Blog

  • পিএসএলে যুদ্ধের ছাপ: মুস্তাফিজদের ম্যাচ এখন শুধু লাহোর ও করাচিতে, দর্শকশূণ্য আয়োজন

    পিএসএলে যুদ্ধের ছাপ: মুস্তাফিজদের ম্যাচ এখন শুধু লাহোর ও করাচিতে, দর্শকশূণ্য আয়োজন

    মুস্তাফিজুর রহমানসহ বাংলাদেশের ছয় ক্রিকেটার আসন্ন পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) খেলতে যাচ্ছেন। তবে টুর্নামেন্ট আয়োজনকে কেন্দ্র করে বড় রদবদল ঘোষণা করা হয়েছে—যুদ্ধের প্রভাব ও নিরাপত্তা ও জ্বালানি-সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে এখন সব ম্যাচ করা হবে কেবল লাহোর ও করাচিতে এবং দর্শক প্রবেশ বন্ধ থাকবে।

    আগামী ২৬ মার্চ থেকে ৩ মে পর্যন্ত সময়ঘটিত এই এসংস্করণে প্রথমবারের মতো পরিকল্পিত ছয় ভেন্যু (করাচি, লাহোর, মুলতান, পেশোয়ার, ফয়সলাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডি) বাতিল করে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে। পিসিবি জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত এবং বিশ্বব্যাপী জ্বালানি ও গ্যাস সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি টুর্নামেন্ট পরিচালনায় বড় অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে; যাতায়াত ও লজিস্টিক সাশ্রয়ের কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    পিসিবি সভাপতি মহসিন নাকভি বলেন, ‘প্রতিদিন ত্রিশ হাজার দর্শক স্টেডিয়ামে আসতে পারলে আমরা সেই মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে পারব না। তাই যতদিন পরিস্থিতি অনিশ্চিত থাকবে, খেলাগুলো দর্শকশূন্য রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। একই কারণে জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটিও বাতিল করা হয়েছে।’

    তবে টুর্নামেন্টের ম্যাচ সূচি অপরিবর্তিত রেখেই ভেন্যু বদল করা হয়েছে। শুরুর ২৬ মার্চ থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত প্রথম ১৪টি ম্যাচ হবে লাহোরে, তারপরে করাচিতে ১৫টি ম্যাচ এবং ২১ এপ্রিল থেকে ফের লাহোরে খেলা হবে। কোয়ালিফায়ার রাউন্ড রাওয়ালপিন্ডি থেকে সরিয়ে ২৮ এপ্রিল করাচি ও লাহোরে আয়োজিত হবে এবং ফাইনাল ৩ মে লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে নির্ধারিত রয়েছে। উদ্বোধনী ম্যাচে (২৬ মার্চ) লাহোর কালান্দার্স ও হায়দরাবাদ কিংসমেন মুখোমুখি হবে, যেখানে মুস্তাফিজুর রহমান ও পারভেজ ইমন মাঠে থাকবেন।

    বাংলাদেশি প্রতিনিধিদের মধ্যে নামগুলো হলো — মুস্তাফিজুর রহমান, পারভেজ ইমন, রিশাদ হোসেন, নাহিদ রানা, শরিফুল ইসলাম ও তানজিদ হাসান তামিম। এদের মধ্যে নাহিদ রানা, শরিফুল ইসলাম ও তানজিদ তামিম পেশোয়ার জাল্মির হয়ে খেলবেন; তাদের প্রথম ম্যাচ ২৮ মার্চ রাওয়ালপিন্ডির (পিন্ডিজ) সঙ্গে।

    সংক্ষেপে, রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত অস্থিরতা এবং প্রতিকূল অর্থনৈতিক পরিবেশের প্রভাবেই পিএসএল-এর ভেন্যু সীমিত করা হয়েছে এবং দর্শকশূন্য আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে—যা খেলোয়াড় ও দর্শক উভয়ের জন্যই অপ্রচলিত হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে জরুরি বিবেচিত হয়েছে।

