Blog

  • বাগেরহাটে তেল পাম্পে হামলা-ভাঙচুর: যুবদল নেতা গ্রেপ্তার

    বাগেরহাটে তেল পাম্পে হামলা-ভাঙচুর: যুবদল নেতা গ্রেপ্তার

    বাগেরহাট শহরের খানজাহান আলী ফিলিং স্টেশনে গত হামলা-ভাঙচুরের মামলায় একজন যুবদল নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার রাত সাড়ে নয়টার দিকে শহীদ মিনার সংলগ্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হন ৪০ বছর বয়সী সুমন পাইক, যিনি বাগেরহাট পৌর যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক এবং খারদ্বার এলাকার বাসিন্দা।

    পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ২০ মার্চ শনিবার সন্ধ্যার আগে। ওই দিনে তেলের তীব্র সংকট ও চাহিদার চাপের মধ্যে মোটরসাইকেলে তেল দেওয়ার সময় মোটরসাইকেল প্রতি ২০০ টাকা তেল দেওয়া হচ্ছিল বলে জানানো হয়েছে। এ সময় কয়েকজন অনধিকারভাবে পাম্পে প্রবেশ করে অধিক টাকা দাবি করে এবং নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগ তুলে কর্মচারীদের সঙ্গে বিবাদে জড়ায়। বিবাদ বাড়লে, এজাহারে উল্লেখ করা অনুসারে সুমন পাইকের নেতৃত্বে তারা কর্মচারীদের উপর হামলা চালায়। তখন কর্মচারী তানবির মল্লিক, মোঃ সাইফুল ইসলাম ও মোঃ রেজোয়ান সহ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে অভিযোগ করা হয়েছে যে হামলাকারীরা পাম্পের কোষাগার থেকে প্রায় ৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা নিয়ে যায়।

    ঈদের দিন থেকে বাগেরহাট শহরের দুটি পাম্প বন্ধ রয়েছে। ঘটনার প্রতিবাদে খানজাহান আলী ফিলিং স্টেশনের সামনে ‘‘অনির্দিষ্টকালের জন্য পাম্প বন্ধ’’ শিরোনামে একটি বিশেষ বিজ্ঞপ্তি ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, চিহ্নিত সন্ত্রাসী চক্ররা লুটপাট, ভাঙচুর ও মালিক-কর্মচারীদের জীবননাশের উদ্দেশ্যে হামলা চালায়; তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত পাম্প বন্ধ থাকবে।

    পাম্পের অন্যতম মালিক মুর্শিদ কুলি খান রোববার বাগেরহাট সদর মডেল থানায় বাদী হয়ে ৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ১০-১২ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। এজাহারে সুমন পাইককে প্রথম নম্বর আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    বাগেরহাট মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শহিদুল ইসলাম বলেন, খানজাহান আলী ফিলিং স্টেশনে মারধরের মামলায় এজাহারনামা অনুযায়ী এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্যান্য যুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপরতা চালাচ্ছে। মুর্শিদ কুলি খান জানান, প্রধান আসামী গ্রেফতার হয়েছে; তারা ডিপো থেকে তেল প্রাপ্তির পর পাম্প নিয়মিতভাবে খুলে দেবেন।

  • সুন্দরবনের ‘ছোট সুমন’ বাহিনীর সদস্য ইয়াছিন শেখকে মোংলা কোস্ট গার্ড আটক, অস্ত্র-গুলি জব্দ

    সুন্দরবনের ‘ছোট সুমন’ বাহিনীর সদস্য ইয়াছিন শেখকে মোংলা কোস্ট গার্ড আটক, অস্ত্র-গুলি জব্দ

    মোংলা কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন সুন্দরবনের দস্যুবাহিনীর সদস্য ইয়াছিন শেখকে আটক করেছে। সোমবার গভীর রাতে চিলা ইউনিয়নের ফেলুর খণ্ডের বৈদ্যমারী বাজার সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে ধাওয়া করে গ্রেপ্তার করা হয়।

    কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, ইয়াছিন ঈদের সময় সুন্দরবন থেকে এসে বৈদ্যমারী বাজার এলাকায় আত্মগোপন করেছিল। বনদস্যু ‘ছোট সুমন’ বাহিনীর ওই সদস্য সম্পর্কে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মোংলা ও হারবাড়িয়া কোস্ট গার্ডের পৃথক দুটি দল অভিযান পরিচালনা করে। কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে দৌড়ে পালাতে গেলে ধাওয়া করে তাকে আটক করা হয়।

    আটককৃত ইয়াছিন শেখ (৪০) বাগেরহাট জেলার মোংলা থানার নারী। আটক হওয়া ব্যক্তির দেয়া তথ্যে সোমবার (২৩ মার্চ) সকালে সুন্দরবনের ধানসিঁদ্দির চর সংলগ্ন এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে ১টি একনলা বন্দুক, ৪ রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও ৪ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ জব্দ করা হয়।

    কোস্ট গার্ডের বলছে, ইয়াছিন দীর্ঘদিন ধরে ‘ছোট সুমন’ বাহিনীর সঙ্গে জড়িত থেকে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও রসদ সরবরাহ করে আসছিল। তিনি জেলেদের অপহরণ, মুক্তিপণ আদায় এবং বিভিন্ন ডাকাতি কাজে সহায়তা করত।

    ইয়াছিন ২০১৭ সালে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ ‘ছোট সুমন’ বাহিনীর ১৩ সদস্যের সঙ্গে র‌্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আবার সুমন এবং তার পুরনো সদস্যদের নিয়ে সুন্দরবনে ফের দস্যু কর্মকাণ্ড শুরু করে বলে কোস্ট গার্ড জানিয়েছে। বর্তমানে তার সঙ্গে অস্ত্রসহ প্রায় ১৮-২০ জন সদস্য থাকার তথ্যও পাওয়া গেছে।

    কোস্ট গার্ড জানায়, জব্দকৃত অস্ত্র, গুলি ও আটককৃত ইয়াছিনকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য হস্তান্তর করা হবে এবং তদন্ত চলছে।

    বিসিজিএস তৌফিকের নির্বাহী কর্মকর্তা লে. আশিকুল ইসলাম ইমন জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকেই কয়েকটি দস্যুবাহিনী সুন্দরবনে সক্রিয় হয়ে জেলেদের অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। ইতোমধ্যেই কোস্ট গার্ড কয়েকজন সদস্যকে অস্ত্রসহ আটক করতে সক্ষম হয়েছে। সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত রাখতে কোস্ট গার্ডের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।

  • যুদ্ধের প্রভাবে বদলানো পিএসএল ভেন্যু — মুস্তাফিজদের ম্যাচ কেবল লাহোর ও করাচিতে

    যুদ্ধের প্রভাবে বদলানো পিএসএল ভেন্যু — মুস্তাফিজদের ম্যাচ কেবল লাহোর ও করাচিতে

    মুস্তাফিজুর রহমানসহ ছয় বাংলাদেশি ক্রিকেটার চলতি বছরের পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) খেলতে যাচ্ছেন। তবে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাবে আয়োজন সংক্রান্ত বেশ কিছু পরিবর্তন এসেছে — টুর্নামেন্টের ভেন্যু সংকুচিত করে কেবল লাহোর ও করাচিতে খেলা আয়োজন করা হবে এবং দর্শক প্রবেশ বন্ধ করা হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটিও বাতিল করা হয়েছে।

    আগে পরিকল্পনা ছিল ২৬ মার্চ থেকে ৩ মে পর্যন্ত ৮ দল অংশে ৩৯ দিনে পাকিস্তানের ছয়টি ভেন্যুতে ৪৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। মাঠভিত্তিক নিবন্ধন ও দর্শক সুবিধা বাড়িয়ে অঞ্চলভিত্তিক ভৌগোলিক বৈচিত্র্য রাখা হচ্ছিল। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের বিবাদ ও তার প্রভাব — বিশেষত জ্বালানি ও গ্যাসের সংকট এবং মূল্যস্ফীতি—পরিবহন ও লজিস্টিক ব্যয় বাড়ায় পিসিবি টুর্নামেন্টের পরিধি সংকুচিত করার সিদ্ধান্ত নেয়।

