Blog

  • নেপালকে হারিয়ে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ ফাইনালে বাংলাদেশ

    নেপালকে হারিয়ে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ ফাইনালে বাংলাদেশ

    সাফ অনূর্ধ্ব-২০ টুর্নামেন্টের প্রথম সেমিফাইনালে নেপালকে ১-০ গোলে পরাজিত করে ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ। মালে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচের একমাত্র জয়সূচক গোলটি করেন মানিক।

    ২০২৪ সালে টুর্নামেন্টটি অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়ে শিরোপা জেতা বাংলাদেশ এবারও শিরোপা রক্ষা করতেই মালে এসেছিল। নেপালকে হারিয়ে লাল-সবুজ দল আবার শিরোপা লড়াইয়ে ফিরেছে। বাংলাদেশের ফাইনালে কার মুখোমুখি হবে, তা আজ রাতের ভারত ও ভুটান ম্যাচের পর চূড়ান্ত হবে।

    ম্যাচে বাংলাদেশের শুরুটা ছিল আক্রমণাত্মক। প্রথম থেকেই তারা গুরুত্বপূর্ণ আক্রমণ গঠন করছিল এবং দশ মিনিটের একটু বেশি সময় পরই ফল পায় দলটি। মোর্শেদের চিপ পাসকে ভেতরে লাফিয়ে হেড করে নেট জালে পাঠান মানিক, আর গোলের পর মালে স্টেডিয়ামের গ্যালারি কোরে আনন্দে মাতোয়ারা হয়ে ওঠে। স্টেডিয়ামে উপস্থিত অনেক বাংলাদেশি প্রবাসী দর্শকও আনন্দ ভাগ করে নেন।

    পরের কিছু মুহূর্তে বাংলাদেশ আরেকটি লক্ষ্যযোগ্য সুযোগ তৈরি করে। রোনান সুলিভান ডিফেন্ডারকে ফাঁকি দিয়ে গোলরক্ষককেও কাটিয়ে বল জালে পাঠালে কিন্তু সহকারী রেফারি অফসাইড পতাকা তোলেন। বাংলাদেশের ডাগআউট তৎক্ষণাৎ প্রতিবাদ করলেও সিদ্ধান্ত অপরিবর্তিত থাকে এবং প্রথমার্ধের খেলা ১-০-েই শেষ হয়।

    দ্বিতীয়ার্ধে প্রথম ২০-৩০ মিনিট নেপাল বেশ চাপ সৃষ্টি করে। কিছু গোলোদাগী আক্রমণ করেও সফল হতে পারেনি তারা—বাংলাদেশের গোলরক্ষক মাহিন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে দলকে টিকে রাখেন। পাল্টা আক্রমণও ছিল বাংলাদেশের, ও দুদলই বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় বদলি করে রণনীতি বদলানোর চেষ্টা করে। কোচ মিশু ম্যাচের শেষের দিকে রোনানের ভাই ডেকলানকে নামান; তিনি বক্সের মধ্যে রোনানকে দুর্দান্ত পাস দেন, কিন্তু রোনানের শট নেপালের ডিফেন্ডার বাধা দেন এবং তা কর্ণারে যায়।

    টিন মিনিটে নয়—ম্যাচে যোগ করা ছয় মিনিট ইনজুরি সময়েও দুই দলই জয়ের জন্য তৎপর ছিল, কিন্তু আর কোনো গোল দেখা না যাচ্ছায় বাংলাদেশের জয় ১-০-ই থেকে যায়। ম্যাচ শেষে মালে স্টেডিয়ামের বাংলাদেশি প্রবাসী ভক্তরা তাদের দলের জয়ে উল্লাস করেন।

    এই জয়ে বাংলাদেশ ফাইনালে উঠে নিজেদের লক্ষ্য পূরণের পথে বড় এক পদক্ষেপ নিয়েছে—এবারও শিরোপা ধরে রাখার প্রত্যাশা জোরালো।

  • শ্রবণশক্তি হারিয়ে গান থেকে দূরে অলকা ইয়াগনিক — ফেরা কি সম্ভব?

