বাংলাদেশে নারী জাগরণের অন্যতম প্রবক্তা বেগম রোকেয়া। দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীদের স্বীকৃতি ও অবদানের জন্য মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতি বছর বেগম রোকেয়া পদক প্রদান করে থাকে। এবার এই prestigious পদকের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন ড. রুভানা রাকিব, শ্রম অধিকার আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালনকারী কল্পনা আক্তার, মানবাধিকার ক্ষেত্রে অবদান রাখার জন্য ড. নাবিলা ইদ্রিস এবং ক্রীড়ায় নারী জাগরণের অন্যতম কাণ্ডারি ঋতুপর্ণা চাকমা। তিনি বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত নারী ফুটবলার। তার জোড়া গোলের সুবাদে বাংলাদেশ শক্তিশালী মিয়ানমারকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো এশিয়া কাপের মূলপর্বে খেলার সুযোগ পেয়েছে। এছাড়া, গত বছর সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে নেপালকে হারিয়ে বাংলাদেশের নারী ফুটবল দল চ্যাম্পিয়ন হয়, যেখানে ঋতুপর্ণার অবদান বড়। সমাজের নানা প্রতিবন্ধকতাকে উপেক্ষা করে এখন তিনি ক্রীড়াঙ্গনসহ পুরো দেশের জন্য অনুপ্রেরণার এক আইকনে পরিণত হয়েছেন। ৯ ডিসেম্বর বুধবার বেগম রোকেয়ার জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী। এই দিন সরকার রোকেয়া পদক প্রদান করে। অতীতে এই দিনে ক্রীড়াবিদদের পুরস্কৃত করা হয়নি, তবে গত বছর কিংবদন্তি দাবাড়ু রাণী হামিদ পুরস্কৃত হন। এবার আবারও ক্রীড়াঙ্গনের একজন উজ্জ্বল নক্ষত্র ঋতুপর্ণা চাকমা এই পদক পাচ্ছেন। অনুষ্ঠান শুরু হবে আগামীকাল এক বিশেষ অনুষ্ঠানে, যেখানে এই সুন্দর মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার হস্তান্তর করা হবে। এদিকে, দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার একুশে পদক অভিনন্দনমূলকভাবে অর্জন করেছে বাংলাদেশের নারী ফুটবল দল ২০২৫ সালে। নারী ফুটবলাররা এর আগে একুশে পদক পায়নি, বরং সাবেক খেলোয়াড় ও ধারাভাষ্যকার আব্দুল হামিদ সাংবাদিকতার জন্য এই পুরস্কার লাভ করেন। দলীয়ভাবে এই গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার প্রথমবারের মতো পেল নারী ফুটবল দল, যা দেশের ক্রীড়াঙ্গনে এক নতুন ইতিহাস রচনা করল।
Blog
-

বিশ্বস্ততা দিয়ে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের বিপিএলে অংশগ্রহণ নিশ্চিত
আগামী বিপিএল আসরে অংশগ্রহণ করবে দেশের সব দলের পাকিস্তানি ক্রিকেটরা। শুরুতেই ছিল অনিশ্চয়তা যে, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) এই খেলা জন্য তাদের অনুমতি দেবে কি না। তবে এখন পরিষ্কার হয়ে গেছে যে, পিসিবি মোট ৯ জন পাকিস্তানি ক্রিকেটারকে বিপিএলে খেলতে অনুমতি দিয়েছে। এই খবরটি নিশ্চিত করেছে এনডিটিভি।
তালিকায় থাকা ক্রিকেটাররা হলেন- মোহাম্মদ নাওয়াজ, ফাহিম আশরাফ, সাহিবজাদা ফারহান, হুসাইন তালাত, ইহসানউল্লাহ, হায়দার আলি, আবরার আহমেদ, খাজা নাফিস এবং সালমান ইর্শাদ।
অন্যদিকে, পাকিস্তানি ব্যাটার উমর আকমলকে এনওসি (নোটিশ জন্য অনাপত্তিপত্র) দেয়া হয়নি। তিনি এর কারণ জানতে পিসিবির কাছ থেকে আবেদন করেছেন। উমর আকমল বলেছেন, ‘আমি জানি না কেন আমার এনওসি অনুমোদন করা হয়নি। এই সিদ্ধান্তের কারণে আমি বেশ কিছু ভালো চুক্তিও হারিয়েছি।’
বিপিএলের অধিকাংশ দলেরই পাকিস্তানি ক্রিকেটার থাকায় এই অনুমতিকে অনেকেই এক বড় স্বস্তি হিসেবে দেখছেন।