    পিসিবি সভাপতি মহসিন নাকভি বলেছেন, প্রতিদিন স্টেডিয়ামে প্রায় ৩০ হাজার দর্শক ঢুকতে পারে, এমন বিশাল জনস্রোতের ওপর আমরা এখন নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে পারি না। তাই চলমান সংকট কাটিয়ে না যাওয়া পর্যন্ত ম্যাচে দর্শক রাখা হবে না; এটি কষ্টসাধ্য কিন্তু প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত। এ কারণেই জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে।

    সূচি কিছুটা পরিবর্তিত হয়েছে, কিন্তু মূল খেলাগুলোয় বড় বদল নেই — কেবল মাঠ বদলেছে। ২৬ মার্চ থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত প্রথম ১৪ ম্যাচ লাহোরে অনুষ্ঠিত হবে, এরপর ধারাবাহিকভাবে ১৫টি ম্যাচ করাচিতে হবে। ২১ এপ্রিল থেকে পিএসএল আবার লাহোরে ফিরবে। কোয়ালিফায়ার রাউন্ড রাওয়ালপিন্ডি থেকে সরিয়ে ২৮ এপ্রিল করাচি ও লাহোরে আয়োজিত হবে। ফাইনালও ৩ মে লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। ২৬ মার্চের উদ্বোধনী ম্যাচে লাহোর কালান্দার্স ও হায়দরাবাদ কিংসমেন মুখোমুখি হবে, যেখানে মুস্তাফিজুর রহমান এবং পারভেজ ইমনকে দেখা যাবে।

    বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের মধ্যে মুস্তাফিজুর রহমানের পাশাপাশি আরও পাঁচজন অংশ নিচ্ছেন। তাদের মধ্যে নাহিদ রানা, শরিফুল ইসলাম ও তানজিদ হাসান তামিম পেশোয়ার জালমির হয়ে খেলবেন। এ তিনজনের প্রথম ম্যাচ ২৮ মার্চ রিশাদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন রাওয়ালপিন্ডির (পিন্ডিজ) বিরুদ্ধে।

    পিসিবি জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করবে এবং প্রয়োজন হলে আরও পরিবর্তন আনার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বর্তমানে নিরাপত্তা, জ্বালানি ও ভ্রমণ সাশ্রয়ের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নিয়ে দর্শকশূন্য কন্ডিশনে ক্রীড়া চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তই নিয়েছে।

  • বিসিবির নতুন নির্বাচক প্যানেল: প্রধান নির্বাচক কাজী হাবিবুল বাশার

    বিসিবির নতুন নির্বাচক প্যানেল: প্রধান নির্বাচক কাজী হাবিবুল বাশার

    বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সোমবার এক বিজ্ঞপ্তিতে জাতীয় দলের জন্য নতুন নির্বাচক প্যানেল ঘোষণা করেছে। এতে সাবেক অধিনায়ক কাজী হাবিবুল বাশারকে প্রধান নির্বাচক করে প্যানেল গঠন করা হয়েছে।

    ৫৩ বছর বয়সী হাবিবুল বাশার আগে বাংলাদেশ পুরুষ ও নারী দলের নির্বাচক হিসেবে কাজ করেছেন। খেলোয়াড়ি জীবনে তিনি দলের নির্ভরযোগ্য ব্যাটার ছিলেন এবং টেস্ট ক্রিকেটে ৩ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করা প্রথম বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছেন।

    নতুন প্যানেলে বাশারের সঙ্গে রয়েছেন সাবেক পেসার হাসিবুল হোসেন, যিনি ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে গাজী আশরাফ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আগের নির্বাচক প্যানেলের সদস্য হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। এছাড়া দলে জায়গা পেয়েছেন নাঈম ইসলাম ও নাদিফ চৌধুরী।