    শ্রবণশক্তি হারিয়ে গান থেকে দূরে অলকা ইয়াগনিক — ফেরা কি সম্ভব?

    বলিউডে চার দশকের সংগীতজীবন লেগে থাকা নাম অলকা ইয়াগনিক। অসংখ্য হিট গান, সিনেমার নায়িকাদের ঠোঁট মিলানো কণ্ঠ — এগুলোই তাকে জনপ্রিয় করে তুলেছে। তবে জনপ্রিয় এই কণ্ঠ এখন নিজেই গান থেকে অনেক দূরে সরিয়ে আছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, দীর্ঘ বিশেষ কারণে তিনি কণ্ঠে ফেরেননি।

    অলকা নিজেই ২০২৪ সালে জানান, তার গান বলা বন্ধ হয়ে গেছে। সমস্যার মূল কারণ ছিল একটি ভাইরাসজনিত সংক্রমণ, যা তার শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত করে। ফেসবুকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি লিখেছিলেন, ‘‘কয়েক সপ্তাহ আগে বিমান থেকে নামার সময় মনে হয় আমি কানে কিছুই শুনতে পাচ্ছি না। চিকিৎসকের পরামর্শে জানলাম এটি একটি বিরল স্নায়ুযুক্ত সমস্যা, যা ভাইরাসের আক্রমণের ফলে হয়েছ। এর ফলে আমার শ্রবণশক্তি কমে গেছে। এটা আমার কাছে বড় ধাক্কা; আমি ধীরে ধীরে এর সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি। অনুগ্রহ করে আমার জন্য প্রার্থনা করবেন।’’

    ভাইরাস-আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে প্রায় দু’বছর অতিবাহিত হয়েছে। তবুও অলকা স্বাস্থ্যের বিষয়ে এখনই কোনো সুখবর দিয়েছেন না—তিনি জানান, অবস্থার খুব একটা উন্নতি হয়নি, তাই মাইক্রোফোনের সামনে ফিরতে পারেননি।

    সংগীতশিল্পী হওয়া সত্ত্বেও অলকা এখনো সংগীত জগতের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন নন—সুরকার ও গীতিকররা নিয়মিত তাকে গান গাওয়ার প্রস্তাব দিচ্ছেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, মানুষের এই আমন্ত্রণ এবং ভালোবাসা তাকে সান্ত্বনা দেয়, কিন্তু শারীরিক প্রতিকূলতার কারণে তিনি এখনও গাইতে পারছেন না।

    অলকার এই কথাগুলো শোনা মাত্রই সংগীতপ্রেমীদের মন ব্যথিত হয়েছিল। বহু ভক্ত এখনো তার কণ্ঠের অভাব অনুভব করেন। তবুও তিনি নতুন প্রজন্মের দিকে দৃষ্টিপাত করে কিছু সতর্কতা ও পরামর্শ দিয়েছেন—শ্রবণশক্তি সংরক্ষণের জন্য উচ্চ শব্দ থেকে দূরে থাকা, দীর্ঘ সময় ধরে হেডফোন গুঁজে কাজ না করা ইত্যাদি।

    তবে ফেরার সম্ভাবনা কতটা, সেটা সময়ই বলবে। বিশ বছর আরও চাহিদা থাকলে ও অভিনব সংবর্ধনা থাকলেও, শারীরিক সুস্থতা ফেরার আগে গান-জগতের কনসার্টে বা রেকর্ডিং স্টুডিওতে তাকে আবার দেখাটা এখনই অনিশ্চিত। ফ্যানরা আশা করছেন দ্রুত সুস্থ হয়ে আবার তাদের প্রিয় গানের কণ্ঠ শুনতে পারবেন অলকা ইয়াগনিক।

