Blog

  • মির্জা ফখরুলের ভাষণে বললেন: খুব কঠিন লড়াই হবে এই নির্বাচনে

    মির্জা ফখরুলের ভাষণে বললেন: খুব কঠিন লড়াই হবে এই নির্বাচনে

    আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে কঠিন লড়াই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, এই নির্বাচন শুধু সাধারণ নির্বাচন নয়, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সংগ্রাম যেখানে আমাদের সবাইকে ঈমানি সাহস নিয়ে অংশ নিতে হবে।

    বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর খামারবাড়িতে অনুষ্ঠিত বিএনপির ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক কর্মসূচির পঞ্চম দিনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। সেখানে তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, এবারের নির্বাচন শুধুমাত্র ভোট দেওয়ার জন্য নয়, বরং দেশের গণতন্ত্র ও স্বাধিকার রক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি লড়াই।

    মির্জা ফখরুল আরও জানান, এই নির্বাচনে জয় লাভের জন্য জনগণের ভালোবাসা ও আস্থা অর্জন করতে হবে। তিনি বলেন, এ প্রচেষ্টায় আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করে যেতে হবে।

    তিনি আরও বলেন, পেছনে টেনে নেওয়ার শক্তির বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত এই লড়াইয়ে বিএনপি সামনে দাঁড়িয়ে থাকবে। নিজেদের আত্মবিশ্বাস ও জনগণের দোয়া নিয়ে আমরা এই সংগ্রামে বিজয় অর্জন করবো বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, নতুন গঠিত একটি রাজনৈতিক জোট বিএনপিকে ‘সংস্কারবিরোধী’ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। তিনি দৃঢ়ভাবে মন্তব্য করেন, দেশের যতবার সংস্কার এসেছে, তার বেশি ভাগই বিএনপির হাত ধরেই এসেছে। দেশের সব উন্নয়ন ও অগ্রগতির পেছনে বিএনপির অবদান রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি বলেন, আমাদের লড়াই একটাই—দেশের গণতন্ত্র ও আধুনিকীকরণের জন্য এই সংগঠন সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

  • মির্জা ফখরুলের ঘোষণা: খুব শিগগিরই দেশে ফিরবেন নেত্রী

    মির্জা ফখরুলের ঘোষণা: খুব শিগগিরই দেশে ফিরবেন নেত্রী

    নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা হতে চলেছে, এর আগে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গুরুত্বপূর্ণ এক বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আজকের এই সেমিনারে উপস্থিত সব নেতাকর্মী ও সমর্থকদের জানাতে চাই, আমাদের নেত্রী এবং দলের প্রধান ঘোষণা অনুযায়ী খুব শিগগিরই দেশে ফিরে আসবেন। এই খবর শুনে পুরো দলের জন্যই নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার সকালবেলা রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক এক কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন। সেখানে তিনি আরও বলেন, যখন আমাদের নেত্রী দেশে ফিরবেন, তখন পুরো দেশ কেঁপে উঠবে। সেই দিন বাংলাদেশ আজকের চেয়ে অনেক বেশি পরিবর্তিত ও উন্নত হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আমরা যদি সত্যিই একসাথে কাজ করে এগিয়ে যাই, আমাদের এই লক্ষ্য অর্জন কোনোভাবেই অসম্ভব নয়।

    মির্জা ফখরুল তুলে ধরেন সামনের পথে এগিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় দৃষ্টিভঙ্গি, দেশের মর্যাদা পুনরুদ্ধার এবং প্রগতির অঙ্গীকার। তিনি জানান, বর্তমানে আমাদের প্রধান লড়াই হলো নির্বাচনে জয় লাভ করা। এই নির্বাচনে আমাদের পুরো অবদানের মাধ্যমে বিজয় অর্জন করতে হবে, যাতে বাংলার মানুষ এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, বিভিন্ন বাধা ও বিপত্তি আসবে, নানা ষড়যন্ত্র চলবে, ফ্যাসিবাদী শক্তির চেস্টাও বাড়বে। তবে তাদের সবাইকে আমরা রুখে দাঁড়াতে জানি এবং পরাজিত করব বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