    ৩৯ বছর বয়সী নাঈম ইসলামের ক্যারিয়ার প্রায় দুই দশক লম্বা; সব ফরম্যাট মিলিয়ে তার রানের সংখ্যা ২০ হাজারেরও বেশি বলে জানানো হয়েছে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৩৪টি সেঞ্চুরি করে তিনি বাংলাদেশিদের মধ্যে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরি ধারক হিসেবে পরিচিত।

    অপরদিকে ৩৮ বছর বয়সী নাদিফ চৌধুরীরও খেলোয়াড়ি জীবন প্রায় ২০ বছর ছিল এবং তিনি বাংলাদেশ সময় কয়েকটি টি-২০ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন। অবসরের পর তিনি বয়সভিত্তিক দলের নির্বাচক হিসেবে কাজ করে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।

    বিসিবি জানিয়েছে, এই নির্বাচক প্যানেলের মেয়াদ রাখা হয়েছে ২০২৭ সালের আইসিসি পুরুষ ক্রিকেট বিশ্বকাপ দলের চূড়ান্ত নির্বাচন সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত। প্যানেলকে দিয়ে জাতীয় দলে স্থায়িত্ব ও প্রতিযোগিতামূলক শক্তি বাড়ানোই বোর্ডের অন্যতম লক্ষ্য।

  • মনিকা কবির বিয়ে করলেন—বর বাংলাদেশি যুবক ওয়াহিদ জামান

    মনিকা কবির বিয়ে করলেন—বর বাংলাদেশি যুবক ওয়াহিদ জামান

    রাশিয়ান বংশোদ্ভূত বাংলাদেশি মডেল ও ইনফ্লুয়েন্সার মনিকা কবির আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে করেছেন। তিনি নিজেই রোববার (২২ মার্চ) সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও শেয়ার করে এই খবর নিশ্চিত করেছেন।

    ভিডিওতে দেখা যায় নবদম্পতি আনন্দঘন মুহূর্ত কাটাচ্ছেন এবং খুনসুটি করছেন। ক্যাপশনে মনিকা লেখেন, ‘আমরা বিয়ে করেছি। বর বাংলাদেশি যুবক ওয়াহিদ জামান।’ তিনি জানান, ঘরোয়া পরিবেশে মালা বদল এনে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে।

    গত আগস্টে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে মনিকা জানিয়েছিলেন, পাঞ্জাবিওয়াল ছেলেদের তিনি খুব পছন্দ করেন এবং তিনি মূলত বাংলাদেশের ছেলেকেই বিয়ে করতে চান—এবার সেই ইচ্ছা পূরণ হল।

    তবে মনিকার সাম্প্রতিক জীবন নিয়ে বিতর্কও ছিল। ঢাকার রাস্তায় এক পথচারীকে মারধর ও হেনস্থার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি ব্যাপক সমালোচনায় পড়েন এবং ওই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। বর্তমান বিয়ের খবর শেয়ার করা হলেও সামাজিক প্রতিক্রিয়া ও মামলার বিষয়টি এখনও আলোচনায় রয়েছে।

  • ধুরন্ধর টু: চার দিনে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৯০৯ কোটি টাকার আয়

    ধুরন্ধর টু: চার দিনে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৯০৯ কোটি টাকার আয়

    দীর্ঘ আড়াই বছর পর রণবীর সিং বড় পর্দায় ফিরেছেন ‘ধুরন্ধর’ সিরিজের মাধ্যমে। আদিত্য ধর পরিচালিত প্রথম অংশটি গত বছর মুক্তি পেয়ে দর্শকদের মধ্যে প্রচণ্ড সাড়া ফেলেছিল; ফলে সিক্যুয়েলের প্রতি আগ্রহ আর প্রত্যাশা দুগুণ বেড়ে গিয়েছিল।

    ‘ধুরন্ধর টু’ ১৯ মার্চ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়—মুক্তির সঙ্গে সঙ্গেই এটি বক্স অফিসে ঝড় তুলেছে। স্যাকনিলক জানায়, প্রথম চার দিনে ভারতের আয় দাঁড়িয়েছে ৫৪১.৯৭ কোটি রুপি (গ্রস), এবং বিশ্বব্যাপী ওই সময়ে আয় হয়েছে প্রায় ৬৯১.৩২ কোটি রুপি। বাংলাদেশি মুদ্রায় এটি প্রায় ৯০৪.৫৮ কোটি টাকার সমতুল্য বলে বলা হয়েছে।