  • ‘ধুরন্ধর টু’: ৪ দিনে বিশ্বব্যাপী আয় প্রায় ৯০৯ কোটি টাকা

    ‘ধুরন্ধর টু’: ৪ দিনে বিশ্বব্যাপী আয় প্রায় ৯০৯ কোটি টাকা

    বলিউড তারকা রণবীর সিং দীর্ঘ আড়াই বছর পর দর্শকদের ফিরিয়ে এনেছেন বড়পর্দায়—গত বছর মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ধুরন্ধর’ চলচ্চিত্রের সাফল্যের পর এবার ফিরে এসেছে সিক্যুয়েল ‘ধুরন্ধর টু’। আদিত্য ধর পরিচালিত এই সিনেমাটি ১৯ মার্চ প্রেক্ষাগৃহে চালু হলে তৎক্ষণাৎ বক্স অফিসে ঝড় তুলেছে।

    বক্স অফিস রিপোর্টে কিছু ভিন্নতা থাকলেও দেখা যাচ্ছে, মুক্তির প্রথম চারদিনে ছবিটির আয় ছিল অভূতপূর্ব। স্যাকনিল্কের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতে চারদিনে ছবিটি আয় করেছে প্রায় ৫৪১.৯৭ কোটি রুপি (গ্রস), আর বিশ্বব্যাপী মোট আয় হয়েছে ৬৯১.৩২ কোটি রুপি। এটিকে বাংলাদেশি মুদ্রায় রূপান্তর করলে দাঁড়ায় প্রায় ৯০৪ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। অপরদিকে বলি মুভি রিভিউ সূত্রে বিশ্বব্যাপী চারদিনের মোট আয় হিসেবে বলা হয়েছে প্রায় ৬৯৫ কোটি রুপি, যা বাংলাদেশি টাকায় আনুমানিক ৯০৯ কোটি টাকার বেশি। এই দুই রিপোর্টের স্বল্প ব্যবধান বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে রিপোর্টিং পদ্ধতি ও রাউন্ডিংয়ের কারণে।

    সমালোচকদের রায় মিশ্র ধরনের। দ্য টেলিগ্রাফের অগ্নিভো নিয়োগী সিনেমাটিকে কিছু অংশে অতিরিক্ত রক্তপাত ও প্রকাশ্য সহিংসতার জন্য সমালোচনা করেছেন এবং বলেন, ‘ধুরন্ধর টোন বা সূক্ষ্মতার অভাব আছে।’ হিন্দুস্তান টাইমসের ঋষভ সুরি ছবিটিকে ৫-এ ৪ রেটিং দিয়ে মন্তব্য করেছেন, ‘এটি একটি রোলার-কোস্টার থ্রিলার; প্রথম পার্টের ধারাবাহিকতা পুরোপুরি মেলেনি, তবু রণবীর সিংয়ের শক্তিশালী অভিনয় ও দ্বিতীয়ার্ধের টান সিনেমাটিকে এগিয়ে নিয়েছে।’ এনডিটিভির রাধিকা শর্মা ৩/৫ দিয়েছেন এবং টুকরো টুকরো আকর্ষণ ও প্রদর্শনকে ছবির প্রধান বলিষ্ঠতা হিসেবে দেখেছেন। নিউজ১৮-এর চিরাগ সেহগাল ৩.৫/৫ রেটিংয়ে বলেছেন, ‘গল্প বলার তীর্থভূমি শক্ত—বহনশীল প্লট টুইস্ট ও বর্ণনাগত গভীরতা দর্শককে ধরে রাখে।’

    রিলিজের প্রথম দিনেই ‘ধুরন্ধর টু’ কয়েকটি রেকর্ড গড়েছে। পেইড প্রিভিউসহ প্রথম দিনের আয় মিলিয়ে এটি এখন সর্বকালের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রথমদিন আয়কারী ভারতীয় সিনেমার তালিকায় রয়েছে—শীর্ষে আছে আল্লু অর্জুনের ‘পুষ্পা টু’ (২৬০ কোটি রুপি)। একইভাবে বিশ্বব্যাপী একদিনে সবচেয়ে বেশি আয়কারী ভারতীয় ছবির তালিকায় দেখায় এটি দ্বিতীয় অবস্থান। এছাড়া হিন্দি ভার্সনে একদিনে সবচেয়ে বেশি আয়কারী সিনেমার তালিকায় ‘ধুরন্ধর টু’ শীর্ষে উঠে এসেছে, তারপর পেছনে পড়েছে ‘জওয়ান’ ও ‘পুষ্পা টু’।

