ থেকে শুরু হওয়া টুর্নামেন্টের আগে অনেক দলই বিকল্প পরিকল্পনা ও ব্যাকআপ দলে ভরসা করতে বাধ্য হবে।

    প্যাট কামিন্স: অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট অধিনায়ক কামিন্সকে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পিঠে চোটের কারণে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে ফিটনেস সমস্যায় ভুগছেন। অস্ট্রেলিয়ার গ্রীষ্মকালীন সিরিজে কেবল একটি টেস্ট খেলেছেন, অ্যাশেজের বাকি ম্যাচ এবং সাম্প্রতিক টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপও মিস করেছেন। তাই আইপিএলের শুরুর ম্যাচগুলোতে তিনি নেই; হায়দরাবাদ শুরুর দায়িত্ব ইশান কিষাণকে দিয়েছে। পরের সপ্তাহে ক্রোমিটস অ্যাসাইনমেন্টে যোগ দেবেন কিনা, তা ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পরে নিশ্চিত হবে।

    মিচেল স্টার্ক: স্টার্ক এখন পর্যন্ত কোনো বড় চোটে নেই, তবে অতিরিক্ত ওয়ার্কলোডের কথা বিবেচনা করে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া ও ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো তার ক্ষেত্রে আস্তে চলতে চায়। কামিন্স ও হ্যাজলউডের অনুপস্থিতিতে অ্যাশেজে দলের পেসিং লাইন সামলাতে হয়েছে স্টার্ককে — সেটি নিয়েও তার কাছে বিশ্রাম গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়েছে। দিল্লি ক্যাপিটালস তখনই আশাবাদী হবে যখন ফিটনেস নিয়ে সরাসরি ইতিবাচক খবর মিলবে।

    জশ হ্যাজলউড: রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুরিতেই গত আসরে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জয়ে হ্যাজলউডের বড় অবদান ছিল। তবে এবার শুরুর কয়েক ম্যাচে তিনি বাদ পড়তে পারেন। হ্যামস্ট্রিং ও অ্যাকিলিসের চোটের কারণে পুরো অস্ট্রেলীয় গ্রীষ্মকাল এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপও খেলতে পারেননি; এখন পুনর্বাসন চলছে। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার ফিটনেস পরীক্ষা পাস করলে তিনি আইপিএলে যোগ দেবেন।

    নাথান এলিস: সাদা বলের ক্রিকেটে গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হলেও এলিস আর নেই—হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কারণে তিনি পুরো আইপিএল থেকে ছিটকে গেছেন। চেন্নাই সুপার কিংসের পেস আক্রমণে তার অভাব বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং দল এখন বিকল্প করে নিতে ব্যস্ত।

    স্যাম কারান: ইংল্যান্ডের অলরাউন্ডার স্যাম কারানকে ট্রেড করে রাজস্থান রয়্যালসে নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তিনি গ্রোইন ইনজুরির কারণে পুরো মৌসুম অনুপস্থিত থাকতে পারেন। চেন্নাই আগে তাকে ছেড়ে দিয়ে সঞ্জু সামসনকে নিতেছিল—এখন কারানের অনুপস্থিতি রাজস্থানের ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে।

    জ্যাক এডওয়ার্ডস: সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে অভিষেক করতে চলা এডওয়ার্ডসও পায়ে চোটের কারণে পুরো আইপিএল থেকে নিজেকে সরাতে বাধ্য হয়েছেন। বিগ ব্যাশে ১৩ উইকেট নেওয়া এই আনক্যাপড পেসারের অনুপস্থিতি ও কামিন্সের শুরুতে না থাকাটা হায়দরাবাদের বোলিং অপশনে বড় ফাঁক তৈরি করেছে।

    লকি ফার্গুসন: পাঞ্জাব কিংসের কিউই পেসার লকি ফার্গুসন ব্যক্তিগত কারণে টুর্নামেন্টের শুরুটা মিস করবেন—সম্প্রতি বাবা হওয়ায় পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে চান তিনি। পরে সফরের শেষ দিকে দলে যোগ দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। ফার্গুসন দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে চলমান টি-টোয়েন্টি সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে অনুপস্থিত ছিলেন।

    ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর চ্যালেঞ্জ: এসব অনিশ্চয়তা ও চোটের তালিকায় অনেক দলই দ্রুত বিকল্প পরিকল্পনা করতে বাধ্য হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে বিদেশি খেলোয়াড় স্পটেই পরিবর্তন করতে হবে, আবার মিড-টুর্নামেন্টে নতুন খেলোয়াড় আনারও সুযোগ দেখা যেতে পারে। আইপিএলের উত্তেজনা ঠিকই থাকবে, কিন্তু দলীয় সমন্বয় ও রিজার্ভ প্লেয়ারদের ভূমিকা এবার আরও বেশি গুরুত্ব পাবে।

  • চাঁদরাতে প্রথমবার বাবা-ভাইকে নিয়ে গান প্রকাশ করবেন জাহিদ নিরব

    চাঁদরাতে প্রথমবার বাবা-ভাইকে নিয়ে গান প্রকাশ করবেন জাহিদ নিরব

    দেশজুড়ে জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পীদের কণ্ঠে শোনা যাবে জাহিদ নিরবের সুর ও সংগীত—আর এবার সেই গানটি তিনি করেছেন পুরো পরিবারের সঙ্গে। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নির্মিত কাওয়ালী ঘরানের ‘শুকরিয়া হাসনাহ’ শিরোনামের গানটি চাঁদরাতে প্রকাশ পাবে।

    গানটি জাহিদ নিরবের অফিসিয়াল ফেসবুক ও ইউটিউব চ্যানেলে মুক্তি পাওয়ার পাশাপাশি ভিডিওটি দেখা যাবে প্রাইম ব্যাংকের অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে, যা প্রাইম ব্যাংক এই প্রকল্পটির নিবেদন।

    জাহিদ নিরব বলেন, ‘বাসায় আমরা সব সময় একসঙ্গে গান করি। আব্বা হারমোনিয়াম বাজান, আমি মাইক্রোফোনের সামনে গাই—এভাবেই আমার সংগীত জীবনের শুরু। বড় ভাই জুবায়েদ আল নাঈম তবলা, ছোট ভাই হাসিবুল নিবিড় গিটার এবং মেহেদী হাসান তামজিদ রাবাব বাজিয়েছেন। মুন্সীগঞ্জের সেই মঞ্চের পরিবেশনা এবার গান আকারে তুলে দিচ্ছি।’

    গানটির কথা সাজিয়েছেন মঞ্জুর এলাহি। তিনি বলেন, ‘কথাগুলো অসাধারণ—সৃষ্টিকর্তার অগণিত নিয়ামতের প্রতি আমরা কতটুকু কৃতজ্ঞ তা বোঝাতে চেয়েছি। সেই উপলব্ধিই এই গানের মুল ভাবনা।’

    জানিয়েছেন, গানটি মূলত প্রাইম ব্যাংকের ‘হাসানাহ’ জিঙ্গেল হিসেবে শুরু হলেও তিনি তার কথাবার্তা ও ভাবনা ভালো লাগায় অনুমতি নিয়ে পুরো গানটি তৈরি করেছেন। গানটির ভিডিও নির্মাণে অনেক বছরের সহযাত্রী কাওসার ইসলাম প্রান্ত ও তার টিমের বড় ভূমিকা রয়েছে, যা এই মুক্তির স্বপ্ন বাস্তবে পরিণত করেছে।

    নিরব জানান, এইবারের ঈদ তার জন্য বিশেষ—গত বছর বিবাহ-বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর এটি প্রথম ঈদ। ‘‘বিয়ের পর প্রথম ঈদ—সবকিছুই একটু আলাদা অনুভূত হচ্ছে,’’ তিনি বলেন।

    তবে ব্যস্ততা কম নেই। চলতি সময়ে তিনি নিয়মিত কাজের পাশাপাশি ঈদের জন্য বিভিন্ন প্রজেক্টে জড়িত। ঈদের ছবিটি ‘বনলতা এক্সপ্রেসে’র পুরো সংগীত পরিচালনার দায়িত্ব তার কাঁধে ছিল; তানিম নূর তার কাজটি সহজ করেছেন। এছাড়া রায়হান রাফীর পরিচালিত ‘প্রেশার কুকার’ সিনেমায়ও একটি গান রয়েছে, যা গেয়েছেন অঙ্কন কুমার—কথা ও সুরও তারই।