বিপিএলের প্রথম পর্ব অনুষ্ঠিত হবে সিলেটে। এই পর্বে ছয় দিনে মোট ১২টি ম্যাচ হবে, যেখানে মাঝেমধ্যে দুটি করে দিনের বিরতিও থাকবে। দ্বিতীয় পর্ব শুরু হবে চট্টগ্রামে, ৫ জানুয়ারি থেকে ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত, জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে। এরপর ১৫ জানুয়ারি ঢাকায় ফিরে আসবে বিপিএল। তিন দিন টানা ম্যাচের পর ১৭ জানুয়ারি শেষ হবে গ্রুপ পর্বের খেলা।
-

আল-আকসা চত্বরে ফের উত্তেজনা, দুই দফায় ইসরায়েলি অনুপ্রবেশ
পবিত্র আল-আকসা মসজিদের প্রাঙ্গণে আবারও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে অবৈধ ইসরায়েলি বসতির প্রায় দুই শতাধিক বাসিন্দা কড়া পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে জোরপূর্বক প্রবেশ করেন। এই ঘটনায় পরিস্থিতি তীব্র হয়ে উঠে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ মনে করছে, এই ধরনের অনুপ্রবেশ দীর্ঘদিন ধরে চলমান ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক মর্যাদার ভাগাভাগি বা ডিভিশনের একটি অংশ, যা আল-আকসার আদর্শিক অবস্থানকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। খবর এপির—টিআরটি ওয়ার্ল্ডের।
জেরুজালেম প্রাদেশিক প্রশাসনের বিবৃতি অনুসারে, গতকাল মঙ্গলবার সকাল ও বিকেলে দু’দফায় মোট ১৮২ জন অবৈধ বসতির বাসিন্দা আল-আকসা মসজিদে প্রবেশ করে কুব্বাতুস সাখরা এলাকায় তালমুদিক আচার-অনুষ্ঠান পালন করেন। একই দিনে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রিত গেট দিয়ে ৭৭৮ জন বিদেশি পর্যটকও এই ধর্মীয় স্থান দর্শন করেন।
সরকারের হিসাব অনুযায়ী, নভেম্বর মাসে মাত্র এই মাসে আল-আকসায় প্রবেশ করেছেন প্রায় ৪ হাজার ২৬৬ ইসরায়েলি বসতির মানুষ এবং প্রায় ১৫ হাজার বিদেশি পর্যটক।
আল-আকসা মসজিদ বিশ্বের মুসলমানদের কাছে তৃতীয় পবিত্রতম স্থান হিসেবে স্বীকৃত। ১৯৬৭ সালে আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের পর ইসরায়েল পূর্ব জেরুজালেম দখল করে শহরটিকে নিজেদের সঙ্গে যুক্ত করে। তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই পদক্ষেপকে বৈধতা দেয়নি। দীর্ঘদিন ধরে মরক্কো গেট দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশের ঘটনাগুলো ঘটে আসছে, যা জেরুজালেমের মুসলমানদের জন্য খুবই স্পর্শকাতর একটি বিষয়। মুসল্লিরা মনে করেন, এই ধরনের অনুপ্রবেশ ও ধর্মীয় আচার-আচরণ শহরটির নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার এক অংশ, যা আল-আকসার ধর্মীয় মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করছে।
ইসলামিক ওয়াকফ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আল-আকসার পুরো ১৪৪ দুনুম জমি মুসলমানদের জন্য নির্ধারিত এবং এর ধর্মীয় মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে। এটি বিশ্বের মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান, যা মক্কা ও মদিনার পরে তৃতীয় পবিত্র স্থান হিসেবে বিবেচিত। প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে মুসল্লিরা এখানে আসেন। মুসলিম জনগোষ্ঠীর জন্য এই মসজিদটি একটি প্রতিরোধের প্রতীকও। এখানে মুসলিম, ইহুদি ও খ্রিস্টান দের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অনেক স্থাপনা রয়েছে, যা তিন ধর্মের ইতিহাস ও সংস্কৃতির সংযোগে অবস্থিত।
