Blog

  • বাংলাদেশ ব্যাংক জারি করল নতুন ক্রেডিট কার্ড গাইডলাইন, ঋণসীমা বেড়ে ৪০ লাখ

    বাংলাদেশ ব্যাংক জারি করল নতুন ক্রেডিট কার্ড গাইডলাইন, ঋণসীমা বেড়ে ৪০ লাখ

    বাংলাদেশ ব্যাংক ক্রেডিট কার্ড সংক্রান্ত নতুন পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন জারি করেছে। গাইডলাইনের উদ্দেশ্য—কার্ড পরিচালনা আরও সুশৃঙ্খল, স্বচ্ছ ও গ্রাহকবান্ধব করা। এই তথ্য রোববার ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন।

    ব্যক্তিগত ব্যবহারের ক্ষেত্রে নগদ অর্থ বহনের বিকল্প হিসেবে ক্রেডিট কার্ডের জনপ্রিয়তা বাড়ায় এবং লেনদেন-পরিধি সম্প্রসারণের সঙ্গে জটিলতাও বেড়েছে। এ পরিস্থিতি বিবেচনায় পূর্বের নীতিমালা হালনাগাদ করে বিভিন্ন দিকসহ একটি বিস্তৃত গাইডলাইন প্রণয়ন করা হয়েছে।

    নতুন নির্দেশনায় ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদার করার পাশাপাশি গ্রাহকের অধিকার সুরক্ষা, দায়িত্বশীল ঋণ প্রদানের উৎসাহ এবং নগদবিহীন লেনদেনের জন্য স্বচ্ছ পরিবেশ নিশ্চিতকরণে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গাইডলাইনে ক্রেডিট কার্ডের প্রযোজ্যতা ও সংজ্ঞা, কার্ডের ধরন, গ্রাহকের যোগ্যতার মানদন্ড, ঋণসীমা ও সুদের হার নির্ধারণ, কার্ড ইস্যু ও বিপণন কাঠামো, বিলিং ও আদায় প্রক্রিয়া, গ্রাহকের তথ্য গোপনীয়তা, বিরোধ নিষ্পত্তি পদ্ধতি, অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ইত্যাদি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

    সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে বিতরণযোগ্য সর্বোচ্চ ঋণসীমা বাড়িয়ে ৪০ লাখ টাকা করা হয়েছে। পূর্বে এটি ছিল ২৫ লাখ টাকা। অনিরাপদ (আনসিকিউর্ড) ঋণের সর্বোচ্চ সীমা ১০ লাখ থেকে বাড়িয়ে ২০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    গাইডলাইনে গ্রাহকের অভিযোগ, সম্ভাব্য অনিয়ম বা জালিয়াতি মোকাবিলা ও কার্ড-ভিত্তিক লেনদেন পরিশোধে জটিলতা হলে তা সমাধানের প্রক্রিয়াও পুনঃসংগঠিত করা হয়েছে। ব্যাংকগুলোকে তথ্যের গোপনীয়তা বজায় রাখতে এবং অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও সাইবার নিরাপত্তা শক্ত করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন এই উদ্যোগ গ্রাহকদের জন্য পরিষেবা সহজতর ও নিরাপদ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠাগুলোকে দায়িত্বশীল ঋণদান, ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ ও দক্ষ অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে উদ্বুদ্ধ করবে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেশি ঋণসীমা সুবিধা এনে দিতে পারে—কিন্তু ব্যাংকগুলোর সতর্ক মনিটরিং ও গ্রাহক সচেতনতা সবসময় অপরিহার্য থাকবে।

  • চট্টগ্রাম-মোংলা বন্দর ও শিপিং করপোরেশনের প্রকল্পে অনিয়ম তদন্ত শুরু: দুদক ৪টি কমিটি গঠন

    চট্টগ্রাম-মোংলা বন্দর ও শিপিং করপোরেশনের প্রকল্পে অনিয়ম তদন্ত শুরু: দুদক ৪টি কমিটি গঠন

    দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চট্টগ্রাম বন্দর, মোংলা বন্দর এবং বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের কয়েকটি প্রকল্পে অনিয়ম ও নিয়োগভিত্তিক দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে। এ সন্দেহে সংস্থাটির উপ-পরিচালক নাজমুচ্ছায়াদাতকে প্রধান করে চারটি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়েছে।

    রোববার (১৫ মার্চ) দুদক সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে। সূত্রটি বলছে, দুর্নীতি ও প্রশাসনিক অনিয়মের নানা অভিযোগ খতিয়ে দেখতে দ্রুতগতিতে কাজ করছে অনুসন্ধান দলগুলো।

    দুদকের প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বর্তমান চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে একাধিক আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষত শিপিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ছিলেন যখন এক প্রকল্পে ছয়টি জাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, যা মূল্যায়ন করা হয়েছিল প্রায় ২,৪৮৬ কোটি টাকা। পরবর্তীতে বাস্তবে কেনা হয় মাত্র চারটি জাহাজ; এ সংঘবদ্ধভাবে প্রকল্পে প্রায় ৪৮৬ কোটি টাকার আর্থিক অসঙ্গতি ধরা পড়ে বলে দুদকের প্রাথমিক ধারণা।