    নাটকের কাজও কম নয়—‘তবুও মন’ নাটকের জন্য ‘এভাবেও হতে পারে প্রেম’ শিরোনামে গানটি লিখেছেন তারিক তুহিন; সুর ও সংগীত করেছেন নিরব, কণ্ঠ দিয়েছেন সালমান ও মাশা। নাটক ‘লিলিথ’-এর ‘পিছু ডেকো না’ গানে কণ্ঠ দিয়েছেন দোলা রহমান; কথার লেখক তানিন নিনাত।

    রমজানেও নিরব সক্রিয় ছিলেন—রিলিজ হয়েছে বেশ কিছু কাজ। ওয়েবফিল্ম ‘মিউ’-র জন্য তিনি করেছেন ‘কেন এমন হয়’ এবং শিশুতোষ গান ‘মিউ মিউ মিউ’। পাশাপাশি জিঙ্গেলের কাজও চলছিল; প্রবাসীদের নিয়ে প্রাইম ব্যাংকের একটি মিউজিক ভিডিও করেছেন, যার একটি আনপ্লাগড ভার্সনও শিগগিরই প্রকাশ হবে।

    এর বাইরে তিনি ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ সিজন ৫-এর মিউজিক ডিরেক্টর। ধারাবাহিকটির বিশেষ ঈদ এপিসোডও থাকায় কাজের তৎপরতা আরো বেড়েছে। সব মিলিয়ে এবারের ঈদ জাহিদ নিরবের কাছে কাজ আর আনন্দে পরিপূর্ণ—পরিবারের সঙ্গে গান প্রকাশ হচ্ছে, নতুন-নতুন প্রজেক্টে ব্যস্ততা বাড়ছে, এবং ব্যক্তিগতভাবেও এটি তার জীবনের একটি বিশেষ মুহূর্ত।

  • মাত্র ১৪ শোতে ৯৪৩ কোটি আয়, দিলজিৎ দোসাঞ্জের ট্যুরে তৈরি হলো বিশাল অর্থনীতি

    মাত্র ১৪ শোতে ৯৪৩ কোটি আয়, দিলজিৎ দোসাঞ্জের ট্যুরে তৈরি হলো বিশাল অর্থনীতি

    কনসার্ট কি শুধু গান-শোবিজ? দিলজিৎ দোসাঞ্জের সাম্প্রতিক ‘ডিল-লুমিনাটি’ ট্যুর প্রমাণ করল—একটি মেগা শো নিজেই একটি পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে পারে। মাত্র ১৪টি কনসার্টে ১৩টি শহরে ঘোরার পর ট্যুরটি মোট প্রায় ৯৪৩ কোটি টাকার আয় করেছে।

    অর্থের খোলস ছুঁড়ে দেখলে আয় বিভাজন স্পষ্ট। টিকিট বিক্রি থেকেই এসেছে প্রায় ২২১ কোটি, স্পনসরশিপ থেকে যোগ হয়েছে ৩৩ কোটি, আর ট্যাক্স ও ফি হিসেবে সরকারি কোষাগারে গড়িয়েছে ১১৪ কোটিরও বেশি। প্রতিটি শো যেন নিজের জায়গায় একটি ছোট আর্থিক কেন্দ্র হয়ে ওঠে।

    কিন্তু সবচেয়ে চমকটা ছিল পরোক্ষ আয়ে—ভ্রমণ, হোটেল, খাওয়া-দাওয়া, কেনাকাটা ও স্থানীয় সেবা মিলিয়ে তৈরি হয়েছে প্রায় ৫৫৩ কোটি টাকার অর্থনৈতিক প্রভাব। প্রায় ৩৮% দর্শক অন্য শহর থেকে এসে কয়েকদিন পর্যন্ত সেখানে থেমে গেছেন, ফলে স্থানীয় পর্যটন ও ব্যবসায় ব্যাপক সুবিধা গেছে।

    দর্শক উন্মাদনা ছিল চোখে পড়ার মতো। ১৪টি শোয়ে মোট উপস্থিতি ছিল প্রায় ৩২০,০০০ জন, এবং দিল্লির এক কনসার্টে মাত্র একটিই অনুষ্ঠানে দর্শকসংখ্যা ছিল প্রায় ৫৫,০০০। প্রতিটি শো আগেই হাউসফুল ঘোষণা করা হয়েছিল।