    বক্স অফিস বিশ্লেষকদের চোখে ছবির ভবিষ্যৎ ইতিবাচক। মুক্তির আগেই অনেকে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে ভারতীয় বাজারে ‘ধুরন্ধর টু’ ১ হাজার কোটি রুপি পর্যন্ত আয় করতে পারে—যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৩২১ কোটি টাকার সমান। প্রসঙ্গত বক্স অফিস বিশ্লেষক তরণ আদর্শ বলেন, ‘যখন দর্শকের চাহিদা মিটে যায়, ব্যবসার সীমা কার্যত ছাড়িয়ে যায়—পুষ্পা, জওয়ান ও প্রথম ধুরন্ধরই সেই প্রমাণ।’ ছবির স্বচ্ছন্দ ব্যবসা তুলনা টানে যে বড় হিটগুলি জীবনীকালীনও উচ্চ ফলাফল দেখিয়েছে।

    চলচ্চিত্রটির নির্মাণ ও অভিনয় টীমও জোরদার। প্রথম পার্টে রণবীর সিংয়ের বিপরীতে বড়পর্দায় আত্মপ্রকাশ করেছিলেন সারা অর্জুন; দ্বিতীয় পার্টেও তিনি রণবীরের সঙ্গে রয়েছেন। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে—অর্জুন রামপাল, সঞ্জয় দত্ত, অক্ষয় খান্না ও আর. মাধবনকে। ছবিটির বাজেট আনুমানিক ২৮০ কোটি রুপি এবং প্রযোজকরা হলেন আদিত্য ধর, লোকেশ ধর ও জ্যোতি দেশপান্ডে।

    নিজস্ব প্রত্যাশা ও শুভাশীর্বাদে সিনেমার পক্ষ থেকে ও প্রযোজকরা আশাবাদী যে ‘ধুরন্ধর টু’ কেবল খোলার সপ্তাহেই নয়, পুরো মেয়াদে বড় ব্যবসা করবে। অভিজ্ঞ বিশ্লেষক এবং প্রযোজক উভয় পক্ষই মনে করেন—যদি দর্শক সমর্থন অব্যাহত থাকে, তাহলে ছবির আয় আরও বাড়বে এবং নতুন মানদণ্ড স্থাপন করতে সক্ষম হবে।

  • পেট্রোল পাম্প চালু রাখতে পুলিশ-প্রশাসনের সহায়তা চাইলেন মালিকরা

    পেট্রোল পাম্প চালু রাখতে পুলিশ-প্রশাসনের সহায়তা চাইলেন মালিকরা

    জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় পুলিশের সহায়তায় পেট্রোল পাম্প খোলা রাখার আহ্বান জানিয়েছে পাম্প মালিক ও ডিস্ট্রিবিউটররা। সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুরে এই আবেদন জানান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটর্স, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল।

    বার্তায় বলা হয়েছে, ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান আন্তর্জাতিক উত্তেজনার কারণে দেশি ডিপোগুলো থেকে প্রত্যাশিত মাত্রায় জ্বালানি সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না এবং ভবিষ্যতে সরবরাহ আরও ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে চাহিদা থাকা সত্ত্বেও তেল পাওয়ায় ব্যাঘাত দেখা দিচ্ছে।

    একই সময়ে সাধারণ ভোক্তা ও মোটরসাইকেল চালকদের উপস্থিতি সব ফিলিং স্টেশনে বাড়ায় ভিড় ও চাপ তৈরি হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে কর্মচারীদের মারধর এবং স্টেশন ভাঙচুরের ঘটনা ঘটার খবরও পেয়েছেন সংশ্লিষ্টরা, যা অন্য একটি নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি করেছে।

    এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় পাম্পগুলো সচল রাখতে নির্দেশনা প্রদানের অনুরোধ জানানো হয়েছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে নির্দেশের অপেক্ষায় না থেকে কর্মরতরা তাদের নিরাপত্তা নিজেরাই নিশ্চিত করার পদক্ষেপ নেবে।