    এক সময় তিনি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের কথা উল্লেখ করে বলেন, এ দেশের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য এই ইতিহাস অমূল্য। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যারা ১৯৭১ সালের যুদ্ধের শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান অস্বীকার করেন বা তাদের কুরুচিপূর্ণ ভাষায় অপমান করেন, তাঁদের সাহস কী করে হয় এইসব বলতে? আসলে এই বিপ্লবের প্রেরণাই আমাদের এই পাকিস্তানি শাসনবিরোধী আন্দোলনের পেছনে ছিল।

    বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, অনেক প্রজন্ম এখন ইতিহাস নিয়ে বিভ্রান্তিতে আছে। যেখানে কেউ কেউ মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতি অবজ্ঞাসূচক মন্তব্য করেন, সেখানে আমাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে আজকের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে, অন্ধকারের মধ্যে আবারও যেন কোনও কালো ছায়া না পড়ে। এই জন্য নিজেদের ঐক্যবদ্ধ ও সচেতন হতে হবে।

    তিনি বলেন, আমাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম শুধু শোনা নয়, বরং জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে। নিজেদের কাজের প্রামাণ্যচিত্র তৈরি করে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে, যাতে তারা আমাদের সাথে সংহত হয়। এর মাধ্যমে বিশ্বাস ও আস্থা বাড়বে এবং আমাদের আন্দোলন আরও শক্তিশালী হবে।

    বৈঠকের শেষে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনায় দোয়া করা হয়। অনুষ্ঠানের পর্যায়ক্রমে এসব আলোচনা ও পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়, যেখানে _তারেক রহমান_ আজ বিকেলে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করবেন। সভাপতিত্ব করেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, এবং সঞ্চালনা করেন যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল।

  • মা-মেয়েকে হত্যা করেছেন আয়েশা, চুরি কর Latino ঘটনার বিস্তারিত

    মা-মেয়েকে হত্যা করেছেন আয়েশা, চুরি কর Latino ঘটনার বিস্তারিত

    দুই হাজার টাকা চুরির জন্য ক্ষুব্ধ হয়ে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে গৃহকর্মী আয়েশা মা ও মেয়েকে হত্যা করেছেন। আজ বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করে।

    আয়েশা নরসিংদী সদর থানার সলিমগঞ্জের রুবিউল ইসলামের মেয়ে। তিনি ঢাকার সাভারের হেমায়েতপুর পূর্বহাটি এলাকায় স্বামী রাব্বী সিকদারের সঙ্গে ভাড়া বাসায় থাকতেন।

    ডিএমপি জানায়, দুই হাজার টাকা চুরি করে ধরা পড়ায় গৃহকর্ত্রী লায়লা ফিরোজের সঙ্গে আয়েশার ঝগড়া শুরু হয়। ক্ষিপ্ত হয়ে পরবর্তীতে পরিকল্পিতভাবে বাসা থেকে ছুরি নিয়ে এসে লায়লার উপর হামলা চালায়। এ সময় লায়লার ঘুমিয়ে থাকা মেয়ে নাফিসা লাওয়াল বিনতে আজিজও ঘটনার শিকার হন। বিচারকালে, আয়েশা মায়ের সঙ্গে ধস্তাধস্তি দেখে তার ঘুম ভেঙে যায়। সে দারোয়ানকে ঘটনাটি জানাতে ইন্টারকমে কল করেছিল, কিন্তু আয়েশা তখনও মারধর করে তাকেও হত্যা করে।

    আয়নাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ জানায়, তিনি নরসিংদীর সলিমগঞ্জের রুবিউল ইসলামের মেয়ে। ঢাকার সাভারের হেমায়েতপুরে স্বামীর সঙ্গে থাকতেন। পুলিশ জানায়, তার স্বামী রাব্বী সিকদারকেও তারা হেফাজতে নিয়েছেন।