    অন্য একটি প্রতিবেদন—বলি মুভি রিভিউ—প্রকাশ করেছে যে চার দিনে বিশ্বব্যাপী মোট আয় প্রায় ৬৯৫ কোটি রুপি (গ্রস), যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৯০৯ কোটি টাকার বেশি। এই বিভিন্ন আয়সংক্রান্ত ফিগারগুলির পার্থক্য বিভিন্ন উৎসের সংগ্রহপদ্ধতি ও বিনিময় হার বিবেচনায় নিতেই হয়ে থাকে।

    সমালোচকদের প্রতিক্রিয়া মিশ্র। দ্য টেলিগ্রাফের সমালোচক মন্তব্য করেছেন, ছবিটিতে রক্তপাত ও সহিংসতার মাত্রা বেশি এবং কিছু অংশে সূক্ষ্মতার অভাব রয়েছে, যা প্রথম অংশ থেকে প্রত্যাশিত হতে পারে। হিন্দুস্তান টাইমসের ঋষভ সুরি ছবিটিকে ৫-এ ৪ রেটিং দিয়ে বলেছেন—এটি একটি রোলার-কোস্টার থ্রিলার; প্রথম পার্টের মতো নিখুঁত না হলেও রণবীর সিংয়ের শক্তিশালী অভিনয় ও দ্বিতীয়ার্ধের উত্তেজনা ছবিটিকে উঁচুতে নিয়ে গেছে।

    এনডিটিভির রাধিকা শর্মা ৫-এ ৩ রেটিং দিয়ে মন্তব্য করেছেন, ‘ধুরন্ধর টু’ মূলত রণবীর সিংয়ের শো; ছবির কিছু অংশ গল্পের সীমা ছাড়িয়ে গিয়ে অতিরঞ্জিত মনে হতে পারে। নিউজ১৮-এর চিরাগ সেহগাল ৩.৫ রেটিং দিয়ে বলেছেন, গল্প বলার ধরন শক্ত ও টুইস্টভরা, যা দর্শকের আগ্রহ ধরে রাখে।

    রেকর্ডের দিক দিয়ে ‘ধুরন্ধর টু’ বেশ কিছু সাফল্য দেখিয়েছে। মুক্তির প্রথম দিনে (পেইড প্রিভিউ সহ) এটি একঝাঁক রেকর্ড গঠন করেছে—ভারতীয় সিনেমার মধ্যে একদিনে সর্বকালের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আয়কারী হিসেবে স্থান করেছে; শীর্ষে রয়েছে আল্লু অর্জুনের ‘পুষ্পা টু’ (প্রথম দিনের আয় প্রায় ২৬০ কোটি রুপি)। তাছাড়া একদিনে বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে বেশি আয়কারী ভারতীয় সিনেমার তালিকায়ও এটি দ্বিতীয় অবস্থানে উঠেছে। তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে যথাক্রমে ‘ট্রিপল আর’ (২২২ কোটি) ও ‘বাহুবলি টু’ (২১৪ কোটি) আছে। আরও দিক থেকে, হিন্দি ভার্সনে একদিনে সবচেয়ে বেশি আয়কারী সিনেমার তালিকায় ‘ধুরন্ধর টু’ শীর্ষ অবস্থান দখল করেছে, এতে ‘জওয়ান’ ও ‘পুষ্পা টু’কেও পিছনে ফেলা হয়েছে।

    বক্স অফিস বিশ্লেষকদের অনুমান ও প্রযোজকদের আশা উভয়ই উচ্চ। মুক্তির আগেই অনেক বিশ্লেষক বলেছিলেন, ভারতীয় বাজারে ছবিটি ১ হাজার কোটি রুপি আয় করতে পারে—যার সমতুল্য বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ১৩২১ কোটি টাকার মতো। বক্স অফিস বিশ্লেষক তরণ আদর্শ মত দিয়েছেন যে, যদি দর্শকদের চাহিদা মেটানো যায় তো ব্যবসার সীমা আকাশই হতে পারে; এর আগে ‘পুষ্পা’ ও ‘জওয়ান’ এর মতো ছবির উদাহরণ থেকেও তা দেখা গেছে।