    বার্তাটির অনুলিপি দেশের সব জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদেরও পাঠানো হয়েছে।

    এদিকে জ্বালানি সরবরাহ ও বণ্টন নিয়ে রাজশাহী বিভাগীয় পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন একটি পৃথক চিঠিতে জানিয়েছে, বাঘাবাড়ি ডিপোসহ বিভিন্ন ডিপো থেকে পেট্রোল ও অকটেন বরাদ্দ ট্যাংক লরির প্রকৃত ধারণক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন হচ্ছে। সাধারণত একটি ট্যাংক লরির প্রতিটি চেম্বারের ধারণক্ষমতা ৪,৫০০ লিটার হলেও অনেক ক্ষেত্রে প্রতি চেম্বারে মাত্র ২-৩ হাজার লিটার করে তেল বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে।

    এর ফলে ডিপো থেকে পাম্প পর্যন্ত পরিবহনব্যয় অনুন্নয়ন হচ্ছে এবং পাম্প মালিকদের আর্থিক ক্ষতির সৃষ্টি হচ্ছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, কিছু পাম্প মালিক তেল উত্তোলনে অনিচ্ছুক বা অপারগতা প্রকাশ করলে সেই তেল বিভিন্ন এজেন্সির মাধ্যমে সরবরাহ করা হচ্ছে, যা পরে কালোবাজারে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ায়—ফলশ্রুতিতে বাজারে অস্থিতিশীলতা ও মূল্যবৃদ্ধি দেখা দিতে পারে।

    সংগঠনটি ট্যাংক লরির প্রকৃত ধারণক্ষমতা অনুযায়ী পেট্রোল ও অকটেন বরাদ্দ নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করেছে। চিঠিটি সংগঠনের কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান রতন স্বাক্ষরিতভাবে যমুনা, মেঘনা ও পদ্মা অয়েল কোম্পানির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

  • ভারতে কারাভোগ শেষে বেনাপোলে দেশে ফিরেছে ৩৩ বাংলাদেশি

    ভারতে কারাভোগ শেষে বেনাপোলে দেশে ফিরেছে ৩৩ বাংলাদেশি

    ভারতে কারাভোগ ও পাচারের শিকার হওয়ার পর ৩৩ জন বাংলাদেশি—যাদের মধ্যে চারজন শিশু, চারজন নারী এবং ২৫ জন পুরুষ—রোববার (২২ মার্চ) সন্ধ্যায় বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে দেশে ফিরেছেন।

    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন ও পশ্চিমবঙ্গের নারী-শিশু পাচার রোধ টাস্কফোর্সের সমন্বিত উদ্যোগে এই ফিরতি ব্যবস্থা করা হয়েছে। তারা ছিলেন পাচারের শিকার বলে জানানো হয়েছে।

    যশোরের বেনাপোলে কর্মরত জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের প্রতিনিধি শফিকুল ইসলাম বলেন, দালালের মাধ্যমে পাচারের শিকার এ ৩৩ জনকে ভারতীয় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ বেনাপোল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করেছে। পরে তাদের বেনাপোল পোর্ট থানায় সোপর্দ করা হয়। সেখান থেকে জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার তাদের গ্রহণ করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেবে।

    বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের পরিদর্শক সৈয়দ মোর্তজা বলেন, ট্রাভেল পারমিটে দেশে ফেরত আসা এসব নারী-পুরুষ ও শিশুদের ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করে পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তদন্ত ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

  • যদি কারও কষ্ট হয়ে থাকে, আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইছি: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

    যদি কারও কষ্ট হয়ে থাকে, আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইছি: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঢাকা-৮ আসনে নির্বাচনী অংশগ্রহণের পর থেকেই বিভিন্ন প্রসঙ্গে আলোচিত ও সমালোচিত হয়েছেন। কিছু মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ায় তিনি ব্যাপক নজরে আসে।