    মোংলা বন্দরের ‘পশুর চ্যানেল সংরক্ষণ ড্রেজিং’ প্রকল্পেও প্রায় ১,৫৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। দুদক বলছে, এসব প্রকল্পে টেন্ডার, বাস্তবায়ন এবং অর্থবহ ব্যবহারে অনিয়মের সূচক পাওয়া গেছে—যা বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    তদন্তকারী দলগুলো সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে নথিপত্র তলব করেছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নিচ্ছে। দুর্নীতির আশঙ্কা পাওয়া গেলে দায়িত্বে জড়িতদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে দুদক সূত্র জানিয়েছে। মামলার কারণ বা অতিরিক্ত ব্যাখ্যা পাওয়া না গেলে অনুসন্ধান শেষ করে পরবর্তী পদক্ষেপ ঘোষণা করা হবে।

    দুদকের এই পদক্ষেপের পর ভবিষ্যতে তদন্তে নতুন তথ্য উঠে এলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করা হতে পারে এবং প্রয়োজন হলে আইনানুগ কার্যক্রমও ত্বরান্বিত করা হবে।

  • মার্কিন হুমকি ঠেকাতে বিদ্যুৎ স্থাপনায় পাল্টা আঘাতের হুমকি দিল আইআরজিসি

    মার্কিন হুমকি ঠেকাতে বিদ্যুৎ স্থাপনায় পাল্টা আঘাতের হুমকি দিল আইআরজিসি

    ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেই দাবিকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে খণ্ডন করেছে, যেখানে বলা হয় তেহরান উপসাগরীয় দেশগুলোর পানি শোধন স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনা করছে। বিষয়টি সম্পর্কে আল–জাজিরা সোমবার (২৩ মার্চ) প্রতিবেদন করেছে।

    আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা শুধুমাত্র এ সাবধানতা জানিয়েছে যে—যদি তাদের বিদ্যুত্‍ কেন্দ্রগুলোতে হামলা করা হয়, তাহলে ইরান প্রতিশোধ হিসেবে দখলদার শাসন বলকে (ইসরায়েল) এবং সেই অঞ্চলের এমন দেশগুলোর বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্য করবে যারা আমেরিকার ঘাঁটিগুলোকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। পাশাপাশি মার্কিন অংশীদারিত্ব থাকা অর্থনৈতিক, শিল্প ও জ্বালানি অবকাঠামোও লক্ষ্যবস্তু করা হবে।

    বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “আপনারা (মার্কিনরা ও ইসরায়েল) আমাদের হাসপাতালে হামলা করেছেন — আমরা তা করিনি। আপনারা আমাদের ত্রাণ কেন্দ্রে হামলা করেছেন — আমরা তা করিনি। আপনারা আমাদের স্কুলে হামলা করেছেন — আমরা তা করিনি। কিন্তু আপনারা যদি বিদ্যুৎ স্থাপনায় আঘাত করেন, আমরা আপনার বিদ্যুৎ ব্যবস্থাতেও আঘাত করব।”

    আইআরজিসি জানিয়েছে যে যেকোনো সম্ভাব্য হামলা প্রতিরোধের জন্য তারা সমপর্যায়ের পাল্টা ব্যবস্থা নেবে। তারা বলেছে, “যেকোনো হুমকির বিপরীতে সমপর্যায়ের প্রতিরোধ গড়ে তুলতে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, এবং আমরা তা করে দেখাব। আমেরিকা আমাদের সক্ষমতা সম্পর্কে জানে না — তারা সেটা যুদ্ধক্ষেত্রে দেখতে পাবে।”

    এই উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে গত শনিবার (২২ মার্চ) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তেহরান যদি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খুলে না দেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো ধ্বংস করতে পারে। ট্রাম্প তার সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে বলেছিলেন, “এই মুহূর্ত থেকে ঠিক ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইরান যদি কোনো হুমকি ছাড়া হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খুলে না দেয়, তাহলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিভিন্ন বিদ্যুৎ কেন্দ্রে আঘাত হানবে এবং সেগুলো নিশ্চিহ্ন করে দেবে — শুরুটা হবে সবচেয়ে বড়টি দিয়ে।”

    ট্রাম্পের ওই হুমকির জবাবে তেহরান বলেছে, তারা প্রয়োজন হলে এই জলপথ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেবে এবং যদি মার্কিন হামলা হয়, তাহলে অঞ্চলের জ্বালানি ও শক্তি স্থাপনায় প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নেয়া হবে। পরিস্থিতি তীব্র আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের হুমকিতে প্রবণ হয়ে আছে এবং ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক ও সামরিক মোড় আলোচনার মাধ্যমে কিভাবে নিয়ন্ত্রিত হবে তা নজরদারি বসিয়েছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।