  • স্বাধীন বাংলা বেতারের কণ্ঠযোদ্ধা ও নজরুলসংগীতশিল্পী ডালিয়া নওশীন আর নেই

    স্বাধীন বাংলা বেতারের কণ্ঠযোদ্ধা ও নজরুলসংগীতশিল্পী ডালিয়া নওশীন আর নেই

    দীর্ঘদিন ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে আর ফিরে আসলেন না স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠযোদ্ধা ও বিশিষ্ট নজরুলসংগীতশিল্পী ডালিয়া নওশীন। বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুর ১২টা ৫৭ মিনিটে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭১ বছর।

    শিল্পীর মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন তার খালাতো বোন ও সদ্য খ্যাতিমান নজরুলসংগীতশিল্পী সাদিয়া আফরিন মল্লিক। জানা যায়, বেশ কয়েকদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন ডালিয়া নওশীন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত ২৭ মার্চ তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং আজ দুপুরে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

    সাদিয়া আফরিন মল্লিক জানান, বাদ মাগরিব গুলশান সোসাইটি মসজিদে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে এবং এরপর বনানী কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হবে। ডালিয়া নওশীনের দুই ছেলে রয়েছেন; একজন যুক্তরাষ্ট্রে এবং অপরজন স্পেনে বসবাস করেন।

    মুক্তিযুদ্ধের সময়ে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠরূপে তিনি দেশের সংগীতাঙ্গনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছিলেন। সঙ্গীতে তার অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২০ সালে তাকে একুশে পদকে ভূষিত করা হয়েছিল। তিনি দেশের প্রখ্যাত স্থপতি মাজহারুল ইসলামের কন্যা হিসেবেও পরিচিত।

  • শ্যুটিংয়ে নেমে সমুদ্রে ডুবে গেলেন টলিউড অভিনেতা রাহুল

    শ্যুটিংয়ে নেমে সমুদ্রে ডুবে গেলেন টলিউড অভিনেতা রাহুল

    পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় মারা গেছেন। জনপ্রিয় চলচ্চিত্র এবং টেলিভিশন ধারাবাহিকের এই অভিনেতার মৃত্যুর খবর বিভিন্ন ভারতীয় গণমাধ্যম নিশ্চিত করেছে। জানা গেছে, রোববার পশ্চিমবঙ্গের তালসারিতে ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহ occasional শ্যুটিংয়ের জন্য গিয়েছিলেন ৪৩ বছর বয়সী এই অভিনেতা। শ্যুটিংয়ের এক পর্যায়ে তিনি সমুদ্রের পাদদেশে নামেন। হঠাৎOnly তলিয়ে গেলে সেটে থাকা টেকনিশিয়ানরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে কাছাকাছি হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে, চিকিৎসকদের চেষ্টা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, পানিতে ডুবে তার মৃত্যু হয়েছে।

    অভিনেতার সহকর্মী ও ধারাবাহিকের অন্যান্য সদস্যরা জানিয়েছেন, শ্যুটিং শেষে বেশিরভাগই মধ্যাহ্নভোজে ব্যস্ত ছিলেন। এ সময় রাহুল আরও কিছু দৃশ্যের জন্য ফিরে যাওয়ার কথা বলেন। ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ‘জলেঘাটে ডুবে তার মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক। কীভাবে এটি ঘটল, তা এখনো পরিষ্কার নয়। একজন সুস্থ-স্বাভাবিক মানুষ হঠাৎ এভাবে চলে যাবে, এটা মানা কঠিন।’

    রাহুল অরুণোদয় ১৯৮৩ সালের ১৬ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেছিলেন। অভিনয়জীবনে তিনি প্রায় ৪৫০টি নাটকে অংশ নিয়েছেন। তার প্রথম চলচ্চিত্র ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ বক্স অফিসে ব্যাপক সাফল্য লাভ করে। তিনি বাণিজ্যিক ও মূলধারার সিনেমার মধ্যে সমানভাবে পরিচিত হয়েছিলেন। তার উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে ‘জ্যাকপট’, ‘পরান যায় জ্বলিয়া রে’, ‘কাগজের বউ’ ও ‘আকাশ অংশত মেঘলা’।

    ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে জানা যায়, তিনি ২০১০ সালে অভিনেত্রী প্রকৃতি সরকারকে বিয়ে করেন। তবে ২০১৭ সাল থেকে তাদের বিচ্ছেদ হয়। তাদের একমাত্র সন্তান হলো সহজ। সম্প্রতি, তিনি ‘সহজকথা’ নামে একটি পডকাস্ট শুরু করেছিলেন, যা বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

  • রাহুলের ময়নাতদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

    রাহুলের ময়নাতদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

    টালিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকাল মৃত্যু নিয়ে নতুন তথ্য আসছে। পানিতে ডুবে তাঁর মৃত্যুটি খুবই দুঃখজনক এবং রহস্যজনক হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত রোববার ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ নামক ধারাবাহিকের শুটিং করার সময় পানিতে নামেন রাহুল। কিন্তু সেখানে আর তিনি উঠতে পারেননি; পানির নিচে ডুবে যান।

    সোমবার (৩০ মার্চ) সকাল সাড়ে ১১টায় তমলুক হাসপাতালে তাঁর মরদেহের ময়নাতদন্ত শুরু হয়। প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুসারে, অভিনেতার মৃত্যু পানিতে ডুবেই ঘটেছে। দীর্ঘ সময় পানির নিচে থাকার কারণে তাঁর ফুসফুস ফুলে যায়, যা স্বাভাবিকের থেকে দ্বিগুণ বড় আকার ধারণ করে। পরীক্ষায় দেখা গেছে, তাঁর ফুসফুসে অত্যধিক পরিমাণে বালি এবং নোনা জল প্রবেশ করেছে।

    রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে যে, সাধারণত অল্প সময় পানিতে ডুবে থাকলেও এত বেশি বালি ও জল ঢোয়া সম্ভব নয়। ফলে মনে করা হচ্ছে রাহুলের মরদেহ পানির নিচে প্রায় এক ঘণ্টার বেশি থেকেছে। এত দিন পানির নিচে থাকার কারণে তাঁর খাদ্যনালিতে বালি ও নোনা জল প্রবেশ করে।

    অভিনেতার মৃত্যুতে সংশ্লিষ্ট পুলিশ বাহিনী বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছে। তারা জানাচ্ছেন, শুটিংয়ের অনুমোদন না নিয়েই এই কাজটি করা হয়েছে, যা একটি গুরুতর অপরাধ।

    জন্ম ১৯৮৩ সালের ১৬ অক্টবর রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। তার অভিনয় জীবনের শুরু ‘রাজ দর্শন’ নাটকের মাধ্যমে, যেখানে তিনি বাবার সঙ্গে অভিনয় করেছিলেন। এরপর তিনি প্রায় ৪৫০টির বেশি নাটকে অভিনয় করে দর্শকদের মন জয় করেছেন। এই পরিবারের প্রতিভাবান তারকার মৃত্যুতে সামাজে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং তার কর্মজীবন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

  • রাহাত ফতেহ আলী খান ও শাহ জামান খানকে সম্মাননা

    রাহাত ফতেহ আলী খান ও শাহ জামান খানকে সম্মাননা

    যুক্তরাজ্যের হাউস অব কমন্সে অনুষ্ঠিত হলো উপমহাদেশের কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী ওস্তাদ রাহাত ফতেহ আলী খান ও জনপ্রিয় শিল্পী রুবাইয়াত জাহানের গাওয়া বাংলা গান ‘প্রেম পিয়াসা’ এর প্রকাশনা উৎসব। এই গুরুত্বপূর্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্য রুথ ক্যাডবেরি এবং সঙ্গীতশিল্পী ও সুরকার রাজা কাশেফ। উপস্থিত ছিলেন বিশ্বের কাছে স্বনামধন্য এই শিল্পীর স্বামী, ওস্তাদ রাহাত ফতেহ আলী খান এবং তার ছেলে শাহ জামান খান, দেশের খ্যাতনামা সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর, ধ্রুব মিউজিক স্টেশনের কর্ণধার ধ্রুব গুহসহ ব্রিটিশ পার্লামেন্টের বিভিন্ন সদস্য ও হাউস অব কমন্সের সদস্যরা, পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