    কিছু প্রযোজক ও মালিকও উচ্চ প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন এবং বলেছেন, ১ হাজার কোটি রুপির আয়ের নীচে গেলে তারা সন্তুষ্ট হবেন না। ঐতিহাসিকভাবে এমন বেশ কিছু ছবিই ছিল যা নিজ নিজ ফ্র্যাঞ্চাইজির আগের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে—এমন সম্ভাবনা ‘ধুরন্ধর টু’ নিয়েও শোনা যাচ্ছে।

    অভিনয়ে রণবীর সিংয়ের বিপরীতে প্রথম ছবিতে বড় পর্দায় অভিষেক করেছিলেন সারা অর্জুন; সিক্যুয়েলেও তিনি রণবীরের সঙ্গে রয়েছেন। তার পাশাপাশি আরও আছেন অর্জুন রামপাল, সঞ্জয় দত্ত, অক্ষয় খান্না, আর. মাধবন প্রমুখ। প্রায় ২৮০ কোটি রুপি বাজেটে ছবিটির প্রযোজনায় ছিলেন আদিত্য ধর, লোকেশ ধর ও জ্যোতি দেশপান্ডে।

    সংক্ষেপে, মুক্তির প্রথম কয়েক দিনে ‘ধুরন্ধর টু’ বাণিজ্যিকভাবে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে এবং সমালোচকদের মিশ্র প্রতিক্রিয়ার মাঝেও দর্শকপ্রিয়তার চিহ্ন স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। আগামী সপ্তাহগুলোতে ছবিটি কী পরিসরে ব্যবসা বাড়ায়, সেটাই এখন নজর কেড়েছে বক্স অফিসবিশ্বের।

  • মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব: সামনে সবকিছুর দাম বাড়বে, মোকাবিলায় সরকার কাজ করছে — মির্জা ফখরুল

    মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব: সামনে সবকিছুর দাম বাড়বে, মোকাবিলায় সরকার কাজ করছে — মির্জা ফখরুল

    মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে আগামী দিনে সবকিছুর দাম বাড়বে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব ও এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, পরিস্থিতি আমাদের জন্য বড় ক্ষতির কারণ হবে, সামনের দিনগুলো সহজ হবে না — তাই এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার কাজ করছে।

    সোমবার (২৩ মার্চ) সকাল সাড়ে ১১টায় ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার নেহা নদীর পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন শেষে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, কয়েকটি পাম্প ভাঙচুর হয়েছে; আমরা পরিষ্কার বলে দিতে চাই কোনোভাবে মব তৈরি করতে দেবো না এবং মবকে কঠোরভাবে দমন করা হবে। কেউ গায়ের জোরে আইনের বাইরে গিয়ে যাতে কোনো কাজ করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা হবে।

    খাল খনন কর্মসূচিতে কোনো ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না, অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি সতর্ক করে বলেন। তিনি আরও বলেন, এই খাল খনন কর্মসূচি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, স্থানীয় স্তরে মাছচাষ ও হাঁসপালনের সুযোগ সৃষ্টি করার দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রকল্পের প্রতিটি টাকা যেন জনগণের কল্যাণে যথাযথভাবে ব্যবহার হয়, সেটা নিশ্চিত করতে হবে।

    ধর্ম আর রাজনীতি নিয়ে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘কিছু নেতা ধর্মকে ব্যবহার করে মানুষের মন মাল্লামাল করে ভুল পথে নিয়ে যায়। দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ ধার্মিক; তারা ধর্মকে ব্যবসার কাজে দেখতে চান না। আমরা কাজ করতে এসেছি এবং কাজ করে যাবো। ধর্মের নাম করে কাউকে বেহেশতে নেওয়া যাবে না—আল্লাহর সন্তুষ্টি ছাড়া বেহেশতে যাওয়া সম্ভব না। সৎভাবে থাকতে হবে, হালাল রুজি খেতে হবে।’’