    বুধবার সকালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি পরিষ্কার করে জানান, কোনো কথা বা কাজে অনিচ্ছাকৃতভাবে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে তিনি আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছেন। পোস্টে তিনি আরও লিখেছেন যে গত কয়েক দিনে বয়োজ্যেষ্ঠ বন্ধু, রাজনৈতিক শুভাকাঙ্ক্ষী, মন্ত্রী-এমপি ও প্রিয় সহযোদ্ধাদের সঙ্গে তার কিছু আন্তরিক আলাপ হয়েছে। সবার কাছ থেকেই তিনি যে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা পেয়েছেন, তা হল—ব্যক্তিগত আক্রমণ এড়ানো, অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা থেকে দূরে থাকা এবং গঠনমূলক আলোচনায় মনোযোগ দেওয়া।

    নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, তিনি বিনয়ের সঙ্গে ওই পরামর্শগুলো গ্রহণ করছেন এবং আরো শান্ত ও দায়িত্বশীলভাবে পথচলা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবেন। তিনি রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অগ্রগতির জন্য নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করে যেতে চান।

    তিনি আরও বলেন, “আমার কোনো কথা বা কাজে অনিচ্ছাকৃতভাবে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আপনাদের দোয়া, ভালোবাসা ও পরামর্শই আমার পথচলার শক্তি।”

    নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জানান, গতকাল ধানমন্ডির তকওয়া মসজিদে কিয়ামুল লাইল পড়ে তিনি এই আত্মিক যাত্রার নীরব সূচনা করেছেন। তিনি প্রার্থনা করেন, আল্লাহ সবার ভুল ক্ষমা করুন এবং সবাইকে সঠিক পথে পরিচালিত করুন।

  • জামায়াত-এনসিপি প্রসঙ্গে সংসদে মন্তব্য করলেন মনিরুল হক চৌধুরী, খালেদার ভূমিকাও স্মরণ

    জামায়াত-এনসিপি প্রসঙ্গে সংসদে মন্তব্য করলেন মনিরুল হক চৌধুরী, খালেদার ভূমিকাও স্মরণ

    জাতীয় সংসদে জামায়াত ও এনসিপি সম্পর্কীয় প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। রবিবার রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশগ্রহণে তিনি তার কথাগুলো বলেন। অধিবেশনটি পরিচালনা করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

    মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, স্বাধীনতার পর একটি মেধাবী দল গঠিত হয়েছিল—জাসদ। পরে তাদের অতিরঞ্জিত কর্মকাণ্ডের কারণে দেশ ও জাতি অনেক ক্ষতির মুখে পড়ে। এমন ঘটনাগুলোকে ভুলে না গিয়ে সবাইকে সহ্য করার সহনশীলতা দেওয়ার জন্য দোয়া করার অনুরোধ জানান তিনি।

    তিনি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকা স্মরণ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ১৯৯১ সালের সংসদে তিনি পারিপার্শ্বিকভাবে কাজ করেছেন দেশনেত্রীর নেতৃত্বে। বিএনপির বিরোধী পক্ষ হিসেবে যারা প্রশ্ন করছেন, তাদের তিনি মনে করিয়ে দিতে চান যে দেশের স্বার্থে তখনও অনেকেই জামায়াতের সঙ্গে কাজ করেছিলেন। ‘‘আপনারা যখন প্রশ্ন করেন, মনে হয় যেন এই দেশে ১৫–২০ বছর বিএনপি ছিল না,’’ যোগ করেন তিনি।

    চৌধুরী আরও বলেন, রাজনৈতিক ইতিহাস বিবেচনা করে দেখা উচিত জাসদ এক সময় কিভাবে আওয়ামী লীগকে প্রতিপক্ষ মনে করত এবং সে প্রেক্ষাপট বিবেচনায় রেখে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তিনি রহমান—তারেক রহমানের কঠিন নির্বাচন সংক্রান্ত কথাও স্মরণ করেন এবং জানান যে সেই মন্তব্য তখন সবাই বুঝতে পারেননি, পরে নির্বাচনের অভিজ্ঞতা থেকে তারা তা উপলব্ধি করেছেন।

    সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি যাদের বিরুদ্ধে কথা বলতেন তাদের সম্পর্কে স্পষ্ট ছিলেন, কিন্তু এখনকার বিরোধী পক্ষকে তিনি পুরোপুরি চিনছেন না—এই আক্ষেপও করেন। তিনি বলেন, এত সংখ্যক সদস্য নিয়ে সংসদে আসার পর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের 대상 হিসেবে যে দলটি থাকা উচিত ছিল, সেটি ছিল জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ। তবে আজকাল আমাদের সম্পর্কে নানা প্রশ্ন উঠছে—যেমন জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে প্রশ্ন ওঠা এবং মুক্তিযুদ্ধ (৭১) নিয়ে বিভ্রান্তি; বিচারের নামে অতীতের ফ্যাসিস্টদের আমলে যদি অন্যায় হয়ে থাকে তাহলে সেটাও স্পষ্ট করা উচিত।

    শেষে মনিরুল হক চৌধুরী এনসিপি ও তরুণ নেতৃত্বকে সম্মান জানিয়ে বলেন, স্বাধীনতার পর যদিও তাদের বয়স কম হতে পারে, তবুও তারা সাহসী এবং এ যুগের দাবি অনুযায়ী কাজ করছে—এমন কারণে তারাও মর্যাদার দাবি রাখেন।

  • ক্রেডিট কার্ডে নতুন গাইডলাইন: সর্বোচ্চ ঋণসীমা বেড়ে ৪০ লাখ

    ক্রেডিট কার্ডে নতুন গাইডলাইন: সর্বোচ্চ ঋণসীমা বেড়ে ৪০ লাখ

    বাংলাদেশ ব্যাংক ক্রেডিট কার্ড সংক্রান্ত নীতি হালনাগাদ করে একটি পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন জারি করেছে, যাতে কার্ড ব্যবস্থাপনাকে আরও সুশৃঙ্খল, স্বচ্ছ ও গ্রাহকবান্ধব করে তোলা হবে। রোববার এ তথ্য জানান ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান।

    দৈনন্দিন জীবনে নগদ বহন না করে বিভিন্ন খরচ মেটাতে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার বেড়েই চলেছে। সেই চাহিদা ও সেবার প্রসারের সঙ্গে সঙ্গেই খাতে বিদ্যমান জটিলতা কমানো এবং নতুন নিয়ন্ত্রণ আননার প্রয়োজন দেখা দেয়—ইতোমধ্যে সেসব লক্ষ্যকে সামনে রেখে পুরনো নীতিমালা হালনাগাদ করা হয়েছে।

    নতুন গাইডলাইনে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা শক্ত করা, ভোক্তার অধিকার রক্ষা, দায়িত্বশীল ঋণ প্রদান উৎসাহিত করা এবং নগদবিহীন লেনদেনের জন্য স্বচ্ছ পরিবেশ নিশ্চিত করা—এই সবের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। গাইডলাইনে ক্রেডিট কার্ডের প্রযোজ্যতা ও সংজ্ঞা, কার্ডের ধরন, গ্রাহকের যোগ্যতার মানদণ্ড, ঋণসীমা ও সুদের হার নির্ধারণ, কার্ড ইস্যু ও বিপণন পদ্ধতি, বিলিং ও আদায় প্রক্রিয়া, গ্রাহকের তথ্য গোপনীয়তা, বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা, অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা—এসব বিষয়ের বিস্তারিত নির্দেশনা রাখা হয়েছে।

    বিশেষভাবে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে প্রদেয় সর্বোচ্চ ঋণসীমা বাড়ানো হয়েছে। আগে যেখানে সর্বোচ্চ সীমা ছিল ২৫ লাখ টাকা, তা বাড়িয়ে এখন ৪০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অনিরাপদ ঋণের (অসিকিউরড লোন) সীমাও ১০ লাখ থেকে বাড়িয়ে ২০ লাখ টাকা করা হয়েছে।

    এছাড়া গ্রাহকের অভিযোগ, অনিয়ম বা জালিয়াতি, কার্ডভিত্তিক লেনদেনের পরিশোধে অসুবিধা এবং বিরোধ নিষ্পত্তি সংক্রান্ত প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা হয়েছে। গাইডলাইনে ব্যাংকগুলোর অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার জন্যও নির্দিষ্ট নির্দেশনা আছে, যা কার্ডধারীর তথ্য সুরক্ষা ও জালিয়াতি প্রতিরোধে সহায়ক হবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, নতুন নিয়মাবলী বাজারে কার্ড ব্যবহারের ন্যায়সঙ্গত বিস্তার নিশ্চিত করবে এবং গ্রাহক প্রতিকূলতার সম্ভাব্য ঝুঁকি কমাবে। ব্যাংক ও অর্থপ্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এই গাইডলাইন মেনে চলা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যাতে ভোক্তা আস্থা ও আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।