    এই ট্যুর শুধু বিনোদনই জোগায় না—কাজও সৃষ্টি করে। প্রায় ১ লাখ ১৮ হাজার কর্মঘণ্টা কাজের সুযোগ তৈরি হয়েছে; লজিস্টিকস, নিরাপত্তা, প্রোডাকশন, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টসহ বহু খাতে লোকচাহিদা বাড়িয়েছে। অর্থাৎ, প্রত্যেক কনসার্ট এখন গৃহস্থালি বিনোদনের বাইরে একটি প্রতিষ্ঠান-সমেত অর্থনৈতিক আন্দোলন।

    বিশ্বমঞ্চের বড় তারকাদের সঙ্গে তুলনা করলে এখনও কিছু জায়গায় এগোতে হবে, তবু এই সাফল্য দিলজিৎকে বৈশ্বিক ট্যুরিং মানচিত্রে সুপ্রতিষ্ঠিত করে দিয়েছে। শেষ পর্যন্ত দেখা যায়—একজন শিল্পীর কনসার্ট কেবল মঞ্চ নয়; তা শহরের অর্থনীতি, রোজগার ও সামাজিক ভারসাম্যের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে।

  • কুমিল্লায় ট্রেন ধাক্কায় নিহত ১২ জনের পরিচয় নিশ্চিত

    কুমিল্লায় ট্রেন ধাক্কায় নিহত ১২ জনের পরিচয় নিশ্চিত

    কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে যাত্রীবাহী বাসে ট্রেনের ধাক্কায় নিহত ১২ জনের নাম ও পারিবারিক পরিচয় পাওয়া গেছে। রোববার (২২ মার্চ) দুপুরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রেজিস্ট্রার বইয়ে তাদের নাম-পরিচয় নথিভুক্ত করা হয়।

    নিহতরা হলেন: নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার সালামত উল্লার ছেলে মো. বাবুল চৌধুরী (৫৩); ঝিনাইদহের মহেশপুরের পিন্টু মিয়ার স্ত্রী লাইজু আক্তার (২৬) ও তার দুই মেয়েসহ খাদিজা (৬) ও মরিয়ম (৪); চুয়াডাঙ্গার জীবননগরের বিল্লাল হোসেনের ছেলে সোহেল রানা (৪৬); যশোরের চৌগাছের ফকির চাঁদ বিশ্বাসের ছেলে সিরাজুল ইসলাম (৬২) ও তাঁর স্ত্রী কোহিনূর বেগম (৫৫); নোয়াখালীর সুধারাম এলাকার মোহাম্মদ সেলিমের ছেলে নজরুল ইসলাম রায়হান (৩৩); লক্ষ্মীপুর সদরের সিরাজউদ্দৌলার মেয়ে সায়েদা (৯); ঝিনাইদহ সদর থেকে মুক্তার বিশ্বাসের ছেলে জোয়াদ বিশ্বাস (২০); মাগুরার মোহাম্মদপুর এলাকার ওহাব শেখের ছেলে ফচিয়ার রহমান (২৬); এবং চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার মমিনুল হকের ছেলে তাজুল ইসলাম (৬৮)।

    অভিযোগ করা হয়, শনিবার (২১ মার্চ) দিবাগত রাতে রাত সাড়ে তিনটার দিকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার দিকে যাওয়া মেইল ট্রেনটি মামুন পরিবহন নামের যাত্রীবাহী বাসটিকে ধাক্কা দেয়। এতে ট্রেনটি বাসটিকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে নিয়ে যায়। প্রথমে সাতজনের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও পরে পানির মতো ছিটকে পড়া মানুষদের মধ্যে মৃতের সংখ্যা বাড়ে এবং মোট ১২ জন হিসেবে নিশ্চিত হয়।

    দুর্ঘটনার পর চট্টগ্রামসহ সারাদেশে অস্থায়ীভাবে রেল যোগাযোগ বন্ধ ছিল। পরে আখাউড়া থেকে পাঠানো রিলিফ ট্রেন উদ্ধারকাজে অংশ নেয়। ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র‌্যাবসহ বিভিন্ন উদ্ধারবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে তল্লাশি ও উদ্ধারকাজ চালায়। পরদিন সকাল সাড়ে আটটার দিকে রেল যোগাযোগ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসে।