    সংগীতে বিশেষ অবদানের জন্য অনুষ্ঠানে উভয় শিল্পী, ওস্তাদ রাহাত ফতেহ আলী খান ও তার ছেলে শাহ জামান খান,কে সম্মাননা দেওয়া হয়। প্রকাশিত ‘প্রেম পিয়াসা’ গানটি বাংলাদেশের ধ্রুব মিউজিক স্টেশনের উদ্যোগে প্রকাশিত হয়েছে। এই গানের লেখক কবির বকুল, সুর ও সংগীতের যোগসাজশে ছিলেন রাজা কাশেফ এবং ভিডিও নির্মাণ করেছেন সৈকত রেজা।

    অতিথিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ওস্তাদ রাহাত ফতেহ আলী খান বলেন, আমি রাজা কাশেফ ও রুবাইয়াত জাহানের গান তৈরিতে অবদান রাখা তাঁদের একনিষ্ঠতা ও আন্তরিকতার প্রশংসা করি। বাংলা গানের প্রতি আমার ব্যক্তিগত ভালোবাসা রয়েছে, এবং এই গান সেই ভালোবাসার প্রকাশ। ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্যদের প্রতি আমি অন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ, আমার এবং আমার ছেলের সম্মানিত করার জন্য।

    এই গানের ভিডিও এখন ধ্রুব মিউজিক স্টেশন ইউটিউব চ্যানেলে পাওয়া যাচ্ছে, পাশাপাশি এটি বিশ্বের বিভিন্ন মিউজিক প্ল্যাটফর্মে শোনা যাচ্ছে।

  • অলকা ইয়াগনিকের শ্রবণশক্তি হারানোর কারণে সঙ্গীত থেকে দূরে আসার সংকট

    অলকা ইয়াগনিকের শ্রবণশক্তি হারানোর কারণে সঙ্গীত থেকে দূরে আসার সংকট

    বলিউডের চার দশকের ক্যারিয়ারে অসংখ্য জনপ্রিয় গানের মাধ্যমে নিজেকে বিশ্বব্যাপী পরিচিত করেছেন অলকা ইয়াগনিক। তার মাধুর্যময় কণ্ঠের জাদুকে উপভোগ করেছেন অসংখ্য শ্রোতা। তিনি অনেক সিনেমার অন্যতম অন্যতম সঙ্গীতজ্ঞ। তবে এখন নিজের জন্য এক কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। অকালেই গানের দুন থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার কারণ হলো তার শ্রবণশক্তি হারানো। ভারতীয় মিডিয়ার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

    পরবর্তী বছর ২০২৪ সালে অলকার কণ্ঠে আর সঙ্গীত শোনা যায়নি। তবে তিনি নিজেই এই সিদ্ধান্তের কারণ পরিষ্কার করে বলেছিলেন, শ্রবণশক্তি হারানোর কারণে তিনি সঙ্গীত জগৎ থেকে নিজেকে আলাদা করে নিয়েছেন।

    জানিয়েছেন, এক ভাইরাসের সংক্রমণের পরে তার শ্রবণক্ষমতা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে। এক সময় বিমান থেকে নামার পরে অনুভব করেন, কিছুই শুনতে পারছেন না। পরবর্তীতে চিকিৎসকের কাছে গিয়ে তার জানা যায়, ভাইরাসের আক্রমণে তার এক বিরল স্নায়ুর সমস্যার কারণে তার শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি ফেসবুকে এক বিবৃতিতে লিখেছিলেন, আমি অনেকটাই ধাক্কা খেয়েছিলাম। কঠিন এই পরিস্থিতিতে আমি সংগ্রাম করছি এবং মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি। সকলের কাছে নৈব নৈবে প্রার্থনা কামনা করেছেন।