  • চট্টগ্রাম-মোংলা বন্দর ও শিপিং করপোরেশনের প্রকল্পে অনিয়ম: দুদকের অনুসন্ধান

    চট্টগ্রাম-মোংলা বন্দর ও শিপিং করপোরেশনের প্রকল্পে অনিয়ম: দুদকের অনুসন্ধান

    দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চট্টগ্রাম বন্দর, মোংলা বন্দর ও বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতি ও নিয়োগ সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগে তৎপর হয়ে তদন্ত শুরু করেছে। এ কাজে সংস্থার উপ-পরিচালক নাজমুচ্ছায়াদাতকে প্রধান করে চারটি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়েছে।

    রোববার (১৫ মার্চ) দুদক সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বর্তমান চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে একাধিক আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি যখন বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন, তখন ছয়টি জাহাজ কেনার জন্য মোট ২,৪৮৬ কোটি টাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল; কিন্তু শেষ পর্যন্ত কেবল চারটি জাহাজ কেনা হলে প্রকল্পে প্রায় ৪৮৬ কোটি টাকার আর্থিক অসঙ্গতি দেখা গেছে।

    এছাড়া মোংলা বন্দর সংলগ্ন পশুর চ্যানেল সংরক্ষণ ও ড্রেজিং প্রকল্পে ১,৫৩৮ কোটি টাকার বরাদ্দে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব অনিয়মের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে দুদকের অনুসন্ধানকারী দল সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে নথিপত্র তলব করেছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নিচ্ছে।

    দুদক তদন্তে পেয়েছে এমন কোনো প্রাসঙ্গিক তথ্য নিশ্চিত হলে প্রয়োজনমত আরও তদন্ত কমিটি গঠন বা শাখাগত অনুসন্ধান বাড়ানো হতে পারে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে। তদন্তকারীরা বলছেন, অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই করে দ্রুত এবং স্বচ্ছভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • ট্রাম্পের হামলা পাঁচ দিন স্থগিত ঘোষণায় তেলের দাম ব্যাপকভাবে কমল

    ট্রাম্পের হামলা পাঁচ দিন স্থগিত ঘোষণায় তেলের দাম ব্যাপকভাবে কমল

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রকে লক্ষ্য করে চালানোর সম্ভাব্য হামলা পাঁচদিনের জন্য স্থগিত করার ঘোষণা দিলে বিশ্ববাজারে কাঁচা তেলের দাম তীব্রভাবে নেমে আসে। আলজাজিরার প্রতিবেদনে জানা যায়, সোমবার (২৩ মার্চ) গ্রিনিচ সময় সকাল ১১:০৮ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারস প্রায় ১৫ শতাংশ বা প্রায় ১৭ ডলার কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৬ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুড ফিউচারস প্রায় ১৩ ডলার বা ১৩.৫ শতাংশ পতন করে ব্যারেলপ্রতি ৮৫.২৮ ডলারে লেনদেন হচ্ছিল।

    ট্রাম্প নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, গত দুই দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ‘খুব ভালো’ আলোচনা হয়েছে এবং সেই আলোচনার ওপর ভর করে তিনি যুদ্ধ মন্ত্রণালয়কে ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোর বিরুদ্ধে কোনো সামরিক হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, আলোচনাগুলো ‘গভীর, বিশদ ও গঠনমূলক’ এবং সাপ্তাহ জুড়ে চলবে।

    তবে ইরানি গণমাধ্যমগুলো ট্রাম্পের সঙ্গে কোনো সরাসরি বা পরোক্ষ যোগাযোগ হয়নি বলে জানাচ্ছে। আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ একটি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলেছে, তাদের সাথে কোনো মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমেও যোগাযোগ হয়নি। ওই কর্মকর্তা আরও দাবি করেছেন, ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে এবং ইসরায়েলের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে হামলার সতর্কতা দেওয়ার পরই মার্কিন পক্ষ পিছু হটেছে—একটি দাবি যা ইরানি সূত্রে প্রকাশ পেয়েছে।