    পুলিশের তদন্তে জানা যায়, এই হত্যা ঘটনাটি প্রথমে পরিকল্পিত ছিল। সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ ও প্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ এ রহস্য উন্মোচনে তৎপরতা চালায়। প্রথমে আয়েশার বাসা শনাক্ত করা হয়। পরে মায়ের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ নিশ্চিত হয় যে, আয়েশা ঝালকাঠির নলছিটি এলাকার অবস্থান করছে। পরে সেখানে গিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। একই সাথে তার স্বামী রাব্বীকেও খুঁজে নেওয়া হয় ও আটক করা হয়।

    প্রথমে জানা যায়, সোমবার সকালে মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোডের ১৪ তলা ভবনের সপ্তম তলায় লায়লা আফরোজ (৪৮) ও তার মেয়ে নাফিসা লাওয়াল বিনতে আজিজ (১৫) ছুরিকাঘাতে খুন হন। নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাফিসা মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুলে পড়তেন।

    ঘটনার পরপরই, আয়েশাকে অভিযুক্ত করে মোহাম্মদপুর থানায় একটি মামলা করেন তার স্বামী আ. জ. ম. আজিজুল ইসলাম। মামলায় তিনি বাসার সিসিটিভি ফুটেজের সঙ্গে বিস্তারিত বর্ণনা দেন।

    মামলার বরাত দিয়ে জানা গেছে, আয়েশা সকাল ৭টা ৫১ মিনিটের সময় বাসায় আসে এবং পরে ৯টা ৩৫ মিনিটে তার মেয়ে স্কুল ড্রেস পরে বাসা থেকে পলায়ন করে। পলায়নের সময় তার সঙ্গে মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থসহ অন্যান্য দামী জিনিসপত্র নিয়ে যায়।

    আয়েশার স্বামী রাব্বীর সন্ধানও পাওয়া গেছে। তারা জানায়, ঘাতক আয়েশা একমাত্র পরিকল্পিতভাবে মা ও মেয়েকে হত্যা করেছে। ঘটনা ঘটার কয়েক দিন আগে, আয়েশাকে তার বাসায় খণ্ডকালীন গৃহকর্মী হিসেবে রাখা হয়। ঘটনার দিন সকালে আয়েশা কাজে যোগ দিয়ে চলে যায়। এর কিছুক্ষণ পরে, স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগের জন্য বহুবার কল করেও না পেয়ে, বেলা ১১টার দিকে তিনি ফিরে আসেন।

    অভিযুক্ত এই ঘটনায়, তার পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা অনেক সহজে আঘাতের কারণ খুঁজে পাননি, কিন্তু তদন্তে জানা যায়, আয়েশার পরিকল্পনাটি ছিল পুরোপুরি পরিকল্পিত। পরিবারের ধারণা, সে পরিবারের সদস্যদের থেকে দূরত্ব তৈরি করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। এই ঘটনাটি প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ায়, পুলিশ ব্যাপক ঝুঁকি নিয়ে মাঠে নামে এবং প্রযুক্তি সহায়তায় রহস্য উন্মোচনে কাজ করে।

  • ভোরে হালকা কুয়াশা, রাতের তাপমাত্রা কমতে পারে শীতের তীব্রতা বাড়ার আগমন বার্তা

    ভোরে হালকা কুয়াশা, রাতের তাপমাত্রা কমতে পারে শীতের তীব্রতা বাড়ার আগমন বার্তা

    বাংলাদেশের বেশিরভাগ এলাকায় শুষ্ক আবহাওয়া থাকলেও রাতের সময়ে তাপমাত্রা কমতে পারে যা শীতের অনুভূতিকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে। এছাড়া, ভোরের দিকে সারাদেশজুড়ে হালকা কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় শুরু করে আগামী পাঁচদিনের পূর্বাভাসে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

    আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবির বলেন, উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বিস্তৃত অংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তার সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে ঘনীভূত হয়েছে, যা উত্তরপূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। এর ফলে সারাদেশে আজ সকাল ৯টার পরবর্তী ২৪ ঘণ্টা অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ শুষ্ক আবহাওয়া থাকতে পারে। এই সময় ভোরের দিকে কোথাও কোথাও হালকা কুয়াশা দেখা দিতে পারে। রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে, তবে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে।

    আগামীকাল (১২ ডিসেম্বর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা থাকতে পারে, আর শীতের তেমন কোনো বড় পরিবর্তন নয়। ভোরের দিকে আবার কোথাও কোথাও হালকা কুয়াশা দেখা যেতে পারে। রাত ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতেই পারে।

    শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) একই সময়ের পূর্বাভাসেও বলা হয়েছে, আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে, তবে আবহাওয়া শুষ্ক থাকবে। ভোরে আবার কোথাও কোথাও হালকা কুয়াশা হতে পারে, আর তাপমাত্রা ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।

    রোববার (১৪ ডিসেম্বর) থেকে রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পাবে, তবে দিনের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকতে পারে। ভোরের দিকে আবারো হালকা কুয়াশার সম্ভাবনা থাকলেও পুরো সময়ে আবহাওয়া শুষ্ক থাকবে।

    অর্থাৎ, পরবর্তী দিনগুলোতে আবহাওয়ার বড় কোনো পরিবর্তন না থাকলেও শীতের তীব্রতা বাড়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া অধিদফতর উল্লেখ করেছে যে, এর দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।

  • সরকার উৎখাতে ষড়যন্ত্র: শওকত মাহমুদ ৫ দিন রিমান্ডে

    সরকার উৎখাতে ষড়যন্ত্র: শওকত মাহমুদ ৫ দিন রিমান্ডে

    রমনা মডেল থানার সন্ত্রাস বিরোধী আইনের এক মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রেস ক্লাব সভাপতি ও জনতা পার্টির মহাসচিব শওকত মাহমুদ। এ মামলায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।আজ বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফাহমিদা খন্দকার আন্না এই আদেশ দেন।আসামি শওকত মাহমুদকে অন্তর্বর্তী সরকার পতনের জন্য অন্য দেশের এজেন্ট হিসেবে কাজ করার অভিযোগে গত রোববার গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন স্থানে গোপনে সভা-সমাবেশ করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার অভিযোগ আসে। গ্রেপ্তারকালে মালিবাগের একটি প্রাইভেট কার থেকে তাকে আটক করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেপ্তারের পরদিন, সোমবার, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির রমনা জোনের পরিদর্শক আখতার মোর্শেদ তাকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। তবে, মূল মামলার নথিপত্র না থাকায় সেই দিন রিমান্ডের শুনানি হয়নি। বৃহস্পতিবার তার রিমান্ডের শুনানির জন্য দিন ধার্য করা হয় এবং তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।আবেদনে অভিযোগ করা হয়, শওকত মাহমুদসহ অন্যান্য অজ্ঞাত আসামিরা দেশের অখণ্ডতা, সংহতি ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করার জন্য একত্রিত হয়ে বিভিন্ন সময় জনসাধারণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছেন। তারা বর্তমান সরকারকে উৎখাত করার জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, উচ্চপদস্থ ব্যক্তি ও ব্যবসায়ী মহলের সঙ্গে গোপনে সভা-সমাবেশ করছে।আরও বলা হয়, আসামিরা যোগসাজশে দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করে তোলার জন্য বিভিন্ন গোপন শলাপরামর্শ করছে। এ নেপথ্যে তারা কোনও কোনও দল বা সংগঠনের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ করে বলেও অভিযোগ।গত ১৩ সেপ্টেম্বর সকালে, মিন্টো রোডের মন্ত্রীপাড়ায় সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করছিলেন বাংলাদেশের বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক এনায়েত করিম চৌধুরী। পুলিশ তাকে থামানো, জিজ্ঞাসাবাদ ও গ্রেপ্তার করে। তার কাছে থাকা দুটি আইফোন বিশ্লেষণে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও ষড়যন্ত্রের সূচনা পাওয়া যায়। তিনি নিজেকে জানান, তিনি একজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক এবং বিশেষ দেশের গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্ট। তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার খুব নাজুক অবস্থায় রয়েছে। তিনি দেশটিতে এক নতুন জাতীয় সরকার বা তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের জন্য কাজ করছেন বলে দাবি করেন। এনায়েত জানান, তিনি নিউইয়র্ক থেকে ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকায় এসেছেন এবং গোপনে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা ও ব্যবসায়ী মহলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তিনি বলেন, মার্কিন সরকার এই সরকারের পরিবর্তনে অর্থায়ন ও প্রভাব বিস্তার করছে।তার অভিযোগ, তারা আসছে ২১ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের রায় বাতিলের পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য অপেক্ষা করছে, যাতে নতুন তত্ত্বাবধায়ক বা সেনা সমর্থিত সরকার গঠিত হয়। এই সরকার গঠনে আমেরিকা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেবে।তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতির ওপর নজরদারি চালাচ্ছেন এবং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের তথ্য সংগ্রহ করে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে হস্তান্তর করছেন।অভিযোগের ভিত্তিতে বলা হয়, এনায়েত করিম চৌধুরী বাংলাদেশে এসে দেশের সার্বভৌমত্ব ও জননিরাপত্তা বিনষ্টের জন্য অন্য দেশের গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্ট হিসেবে কাজ করছেন—এমন গুরুতর অপরাধে লিপ্ত।রমনা মডেল থানায় এই মামলার দায়ের করেন পুলিশ উপ-পরিদর্শক আজিজুল হাকিম।সঙ্গে যুক্ত হওয়া তার সহযোগী এসএম গোলাম মোস্তফা আজাদ, জাতীয় পার্টির রওশনপন্থি মহাসচিব কাজী মো. মামুনুর রশীদ, সাংবাদিক মো. আজহার আলী সরকার ও যুব সংহতির যুগ্ম মহাসচিব রিফাতুল ইসলাম পাভেলকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়।