    ঘটনার তদন্ত ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে রেল কর্তৃপক্ষ রেলক্রসিংয়ের দুই গেটম্যানকে বরখাস্ত করে। কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান নিহত প্রতিটি পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে নগদ সহায়তা প্রদানের ঘোষণা দেন। এছাড়া দুর্ঘটনার সঠিক কারণ নিরূপণের জন্য তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

    স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকর্মীরা ব্যস্ত সময় পার করছে নিহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন এবং আহতদের চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার কাজে। তদন্ত থেকে যে যে কারণগুলো প্রকাশ পাবে, সেগুলোই ভবিষ্যতে রেল নিরাপত্তা ও রেলক্রসিং ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে কাজে লাগানো হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • কুমিল্লায় ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবার পাবে ২৫ হাজার টাকা

    কুমিল্লায় ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবার পাবে ২৫ হাজার টাকা

    কুমিল্লা জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, কুমিল্লায় ট্রেন ও যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষে নিহত প্রত্যেক পরিবারের জন্য ২৫ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হবে। রোববার (২২ মার্চ) সকাল পৌনে ৯টার দিকে জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানান।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, ঘটনাটি তদন্তের জন্য একটি পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাফর সাদিক চৌধুরীকে। অন্যান্য সদস্যরা হলেন — কুমিল্লা বিআরটিএর সহকারী পরিচালক ফারুক আলম, ময়নামতি হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ. মমিন, কুমিল্লা রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার এবং ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক ইকবাল হোসেন।

    ঘটনাটি শনিবার (২১ মার্চ) ভোররাতে বিশ্বস্ত তথ্য অনুযায়ী ঘটেছে। রাত প্রায় ৩টার দিকে পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার দিকে যাওয়া মেইল ট্রেন একটি মামুন পরিবহন নামের যাত্রীবাহী বাসকে আঘাত করে। ট্রেনটি বাসটিকে ঘটনাস্থল থেকে অন্তত আধা কিলোমিটার পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায়।

    প্রাথমিকভাবে ঘটনাস্থল থেকে সাতজনের মরদেহ উদ্ধার হলেও পরে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১২ জনে দাঁড়ায়। দুর্ঘটনার পর চট্টগ্রামসহ সারাদেশের সঙ্গে রেল যোগাযোগ সাময়িক বন্ধ রয়েছে। রেল কর্তৃপক্ষ ওই ঘটনায় দুটি আলাদা তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বলে জানিয়েছে।

    রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগের ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, ট্রেন উদ্ধারের জন্য আখাউড়া থেকে রিলিফ ট্রেন পাঠানো হচ্ছে। জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহযোগিতা এবং ঘটনার সঠিক কারণ উদঘাটনে তৎপর রয়েছেন।

    জানা গেছে, মাঠে তদন্ত ও উদ্ধারকার্য অব্যাহত রয়েছে; কর্তৃপক্ষ আরও বিস্তারিত তথ্য সরবরাহ করবে বলে জানিয়েছে।

  • জামায়াত-এনসিপি নিয়ে মনিরুল হক চৌধুরীর অভিযোগ, খালেদা জিয়ার ভূমিকা স্মরণ করার আহ্বান

    জামায়াত-এনসিপি নিয়ে মনিরুল হক চৌধুরীর অভিযোগ, খালেদা জিয়ার ভূমিকা স্মরণ করার আহ্বান

    জাতীয় সংসদে জামায়াত ও এনসিপি নিয়ে ধারালো মন্তব্য করেছেন বিএনপির সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। রোববার রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর মেধাবী একটি শ্রেণি উঠে আসে যারা জাসদ গঠন করে। ‘‘অতিরিক্ত ভালোলাগা বা বাড়াবাড়ি করতে গিয়ে দেশ ও জাতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তারা নিজেও শেষ পর্যন্ত হারিয়েছে,’’ যোগ করেন তিনি।

    অধিবেশনটি স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। মনিরুল হক চৌধুরী বেগম খালেদা জিয়ার নাম স্মরণ করে বলেন, ১৯৯১-এর সংসদে তিনি দলের সদস্যদের সঙ্গে কাজ করেছেন এবং দেশনেত্রী হিসেবে খালেদা জিয়ার অবদানকে উপেক্ষা করা ঠিক নয়। তিনি বলেন, ‘‘আপনারা যখন প্রশ্ন করেন মনে হয় গত ১৫-২০ বছর বিএনপি এই দেশে ছিল না। বেগম খালেদা জিয়া নানা প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে জামায়াতের সঙ্গে কাজ করেছেন—রাজনীতিকে এ পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার পেছনে তারও ভূমিকা রয়েছে, সেটুকু স্মরণ করুন।’’