আল-আকসা শব্দের অর্থ ‘সবচেয়ে দূর’, যা মক্কা থেকে এর অবস্থান নির্দেশ করে। ইসলামী ধর্মশাস্ত্র আল কুরআনে এটি উচ্চ মর্যাদার স্থান হিসেবে উল্লেখিত, যেখানে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর মিরাজের ঘটনা যুক্ত। এই পবিত্র স্থানটির সঙ্গে ঐতিহাসিক ও ধর্মীয়ভাবে গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
-

থাই-কম্বোডিয়া সীমান্ত সংঘর্ষে ৫ লাখের বেশি মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে পালিয়েছে
থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে চলমান মারাত্মক সীমান্ত সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত পাঁচ লাখের বেশি মানুষ নিরাপদ স্থানে পালিয়ে গেছে। বুধবার উভয় পক্ষই তাদের নাগরিকদের দ্রুত সীমান্ত থেকে আশ্রয়স্থলে সরিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়েছে। থাই প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সুরসান্ত কংসিরি এক সংবাদ সম্মেলনে বলছেন, বর্তমানে চার লাখেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে স্থানান্তরিত করা হয়েছে, আবার বেশ কিছু স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, মোট ৭০০টিরও বেশি স্কুল বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
কম্বোডিয়ার একজন প্রতিবেদনে জানা গেছে, ভারী অস্ত্রের ব্যবহারে দেশটির সীমান্তের কাছ থেকে ওয়ার্ডার থেকে ১২৭ হাজারের বেশি লোক বাস্তুচ্যুত হয়েছে। সংঘর্ষের কারণে এ পর্যন্ত কমপক্ষে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে নয়জন কম্বোডিয়ার বেসামরিক নাগরিক আর পাঁচজন একজন থাই সৈন্য। বৃহস্পতিবার দৈনিক নম পেন পোস্ট জানিয়েছে, থাই হামলায় একজন শিশুসহ ৪৬ জন আহত হয়েছে।
উভয় দেশের সীমান্তের কাছের স্কুলগুলো বন্ধ করা হয়েছে এবং কিছু স্কুলকে জরুরি আশ্রয়কেন্দ্রে রূপান্তরিত করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, গত অক্টোবর মাসে কুয়ালালামপুরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের উপস্থিতিতে দুই দেশের শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছিল, যা সম্প্রতি ভেঙে যায়। দুই পক্ষই একে অপরকে সংঘর্ষের জন্য দায়ী করছে।
বিশ্বের ক্ষমতাধর দেশ যুক্তরাষ্ট্র এই সংঘর্ষের প্রতি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ট্রাম্প দুই দেশের নেতাদের সঙ্গে প্রয়োজনে ফোনে আলোচনা করবেন বলে জানা গেছে।
-

‘ভোট চুরি’ সংক্রান্ত মন্তব্যে তুমুল বাকযুদ্ধ
লোকসভায় নির্বাচনী সংস্কার নিয়ে বিতর্ক চলাকালীন সময়ে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও বিরোধী নেতা রাহুল গান্ধীর মধ্যে কঠোর বাকবৈঠক হয়েছে। রাহুল গান্ধী যখন অভিযোগ করেন যে ভোটার তালিকায় অনিয়ম এবং তার সাথে সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রেস কনফারেন্সে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন, তখন অমিত শাহ এই বিষয়ে জোরালো প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন। এনডিটিভির প্রতিবেদনে এ খবর প্রকাশিত হয়েছে।
অমিত শাহ বলেন, বিরোধীরা একদিকে ভোটার তালিকার অনিয়মের অভিযোগ তুলে, অন্যদিকে সেই তালিকা হালনাগাদ প্রক্রিয়ায়ও আপত্তি জানাচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিহারের মতো রাজ্য যখন তারা কোনো নির্বাচনে হারে, তখন তারা অভিযোগ তোলে যে ভোটার তালিকায় ত্রুটি ছিল। তবে এই দ্বিচারিতা আর চলবে না বলে তিনি কড়া ভাষায় সতর্ক করে দেন।