  • বাগেরহাটে ফিলিং স্টেশনে হামলা ও ভাঙচুর: যুবদল নেতা গ্রেপ্তার

    বাগেরহাটে ফিলিং স্টেশনে হামলা ও ভাঙচুর: যুবদল নেতা গ্রেপ্তার

    বাগেরহাট শহরের খানজাহান আলী ফিলিং স্টেশনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় এক যুবদল নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার রাত প্রায় নয়টায় শহীদ মিনার সংলগ্ন এলাকা থেকে ৪০ বছর বয়সী সুমন পাইককে আটক করা হয়। সুমন বাগেরহাট পৌর যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক এবং তিনি শহরের খারদ্বার অঞ্চলের বাসিন্দা।

    পুলিশ ও স্থানীয়দের বরাত দিলে জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত ২০ মার্চ, ঈদের আগের দিন সন্ধ্যার দিকে। ওই সময়ে মোটরসাইকেলে তেল নেওয়া নিয়ে কিছু ব্যক্তির সঙ্গে ফিলিং স্টেশনের কর্মী বা ব্যবস্থাপকের কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকেই ঈদের দিন থেকে বাগেরহাট শহরের দুটি তেল পাম্প বন্ধ রয়েছে। রোববার বিকেলে খানজাহান আলী ফিলিং স্টেশনের সামনে প্রতিবাদী স্বরে ‘অনির্দিষ্টকালের জন্য পাম্প বন্ধ’ লেখা একটি বিশেষ বিজ্ঞপ্তি টানা হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়েছে যে, বাগেরহাটের কিছু চিহ্নিত সন্ত্রাসী গ্রুপ ওই পাম্পে লুটপাট, ভাঙচুর এবং মালিক ও কর্মচারীদের জীবন নাশের উদ্দেশ্যে হামলা করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সেই চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত পাম্প বন্ধ থাকবে।

    ঘটনায় পাম্পের অন্যতম মালিক মুর্শিদ কুলি খান রোববার বাগেরহাট সদর মডেল থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন। মামলায় ৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। গ্রেপ্তার সুমন পাইক ওই মামলার এক নম্বর আসামি হিসেবে নাম করা আছে।

    এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, তেলের অতিরিক্ত চাহিদা ও সংকটের কারণে মোটরসাইকেল প্রতি ২০০ টাকা করে তেল দেওয়া হচ্ছিল। ২০ মার্চ সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে তেল নেওয়ার সময় কয়েকজন অনধিকার প্রবেশ করে নিয়ম ভেঙে বেশি টাকার তেল দাবি করেন এবং অশোভন ভাষায় কথাবার্তা শুরু করেন। নিষেধ করলে, সুমন পাইকের নির্দেশে তারা একাধিকজনকে এলোপাতাড়ি পেটাতে শুরু করে। ওই সময় কর্মচারী তানবির মল্লিক, মো: সাইফুল ইসলাম ও মো: রেজোয়ান এগিয়ে গেলে তাদেরও মারধর করা হয়। এ ঘটনায় মালিক মুর্শিদ কুলি খান সহ আহতেরা গুরুতর জখম হন। পুলিশের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ওই হামলাকারীরা কর্মচারীদের কাছ থেকে তেল বিক্রির নগদ টাকা ৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা নিয়ে গেছে।

    মালিক মুর্শিদ কুলি খান জানান, পুলিশ প্রধান নামে অভিযুক্ত ব্যক্তি গ্রেফতার করেছে এবং ডিপো থেকে তেল সরবরাহ ফিরে পেলে পাম্প স্বাভাবিকভাবে চালু করা হবে। বাগেরহাট মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শহিদুল ইসলাম বলেন, খানজাহান আলী ফিলিং স্টেশনে মারধরের মামলায় একটিকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং অন্য আসামিদের ধরতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।

  • সুন্দরবন থেকে ‘ছোট সুমন’ বাহিনীর সদস্য ইয়াছিন শেখ আটক, অস্ত্র-গুলিসহ জব্দ

    সুন্দরবন থেকে ‘ছোট সুমন’ বাহিনীর সদস্য ইয়াছিন শেখ আটক, অস্ত্র-গুলিসহ জব্দ

    মোংলা কোস্ট গার্ডের পশ্চিম জোন Sunday গভীর রাতে সুন্দরবন সংলগ্ন চিলা ইউনিয়নের ফেলুর খন্ডের বৈদ্যমারী বাজার সংলগ্ন এলাকা থেকে ‘ছোট সুমন’ বাহিনীর এক সদস্য ইয়াছিন শেখকে আটক করেছে। কোস্ট গার্ড জানায়, গোপন সংবাদ পেয়ে শনিবার রাত থেকে সন্ধান চালানো হয় এবং সোমবার গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে ধাওয়া করে আটক করা হয়।

    কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা যায়, ইয়াছিন ঈদে সুন্দরবন থেকে এসে বৈদ্যমারী বাজার সংলগ্ন এলাকায় আত্মগোপন করে ছিল। প্রতিষ্ঠানটি গোপন সংবাদের ওপর মোংলা ও হারবাড়িয়া সামুদ্রিক দলের দুটি পৃথক দল ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ইয়াছিন দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া করে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    আটককৃত ইয়াছিন শেখ (৪০) বাগেরহাট জেলার মোংলা থানার বাসিন্দা। অফিসিয়াল বয়ানে বলা হয়, ২০১৭ সালে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ ‘ছোট সুমন’ বাহিনীর ১৩ সদস্যের সঙ্গে ইয়াছিন র‌্যাবের কাছে আত্মসমর্পন করেছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে সুমন পুনরায় তার পুরনো সদস্যদের নিয়ে দস্যুতা শুরু করে সুন্দরবনে নেমে আসে এবং বর্তমানে ইয়াছিনের সঙ্গে প্রায় ১৮–২০ জন সদস্য থাকছে বলেও স্থানীয়রা জানায়।

    আটককৃত ইয়াছিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার (২৩ মার্চ) সকালে সুন্দরবনের ধানসিঁদ্দির চর সংলগ্ন এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে ১টি একনলা বন্দুক, ৪ রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও ৪ রাউন্ড খালি কার্তুজ জব্দ করা হয়। কোস্ট গার্ড জানায়, ইয়াছিন দীর্ঘদিন ধরে ‘ছোট সুমন’ বাহিনীর সঙ্গে ডাকাতি, জেলেদের অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ে সরাসরি জড়িত ছিল এবং দস্যু দলে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও রসদ সরবরাহ করত।

    কোস্ট গার্ড জাহাজ বিসিজিএস তৌফিকের নির্বাহী কর্মকর্তা লে. আশিকুল ইসলাম ইমন বলেন, ৫ আগস্ট ২০২৪ সালের পর থেকে সুন্দরবনে কয়েকটি দস্যু বাহিনী জেলেদের অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়সহ বিভিন্ন অপকর্ম ঘটাচ্ছে। সরকারের সহযোগিতায় কোস্ট গার্ড ইতোমধ্যেই কয়েকজন সদস্যকে অস্ত্রসহ আটক করতে সক্ষম হয়েছে এবং দস্যুমুক্ত রাখতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

    আটক ইয়াছিন ও জব্দকৃত অস্ত্র, গোলাবারুদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে বলে কোস্ট গার্ড জানিয়েছে।

  • ভিনিসিয়ুসের জোড়া গোলে রিয়াল ৩-২ জিতল; বার্সাও ১-০তে হারাল রায়ো

    ভিনিসিয়ুসের জোড়া গোলে রিয়াল ৩-২ জিতল; বার্সাও ১-০তে হারাল রায়ো

    চলতি মৌসুমে প্রথম লড়াইয়ে অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের মাঠে ৫-২ গোলে হেরার শোধ এখন সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে নিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। এক রোমাঞ্চকর ম্যাচে ভিনিসিয়ুস জুনিয়োরের জোড়া গোলের সহায়তায় লস ব্লাঙ্কোসরা ৩-২ ব্যবধানে তিন পয়েন্ট নিশ্চিত করেছে।

    খেলায় দ্রুত এগিয়ে গিয়েছিল অতিথিরা। ম্যাচের ৩৩ মিনিটে আদেমোলা লুকমান জিউলিয়ানো সিমিওনের ব্যাকহিল পাস পেয়ে ছয় গজ থেকে গোল করেন এবং অ্যাতলেটিকোকে ম্যাচের উদ্বোধনী গোল এনে দেন। প্রথমার্ধে রিয়াল গোলরক্ষক আন্দ্রে লুনিনকে ততটা পরীক্ষায় না ফেললেও বিরতির পর ম্যাচের গতিপ্রকৃতি বদলে যায়।

    অনেকটা লড়াইয়ের পরে ৫২ মিনিটে ব্রাহিম দিয়াজ বক্সে ফাউল পাকালে রিয়ালকে সমতায় ফেরান ভিনিসিয়ুস—পেনাল্টি থেকে ঠাণ্ডা মাথায় গোল নিশ্চিত করে তিনি। মাত্র তিন মিনিট পর ৫৫ মিনিটে ফেডেরিকো ভালভার্দে প্রতিপক্ষের থেকে বল ছিনিয়ে নিয়ে যে শটে লক্ষ্যভেদ করেন, তা রিয়ালকে সাময়িকভাবে এগিয়ে দেয়।

    তবে আর বেশিক্ষণ স্থায়ী হলো না সেই লিড। ৬৬ মিনিটে আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার নাহুয়েল মোলিনা ২৫ গজের তীব্র শটে গোল করে স্কোর ২-২ করেন। ম্যাচটি যে রোমাঞ্চে ভরা থাকবে, সে ইঙ্গিত এখানেই মিলেছিল।