    তিনি আরো বলেন, সংসদে দাঁড়িয়ে কখনও কখনও বলবো কী—এই ভয় কাজ করে। আগে যাদের বিরুদ্ধে কথা বলতাম তাদের চিনতাম, কিন্তু আজ যারা বিরোধী দল তাদের চেনাই কষ্টসাধ্য। দলের নেতা তারেক রহমান যে ‘কঠিন নির্বাচন’ সম্পর্কে বলেছিলেন, তখন অনেকে বুঝতে পারেননি; পরে নির্বাচনের অভিজ্ঞতায় তাদেরই কথার সঠিকতা বোঝা গেছে।

    মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, এত সংখ্যক সদস্য নিয়ে সংসদে আসার পর আমরা যে বিষয়গুলো আলহামদুলিল্লাহ বলে ভাবতাম, তাদের মধ্যে এক হওয়া উচিত ছিল জামায়াতে ইসলামী। তবু আজ আমাদের সম্পর্কে এমন প্রশ্ন উঠছে—কিছু জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদের নির্ধারণ নিয়ে প্রশ্ন করা হচ্ছে, মুক্তিযুদ্ধ ও ‘‘২৪’র যুদ্ধ’’কে এক কাতারে দেখা হচ্ছে কি না—এ ধরনের আলোচনা চলছে। যদি ফ্যাসিস্ট শাসনের সময়ে বিচারের নামে অন্যায় হয়ে থাকে, তা আলাদা বিষয়; এই প্রশ্নগুলো নিয়ে সময় ও হিসেব করা উচিত।

    শেষে তিনি জামায়াত ও এনসিপির প্রেক্ষাপটে বলেন, স্বাধীনতার পরের প্রজন্ম, যদিও বয়সে তরুণ, তাদের সাহসও আছে এবং সেই সাহসকে শ্রদ্ধা করা উচিত।

  • কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

    কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

    ঢাকা-৮ আসনে নির্বাচনে অংশগ্রহণের পর থেকেই নানা প্রসঙ্গে আলোচিত-সমালোচিত ও আলোচিত হয়ে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার কিছু মন্তব্যও দ্রুত ভাইরাল হয়েছে।

    আজ বুধবার সকালে এক পোস্টে তিনি জানিয়েছেন, যদি তাঁর কোনো কথা বা কাজ অনিচ্ছাকৃতভাবে কাউকে কষ্ট দিয়েছে তাহলে তিনি তার জন্য আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছেন।

    পোস্টে তিনি বলেছেন, ‘‘গত কয়েক দিনে বয়োজ্যেষ্ঠ বন্ধু, রাজনৈতিক শুভাকাঙ্ক্ষী, মন্ত্রী-এমপি ও প্রিয় সহযোদ্ধাদের সঙ্গে কিছু আন্তরিক কথা বলার সুযোগ হয়েছে। সবার কাছ থেকেই মূল্যবান দিকনির্দেশনা পেয়েছি—ব্যক্তিগত আক্রমণ এড়িয়ে চলা, অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা সীমাবদ্ধ রাখা এবং গঠনমূলক আলোচনায় বেশি মনোযোগ দেওয়া।’’

    নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জানিয়েছেন, তিনি বিনয়ের সঙ্গে সেই পরামর্শগুলো গ্রহণ করেছেন এবং আরও শান্ত ও দায়িত্বশীলভাবে পথচলা চালাবেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অগ্রগতির জন্য নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ চালিয়ে যেতে চান।

    তিনি আবারও জানিয়েছেন, ‘‘আমার কোনো কথা বা কাজে অনিচ্ছাকৃতভাবে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আপনাদের দোয়া, ভালোবাসা ও পরামর্শ আমার পথচলার শক্তি।’’

    পাটওয়ারী আরো জানান, গতকাল ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে কিয়ামুল লাইলের মাধ্যমে তিনি এই আত্মিক যাত্রার নীরব সূচনা করেছেন এবং সবাইকে মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা ও সঠিক পথের জন্য দোয়া করার অনুরোধ করেছেন।