    দুই বছর ধরে এই পরিস্থিতির সাথে লড়াই করছেন অলকা। এখন তার কি অবস্থা, জানা যাচ্ছে না, তবে তিনি কোনো সুখবর দেওয়ার থেকে বিরত রয়েছেন। পরিস্থিতি এতটাই মারাত্মক যে, এখনো microphones এর সামনে ফিরতে পারেননি।

    তবে সংগীতের জগৎ তাকে এখনও ভুলে যায়নি। এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, বিভিন্ন গীতিকার ও সুরকাররা প্রায়ই আমাকে গান গাওয়ার প্রস্তাব দেন। কিন্তু এখন আমি গাইতে পারছি না।

    অলকার এই খবরে অনেক সংগীতপ্রেমীর মন ভেঙে গেছে। তবুও তিনি পরামর্শ দিয়েছেন, নতুন প্রজন্মকে উচ্চ শব্দ ও হেডফোন ব্যবহার থেকে বিরত থাকার। এবং এমন পরিস্থিতিতে নিজের স্বাস্থের প্রতি সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আশাবাদী, সময়ের সাথে সাথে হয়তো আবার ফিরে আসবেন সুস্থ হয়ে।

  • স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠযোদ্ধা ডালিয়া নওশীন মারা গেছেন

    স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠযোদ্ধা ডালিয়া নওশীন মারা গেছেন

    দীর্ঘদিন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন বিশিষ্ট নজরুলসংগীতশিল্পী এবং স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠযোদ্ধা ডালিয়া নওশীন। বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুর ১২টা ৫৭ মিনিটে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭১ বছর।

    শিল্পীর মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন তার খালাতো বোন এবং খ্যাতিমান নজরুলসংগীতশিল্পী সাদিয়া আফরিন মল্লিক। তিনি জানান, বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন ডালিয়া নওশীন। শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে শেষে তাকে গত ২৭ মার্চ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আজ দুপুরে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

    সাদিয়া আফরিন মল্লিক আরও জানান, জানাজা গুলশান সোসাইটি মসজিদে বাদ মাগরিব অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তাকে বনানী কবরস্থানে দাহ শেষে দাফন করা হবে। ডালিয়া নওশীনের দুই ছেলে, একজন থাকেন যুক্তরাষ্ট্রে আর একজন স্পেনে।

    ডালিয়া নওশীন মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠযোদ্ধা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সংগীতের মাধ্যমে তিনি দেশের জন্য গেছেন অসামান্য অবদান। ২০২০ সালে তার এই কীর্তির স্বীকৃতি হিসেবে তিনি একুশে পদক পান। তিনি দেশের খ্যাতনামা স্থপতি মাজহারুল ইসলামের কন্যা।

  • ইতালির বিশ্বকাপের স্বপ্ন আবারও ভেঙে গেল, তিন বার বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত

    ইতালির বিশ্বকাপের স্বপ্ন আবারও ভেঙে গেল, তিন বার বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত

    জেনিৎসার বিলিনো পোলি স্টেডিয়ামে আজ ফুটবলপ্রেমীদের মনে এক গভীর আঘাত বইয়ে দিলো। ১২ বছর ধরে অপেক্ষার অবসান চাইছিলেন ইতালির ফুটবলপ্রেমীরা, বিশ্বমঞ্চে ফেরার স্বপ্ন দেখছিলেন তারা, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা ধূলিসাৎ হয়ে গেল পেনাল্টি শুটআউটে। এভাবেই টানা তিনবারের বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী ফুটবল দলটি এই মহাযজ্ঞের বিশাল আসর থেকে হার মানলো, দর্শক হিসেবেই থাকতে হলো চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।