    রিয়াল আবারও এগিয়ে আসে ৭২ মিনিটে—এইবার ভিনিসিয়ুস বক্সের বাইরে থেকে শক্তিশালী শটে অ্যাতলেটিকো গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন এবং নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করেন। এ সিজনে তার গোলসংখ্যা দাঁড়াল ১৭-এ।

    ম্যাচের ৭৭ মিনিটে ঘটনাচক্রে রিয়ালকে ১০ জনে খেলতে হয়। ভিনিসিয়ুসের বিরুদ্ধে আলেক্স বায়েনাকে ফাউল করায় রেফারি ফেডেরিকো ভালভার্দেকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান। রিয়ালের আপত্তি সত্ত্বেও সিদ্ধান্ত অপরিবর্তিত থাকে এবং বাকি সময়ে দলকে এক খেলোয়াড় কম নিয়ে মাঠ সামলাতে হয়।

    প্যারামিটারে রিয়াল কিছুটা এগিয়ে ছিল — ৫৯ শতাংশ বলের নিয়ন্ত্রণ ও মোট ১৪ শটে ৮টি শট লক্ষ্যে রাখা তাদের পক্ষেই। অ্যাতলেটিকো ১২ শট নেয়, যার মধ্যে ৭টি লক্ষ্যে ছিল। লুনিনের একাধিক সেভ এবং পোস্টে বাধার সাহায্যও রিয়ালকে জয়ের কাছে নিয়ে আসে; শেষের দিকে সরলথের হেডও লুনিন ঠেকিয়েছেন।

    এই জয়ে লা লিগার টেবিলে রিয়াল ২৯ ম্যাচে ৬৯ পয়েন্ট নিয়ে আছে দ্বিতীয় স্থানে। অ্যাতলেটিকো একই সংখ্যক ম্যাচে ৫৭ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থানে অবস্থান করছে।

    একই দিনে অনুষ্ঠিত আরেকটি ম্যাচে বার্সেলোনা ক্যাম্প ন্যুতে রায়ো ভায়েকানোকে ১-০ গোলে হারিয়েছে। ম্যাচের একমাত্র골টি করেছেন উরুগুইয়ান সেন্টারব্যাক রোনাল্দ আরাউহো; ২৪ মিনিটে জোয়াও কান্সেলোর কর্নার থেকে তিনি হেড করে বল জালে জড়ান।

    পরবর্তী সময়ে উভয় দলের আক্রমণ পাল্টা আক্রমণ দেখা গেলেও স্কোরলাইন বদলাতে পারেনি কোনো দল। ২৯ ম্যাচে ২৪ জয় ও ১ ড্রয়ের সঙ্গে বার্সা এখন ৭৩ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। রিয়াল শীর্ষ থেকেই ৪ পয়েন্ট দূরে আছে। রায়ো ভায়েকানো ৩২ পয়েন্ট নিয়ে লিগে ১৪ নম্বরে রয়েছে।

  • পিএসএলে যুদ্ধের ছায়া: মুস্তাফিজদের ভেন্যু বদল, দর্শকবিহীন আয়োজন

    পিএসএলে যুদ্ধের ছায়া: মুস্তাফিজদের ভেন্যু বদল, দর্শকবিহীন আয়োজন

    মুস্তাফিজুর রহমানসহ বাংলাদেশের ছয় ক্রিকেটার আগামী পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) খেলতে যাচ্ছেন। তবে টুর্নামেন্টকে ঘিরে কয়েকটি বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে — মূলত মধ্যপ্রাচ্য ও আশপাশের অঞ্চলে চলমান উত্তেজনা ও সরবরাহগত সমস্যার কারণে ভেন্যু ও দর্শকসংক্রান্ত পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনা হয়েছে।

    আগের পরিকল্পনা অনুযায়ী পিএসএল চলবে ২৬ মার্চ থেকে ৩ মে, পাকিস্তানের ছয়টি শহরে — করাচি, লাহোর, মুলতান, পেশোয়ার, ফয়সলাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডিতে মোট ৪৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে সাম্প্রতিক যুদ্ধ-সংক্রান্ত প্রভাব, জ্বালানি ও গ্যাস সরবরাহের সংকট এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধির ফলে যাতায়াত ও নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনা করে টুর্নামেন্টের পরিধি সংকুচিত করে শুধুমাত্র করাচি ও লাহোরে ম্যাচ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দর্শকশূন্য মাঠে খেলা হবে এবং জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে।

    পিসিবি প্রেসিডেন্ট মহসিন নাকভি বলেন, “প্রতিদিন ৩০ হাজার দর্শক স্টেডিয়ামে খেলা দেখতে আসতে পারেন; এত মানুষের চলাচল আমরা নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে পারি না। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যতদিন চলমান সংকট থাকবে, খেলায় দর্শক রাখব না। এটি কঠিন সিদ্ধান্ত, কিন্তু এভাবেই আগাতে হচ্ছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানও বাতিল করা হয়েছে।”