রাহুল গান্ধীর ভোট চুরি বিষয়ে মন্তব্যের জবাবে অমিত শাহ তুঁটি করে বলেন, যাদের পরিবারের প্রজন্মগত ভোট জালিয়াতির ইতিহাস রয়েছে, তারা আজ ভোট চুরির অভিযোগ তুলছেন। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি সরাসরি নেহরু-গান্ধী পরিবারের দিকে ইঙ্গিত করেন।
অন্যদিকে, রাহুল গান্ধী প্রশ্ন তোলেন, কেন নির্বাচন কমিশনারের দপ্তরে থাকাকালীন সময়ে তাদের দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তিনি শাহকে চ্যালেঞ্জ করেন যেন তিনটি প্রেস কনফারেন্সের মধ্যেই বিবৃতি দিয়ে বিতর্কে অংশ নেন। তিনি বলেন, আমি ৩০ বছর ধরে সংসদ সদস্য, আমার বক্তব্য আপনি ঠিক করবেন না। ধৈর্য্য ধরে আমি সব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর দেব।
অমিত শাহ তখন ঐতিহাসিক প্রসঙ্গও টেনে আনেন। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনের সময় ২৮ জন প্রাদেশিক কংগ্রেস নেতার ভোট পেয়েছিলেন সরদার প্যাটেল। অন্যদিকে, নেহরু মাত্র দুই ভোটে নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে তবুও নেহরু প্রধানমন্ত্রী হন। এই প্রসঙ্গে বিরোধী শিবির থেকে তীব্র প্রতিবাদ উঠে।
অমিত শাহ আরও অভিযোগ করেন, রায়বরেলির রাজ্যে ইন্দিরা গান্ধীর নির্বাচনের বিরোধিতা করে যদি হাইকোর্টের রায় বাতিল হয়, তাহলে তিনি প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে আইন পরিবর্তন করেন। পাশাপাশি সিনিয়র আওয়ামীদের উপেক্ষা করে চতুর্থ স্থানের একজন বিচারপতিকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি অভিযোগ করেন, সোনিয়া গান্ধী তার নাগরিকত্ব পেওয়ার আগেই ভোট দিয়েছিলেন। এই ধরনের অভিযোগও তিনি তুলে ধরেন, যদিও কংগ্রেস এই সব অভিযোগ নাকচ করে।
লোকসভা থেকে বেরিয়ে রাহুল গান্ধী বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাব পুরোপুরি রক্ষণশীল ছিল। তিনি স্পষ্ট করে কোনো বিষয়ে কথা বলেননি— সেটা হল, স্বচ্ছ ভোটার তালিকা, ইভিএমের স্থাপত্য বা তাঁর প্রদত্ত প্রমাণ।
-

মিয়ানমারের রাখাইনে হাসপাতালে জেনার বিমান হামলায় নিহত ৩১
মিয়ানমারের রাখাইনের পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলা এমরাউক-উতে একটি হাসপাতালে সামরিক সরকারের বিমান হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় এখন পর্যন্ত নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ৩১ জন এবং আহত হয়েছেন আরও ৬৮ জন। স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মী ও ঘটনাস্থলের প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে এএফপি জানায়, বুধবার সন্ধ্যায় এই ভয়ঙ্কর হামলা হয়।
এমরাউক-উর হাসপাতালে থাকা একজন স্বাস্থ্যকর্মী ও প্রত্যক্ষদর্শী বলেছেন, পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ। তারা জানায়, এখন পর্যন্ত ৩১ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং আহত হয়েছে আরও অনেক মানুষ। তবে আশঙ্কা করা হচ্ছে, मृत ও আহতের সংখ্যা ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে। রাতের মধ্যে উদ্ধার কাজ অব্যাহত ছিল এবং রাতেই ২০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
অভিযানের বিষয়ে আরও তথ্য জানার জন্য এএফপি কর্তৃপক্ষ জান্তার মুখপাত্রদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও, কেউ মন্তব্য করতে রাজি হননি।