  • শ্বাসরোধে র‌্যাব সদস্যের স্ত্রীর হত্যাসহ স্বর্ণালঙ্কার চুরি

    শ্বাসরোধে র‌্যাব সদস্যের স্ত্রীর হত্যাসহ স্বর্ণালঙ্কার চুরি

    জামালপুরে এক ভয়ঙ্কর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে যেখানে র‌্যাব সদস্যের স্ত্রী লিপি আক্তারকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। একই সঙ্গে তার স্বর্ণালঙ্কারও চুরি এই ঘটনায় জড়িত রয়েছে।

    ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) ভোর ৫টার দিকে সরিষাবাড়ী পৌরসভার শিমলা বাজারের গৌরী শংকর (গণময়দান) মাঠ সংলগ্ন এলাকার এক ভাড়া বাসায়। সরিষাবাড়ী থানার ওসি মো. বাচ্ছু মিয়া এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    নিহত লিপি আক্তার পূর্বে একই উপজেলার কামরাবাদ ইউনিয়নের শুয়াকৈর এলাকার মৃত কাদের মন্ডলের ছেলে মহর আলীর স্ত্রী। তিনি র‌্যাব-২ এর উপ-পরিদর্শক মহর আলীর স্ত্রী। মহর আলী ঢাকার মোহাম্মদপুরের বসিলা এলাকায় কর্মরত আছেন। হত্যার সময় লিপি আক্তারের ১১ বছরের মেয়ে নিথি আক্তারকেও ভয় দেখানো হয়। গত কয়েক বছর ধরে লিপি আক্তার শিমলা বাজারের গৌরী শংকর এলাকার একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে লিপি খাতুন তার মেয়ে নিথি আক্তারকে নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই ঘুমিয়ে পড়েন। তবে ভোরের দিকে কেউ ঘরে প্রবেশ করে। চোরচক্রটি গেড়ে গ্রিল কেটে ঘরে ঢোকে। তবে চোরকে চিনে ফেলায়, মামলার শিকার এই ব্যক্তির গলায় ওড়না পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করে। সকালে স্থানীয়রা খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