    টুর্নামেন্টের সূচি বড়সড়ভাবে বদলেনি, কেবল মাঠ বদলেছে। ২৬ মার্চ থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত প্রথম ১৪টি ম্যাচ লাহোরে অনুষ্ঠিত হবে; তার পরবর্তী পর্যায়ে ১৫টি ম্যাচ হবে করাচিতে; এবং ২১ এপ্রিল থেকে পিএসএল আবার লাহোরে ফিরে যাবে। কোয়ালিফায়ার রাউন্ড originally রাওয়ালপিন্ডিতে হওয়ার কথা থাকলেও তা সরিয়ে ২৮ এপ্রিল করাচি ও লাহোরে অনুষ্ঠিত হবে। ফাইনাল নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ মে লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে।

    টার্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচ ২৬ মার্চে: মুস্তাফিজুর রহমান ও পারভেজ ইমন খেলছেন লাহোর ক্যালান্দার্স ও হায়দরাবাদ কিংসমেনের হয়ে মুখোমুখি হবেন।

    বাংলাদেশের বাকি চার ক্রিকেটারের মধ্যে নাহিদ রানা, শরিফুল ইসলাম এবং তানজিদ হাসান তামিম পেশোয়ার জালমির হয়ে খেলবেন; তাদের প্রথম ম্যাচ নির্ধারিত আছে ২৮ মার্চ—রিশাদ হোসেনের নেতৃত্বে রাওয়ালপিন্ডির বিরুদ্ধে।

    সংকটকে সামনে রেখে এই কঠিন কিন্তু প্রয়োজনে পরিবর্তনগুলো নেওয়া হয়েছে যাতে টুর্নামেন্ট সময়মতো সম্পন্ন করা যায় এবং খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা ও লজিস্টিক কৌশল বজায় রাখা যায়।

  • মনিকা কবিরের বিয়ে: বর বাংলাদেশি যুবক ওয়াহিদ জামান

    মনিকা কবিরের বিয়ে: বর বাংলাদেশি যুবক ওয়াহিদ জামান

    রুশবংশোদ্ভূত বাংলাদেশি মডেল ও ইনফ্লুয়েন্সার মনিকা কবির আগস্টে এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন যে পাঞ্জাবিওয়াল ছেলেরা তাঁর বেশ আকর্ষণ করে, তবুও তিনি নিজেও একজন বাংলাদেশি ছেলেকে বিয়ে করতে চান। সেই কথাই এবার বাস্তবে রূপ নিল।

    রোববার (২২ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও শেয়ার করে মনিকা নিজেই বিয়ের খবর নিশ্চিত করেছেন। ভিডিওতে দেখা যায় নবদম্পতি আনন্দঘন মুহূর্ত কাটাচ্ছেন, খুনসুটি করছেন এবং কাছে থেকেই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা উপভোগ করছেন।

    ক্যাপশনে মনিকা লেখেন, “আমরা বিয়ে করেছি। বর বাংলাদেশি যুবক ওয়াহিদ জামান। ঘরোয়া পরিবেশে মালা বদলের মাধ্যমে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে।” সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া ওই ক্লিপে অতিথি ও আত্মীয়দের উপস্থিতিতে শান্ত ও প্রাইভেট পরিবেশেই অনুষ্ঠান সম্পন্ন হওয়ার ইঙ্গিত মেলে।

    মনিকার हालের সময়ে একটি বিবাদও ছিল। সম্প্রতি ঢাকার রাস্তায় এক পথচারীকে মারধর ও হেনস্থার ঘটনায় তিনি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন এবং সেই ঘটনার কারণে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। বিয়ের খবর ঘোষণার পাশাপাশি ওই ঘটনার প্রসঙ্গে এখনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

    উত্তেজনা ও সমালোচনার মাঝেও মনিকা ও ওয়াহিদ যে ঘরোয়াভাবে বিয়ে করেছেন, তা তাদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হিসেবে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

  • ধুরন্ধর টু: চার দিনে আয় প্রায় ৯০৯ কোটি টাকা

    ধুরন্ধর টু: চার দিনে আয় প্রায় ৯০৯ কোটি টাকা

    দীর্ঘ আড়াই বছরের বিরতির পর রণবীর সিং বড়পর্দায় ফিরে এসেছেন ‘ধুরন্ধর’ সিরিজের দ্বিতীয় অংশে। আদিত্য ধর পরিচালিত প্রথম পর্বটি মুক্তির পর থেকে বড় সাফল্য হতেছিল এবং ভক্তদের মধ্যে সিক্যুয়েল নিয়ে আগ্রহ ছিল তুঙ্গে — সেই প্রত্যাশাই এবার রূপ নিয়েছে।