    পিছনের সূত্রগুলো বলছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো—সৌদি আরব, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েত—তরল উৎপাদন কমিয়েছে। পাশাপাশি রিস্ক বাড়ায় বলা হচ্ছে যে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলও ব্যহত হয়েছে, যেটি বিশ্ব বাণিজ্যে প্রায় ২০ শতাংশ কাঁচা তেল পরিবহন করায় এই পরিস্থিতি তেলের বাজারকে অস্থিতিশীল করেছে।

    যুদ্ধে উত্তেজনা শুরু হলে ব্রেন্ট ক্রুড一এক সময় ব্যারেলপ্রতি ১১৯.৫০ ডলার পর্যন্ত উঠে গিয়েছিল এবং ডব্লিউটিআইও ১১৯.৪৮ ডলারে পৌঁছেছিল; পরে পরিস্থিতি কিছুটা শিথিল হয়ে দাম নেমে এসেছে।

    সূত্র: আলজাজিরা, ফার্স নিউজ

  • ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ছড়াল ইসরায়েল জুড়ে; তেহরানে তীব্র বিস্ফোরণ

    ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ছড়াল ইসরায়েল জুড়ে; তেহরানে তীব্র বিস্ফোরণ

    ইসরায়েল জুড়ে ইরানের ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া গেছে। রাজধানী জেরুজালেমসহ মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় সতর্কবার্তা জারি করা হয় এবং বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এসব তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা (২৩ মার্চ)।

    হামলার পর বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। কয়েকটি রিপোর্টে ধারণা করা হচ্ছে যে গুচ্ছ বোমা বা ক্লাস্টার মিউনিশন ব্যবহার করা হয়েছে, যা একসাথে বিস্ফোরণের সময় ছোট ছোট উপ-বিস্ফোরকে ছড়িয়ে দিয়ে বৃহত্তর ক্ষতি করতে পারে।

    মধ্য ইসরায়েলের অন্তত আটটি স্থানে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ বা বিস্ফোরকের আঘাত দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ভিডিও ও ছবিতে বিভিন্ন ভবন ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দেখা যায়। পূর্বে উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় সতর্কতা জারির পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বের হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।

    রোববার থেকে ইসরায়েলে ধারাবাহিকভাবে হামলার ঘটনা চলছিল। পাশাপাশি লেবানন সীমান্ত ঘেঁষা এলাকায় হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকেও হামলার খবর পাওয়া গেছে।

    ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী ঘোষণা দিয়েছে তেহরানে ‘‘বড় ধরনের হামলা’’ চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে এবং সরকারি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করা হবে, বলে জানানো হয়েছে।

    এর কিছুক্ষণ আগেই তেহরানের পূর্বাঞ্চলে একটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। আল জাজিরার প্রতিনিধি সুহাইব আল-আসা ওই বিস্ফোরণের তীব্রতাকে নজিরবিহীন হিসেবে বর্ণনা করেন। বিস্ফোরণের পর তেহরানের পূর্বভাগে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়, যা সাধারণত আকাশে থাকা শত্রুপক্ষের ড্রোন প্রতিহত করার ইঙ্গিত হিসেবেই দেখা হয়।

    ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ফারস নিউজ জানিয়েছে, শহীদ বাবায়ী এক্সপ্রেসওয়ে সংলগ্ন অন্তত দুটি এলাকা এবং পূর্ব উপকণ্ঠের গরমদারেহ অঞ্চলে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া হাফেজ ও জমহুরি স্ট্রিট সংযোগস্থলেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে, যা ছিল ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা হিসেবে পরিচিত।

    এখনও উভয় পক্ষই বিস্তারিত ক্ষয়ক্ষতির সংখ্যা বা হতাহতের তথ্য নিশ্চিত করে প্রকাশ করেনি। সাধারণ অবস্থা সম্পর্কে রিপোর্টগুলো অদৃশ্যতা এবং উত্তেজনার মাত্রা দ্রুত বাড়ছে বলে ইঙ্গিত দিচ্ছে।