    ওসি মো. বাচ্ছু মিয়া বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

  • মীরসরাইয়ে বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষে ছাত্রদল কর্মী নিহত

    মীরসরাইয়ে বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষে ছাত্রদল কর্মী নিহত

    চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার বারইয়ারহাট এলাকায় বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে ফের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, যার نتيجه হিসেবে এক ছাত্রদল কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। নিহত ব্যক্তির নাম মোহাম্মদ তাহমামিদ উল্লাহ (২৩), তিনি বারইয়ারহাট পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড পূর্ব হিঙ্গুলী এলাকার মোহাম্মদ আলমগীরের ছেলে। তাহমিদ ছাত্রদলের পাশাপাশি বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন এবং পরে তিনি ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশের উত্তর জেলা সদস্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। সর্বশেষ তিনি বিএনপি সমর্থক হিসেবে কাজ করতেন।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বারইয়ারহাট বাজারের একটি সালিশের ঘটনায় দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এই পরিস্থিতিতে মারামারির মধ্যে গুরুতর আহত হন তাহমিদ। তাকে প্রথমে জয়রগঞ্জের একটি ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়, পরে রাতেই চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে ২৮ নম্বর নিউরোসার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার দিবাগত রাত ১টার দিকে তাহমিদ উল্লাহর মৃত্যু ঘটে।

    চমেক হাসপাতালে দায়িত্বরত জেলা পুলিশে উপ-পরিদর্শক আলাউদ্দিন তালুকদার বলেন, গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তার শরীরের বিভিন্ন পরীক্ষার জন্য ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

    জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী নাজমুল হক জানান, বারইয়ারহাট বাজারে দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় মোহাম্মদ তাহমামিদ উল্লাহ গুরুতর আহত হন, পরে তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় মামলা ও তদন্ত প্রক্রিয়া চলছে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

  • কাল আসছে নতুন ৫০০ টাকার নোট

    কাল আসছে নতুন ৫০০ টাকার নোট

    আগামীকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের বাজারে উদ্বোধন করা হবে নতুন ডিজাইনের ৫০০ টাকার নোট। বাংলাদেশ ব্যাংক এ ব্যাপারে জানিয়েছে যে, এই নতুন নোটটি প্রথমে মতিঝিল অফিস থেকে ইস্যু হবে, এরপর অন্যান্য অফিসগুলোতেও পাওয়া যাবে। আনুষ্ঠানিকভাবে মঙ্গলবার এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

    নতুন ৫০০ টাকার নোটের সামনের দিকের ডিজাইনটি বেশ আকর্ষণীয় এবং সৌন্দর্যময়। এতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের ছবি রয়েছে, যার পাশে দণ্ডায়মান পাতা ও কলিসহ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ফুটে উঠেছে। মাঝখানে শাপলার মতো জাতীয় ফুলের ছবি স্থান পেয়েছে। আবার পেছনে দেখা যাবে বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের প্রাচীন নির্মাণশৈলী।

    নোটের জলছাপে রয়েছে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের মুখ, যা অত্যাধুনিক নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। এর নিচে ইলেকট্রো টাইপের মাধ্যমে লেখা ‘৫০০’ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের মনোগ্রাম দেখা যাবে। পুরো নোটটি সবুজ রঙের আধিক্যজনক ব্যবহারে তৈরি।

    বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এই নতুন সিরিজের নোটটি ‘বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও প্রতœতাত্ত্বিক স্থাপত্য’ শিরোনামে প্রথমবারের মতো চালু হচ্ছে। এই সিরিজের আওতায় ১০০০, ৫০০, ২০০, ১০০, ৫০, ২০, ১০, ৫ ও ২ টাকার নোট মুদ্রণের পরিকল্পনা রয়েছে। ইতিমধ্যে ১০০০, ১০০, ৫০ ও ২০ টাকার নোট বাজারে এসেছে। এবার আসছে ৫০০ টাকার নোট।