    ‘ধুরন্ধর টু’ ১৯ মার্চ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় এবং খুব দ্রুত বক্স অফিসে জোয়ার তোলে। বিভিন্ন বক্স অফিস ট্র্যাকার ও সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টে প্রথম চার দিনের আয় নিয়ে একেবারে চোখে পড়ে এমন ফলাফল দেখা দিয়েছে। স্যাকনিল্ক-এর রিপোর্ট অনুযায়ী সিনেমাটি চার দিনে ভারতে আয় করেছে ৫৪১.৯৭ কোটি রুপির (গ্রস), আর বিশ্বব্যাপী মোট আয় দাঁড়িয়েছে ৬৯১.৩২ কোটি রুপিতে — যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৯০৪ কোটি ৫৮ লাখ টাকার সমান। অন্যদিকে বলি মুভি রিভিউর রিপোর্ট বলছে, চার দিনে বিশ্বব্যাপী আয় ৬৯৫ কোটি রুপির কাছাকাছি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৯০৯ কোটি টাকারও বেশি।

    সমালোচকদের প্রতিক্রিয়া মিশ্র। দ্য টেলিগ্রাফের একজন সমালোচক বলেন, ছবিতে রক্তঝরা দৃশ্য ও নৈরাশ্যের উপাদান আছে, এবং সেই কাঁচামাটির সাহস আছে, কিন্তু প্রথম অংশের যে সূক্ষ্ম ভারসাম্য ছিল তা পুরোপুরি ধরে রাখা যায়নি। হিন্দুস্তান টাইমসের ঋষভ সুরি ছবিটিকে ৫-তে ৪ রেটিং দিয়ে মন্তব্য করেছেন যে এটি একটি রোলার-কোস্টার থ্রিলার; প্রথম পর্বের নির্ভুলতার সঙ্গে পুরোপুরি মিল না থাকলেও রণবীর সিংয়ের শক্তিশালী অভিনয় ও দ্বিতীয়ার্ধের টান ছবিটিকে উঁচুতে নিয়ে গেছে।

    এনডিটিভির রাধিকা শর্মা ছবি কে ৫-তে ৩ রেটিং দিয়েছেন এবং বলেছেন, ‘ধুরন্ধর টু’ মূলত রণবীর সিংয়ের শো—কিন্তু ছবির কিছু অংশ বিতর্কিত ও শক্তপোক্ত। নিউজ১৮-এর চিরাগ সেহগাল ৩.৫ রেটিং দিয়ে উল্লেখ করেছেন, কাহিনীর বল এবং একের পর এক টুইস্ট ছবিটিকে আকর্ষণীয় রাখে; বর্ণনার গভীরতা বলযোগ্য।

    বক্স অফিস রেকর্ডে ‘ধুরন্ধর টু’ প্রথম দিন থেকেই বাজিমাত করে। মুক্তির প্রথম দিনে (পেইড প্রিভিউ সহ) এটি ভারতের ভেন্যুগুলোতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উদ্বোধনী আয়কারী ভারতীয় সিনেমা হিসেবে স্থান করে নিয়েছে—শীর্ষে আছে আল্লু অর্জুনের ‘পুষ্পা টু’ (প্রথম দিন আয় ≈ ২৬০ কোটি রুপি)। একই তালিকায় তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে রয়েছে ‘ট্রিপল আর’ (≈২২২ কোটি) ও ‘বাহুবলি টু’ (≈২১৪ কোটি)। হিন্দি ভাষাভিত্তিক সিনেমার মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ আয়ের তালিকায় ‘ধুরন্ধর টু’ শীর্ষে উঠে এসেছে, এতে শাহরুখ খানের ‘জওয়ান’ ও আল্লু অর্জুনের ‘পুষ্পা টু’কেও পিছনে ফেলা হয়েছে।

    বক্স অফিস বিশ্লেষকরা মুক্তির আগেই এই ছবিকে বড় সংখ্যক ব্যবসা করার সম্ভাবনা দেখেছিলেন। কিছু বিশ্লেষকের অনুমান—ভারতে ‘ধুরন্ধর টু’ ১ হাজার কোটি রুপি পর্যন্ত আয় করতে পারে (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৩২১ কোটি টাকার কাছাকাছি)। বক্স অফিস বিশ্লেষক তরণ আদর্শ মন্তব্য করেছেন, দর্শকের চাহিদা পূরণ করলে সীমা হয়ে যায় আকাশ; ‘পুষ্পা’, ‘জওয়ান’ ও ‘ধুরন্ধর’ প্রথম পর্বই প্রমাণ করেছে যে এমনটা সম্ভব।

    সিরিজের মালিকপক্ষ ও নির্মাণদলও উচ্চাভিলাষী প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। বিহারের পুরনিয়ার সিনেমা মালিক বিশেক চৌহান স্পষ্টভাবে বলেছেন, যদি ছবিটি ১ হাজার কোটি রুপি ছাড়িয়ে না যায় তবে তিনি সন্তুষ্ট হবেন না। প্রযোজকরা অতীতের বড় হিটগুলোকে সামনে রেখে আশা প্রকাশ করেছেন যে ‘ধুরন্ধর টু’ও সেই কাতারে যোগ দিতে পারবে।