    কৃষি খাত নিয়ে তিনি বলেন, সম্প্রতি গম ঝড়ে পড়ে গেছে, আলু বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে — এটাই আমাদের কৃষকের দুর্ভাগ্য। এসব সমস্যা তারা ভোগ করছেন, আমরা বিষয়গুলো বুঝি। নির্বাচনের আগে দেওয়া কৃষি ঋণ মওকুফের প্রতিশ্রুতি কার্যকর করা হয়েছে, এবং কৃষকদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। তিনি জানান, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে সারাদেশে কয়েক কোটি নারীকে কার্ড দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে তাঁরা বিভিন্ন সহায়তা পাবেন।

    নেহা নদীর পুনঃখনন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া জেলা প্রশাসক ইসরাত ফারজানা, পুলিশ সুপার বেলল হোসেন ও জেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে মোট ২০ হাজার খাল খনন করে জনসাধারণের সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে এবং সকল প্রজেক্ট সম্পন্ন করা হবে।

  • ভারত থেকে কারাভোগ শেষে দেশে ফিরল ৩৩ পাচারের শিকার বাংলাদেশি

    ভারত থেকে কারাভোগ শেষে দেশে ফিরল ৩৩ পাচারের শিকার বাংলাদেশি

    ভারতে কারাভোগ শেষে পাচারের শিকার ৩৩ জন বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। রোববার (২২ মার্চ) সন্ধ্যায় বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এদের মধ্যে চারজন শিশু, চারজন নারী ও ২৫ জন পুরুষ রয়েছেন।

    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, কলকাতার বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন এবং পশ্চিমবঙ্গের নারী-শিশু পাচার রোধ টাস্কফোর্সের সমন্বিত চেষ্টা তাদের ফেরত আনার পেছনে কাজ করেছে। যশোরের জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের বেনাপোলের কর্মী শফিকুল ইসলাম জানান, দালালের মাধ্যমে পাচারের শিকার হওয়া এই ৩৩ জনকে ভারতীয় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেছে। এরপর বেনাপোল ইমিগ্রেশন থেকে পোর্ট থানায় পাঠানো হয় এবং জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার তাদের গ্রহণ করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করবে।

    বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের পরিদর্শক সৈয়দ মোর্তজা বলেন, ট্রাভেল পারমিটে দেশে ফেরত আসা এই নারী-পুরুষ ও শিশুদের ইমিগ্রেশন কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থাপনায় কাজ চলছে।

  • জামায়াত-এনসিপি নিয়ে প্রশ্ন তুললেন বিএনপি সাংসদ মনিরুল হক চৌধুরী

    জামায়াত-এনসিপি নিয়ে প্রশ্ন তুললেন বিএনপি সাংসদ মনিরুল হক চৌধুরী

    রোববার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে বিএনপি সাংসদ মনিরুল হক চৌধুরী জামায়াত ও এনসিপি নিয়ে তীক্ষ্ণ মন্তব্য করেছেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফiz উদ্দিন আহমদ।

    তিনি বলেন, ‘‘স্বাধীনতার পরও একটি মেধাবী শ্রেণি এসেছিল, যারা জাসদ গঠন করেছিল। পরে বাড়াবাড়ির কারণে দেশ-জাতির ক্ষতি হয়েছে, তাদেরও হারাতে হয়েছে। আমাদের যেন এসব সবকিছু সহ্য করার ক্ষমতা প্রচুর मिले।’’

    মনিরুল হক চৌধুরী জাতিতে বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ১৯৯১ সালের সংসদে তিনি দলের সঙ্গে কাজ করেছেন; তখন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বিভিন্ন বিরোধ উপেক্ষা করে জামায়াতের সাথে হাতে মিলিয়েই কাজ করেছেন। ‘‘আপনারা যখন বর্তমান সময়ে প্রশ্ন তুলেন, মনে হয় এই দেশে ১৫-২০ বছর বিএনপি ছিল না—কিন্তু দেশনেত্রী অনেক আপত্তির মধ্যেই ঐ সময় একসঙ্গে কাজ করেছেন। তাঁর এই অবদানকে একটু স্মরণ করলেও সত্যি উপকার হত,’’ তিনি বলেন।