পশ্চিমা রাখাইন প্রদেশটি বেশ কিছু মাস ধরেই বিভিন্ন ধরনের সংঘর্ষে জর্জরিত, যেখানে মূলত নিয়ন্ত্রণের জন্য লড়াই করছে মিয়ানমারের শীর্ষ জান্তাবিরোধী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ)। এই গোষ্ঠীই बुधवार রাতে হামলার দায় স্বীকার করে বিবৃতি দেয়। খবর বলছে, এই সংঘাতের কারণে বেশ কিছু সময় ধরে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল ছিল।
বলা যায়, আরাকান আর্মি এখন জান্তার সবচেয়ে বড় মাথাব্যাথায় পরিণত হয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষে, মাত্র দেড় বছরেই তারা এই অঞ্চলের জান্তা বাহিনী এবং অধীনস্ত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে প্রাথমিকভাবে বিতাড়িত করে।
নির্বাচনের জন্য জান্তা কয়েক মাস আগে ভোটের তফসিল ঘোষণা করেছে, যেখানে আগামী ২৮ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে, এই নির্বাচন বয়কটের ডাক দিয়েছেন সব জান্তাবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠী—including আরাকান আর্মি।
-

যুক্তরাষ্ট্রে চালু হলো ‘ট্রাম্প গোল্ড ভিসা’, সরাসরি নাগরিকত্বের পথ
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব লাভে আগ্রহী ধনী ব্যক্তিদের জন্য নতুন একটি ভিসা কর্মসূচি চালু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এই ভিসার নাম ‘ট্রাম্প গোল্ড ভিসা’। গতকাল মঙ্গলবার, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল এ তথ্যটি প্রথম প্রকাশ করেছেন, এরপর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনা করে এটি নিশ্চিতও করেছেন।
ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে বলেন, “যোগ্য এবং যাচাইকৃত আগ্রহী ব্যক্তিদের জন্য দারুণ খবর! ট্রাম্প গোল্ড ভিসা চালু হয়েছে যা সরাসরি মার্কিন নাগরিকত্বের পথে যেতে সাহায্য করবে। এই ভিসা লাভকারী সুবিধা পাবেন মার্কিন কোম্পানিগুলোর মেধাবী কর্মীদের ধরে রাখতে।”
মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, এই ভিসা পেতে আগ্রহীদের প্রথমে ট্রাম্পকার্ড ডট গভ নামক একটি ওয়েবসাইটে গিয়ে নিবন্ধন করতে হবে। সেখানে ‘অ্যাপ্লাই নাউ’ বোতামে ক্লিক করলে একটি আবেদনপত্র খুলবে। এই ফরম পূরণ করে জমা দেওয়ার জন্য প্রার্থীকে ১৫,০০০ ডলার (বাংলাদেশি মূল্যে প্রায় ১৮ লাখ ২১ হাজার ৯৬৪ টাকা) ফি দিতে হবে, যা আমেরিকার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (Department of Homeland Security) গ্রহণ করবে।
আবেদন পাশের কাজ সম্পন্ন হলে প্রার্থীকে জানানো হয় এবং পরে ভিসার জন্য একবার চাহিদা হিসেবে ১০ লাখ ডলার (প্রায় ১২ কোটি ১৪ লাখ ৬৪ হাজার ৩০০ টাকা) প্রদান করতে হবে। ট্রাম্পকার্ড ডট গভ ওয়েবসাইটে এই ‘চাঁদা’ উপহার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, ট্রাম্প গোল্ড ভিসার মর্যাদা সংরক্ষিত থাকবে গ্রিন কার্ডের মতো, অর্থাৎ ভিসাধারী ব্যক্তিরা স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস ও কাজের অনুমতি পাবেন।
গতকাল, হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাংবাদিকদের বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, “এই ভিসা মূলত একটি গ্রিন কার্ডের মতো, তবে এটি অনেক বেশি শক্তিশালী এবং নাগরিকত্ব লাভের জন্য উপযুক্ত।”
বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক রয়টার্সকে জানান, ট্রাম্প কার্ড ডট গভ ওয়েবসাইটের প্রাক-নিবন্ধন পর্যায়ে ইতিমধ্যে প্রায় ১০ হাজার আবেদনকারী আবেদন করেছেন, এ সংখ্যা আরও বাড়বে বলে তিনি প্রত্যাশা করছেন। তিনি বলেন, “আমরা আশা করছি, সময়সীমা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাজার হাজার এই কার্ড বিক্রি হবে এবং এর মাধ্যমে অনেক অর্থ আয় করা সম্ভব হবে।”
প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথগ্রহণের পর থেকে দেশজুড়ে অভিবাসনবিরোধী অভিযান চলছে। হাজার হাজার অবৈধ অভিবাসী গ্রেপ্তার করে তাদের নিজ নিজ দেশে ফিরিয়ে পাঠানো হয়েছে, চলমান রয়েছে আরও অনেকের বিরুদ্ধে অভিযান।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের নতুন এই গোল্ড কার্ড ভিসা অভিবাসনের নিয়মে কিছু ভারসাম্য আনার পাশাপাশি মার্কিন কোষাগারে বিপুল অর্থের আগমন নিশ্চিত করবে।
-

মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান
খুলনায় যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে ৭৮তম আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উদ্যাপন করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও মানবাধিকার রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে এই দিনটি পালিত হয়, যার মাধ্যমে মানবাধিকার জনগণের মৌলিক অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য সচেতনতা ছড়ানো হয়। সার্চ মানবাধিকার সোসাইটি বাংলাদেশ, খুলনা অঞ্চল এর উদ্যোগে বুধবার সকাল ১০টার দিকে নগরীর হাদিস পার্কে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি ও সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। র্যালিতে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন, সেখানে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি এডভোকেট শফিকুল আলম মনা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক চৌধুরী হাসানুর রশিদ মিরাজসহ আরও অনেক নেতৃবৃন্দ। র্যালিটি হাদিস পার্ক থেকে শুরু হয়ে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় সেখানে এসে শেষ হয়। শুরুতেই অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন প্রধান অতিথি। বক্তৃতার পর্যায়ে শফিকুল আলম মনা বলেন, “মানবাধিকার কোনো উপহার নয়, এটি প্রত্যেক মানুষের জন্মগত অধিকার। স্বাধীনতা ও মানবাধিকার ভাষায়, চিন্তা ও প্রকাশে সকলের জন্য সমান অধিকার। তবে স্বৈরাচারী শাসনে শেখ হাসিনার আমলে এই মৌলিক অধিকার ব্যাপকভাবে লঙ্ঘিত হয়েছে।” তিনি উল্লেখ করেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত, ভোটাধিকার হরণ, ভিন্নমত দমন করা হয়েছে। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক নেতাকর্মী, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন অঙ্গনের ব্যক্তির মানবাধিকার গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, নির্মমতা ও অত্যাচারের শিকার হয়ে পড়োচ্ছে। সত্য কথা বলাকে তখন অপরাধ হিসেবে দেখা হয়। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গণতন্ত্রের স্থায়িত্ব সম্ভব, কারণ গণতন্ত্র যতক্ষণই অবাধ ও স্বাধীন নয়, ততক্ষণই তার শক্তিও কম। তিনি আরও বলেন, “মানবাধিকারর সুরক্ষা ও আদর্শে দৃঢ় থাকাই হলো সত্যিকারের গণতন্ত্রের ভিত্তি। এজন্য সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে, পাশাপাশি দুভাবে এগিয়ে আসতে হবে, যাতে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার রক্ষা হয়।” অনুষ্ঠানে র্যালির উদ্বোধন করেন সার্চ মানবাধিকার সোসাইটি বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান খান রেজাউল ইসলাম রেজা। সমাবেশ শেষে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন দাবির প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার হাতে নিয়ে মানবাধিকার রক্ষার অঙ্গীকার ও সচেতনতা বাড়াতে র্যালিতে অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন শেখ আব্দুস সালাম, এএইচএম শাহীন, এস এম ইলিয়াস হোসেন, এস কে মোমিন, মাহামুদ খান বিটু, মোঃ শহিদুল হক, এডভোকেট আফরোজা রোজী, ইফতেখায়রুল আরম বাপ্পি, মোঃ হাদীউজ্জামান, হাসিব হাসান, এম এম জসীম, মোঃ আতিকুর রহমান, মোঃ লিমোন মোল্লা, পিটার গাইন, মোঃ মাসুদ গাজী, এডভোকেট নাজনিন ইসলাম, নাদিরা শাফি পপি, এডভোকেট সुफিয়া ইয়াসমিন শিউলী;সহ আরও অনেকে।
-

তফসিল ঘোষণায় গণআকাঙ্ক্ষা পূরণ, সুষ্ঠু নির্বাচন আসন্ন
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা মধ্য দিয়ে জুলাই ও আগস্ট মাসে গণআবির্ত্তি ও গণআকাঙ্ক্ষার পূরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপে আমরা প্রবেশ করছি। এর পরবর্তী বৃহত্তর চ্যালেঞ্জ হলো যেন নির্বাচনী প্রক্রিয়া সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং স্বচ্ছ হয়। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনী কমিশন, সরকার, সব রাজনৈতিক দল এবং সাধারণ জনগণ—সব স্টেকহোল্ডার একযোগে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে।
গতকাল বুধবার সকাল ১০টায় খুলনা-৫ আসনের ডুমুরিয়া উপজেলার শরাফপুর ইউনিয়নের মাদরাসাতেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সজিব রায়ের পরিবারের সঙ্গে সমবেদনা জানাতে গিয়ে, আহত শিমুল মন্ডল, তনয় মন্ডল এবং সাগর মন্ডলের চিকিৎসার খোঁজ খবর নিয়ে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন তিনি। এ সময় তিনি বলেন, গণআবির্ত্তি পূরণের জন্য আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।
এর আগে সকাল ৮টায় খুলনা-৫ আসনের ফুলতলা উপজেলার শিরোমণির ডাকাতিয়া পশ্চিমপাড়া এলাকায় একটি ভোটার সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা দেন তিনি। উক্ত অনুষ্ঠানে চিত্তরঞ্জন গাইনের সভাপতিত্বে বিভিন্ন জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন। সেখানে এলাকার রাস্তা উন্নয়নের বিষয়ে আলোচনা হয় এবং সড়ক কার্পেটিংয়ের অগ্রগতি খোঁজ নেওয়া হয়।
বেলা ১১টায় আসাননগরে গণসংযোগ ও উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। এতে আরও অংশ নেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি, জেলা ও উপজেলা স্তরের নেতা-কর্মীরা। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন স্থানীয় সমস্যা ও সমাধানের বিষয়ে আলোচনা হয়, বিশেষ করে শিরোমণির রাস্তায় উন্নয়নের অগ্রগতি নিয়ে।
দুপুর ১২টায় সেনপাড়া মাদরাসায় মহিলা সমাবেশের আয়োজন করা হয়, যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