    চিত্রনাট্য ও প্রযোজনা সংক্রান্ত কিছু তথ্য: রণবীর সিংয়ের নায়িকাদের মধ্যে ছিলেন সারা অর্জুন, যিনি প্রথম ছবিতেই বড় পর্দায় অভিষিক্ত হয়েছিলেন এবং দ্বিতীয় পর্বেও প্রধান ভূমিকায় রয়েছেন। আরও অভিনয় করেছেন—অর্জুন রামপাল, সঞ্জয় দত্ত, অক্ষয় খান্না, আর. মাধবন প্রমুখ। ছবিটির আনুমানিক বাজেট ছিল ≈২৮০ কোটি রুপি এবং প্রযোজনায় আছেন আদিত্য ধর, লোকেশ ধর ও জ্যোতি দেশপান্ডে।

    সংক্ষেপে, ‘ধুরন্ধর টু’ রিলিজের প্রথম চার দিনে বক্স অফিসে উল্লাস ও সমালোচনার তৈরি মিলিত প্রতিক্রিয়া আজকের সিনেমা জগতকে নতুন করে আলোচনা শুরু করিয়েছে। দর্শক প্রতিক্রিয়া ও পরবর্তী সপ্তাহের ব্যবসা কেমন হবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

  • কুমিল্লায় ট্রেন-বাস সংঘর্ষে নিহত ১২ জনের নাম-পরিচয় নিশ্চিত

    কুমিল্লায় ট্রেন-বাস সংঘর্ষে নিহত ১২ জনের নাম-পরিচয় নিশ্চিত

    কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে শনি-রাতের ট্রেন-মামুন পরিবহনের সংঘর্ষে নিহত ১২ জনের নাম-পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। রোববার (২২ মার্চ) দুপুরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রেজিস্ট্রার বইতে নিহতদের নাম নথিভুক্ত করা হয়।

    নিহতরা হলেন: নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার সালামত উল্লার ছেলে মো. বাবুল চৌধুরী (৫৩); ঝিনাইদহের মহেশপুরের পিন্টু মিয়ার স্ত্রী লাইজু আক্তার (২৬) ও তাঁর দুই মেয়ে খাদিজা (৬) ও মরিয়ম (৪); চুয়াডাঙ্গার জীবননগরের বিল্লাল হোসেনের ছেলে সোহেল রানা (৪৬); যশোরের চৌগাছের ফকির চাঁদ বিশ্বাসের ছেলে সিরাজুল ইসলাম (৬২) ও তাঁর স্ত্রী কোহিনূর বেগম (৫৫); নোয়াখালীর সুধারাম এলাকার মোহাম্মদ সেলিমের ছেলে নজরুল ইসলাম রায়হান (৩৩); লক্ষ্মীপুর সদর এলাকার সিরাজউদ্দৌলার মেয়ে সায়েদা (৯); ঝিনাইদহ সদরের মুক্তার বিশ্বাসের ছেলে জোয়াদ বিশ্বাস (২০); মাগুরার মোহাম্মদপুর এলাকার ওহাব শেখের ছেলে ফচিয়ার রহমান (২৬); এবং চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার মমিনুল হকের ছেলে তাজুল ইসলাম (৬৮)।

    ঘটনাটি ঘটে শনিবার (২১ মার্চ) দিবাগত রাত প্রায় ৩টার দিকে, যখন চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী মেইল ট্রেনটি পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে দাঁড়িয়ে থাকা মামুন পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসকে ধাক্কা দেয়। ট্রেনটির আঘাতে বাসটি অন্তত আধা কিলোমিটার পর্যন্ত এগিয়ে যায়। দুর্ঘটনার শুরুতে সাতজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল, পরে নিহতের সংখ্যা বাড়িয়ে মোট ১২ জন হয়।

    দুর্ঘটনার পর চট্টগ্রামের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। পরে আখাউড়া থেকে একটি রিলিফ ট্রেন এসে উদ্ধার ও পুনরুদ্ধার কাজে অংশ নেয়। ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র‌্যাবসহ বিভিন্ন উদ্ধারকর্মী ঘটনাস্থলে তৎপরতা চালান। পরে সকাল ৮টার দিকে রেল যোগাযোগ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়।

    ঘটনার পর রেলক্রসিংয়ের দুই গেটম্যানকে বরখাস্ত করা হয়েছে। কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান নিহতদের পরিবারকে প্রত্যেকের জন্য ২৫ হাজার টাকা করে নগদ সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা করেছেন। এছাড়া দুর্ঘটনার সঠিক কারণ জানার জন্য তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

    দুর্ঘটনায় প্রিয়জন হারানো পরিবারগুলোর প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানানো হচ্ছে এবং কর্তৃপক্ষ দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের পাত্তা দেয়ার আশা করা হচ্ছে।