    নতুন নোটটির নিরাপত্তা বেশ কিছু আধুনিক বৈশিষ্ট্য সংযোজিত হয়েছে। এর মধ্যে রঙ পরিবর্তনশীল কালি ব্যবহৃত হয়েছে, যা নোটটি নাড়ালে ডান পাশে লেখা ‘৫০০’ সবুজ থেকে নীল রঙে পরিবর্তিত হয়। এছাড়া লাল ও স্বর্ণালী রঙের পেঁচানো নিরাপত্তা সুতা দিয়ে সজ্জিত, যা আলোতে ধরলে ‘৫০০ টাকা’ লেখা দেখা যায়।

    সঙ্গে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য নোটের ডান দিকের নিচে পাঁচটি উঁচু বৃত্ত পৌষিপ্তভাবে স্পর্শে অনুভবযোগ্য করে তোলা হয়েছে। নোটের শহীদ মিনার, মূল্যমানসহ কিছু অংশ ইন্টাগ্লিও প্রিন্টে নকশা করা হয়েছে, যা স্পর্শে উঁচু মনে হবে। এছাড়া গোপনে নোটের কোণে ‘৫০০’ লেখা রয়েছে, যা নির্দিষ্ট কোণে দেখলে স্পষ্ট হয়। নোটের কাগজে লাল, নীল ও সবুজ তন্তু ব্যবহার করা হয়েছে, যা বিশেষ আলোতে দৃশ্যমান হয়।

    বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, নতুন ৫০০ টাকার নোট চালু হলেও পুরনো কাগজের নোট ও কয়েনের প্রচলন আগের মতোই থাকবে। এছাড়াও, মুদ্রা সংগ্রাহকদের জন্য বিশেষ নমুনা (অবিনিময়যোগ্য) ৫০০ টাকার নোট তৈরি করা হয়েছে, যা টাকা জাদুঘর, মিরপুর থেকে নির্ধারিত মূল্যে সংগ্রহ করা যাবে।

  • প্রবাসীদের রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ কমানোর নতুন উদ্যোগ

    প্রবাসীদের রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ কমানোর নতুন উদ্যোগ

    বাংলাদেশ ব্যাংক প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের খরচ ও প্রবাহ আরও উন্নত করতে নতুন একটি উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর মাধ্যমে দেশের বাইরে থেকেমাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠানোর সার্বিক খরচ নিয়ন্ত্রণে আনা এবং এই খরচ বৃদ্ধি রোধ করা সম্ভব হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর থেকে প্রবাসীদের পাঠানো সব ধরনের রেমিট্যান্সের ঝামেলামুক্ত ও সঠিক তথ্য সংগ্রহ করবে। এ জন্য ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, বিদেশের এক্সচেঞ্জ হাউস বা অন্যান্য মাধ্যমে প্রতিদিনের রেমিট্যান্স লেনদেনের বিস্তারিত তথ্য পরের দিন দুপুর ১২টার মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পাঠাতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার বুধবার জারি করেছে, যা ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। এর লক্ষ্য হলো বিশ্বব্যাংকের মতন বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছ থেকেও তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা। জানা গেছে, বর্তমানে বিভিন্ন দেশের ব্যাংক ও এক্সচেঞ্জ হাউসগুলো রেমিট্যান্স পাঠানোর জন্য বিভিন্ন ধরনের ফি আরোপ করে থাকে, যা রেমিট্যান্স খরচের অব্যাহত বৃদ্ধির কারণ। এর ফলে বাংলাদেশেও রেমিট্যান্স পাঠানোর সময় বিভিন্ন চার্জ ও ভ্যাট যোগ হয়, যার কারণে খরচ বেড়ে যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলেছে, প্রবাসীরা প্রতিদিন প্রেরিত টাকা, রেমিট্যান্সের ধরন, মূল্যে বিনিময় হার, ফি ও করের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে কিভাবে এ খরচ কমানো যায়। বর্তমানে ব্যাংকগুলো প্রবাসীদের রেমিট্যান্সের অর্থ তাদের অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করে কোন ফি নেয় না, এছাড়া বিদেশি এক্সচেঞ্জ হাউসগুলোর বিনিময় হারেও সমতা আনা হবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের অবদান আরও সুদৃঢ় হবে ও খরচের অস্বচ্ছতা দূর হবে বলে প্রত্যাশা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