বিকেল ৪টায় সাহস ইউনিয়নের নোয়াকাটী বাজারে অফিস উদ্বোধন উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তিনি, যেখানে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সন্ধ্যা ৬টায় গুটুদিয়া ইউনিয়নের কোমলপুর স্কুল মাঠে এক ভোটার সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা দেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। এ ছাড়াও এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা আমীর, সহকারী সেক্রেটারি, বিভিন্ন বিশিষ্ট নেতা-কর্মী এবং মাদরাসা সম্পাদকগণ।
এটি বিভিন্ন আসরে সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের অগ্রগতি ও গণআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত होয়েছে, যা আগামী নির্বাচনে মাঠে আরও সক্রিয় ও পরিচালনামূলক আয়োজনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি স্থাপন করবে।
-

আগামী নির্বাচন: গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের মহাসংগ্রাম
আজকের দিনটি বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ের মুহূর্ত বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের স্বৈরশাসন ও ফ্যাসিবাদী শাসন কাঠামো থেকে মুক্তির পথে এক নতুন সূচনা হবে বলে বিশ্বাস করেন রাজনৈতিক নেতারা। বিশেষ করে খুলনা-২ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, দীর্ঘদিনের সংগ্রামের সম্মিলিত ফলাফলে আমরা ভোটাধিকার ফিরে পাবো, উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখব এবং গণতন্ত্রের চিরস্থায়ী ভিত্তি গড়ে তুলব। তিনি সবাইকে একযোগে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য আহ্বান জানান।
বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় তিনি খুলনা নগরীর বিভিন্ন সরকারি অফিস ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন, যেখানে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেন। দুপুর ১টায় গগণ বাবু রোডস্থ সবুরন্নেছা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে স্কুলের শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা করে বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনা চালিয়ে যান। এছাড়াও, ২২ নম্বর ওয়ার্ডে চর জামে মসজিদ ও হাজী আবু হানিফ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসায় দোয়া অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিএনপি নেতা জাফরউল্লাহ খান সাচ্চু তার উপস্থিতিতে রোগমুক্তি কামনা করেন।
বিকেলে বাদ আসর, ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের বায়তুল মেরাজ জামে মসজিদে জনসমাগমে দোয়া পরিচালনা করেন মসজিদের ইমাম, মাওলানা নাজমুস সাউদ। সেইদিনই ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের রহমানিয়া জামে মসজিদে দেশনেত্রীর জন্য বিশেষ দোয়া হয়, যেখানে মাওলানা সাইদুল ইসলাম দোয়া পরিচালনা করেন। সন্ধ্যায় খুলনা মাগুরা সমিতির আয়োজনে এক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন নজরুল ইসলাম মঞ্জু, যেখানে উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র মনিরুজ্জামান মনি ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
এ সব কর্মসূচিতে বিশেষভাবে উপস্থিত ছিলেন নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় নেতারা, যারা গণতন্ত্র ও দেশের উন্নয়নের সংগ্রামকে শক্তিশালী করার জন্য একযোগে কাজ করে যাচ্ছেন। নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য এই সকল স্পৃহা নিঃসন্দেহে দেশের গণতান্ত্রিক ভিত্তিকে আরও সুদৃঢ় করবে বলে আশা প্রকাশ করছেন সচেতন মহল।