    প্রথমার্ধে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে ইতালি। ম্যাচের ১৫তম মিনিটে দুর্দান্ত একটি ফিনিশিংয়ে লিড এনে দেয় ইতালির মিডফিল্ডার ময়েস কিন, সেই সঙ্গে ১২ বছরের বিশ্বকাপের খরা কাটানোর বড় এক প্রথম ধাপ। তবে বিরতির আগে ৪২তম মিনিটে সাজগোজে মনে হওয়ার পরেও আক্রমণাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ইতালি। তবে সেই সময় অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার আলেসান্দ্রো বাস্তোনি সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হয়, যখন বসনিয়ার স্ট্রাইকার এডিন জেকো বল নিয়ে বিপজ্জনক ঢুকে পড়ছিলেন। এই সিদ্ধান্তে এক খেলোয়াড় কমিয়ে ম্যাচের চরিত্রে পরিবর্তন আনে।

    অতিরিক্ত সংখ্যক খেলোয়াড় নিয়ে বসনিয়া শেষ পর্যন্ত মরিয়া হয়ে আক্রমণে মরিয়া হয়ে উঠলে প্রথমার্ধে রক্ষণভাগ সামলে নেন জিয়ানলুইজি ডোনারুমা। দ্বিতীয়ার্ধে একজন বেশি থেকে খেলায় ফিরে আসে বসনিয়া, যা ইতালির জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জই হয়ে ওঠে। তারা বেশ কয়েকবার গোলের সামনে এসে নির্ণায়ক মুহূর্তে প্রতিরোধ করে। ৮২ মিনিটে সুবিধাজনক আক্রমণের পর বসনিয়ার এডিন জেকো গোল করে দলকে সমতায় ফেরান। এই গোল তারপর খেলাটি শেষ হতে না হতেই অতিরিক্ত সময়ে গড়ায়।

    অতিরিক্ত সময়ে দুজন দলই শুভ সূচনার পর গোল করতে ব্যর্থ হয়, ফলে ম্যাচ শেষ হয় ১-১ ড্রয়ে। পেনাল্টি শুটআউটের নিয়মে বসনিয়া সফল হলে, তারা বিশ্বকাপের টিকিট পেয়ে যায়, আর ইতালি হোঁচট খেলো স্বপ্নের মাঝে। এতে আবারও ধাক্কা লেগে গেলো শেষ তিনটি বিশ্বকাপের ইতিহাসে, যেখানে তারা খেলতে পারেনি। এখন, চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের জন্য এই ব্যর্থতা এক ভয়াবহ আক্ষেপ হিসেবে রয়ে গেল।