  • বাজার অস্থির, পেঁয়াজ আমদানিতে সরকার অনুমতি দিচ্ছে

    বাজার অস্থির, পেঁয়াজ আমদানিতে সরকার অনুমতি দিচ্ছে

    অস্থির হয়ে উঠেছে পেঁয়াজের বাজার। দামের অপ্রত্যাশিত বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে দেশের বাজারে সর্ষে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রোববার থেকে সীমিত আকারে পেঁয়াজের আমদানি অনুমতি দেয়া হচ্ছে। প্রতিদিন ৫০টি করে ইপিএস (আমদানি অনুমতির) ইস্যু করা হবে, যেখানে প্রতি আইপিতে সর্বোচ্চ ৩০ টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমোদন দেয়া হবে। এই সিদ্ধান্তের তথ্য নিশ্চিত করে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার মোহাম্মদ জাকির হোসেন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন। এতে জানানো হয়, চলতি বছরের ১ আগস্টের পর যারা আমদানির জন্য আবেদন করেছেন, তারা আর আবেদন পুনরায় দাখিল করতে পারবেন না। একজন আমদানিকারক একবারই এই অনুমতিপত্র পেতে পারেন। এই পদক্ষেপটি বাজারে পেঁয়াজের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে এবং সাময়িকভাবে বাজার নিয়ন্ত্রণের জন্য নেয়া হয়েছে।

    প্রায় এক মাস আগে হঠাৎ করে পেঁয়াজের দাম আকাশ ছুঁয়েছে; চার-পাঁচ দিনের মধ্যেই দাম ৪০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে কেজিতে ১১৫ থেকে ১২০ টাকায় পৌঁছে গেছে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আমদানি অনুমতি দেয়ার ফলে দাম কিছুটা কমে ১০৫ থেকে ১১০ টাকায় নেমে আসে। তবে সরকার জানিয়েছে, বাজারে পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং শিগগিরই নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসবে। এই জন্য তারা আমদানির অনুমতি দিচ্ছেন না, যাতে কৃষকের স্বার্থ রক্ষা হয়।

    তবে এই পদক্ষেপের সুবিধা নিচ্ছেন মজুতদার ব্যবসায়ীরা, যার ফলে আবারও দাম বাড়ছে। বুধবার রাজধানীর খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দামiscipline মানে ১১৫ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক সপ্তাহে কেজিতে ১০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে টিসিবির হিসেব মতে, গত বছরের তুলনায় এখনো ১০ শতাংশ কম দরে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ। এছাড়া, বাজারে নতুন মুড়িকাটা পেঁয়াজ না এলেও পাতাযুক্ত পেঁয়াজ এসেছে, যার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকায়।

    ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, আমদানির অনুমতি না দেয়ার খবরে দর আবার বেড়ে গেছে। মজুতদার ও কৃষক পর্যায়ে দামের এই বৃদ্ধির ফলে পাইকারি এবং খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়ছে।

    এর আগে, ৯ নভেম্বর বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেছিলেন, যদি চার-পাঁচ দিনের মধ্যে পেঁয়াজের দাম না কমে, তাহলে আমদানির অনুমোদন দেয়া হবে। তিনি জানান, বর্তমানে সরকারের কাছে ২ হাজার ৮০০টি আবেদন রয়েছে পেঁয়াজ আমদানি করার জন্য। এর দশ শতাংশ অনুমোদন দিলেই দেশে পেঁয়াজের বাজার সয়লাব হবে; তবে দাম দ্রুত কমে গেলে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে জন্য সরকারের পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রয়েছে।