    সরকারি ও বিরোধী দলে আজকের পার্থক্যকে নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘‘সংসদে দাঁড়িয়ে আগে যাদের বিরুদ্ধে কথা বলা হতো, তাদের চিনতাম; কিন্তু আজকের বিরোধীদের অনেকজনকে আমি এখনও জানি না। আমাদের নেতা তারেক রহমান বলেছিলেন কঠিন নির্বাচন হবে—এখন তা আমরা উপলব্ধি করেছি।’’

    তিনি আরো অভিযোগ করেন, এত সংখ্যক সদস্য নিয়ে সংসদে আসার পর যাদেরকে আলহামদুলিল্লাহ বলা উচিত সেটা হলো জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ; অথচ আজ তাদের বিরুদ্ধে প্রশ্ন উঠছে। একই সঙ্গে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন যে জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদেরকেও প্রশ্নের মুখে পড়তে দেখা যাচ্ছে—মুক্তিযুদ্ধকে কি ৭১ সালের যুদ্ধের সঙ্গে এক কাতারে আনা হচ্ছে?

    মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, যদি ফ্যাসিস্ট শাসনের সময় বিচারের নামে অন্যায় হয়েছে, সেটি আলাদা বিষয়; তবে এই মহান সংসদে তিনি এই প্রশ্ন তুলেছেন। শেষ পর্যন্ত তিনি জামায়াতসহ কিছু দলকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘‘স্বাধীনতার পরে বা এনসিপি-র মতো দলগুলোর অনেক নেতাই বয়সে ছোট হলেও আমি তাদের শ্রদ্ধা করি—কারণ তারা সাহসী, এবং এটা যুগের দাবি।’’

  • কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

    কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঢাকা-৮ আসনে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পর থেকেই নানা আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন। কিছু মন্তব্যের কারণে তিনি সমালোচনার শিকার হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর উপস্থিতি ও জনপ্রিয়তাও 눈ে পড়ার মতো বৃদ্ধি পেয়েছে।

    আজ বুধবার সকালে একটি পোস্টে তিনি বলেছেন, যদি তাঁর কোনো কথা বা কাজে অনিচ্ছাকৃতভাবে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকেন, তিনি তার জন্য আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছেন।

    পোস্টে তিনি জানান, গত কয়েক দিনে বয়োজ্যেষ্ঠ বন্ধু, রাজনৈতিক শুভাকাঙ্ক্ষী, মন্ত্রী-এমপি ও তাঁর প্রিয় সহযোদ্ধাদের সঙ্গে তিনি বিভিন্ন বিষয়ে আন্তরিকভাবে কথা বলেছেন। সবার কাছ থেকেই তিনি একটি স্পষ্ট দিকনির্দেশনা পেয়েছেন—ব্যক্তিগত আক্রমণ এড়ানো, অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা থেকে দূরে থাকা এবং গঠনমূলক আলোচনায় মনোযোগ দেয়া।

    নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, তিনি বিনয়ের সঙ্গে ওই পরামর্শগুলো গ্রহণ করছেন এবং ভবিষ্যতে আরও শান্ত ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার চেষ্টা করবেন। তিনি জানিয়েছেন, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অগ্রগতির জন্য নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করে যেতে চান।

    তিনি আবারো অনুরোধ করেছেন—মানুষের দোয়া, ভালোবাসা ও পরামর্শই তার পথচলার শক্তি। ‘‘আপনাদের দোয়া, ভালোবাসা ও পরামর্শ আমার চলার শক্তি’’—বলেছেন তিনি।

    পোস্টে উল্লেখ রয়েছে, গতকাল তিনি ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে কিয়ামুল লাইল কর্তৃক এই আত্মিক যাত্রার নীরব সূচনা করেছেন এবং সবাইকে দোয়া করেছেন—আল্লাহ যেন সবাইকে ক্ষমা করেন এবং সঠিক পথে পরিচালিত করেন।