  • আর্জেন্টিনার গোল উৎসবের দিনে জিতল ব্রাজিলও

    আর্জেন্টিনার গোল উৎসবের দিনে জিতল ব্রাজিলও

    বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখার জন্য প্রস্তুতি শুরু করার আগে ঘরের মাঠে দুর্দান্ত ফিরতি ছন্দে ফিরেছে আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসির নেতৃত্বে তারা জাম্বিয়া দলের বিরুদ্ধে ৫-০ গোলের বিশাল জয় অর্জন করে। এই জেতা দলের আত্মবিশ্বাস আরও গাঢ় করে তুলেছে। পাশাপাশি ব্রাজিলও নিজেদের প্রস্তুতি শেষ করেছে বড় জয় দিয়ে। অরল্যান্ডোর ক্যাম্পিং স্টেডিয়ামে, বিশ্বকাপের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণার আগ মুহূর্তে ব্রাজিল ৩-১ গোলে ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়েছে।​​​​​​​ট্রান্সমিশনের এই প্রীতি ম্যাচে দুদলই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে। প্রথমে বেশ কয়েকটি আক্রমণে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। ৩৫ মিনিটে প্রথম গোল করেন হুলিয়ান আলভারেজ, তার কিছু সময় পরেই দলের অধিনায়ক লিওনেল মেসি গোল করে এগিয়ে দেন স্বাগতিকদের। বিরতির আগে ৫০তম মিনিটে নিকোলাস ওতামেন্দি পেনাল্টি থেকে ব্যবধান বাড়ান। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই জাম্বিয়ার ডিফেন্ডার ডমিনিক চান্দার নিজের পোস্টে আত্মঘাতী গোল করে স্কোরলাইন ৪-০ নির্ধারণ করেন। যোগ করা সময়ে (৯৩ মিনিটে) ভ্যালেন্টিন বারকো গোল করলে, ম্যাচের ফলাফল ৫-০-এ রূপ নেয়।​​​​​ কিছু দিন আগে মৌরিতানিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচে মেসি বেঞ্চে ছিলেন, ফলে দলের পারফরম্যান্স প্রত্যাশিত ছিল না। তবে দ্বিতীয়ার্ধে শরিক হয়ে আর্জেন্টিনা জয় ধরে রাখে। এই জয়ে তারা প্রতিযোগিতামূলক প্রস্তুতিটা ভালোভাবে সম্পন্ন করেছে। এটি ২০২৬ বিশ্বকাপের শুরুতে আর্জেন্টিনার ঘরের মাঠে শেষ প্রীতি ম্যাচ ছিল। চলতি মার্চ মাসে তারা দুইটি ম্যাচেই জয় পেয়েছে, যা দলের মনোবল আরও বাড়িয়েছে।​​​​​ অন্যদিকে, কাতার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে টাইbralেকের পর ব্রাজিলের ব্যাথা কিছুটা কমে এসেছে। অরল্যান্ডোয় অনুষ্ঠিত প্রীতি ম্যাচে তারা ক্রোয়েশিয়াকে ৩-১ গোলে হারিয়ে নিজেদের শক্তি আবারও দেখিয়েছে। গত সপ্তাহে ফ্রান্সের কাছে হারের ধাক্কা সামলে, কোচ কার্লো আনচেলত্তির দল এবার নিজেদের আসল রূপ দেখিয়েছে। বিশ্বকাপের জন্য তাদের প্রস্তুতির শেষ ম্যাচ এটি। এই ম্যাচে ব্রাজিলের জন্য জয়ের মূল নায়ক হয়েছেন দানিলো, ইগর থিয়াগো ও গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লি। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে দ্রুত প্রত্তাপরে এগিয়ে যায় ব্রাজিল, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র বাঁকানো দৌড়ে বল পেয়ে জোরালো শটে গোল করেন দানিলো। বিরতির পরে ক্রোয়েশিয়া চাপ বাড়ায় এবং ৮৩ মিনিটে লোভরো মায়েরের গোলে সমতা ফেরে। তবে ম্যাচের শেষ ভাগে বদলি ফরোয়ার্ড এন্দ্রিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি ফাউলের শিকার হয়ে পেনাল্টি পান, এবং ৮৮ মিনিটে সেই পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্রাজিলকে আবারও লিড দেন। যোগ করা সময়ে গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লি এন্দ্রিকের অ্যাসিস্টে আরও একটি গোল করেন, ব্যবধান আরও বাড়ে। ২০০২ সালের পর ব্রাজিল ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপের স্বপ্ন দেখছে। এই ম্যাচের মাধ্যমে তারা ভালো ফর্মে ফিরেছে এবং গত সপ্তাহের হার ভুলে নতুনভাবে আত্মবিশ্বাসে অনুপ্রাণিত হয়েছে। ব্রাজিলের প্রথম ম্যাচ நடைபெবে ১৩ জুন মরক্কোর বিপক্ষে, এরপর ১৯ জুন হাইতি ও ২৪ জুন স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হবে সেলেসাওরা।